৫ মার্চ ২০২৬, ১০:১০ পিএম

কোপা দেল রে ফাইনালে উঠতে মঙ্গলবার রাতে (সেমিফাইনাল, ফিরতি লেগে) অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতে হতো বার্সেলোনাকে। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সেমি- প্রথম লেগে ৪–০ গোলে হেরে যাওয়ায় কাতালানদের ফাইনালে উঠতে ফিরতি লেগে অন্তত ৫–০ ব্যবধানে জিততে হতো। হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা অবশ্য শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে জিতেছিল। কিন্তু দুই লেগ মিলিয়ে ৪–৩ গোলে হেরে কোপা দেল রে সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নিল বার্সা।
ফিরতি লেগে একাধিকবার আতলেতিকোর ডিফেন্সে ফাটল ধরান লামিন ইয়ামাল। একটি অ্যাসিস্ট ছাড়াও গোলের খুব কাছে গিয়েছিলেন স্পেন ফরোয়ার্ড। তাকে সামলাতে কখনও কখনও প্রতিপক্ষের তিনজন খেলোয়াড়কে মার্কিংয়ে রাখতে হয়েছে। তবু নিজের ইতিবাচক খেলাটা দারুণভাবে দেখিয়েছেন ইয়ামাল।
ম্যাচ শেষে ভক্তদের উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধম ইনস্টাগ্রামে একটি সাদাকালো ছবি পোস্ট করেন ইয়ামাল। ক্যাপশনে লেখেন,
“গতরাতের জন্য ধন্যবাদ, কুলারস। সামনে এখনও অনেক কিছু নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার আছে। ভিসকা বার্সা অলওয়েজ!”
মৌসুমে বেশ কয়েকবার পেশির সমস্যায় পড়লেও ইয়ামাল ইতোমধ্যে ১৮ গোল ও ১৫ অ্যাসিস্ট করেছেন। এত অল্প বয়সে দলের বড় দায়িত্ব নেওয়াও তার পরিণত মানসিকতার প্রমাণ।
ইয়ামালই নন শুধু, ড্রেসিংরুমেও ঐক্য দেখা গেছে। ফেরান তোরেস সামাজিক মাধ্যমে লেখেন,
“পড়ে গেলে উঠে দাঁড়াতে হয়। আমরা দেখিয়েছি কেমন দল আমরা এবং আমরা কী চাই তা সকলে জানি। একসঙ্গে—ফোরসা বার্সা।”
ব্রাজিল ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া বলেছেন,
“এই দলকে নিয়ে আমি গর্বিত। আমরা যদি এভাবেই খেলতে থাকি, মৌসুমের শেষটা সুন্দর হবে। আসলে আমাদেরই সমর্থকদের ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। তারা অসাধারণ সমর্থন দিয়েছে। ঘরের মাঠে খেললে আমরা সমর্থকদের উপস্থিতি অনুভব করতে চাই। এটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় সমর্থকরাও গর্বিত।”
No posts available.

চোটের আঘাতে বিপর্যস্ত রিয়াল মাদ্রিদ। রক্ষণ, মাঝমাঠ কিংবা আক্রমণভাগ—চোটের উপস্থিতি লস ব্লাঙ্কোসদের সব পজিশনেই। চোটের ঝাপটা বেশি সহ্য করতে হচ্ছে ডিফেন্সকে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে, দলটির মূল দলের অধিকাংশ ডিফেন্ডারই এখন মাঠের বাইরে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ জন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে লা লিগায় আগামীকাল সেল্ট ভিগোর মুখোমুখি হবে লস ব্লাঙ্কোসরা।
চোটজর্জর এই কঠিন সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ শরণাপন্ন হয়েছে নিজেদের একাডেমির এক ফুটবলারের। সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে ট্রেনিং সেশনে একাডেমির আটজন তরুণ ফুটবলারকে ডাকা হয়েছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন লামিনি ফাতি। ১৯ বছর বয়সী বাঁ পায়ের এই সেন্টার-ব্যাকের শারীরিক গঠনও দারুণ শক্তিশালী। রক্ষণভাগের একাধিক সদস্য মাঠের বাইরে থাকায় সেল্টা ভিগোর মাঠে অভিষেক হতে পারে লামিনি ফাতির।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদন, অনুশীলনে নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন লামিনি ফাতি। বল হারানোর পর দ্রুত পজিশন ঠিক করা, মাঠের উন্মুক্ত জায়গায় দ্রুত দৌড়ে খালি জায়গা কাভার করা—সব মিলিয়ে মস্তিষ্কের দারুণ ব্যবহারে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নাকি বেশ ভালোই আছে তাঁর।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভেরো আরবেলোয়া, ‘আলাবা খেলতে পারবে না। তবে আসেনসিও হয়তো পারতে পারে—এটা দেখা যাবে। যদি না পারে, তাহলে ডিয়েগো আগুয়াদো বা লামিনি ফাতি খেলতে পারে। আমরা দেখব। তবে আলাবা যে থাকছে না, এটা নিশ্চিত।’
শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং গতিশীল ডিফেন্ডার লামিনি ফাতি ডুয়েলেও আত্মবিশ্বাস জাগান। একই সঙ্গে উঁচু হাই-লাইন ডিফেন্সেও স্বাভাবিকভাবেই মানিয়ে নিতে পারেন—যা রিয়াল মাদ্রিদের খেলার ধরনের সঙ্গে বেশ মানানসই। খুব লম্বা না হলেও হেডে বল জেতার ক্ষেত্রে লামিনির সক্ষমতা চমৎকার। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ হলো—মাঠে খেলতে গিয়ে খুব বেশি চাপ নেন না তিনি বরং স্বাভাবিকভাবেই ফুটবল উপভোগ করেন।
লেগানেসের–এর একাডেমিতে বেড়ে ওঠা লামিনি ২০২৫ সালের শুরুতে প্রায় ১ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে রিয়ালে যোগ দেন। প্রথমে জুভেনিল এ খেলার পরে জায়গা করে নেন রিয়াল মাদ্রিদ কাস্তিয়াতে। ধারাবাহিক উন্নতির ফলে এখন মাঝে মাঝেই প্রথম দলের অনুশীলনেও ডাক পাচ্ছেন।
চোটের কারণে দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন তারকা মাঠের বাইরে থাকার কারণেই একাডেমির খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রাখতে পারেন আরবেলোয়া। রিয়ালে চোটের এ তালিকায় আছেন এদের মিলিতাও, জুড বেলিংহাম, দানি সেবেয়াস, কিলিয়ান এমবাপে, রদ্রিগো। তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা—ডেভিড আলাবা। এর ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে দলে নেই আলভারো কারেরাস, ডিন হুইসেন ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো।
লা লিগায় বার্সেলোনা থেকে চার পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে জোড়া-তালির দল নিয়েই সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ লিগটিতে ২৬ ম্যাচ শেষে রিয়ালের পয়েন্ট ৬০। আর সমান ম্যাচে শীর্ষে থাকা বার্সার সংগ্রহ ৬৪।

মাঠে তাদের উপস্থিতি পাল্টে দেয় পুরো দলের পারফরম্যান্সের চিত্র। আক্রমণ, মাঝমাঠ কিংবা রক্ষণ পুরো মাঠেই দাপিয়ে বেড়ান তাঁরা। প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানো, ফাইনাল পাসে গোলের সুযোগ তৈরিতে পারদর্শী তাঁরা। বল পায়ে নিয়মিতই জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই দুই তারকার মধ্যে কে সেরা, সেটা নিয়েও চলে বিস্তর তর্ক-বিতর্ক। এই বিতর্কের সমাধান নিয়ে হাজির হলেন ভিতিনিয়া।পিএসজির মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া বেছে নিলেন পেদ্রিকেই। বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডারকে এক নম্বরে রেখে নিজেকে তিনি রাখলেন চারে।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই মিডফিল্ডার এসেছে বার্সার হাত ধরে। দুই কিংবদন্তি জাবি-ইনিয়েস্তার পর স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির মাঝমাঠের হাল ধরবেন কে সেটা নিয়ে অনেকের মনেই ছিল সংশয়। তবে কাতালান ক্লাবটিকে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি, মাত্র ২৩ বছর বয়সেই বার্সার মিডফিল্ডের কান্ডারি হয়ে আবির্ভাব ঘটে পেদ্রির।
সাবেক অনেক কিংবদন্তি ফুটবলার প্রায়ই স্প্যানিশ তারকার বন্দনায় মেতে ওঠেন। বর্তমানে সেন্ট্রাল মিডফিল্ড পজিশনের আরেক জাদুকর ভিনিনিয়ার মুখেও এবার পেদ্রির প্রশংসা শোনা গেল। সম্প্রতি স্প্যানিশ দৈনিক মুন্ডো দিপোর্তিভোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, ভিতিনিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হয় বর্তমানে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার কে? পিএসজির পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার দেরি না করেই পেদ্রির নাম ঘোষণা করলেন।
ভিতিনিয়া বলেন,
‘আমি পেদ্রিকে প্রথম স্থানে রাখব। তিনি জাদুকরীর মতো। তাঁর খেলা দেখাটাই চমকপ্রদ। আর যখন তাঁর বিরুদ্ধে খেলতে হয়, তখন পেদ্রির কীর্তি আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।’
পেদ্রিকে সেরা হিসেবে বেছে নেওয়ার পর সেরা তিনের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে খানিকটা সময় নেন ভিতিনিয়া। এরপর পিএসজিতে নিজের সতীর্থ হোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেসকে রাখেন তিনি, ‘সেরা তিনে পৌঁছানো আমার জন্য একটু কঠিন। শুধু দুইজন বাছাই করা আরও কঠিন। আমি হোয়াও নেভেস এবং ব্রুনো ফার্নান্দেসকে রাখব।
নিজেকে সেরা মনে করেন কিনা এমন প্রশ্নে ভিতিনিয়ার উত্তরে ছিল বিনয়ীভাব,
‘আমি মনে করি যে আমি সেরাদের মধ্যে একজন, তবে সেরা বলা আমার কাছে অহংকারমূলক মনে হবে, কারণ এটা নির্ভর করে ব্যক্তিগত মতামত, কতদিন ধরে শীর্ষ স্তরে আছেন এবং কতগুলো শিরোপা জিতেছেন তার ওপর।’
শেষ পর্যন্ত নিজেকে সেরা তিনে না রেখে চার নম্বরে রাখলেন ভিতিনিয়া,
‘তিনজনেই পেদ্রির সঙ্গে থাকবেন। সুতরাং আমার সেরা তিনে জায়গা নেই, সুতরাং আমার তালিকাটা আসলে সেরা চারের।’
গত মৌসুমে পিএসজির ট্রেবল জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ভিতিনিয়া। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যালন ডি’অরে তিন নম্বরে ছিলেন ২৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। অন্যদিকে বার্সেলোনার হয়ে ঘরোয়া ট্রেবল জেতা পেদ্রি ছিলেন ব্যালন ডি’অর র্যাঙ্কিয়য়ে ১১ নম্বরে।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের জন্য আয়ারল্যান্ড থেকে কোচ আনছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আগামীকাল ঢাকায় আসার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর বিকালেই বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের খেলা দেখবেন বলে বাফুফে সূত্রে জানা গেছে।
আয়ারল্যান্ডের এই কোচের উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্স রয়েছে। আপাতত অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরে কক্সের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাফুফে। পরবর্তীতে এপ্রিলে নিযুক্ত কোচের পাশাপাশি আরও কিছু দলের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
এর আগে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, স্টোক সিটি ও উলভারহাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের বয়সভিত্তিক দলের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন কক্স। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানেও কাজ করেছেন তিনি।

এএফসি এশিয়ান কাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিজ দেশের জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন সময়ে নিরবতা পালন করেছিলেন ইরানের মেয়েরা। তবে আজ ব্যতিক্রম ছিলেন সারা দিদার ও মোতেভাল্লিরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিজ দেশের জাতীয় সঙ্গীতের সময় গান ও সামরিক ভঙ্গিতে সালাম জানিয়ে ম্যাচ শুরু করেন তারা।
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকারী ইরান ইন্টারন্যাশনাল টিভির সাংবাদিক আলিরেজা মোহেবি জানিয়েছেন, খেলোয়াড়রা ম্যানেজমেন্টে নির্দেশনা মোতাবেক গান গাইতে বাধ্য ছিলেন।
তিনি বলেন,
“ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং নিরাপত্তা দল খেলোয়াড়দের গান গাইতে এবং সামরিক সালাম দিতে বাধ্য করেছে।”
ইরানের প্রধান কোচ মারজিয়ে জাফারি বলেন,
“কেউ চাইছে না এমন কিছু ঘটুক, কেউ যুদ্ধ চায় না। তবে আমরা এখানে ফুটবল খেলতে এসেছি।”
বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে হারে ইরান। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে হারে তারা। রবিবার ফিলিপাইনের বিপক্ষে যে কোনো মূল্যে জয় পেতে হবে ইরানের।
একদিকে দেশে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াতে এএফসি এশিয়ান কাপে লড়ছে ইরান। ইসরায়েলের বিপক্ষে চলমান এই যুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহত হয়েছেন শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা। তাদের মৃত্যু পরবর্তীতে সংঘাত আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউমান রাইটস এক্টিভিটস নিউজ এজেন্সির হিসাব অনুযায়ী, তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানের ১১শ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

প্রত্যেক ফুটবলারই ক্যারিয়ারে অন্তত একবার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখেন। বিশ্বসেরার মঞ্চে জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার গৌরবের সঙ্গে কী কিছুর তুলনা মেলে? সবরকমের প্রস্তুতি সেরে বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে থাকেন কম-বেশি সব ফুটবলারই। তবে চোট নামক অদৃশ্য শত্রু প্রায়ই বাধা হয়ে দাড়ায় এই স্বপ্নে। কখনো কখনো কিছু তারকাদের বিশ্বকাপও খানিকটা তাঁর রঙ হারায়।
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর ৯৮ দিন। এরমধ্যেই চোটের কারণে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই শেষ অনেক তারকা ফুটবলারের। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকতে হবে তাদের।
চোটের অভিশাপে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া খেলোয়াড়দের সবশেষ সংযোজন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রদ্রিগো গোস। এই ‘অভাগাদের’ তালিকায় আরও আছেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার হুয়ান ফয়েথ, স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো, ইংল্যান্ডের উইঙ্গার জ্যাক গ্রিলিশ ও জার্মানির গোলকিপার মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগান।
কদিন আগে রিয়াল মাদ্রিদ নিশ্চিত করেছে ডান হাঁটুতে অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যাওয়া এবং বাইরের মেনিস্কাসে মহাযজ্ঞে অংশ নিতে পারবেন না রদ্রিগো। গুরুতর এই চোটের কারণে চলতি মৌসুমের বাকি অংশে আর খেলতে পারবেন না এই উইঙ্গার। ফলে শুধু ক্লাবের ম্যাচই নয়, ব্রাজিলের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যে আশা ছিল, সেটিও আপাতত শেষ হয়ে গেল তার। বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে তাকে ছাড়াই কৌশল সাজাতে হবে সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলোত্তিকে।
চোটের ধাক্কা লেগেছে ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা দলেও। ভিয়ারিয়ালে খেলা আলবিসেলেস্তা ডিফেন্ডার বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে দলের সঙ্গী হতে পারবেন না। এ বছরের জানুয়ারিতে বাঁ পায়ের অ্যাকিলিস টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন তিনি। এ ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে কমপক্ষে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এর আগেও ফয়েথ দীর্ঘমেয়াদি হাঁটু ও কাঁধের চোটে ভুগেছেন ফয়েথ।
একই মাসে বাজে চোটে পড়েন এভার্টনের ইংলিশ ফুটবলার জ্যাক গ্রিলিশ। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ধারে এভার্টনে যোগ দিয়ে এ মৌসুমে দারুণ ছন্দেই ছিলেন গ্রিলিশ। তবে হঠাৎ চোট পুরো বাম মৌসুম থেকেই ছিটকে পড়েন ৩০ বছর বয়সী উইঙ্গার। পায়ে স্ট্রেস ফ্র্যাকচার ধরা পড়ায় অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। ফলে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
স্পেন দলও একই ধরনের চোটের কবলে পড়েছে। ‘লা রোজাদের’ মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা মিকেল মেরিনো বর্তমানে ডান পায়ের হাড়ে ফাটল ধরা পড়ার পর অস্ত্রোপচার শেষে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তিনি আদৌ বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এখনও পায়ে পুরো ভর দিতে পারছেন না আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফিট হয়ে দলে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
জার্মানির ক্ষেত্রেও রয়েছে দুশ্চিন্তা। মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগান–কে নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বার্সেলেনায় হান্সি ফ্লি যখন মূল গোলকিপার হিসেবে হোয়ান গার্সিয়াকে বেছে নেন, তখন নিয়মিত মাঠে নামার সুযোগ পেতে ধারে লা লিগার ক্লাব জিরোনাতে পাড়ি জমান এই জার্মান গোলকিপার। কিন্তু নতুন ক্লাবে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার পরই তার বাম পায়ে মারাত্মকভাবে চোট পান। তাতে মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে শেষ হয় তাঁর বিশ্বকাপ খেলার আশাও।
এদিকে জাপান জাতীয় দলও বিশ্বকাপের আগে বড় দুঃসংবাদ শুনেছে। এশিয়ার দলটির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার তাকুমি মিনামিনো গত বছরের ডিসেম্বরে মোনাকোর হয়ে মাঠে নেমে বাঁ হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যায়, যার কারণে বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়েও এখন তৈরি হয়েছে শঙ্কা।