
বাবা হিমশিম খেতেন চার সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে। একবেলা পৌরসভায় মালির চাকরি, অন্যবেলায় এলাকার ক্লাবে কিট ম্যান। এতসবের মধ্যেও রোনালদোকে ফুটবলার বানাতে ছিল আপ্রাণ প্রয়াস। সেই বাবা আজকের রোনালদোকে দেখে যেতে পারেননি। যা নিয়ে দ্য গ্রেটের আক্ষেপের অন্ত নেই।
সালটা ১৯৮৫। মাদেইরাতে রোনালদো যখন মায়ের গর্ভে। ডাক্তার বলেছিলেন বাচ্চাটা রাখা মায়ের আর সন্তানের দুজনের জন্যেই ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে মায়ের মন মানেনি কোন ভাবেই। হাজারো অনিশ্চয়তার ভীড়ে নিজের সন্তানকে জন্ম দেন ঠিকই। আর বিশ্ব পায় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো দস সান্তোস অ্যাভেইরোকে।
সেই দিনের একে একে কত বসন্ত পার হলো। আজকের ৫ ফেব্রুয়ারিতে সংখ্যাটা নাকি ৪০ হলো, রোনালদো? সত্যিই, এসব অবিশাস্য কিছুও বিশ্বাস করতে হয়? আমরা তো আজও সেই তরুণ রোনালদোকেই দেখি। যে গোল করে, গোল করায়। নিত্যনতুন উদযাপন করে দেখায়। আচ্ছা, সংখ্যাটাই স্রেফ বেড়েছে। নাহ বয়স কিন্তু আপনার বাড়ছে না রোনালদো। ওই বয়স নামক বস্তুটা আপনাকে ছুঁতেই পারেনা। তাইতো ওসব চল্লিশ টল্লিশ কেউ গোনে না, আপনার ১০০০ গোলের স্বপ্নে দিবারাত্রি বিভোর ভক্তরা।
মাদেইরায় সেদিন আপনার পরিবার আপনাকে পেয়ে কতটা খুশি হয়েছিল? পরিবারের সবচেয়ে ছোট্ট মেহমান হিসেবে তারা পেয়েছিল আপনাকে। ঘরে তো আরো সন্তান ছিল আপনি কি আলাদা ছিলেন তাদের থেকে? ছিলেন। আপনি তো আলাদাই, সেটা সেদিন কেউ না বুঝলেও আজ গোটা দুনিয়া জানে।
আমরা রোনালদোকে দেখি। রোনালদোর প্রাপ্তি দেখি। দেখি গোল, দেখি রেকর্ড। অথচ রোনালদোর অন্য একটা পাশ রয়েছে। যেখানে থাকে অপ্রাপ্তি নামক শব্দটাও। যেখানে থাকে বাবার সাথে মন খুলে কথা না বলতে পারার আফসোস।
বাবা মাঝে মাঝে স্কুল পরিষ্কারেরও কাজ করতেন। তার জন্য দিনের পর দিন বন্ধুদের থেকে শুনতে হতো খোঁটাও। রোনালদো সবই মনে রেখেছেন। পড়াশোনাটা যে তাকে দিয়ে হচ্ছে না তা বুঝে গিয়েছিলেন আগেই। তার ধ্যান জ্ঞ্যান ছিল ফুটবল, ঘুমোতেও জেতেন ফুটবল কোলে নিয়ে। তারপর একদিন সেই ফুটবলই তো দূর করল তার সব অভাব, দারিদ্র, দুঃখ, কষ্ট।
একদিন কি নিদারুণ অভাব-অনটন কাঁদিয়েছে আপনাকে। কষ্ট দিয়েছে, শিখিয়েছে শক্ত হতে। চার ভাই বোন মিলে বেড়ে উঠেছেন একটা কামরার মধ্যে। গাদাগাদি করে থাকা সেই রাতগুলো? আহ, কেউই দেখেনি সেই অন্ধকারে আপনার আলোয় ঝলমল করা চোখ জোড়াকে। মাদেইরার একটা ছোট্ট ঘর থেকে যে চোখ জোড়া স্বপ্ন দেখেছিল দুনিয়া শাসনের।
রোনালদো প্রায় অনেক ইন্টারভিউতেই আফসোস করে বলেন, নিজের পরিবারে তিনি হীরের টুকরো ছিলেন। বাবা অনেক প্রাউড ফিলও করতেন তাকে নিয়ে। তবে বাবার সাথে কখনও মন খুলে কথা বলা হয়নি। ২০০৫ এ চলে যাওয়া লোকটা এর পরের গল্পটা দেখেননি। তবে রোনালদোর বিশ্বাস, ওপার থেকে ঠিক দেখেন। দুনিয়া জয় করা রোনালদোর এ এক না শেষ হওয়া আক্ষেপের গল্প।
জন্মদিনে আমরা রোনালদোর রেকর্ড দেখি, গোল দেখি, সংখ্যার খেলায় মাতি। আজ নাহয় একটা ছোট্ট শহরের ছোট্ট ছেলের দুনিয়া জয়ের পর তার ভেতের থাকা আফসোসের উপাখ্যান জানলাম। রোনালদো আপনার সে আফসোস এ জগতের কেউই মেটাতে পারবে না। তবে জন্মদিনে একটা শুভেচ্ছাবার্তা রেখে বলতে চাই, আপনি আপনার পরিবারেরই না গোটা দুনিয়ার জলজল করা এক হীরের টুকরো। বয়সের ঘর কেউ মনে রাখবে না। আপনি রোনালদো। বয়স উপাখ্যানটা আপনার জন্য না।
ওই যে আপনি বলেন না, আপনার ভালোবাসা আমাকে শক্তিশালী করে, আপনার ঘৃণা আমাকে অপ্রতিরোধ্য করে।" এই কথার মতোই আপনি যেমন ওদের ঘৃণার কাছে অপ্রতিরোধ্য। তেমনি বয়সের কাছেও।
No posts available.
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৪১ পিএম
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:০২ পিএম
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২:০৫ পিএম

অনেক দিন ধরেই অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। সামাজিক মাধ্যমে ইনস্টাগ্রামে দিলেন হুদয়স্পর্শী এক বার্তা। যে বার্তা কেঁপে উঠেছে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়। দুরারগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত চেলসির সাবেক ফুটবলার লামিশা মুসোন্ডা আর বেঁচে থাকার আশা খুঁজে পাচ্ছেন না।
সামাজিক মাধ্যমে মুসোন্ডা লিখেছেন,
‘যখন আমি বুঝতে পারি যে হয়তো আমার বেঁচে থাকার সময় আর মাত্র কয়েক দিন, তখন এটাও বুঝতে পারি যে আমার পাশে কত মানুষ ছিল, এবং সেই স্মৃতিগুলো আমি চিরকাল লালন করব। জীবন কঠিন, কিন্তু একই সঙ্গে তা মহিমান্বিতও। জীবন উত্থান-পতনে ভরা, আর একজন মানুষ যে ব্যথা অনুভব করে, তা সত্যিকার অর্থে কেউ পুরোপুরি বুঝতে পারে না। গত দুই বছর আমার জন্য বিশেষভাবে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং ছিল। গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমি আমার সুস্থতা ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই করছি।’
৩৩ বছর বয়সী মুসোন্ডা ২০১২ সালে আন্দারলেখ্ট থেকে চেলসিতে যোগ দেন। যদিও ইংলিশ ক্লাবটির মূল দলে সুযোগ পাননি। দুই বছর চেলসির একাডেমির যুব দলের জন্য খেলেছেন এবং পরে বেলজিয়ামে ফিরে মেচেলেনের হয়ে খেলা শুরু করেন। ২০২০ সালে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেন। তার ভাই চার্লি মুসোন্ডাও চেলসির একাডেমি থেকে উঠে এসে লা লিগায় রিয়াল বেতিস ও লেভান্তে ইউডির হয়ে খেলেছেন।
গত পাঁচ বছর আড়ালে থাকার পর প্রকাশ করেন তীব্র জীবন-সংগ্রামে মধ্য দিয়ে যাচ্ছেনএবং তার বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ‘সংকটজনক’। মুসোন্ডা লিখেছেন,
‘অসুস্থতার কারণেই আমি এতদিন সামাজিক মাধ্যমে অনুপস্থিত ছিলাম। আমাকে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে—আমার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক, এবং আমি এখন বেঁচে থাকার জন্য লড়ছি। এই সময়ে আপনাদের সমর্থন ও প্রার্থনা আমার কাছে অনেক মূল্যবান। আমার পরিবার ও আমি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি, এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি হাল ছাড়ব না। আমি সৌভাগ্যবান ছিলাম একটি সুন্দর শৈশব পাওয়ার জন্য, এবং আমার এখনও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। কিন্তু এমন অনেক অসাধারণ মানুষ আছেন, যাদের আমি সরাসরি ধন্যবাদ জানাতে চেয়েছিলাম—এবং হয়তো সেই সুযোগ আর পাব না, এই ভাবনাটা আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়।’
হঠাৎ এমন খবরের পর, বহু চেলসি সমর্থক ও সাবেক খেলোয়াড় মুসোন্ডার প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রাক্তন চেলসি স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু লিখেছেন, ‘ধৈর্য রাখো, লামিশা। আমরা তোমার সঙ্গে আছি।’

টানা ম্যাচ খেলার ধকল শেষ পর্যন্ত আর নিতে পারেনি কিলিয়ান এমবাপের পা। শেষ কয়েকটি ম্যাচ খেলেছিলেন হাঁটুর চোট নিয়েই। বাঁ হাঁটু মঁচকে যাওয়ায় অন্তত একাধিক সপ্তাহ ছিটকে পড়ার খবর আসে। সবশেষ স্প্যানিশ সুপার কাপের সেমিফাইনালে মাদ্রিদ ডার্বিতে ফরাসি ফরোয়ার্ডকে ছাড়াই মাঠে নেমে জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। এবার ফাইনালে দলের প্রধান তারকাকে পাওয়া নিয়েই যত সংশয়।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ফাইনালে বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রিয়াল। এল ক্লাসিকোর আগে সৌদিতে ইতিমধ্যেই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এমবাপে। সেমি ফাইনালে ম্যাচের পরও ফাইনালে এমবাপেকে পাওয়া নিয়ে আশার কথা শোনান রিয়াল কোচ জাবি আলোনসো। তবে লস ব্লাঙ্কোসদের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় এখনও পুরোপুরি ফিট নন দলটির তারকা ফরোয়ার্ড।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে থাকবেন এমবাপে। তবে এল ক্লাসিকো খেলতে দ্রুতই মাঠে ফিরতে ঝুঁকি নেওয়ার কথা ভাবছেন ২৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে’কিপের একটি প্রতিবেদন জানিয়েছে,বার্সার বিপক্ষে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে এমবাপেকে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে ব্যথানাশক ইনজেকশেন দিয়েও নাকি তাকে মাঠে নামানো হতে পারে।
ফাইনালের আগে স্বাভাবিকভাবেই রিয়ালের সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে এমবাপের এল ক্লাসিকো খেলার বিষয়। বার্সাকে এই ম্যাচে হারাতে পারলেই রিয়ালের হয়ে প্রথম ট্রফি জয়ের স্বাদ পাবেন কোচ আলোনসো। বিপরীতে এই ম্যাচে ব্যর্থ হলে আরও চাপ বাড়বে তাঁর ওপর।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দলের সেরা খেলোয়াড়কে মাঠে দেখতে চাইবেন জাবি আলোনসো। শেষ মুহূর্ত এমবাপেকে পেতে অপেক্ষ করবেন রিয়াল কোচ। দলের প্রধান ফরোয়ার্ডকে শুরুর একাদশে রাখার ঝুঁকি নেওয়া উচিত হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
‘আজ তার অনুশীলন শেষে আমরা ঠিক জানতে পারব সে পুরো সময় খেলতে পারবে কি না নাকি কিছুটা কম সময় খেলবে। ঝুঁকি ও সুযোগ দুইটাই বিবেচনা করতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা অযৌক্তিক ঝুঁকি নিই না—সব কিছু নিয়ন্ত্রিতভাবে করা হয়।’
স্প্যানিশ সুপার কাপের আগের আসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের বিপক্ষে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয় রিয়াল মাদ্রিদ। গত মৌসুমে ফাইনালে ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটিকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দেয় হান্সি ফ্লিকের বার্সা। কাতালান ক্লাবটি দারুণ ছন্দে আছে এখন। সেমিতে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে তারা। উড়তে থাকা বার্সার বিপক্ষে এমবাপেহীন রিয়াল বেশ ব্যাকফুটেই থাকবে সেটা সবারই জানা। বার্সেলোনার বিপক্ষে যে সবশেষ চারটি ম্যাচের সবক’টিতেই বল জালে পাঠিয়েছিলেন এমবাপে।

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মধ্যেই দলের অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএ) নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম এএফএ স্টুডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক, থিয়াগো আলমাদার ক্লাব–ভবিষ্যৎ এবং বিশ্বকাপ দল গঠনের ভাবনা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ছুটির পর রোজারিওর কাছে ফুনেসে মেসির সঙ্গে দেখা হয়েছিল স্কালোনির। সেই বৈঠক প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘আমরা কাছাকাছিই ছিলাম, তাই দেখা করে কফি খেয়েছি। যারা মেসিকে চেনে, তারা জানে-সে কখনোই ঢিলেঢালা থাকে না। সে জন্মগত প্রতিযোগী। সব সময় দলে থাকতে চায়, মাঠে নামতে চায়। একজন অধিনায়কের এমন মানসিকতা দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে সব সময় খেলতে আসে—এটাই তার উত্তরাধিকার। যারা তার পর আসবে, তাদের সেটাই বহন করতে হবে।’
তবে সেই বৈঠকে মেসির বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কোনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে জানান স্কালোনি। তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা কথা বলিনি। সময় আছে, দেখা যাবে। যেমনটা মেসি নিজেও বলে, তাকে চাপ দেওয়া ঠিক নয়। বিষয়টা তার ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।’
বিশ্বকাপ দল গঠন প্রসঙ্গে স্কালোনি জানান, আপাতত তাঁর কাছে প্রায় ৫০ জন খেলোয়াড়ের একটি প্রাথমিক তালিকা আছে। তিনি বলেন, ‘গত বিশ্বকাপে আমরা দেখেছি, একদম শেষ মুহূর্তে এসে কয়েকজন খেলোয়াড় চোটে পড়ে গিয়েছিল। তাই কাউকেই এখনই বাদ দেওয়া যাচ্ছে না। সে কারণেই তালিকাটা বড় রাখা হয়েছে।’
থিয়াগো আলমাদার প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। আতলেতিকো মাদ্রিদ ছাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া এই মিডফিল্ডারকে নিয়ে পালমেইরাসের আগ্রহের খবর চলছে। স্কালোনি বলেন, ‘আমরা কখনোই এসব সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করি না। সে যেটা ঠিক করবে, সেটার পর আমরা শুধু তার পারফরম্যান্স বিচার করব। আলমাদার ক্ষেত্রেও তাই। সে কোথায় খেলছে, কোন লিগে খেলছে—সেটা মুখ্য নয়। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে কেমন খেলছে। শেষ পর্যন্ত পারফরম্যান্সই সিদ্ধান্ত নেবে।’
স্কালোনি বলেন, ‘থিয়াগো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সে যে সিদ্ধান্তই নিক, আমরা সেটাকে সম্মান করব এবং মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই তাকে মূল্যায়ন করব।’
ভ্যালেন্তিন কার্বোনির প্রসঙ্গেও একই সুরে কথা বলেছেন স্কালোনি। রেসিং ক্লাবে যোগ দেওয়া এই তরুণকে নিয়ে বলেন, ‘সে আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেনি, তবে সব সময়ই আমাদের নজরে ছিল। আগে সে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছিল না। এখন খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ভালো হয়েছে। আমরা চাই খেলোয়াড়রা খেলুক। কোন লিগ বা দেশে খেলছে, সেটা বড় বিষয় নয়। অবশ্য আর্জেন্টিনায় খেললে আমাদের জন্য তাকে কাছ থেকে দেখা সহজ হয়। আমি খুশি, সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
বিশ্বকাপ গ্রুপপর্বের প্রতিপক্ষ নিয়েও কথা বলেছেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আলজেরিয়া খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ, যাদের দারুণ কোচ আছে এবং আফ্রিকান কাপেও তারা ভালো করেছে।’ জর্ডানের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘দলটি এশিয়ান কাপে দারুণ খেলেছে।’ আর অস্ট্রিয়া সম্পর্কে স্কালোনির মন্তব্য, ‘তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং তাদের কোচের প্রেসিং কৌশল খুব কার্যকর।’
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে স্কালোনি বলেন, আর্জেন্টিনা দলের মূল কাঠামো আপাতত অপরিবর্তিতই থাকছে। তাঁর ভাষায়, ‘এই দলটা আমাদের বদলানোর কোনো কারণ দেয়নি। তারা সেটা অর্জন করেছে। ম্যাচ যত এগোবে, তাদের ফর্ম তত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এখনই সবকিছু চূড়ান্ত নয়। মার্চের পর থেকে আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হবে। তখন সেরা অবস্থায় পৌঁছাতে হলে ভাগ্যও কিছুটা সহায় হতে হবে।’

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে থাকা বার্সেলোনা অধিনায়ক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন জিরোনায় যাওয়ার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। স্প্যানিশ দৈনিক স্পোর্টের প্রতিবেদনে, চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোতেই বার্সেলোনা ছাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিচ্ছেন জার্মান এই গোলরক্ষক।
বার্সেলোনায় টের স্টেগেনের ভূমিকা ধীরে ধীরে কমে এসেছে। নতুন কোচ হান্সি ফ্লিক লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও সুপার কাপ—সব প্রতিযোগিতায়ই হোয়ান গার্সিয়াকে নিজের এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ফলে প্রথম একাদশে টের স্টেগেনের জায়গা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমনকি গত মৌসুমেও ফিট থাকা অবস্থায় তিনি পোলিশ গোলরক্ষক ভয়চেখ শেজনির পেছনে চলে গিয়েছিলেন, যা তাঁর অবস্থান বদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে স্পোর্ট জানিয়েছে, টের স্টেগেন এখন ক্লাব ছাড়ার ব্যাপারে উন্মুক্ত এবং গিরোনায় যোগ দিতে রাজি। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত খেলোয়াড়ি কারণই কাজ করছে। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে নিয়মিত খেলার সুযোগ চান তিনি। সামনে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জার্মান জাতীয় দলে আবারও এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তাঁর লক্ষ্য। মিচেলের অধীনে গিরোনায় খেলা হলে নিয়মিত উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন—এটিও তাঁর কাছে ইতিবাচক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এই সম্ভাব্য লেনদেন সহজ নয়। টের স্টেগেন যেকোনো শর্তে বার্সেলোনা ছাড়তে রাজি নন এবং নিজের বেতনের কোনো অংশ ছাড়তেও অনিচ্ছুক। অন্যদিকে বার্সেলোনার দাবি, টের স্টেগেনের চুক্তির বাকি সময়ের বেতনের অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ জিরোনাকে বহন করতে হবে।
এই অঙ্ক আপাতত জিরোনার জন্য কঠিন। বিশেষ করে লিভাকোভিচ চলে যাওয়ার পর ক্লাবটির সর্বোচ্চ বেতনও ছিল বছরে সামান্য বেশি ৩ লাখ ইউরো। তারপরও টের স্টেগেন জিরোনাকে বিভিন্ন সমাধান খুঁজে দেখতে অনুরোধ করেছেন, যাতে বার্সেলোনা এই স্থানান্তরে সম্মতি দেয়।
বার্সেলোনার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, খেলোয়াড়ি দিক থেকে টের স্টেগেনের বিদায় যৌক্তিক বলেই মনে করছে ক্লাবটি। ফ্লিক চাইলে তাঁকে কিছু ম্যাচে খেলাতে পারেন, তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ও বড় প্রতিযোগিতায় হায়ারার্কি স্পষ্ট—হোয়ান গার্সিয়াই প্রথম পছন্দ। বার্সেলোনায় থেকে গেলে কোপা দেল রের শেষ ষোলো থেকে পরের রাউন্ডগুলোই টের স্টেগেনের নিয়মিত খেলার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সুযোগ হতে পারে।
আর্থিক দিক থেকেও ধারে (লোনে) পাঠানো বার্সেলোনার জন্য খুব লাভজনক নয়, কারণ তাতে গোলরক্ষকের বড় অংশের বেতন ক্লাবকেই বহন করতে হবে। তবু ড্রেসিংরুমের সংবেদনশীল পরিস্থিতি সামাল দিতে বার্সেলোনা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টের স্টেগেন বার্সেলোনার অধিনায়ক এবং ক্লাবের এক সময়ের প্রতীকী খেলোয়াড়। ক্লাব তাঁর মর্যাদা বজায় রাখতে চায়। জার্মান গোলরক্ষক যদি সত্যিই গিরোনায় খেলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন, তাহলে যৌক্তিক সীমার মধ্যে থেকে এই স্থানান্তর সহজ করে দিতে প্রস্তুত বার্সেলোনা—যদিও এতে আর্থিকভাবে বড় কোনো লাভ হবে না।
এ মুহূর্তে চূড়ান্ত ফলাফল অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে গিরোনা বার্সেলোনার শর্ত পূরণে কোনো কার্যকর সমাধান বের করতে পারে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে টের স্টেগেনের ভবিষ্যৎ—বিশেষ করে সামনে বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে।

আর্সেনালের সঙ্গে নতুন চুক্তির দ্বারপ্রান্তে বুকায়ো সাকা। ক্লাব সূত্রের বরাতে ইএসপিএন জানিয়েছে, ২৪ বছর বয়সী এই ইংলিশ উইঙ্গারের সঙ্গে লম্বা সময়ের নতুন চুক্তির কাঠামোতে একমত হয়েছে আর্সেনাল। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়া বাকি।
সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েক মাস ধরেই দুই পক্ষই আত্মবিশ্বাসী ছিল যে সাকা ক্লাবেই নিজের ভবিষ্যৎ গড়বেন। আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত চুক্তিতে সই হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্সেনাল মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
তবে জানা গেছে, সাকা পাঁচ বছরের নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন। এই চুক্তির ফলে তিনি ক্লাবের সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড়দের একজন হবেন—এমনকি সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড়ও হতে পারেন। বর্তমানে আর্সেনালের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া ফুটবলার হিসেবে ধরা হয় কাই হাভার্টজকে, যাঁর সাপ্তাহিক বেতন প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড।
নিজেদের সেরা প্রতিভাদের দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার নীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ সক্রিয় আর্সেনাল। গত বছর উইলিয়াম সালিবা, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, তরুণ ইথান নোয়ানারি ও মাইলস লুইস-স্কেলির চুক্তির শর্ত উন্নত করেছে ক্লাবটি।
হেল এন্ড একাডেমি থেকে উঠে আসা বুকায়ো সাকা আর্সেনালের বর্তমান দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। একাধিকবার দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৭ ম্যাচে সাতটি গোল ও ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছেন সাকা।
গত সেপ্টেম্বর সাকার চুক্তি প্রসঙ্গে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বলেছিলেন, ‘আমি অবশ্যই চাই সে নতুন চুক্তিতে সই করুক। যতটুকু আমি জানি, সে এখানে দারুণ খুশি এবং এই ক্লাবে নিজের ভূমিকায় গর্ববোধ করে। বুকায়ো আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা সবাই জানে। আশা করি আমরা বিষয়টা সম্পন্ন করতে পারব।’
সাকা চুক্তি চূড়ান্তের পর আর্সেনাল কর্তৃপক্ষের নজর যেতে পারে মিডফিল্ডার ডেকলান রাইসের দিকে। তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে এখনো আড়াই বছর বাকি, সঙ্গে আরও এক বছরের বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।