
লা লিগা জয়ের দৌড়ে বার্সেলোনা এখন চালকের আসনে। তবে লিগ শিরোপা প্রায় হাতের মুঠোয় থাকলেও বসে নেই ক্লাবটির নীতিনির্ধারকরা। আগামী মৌসুমের জন্য এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামছে কাতালান জায়ান্টরা।
বার্সেলোনার মূল লক্ষ্য এখন তাদের ‘আরাধ্য’ ষষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। ২০১৫ সালের পর ইউরোপের এই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পাওয়া হয়নি কাতালান জায়ান্টদের। চলতি মৌসুমেও কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় সেই অপেক্ষা আরও অন্তত দীর্ঘ হলো।
কোচ হান্সি ফ্লিক তাঁর অভিষেক মৌসুমেই বার্সাকে লা লিগা জিতিয়েছেন এবং এবারও ক্লাবটি সেই পথেই আছে। কিন্তু দুইবার চেষ্টা করেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দলকে সাফল্যের চূড়ায় নিতে পারেননি এই জার্মান কোচ। ফলে ইউরোপসেরার ট্রফি জিততে ফ্লিক এখন এমন এক স্কোয়াড গড়তে মরিয়া, যেখানে থাকবে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ‘অস্ত্র’।
তবে এই বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় বাধা আর্থিক সংকট। হাতে খরচের জন্য অঢেল টাকা নেই ক্যাম্প ন্যূ’এর ক্লাবটির। স্প্যানিশ সংবামা ‘এএস ডায়ারিও’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন খেলোয়াড় কিনতে হলে ক্লাবটিকে তাদের বর্তমান কিছু তারকা খেলোয়াড়কে বিক্রি করে সেই ফান্ড জোগাড় করতে হবে।
সবচেয়ে বড় চমক হলো, যে তিন ডিফেন্ডারকে ক্লাব ছাড়ার তালিকায় রাখা হতে পারে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রোনাল্ড আরাউহো। মাঠ এবং মাঠের বাইরে বার্সার রক্ষণের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত এই উরুগুইয়ান তারকাকেও হয়তো দলের শক্তি বাড়াতে বিসর্জন দিতে পারে বার্সা কর্তৃপক্ষ।
গত নভেম্বরে বিষণ্নতার কারণে খেলা থেকে বিরতি নিয়েছিলেন আরাউহো। ফেরার পর লা লিগায় মাত্র দুটি ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন এই উরুগুইয়ান ডিফেন্ডার। নিয়মিত মাঠে নামতে না পারার এই চিত্রই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ক্লাব হয়তো তাকে এখন অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় মনে করছে।
আরাউহো ছাড়াও আরও দুই ডিফেন্ডার—জুলস কুন্দে এবং আলেহান্দ্রো বালদের ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও কোচ ফ্লিক তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন এবং তারা দলের নির্ভরযোগ্য মুখ, তবুও আর্থিক সংকটের কারণে চিত্রপট বদলে যেতে পারে। যদি এই পজিশনগুলোতে আরও দক্ষ খেলোয়াড় পাওয়া যায় কিংবা বড় সাইনিংয়ের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়, তবে তাদেরও ছেড়ে দিতে পারে বার্সা।
লা মাসিয়ার প্রতিভাবান মিডফিল্ডার মার্ক কাসাদোকেও হয়তো দলবদলের বাজারে তুলতে পারে ক্লাব। গত কয়েক মাসে অনেক ক্লাবই এই মিডফিল্ডারের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। এতদিন বার্সেলোনার হয়ে খেলার তীব্র ইচ্ছার কারণে কাসাদো ক্লাব ছাড়তে রাজি হননি। তবে সৌদি আরব, প্রিমিয়ার লিগ এবং লা লিগার ক্লাবগুলো তাকে পেতে মরিয়া। পর্যাপ্ত গেমটাইম না পাওয়ায় কাসাদো এবার হয়তো ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন।
সবচেয়ে জটিল অবস্থা রুনি বারদঘজিকে নিয়ে। সুইডিশ এই উইঙ্গারকে সহজে হারাতে চায় না বার্সা। তবে আক্রমণভাগের ডানপ্রান্তে লামিন ইয়ামালের বিকল্প হিসেবে খুব একটা মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন না বারদঘজি। তাতে এই উইঙ্গারকে বিক্রি করলেও চুক্তিতে 'বাই-ব্যাক' (পুনরায় কিনে নেওয়ার সুযোগ) ক্লজ রাখা হতে পারে, যাতে অন্য ক্লাবে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে আরও ঝালিয়ে নিতে পারেন তিনি।
বায়ার্ন মিউনিখ থেকে বার্সায় যোগ দেওয়া রবার্ট লেভানডফস্কির ক্লাব ছাড়া অনেকটাই নিশ্চিত। মৌসুম শেষেই পোলিশ ফরোয়ার্ডের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। বার্সার হয়ে চার মৌসুমে ১৮৮ ম্যাচে ১৮৮ গোল করেছেন লেভানডফস্কি। জিতেছেন দুটি লা লিগা, একটি কোপা দেল’রে ও তিনটি সুপার কোপা শিরোপা।
No posts available.
২ মে ২০২৬, ৪:১৪ পিএম

গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে নিজেদের রক্ষণভাগ শক্তিশালী করতে আটঘাট বেঁধে নেমেছে বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির রাডারে থাকা বড় নাম ইন্টার মিলানের ইতালিয়ান সেন্টার-ব্যাক আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। তবে বাস্তোনিকে দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া চলাকালীনই টটেনহাম হটস্পারের ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর প্রতি বার্সার ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ইন্টার মিলানে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
বাস্তোনি না রোমেরো: বার্সার কৌশলী অবস্থান
ইন্টার মিলানের তারকা ডিফেন্ডার বাস্তোনিকে পেতে বার্সেলোনা আগ্রহী হলেও তাঁর আকাশচুম্বী দাম একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টার তাদের এই তারকার জন্য অন্তত ৬০ মিলিয়ন ইউরো দাবি করছে। বার্সেলোনা ৫০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি খরচ করতে নারাজ, প্রয়োজনে কোনো খেলোয়াড়কে বিনিময়ের মাধ্যমে দাম আরও কমানোর চেষ্টা করছে।
এই দরাদরির মাঝেই বিকল্প হিসেবে কুটি রোমেরোর নাম সামনে এসেছে। টটেনহামের অবনমন (রেলিগেশন) হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় রোমেরোকে অনেক কম দামে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বার্সার সামনে। ইন্টার মিলান ভয় পাচ্ছে, বাস্তোনির দাম নিয়ে তারা বেশি কড়াকড়ি করলে বার্সা সরাসরি রোমেরোর দিকে ঝুঁকে পড়বে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, বাস্তোনি ইতোমধ্যেই স্পেনে নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করেছেন। তিনি জনসম্মুখে কোনো চাপ সৃষ্টি না করলেও অভ্যন্তরীণভাবে ক্লাবকে নিজের ইচ্ছার কথা জানাবেন যাতে দুই ক্লাবের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। বার্সেলোনা আত্মবিশ্বাসী তারা বাস্তোনির বর্তমান বেতনের সমান বা তার চেয়ে ভালো প্রস্তাব দিতে পারবে।
রোমারে যদিও বার্সার প্রথম পছন্দ নন, তবে তাঁরপরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। টটেনহামের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এই ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার বার্সেলোনায় যাওয়ার সুযোগ পেলে তাতে সানন্দে রাজি হবেন।
বার্সেলোনা আপাতত কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। ইন্টার মিলান তাদের লিগ শিরোপা নিশ্চিত করা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনায় বসছে না কাতালান ক্লাবটি। তারা আশা করছে, বাস্তোনির ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা এবং ইন্টারের খেলোয়াড় বিক্রির প্রয়োজনীয়তাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধাজনক শর্তে চুক্তিটি সম্পন্ন করা যাবে।
আগামী সপ্তাহটি এই দলবদলের লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বার্সা কি বাস্তোনিকেই শেষ পর্যন্ত দলে ভেড়াবে, নাকি রোমেরোর সস্তা বাজারদর বার্সার রণকৌশল বদলে দেবে—তা সময়ই বলে দেবে।

অলিম্পিক লিওঁতে সফল লোন স্পেল কাটিয়ে এই গ্রীষ্মেই রিয়াল মাদ্রিদে ফিরছেন এনড্রিক। এবার আর কোনো লোন নয়, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর মূল দলে স্থায়ী জায়গা করে নিতে যাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
ফরাসি সংবাদ মাধ্যম লেকিপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনড্রিক আগামী মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে ফেরার পর স্ট্রাইকার হিসেবে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে ক্লাব তাকে ডান উইঙ্গার হিসেবে খেলানোর পরিকল্পনা করছে।
আরও পড়ুন
| ইরানের ৯ কোটি মানুষই বিপ্লবী গার্ড- মেহেদি তাজ |
|
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরাস থেকে রিয়ালে যোগ দেন এনড্রিক। সেই সময় কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে ৩৭ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ৭ গোল। তবে চলতি মৌসুমে রিয়ালের বরখাস্ত হওয়া সাবেক কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে মাঠে সময় পান মাত্র ১৪ মিনিট।
রিয়ালে নিয়মিত ব্রাত্য হয়ে পড়ায় গত ডিসেম্বরের শেষদিকে অলিম্পিক লিঁওতে লোনে যোগ দেন এনড্রিক। ফরাসি ক্লাবটিতে গিয়েই নিজের ঝলক দেখাতে শুরু করেন ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ।
লিঁওতে এখন পর্যন্ত ১৭ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন এনড্রিক, সতীর্থদেরকে দিয়ে গোল করিয়েছেন আরও ৬ টি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে নিজের জায়গা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন এই ফরোয়ার্ড।
লিঁওতে এনড্রিকের খেলায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াল। লস ব্ল্যাঙ্কোসদের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপে এবং ভিনিসিউস জুনিয়রের সাথে এনড্রিককে দেখা যেতে পারে থ্রি-ম্যান অ্যাটাকিং লাইনের ডানপ্রান্তে।
তবে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে এই ব্রাজিলিয়ানকে লড়াই করতে হবে চোট কাটিয়ে ফেরা রদ্রিগো গোয়েস, ব্রাহিম দিয়াজ এবং ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোর সঙ্গে।
এনড্রিকের পেছনে রিয়াল প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার ট্রান্সফার ফি, বেতন ও কমিশনসহ) ব্যয় করেছে। ভবিষ্যতে এমবাপের বিকল্প হিসেবে ৯ নম্বর পজিশনে এই ব্রাজিলিয়ানকে দেখছে মাদ্রিদের ক্লাবটি।

আর্জেন্টাইনদের কাছে লিওনেল মেসি কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি এক আবেগের নাম। সেই আবেগের দেখা পেয়ে এবার নিজের আজীবনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করলেন ফর্মুলা ওয়ান (এফ-ওয়ান রেসিং) তারকা ফ্রাঙ্কো কোলাপিন্তো। মায়ামি গ্র্যান্ড প্রিক্স শুরুর আগে ইন্টার মায়ামির অনুশীলন মাঠে গিয়ে নিজের আইডল মেসির সঙ্গে একান্ত সময় কাটিয়েছেন আলপাইন দলের এই তরুণ ড্রাইভার।
আর্জেন্টাইন এই দুই তারকার মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন মেসির জাতীয় দলের সতীর্থ রদ্রিগো দি পলও। কোনো ক্যামেরা বা প্রচারণার আলো ছাড়াই তিন দেশি মিলে আড্ডায় মেতেছিলেন অনেকটা সময়।
আরও পড়ুন
| রিয়াল ইস্যুতে নীরবতা ভাঙলেন মরিনিয়ো |
|
গত বছরের জুন মাসে কোলাপিন্তো তাঁর নিজের স্বাক্ষর করা একটি রেসিং হেলমেট উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন মেসির কাছে। এবার মায়ামিতে আসার সুযোগে মেসি নিজেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানান। বুয়েনস আইরেসে এক প্রদর্শনী দৌড়ের সময় কোলাপিন্তো প্রকাশ করেছিলেন, তাঁর জীবনে যদি একজনের সঙ্গেই দেখা করার প্রবল ইচ্ছা থাকে, তবে তিনি মেসি।
মেসির সঙ্গে সেই বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কোলাপিন্তোনবলেন, 'যেকোনো আর্জেন্টাইনকে জিজ্ঞেস করলে সে বলবে মেসির সঙ্গেই দেখা করতে চায়। আমি সেই সুযোগ পেয়েছি। এটি আমার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল। কোনো ক্যামেরা ছিল না, কোনো মার্কেটিং ছিল না; শুধু আমি, লিও আর রদ্রিগো—আমরা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে গল্প করেছি। খেলাধুলার বাইরের সেই আলাপচারিতা আমার কাছে অত্যন্ত স্পেশাল।'
বোকা জুনিয়র্সের কট্টর সমর্থক কোলাপিন্তো বর্তমানে ফর্মুলা ওয়ান ড্রাইভারদের তালিকায় ১৬তম স্থানে রয়েছেন। সৌদি আরব এবং বাহরাইনের রেস বাতিলের কারণে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের বিরতির পর মায়ামি গ্র্যান্ড প্রিক্সের মাধ্যমে আবারও ট্র্যাকে ফিরছে ফর্মুলা ওয়ান।
আলপাইনের এই তরুণ তুর্কি আশা করছেন, স্বদেশের মহানায়কের কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা তাঁকে ফ্লোরিডার হাই-প্রেশার স্ট্রিট সার্কিটে ভালো পারফর্ম করতে সহায়তা করবে। বর্তমানে তিনি তাঁর অভিজ্ঞ সতীর্থ পিয়েরে গ্যাসলি থেকে ১৪ পয়েন্টে পিছিয়ে আছেন।

ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে কানাডায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ। সেখানে আইআরজিসি (ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) নিয়ে কানাডিয়ান কর্মকর্তাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানিয়েছেন ইরানের সবাই এই বাহিনীর সদস্য।
বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র অনুপস্থিত দেশ ছিল ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজসহ একটি প্রতিনিধি দলের এই কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে সীমান্ত থেকেই ফিরে যেতে হয় তাদের।
শুক্রবার ইরান ফেরার পর সংবাদমাধ্যমকে তাজ জানান, কানাডার টরন্টো বিমানবন্দরে তাকে ও তাঁর সফরসঙ্গীদের দুই ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাজ কানাডীয় কর্তৃপক্ষের আচরণের বিস্তারিত বর্ণনা দিলেও জানান তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়নি।
আরও পড়ুন
| দুই দশকের ভালোবাসার ইতি টানলেন মামুনুল |
|
কানাডার কতৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদে জানতে চেয়েছিল তারা আইআরজিসি সদস্য কি না। জবাবে তাজ বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি—ইরানে আমরা ৯ কোটি মানুষই আইআরজিসির সদস্য।‘
বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তাজ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে আলোচনার পর বলেছিল সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর। এরপর আমরা দলগতভাবে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেই। কাগজে-কলমে আমাদের বহিষ্কার করা হয়নি ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তেমনই ছিল।‘
এদিকে ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ইরানি প্রতিনিধিদলকে ২০ মে-র মধ্যে ফিফা সদর দপ্তরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হবে। তাজ বলেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, খুব শীঘ্রই আমরা ফিফার সঙ্গে বৈঠক করব। অনেক বিষয়ে আলোচনার আছে।‘
এবারের বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক হামলা চালায়। এরপর থেকে পর থেকে দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন
| মামুনুলের বিদায়ী ম্যাচ রাঙাল ফর্টিস, বসুন্ধরা কিংসের আরও কাছে আবাহনী |
|
নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা জটিলতার কারণে ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তাতে সায় দেয়নি। কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আবারও জোর দিয়ে বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে।‘
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ 'জি'-তে রয়েছে ইরান। ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

হোসে মরিনিয়ো আবারও ফিরছেন সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে! বেশ ক’দিন ধরেই এমন সংবাদে সয়লব সর্বত্র। স্প্যানিশ মিডিয়াগুলো আগ বাড়িয়ে দরদাম, এমনকী চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত উল্লেখ করছেন প্রতিবেদনে। মূলত রিয়ালের বস ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে পর্তুগিজ মাস্টার মাইন্ডের সুসম্পর্ক এবং সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবের জন্য একজন সুদক্ষ গুরুর চাহিদার প্রেক্ষিতেই এমন সংবাদ বেশ গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। যদিও অবশেষে বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন খোদ মরিনিয়ো।
রিয়াল মাদ্রিদের ডাগ আউটে ফেরা নিয়ে বেনফিকার কোচ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ করেনি সাবেক ক্লাব। এমনকী তিনি নিজেও আগ বাড়িয়ে যোগাযোগ করেননি।
২০২৫-২৬ মৌসুমটা শূন্য হাতে শেষ হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের। এখনও খাতা কলমে লা লিগা টিকে আছেন লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে আলভারো আরবেলোয়ার দল শীর্ষস্থানে থাকা বার্সেলোনা থেকে ঢের পিছিয়ে। কোনোরকম অঘটন না ঘটলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিততে চলেছে কাতালান ক্লাব।
চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই লেগেই বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরেছেন কিলিয়ান এমবাপেরা। যে কারণে একজন সিনিয়র এবং চ্যাম্পিয়ন লিগ জেতাতে সক্ষম এমন ম্যানেজারের খোঁজে রিয়াল।
যখনই রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ইস্যু আসে, স্বাভাবিকতই নাম আসে ক্লাবটি থেকে ২০১৩ সালে দায়িত্ব ছাড়া মরিনিয়োর নাম। বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে নিশ্চুপ ছিলেন তিনি। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে যখন জানতে চাওয়া হয়, রিয়ালের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে কি না, তখন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ৬৩ বছর বয়সী কোচ।
তিনি বলেন, ‘না, রিয়াল মাদ্রিদের কেউ আমার সঙ্গে কথা বলেনি। এটা আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি। ফুটবলের সঙ্গে বহু বছর ধরে আছি আমি, ঠিক যেমন আপনারা সাংবাদিকতায়। এসবের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত, কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে কিছুই আসেনি।’
২০২১ সালে কার্লো আনচেলত্তিকে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে চমক উপহার দিয়েছিল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব। তিনি তখন ক্যারিয়ারের এক সন্ধিক্ষণে ছিলেন এবং এভারটনের মতো ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন। সময় প্রমাণ করেছে সেই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।