ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডাগআউটে আনা হয়েছিল পরিবর্তনের সুর ধরে। তবে রুবেন আমোরিমের কোচিংয়ে দলটি নিজেদের যেন আরও হারিয়ে খুঁজছে। নটিংহাম ফরেস্টের কাছে বিব্রতকর আরেকটি হারের পর পর্তুগিজ কোচের মনে হচ্ছে, নিজেকে প্রমাণে খুব বেশি সময় পাবেন না তিনি।
গত মঙ্গলবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে অ্যান্টনি এলাঙ্গার পঞ্চম মিনিটে দেওয়া গোলে জয় পায় ফরেস্ট। লিগে এই মৌসুমে এটি ইউনাইটেডের ১৩তম পরাজয়। আর একটি হারের দেখা পেলেই ওল্ড ট্রাফোর্ডের দলটি স্পর্শ করবে তাদের ২০২৩-২৪ মৌসুমে রেকর্ড ১৪ হারের তেতো অভিজ্ঞতাকে।
পয়েন্ট টেবিলে ১৩তম স্থানে নেমে যাওয়ার পর আমোরিম তাই শোনাতে পারেননি আশার কথা। “ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আপনার হাতে সময় নেই। আমি অনেক সময় পাবো না। আমাদের দ্রুত ছন্দ খুঁজে পেতে হবে। এখানে মাঝে মাঝে চাপটা খুব বেশিই থাকে। আমরা ম্যাচটা শুরু করি গোল হজম করে এবং এরপর নটিংহামকে সুযোগ করে দেই রক্ষণ সামলে খেলার। তাদের কাছে ট্রানজিশন তৈরি করার জন্য আসলেই দ্রুতগতির কিছু খেলোয়াড় রয়েছে।”
এই ম্যাচে গোলের সামনে আরও একবার হতাশাজনক ছিলেন ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রা। গোলের জন্য ২৪টি শট নিয়েও ঠিকানা খুঁজে পাননি তারা। এর মধ্যে আলেহান্দ্রো গার্নাচো নেন ৬টি৷ শট।
তবে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের আগলেই রেখেছেন আমোরিম৷ “সে সবকিছুই চেষ্টা করছেন। সে চেষ্টা করে গেছে। এমন কিছু দিন থাকে, যেখানে আপনি ফাইনাল থার্ডে সব ঠিক কাজ করলেও ফলটা পাবেন না। এটা হতেই পারে।”
ইন্তার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের আগে চোট হানা দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ স্কোয়াডে। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এই ম্যাচ মিস করার সম্ভাবনা রয়েছে ফরোয়ার্ড জামাল মুসিয়ালার।
গত শুক্রবার বুন্দেসলিগায় অগসবার্গের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয়ের ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে হ্যামস্ট্রিং চোট পান মুসিয়ালা। এর আগে বিরতির আগেই গোলের দেখা পেয়েছিলেন এই জার্মান ফুটবলার। ফলে আগামী মঙ্গলবার ইন্তারের বিপক্ষে প্রথম লেগের ম্যাচ মিস করার জোর সম্ভাবনা রয়েছে তার।
বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাক্স এবারল একরকম নিশ্চিতই করে দিয়েছেন বিষয়টি।
“এটা (মুসিয়ালার চোট) তেমন সুবিধার মনে হচ্ছে না। মঙ্গলবারের ম্যাচে সে মাঠে থাকবে না।”
শেষ পর্যন্ত মুসিয়ালা যদি না খেলতে পারেন, তাহলে সেটা বায়ার্নের জন্য হবে বড় এক ধাক্কা। ভিন্ন ভিন্ন চোটে আগে থেকেই মাঠের বাইরে আছেন ডিফেন্ডার হিরোকি ইতো, আলফোন্সো ডেভিস এবং দায়ত উপামেকানো, উইঙ্গার কিংসলে কোমান এবং গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার।
মুসিয়ালা এই মৌসুমে বায়ার্নের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৮টি গোল করেছেন তিনি, যা তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের পর বায়ার্নের হয়ে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ।
বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি আশাবাদী, মুসিয়ালা না খেললেও ভালো করবে তার দল।
“আমরা এই মৌসুমে জামালকে ছাড়া কয়েকবারই খেলেছি। আমি ডাক্তার নই। আমি খুব বেশি সামনের দিকে তাকাতে চাই না। তবে দুর্ভাগ্যবশত মনে হচ্ছে, মুসিয়ালা এই ম্যাচটা মিস করবে। আজ (শুক্রবার) বা আগামীকাল পরীক্ষার পর আমরা আরও এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে পারব।”
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আগেই বিদায় জানিয়েছেন। এবার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন ম্যাট হামেলস। চলতি মৌসুম শেষে বুট জোড়া তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জার্মানি ও এএস রোমার অভিজ্ঞ এই সেন্টার ব্যাক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গত শুক্রবার বিষয়টি জানান হামেলস। চলতি মৌসুম শেষেই রোমার সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ৩৬ বছর বয়সী এই ফুটবলারের। সেটা নবায়ন না করেই অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেললেন ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী এই ডিফেন্ডার।
এর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হামেলসের প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারের। বায়ার্ন মিউনিখ একাডেমি থেকে উঠে আসা হামেলস ২০০৮ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেন। এরপর বায়ার্ন ও বরুশিয়ার হয়ে খেলার পর গত বছর রোমায় যোগ দেন। সেরি আর ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে খেলেছেন ১৮টি ম্যাচ।
লম্বা এক ক্যারিয়ারে হামেলস ডর্টমুন্ডের জার্সিতে খেলেছেন ৫০৮ ম্যাচ। বায়ার্নের হয়ে খেলেন ১১৮ ম্যাচ। অর্জনে ভরপুর এক ক্লাব ক্যারিয়ারে পাঁচটি বুন্দেসলিগা শিরোপা, তিনটি জার্মান কাপ এবং ছয়টি জার্মান সুপার কাপ জিতেছেন হামেলস।
জার্মানির হয়ে ৭৮টি ম্যাচ খেলা হামেলসের ক্লাব ক্যারিয়ারের আক্ষেপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে না পারা। ডর্টমুন্ডের হয়ে তিনি দুই বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। তবে ২০১২-১৩ ও ২০২৩-২৪ মৌসুমে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে।
ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে ক্রমেই নিজেকে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়। কেভিন ডে ব্রুইনা যখন ইংলিশ ক্লাবটি থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন, তখন তিনি হয়ে গেছেন সময়ের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারদের একজন। তবে বেলজিয়ান তারকাকে আরও বড় মাপের খেলোয়াড় মানছেন কোচ পেপ গার্দিওলা। তার চোখে ডে ব্রুইনা প্রিমিয়ার লিগের সেরাদের একজন।
১০ বছর আগে উলফসবার্গ থেকে সিটিতে নাম লেখান ডে ব্রুইনা। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে ১৬টি ট্রফি জিতেছেন। যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, পাঁচটি লিগ কাপ, দুটি এফএ কাপ, দুটি কমিউনিটি শিল্ড এবং একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। একাধিকবার হয়েছেন প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড়।
৩৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার গত শুক্রবার ঘোষণা মৌসুম শেষে সিটি ছাড়ার। সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন গার্দিওলা। “তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। আর এই ক্লাবের ইতিহাসের তো বটেই। আপনি যখন কাউকে সর্বকালের সেরা বলবেন, তখন আপনাকে গত ২০-৩০ বছর ধরে এই ক্লাবে যারা খেলেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তা বলতে হবে। তবে নিশ্চিতভাবেই তিনি সেরাদের একজন।”
ডে ব্রুইনা এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ম্যাচ খেলেছেন ৩১টি। ৪ গোল করার পাশাপাশি করিয়েছেন ৭টি। আর সব মিলিয়ে সিটির জার্সিতে ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার খেলেছেন ৪১৩ ম্যাচ। ১০৬টি গোলের সাথে করেছেন ১৭৪টি অ্যাসিস্ট।
গার্দিওলার কাছে তার সময়ে সিটির সফলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন ডে ব্রুইনাই। “আমাদের জন্য এটা একটা দুঃখের দিন। গত দশকে আমাদের সাফল্যের পেছনে তার প্রভাব নিয়ে আমি আপনাদের আলাদাভাবে বলতে চাই না। কারণ, তাকে ছাড়া এটি কল্পনা করাও অসম্ভব। আমাদের এখনও ১০টি খেলা বাকি আছে এবং আমি নিশ্চিত সে তার প্রাপ্য ভালোবাসা এবং স্বীকৃতি পাবে।”
গুঞ্জন বাতাসে ভাসছিল বেশ আগে থেকেই। শেষ পর্যন্ত সেটাই হল সত্যি। ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ছেন কেভিন ডে ব্রুইনা। চলতি মৌসুম শেষে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের সাথে শেষ হচ্ছে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারের অধ্যায়।
আগামী জুনে সিটির সাথে শেষ হচ্ছে ডে ব্রুইনার চুক্তির মেয়াদ। দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি নবায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি কখন। বেলজিয়ান তারকা এই মৌসুমে আগেও কয়েকবার আভাস দিয়েছেন ক্লাব ছাড়ার।
আরও পড়ুন
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে রাশিয়ার ফেরার অপেক্ষায় ফিফা |
![]() |
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ডে ব্রুইনা নিজেই নিশ্চিত করেছেন বিষয়টি। “এটা দেখে হয়ত বুঝতে পারছেন বিষয়টা কোন দিকে এগোচ্ছে। তাই আমি সরাসরি সেখানেই চলে যাচ্ছি এবং আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি যে, ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড় হিসেবে এটাই আমার শেষ মাস। এই ব্যাপারে কিছুই লেখা সহজ কাজ না, কিন্তু ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে আমরা সবাই জানি যে এই দিনটি একদিন আসবেই। আমার জন্য সেই দিনটা এসে গেছে। আর আপনাদেরই আমার কাছ থেকে এটা সবার শোনা উচিত।”
এরপর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সিটিকে। “ফুটবল আমাকে আপনাদের সবার কাছে এবং সিটির কাছে নিয়ে এসেছে। এই সময়টা যে আমার জীবন বদলে দেবে, তা আমি জানতাম না। আমি স্বপ্নের পেছনে ছুটেছি। এই শহর…এই ক্লাব… এই মানুষগুলো... তারা আমাকে সবকিছু দিয়েছে। তাদের এর সবকিছু ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না! আর দেখুন, আমরা সবকিছুই জিতেছি। এটা আমাদের ভালো লাগুক বা না লাগুক, বিদায় বলার সময় এসেছে।”
চোটের কারণে বেশ কিছু ম্যাচ মিস করা ৩৩ বছর বয়সী ডে ব্রুইনা এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ম্যাচ খেলেছেন ৩১টি। ৪ গোল করার পাশাপাশি করিয়েছেন ৭টি। মিনিট খেলেছেন মোট ১ হাজার ৬৯৮।
আর সব মিলিয়ে সিটির জার্সিতে ডে ব্রুইনা খেলেছেন ৪১৩ ম্যাচ। ১০৬টি গোলের সাথে করেছেন ১৭৪টি অ্যাসিস্ট।
আরও পড়ুন
‘৬৪ দলের বিশ্বকাপ একটা বাজে আইডিয়া’ |
![]() |
সিটির ইতিহাসের সেরা সময়ে ডে ব্রুইনা খেলেছেন নিজের সেরা ফুটবলও। পেপ গার্দিলার দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে জিতেছে ৬টি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সহ ক্লাব ফুটবলের সম্ভাব্য সব শিরোপাই।
৩২ দলের বিশ্বকাপ থেকে বাড়িয়ে আগামী আসরের জন্য দলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে আগেই। তবে এখানেই না থেমে থেকে ফিফার ইচ্ছা আছে সংখ্যাটি আরও বৃদ্ধির। তবে ৬৪ দলের বিশ্বকাপের যে প্রস্তাব নিয়ে ভাবা হচ্ছে, তাতেই বিস্মিত ইউয়েফা প্রধান আলেকজান্ডার চেফেরিন। তার মতে, এটা একটা যুক্তিহীন চিন্তাভাবনা।
অনেকদিন ধরেই বাতাসে ভাসছে খবর, ফিফার ইচ্ছা আছে বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ২০৩০ সালের আসরে ৬৪ দলের অংশগ্রহণ। নিউ ইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, উরুগুয়ের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইগনাসিও আলোনসো গত মাসে ফিফা কাউন্সিলে ২০৩০ বিশ্বকাপ আসরের জন্য অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে রাশিয়ার ফেরার অপেক্ষায় ফিফা |
![]() |
ইউয়েফার ৪৯তম কংগ্রেসের পর সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করেন চেফেরিন। “এই প্রস্তাবটি আপনার চেয়ে আমাকে আরও বেশি অবাক করেছে। আমি মনে করি এটি একটি বাজে প্রস্তাব। আমার মনে হয়, এমন কিছু বিশ্বকাপের জন্যও ভালো নয়। তাছাড়া এটা আমাদের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্যও ভালো চিন্তা নয়।”
আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক মরক্কো, স্পেন এবং পর্তুগাল। আর আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতে বিশ্বকাপে শতবর্ষ উপলক্ষ্যে হবে তিনটি ম্যাচ, যেখানে ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
চেফেরিন মনে করেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ একটি অবান্তর প্রজেক্ট। “আমি এই প্রস্তাবকে সমর্থন করছি না। আমি জানি না এটা কার কাছ থেকে আসল। এটা অদ্ভুত যে ফিফা কাউন্সিলের আগে এই প্রস্তাবের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানতাম না।”