৭ মে ২০২৬, ২:০৮ পিএম

‘শেষ হইয়াও হইলো না শেষ’।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের যাত্রার সমাপ্তি ঘটলেও রেফারির দুটি সিদ্ধান্ত
নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। অনেকের মতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারত সেখানেই। সমর্থক থেকে
শুরু করে অনেক ফুটবলবোদ্ধারাও নিজেদের যুক্তি তুলে ধরছেন। আবার কেউ বলছেন নিয়মের কথা।
ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় প্রথম লেগের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৫-৪ ব্যবধানে জেতার পর, মিউনিখে বুধবার ফিরতি লেগ ১-১
ড্র হওয়ায় ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে
শিরোপার লড়াইয়ে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে এই প্রতিযোগিতার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরুতেই অর্থাৎ
৩ মিনিটের মাথায় পিএসজিকে এগিয়ে দেন উসমানে দেম্বেলে। ম্যাচ জুড়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির
বায়ার্ন গোল শোধের চেষ্টা করে বারবার হতাশ হয়েছে। একদম শেষ মুহূর্তে (যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে) হ্যারি কেইন গোল করে সমতা ফেরালেও তা কেবল সান্ত্বনাই হয়ে থেকেছে বাভারিয়ানদের জন্য। রেফারির
শেষ বাঁশি বাজার আগে বায়ার্ন শিবিরে ক্ষণিকের আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই
মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার
১-১ স্কোরলাইন ম্যাচের পুরো চিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে পারছে না, কারণ ম্যাচটি আবারও বিতর্কে
ঠাসা ছিল। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে লাল কার্ডের হাত থেকে বেঁচে যান নুনো মেন্দেস।
কনরাড লাইমারের একটি ‘ফ্লিক’ করা বল রুখতে গিয়ে মেন্দেসের প্রসারিত ডান হাতে লাগে,
যা দেখতে বেশ ইচ্ছাকৃতই মনে হচ্ছিল। কিন্তু পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো উল্টো লাইমারের
বিপক্ষে হ্যান্ডবলের বাঁশি বাজান। এই ঘটনায় ডাগআউটে ভিনসেন্ট কোম্পানি এবং বায়ার্ন
বেঞ্চকে পুরোপুরি হতভম্ব দেখায়।
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না
কাটতেই আবারও বিতর্ক। নিজেদের বক্সের ভেতর থেকে মার্কিনিউস বল ক্লিয়ার করতে গেলে সেটি
তাঁর সতীর্থ জোয়াও নেভেসের প্রসারিত হাতে লাগে। কিন্তু এবারও পেনাল্টির জোরালো আবেদন
নাকচ করে দেন রেফারি।
রেফারির বিতর্কিত দুই সিদ্ধান্ত
নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক রেফারি ম্যানুয়েল গ্রেফে। বড় ম্যাচগুলোর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত
নিয়ে প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত বিশ্লেষণ দেন তিনি। নেভেসের সেই হ্যান্ডবলে বায়ার্নের এখানে নিশ্চিত পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন এই সাবেক রেফারি।
বায়ার্নের বিপক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত না আসায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে ম্যানুয়েল গ্রেফে বলেন,
‘দুঃখিত, কিন্তু এসব এখন স্রেফ তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। বলের গতিপথে হাত চলে এসেছে এবং এবার তো কাঁধ বরাবর হাত পুরোপুরি প্রসারিত ছিল—তাও আবার বল শট নেওয়ার পর! এটি ১০০ ভাগ পেনাল্টি ছিল। আর প্রথম লেগের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে এটি না দেওয়াটা স্রেফ পাগলামি!’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘এই ধরণের হ্যান্ডবল সবসময়ই পেনাল্টি হওয়া উচিত। নিয়মগুলো শুধু রেফারি বা কর্মকর্তাদের জন্য তৈরি হয়নি, এগুলো ফুটবলের জন্য। ফুটবলার এবং খোদ ফুটবলই এখানে পেনাল্টি দাবি করে, আর সেটাই যৌক্তিক! এখানে ফুটবলীয় ব্যাকরণের নিয়মগুলো তো সাদা-কালো অক্ষরে স্পষ্ট লেখা আছে। ইউয়েফা বা ফিফার বিশেষ ব্যাখ্যাগুলো তো এর পরের বিষয়। তারা 'ন্যাচারাল পজিশন' বা স্বাভাবিক অবস্থানের কথা বলে, কিন্তু কেউ তো আর ইচ্ছাকৃতভাবে বলের গতিপথে হাত বাড়িয়ে দেবে না!’
ইউরোতে মার্ক কুকুরেয়ার সেই বিতর্কিত হ্যান্ডবলের প্রসঙ্গ টেনে গ্রেফে বলেন,
‘কুকুরেয়ার সেই ঘটনার সময়ও আমিই একমাত্র বিশেষজ্ঞ বা সাবেক ডিএফবি রেফারি ছিলাম যে বলেছিলাম ওটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ (পেনাল্টি)। কয়েক মাস পর ইউয়েফাও তা স্বীকার করে নিয়েছিল। এখানেও তেমনটাই হবে। যদি তা না হয়, তবে ফিফা এবং ইউয়েফার রেফারি ও কর্মকর্তাদেরই বদলে ফেলা উচিত। কারণ আজকের ম্যাচে যা হয়েছে, স্বচ্ছ নিয়ম ও নির্দেশিকা অনুযায়ী তা সবসময়ই পেনাল্টি হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।’
অবশ্য আইন বলছে বায়ার্ন-পিএসজি
ম্যাচের পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পেদ্রো সিলভা পিনহেইরোর সিদ্ধান্ত ভুল কিছুই ছিল না।
ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, বক্সের ভেতর হ্যান্ডবল মানেই পেনাল্টি—এই ধারণা সবসময় সঠিক নয়।
বিশেষ করে যখন বলটি নিজের দলের কোনো সতীর্থের কাছ থেকে আসে, তখন রেফারিরা সাধারণত পেনাল্টির
বাঁশি বাজাতে চান না। এর পেছনে রয়েছে ফুটবলের যৌক্তিক এবং কৌশলগত ব্যাখ্যা।
সাধারণত হ্যান্ডবলের শাস্তি
দেওয়া হয় তখন, যখন কোনো রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হাতের অবৈধ ব্যবহার করে বাড়তি সুবিধা নেন
এবং প্রতিপক্ষের নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন। কিন্তু বল যখন সতীর্থের শরীর থেকে বা ক্লিয়ার
করার চেষ্টাকালে হাতে লাগে, তখন রক্ষণভাগ বাড়তি কোনো সুবিধা পায় না। উল্টো অনেক সময়
সতীর্থের শটটি হাতে লাগার ফলে বল ক্লিয়ার না হয়ে গোলবক্সের বিপজ্জনক জায়গায় থেকে যায়,
যা রক্ষণভাগের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। যেহেতু এখানে খেলোয়াড় কোনো ‘অন্যায্য সুবিধা’
নিচ্ছেন না, তাই এমন পরিস্থিতিতে পেনাল্টি দেওয়াটা ফুটবলের স্পিরিটের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ
নয়।
No posts available.
৭ মে ২০২৬, ১০:১৯ এম
৬ মে ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম

মৌসুমের শেষভাগে এসে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরের বিতর্কেই বেশি খবরের শিরোনামে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার খবর, অনুশীলনের সময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় থেকে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন দুই মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং অরেলিয়ান চুয়ামেনি।
ঘটনার শুরু ভ্যালদেবেবাসে ক্লাবটির অনুশীলন সেশনে। সাধারণ একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে তর্কে জড়ান ভালভার্দে ও চুয়ামেনি। অনুশীলনের সময় পরিস্থিতির এতটাই অবনতি ঘটে যে তারা একে অপরকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। বিষয়টি লকার রুম পর্যন্ত গড়ায়। সতীর্থরা তাদের সরিয়ে নিলেও দলের ভেতরের বিষাক্ত পরিবেশ এখন ওপেন সিক্রেট।
সম্প্রতি অনুশীলনের সময় আন্তোনিও রুডিগার ও আলভারো কারেরাসসের হাতাহাতির খবর চাউর হয়। গুঞ্জন উঠেছিল, রুডিগার কারেরাসকে থাপ্পড় মেরেছেন। জার্মানির এই তারকার নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও মঙ্গলবার কারেরাস স্বীকার করেছেন, এক সতীর্থের সঙ্গে ঝামেলার ঘটনা ঘটেছিল।
দলের অস্থিরতায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে কিলিয়ান এমবাপের আচরণ। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এমবাপে বর্তমানে অসন্তুষ্ট এবং খিটখিটে মেজাজে আছেন। জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করার ঘটনায় তিনি এখনও ক্ষুব্ধ।
এমবাপের আচরণে নাকি তাঁর সতীর্থরা খুশি নন। এই সপ্তাহের শুরুতে তাঁর নেওয়া বিরতি নিয়ে দলের ভেতর অসন্তোষ রয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, অনেক খেলোয়াড় একে অপরের সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছেন।
দলের এই অস্থিরতার মধ্যেই রোববার এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঠে নামবে রিয়াল। এই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পেলেই লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করবে কাতালানরা।
.jpeg)
২০২৫ সালের এপ্রিলের পর থেকে প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকা কোনো ম্যাচে হারেনি প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগেও সেই ধারার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। এর মাধ্যমে বিরতিতে এগিয়ে থাকা ম্যাচে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডটিকে ৩৮ ম্যাচে উন্নীত করল লুইস এনরিকের দল।
লিগের প্রথম সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদকে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্সেনাল। এই জয়ে ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছে মিকেল আরতেতার দল। ফলে আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে পুসকাস স্টেডিয়ামে পিএসজির বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি গানারররা।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে এদিন পিএসজি ও বায়ার্নের দুই গোলকিপার সেভ করেছেন মোট ৯টি নিশ্চিত থাকা গোল। দুই গোলকিপার একটি করে গোল কনসিভ করেছে ঠিকই, তবে ম্যাচজুড়ে আক্রমণের পসরা বিপরীতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তারা। ম্যাচে ১৮টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রাখে বাভারিয়ানরা। ১৫টি শটের ৭টি লক্ষ্যে রাখে পিএসজি। ম্যানুয়েল নয়্যার ও সাফোনভ বীরত্ব দেখালেও ফার্স্ট লেগের ফলে ফাইনালে পৌঁছেছে পিএসজি।
বাংলাদশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচের তৃতীয় মিনিট পিএসজিকে লিড উপহার দেন উসমান দেম্বেলে। মাইকেল ওলিসের আক্রমণ পরাস্ত করে পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। ফাবিয়ান রুইজ ও খিচা কাভারাস্কেইয়ার মধ্যে ওয়ান-টু পাসের পর বল চলে যায় কাভারাস্কেইয়ার পায়ে। জর্জিয়া লেফট-ব্যাক বাঁ প্রান্ত দিয়ে বাইলাইন পর্যন্ত পৌঁছান এবং ডি-বক্সে নিচু ক্রস করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দৌড়ে এসে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকের পর থেকে কাভারাস্কেইয়া সর্বোচ্চ সংখ্যক গোলে সরাসরি অবদান রাখা খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন। ১৩টি গোল এবং আটটি অ্যাসিস্টসহ মোট ২১টি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। যা হ্যারি কেইনের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। আর চ্যাম্পিয়ন লিগে অষ্টম গোলের দেখা পেলেন দেম্বেলে।
২৭তম মিনিটে ওলিসের বাম পায়ের দৃষ্টিনন্দন শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। মিডফিল্ড থেকে কেইনের ক্রস রিসিভ করেন ওলিসে। তারপর ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে থাকা নুনেসকে ড্রিবলিং করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন বায়ার্ন উইঙ্গার। এরপর নেন বুলেট গতির শট। তার কার্ল শট ব্রেক করে চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।
তার ঠিক দুই মিনিট পর হ্যান্ডবল বিতর্ক তৈরি হয়। লাইমারের ফ্লিক থেকে আসা বলটি পিএসজির লেফট-ব্যাক মেন্দেসের হাতে স্পষ্টভাবে আঘাত করে। তবে রেফারি তাকে পেনাল্টি দেওয়া কিংবা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর পরিবর্তে উল্টো লাইমারের বিরুদ্ধেই ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে ফ্রি-কিক দিয়েছেন! এতে ক্ষিপ্ত হতে দেখা যায় ভিনসেন্ট কোম্পানিকে।
হ্যান্ডবল বিতর্কের রেষ না কাটতেই ৩১তম মিনিটে একটি ঘটনা ঘটে। লুইস দিয়াস মার্কিনিয়োস থেকে বল বাগিয়ে ডি-বক্সে পাস দেওয়ার চেষ্টা করলে বলটি ডিফ্লেক্টেড হয়। এরপর পাভলোভিচ জাইরে-এমেরিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন। স্তানিসিচের পাঠানো ক্রসটি গোলমুখে অগোছালোভাবে ক্লিয়ার করেন গোলরক্ষক সাফোনভ। কিন্তু এরপর ভিতিনিয়ার ক্লিয়ারেন্সটি জোয়াও নেভেসের হাতে লাগে বলে মনে হয়। এই ঘটনায় বায়ার্নের খেলোয়াড় ও কোচ পেনাল্টির দাবিতে চিৎকার করতে থাকেন।
৪২তম মিনিটে ডান প্রান্তে ফাঁকা জায়গায় অবস্থান বানিয়ে নেন মুসিয়ালা এবং ভিতিনিয়াকে পরাস্ত করে ডি-বক্সের মাঝখানে একটি নিচু কাটব্যাক করেন। কিন্তু সাফোনভ মাটিতে ঝাঁপিয়ে বল পাঞ্চ করেন এবং ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন রুইজ।
বিরতির পর খেলা শুরু না হতেই হ্যারি কেইনের বুটের আঘাতে পাচো মাথায় আঘাত পান এবং মাটিতেই লুটিয়ে পড়েন পিএসজি সেন্টার-ব্যাক। কিছুক্ষণ সময়ক্ষেপন করে তাঁকে মাঠেই চিকিৎসা দিতে হয়।
৬২তম মিনেট সাফোনভ পিএসজিকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান। ডি-বক্সের ভেতর দারুণভাবে ঘুরে বলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন পাভলোভিচ। এরপর কিমিখের কাছ থেকে বলটি ফেরত নিয়ে তিনি আড়াআড়ি পাস দেন। ২২ গজ দূর থেকে প্রথম সুযোগেই শট নেন স্তানিসিচ। কিন্তু বায়ার্ন রাইট-ব্যাকের নেওয়া সেই নিচু ও সাইড-ফুটেড শটটি সরাসরি গিয়ে জমা হয় গোলরক্ষক সাফোনভের হাতে।
ম্যাচের সময় যত পুরোনো হতে থাকে ততই গোলনেশায় বুঁদ হয়ে পড়ে বায়ার্ন। একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে কোম্পানির শিষ্যরা। বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয় অল্প সময়ের ব্যবধানে। বিশেষ করে ৬৭-৬৯ মিনিটের মধ্যে গোলের উদ্দেশ্যে দুটি শট ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।
বিশেষ করে ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই মুসিলার সাথে ওয়ান-টু পাস খেলে পিএসজির ডান দিকের ডিফেন্সের পেছনে ঢুকে পড়েন ডেভিস। এরপর কানাডিয়ান এই খেলোয়াড় মাঝমাঠের দিকে বল কাটব্যাক করেন লুইস দিয়াসের উদ্দেশ্যে। দিয়াসের প্রথম টাচ এবং শটটি একদম লক্ষ্যে ছিল, কিন্তু পিএসজি গোলকিপার অসাধারণ এক সেভ করে দলকে রক্ষা করেন!
৯১তম মিনেট আরও একবার কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে বল বিপদমুক্ত করেন গোলরক্ষক সাফোনভ। এরপর কাভারাস্কেইয়া মাঝমাঠে বলের দখল নেন এবং উপামেকানোর পাসটি আটকে মেন্দেসকে বাড়ান। কিন্তু মেন্দেসের দূরপাল্লার শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পোস্টের বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বাঁ পায়ের জাদু দেখান হ্যারি কেইন। আসরের সর্বোচ্চ এই স্কোরার যেন সব ধরণের নাটকীয়তা জমিয়ে দেন। তবে ফার্স্ট লেগের ফলে শেষটা সুন্দর হয়নি জার্মানি জায়ান্টদের।
.jpeg)
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে দর্শকেরা তখনও আয়েশ করে বসেননি! বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগের বাঁশি বাজার মিনিট তিনেক পেরিয়েছে কি পেরোয়নি, তখনই স্তব্ধতা ভেঙে এগিয়ে যায় পিএসজি! দুদল বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই স্কোর ধরে রাখে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে পিএসজির মোট ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৬-৪।
ম্যাচ ঘড়ির তৃতীয় মিনিট মাইকেল ওলিসের একটি আক্রমণ ভেস্তে দিয়ে পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে পিএসজি। ফাবিয়ান রুইজ ও খিচা কাভারাস্কেইয়ার মধ্যে ওয়ান-টু পাসের পর বল চলে যায় কাভারাস্কেইয়ার পায়ে। জর্জিয়া লেফট-ব্যাক বাঁ প্রান্ত দিয়ে বাইলাইন পর্যন্ত পৌঁছান এবং ডি-বক্সে নিচু ক্রস করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দৌড়ে এসে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান উসমান দেম্বেলে।
ফরাসি ফরোয়ার্ডের চমৎকার ফিনিশিংয়ে প্রথমার্ধে পিএসজি ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এ গোলের সুবাদে দুই লেগ মিলিয়ে লুইস এনরিকের দলের মোট ব্যবধান দাঁড়ায়েছে ৬-৪।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকের পর থেকে কাভারাস্কেইয়া সর্বোচ্চ সংখ্যক গোলে সরাসরি অবদান রাখা খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন। ১৩টি গোল এবং আটটি অ্যাসিস্টসহ মোট ২১টি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। যা হ্যারি কেইনের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। আর চ্যাম্পিয়ন লিগে অষ্টম গোলের দেখা পেলেন দেম্বেলে।
২৭তম মিনিটে ওলিসের বাম পায়ের দৃষ্টিনন্দন শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। মিডফিল্ড থেকে হ্যারি কেইনের ক্রস রিসিভ করেন ওলিসে। তারপর ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে থাকা নুনেসকে ড্রিবলিং করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন বায়ার্ন উইঙ্গার। এরপর নেন বুলেট গতির শট। তার কার্ল শট ব্রেক করে চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।
তার ঠিক দুই মিনিট পর হ্যান্ডবল বিতর্ক তৈরি হয়। লাইমারের ফ্লিক থেকে আসা বলটি পিএসজির লেফট-ব্যাক মেন্দেসের হাতে স্পষ্টভাবে আঘাত করে। তবে রেফারি তাকে পেনাল্টি দেওয়া কিংবা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর পরিবর্তে উল্টো লাইমারের বিরুদ্ধেই ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে ফ্রি-কিক দিয়েছেন! এতে ক্ষিপ্ত হতে দেকা যায় ভিনসেন্ট কোম্পানিকে।
হ্যান্ডবল বিতর্কের রেষ না কাটতেই ৩১তম মিনিটে একটি ঘটনা ঘটে। লুইস দিয়াস মার্কিনিওস থেকে বল বাগিয়ে ডি-বক্সে পাস দেওয়ার চেষ্টা করলে বলটি ডিফ্লেক্টেড হয়। এরপর পাভলোভিচ জাইরে-এমেরিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন। স্তানিসিচের পাঠানো ক্রসটি গোলমুখে অগোছালোভাবে ক্লিয়ার করেন গোলরক্ষক সাফোনভ। কিন্তু এরপর ভিতিনিয়ার ক্লিয়ারেন্সটি জোয়াও নেভেসের হাতে লাগে বলে মনে হয়। এই ঘটনায় বায়ার্নের খেলোয়াড় ও কোচ পেনাল্টির দাবিতে চিৎকার করতে থাকেন।
৪২তম মিনিটে ডান প্রান্তে ফাঁকা জায়গায় অবস্থান বানিয়ে নেন মুসিয়ালা এবং ভিতিনিয়াকে পরাস্ত করে ডি-বক্সের মাঝখানে একটি নিচু কাটব্যাক করেন। কিন্তু সাফোনভ মাটিতে ঝাঁপিয়ে বল পাঞ্চ করেন এবং ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন রুইজ।
২০২৫ সালের এপ্রিলে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে সবশেষ বিরতিতে এগিয়ে থাকা কোনো ম্যাচে হেরেছিল পিএসজি। ওই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে হেরেছিল ফরাসি জায়ান্টরা। তবে এরপর থেকে এ ধরনের ৩৭টি ম্যাচের কোনোটিতেই তারা হারেনি। অর্থাৎ ৩৭টি ম্যাচেই অপরাজিত রয়েছে।

টানা দ্বিতীয় মৌসুমে বাজে সময় পার করা রিয়াল মাদ্রিদ ঘুরে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর। শেষ হতে চলা ২০২৫-২৬ লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে ১১ পয়েন্টে পিছিয়ে আলভারো আরবেলোয়ার দল। আর ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হয়েছে তাদের স্বপ্নভঙ্গ।
বেহাল অবস্থা থেকে উত্তরণে এখন থেকে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রিয়াল ম্যানেজমেন্ট। ইতালীয় ক্রীড়া দৈনিক গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত-এর তথ্য অনুযায়ী, জুভেন্টাসের তুর্কী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কেনান ইলদিজকের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।
ইলদিজ ২০২৫-২৬ সিরি’আ মৌসুমে ৩৪ ম্যাচে ১০ গোলের বিপরীতে ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ৩১ ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশে রেখেছে জুভেন্টাস। তাতেই ২১ বর্ষী তরুণের প্রতি পূর্ণ নজর রিয়ালের।
যদিও ইলদিজ বারবার জুভেন্টাসের সাথে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা বলে আসছেন। তিনি বলেছেন, বায়ার্ন মিউনিখের অনূর্ধ্ব-১৯ দল ছেড়ে তুরিনের ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তা সত্ত্বেও, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাদ্রিদের একটি প্রস্তাব শীঘ্রই সেই আনুগত্যের পরীক্ষা নিতে পারে।
সিরি’আতে ইন্টার মিলান এরই মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে এবং তুরিনের দলটি বর্তমানে চতুর্থ স্থানে রয়েছে—তাদের ম্যাচ আছে আরও তিনটি। পঞ্চমে থাকা রোমার চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে জুভেন্টাস। আর তিনে থাকা এসি মিলান থেকে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। শেষ দিকে নাটকীয়তা না হলে ঠিকই জুভেন্টাস চ্যাম্পিয়নস লিগে যাচ্ছে। তাতে ইলদিজকে নতুন করে ভাবতে নাও হতে পারে।
রেজেনসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ইলদিজ বায়ার্নের বয়সভিত্তিক দলে দশ বছর কাটিয়েছেন। কিন্তু চুক্তি নবায়নের বিষয়ে একমত হতে না পেরে ১৭ বছর বয়সে জুভেন্টাসে পাড়ি জমান। ইতালির ক্লাবে দ্রুতই মূল দলে নিজের জায়গা পাকা করে নেন। তাঁর বর্তমান বাজারমূল্য এখন ৭৫ মিলিয়ন ইউরো। এখন দেখার বিষয়, হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আর্দা গুলেরের পর এই তুর্কী মিডফিল্ডারের প্রতি কতটা আস্থা রাখে রিয়াল মাদ্রিদ।

কিছু জিনিসের কোনো আর্থিক মূল্য হয় না; লিওনেল মেসি তেমনই একজন ধ্রুবতারা। আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তিকে কি শুধু টাকার অঙ্কে মাপা যায়? বার্সেলোনার সবুজ গালিচায় ‘এলএম টেন’ যখন বাঁ পায়ের জাদু দেখাতেন, পুরো স্টেডিয়ামের নিশ্বাস যেন থমকে যেত। ফুটবলের অমূল্য এই ‘রত্ন’ পুরো ক্যারিয়ারে কখনোই কোনো ক্লাবে 'বিক্রি' হননি। সেই জাদুকরকে ছিনিয়ে নিতে একবার নাকি অঢেল অর্থ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এক রহস্যময় ক্লাব।
৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা—হ্যাঁ, এই অংকটিই খরচ করতে চেয়েছিল এক রহস্যময় ক্লাব লিওনেল মেসিকে দলে ভেড়াতে। নেইমারের বিদায়ের পর বার্সেলোনা যখন দিশেহারা, তখন টাকার বস্তা নিয়ে কোনো এক ক্লাব মেসির জন্য এই অবিশ্বাস্য জাল বিছিয়েছিল। সাবেক বার্সা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউয়ের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে সেই অবিশ্বাস্য দিনগুলোর কথা। কে ছিল সেই রহস্যময় ক্লাব যারা রেকর্ড বই ওলটপালট করে দিয়ে মেসিকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল?
'কাদেনা সার'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্তোমেউ তার সভাপতিত্বের সবচেয়ে উত্তাল সময়গুলোর একটি নিয়ে মুখ খুলেছেন। ২০১৭ সালে নেইমারের প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) চলে যাওয়ার সেই আকস্মিক ধাক্কার পর, ক্লাবটি বেশ সতর্ক ছিল যে তাদের আরেকজন সুপারস্টারকেও হয়তো ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে। ন্যু ক্যাম্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কীভাবে মেসিকে স্পেন থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি বিশাল আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বার্তোমেউ।
কীভাবে এই গুঞ্জন প্রথম ছড়িয়েছিল তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘নেইমারের প্রস্থানের কয়েক সপ্তাহ পরেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, একটি ক্লাব মেসির জন্য ৪০ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কোটি) প্রস্তুত করছে—যা ছিল মেসির রিলিজ ক্লজের সমান অঙ্ক।’ এই পরিমাণ অর্থ নেইমারের জন্য দেওয়া রেকর্ড ২২ কোটি ইউরোর প্রায় দ্বিগুণ ছিল, যা বাস্তবে রূপ নিলে ইউরোপীয় ফুটবলের পুরো দৃশ্যপটই আমূল বদলে যেত।
পেপ গার্দিওলার উপস্থিতির কারণে সেই সময় মেসির সঙ্গে বারবার ম্যানচেস্টার সিটির নাম জড়িয়ে গুঞ্জন ছড়ালেও, বার্তোমেউ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এই নির্দিষ্ট ঘটনার পেছনে ইংলিশ জায়ান্টদের হাত ছিল না। বরং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বিশাল অর্থের জোগান আসছিল কোনো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের উৎস থেকে, যা এই রহস্যময় ক্লাবের পরিচয় নিয়ে কৌতুহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বার্তোমেউ দাবি করেন, ‘একটি আরব দেশ থেকে বড় অংকের তহবিল ইউরোপের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।’ যখন তাকে এই দুঃসাহসী তহবিলের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ না করে বলেন, ‘এখন আর সেসবের গুরুত্ব নেই... ওটা অনেক পুরনো খবর; বহু বছর আগের কথা। ইংল্যান্ডে খুব কম ক্লাব আছে, কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত এমন ক্লাব খুব বেশি নেই, যারা এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা রাখে।’
আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা মেসিকে হারানোর এই হুমকি বার্সেলোনাকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছিল। বার্তোমেউ সেই সময়ের অভ্যন্তরীণ আতঙ্কের বর্ণনা দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন কীভাবে মেসিকে কাতালুনিয়ায় ধরে রাখতে তারা তাঁর চুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিলেন। এর ফলে যে চুক্তিটি হয়েছিল, তা ছিল ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল চুক্তি; যা প্রতিদ্বন্দ্বী যেকোনো ক্লাবের জন্য টক্কর দেওয়া প্রায় অসম্ভব করে তুলেছিল।
বার্তোমেউ ব্যাখ্যা করেন, ‘আমরা যা করেছিলাম তা হলো—লিওনেল মেসি এবং তাঁর বাবার সাথে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের রিলিজ ক্লজ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। সেই সময় ক্লজটি ছিল ৪০ কোটি ইউরো যা আমরা বাড়িয়ে ৭০ কোটিতে নিয়ে যাই—এটি ছিল একটি বিশাল অংক। আর যদি আপনি রিলিজ ক্লজ বাড়ান, তবে খেলোয়াড়ের বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়িয়ে দিতে হবে।’ এই পদক্ষেপটি কার্যত অন্য ক্লাবগুলোর মেসিকে পাওয়ার দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত এটিই বার্সার ওপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ তৈরি করেছিল—যার ফলে শেষ পর্যন্ত আর্থিকভাবে বিধ্বস্ত ক্লাব থেকে ২০২১ সালে বিদায় নিতে হয় ইন্টার মায়ামি তারকাকে।