
দ্য হানড্রেড’-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি দল বার্মিংহাম ফিনিক্সে বিনিয়োগ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। দলটির ছোট অংশের অংশীদারত্ব কিনেছেন তিনি, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ পাউন্ড। তা অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, ফুটবল জগতের জনপ্রিয় এই তারকার চোখ হঠাৎ ক্রিকেটে পড়ল কেন?
শৈশবের শহর বার্মিংহামের প্রতি ঋণের কথা স্মরণ করেই নাকি ‘দ্য হান্ড্রেড’ ফ্র্যাঞ্চাইজি বার্মিংহাম ফিনিক্সে বিনিয়োগ করেছেন বেলিংহাম। তবে ২২ বছর বয়সী ইংলিশ মিডফিল্ডার কেবল নামমাত্র বিনিয়োগকারী নন, দলটির সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) এবং কমিউনিটি এনগেজমেন্ট প্রজেক্টগুলোতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন তিনি। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তার মালিকানার অংশ ১.২ শতাংশ। যেখানে ওয়ারউইকশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব এখনো ৫০.৪ শতাংশ শেয়ার নিয়ে দলটির মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে থাকছে।
মজার ব্যাপার হলো, দলটির বাকি অংশের মালিকানায় রয়েছেন বার্মিংহাম সিটি ফুটবল ক্লাবের বর্তমান মালিকপক্ষ, যার মধ্যে এনএফএল কিংবদন্তি টম ব্র্যাডি-ও রয়েছেন। এই বিনিয়োগের ঘোষণার পর বেলিংহাম ওয়ারউইকশায়ার কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং বিস্তারিত জানিয়েছেন কেন তিনি ক্রিকেটের প্রতি এই বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বেলিংহাম বলেন, ‘যখনই এই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেলাম, আমি দ্বিতীয়বার ভাবিনি। এই যাত্রার অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই খুব খুশি।’
আরও পড়ুন
| চোটে পড়ে শঙ্কায় ইয়ামালের বিশ্বকাপ |
|
বার্মিংহামের প্রতি নিজের আবেগ ঢেলে দিয়ে বেলিংহাম আরও বলেন, ‘আমি বার্মিংহামকে ভালোবাসি। এই শহর আমার জন্য যা করেছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ—অন্তত বার্মিংহামের একটা অংশ তো বটেই! পুরো ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলেই আমি ছোটবেলায় প্রচুর ফুটবল আর ক্রিকেট খেলেছি। তবে বার্মিংহামের প্রতি টানটা আলাদা, কারণ ওটাই আমার ক্লাব ছিল।’
বেলিংহাম আরও যোগ করেন, ‘আমার কাছে বার্মিংহাম সিটিই সেরা দল ছিল যেখান থেকে আমি উঠে এসেছি এবং যাদের আমি সমর্থন করি। ফুটবল আর ব্যক্তিজীবনের সেরা শিক্ষাটা আমি ওখানেই পেয়েছি। আমার মনে হয়, এই শহরের কাছে আমি ঋণী। তাই খেলার মাঠের ভিন্ন কোনো আঙ্গিনায় (ক্রিকেট) কিছু ফিরিয়ে দিতে পারাটা দারুণ একটা সুযোগ।’
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ক্রিকেট বেলিংহামের জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে। ছোটবেলায় তিনি আর তার ভাই নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন। এমনকি রিয়াল মাদ্রিদ তারকার কাছে ফুটবলের পর ক্রিকেটই হলো সবচেয়ে প্রিয় খেলা। এই মিডফিল্ডার মনে করেন, ফুটবল চাইলে ক্রিকেট থেকে বেশ কিছু ইতিবাচক বিষয়ও শিখতে পারে।
ক্রিকেট নিয়ে মজার ছলে হাসতে হাসতে বেলিংহাম বলেন, ‘আমার মনে হয় ক্রিকেটাররা অনেক বেশি আমুদে। ক্রিকেটে রসবোধটা বেশি থাকে। আমি প্রচুর স্টাম্প মাইকের কথাবার্তা শুনি এবং গত কয়েক বছরের ক্রিকেটারদের নিয়ে অনেক ডকুমেন্টারিও দেখেছি।’
ক্রিকেট ও ফুটবলের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে বেলিংহাম আরও বলেন, ‘ক্রিকেটে এক ধরনের হালকা মেজাজ কাজ করে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ক্রিকেটারদের সঙ্গে খুব সহজে মিশতে পারে। ফুটবলের তুলনায় ক্রিকেটারদের হয়তো অতটা কাটাছেঁড়া করা হয় না, বরং তারা মানুষ হিসেবে কেমন বা খেলোয়াড় হিসেবে কতটা ভালো—সেটার জন্য তারা অনেক বেশি কদর পায়।’
No posts available.
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৮ এম
২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি এখনও। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থায় ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে চলছে জলঘোলা। কদিন আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দেশটির বিশ্বকাপে যাওয়া ‘নিশ্চিত’ বলেছিলেন। তবে এরমধ্যেই বিপরীতধর্মী এক খবর এখন আলোচনায়।
আর্থিক বিষয়ক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফাইনান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন ঊর্ধ্বতন দূত প্রস্তাব করেছেন, আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে সুযোগ দেওয়া হোক।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপ চতুর্দশ লিও-র প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জেরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈরী সম্পর্ক মেরামতের লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি ফাইনান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি যে, আমি ট্রাম্প এবং ইনফান্তিনোকে ইরানের জায়গায় ইতালিকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। আমি জন্মসূত্রে ইতালীয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত টুর্নামেন্টে 'আজ্জুরিদের’ দেখাটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। চারবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের সেই আভিজাত্য রয়েছে যা বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্তির দাবি রাখে।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি যে, আমি ট্রাম্প এবং (ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি) ইনফান্তিনোকে প্রস্তাব দিয়েছি যেন বিশ্বকাপে ইরানের জায়গায় ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আমি জন্মসূত্রে ইতালীয়, আর যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে 'আজ্জুরি'দের (ইতালি জাতীয় দল) দেখাটা হবে স্বপ্নের মতো। চারটি শিরোপা জেতা একটি দলের বিশ্বকাপে খেলার সেই আভিজাত্য ও যোগ্যতা রয়েছে।’
এই বিষয়ে অবশ্য রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে হোয়াইট হাউস, ফিফা, ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
আরও পড়ুন
| ইয়ামালের চোটে ম্লান বার্সার জয় |
|
ফিফা এই লবিংয়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি, তবে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত সপ্তাহে জানিয়েছেন , ইরান দল টুর্নামেন্টে অংশ নেবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইরান দল আসছে, এটা নিশ্চিত।’
এর আগে মেক্সিকো নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের এই প্রতিবেশী দেশে সরিয়ে নেওয়ার যে অনুরোধ করা হয়েছিল, ফিফা তা প্রত্যাখ্যান করে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের জাতীয় ফুটবল দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি। বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় টুর্নামেন্টে দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
যদি ইরান সরকার তাদের দলকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তাদের বদলে কোন দেশ বিশ্বকাপে খেলবে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল ফিফার হাতে। বিশ্বকাপের নিয়মাবলীর ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো শূন্যস্থান পূরণের জন্য ফিফা তাদের পছন্দমতো যেকোনো দেশকে ডাকার স্বাধীনতা রাখে। এমতাবস্থায় এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন নিশ্চয়ই চাইবে এশিয়া থেকেই কোনো দেশ সুযোগ পাক। সেক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত হতে পারে সহজ পছন্দ, যারা গত নভেম্বরে ইরাকের কাছে প্লে-অফে হেরেছিল।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ইরান তাদের ‘গ্রুপ জি’ এর সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই খেলবে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, মিশর এবং নিউজিল্যান্ড। সূচি অনুযায়ী ইরান ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং ২৬ জুন সিয়াটল স্টেডিয়ামে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামবে।

বায়ার্ন মিউনিখের অনুশীলনের সময় ডান উরুর পেশি ছিঁড়ে যাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন সের্গে গ্লাব্রি। জার্মান ফরোয়ার্ডের চোট নিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্লাব্রি উরুর ‘অ্যাডক্টর’ পেশি ছিঁড়ে গেছে এবং তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের চোট নিয়ে গ্লাব্রি নিশ্চিত করেছেন, আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে খেলতে পারছেন না তিনি।
গ্লাব্রি লিখেছেন, ‘গত কয়েকটা দিন আমার জন্য মানিয়ে নেওয়া খুব কঠিন ছিল। গত সপ্তাহে বুন্দেসলিগা শিরোপা নিশ্চিত করার পর বায়ার্নের হয়ে মৌসুমের আরও অনেক কিছু অর্জনের বাকি ছিল। কিন্তু জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা আমার জন্য দুঃখজনকভাবে শেষ হয়ে গেল।’
গ্নাব্রি আরও যোগ করেন, ‘দেশের বাকি মানুষের মতোই আমিও ঘরে বসে ছেলেদের সমর্থন দিয়ে যাব। এখন দ্রুত সুস্থ হয়ে প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে ফেরার দিকে মনোনিবেশ করার সময়। আপনাদের সব বার্তার জন্য ধন্যবাদ।’
আরও পড়ুন
| ইয়ামালের চোটে ম্লান বার্সার জয় |
|
জার্মানি কোচ হুলিয়ান নাগেলসম্যানও চলতি সপ্তাহের শুরুতে চোটের খবরটি শুনে বেশ হতাশ হয়েছেন। তিনি সংবাদ সংস্থা এসআইডি-কে বলেন, ‘আমি সের্গের জন্য খুব দুঃখিত। সত্যিই তেতো এক সংবাদ এটি—বিশেষ করে মৌসুমের এই শেষ মুহূর্তে, যখন সামনে এত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ সব ম্যাচ অপেক্ষা করছে।’
জার্মান জাতীয় দলের কোচ আরও যোগ করেন, ‘আমি তাকে বলেছি যে আমরা—পুরো জাতীয় দল—তার পাশে দৃঢ়ভাবে আছি। সে যেন যত দ্রুত সম্ভব মাঠে ফিরতে পারে, সেজন্য আমরা সব ধরনের সহায়তা করব।’
গ্নাব্রির বিশ্বকাপ ভাগ্য বেশ মন্দই বলা যায়। এর আগে ২০১৮ সালেও ঠিক একই রকম 'অ্যাডক্টর' পেশির চোটের কারণে রাশিয়ার বিশ্বকাপ আসরেও সাইডলাইনে বসে থাকতে হয়েছিল তাকে। এবারও ভাগ্য যেন তাঁর সঙ্গে নিষ্ঠুর পরিহাসই করল। দেশের হয়ে ৫৯ ম্যাচে ২৬ গোল করা জিনাব্রি অবশ্য ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে 'ই' গ্রুপে আছে জার্মানি। গ্রুপপর্বে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ হলো কুরাসাও, আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডর।

শেষ হলো আর্সেনালের টানা ২০০ দিনের রাজত্ব। মৌসুমের শেষ অংশে গানারদের একের পর এক পয়েন্ট হারানোর সুযোগ লুফে নিয়ে সিংহাসনে আসীন হলো ম্যানচেস্টার সিটি। মৌসুমের শুরুর সপ্তাহের পর এই প্রথম শীর্ষে ফিরল সিটিজেনরা।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গতকাল রাতে বার্নলিকে ১-০ গোলের হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। আর্লিং হালান্ডের শুরুর দিকের একমাত্র গোলে সিটির জয় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অবনমন নিশ্চিত হয়ে গেল বার্নলিরও।
গত ১৪ মার্চ ওয়েস্ট হ্যামের সাথে ড্র করার পর আর্সেনালের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল সিটি। এরপর পেপ গার্দিওলার দলের টানা তিন জয় এবং আর্সেনালের টানা দুই হার পুরো শিরোপা লড়াইয়ের চিত্রটাই বদলে দিল। বার্নলির বিপক্ষে জয়ের পর সিটি এবং আর্সেনাল—উভয় দলের পয়েন্ট (৭০) এবং গোল ব্যবধান (+৩৭) এখন সমান। তবে বেশি গোল করার সুবাদে (সিটির ৬৬, আর্সেনালের ৬৩) আর্সেনালকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করেছে ইতিহাদের ক্লাবটি।
আরও পড়ুন
| চেলসির অন্দরে ‘গুপ্তচর’, নাপিতের এক পোস্টেই সব ফাঁস |
|
বার্নলির বিপক্ষে সিটির এই জয়ে দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বার্নার্দো সিলভা। পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার তাঁর প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারের ২১৫তম জয়ের স্বাদ পেলেন। আর এর মাধ্যমেই তিনি সিটির ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন। ক্লাব অধিনায়ক হিসেবে সিলভা এখন সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়লেন। ২১৪টি জয় নিয়ে শীর্ষে থাকা ডেভিড সিলভাকে টপকে এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন তিনি।
গত সপ্তাহেই সিলভা নিশ্চিত করেছেন এই মৌসুম শেষে ক্লাব ছাড়ছেন তিনি। ২০১৭ সালে ইংলিশ ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার সিটির জার্সিতে ৪৫৩টি ম্যাচ খেলেছেন, যা এই সময়ের মধ্যে ক্লাবের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। । সিটির হয়ে খেলা ৮টি মৌসুমের মধ্যে ৬টিতেই তিনি শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে তাঁর চেয়ে বেশি শিরোপা তুলে ধরেছেন মাত্র ৫ জন খেলোয়াড়। সব মিলিয়ে সিটির হয়ে তিনি ১৯টি বড় শিরোপা জিতেছেন এবং কেভিন ডি ব্রুইনা ও জন স্টোনসের সাথে যৌথভাবে ক্লাবের সবচেয়ে বেশি ট্রফি জয়ী খেলোয়াড় এখন তিনি।
সিলভার মাইলফলকের ম্যাচে শুরুতেই লিড পেয়ে যায় সিটি। প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচের মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় হলান্ডের ক্লিনিক্যাল ফিনিশ দেখে মনে হয়েছিল অবনমন অঞ্চলে থাকা দলের বিপক্ষে গোল উৎসব করবে সফরকারীরা। তবে রক্ষণভাগে শক্ত দেয়াল তুলে ম্যান সিটিকে হতাশ করে স্বাগতিকরা।
ম্যান সিটির আক্রমণেও তেমন একটা ধার লক্ষ্য করা যায়নি। হলান্ডের শট একবার পোস্টে লাগে এবং আরও কিছু সুযোগ হাতছাড়া করেন নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত পেপ গার্দিওলার দলকে প্রত্যাশার চেয়েও নঘন্য ব্যবধানের এই জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
আরও পড়ুন
| ইয়ামালের চোটে ম্লান বার্সার জয় |
|
ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে গার্দিওলা বলেন, ‘সুযোগ এসেছিল, আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। এটি একটি দুর্দান্ত ম্যাচ ছিল এবং তিন দিন আগে (আর্সেনালের বিপক্ষে) একটি কঠিন ম্যাচের ধকল সামলে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি।’
গার্দিওলা আরও যোগ করেন, ‘আমরা জিতেছি এবং লিগের শীর্ষে আছি, তবে হতাশ হবো কেন? অবশ্যই আমরা আরও ভালো করতে পারতাম, কিন্তু দিনশেষে জয়টা আমাদেরই। রোববারের চেয়ে আজ আমাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল কারণ আমরা একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছি। এখন প্রিমিয়ার লিগ জিততে হলে বাকি ৫টি ম্যাচে জয় পেতে হবে—এটাই বাস্তবতা।’

ডি বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করে নিলেন। স্পট কিক থেকে বল জালেও জড়ালেন করলেন। ওই এক গোলই শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত করেছে। তবে লামিনে ইয়ামালের নৈপুণ্যে পাওয়া এই জয় ছাপিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে স্প্যানিশ উইঙ্গারের চোট।
লা লিগায় গতকাল রাতে সেল্টা ভিগোকে ১-০ গোলে হারিয়ে লিগ শিরোপা ধরে রাখার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বার্সেলোনা। ম্যাচের ৪০ মিনিটে বার্সেলোনার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ইয়ামাল। এই কষ্টার্জিত জয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থান সুসংহত করল বার্সা। লিগের বাকি থাকা ছয়টি ম্যাচের মধ্যে আগামী ১০ মে হবে এল ক্লাসিকো।
ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যূতে দানি ওলমোর সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে ঢুকে পড়েন ইয়ামাল। সেখানে সেল্টার ডিফেন্ডার ইয়োয়েল লাগোকে কাটিয়ে যাওয়ার সময় ফাউলের শিকার হন তিনি। ইয়ামালের নেওয়া নিচু পেনাল্টি শটটি গোলরক্ষক ইয়োনুট রাডু সঠিক দিকে ঝাঁপিয়েও আটকাতে পারেননি। গোল করার পরপরই ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে ইশারায় জানান যে তিনি চোট পেয়েছেন।
আরও পড়ুন
| ইউনাইটেডের রাডারে রিয়াল মিডফিল্ডার |
|
আসন্ন বিশ্বকাপে স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা ইয়ামাল গোল উদযাপনের সময় সতীর্থরা কাছে আসতেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন। তখন তাকে বাম পায়ের পেছনের অংশ (হ্যামস্ট্রিং) চেপে ধরতে দেখা যায়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক সেবার পর ইয়ামাল নিজেই মাঠ ত্যাগ করেন। সাইডলাইনে কোচ হান্সি ফ্লিকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলে তিনি একাই টানেল দিয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে চলে যান।
এই চোটের কারণে বার্সেলোনার হয়ে চলতি মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে ইয়ামালকে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শেষ। এমনকি নিজের প্রথম বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এই চোট। ইএসপিএন জানিয়েছে, ইয়ামালের হ্যামস্ট্রিং ছিঁড়ে গেছে। তাঁর এই চোট কতটা গুরুতর এবং সুস্থ হয়ে ফিরতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে, তা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই জানা যাবে।
এরমধ্যে গ্যালারিতে এক দর্শকের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনের কারণে বার্সা-সেল্টা ম্যাচ ১৫ মিনিটের বেশি বন্ধ ছিল। খেলা পুনরায় শুরু হলে ইয়ামালের পরিবর্তে রনি বারদঘিকে মাঠে নামানো হয়।
ম্যাচ শেষে মুভিস্টার-কে বার্সা মিডফিল্ডার পেদ্রি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি ম্যাচ জিততে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব লা লিগা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের জয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আশা করি লামিনের চোট খুব বেশি গুরুতর হবে না এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সে ফিরবে। আগামীকাল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে, তখনই আমরা বিস্তারিত জানতে পারব।’
গত সপ্তাহে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়ার পর প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছিল হান্সি ফ্লিকের বার্সা। কিন্তু কাতালান ক্লাবটির খেলায় চিরচেনা সেই আক্রমণাত্মক ধার লক্ষ্য করা যায়নি।
লা লিগার অন্য ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদ পয়েন্ট টেবিলে ১৬ নম্বরে থাকা এলচের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে। এই নিয়ে লিগে টানা চার ম্যাচ হারল দিয়েগো সিমিওনের দল। ৩২ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে আছে তারা। আগামী ২৯ এপ্রিল চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের প্রথম লেগের লড়াইয়ে নামবে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

দিনভর দফায় দফায় আলোচনা। লিয়াম রসেনিয়র চেলসির কোচ থাকছেন, নাকি এফএ কাপের আগেই তাকে বরখাস্ত করা হবে। অবশেষে নীতি-নির্ধারকদের সম্মতিতে এখনই চেলসি অধ্যায় শেষ হলো এই ইংলিশ কোচের।
বুধবার এক বিবৃতিতে রসেনিয়রের বরখাস্তের খবর নিশ্চিত করে চেলসি। দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পর বরখাস্ত হয়েছেন এই ইংলিশ কোচ। স্ট্যাম্পফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটির সঙ্গে ছয় বছরের চুক্তি ছিল তার।
রসেনিয়রের দায়িত্বকালে ২৩ ম্যাচের ১০টিতে হার, দুটিতে ড্রয়ের বিপরীতে ১১টি ম্যাচ জিতেছে দ্য ব্লুজরা। যা চেলসির সহস্রাব্দের ইতিহাসে কোনো স্থায়ী কোচের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত মাসে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে ৫-২ গোলে হারার পর থেকেই পতন শুরু হয় ক্লাবটির। ১৯১২ সালের নভেম্বরের পর (টাইটানিক ডোবার সাত মাস পর) এই প্রথম টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল না করেই হারের তেতো স্বাদ পেল চেলসি।
সবশেষ প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটনের বিপক্ষে হারের পর বুধবার জরুরি বৈঠকে বসে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘স্ট্যান্ডার্ড স্পোর্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী ইংলিশ কোচ লিয়াম রসেনিয়রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বুধবার দিনভর দফায় দফায় আলোচনা করেছে ক্লাবের নীতি-নির্ধারকরা। গত আট ম্যাচের মধ্যে সাতটি এবং টানা পাঁচ ম্যাচে হেরেছে চেলসি। আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়স লিগে খেলার স্বপ্ন এখন সুদূরপরাহত।
জানুয়ারির শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এতদিন টিম এবং ম্যানেজম্যান্ট নিয়ে চুপ থাকলেও এই প্রথম হারের জন্য সরাসরি খেলোয়াড়দের দায়ী করেছেন রসেনিয়র। ব্রাইটনের বিপক্ষে পারফরম্যান্সকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘অমার্জনীয়’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, তার শিষ্যরা ৮০ শতাংশ ডুয়েল (বল দখলের লড়াই) হেরেছে এবং তাদের মধ্যে কোনো লড়াই করার মানসিকতা ছিল না।
মঙ্গলবার ব্রাইটনের মাঠে উপস্থিত ছিলেন চেলসির সহ-মালিক বেহদাদ এগবালি এবং স্পোর্টিং ডিরেক্টর পল উইনস্ট্যানলি। সেখানে সমর্থকরা কোচের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ‘ব্লু-কো’ মালিকানাধীন গোষ্ঠীকে ক্লাব ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যানার প্রদর্শন করেন।
এতকিছুর পরও রসেনিয়রের বিশ্বাস ছিল, তিনি চাকরি হারাচ্ছেন না। সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,
‘মালিকপক্ষের সঙ্গে আমার প্রতিদিন কথা হয়। আমার প্রতি খুবই ইতিবাচক। স্পোর্টিং ডিরেক্টররাও আমার এবং দলের প্রতি দারুণ সমর্থন দেখাচ্ছেন।’