২৮ নভেম্বর ২০২৫, ৯:১০ এম

সান্তিয়াগো বার্নাবুতে চলতি মৌসুমের এল ক্লাসিকোয় যখনই লামিনে ইয়ামালের বল স্পর্শ করছিলেন, পুরো গ্যালারি এক সঙ্গে শিশ আর দুয়োধ্বনি দিচ্ছিল। এই দৃশ্য এখন নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে। কাতালান ক্লাবটির ১০ নম্বর জার্সিধারী এই স্প্যানিশ তারকা প্রায় সব প্রতিপক্ষেরই লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন। এককথায় ইয়ামাল যেন এখন ‘জনমানুষের দুশমন নম্বর ওয়ান’।
ইয়ামালের চোট বার্সার মাথাব্যথা আগেই বাড়িয়েছে। ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার পিউবালজিয়া–জনিত চোট থেকে সেরে অনেকটাই উঠছেন, যে সমস্যা তাকে টানা পাঁচ ম্যাচের বাইরে রেখেছে। তবে সবশেষ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির কাছে ০-৩ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া ম্যাচে ইয়ামালের সঙ্গে স্বাগতিক দর্শকদের আচারণ দুশ্চিন্তায় ফেলেছে বার্সাকে। সম্প্রতি প্রায়ই প্রতিপক্ষের মাঠে আক্রমণ আর বিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন ইয়ামাল। আর ক্লাবের প্রাণভোমরাকে নিয়ে তাই স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন বার্সা।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও স্পোর্ট’ এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, লামিন ইয়ামাল প্রতি মাঠেই যেন ‘জনমানুষের দুশমন নাম্বার ওয়ান’-এ পরিণত হচ্ছেন। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচ ছাড়াও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লাব ব্রুগের বিপক্ষে সাম্প্রতিক অ্যাওয়ে ম্যাচেও দুয়োধ্বনি হজম করতে হয়েছে ইয়ামালকে। এমনকি ম্যাচ শেষে এক চেলসি খেলোয়াড়ও ইয়ামালকে উদ্দেশ্য করে বিরূপ মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন
| পাঁচ ম্যাচের সিরিজ শুরু হচ্ছে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার |
|
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে এল ক্লাসিকোতে সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে—যেখানে উত্তেজনা চরমে উঠে হাতাহাতির পর্যায়ে যায়, আর রিয়াল মাদ্রিদের দানি কারভাহাল ও থিবো কুর্তোয়ার মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররাও ইয়ামালকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানান।
দিয়ারিও স্পোর্ট এর প্রতিবেদনটি বলছে, বার্সেলোনা ইয়ামালের এই বদলে যাওয়া ইমেজ নিয়ে বেশ চিন্তিত। কারণ লামিন ইয়ামাল কেবল একজন ফুটবলার নন; তিনি এখন ক্লাবের অন্যতম প্রধান মুখ। বার্সার বানিজ্যিক আইকনও তো সেই ইয়ামালই। তাঁর ১০ নম্বর জার্সি তৈরি করেছে ক্লাবের নতুন আয়ের ধারা।
এরপরও অবশ্য বার্সেলোনা একেবারে হতাশ হচ্ছে না ক্লাবটির ইতিহাসের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির কথা ভেবে। বার্সার ইতিহাসের সেরা সময়ে নিয়মিতই প্রতিপক্ষের সমর্থক এমনকি ফুটবলারদের আক্রমণের শিকার হতেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মেসিকে প্রতিপক্ষ ভয় পেলেও তার প্রতিভার প্রতি ছিল সম্মান, অনেক ক্ষেত্রে এমনকি ভালোবাসাও। মেসির পদচিহ্ন ছুঁয়ে এগিয়ে যাবেন ইয়ামাল, এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর ক্লাবের।
চলতি মৌসুমে মাঠের বাইরে বিতর্ক আর চোটের সঙ্গে লড়াই করেই ক্লাবের জয়ে অবদান রাখছেন ইয়ামাল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে লা লিগায় ৯ ম্যাচে ৪ গোলের সঙ্গে ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। এ ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই গোল, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরেকটি গোল।
No posts available.
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৫৭ এম
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৫৩ এম
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০৬ এম

বছর শেষ করার আগে দুইটি ফাইনালের সামনে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি ও তার ক্লাব ইন্টার মায়ামি। এর প্রথমটিতে তারা লড়বে নিউ ইয়র্ক সিটি এফসির বিপক্ষে। এই ম্যাচে জিততে পারলেই মিলবে দ্বিতীয় ফাইনালের টিকেট। যেখানে থাকবে মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ট্রফি জেতার সুযোগ।
নিজেদের ঘরের মাঠে এমএলএস কাপের ইস্টার্ন কনফারেন্সের ফাইনালে রোববার নিউ ইয়র্ক সিটিকে স্বাগত জানাবে মায়ামি। বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৫টায় শুরু হবে খেলা।
ইস্টার্ন কনফারেন্সের ফাইনাল জিতলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে না মায়ামি। বরং তারা পাবে এমএলএস কাপের ফাইনাল খেলার টিকেট। ওই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের ফাইনাল জেতা দল। যেখানে লড়বে স্যান ডিয়েগো ও ভ্যাঙ্কুভার।
এমএলএসের ফরম্যাটই আসলে কিছুটা ব্যতিক্রম। যেখানে ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সে ভাগ হয়ে খেলে দলগুলো। নিয়মিত মৌসুম শেষে সাপোর্টার্স শিল্ড ট্রফি ওঠে যে কোনো দলের হাতে। এরপর শুরু হয় এমএলএস প্লে-অফ।
প্লে-অফে ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের হয় ভিন্ন ভিন্ন প্রথম রাউন্ড, সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ। পরে দুই কনফারেন্সের ফাইনাল জেতা দলকে নিয়ে এমএলএস কাপ ফাইনাল। আর এই ম্যাচের জয়ী দলই পায় এমএলএসের ট্রফি।
আরও পড়ুন
| চোট নিয়ে খেলেও নেইমারের গোল-অ্যাসিস্ট, আপাতত নিরাপদ সান্তোস |
|
সাপোর্টারস শিল্ডে তৃতীয় হয়ে প্লে-অফের টিকেট পেয়েছে মায়ামি। প্রথম রাউন্ডে তিন ম্যাচের সিরিজে তারা হারিয়েছে ন্যাশভিলকে। আর প্লে-অফে মেসির জাদুতে পাত্তাই পায়নি সিনসিনাটি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার এক গোল ও তিন অ্যাসিস্টে ৪-০তে জেতে মায়ামি।
সেই ছন্দ ধরে রেখে এবার কনফারেন্স ফাইনালে নিউ ইয়র্ক সিটির সামনে মায়ামি। ম্যাচের আগে দলকে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রধান কোচ হাভিয়ের মাচেরানো। নতুন ম্যাচকে নতুন লড়াই হিসেবেই দেখার বার্তা দিয়েছেন সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা।
“এখন পর্যন্ত আমরা খুব ভালো খেলেছি। কিন্তু কিছুই জিতিনি। কালকের ম্যাচটি খুব জটিল হতে চলেছে। কারণ প্রতিপক্ষও টানা তিন ম্যাচ জিতে যোগ্য হিসেবেই কনফারেন্স ফাইনালে এসেছে। তাই আমাদের প্রথম মিনিট থেকেই জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।”
মেসিদের ম্যাচ শুরুর ঘণ্টা তিনেক পর ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের ফাইনালে মাঠে নামবে স্যান ডিয়েগো ও ভ্যাঙ্কুভার। পরে আগামী ৭ ডিসেম্বর হবে এমএলএস কাপের ফাইনাল। কনফারেন্স ফাইনাল জিততে পারলে কাপ ফাইনাল ম্যাচটিও নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলবে মায়ামি।
গত মৌসুমে সাপোর্টার্স শিল্ড জিতলেও, এমএলএস প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছিল মায়ামি। এবার সাপোর্টার্স শিল্ডে তৃতীয় হয়ে প্লে-অফের টিকেট পায় তারা। আর দুইটি ম্যাচ জিততে পারলেই তাদের ট্রফি কেসে শোভা পাবে এমএলএসের শিরোপা।

চোটের কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল বিশ্রামের। কিন্তু দলের প্রয়োজন ছিল পূর্ণ ৩ পয়েন্ট। তাই নিজের চোটের পরোয়া না করে মাঠে নেমে গেলেন নেইমার। শুরুতে গোল আর শেষে অ্যাসিস্ট করে দলকে এনে দিলেন মহামূল্যবান জয়।
ব্রাজিলের সিরি আ'র ম্যাচে শনিবার বাংলাদেশ সময় সকালে স্পোর্টকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে নেইমারের সান্তোস। ম্যাচে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন নেইমার। অন্য গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে পায় নেইমারের দল।
এই জয়ে অবনমন শঙ্কা এড়িয়ে আপাতত কিছু সময়ের জন্য নিরাপদে আছে সান্তোস। ৩৬ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে এসেছে ১৫ নম্বরে। সমান ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে এরই মধ্যে অবনমন নিশ্চিত হওয়া স্পোর্ট।
রেলিগেশন শঙ্কা অবশ্য পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি সান্তোস। বাকি দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট পেতে হবে তাদের। পাশাপাশি আশায় থাকতে হবে, টেবিলের নিচের দলগুলো যেন পূর্ণ পয়েন্ট না পায়। নয়তো পূর্ণ ৬ পয়েন্ট পেলেও অবনমিত হয়ে যেতে পারে সান্তোস।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অপেক্ষায় ফিফা সভাপতি |
|
বাঁচা-মরার এই অবস্থা দেখেই মূলত নিজের চোটের তোয়াক্কা করেননি নেইমার। চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করে মাঠে নেমে তিনিই দলের জয়ের নায়ক। তার ঝলকেই টানা চার ম্যাচ জয়হীন থাকার পর অবশেষে আনন্দের সুযোগ পেল সান্তোস।
ম্যাচের ২৫ মিনিটে ডি-বক্সের মুখ থেকে বাম পাশে নেইমারকে খুঁজে নেন গুইলেরমে অগাস্তো। ডান পায়ে নিচু করে নেওয়া বাঁকানো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। মিনিট দশেক পর আত্মঘাতী গোল পেলে লিড বাড়ে তাদের।
আর দ্বিতীয়ার্ধে ৬৭ মিনিটের সময় নেইমারের কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে করা হেডে দলের জয় নিশ্চিত করে দেন হোয়াও শিমিট। ৩-০তে এগিয়ে যাওয়ার পরও আরও ২০ মিনিটের বেশি সময় মাঠে ছিলেন নেইমার। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের একদম শেষ দিকে তাকে উঠিয়ে নেন সান্তোস কোচ।

তিন জাতি নারী প্রীতি ফুটবল সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শনিবার আজারবাইজানের মুখোমুখি হবে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৭টায় হতে যাওয়া ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছে দুদলের প্রতিনিধি। মালয়েশিয়ার সংবাদসম্মেলনে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বেশিরভাগ প্রশ্নই ছিল সিরিজের প্রথম ম্যাচ কেন্দ্রিক।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ০-১ গোলে হারে বাংলাদেশ। ম্যাচে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও মেলেনি গোলের দেখা। ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে থাকার পরও বাংলাদেশ দলের দুই ফুটবলারের প্রশংসা করেছেন মালয়েশিয়া দলের হেড কোচ জোয়েল কর্নেলি,
'ওদের উইঙ্গার (ঋতুপর্ণা চাতমা) কি যেন নাম মনে করতে পারছি না, সে দারুণ গতির খেলোয়াড়। তাদের ছয় নম্বর জার্সি পরা ফুটবলারটাও, প্লেকার (মনিকা চাকমা) দারুণ খেলেছে।'
যথাযোগ্য সময় দিলে বাংলাদেশের এই দল ভবিষ্যতে দারুণ করবে বলে মনে করেন মালয়েশিয়া কোচ,
'তাদের ভাল একটা দল আছে। বেশ কয়েকজন সম্ভাবনাময় তরুণ খেলোয়াড় আছে। তাদের নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। কারণ তারা এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলতে যাচ্ছে। আমার মনে হয় ৩-৪ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম সেরা দল হবে।'
বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সিনিয়র দলের মতো অনূর্ধ্ব-২০ দলও জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ান কাপের মূল প্রতিযোগিতায়।
মজার ছলেই এদিন জোয়েল কর্নেলির কাছে বাংলাদেশের এক সাংবাদিক প্রশ্ন রাখেন যদি এই দলের কোচিংয়ের প্রস্তাব পান তবে কি করবেন। জবাবে বলেন,
'আমি মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করিনি। ৩১ ডিসেম্বরের পর আমি ফ্রি হয়ে যাবো।'

কাতারের খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গত বুধবার অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে পর্তুগাল। ডাচদের প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল ফিফার বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট।
বুধবার আলো ঝলমলে ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এমনকি, লাল-সবুজের দেশের উদ্দেশ্যে বলেছেন, "এগিয়ে যাও বাংলাদেশ।"
মূলত আবজল রহমান নামে এক বাংলাদেশি তরুণ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছেন ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে। সেখানে আবজলের ভিডিওতে ধরা পড়েন ফিফা সভাপতি।
১১ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে ইনফান্তিনো বলেছেন,
"এগিয়ে যাও বাংলাদেশ।" এরপর তিনি আরও যোগ করেন, "বিশ্বকাপে তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি।"
ফিফা সভাপতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অপেক্ষায় থাকলেও আপাতত সেটির সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ (১৮০) এগোলেও এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই, এর আগে বিশ্বকাপের প্রাথমিক বাছাইয়ে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি হাভিয়ের কাবরেরা দল।
তবে হামজা চৌধুরী-সোমিত সোমদের নিয়ে গুছানো ফুটবল দিয়ে যেভাবে এগুচ্ছে বাংলাদেশ, তাতে ভবিষ্যতে ইনফান্তিনোর অপেক্ষার প্রহর শেষ হতেও পারে!

‘নেগ্রেয়রা কেস’ ইস্যুতে বহুদিন ধরেই খোঁচাখুঁচি চলছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের। সবশেষে এ আগুনে ঘি ঢালেন রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। মাদ্রিদের অ্যাসেম্বলিতে পেরেজ জানান, ১৭ বছর ধরে রেফারি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তাকে ৮ মিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ দিয়েছে বার্সেলোনা।
রিয়ালের অভিযোগের আগে ও পরে বার্সার পক্ষ থেকে একাধিক বার বলা হয়েছে, ‘কনসালটেন্সি’ ফি বাবদই এ টাকা তারা দিয়েছিল এনরিকেজ নেগেরেইরাকে। রিয়ালের সভাপতির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কাতালান ক্লাবের সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা।
নেগ্রেয়রা কেস এখনও চলমান। তবে মৃত এই আগ্নেয়গিরী থেকে প্রায়ই আগুন ও লাবা দেখা মেলে, যাতে পুড়ে ছাই হয়ে থাকে সমর্থকদের হৃদয়। তেমনই আরেকবার জ্বলে উঠল নেগ্রেয়রা কেস আগ্নেয়গিরী।
মাদ্রিদের অ্যাসেম্বলিতে পেরেজের বক্তব্যের জবাবে লাপোর্তা বলেন,
"এখন আমি আন্দোরায় আছি। মাদ্রিদের অ্যাসেম্বলি নিয়ে মন্তব্য করার সুযোগ পাইনি এতদিন, সে বিষয়ে কিছু কথা বলব। আমি তাদের বলতে চাই, তাদের কথাগুলো অপ্রাসঙ্গিক। আমি মনে করি, এগুলো বার্সেলোনার প্রতি মাদ্রিদের এক ধরনের বাড়তি আবেগ প্রকাশ করে।"
তিনি বলেন,
"মনে হচ্ছে, বার্সেলোনার কথা বলে নিজেদের পক্ষে কিছু না কিছু যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে রিয়াল। তারা ‘নেগ্রেয়রা কেস’-এর আইনি প্রক্রিয়ায় বারবার জড়াচ্ছে, এটা শুধু সময় নষ্ট করার মতো, কারণ তারা জানে এতে কিছুই নেই।"
লাপোর্তা আরও বলেন,
"এটা সত্যিই মাদ্রিদের ভ্রান্ত ও বানোয়াট কিছু প্রমাণ করার চেষ্টা। বার্সেলোনা কখনো রেফারিদের ঘুষ দেয়নি। বরং রেফারিরা বার্সেলোনার পক্ষে খেলার পরিবর্তে মাদ্রিদের পক্ষে সুবিধা দিয়ে থাকে।"
পেরেজের মন্তব্যের বিপক্ষে উদাহরণ দিতে গিয়ে লাপোর্তা বলেন:
"একটি উদাহরণ দিই, গত সপ্তাহে মাদ্রিদ দুটি গোল করেছে। এই দুটি গোল হওয়ার কথা ছিল না, আর এখন বার্সেলোনা লিগে (লা লিগা) শীর্ষে থাকত।"
লাপোর্তা বলেন,
"বার্সেলোনা ২০০৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বসেরা দল ছিল, এটা তারা পছন্দ করে না, যখন বার্সেলোনা ছিল আধিপত্য বিস্তারকারী দল এবং এ নিয়ে তারা এখন অজুহাত খুঁজে বেড়াচ্ছে।"