৪ জুলাই ২০২৫, ৮:৫৩ পিএম

নতুন মৌসুমের জন্য ক্লাব খোঁজার সময়ে মাঠের বাইরের ঘটনায় বড় ধাক্কা খেলেন থমাস পার্টে। সাবেক আর্সেনাল মিডফিল্ডারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ছয়টি অভিযোগ এনে চার্জ গঠন করেছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, ঘটনাগুলো ঘটেছে ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে। ভিন্ন ভিন্ন এসব ঘটনায় পার্টের বিরুদ্ধে তিনজন নারীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ছয়টি মামলা দায়েত করা হয়েছে। এদের মধ্যে এক নারীর অভিযোগ দুইবার ধর্ষণের, আরেক নারীর অভিযোগ তিনটি ধর্ষণের। আর তৃতীয় নারীর পার্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তাকে যৌন নিপীড়নের।
আরও পড়ুন
| ‘হৃদয়ের ডাক’ শুনে বার্সাকে হতাশ করে বিলবাওতেই থেকে গেলেন নিকো |
|
অভিযোগের ভিত্তিতে ৩২ বছর বয়সী ঘানা জাতীয় দলের এই ফুটবলার আগামী ৫ আগস্ট ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির হবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
এই বিষয়ে তদন্ত টিমের প্রধান, ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ডি ফারফি বিবৃতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
“এখন আমাদের মূল অগ্রাধিকার হলো অভিযোগকারী নারীদের প্রতি যতোটা সম্ভব সহায়তা প্রদান করা। কেউ যদি এই ঘটনার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকেন বা তাদের কাছে কোনো তথ্য থাকে, তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
২০২০ সালে স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে আর্সেনালে যোগ দেন পার্টে। ২০২৪-২৫ মৌসুমেও ছিলেন মিকেল আর্তেতার দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। প্রিমিয়ার লিগে খেলেন ৩৫টি ম্যাচ, গোল করেন ৪টি।
আরও পড়ুন
| জতার মৃত্যুর শোকে ভেঙে পড়েছেন নেভেস-কানসেলো |
|
গত ৩০ জুন আর্সেনালের সাথে পার্টের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে তিনি এখন ফ্রি এজেন্ট হয়ে গেছেন। নতুন ক্লাবের সন্ধানে থাকা অবস্থায় ভিন্ন ঘটনায় এবার এসেছেন আলোচনায়।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪২ পিএম

জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ চেয়ে গত ৯ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। গতকাল বুধবার পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে ২৫০টিরও বেশি। এটিকে খুবই আশাব্যঞ্জক বলে মনে করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। আজ সাংবাদিকদের এমনটা বলেছেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের কোচ হতে এরই মধ্যে নামকরা অনেকে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এমনটা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। এবার ফুটবল বিশ্বকাপে নাম লেখানো এল সালভাদরের এক সময়ের হেড কোচ ডেভিড ডোনিগার আবেদন করেছেন বলে জানা যায়। এই তালিকায় আছেন লেবাননের সাবেক হেড কোচ মিওদ্রাগ রাদুলোভিচ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারানো লেবাননের ডাগআউটে ছিলেন মন্টেনিগ্রোর এই কোচ। এছাড়াও ৬টি দেশের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলানো জার্মান কোচ অ্যান্টইন হে’র মতো হাইপ্রোফাইল কোচও আবেদন করেছেন বাফুফেতে।
বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চেয়ে এত আবেদন দেখে কিছুটা অবাক সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমও। বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) আমি খোঁজ নিয়েছি যে কয়টা আবেদন পড়েছে এবং আপনারা জেনে খুশি হবেন এটা অবিশ্বাস্য; ২৫০ এর অধিক আবেদন পড়েছে। আমি মনে করি এটাও কিন্তু ফুটবলের একটা অনেক বড় অর্জন; যে আমাদের জাতীয় দলের জন্য এত লোক আবেদন করেছে। আমাদের জন্য এটা খুবই আশাব্যঞ্জক।’
বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চেয়ে আবেদন করেছেন স্থানীয় দুই কোচ- আবাহনীর বর্তমান কোচ মারুফুল হক এবং জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু। বাংলাদেশ কেমন কোচ চায়, ফুটবল পাড়ার এটা এখন অন্যতম আলোচনার বিষয়। ক’দিন আগে বাফুফে সভাপতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশ এশিয়ান অঞ্চলের কোচ নিতে চায়। শেষ পর্যন্ত কোচ নিয়োগের বিষয়টি তিনিই দেখবেন। ফাহাদ করিম বলেন, ‘২৫০ থেকে খুব সম্ভবত ৫০ জনের একটা পুল করা হবে। তারপর অবশ্যই আমাদের সভাপতি নিজে সাক্ষাৎ নেবেন। কারণ এই পর্যায়ে সাক্ষাৎকার তিনি নিজে নেন।’

লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় প্রাইভেট কারে থাকা অবস্থায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আর্সেনালের সাবেক গোলরক্ষক অ্যালেক্স ম্যানিঙ্গার। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আর্সেনালের জার্সিতে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০২—এই ছয় বছরে ৬৪ বার গোল পোস্টের নিচে দাঁড়িয়েছেন এলেক্স। তিনি গানারদের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও এএফ কাপ জিতেছেন। আর অস্ট্রিয়ার জার্সিতে ৩৩ ম্যাচ খেলেছেন। ২০০৮ ইউরোতে অস্ট্রিয়ার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ম্যানিঙ্গার।
ম্যানিঙ্গার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন অস্ট্রিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেটার স্কোটেল। তিনি বলেছেন, ‘ম্যানিঙ্গার পেশাদারিত্ব, মানসিক দৃঢ়তা এবং নির্ভরযোগ্যতা তাঁকে তাঁর ক্লাব দলগুলো এবং জাতীয় দলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছিল। তাঁর অর্জনগুলো সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার দাবি রাখে এবং তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
ম্যানিঙ্গার তার খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছিলেন নিজের শহরের ক্লাব সালজবার্গের হয়ে এবং পরবর্তীতে ইউরোপের ১৪টি ভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে জুভেন্টাস ও উদিনেস।
২০১৬ সালে ৩৯ বছর বয়সে তিনি লিভারপুলের সাথে একটি স্বল্পমেয়াদী চুক্তি করেন, তবে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। আর্সেনালে থাকাকালীন ম্যানিঙ্গার মূলত ডেভিড সিম্যানের বিকল্প হিসেবেই বেশি খেলেছেন। তবে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমের শেষের দিকে ইংল্যান্ডের এই গোলরক্ষক ইনজুরিতে পড়লে তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত
হন।
সেই মৌসুমে ম্যানিঙ্গার এফএ কাপের ষষ্ঠ রাউন্ডে ওয়েস্ট হ্যামকে পেনাল্টিতে হারাতে আর্সেনালকে সাহায্য করেছিলেন এবং ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে এক স্মরণীয় জয়ে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন।

পেপ গার্দিওলা কয়েক দিন আগেও অভিমানী সুরে বলেছিলেন, ‘সে আমাকে কিছুই জানায়নি। অথচ তাকে আমি বলেছিলাম, তুমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাকে অন্তত একবার জানাবে।’ এমনকি স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড দাবি করেছিলেন, ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাঁর সেরা সিদ্ধান্ত ছিল বার্নার্দো সিলভার হাতে আর্মব্যান্ড তুলে দেওয়া।
এত কিছুর পর সিলভাকে আর রাখা যাচ্ছে না ম্যানচেস্টার সিটিতে। চলতি মৌসুম শেষেই ইংলিশ ক্লাব ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সিলভা নিজেই জানিয়েছেন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর থাকছেন না।
২০১৭ সালে মোনাকো থেকে সিটিতে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৪৫১ ম্যাচে ৭৬টি গোল এবং ৭৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন সিলভা। গত মাসে কারাবাও কাপ জয় ছিল সিটির হয়ে তার ১৫তম বড় কোনো শিরোপা। এর মধ্যে ২০২২-২৩ মৌসুমের ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ জয়ও অন্তর্ভুক্ত। আরও একটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা অপেক্ষা করছে সিটির।
নিজের ইনস্টাগ্রামে সিলভা লিখেছেন, ‘আমরা একসঙ্গে যা কিছু জিতেছি এবং অর্জন করেছি, তা আমার হৃদয়ে সারাজীবন এক অমূল্য স্মৃতি হিসেবে থাকবে। ১০০ পয়েন্টের সেই মৌসুম (সেঞ্চুরিয়ান), ঘরোয়া চারটি শিরোপা, ট্রেবল, টানা চারবার লিগ জয় এবং আরও অনেক কিছু। অভিজ্ঞতাটা মোটেও মন্দ ছিল না।’
সিটির আধুনিক ফুটবলারদের মধ্যে সিলভাই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা সেরা ১০ জনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মাইক সামারবির সাথে যৌথভাবে অষ্টম স্থানে আছেন। গত মৌসুম শেষে কেভিন ডি ব্রুইনা ক্লাব ছাড়ার পর সিলভাকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিটির হয়ে আট মৌসুমে তিনি মোট ছয়বার প্রিমিয়ার লিগ জিতেছেন।
বর্তমানে সিটি লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং ২৫ এপ্রিল এফএ কাপের সেমিফাইনালে সাউদাম্পটনের মুখোমুখি হবে। ভক্তদের উদ্দেশ্যে সিলভা আরও বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে আমার মূল লক্ষ্য ছিল সবসময় আবেগ ও ভালোবাসা দিয়ে খেলা। যাতে আপনারা (ভক্তরা) গর্ব বোধ করেন এবং মাঠে নিজেদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পান। আশা করি প্রতিটি ম্যাচেই আপনারা তা অনুভব করেছেন।’
ম্যানসিটিতে নিজের উত্থান নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সিলভা। তিনি বলেন, ‘আমি ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড় হিসেবে এসেছিলাম, কিন্তু বিদায় নিচ্ছি আপনাদেরই একজন হয়ে—আজীবন এই ক্লাবের সমর্থক হিসেবে। এই তরুণ দলটিকে আপনারা সমর্থন দিয়ে যান, আমি নিশ্চিত ভবিষ্যতে তারা আপনাদের আরও অনেক চমৎকার স্মৃতি উপহার দেবে। চলুন, এই শেষ কয়েক সপ্তাহ আমরা একসাথে উপভোগ করি এবং এই মৌসুমে জেতার মতো যা বাকি আছে তার জন্য লড়াই করি।’

সৌদি প্রো লিগে আল ইত্তিফাকের বিপক্ষে আল নাসরের ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ৮৯ মিনিটে বদলি হওয়ার পর সাইডবেঞ্চে না বসে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। যা তার নতুন কোনো ইনজুরির শঙ্কা জাগিয়ে তোলে।
রোনালদোকে নিয়ে অবশ্য শঙ্কার কিছুই নেই। বুধবার আল ইত্তিফাকের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আল নাসর ম্যানেজার হোর্হে জেসুস জানিয়েছেন, ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকে পেটের সমস্যায় ভুগছিলেন রোনালেদো। অসুস্থ বোধ করা সত্ত্বেও খেলা চালিয়ে যায় সে।
কোচের মতে, বিরতির সময় রোনালদোর পেটে মোচড় দিচ্ছিল। তবুও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে ফেরেন। অস্বস্তি নিয়েই লড়াই চালিয়ে যান। তবে বদলি হওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হলে তিনি সরাসরি ড্রেসিংরুমে যান এবং সেখানে গিয়ে বমি করেন।
জেসুস বলেন,
‘দুই অর্ধেকের মাঝখানে সে পেটে ব্যাথা অনুভব করছিল। সে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছে এবং চালিয়ে যাওয়ার জন্য জেদ ধরেছিল, কিন্তু ড্রেসিংরুমে ঢোকার পর সে বমি করেছে।’
যদিও ঘটনাটি উদ্বেগজনক ছিল, তবে এই সমস্যার কারণে তাকে খুব বেশি দিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে রোনালদো সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের জয় উদযাপন করে একটি ইতিবাচক বার্তা শেয়ার করেন এবং সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান।
৩৯ বছর বয়সী এই তারকা সম্প্রতি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে ফিরেছেন যা তাকে প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে রেখেছিল। এ মাসের শুরুর দিকে আল-নাজমার বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি নিজের প্রত্যাবর্তন রাঙিয়েছিলেন। আল হিলালের চেয়ে ৮ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা আল নাসরের লক্ষ্য এখন এই ছন্দ ধরে রাখা। শিরোপা জয়ের পথে রোনালদোর সুস্থতা দলের জন্য মূল চাবিকাঠি হয়ে থাকবে।

রিয়াল
মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ধ্রুপদী লড়াইয়ে জয় পাওয়ার পর কেইনের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমি ফাইনালে প্রতিপক্ষ পিএসজিকে একরকম হুঁশিয়ারিই দিলেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ ফরোয়ার্ড। কেইনের দাবি, বিশ্ব ফুটবলের যেকোনো শক্তিকেই ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তাঁর দল।
নিজেদের
মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে গতকাল ৪-৩ গোলে ও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে রিয়ালকে হারায় বায়ার্ন। বাভারিয়ানদের হয়ে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি আসে কেইনের নৈপুণ্যে। আলভারো আলবেরোয়ার দলকে ছিটকে দেওয়ার পথে হ্যারি কেইন এই মৌসুমে নিজের ৫০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। বায়ার্নের হয়ে প্রথম মৌসুমেই গোলের ‘হাফ-সেঞ্চুরি’ করলেন তিনি।
জার্মান
জায়ান্টরা যেভাবে রিয়ালের মতো দলকে স্তব্ধ করে সেমিফাইনালে উঠেছে, তা দেখে কেইন এখন শিরোপা জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী। ম্যাচ শেষে ‘টিএনটি স্পোর্টস’-কে কেইন বলেন, ‘রিয়ালের মতো দলকে যখন আপনি চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে হারাবেন, তখন আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী হতে বাধ্য। আমরা সারা বছর ধরেই এই পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা বলেছি। এখন সময় হলো নিজেদের আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার।‘
সেমি
ফাইনালে প্রতিপক্ষ পিএসজির উদ্দেশ্যে যথেষ্ট সম্মান রেখেই কেইন বলেন, ‘আমরা জানি পিএসজি ইউরোপের অন্যতম সেরা দল। কিন্তু আমরা যদি আমাদের সেরা ফুটবলটা খেলতে পারি, তবে বিশ্বের যেকোনো দলকেই হারানোর ক্ষমতা রাখি। সেমিফাইনালে জেতার জন্য আমাদের সেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলাটাই খেলতে হবে।’
কেইনের
জন্য রাতটি ছিল ইতিহাস গড়ারও। ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড আর্লিং হল্যান্ডকে ছুঁয়ে এখন ইউরোপ শাসন করছেন তিনি। ২০২২-২৩ মৌসুমে আর্লিং হল্যান্ডের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের কোনো ক্লাবের হয়ে এক মৌসুমে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন কেইন।
এছাড়া
৯৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ লিগে এক মৌসুমে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। কেইনের আগে ১৯৩০-৩১ মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলার টম ওয়ারিং গোলের হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। কেইন তাঁর এই অবিস্মরণীয় উচ্চতায় পৌঁছাতে সময় নিয়েছেন মাত্র ৪২টি ম্যাচ।
টানা
৫টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে গোল করে আরও একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ২০০৭-০৮ মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে স্টিভেন জেরাড টানা ৫ ম্যাচে গোল করে যে রেকর্ড গড়েছিলেন, কোনো ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে ১৮ বছর পর কেইন সেই রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি করলেন।’
শ্বাসরূদ্ধকর
ম্যাচে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ম্যাচ শেষে রেফারিকে রীতিমতো শূলে চড়ান রিয়ালে খেলোয়াড় ও কোচ। রেফারিং নিয়ে কেইনের প্রতিক্রিয়া ছিল সোজাসাপ্টা, ‘পুরো ম্যাচে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত আমাদের বিপক্ষে গিয়েছিল, তবে নিয়ম তো নিয়মই। ওটা (কামাভিঙ্গার কার্ড) একদম পরিষ্কার হলুদ কার্ড ছিল। আমার ক্যারিয়ারেও এমন দু-একবার হয়েছে যা আমাকে ভোগান্তি দিয়েছে। রেফারিকে সেখানে সিদ্ধান্ত নিতেই হতো এবং আজ সেই সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে এসেছে।‘
চ্যাম্পিয়নস
লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর বায়ার্ন মিউনিখের নজর এখন ঘরোয়া ফুটবলের দিকে, যেখানে তারা ইতিহাস গড়ার খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছে। বায়ার্ন এই সপ্তাহান্তেই স্টুটগার্টের বিপক্ষে জয় পেলেই বুন্দেসলিগা শিরোপা নিজেদের করে নিতে পারে। এছাড়া ডিএফবি-পোকাল (জার্মান কাপ) সেমিফাইনালে বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে এক হাই-ভোল্টেজ লড়াই তাদের অপেক্ষায়।
বায়ার্নে
নিজের স্বপ্নিল যাত্রা নিয়ে হ্যারি কেইন বলেন, ‘আমাদের সামনে এই সপ্তাহেই লিগ জেতার সুযোগ আছে। আশা করি আমরা সেটা করতে পারব। এছাড়া কাপের সেমিফাইনাল তো আছেই। সামনে অনেক বড় বড় ম্যাচ এবং আমাদের অনেক কিছু জেতার বাকি।’