১৪ নভেম্বর ২০২৫, ৫:৪০ পিএম

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আয়ারল্যান্ডের কাছে ২–০ গোলে হেরেছে পর্তুগাল। এই ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম লাল কার্ড দেখেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যাচ শেষে আয়ারল্যান্ড কোচ হেইমির হালগ্রিমসন এটিকে রোনালদোর ‘মূর্খতাপূর্ণ মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
ডাবলিনে গতকাল ম্যাচের ৬১ মিনিটে আইরিশ ডিফেন্ডার দারা ও’শিয়াকে কনুই দিয়ে আঘাত করে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন রোনালদো। পরে রেফারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। মাঠ ছাড়ার সময় রোনালদো ও হেইমিরের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য–বিনিময়ও হয়, যদিও শেষে দুজনই করমর্দন করেন।
ম্যাচ শেষে আইরিশ কোচ হেইমির বলেন,
‘রোনালদো আমাকে বলেছে, আমি নাকি রেফারির ওপর চাপ দিচ্ছিলাম। আসলে এটা পুরোই তার কাজের ফল। তার ওই আচরণই তাকে লাল কার্ড দিয়েছে, আমার কারণে কিছু হয়নি। এটা তার এক মূর্খতাপূর্ণ মুহূর্ত।’
এই ম্যাচে একটি বিরল রেকর্ড হয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আভিভা স্টেডিয়ামে এটি টানা তৃতীয় সরাসরি লাল কার্ড। এর আগে হাঙ্গেরির রোল্যান্ড সালাই ও আর্মেনিয়ার টাইগ্রান বারসেঘিয়ান একই মাঠে লাল কার্ড দেখেন। এ বিষয়ে হেইমির মনে করেন দর্শকদের পরিবেশই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে,
‘এখানকার দর্শকদের পরিবেশই হয়তো প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। এমন আবহ অনেক জায়গায় নেই।’
রোনালদোর লাল কার্ড দেখাকে অপ্রত্যাশিত মনে করেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ,
‘২২৬ ম্যাচে কখনও লাল কার্ড না পাওয়া একজন খেলোয়াড়। আজকের সিদ্ধান্তটা একটু কঠিন ছিল। তাকে পুরো ম্যাচজুড়ে ধরা, টানা, ঠেলাঠেলি করা হয়েছে। ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলে কনুই মনে হলেও এটা পুরো শরীরের ধাক্কা।’
মার্তিনেজের অভিযোগ, আইরিশ কোচ রেফারিদের ওপর প্রভাব ফেলতে চাইছিলেন।
‘ওদের কোচ রেফারিকে প্রভাবিত করা নিয়ে মন্তব্য করছিলেন। তারপরই এমন নাটকীয়ভাবে ডিফেন্ডার পড়ে গেল। এতে আমাদের খারাপ লেগেছে।’
আয়ারল্যান্ডের কাছে হারলেও এখনো বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি পর্তুগালের। নিজেদের শেষ ম্যাচে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা আর্মেনিয়াকে হারাতে পারলেই সরাসরি বিশ্বকাপে পৌঁছে যাবে পর্তুগাল। তবে লাল কার্ড দেখায় রবিবার আর্মেনিয়ার বিপক্ষে দেখা যাবে না পর্তুগালের অধিনায়ক রোনালদোকে।
No posts available.
১০ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম
১০ মার্চ ২০২৬, ৪:০৪ পিএম

বার্সেলোনার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক দাবি করেছেন, তাঁর দলে আরও একজন তরুণ খেলোয়াড় রয়েছেন যিনি লামিন ইয়ামালের সমতুল্য। অবকাশ না দিয়েই স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে বার্সার প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কুবার্সি। যদিও ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে এবং বড় ম্যাচে কুর্বাসির সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের রাউন্ড অব সিক্সটিনে নিউক্যাসেলের বিপক্ষে প্রথম লেগের আগে ফ্লিক বলেছেন,
‘আমার মতে, পাউ কুবার্সি লামিন ইয়ামালের সমতুল্য, তবে সেটা ডিফেন্সে। সে ডিফেন্সে এতই ভালো করছে যে, তার থ্রো-ইনও যেন কর্ণারের মতো। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সে এমন উচ্চমানের ফুটবল খেলতে পারে যা কল্পনাতীত।’
এসয় প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও কথা বলেন ফ্লিক। তিনি বলেছেন,
‘প্রিমিয়ার লিগ বিশ্বের সেরা লিগ। এখানে অনেক শক্তিশালী দল আছে। তাদের অনেক দল চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয়।’
পাশাপশি ফ্লিক ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার বিশেষত্বও তুলে ধরেন,
‘চ্যাম্পিয়নস লিগ আলাদা। সবাই দেখাতে চায় তারা কী করতে পারে। তারা আমাদের ওপর চাপে রাখবে, তাই আমাদের সাহসী হতে হবে এবং আত্মবিশ্বাস দেখাতে হবে। তাদের কনট্রা অ্যাটাকে দুর্দান্ত ।’

রিয়াল মাদ্রিদ আগামী মৌসুমের আগে কোচ বদলের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করছে। সেই তালিকায় আছেন মরিসিও পচেত্তিনো। বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়ার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আর্জেন্টাইন কোচকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে— ইএসপিএনের প্রতিবেদন সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে।
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি জাবি আলোনসোর জায়গায় আরবেলোয়াকে দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেয় মাদ্রিদ। তবে তার চুক্তির মেয়াদ কতদিন—সেটি কখনো স্পষ্ট করা হয়নি। রিয়াল ও লিভারপুলের সাবেক এই ডিফেন্ডার যুবদলের কোচ হিসেবে কাজ করার সময় ভালো সুনাম অর্জন করেছিলেন। তবুও ইএসপিএন জানিয়েছে, তাকে কখনোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হয়নি।
কোচ হিসেবে আরবেলোয়ার প্রথম কয়েক মাসেও স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আনতে পারেননি। আগামী মৌসুমেও ডাগআউটে থাকতে হলে নাকি তাঁর ‘অলৌকিক কিছু’ করতে হবে—অথবা জিততে হবে চ্যাম্পিয়নস লিগ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মাদ্রিদ চাইলে আরবেলোয়াকে ক্লাবেই অন্য কোনো দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও দিতে পারে। এমনকি তাকে আবারও রিয়াল মাদ্রিদ কাস্তিয়া–এর কোচের দায়িত্ব দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
পিএসজিতে থাকাকালীন পচেত্তিনো কিলিয়ান এমবাপে-কে সঙ্গে নিয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছিলেন। তবে তারকাখচিত দল নিয়েও ইউরোপের সবচেয়ে বড় ট্রফি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হয়নি পিএসজির। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্যের প্রতিযোগিতায় ২০২১ সালে সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হেরে বিদায় নেয় ফরাসি ক্লাবটি। আর ২০২২ সালে শেষ ষোলোতেই ছিটকে যায় রিয়াল মাদ্রিদ–এর বিপক্ষে হেরে।
বেশ কিছুদিনই স্প্যানিশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবরে কোচ হিসেবে রিয়ালের সঙ্গে ইর্য়ুগেন ক্লপ, উনাই এমেরি এবং ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির নামও জড়িয়েছে। অন্যদিকে কিছু সূত্র বলছে, জিনেদিন জিদানের প্রত্যাবর্তনই এখনো ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সবচেয়ে বড় ইচ্ছা। যদিও জোর গুঞ্জন আছে, ফরাসি এই কোচ ইতিমধ্যে ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন এবং বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই সেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এদিকে আগামী গ্রীষ্মে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু–এ বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। সেই প্রেক্ষাপটে শুধু কোচ আরবেলোয়া–র ভবিষ্যৎই নয়, ক্লাবের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদও অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।
গত মৌসুমে কোনো শিরোপা জিততে না পারার পর গত গ্রীষ্মের ট্রান্সফার উইন্ডোতে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সেই ব্যয়ে দলে আনা কয়েকজন ফুটবলার এখনো প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। এই প্রসঙ্গে ইএসপিএনকে জানিয়েছে, ক্লাবের প্রধান স্কাউট জুনি ক্যালাফাত–এর অবস্থানও এখন প্রশ্নের মুখে।
অতীতে তরুণ প্রতিভা দলে ভেড়ানোর জন্য জুনি ক্যালাফাত ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিলেন। তার হাত ধরেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, এদের মিলিতাও এবং জুড বেলিংহাম–এর মতো খেলোয়াড়দের দলে আনে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে গত গ্রীষ্মে ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটিতে যোগ দেওয়া ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, ডিন হুইসেন এবং ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা সন্দিহান রিয়াল।

এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপ অধ্যায় শেষ হয়েছে ইরান নারী ফুটবল দলের। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরেছে তারা। ফলে বাড়ি ফেরার অপক্ষোয় জাহরা গনবারিরা। তবে দেশটিতে চলমান যুদ্ধ ইরানের ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। এমতাবস্থায় বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পাঁচ ইরানি নারী ফুটবলারকে মানবিক ভিসা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আপাতত নিরাপদেই থাকছেন তারা।
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আন্থনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মানুষ এই সাহসী নারীদের পরিস্থিতিতে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন এবং তারা এখানে নিরাপদে আছেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক সামাজিক মাধ্যমে পাঁচ খেলোয়াড়ের সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরেই গোপনে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। তবে পুরো দলের সবাই একই সিদ্ধান্ত নেবেন, এমনটি নিশ্চিত নয় বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন
| অস্ট্রেলিয়ার আশ্রয়ে ইরানের ৫ নারী ফুটবলার |
|
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইরানের মেয়েদের জাতীয় সংগীত না গাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা উদ্বেগ দ্বিগুণ হয়েছে। এই ঘটনায় সমালোচনা শুরু হয় এবং এক সমালোচক এটিকে ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দেন, কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন তারা।
এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের বিপক্ষে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গেয়ে সালাম দেন। সমালোচকেরা মনে করছেন, দেশের কর্তৃপক্ষের চাপের কারণে তারা জাতীয় সংগীত গাইতে বাধ্য হয়েছেন।
ম্যাচটির প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে অনেক সমর্থক ‘লায়ন্স এন্ড সান’ পতাকা উড়িয়ে দেন—যেটি ইসলামী বিপ্লবের আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় পতাকা ছিল। স্টেডিয়ামের বাইরে কেবল বর্তমান সরকারি পতাকা প্রদর্শনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তারা গোপনে পতাকাগুলো ভেতরে নিয়ে আসে।
রবিবার রাতে স্টেডিয়াম থেকে দলটির বাস বের হওয়ার সময় সমর্থকদের হাতে ব্যানার দেখা যায়—যেখানে লেখা ছিল, ‘অস্ট্রেলিয়াতে নিরাপদে থাকো, পুলিশের সঙ্গে কথা বলো’। বাসের ভেতরে বসে খেলোয়াড়রা বৃষ্টির মধ্যে বাইরে ঘটে যাওয়া দৃশ্য দেখেন।
সোমবার পাঁচতারকা রিসোর্টে কড়া নিরাপত্তা দেখা গেছে। হোটেলের সামনে ফেডারেল পুলিশ মোতায়েন ছিল। দলের কোনো খেলোয়াড়কে দেখা না গেলেও প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্য হোটেলের সাধারণ জায়গায় বসেছিলেন। তারা কখন হোটেল ছাড়বে—ইরানে ফিরবে নাকি অন্য কোনো দেশে যাবে—এখনো স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন
| কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ম্যানসিটি-লিভারপুল |
|
সিডনিতে সোমবার ইরানি দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিফা, এএফসি ও অস্ট্রেলিয়ান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিশ্বব্যাপী খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রোর এশিয়া/ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি বিউ বুশ। তিনি বলেন,
‘আমরা (অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে) বলছি, যেন খেলোয়াড়দের (নিরাপত্তা) নিয়ে কাজ করা হয়। এটা সত্যিই কঠিন পরিস্থিতি। এমন খেলোয়াড় থাকতে পারে, যারা ফিরে যেতে চায়। দলের মধ্যে এমন কিছু খেলোয়াড় থাকতে পারে, যারা আশ্রয় পেতে চায়, অথবা অস্ট্রেলিয়ায় আরও বেশি সময় থাকতে চায়। এমন কিছু খেলোয়াড় থাকতে পারে যারা সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘‘ইরান দলকে দেশে ফিরতে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’ করছে।’’ দলটির সদস্যদের আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরানের জাতীয় নারী ফুটবল দলকে জোরপূর্বক ইরানে ফেরত নেওয়ার অনুমতি দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ভয়াবহ মানবিক ভুল করছে, সেখানে (ইরান) হয়তো তাদের হত্যা করা হবে। আপনি যদি তা না করেন (আশ্রয় না দেন), তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিয়ে যাবে।’

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ স্থগিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছে না ফিফা। সংস্থাটির শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই আয়োজন এত বড় যে সেটি পিছিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতা পরিচালনা কর্মকর্তা হেইমো শির্গি সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তিনি জানান, বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেও পরিকল্পনা অনুযায়ীই বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা আগামী ১১ জুন। বিশ্বকাপে প্রথমবারের অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করবে এই সংস্করণে।
আরও পড়ুন
| অস্ট্রেলিয়ার আশ্রয়ে ইরানের ৫ নারী ফুটবলার |
|
শির্গি বলেন, ‘ভবিষ্যতে কী হবে তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না। পরিস্থিতি প্রতিদিন বদলাচ্ছে এবং আমরা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তবে বিশ্বকাপ অবশ্যই হবে। এই টুর্নামেন্ট এত বড় যে এটি স্থগিত করার বিষয় নয়। আমরা আশা করি, যেসব দল যোগ্যতা অর্জন করেছে সবাই অংশ নিতে পারবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাব নিয়ে ফিফা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি।
এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো হবে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরে। এ ছাড়া কানাডায় দুটি এবং মেক্সিকোতে তিনটি ভেন্যুতে ম্যাচ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন সম্প্রতি কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে ইরান, আইভরি কোস্ট, হাইতি ও সেনেগাল। আয়োজক মেক্সিকোর একটি শহরেও চলছে অস্থিরতা। তবে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া খেলোয়াড়, দলীয় কর্মকর্তা ও তাদের নিকটাত্মীয়দের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। কিছু টিকিটের দাম কয়েক হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে প্রতিটি ম্যাচের জন্য সীমিত সংখ্যক স্বল্পমূল্যের টিকিট দেওয়া হবে, যাতে নিয়মিত সমর্থকেরা তা কিনতে পারেন।
ডালাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপ উপলক্ষে ৩৪ দিনব্যাপী সমর্থক উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের আশা, বিশ্বজুড়ে নানা অস্থিরতার মাঝেও এই বিশ্বকাপ মানুষকে একত্রিত করার একটি বড় উপলক্ষ হয়ে উঠবে।

দেশে ফিরলে নিপীড়নের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়েছিলেন ইরানের জাতীয় নারী ফুটবল দলের ৫জন খেলোয়াড়। মানবিক বিবেচনায় তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া, দিয়েছে মানবিক ভিসা। যার ফলে আপাতত অস্ট্রেলিয়ার আশ্রয়ে থাকছেন ওই ৫ ফুটবলার। মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
ইরানের নারী ফুটবল দল অস্ট্রেলিয়ায় চলমান এএফসি এশিয়ান কাপ খেলতে গিয়েছিল। সেখানেই দলের ৫ খেলোয়াড় গোপনে টিম হোটেল ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশের আশ্রয়ে যান। পরে তারা সরকারের কাছে সহায়তা চান। মানবিক ভিসা পাওয়া ওই পাঁচ ফুটবলার হলেন জাহরা সারবালি আলিশাহ, ফাতেমেহ পাসানদিদেহ, মোনা হামুদি, জাহরা ঘানবারি এবং আতেফেহ রামেজানিজাদেহ।
আরও পড়ুন
| ফিনালিসিমার আগে সাহসী সিদ্ধান্ত কাতারের |
|
এশিয়ান কাপের টুর্নামেন্ট চলাকালেই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে ইরানে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর থেকেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের নারী দলের মাঠের পারফরম্যান্সও খুব একটা ভালো নয়। ফিলিপাইনের কাছে ২–০, অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-০ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় তারা।
এশিয়ান কাপে ইরানের প্রথম ম্যাচ ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। ২ মার্চ ওই ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গেয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন ইরানের এই ৫ ফুটবলার। তাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন। একজন ধারাভাষ্যকার এটিকে ‘চরম অসম্মান‘ বলে মন্তব্য করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক সামাজিক মাধ্যমে ইরানের ৫ খেলোয়াড়ের সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরেই গোপনে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। তবে পুরো দলের সবাই একই সিদ্ধান্ত নেবেন, এমনটি নিশ্চিত নয় বলেও জানান তিনি।