
রোজারিওর সেই ছোট্ট মাঠ, লাল-কালো জার্সির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা এক কিশোরের স্বপ্ন—সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল লিওনেল মেসির গল্প। বয়স তখন তেরো, চোখে সীমাহীন আশা, পায়ে অদম্য জাদু। নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা সেই ছেলেটাই একদিন হয়ে উঠলেন ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। বার্সেলোনার ব্লাউগ্রানা, প্যারিসের আলো, কাতারের মুকুট আর মায়ামির রোদ—সব পেরিয়ে মেসি আজ এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে সামনে তাকালে শেষের শুরু, আর পেছনে শৈশব।
আর ঠিক এখানেই নতুন করে জন্ম নিচ্ছে এক স্বপ্ন—ফেরার স্বপ্ন। নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ মেসিকে ফেরাতে কষছে ‘স্বপ্নের ছক’। নিছক কোনো ফুটবল ট্রান্সফারের গল্প নয়, এটা তো নিখাঁত আবেগের, শিকড়ের, ঘরে ফেরার গল্প। যে ক্লাব তাকে প্রথম চিনতে শিখেছিল, যে শহর তাকে মানুষ করেছিল—রোজারিও আজ আবার ডাকছে তার হারানো সন্তানকে।
২০২৭ সালের প্রথমার্ধে লিওনেল মেসিকে ক্লাবে ফেরাতে একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ। এই
‘ঘরের ফেরার’ উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আর্জেন্টাইন ক্লাবটির সহ-সভাপতি হুয়ান ম্যানুয়েল মেদিন। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু নিউয়েলসের কোনো প্রকল্প নয়। এর সঙ্গে রোজারিও শহর, প্রদেশ এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল জড়িত।’
১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর আগে নিউয়েলসের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছিলেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা গত অক্টোবরে ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছেন, যা ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্রেই নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। তবে বাস্তবতা হয়তো তেমন নাও হতে পারে।
মেসিকে ফেরানোর পরিকল্পনা কিন্তু আজ-কালের মধ্যে করেনি নিউয়েলস। ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি এক পরিকল্পনায় নিউয়েলস চায় এমন একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করতে, যেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়াঙ্গনের বিষয়গুলো একসঙ্গে যুক্ত থাকবে—যাতে মেসির প্রত্যাবর্তন শুধু মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্লাবের অবকাঠামো উন্নয়ন, একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গঠন এবং এমন প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী একজন তারকার মর্যাদার সঙ্গে মানানসই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসির ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে, যদিও এখনো কোনো নির্দিষ্ট অগ্রগতি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের সহ-সভাপতি মেদিনা আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিএন-কে বলেন,
‘২০২৭ সালের প্রথমার্ধে লিও নিউয়েলসের হয়ে খেলবে—এমন লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।’
মেদিনা আরও বলেন,
‘এটি শুধু নিউয়েলসের কোনো প্রকল্প নয়। এটি রোজারিও শহর, প্রদেশ এবং পুরো আর্জেন্টাইন ফুটবলের প্রকল্প। অবকাঠামো ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া কর্মসূচির ক্ষেত্রে আমরা কী দিতে পারি, সেটির ওপরই সব কিছু নির্ভর করছে।’
রোজারিও শহরেই জন্ম নেওয়া মেসি আগেও নিউয়েলসের হয়ে খেলার ইচ্ছাকে নিজের ‘স্বপ্ন’ বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৭ সালে মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন,
‘আমি বহুবার বলেছি, নিউয়েলসের হয়ে খেলা আমার স্বপ্ন। তবে কী হবে জানি না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই অনিশ্চয়তার একটি কারণ। আমার পরিবার আছে, সন্তানরাই আমার অগ্রাধিকার। আমি চাই তারা নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশে বড় হোক।’
নিউয়েলসের একাডেমিতে খেলার সময় মেসি ২৩৪টি গোল করেন। ক্লাবের মাঠ এস্তাদিও মার্সেলো এ. বিয়েলসা-তে তার নামে একটি স্ট্যান্ডও রয়েছে। চলতি মৌসুমে তিন ম্যাচ শেষে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ আর্জেন্টাইন প্রিমেরা ডিভিশনের গ্রুপ ‘এ’-তে তলানিতে অবস্থান করছে।
নিউয়েলসের হয়ে খেলেছেন এমন উল্লেখযোগ্য সাবেক তারকাদের মধ্যে রয়েছেন বেনফিকার কিংবদন্তি অস্কার কার্দোজো, লিভারপুলের সাবেক মিডফিল্ডার ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, এবং জুভেন্টাসের সাবেক স্ট্রাইকার দাভিদ ত্রেজেগে।
No posts available.

আল নাসরের সবশেষ ম্যাচে মাঠে তো ছিলেনই না স্কোয়াডেও নাম ছিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। এমনকি সৌদি প্রো লিগের ক্লাবটির অনুশলীনেও এখন পর্যন্ত দেখা মিলছে না পর্তুগিজ মহাতারকার। গুঞ্জন আছে ক্লাবের সঙ্গে একাধিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়েছে রোনালদোর। আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকার এমন অনুপস্থিতি বেশ উপভোগই করছে আল হিলালের সমর্থকরা। সৌদির রাস্তায় রোনালদোর নিঁখোজ বিজ্ঞপ্তির পোস্টার লাগিয়ে রসিকতা করতেও ছাড়েনি ক্লাবটির সমর্থকরা।
সৌদির কিছু রাস্তায় লাগানো রোনালদোকে নিয়ে পোস্টারে লেখা ছিল,
‘এটি একজন চল্লিশ বছর বয়সী খেলোয়াড়, যে অতিরিক্ত কান্নার বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছ এবং তার পরিবার তাকে খুঁজছে।’
সব সমস্যার শুরু মূলত আল নাসরের ব্যবস্থাপনা এবং বিশেষত আর্থিক সহায়তায় রোনালদোর অসন্তুষ্টি থেকে। আল নাসরের একটি সূত্র ‘আ বোলা’-কে জানিয়েছে, সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) ওপর বেজায় চটেছেন রোনালদো। পিআইএফ মূলত সৌদি আরবের প্রধান চারটি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করে। রোনালদোর অভিযোগ, আল নাসরের চেয়ে আল হিলালের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।
রোনালতোর কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা হিসেবে আল হিলাল দলে ভেড়ায় করিম বেনজেমাকে। গুঞ্জন আছে এই সাইনিং ঠেকানোর চেষ্টাও নাকি করেছিলেন ‘সিআর সেভেন’। জানুয়ারিতে একমাত্র ইরাকি মিডফিল্ডার হায়দার আব্দুলকারীমকে দলে ভিড়িয়েছে রোনালদোর ক্লাব। যেখানে রোনালদো আশা করেছিলেন যে ট্রান্সফার উইন্ডোতে আরও সক্রিয় হবে তাঁর দল, যাতে তিনি তাঁর প্রথম সৌদি লীগ শিরোপা জেতার পথে শক্তিশালী দল পান।
সৌদি আরবের ক্রীড়া প্রকল্পের প্রধান মুখ হিসেবে বিবেচিত রোনালদো। গত গ্রীষ্মে চুক্তি নবায়নের সময় পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী বলেছিলেন,
‘আমি খুশি কারণ আমি জানি এই লিগ খুবই প্রতিযোগিতামূলক। যারা কখনও সৌদিতে খেলেনি, যারা ফুটবল বোঝে না, তারা শুধু বলে এই লিগ বিশ্বের শীর্ষ পাঁচে নেই। আমি আমার কথায় শতভাগ বিশ্বাস করি, আর যারা এই লীগে খেলছে তারা জানে আমি কী বলছি। এ কারণেই আমি থাকতে চাই—আমি এই প্রকল্পে বিশ্বাস করি, শুধু পরবর্তী দুই বছর নয়, বরং ২০৩৪ পর্যন্ত, যখন সৌদিতে বিশ্বকাপ হবে। আমি বিশ্বাস করি, এটি সবচেয়ে সুন্দর বিশ্বকাপ হবে।’
তিন বছর আগে, রোনালদো আল-নাসরে যোগ দিয়ে ক্রীড়া জগতে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। তারপর মধ্য প্রাচ্যের এই লিগে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন করিম বেনজেমা, নেইমার, রবার্তো ফিরমিনো, সাদিও মানে ও আয়মেরিক লার্পোতার মতো তারকা খেলোয়াড়।
রোনালদোকে ঘিরে যে লিগের সূচনা, হঠাৎ প্রাণভোমরা সঙ্গেই বিবাদে জড়াতে হচ্ছে সৌদি লিগ আর আল নাসরকে। এবার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার ম্যাচ বয়কটের ঘটনা কোথায় গিয়ে গড়ায় সেটাই দেখার।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর শক্তিশালী ভারতকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করেন অর্পিতা বিশ্বাসরা। আজ লিগ পর্বের শেষ ম্যাচটিও জয়ে রাঙিয়েছে বাংলাদেশ।
নেপালের পোখারায় বাংলাদেশ সময় বিকাল তিনটা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচে নেপালকে ৪-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। লাল সবুজ দলের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন আলপি আক্তার। অপর গোলটি আসে প্রতিমা মুন্দার পা থেকে।
ম্যাচঘড়ির তৃতীয় মিনিটে লিড আদায় করে বাংলাদেশ। ডান পাশের কর্নার থেকে মামনি চাকমার কৌশলী শট আলতো ছোঁয়ায় নেপালের জালে জড়ান প্রতিমা মান্ডা।
বিরতির আগে লিড দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে ইনজুরি চার মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সেট পিস থেকে ফ্রি কিক পেয়ে গোল আদায় করেন আলপি আক্তার।
প্রথম গোলে যেমন ভূমিকা ছিল মামনি চাকমার। দ্বিতীয় গোলেও উপস্থিত বুদ্ধিতে দলকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেন বাংলাদেশি প্লে মেকার। ডি বক্সের খানিক বাইরে ফ্রি কিক নিতে এগিয়ে এসে ‘ডামি লিভ’ নেন তিনি। পরে দারুণ চিপ শট ক্রসবারের ঠিক নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান আলপি আক্তার। ঝর্না ডুমরা কোটি লাফিয়ে চেষ্টা করেও নাগালে পাননি বল। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় অর্ধে দুই উইঙ্গ দিয়ে মুমূর্মুহু আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ। বার বার আক্রমণ শানালেও তৃতীয় গোল আসে একটু দেরিতে। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আলপি নিজের দ্বিতীয় গোল নিশ্চিত করেন এবং দলকে উপহার দেন ৩-০ লিড।
মধ্যমাঠ থেকে একাই গোলের জন্য ছুটে যান আলপি। ওয়ান টু পজিশনে ঝর্নাকে পান তিনি। তড়িৎ সিদ্ধান্তে ডি বক্স লাইন থেকে শট নেন গোলবারে। আদায় করেন কাঙ্ক্ষিত গোল।
ম্যাচ যত পুরোনো হচ্ছিল, ততই মিইয়ে যাচ্ছিল স্বাগতিকদের ফেরার স্বপ্ন। এই সুযোগ আরও একবার কাজে লাগায় বাংলাদেশ। রাইট উইঙ্গ থেকে আক্রমণে উঠে গোলবারে শট নেন রূপা আক্তার। নেপালের গোলকিপার ঝর্ণা কিছুটা গড়বড় করে ফেলেন। তার রিবাউন্ড শট আলিজা কুমারি পুনরায় গোলকিপারকে দিতে যান। সে শটের গতি একটু বেশিই ছিল। মাথার উপর দিয়ে বলটি বারের নিচে এসে পড়ে। সেখান থেকে আলপি আবারও জাল কাঁপান। আদায় করেন হ্যাটট্রিক।
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:২৭ পিএম

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে চার্লটন অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে শনিবারের ম্যাচ শেষে ক্রাচে ভর দিয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় লেস্টার সিটির অধিনায়ক হামজা চৌধুরীকে। যা ভক্তদের মধ্যে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিল।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ দলের পরের ম্যাচ ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। তার আগে ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে লাল-সবুজ দলের। তাই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে হামজার চোটের খবরটা নিয়ে উদ্বেগ স্বাভাবিকই ছিল।
প্রাথমিকভাবে গুঞ্জন ওঠে, ডান হাঁটুর মিডিয়াল কল্যাটারাল লিগামেন্টে চোটের কারণে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে হামজার। যা তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে পাঠাতে পারত। লেস্টার সিটির কোচও ম্যাচের পর বলেছিলেন, “হামজাকে হাঁটুর ব্রেস পরা অবস্থায় দেখেছি। মনে হচ্ছিল দ্রুত সেরে ওঠার মতো নয়।”
আশার খবর হলো, হামজার সার্জারির প্রয়োজন নেই। টি-স্পোর্টস নিশ্চিত হয়েছে, হামজার স্ক্যান রিপোর্টেও বড় কোনো সমস্যা বা চিড় ধরা পড়েনি। লেস্টার সিটি অধিনায়ককে ডাক্তার ছয় থেকে আট সপ্তাহ রিহ্যাবে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
হামজা সার্জারি ছাড়াই রিহ্যাব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুনরায় মাঠে ফিরবেন। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টারের পরের ম্যাচ ৯ ফেব্রুয়ারি বার্মিংহামের বিপক্ষে। সে ম্যাচে দেখা যাবে না হামজাকে, তবে জাতীয় দলের জন্য যথেষ্ট সময় পাবেন।

আদর্শ সমাজ উপহার দেওয়ার জন্য নিজের অবস্থান ব্যবহার করতে চান ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা। কারাবাও কাপের সেমিফাইনালে নিউজক্যাসেলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলা শুধু দলের অবস্থানই ব্যাখ্যা করেননি, তিনি বিশ্বজুড়ে সংঘাতের শিকারদের প্রতি তার উদ্বেগও ব্যক্ত করেছেন।
গত সপ্তাহে বার্সেলোনায় একটি চ্যারিটি কনসার্টে অংশ নেন পেপ গার্দিওলা। যেখানে ফিলিস্তিনি শিশুদের পাশে থাকার সহানুভূতি প্রকাশ করেন সিটি বস। বক্তব্যকালীন তিনি বিশ্বজুড়ে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শিশুদের হত্যা ও আহত হওয়ার দৃশ্য দেখে ব্যথিত হন বলেও জানিয়েছেন।
কারাবাও কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে গার্দিওলা বলেন, “আমি যে ফুটেজগুলো দেখি তা আমাকে কষ্ট দেয়। আমি সবসময় তাদের পাশে দাঁড়াবো। হাজার হাজার নির্দোষ মানুষকে হত্যা হচ্ছে? এটা আমাকে আঘাত করে। এর চেয়ে জটিল কিছু নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কল্পনা করতে পারি না, মানুষের কেন এসব অনুভব করে না। প্রতিদিনই দেখা যায় বাবা-মা ও শিশুদের জীবন ধ্বংস হচ্ছে। এতো ব্যথা দেখে কিছুটা সহানুভূতি না রাখা যায় না। আমি তা অনুভব করতে পারি না।”
এসময় দ্য অ্যাথলেটিকের সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “গত ১০ বছরে প্রথমবার একজন সাংবাদিক আমাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। মনে হয় মিডিয়া এ ধরনের প্রশ্ন করতে পারছে না। কিন্তু কেউ কি বিশ্বের যুদ্ধের দৃশ্য দেখেও প্রভাবিত হয় না? এটা সঠিক বা ভুলের বিষয় নয়—মানবতার বিষয়।”
সোমবার বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে মোট ৯৩৩ জন অভিবাসী চ্যানেল পার হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে। গার্দিওলা বলেন, “মানুষগুলোকে সেই কাজ করতে হয় — তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয়, সমুদ্রে যেতে হয় এবং তারপর উদ্ধার হওয়ার জন্য নৌকায় উঠতে হয় — এ বিষয়ে ‘সে ঠিক বা ভুল’ বলার আগে তাদের উদ্ধার করতে হবে। কারণ এটা মানবিক জীবন সম্পর্কিত।
গত মাসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই জন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। গার্দিওলা বলেন, “এসব আমাকে ব্যথিত করে। এজন্যই আমি সমাজকে আরও ভালো করতে কথা বলতে পারি, আমি চেষ্টা করব এবং সেখানে থাকব — সব সময়ই। এটা আমার সন্তানের জন্য, আমার পরিবারদের জন্য, আপনাদের জন্য।
গত বছর জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার একটি প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হত্যাকাণ্ড বা গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল, যদিও ইসরায়েল এই অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইসরায়েলসহ বিশ্বে নিপড়ীতদের পক্ষে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন গার্দিওলা।

১৯৮২ সালে বোকা জুনিয়র্স থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া দিয়েগো ম্যারাডোনা কাতালান ক্লাবে ছিলেন দুই বছর। এসময় মোট ৫৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ক্লাবে তাঁর গোল সংখ্যা—৩৮টি।
১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ সাল—দু’বছরের অম্ল-মধুর সময় পেরিয়ে ৬.৯ মিলিয়ন পাউন্ডে নাপোলিতে যোগ দেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তি। নাপোলিতেই ম্যারাডোনা নিজের কিংবদন্তি অধ্যায় গড়ে তোলেন—৭ বছরের ক্যারিয়ারে ক্লাবকে জেতান ২টি সিরি আ, ১টি উইয়েফা কাপসহ একাধিক শিরোপা। যেখানে তাঁর গোল সংখ্যা—১৫৭।
মূলত স্পেন তরুণ তুর্কী লামিন ইয়ামালের একটি পরিসংখ্যান টানতেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারের একাংশ সামনে আনা। গতকাল কোপা দেল রে’তে বার্সাকে লিড এনে দেন ইয়ামাল। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে বার্সেলোনার মূল দলে যোগ স্পেন তরুণ বার্সার জার্সিতে এখন পর্যন্ত ৩৮টি গোল করেছেন। যা ছাড়িয়ে গেছে কিংবদন্তি ম্যারাডোনার বার্সার গোল সংখ্যা।
২১ বছর বয়সে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া ম্যারাডোনা ৫৮ ম্যাচে করেছিলেন ৩৮ গোল। আর ৩৯ গোল করতে ইয়ামালকে খেলতে হয়েছে ১৩৫ ম্যাচ। সব প্রতিযোগিতায় (ক্লাবের জন্য) — ৯১টি লা লিগা ম্যাচে ২৩ গোল, ৯টি কোপা দেল রে ম্যাচে ৫ গোল, এবং ২৯টি ইউরোপ (চ্যাম্পিয়নস লিগ) ম্যাচে ৮ গোল করেছেন তিনি।
বুধবার কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে ৩৯তম মিনিটে ‘ডেডলক’ ভাঙেন ইয়ামাল। পরে আরাউহো আরেকটি গোল করলে ২-১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে কোপা দেল রের সেমিফাইনালে ওঠা প্রথম দল বার্সা।
ম্যাচ শেষে ইয়ামাল ও আরাউহোকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তা। তিনি বলেন, “ইয়ামাল একজন জাদুকর। তাঁর পা থেকে ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে। তবে আমি বিশেষভাবে রোনাল্ড আরাউহোর জন্য খুশি। সে গোলও করেছে, ম্যাচের শুরু থেকেই খেলেছে। আমাদের অধিনায়কের ফেরা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। তিনি এমন একটি গোল করেছেন যা আমাদের আরও কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।”