৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৬:১৬ পিএম

চলতি মৌসুম থেকে নতুন ফরম্যাটে আয়োজিত হচ্ছে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। তাতে বেড়েছে ম্যাচের সংখ্যা। এর মধ্যে ফিফা আবার ঘোষণা দিয়েছে ক্লাব বিশ্বকাপেরও। তাতে ম্যাচের সংখ্যা যেন হুর হুর করেই বেড়ে চলছে। ফুটবলাররা বনে যাচ্ছেন ‘মেশিন’। ম্যাচপ্রতি দিন তিনেকও বিশ্রামের সুযোগ মিলছে না। চোটও তাই ফুটবলারদের নিয়মিত বন্ধু বনে যাচ্ছে। যা নিয়ে হরহামেশাই অভিযোগ জানাচ্ছেন কোচ ফুটবলাররা। সেটা বিবেচনায় নিয়ে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চাচ্ছে ইউয়েফা।
নকআউট থেকে অতিরিক্ত সময়ের হিসেব নিকেশটা বদলের দিকেই নজর দিচ্ছে তারা। সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের বদলে সরাসরি টাইব্রেকারের কথা ভাবছে ইউয়েফা। সম্প্রতি এমন তথ্য দিয়েছে গার্ডিয়ান। যদিও এটা এখনো আলোচনা চলছে ইউয়েফার ভেতরে। এই নিয়ে এখনো পুরোপুরি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই তারা জানাচ্ছে।
তবে সিদ্ধান্তে বদল আনলেও অপেক্ষা করতে হবে আরও অন্তত দুই মৌসুমে। ২০২৭ পর্যন্ত ইউয়েফার মিডিয়া স্বত্ব বিক্রি করা হয়েছে বেশ আগেই। ফলে এই সময়ের মধ্যে চাইলেও তারা এই নিয়মে পরিবর্তন আনতে পারবে না। তাদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ পর্যন্ত।
এর আগে আমরা আন্তর্জাতিক বেশ কিছু টুর্নামেন্ট এমনটা দেখেছিলাম। বিশেষ করে কোপা আমেরিকায়। গেল কয়েক আসরেই কোপা আমেরিকার নকআউট পর্বে অতিরিক্ত সময়ের জায়গায় সরাসরি টাইব্রেকার দেখেছি। কেবল ফাইনালেই আমরা দেখেছি অতিরিক্ত সময়ের পর টাইব্রেকারের। সেই ধারা এবার দেখা যেতে পারে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগেও।
No posts available.
১৪ মার্চ ২০২৬, ৫:১৭ পিএম
১৪ মার্চ ২০২৬, ২:৩৪ পিএম
১৪ মার্চ ২০২৬, ১:৪৯ পিএম

শীর্ষ দুই দল বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসির লড়াই। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, কথার লড়াই, মাঠে যুদ্ধাংদেহী পরিবেশ। মাঠের বাইরে গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকদের চরম উত্তেজনা, হাতাহাতি; শেষ পর্যন্ত ৫ গোলের রোমাঞ্চ জিতল বসুন্ধরা কিংস।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শনিবার ফর্টিসকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে রবার্তো মারিও গোমেজের দল। হ্যাটট্রিক করেছেন কিংসের দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো। ফর্টিসের হয়ে গোল দুটি করেন ওনিয়েকাচি ওকাফর ও অনন্ত তামাং।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এককভাবে বসুন্ধরা কিংস। ১১ খেলায় এখন ২৪ পয়েন্ট লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট পেয়ে দুইয়ে ফর্টিস এফসি।
এদিন ম্যাচেে ১৮ মিনিটে গোলে ভাল চান্স নেয় কিংস। বা পাসের কর্নারের কাছ থেকে বক্সে ক্রস দেন হৃদয়, লাফিয়ে হেড নেন দোরিয়েলতন, কিন্তু বল চলে যায় পোস্টের উপর দিয়ে।
পরের মিনিটে মাঝ মাঠে ইমানুয়েল টনির কাছ থেকে বল কেড়ে নেন, এরপর তিনজনের মধ্য থেকে পেনাল্টি এরিয়ায় থ্রু পাস দেন পা ওর বাবু। ওকাফর কোনো ভুল করেননি, গোলকিপার জিকোর ডান পাস দিয়ে বল ঠেলে দেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।
পিছিয়ে পড়ার ৪ মিনিট পর সমতায় ফেরার উপলক্ষ্য পেয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকলে রাকিবকে ট্যাকল করতে গিয়ে ফেলে দেন ফর্টিসের ডিফেন্ডার আব্দুল্লাহ ওমর। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ২৭ মিনিটে সফল স্পটকিকে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান দোরিয়েলতন।
৩৩ মিনিটে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে মাঠে। বসুন্ধরা কিংসে অর্ধে পা ওমর বাবুকে রিমনের ট্যাকল নিয়ে সূত্রপাত। তর্কে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের একাধিক খেলোয়াড়। বেঞ্চে থেকে এতে জড়িয়ে শেষে হলুদ কার্ড দেখেন ফর্টিসের ফাহাদ।
৪৫ মিনিটে চন্দন রায়ের নিচু শট বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। খানিক পর একই শটের পুনরাবৃত্তি, এবারও চন্দনের শট লক্ষ্যে থাকেনি। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন কিংসের সোহেল রানা। ১-১ গোলেের ড্র মেনে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর একাধিক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে কিংস। রক্ষণে তপু বর্মনের সঙ্গে লেফট উইংয়ে শুরু করেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। এই উইঙ্গার নামার পর বেশ কয়েকবার আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন। সফলতা পান ৫২ মিনিটে। তাঁর দারুণ ক্রসেই আনমার্কে থাকা দোরিয়েলতন আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন। ম্যাচে প্রথমবারের মতো লিডে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
৭৫ মিনিটে ম্যাচে ফেরে ফর্টিস। বদলি খেলোয়াড় দাও শেরিংয়ের নেওয়া কর্নার থেকে বক্সে গতিময় শটে জাল কাঁপান অনন্ত তামাং।
তিন মিনিট পরই ফের লিড নেয় বসুন্ধরা কিংস। আবারও গোলে অ্যাসিস্ট করেন ফাহিম। সানডের কাছ থেকে বল নিয়ে উপরে উঠে বক্সে ফাহিমের ক্রসে গোলকিপার সুজন পেরেরার মাথার ওপর দিয়ে জালে বল ঠেলে দেন দোরিয়েলতন। ম্যাচে সেইসঙ্গে হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
৮৭ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ হারায় ফর্টিস। গোলকিপার জিকোকে পরাস্ত করলেও শেষে ওকাফরের নিচু শট একটুর জন্য গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যায় দূরের পোষ্ট ঘেঁষে। শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোলের রোমাঞ্চ জিতল ফেডারেশন কাপের দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।

ফিনালিসিমার ভেন্যু নিয়ে
তৈরি হয়েছে তীব্র জটিলতা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের
মধ্যকার ম্যাচটি এখন বাতিলের শঙ্কাতেও পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির
কারণে কাতার থেকে ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এবার অনিশ্চয়তা এই প্রতিযোগিতার নতুন
আয়োজক নিয়ে।
২৭ মার্চ ফিনালিসিমার সম্ভাব্য
ভেন্যু হিসেবে লন্ডন ও লিসবনের নাম শোনা গেলেও ইউয়েফা ও স্পেনিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)
প্রস্তাব দিয়েছে ম্যাচটি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আয়োজন করার।
শুরুতে ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলো
জানিয়েছিল, কাতারের বদলে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হতে পারে আর্জেন্টিনা
ও স্পেনের এই মহারণ। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এই খবরে জল ঢেলে
দিয়েছে। তাদের দাবি, ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
তবে স্পেনে খেলতে আপত্তি
জানায় আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত কোনো
সিদ্ধান্ত এখনো। তাদের যুক্তি, স্পেনের ঘরের মাঠে ফিনালিসিমা হলে তা স্বাভাবিকভাবেই
‘লা রোজো’দের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে।
এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে বলেছেন,
‘স্পেন চাইছে ফাইনালটা তাদের দেশে হোক। কিন্তু আমি চাই ম্যাচটি হোক বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে।’
তবে শ্যাম-কুল, দুইপক্ষের
সুবিধা বিবেচনা করে ভিন্ন এক সিদ্ধান্তেও আসতে পারে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার
সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ম্যাচটি একটির বদলে দুই লেগে আয়োজন করা হতে পারে।
টিএনটি স্পোর্টস আর্জেন্টিনার
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুব শিগগিরই এএফএ-এর পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব আসতে পারে। সেখানে
বলা হয়েছে, প্রথম লেগ আয়োজন করা যেতে পারে বার্নাব্যুতে এবং দ্বিতীয় লেগ পরে অনুষ্ঠিত
হতে পারে রিভার প্লেটের ঘরের মাঠ এস্তাদিও মনুমেন্তালে।
আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের
একজন সদস্য নাকি ইঙ্গিত দিয়েছেন—হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুই লেগে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনাও
বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি পুরো ম্যাচটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও নাকি
উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সেক্ষেত্রে মোটাদাগে ফিনালিসিমার
ভাগ্য হতে পারে তিনটি। প্রথমত স্পেনের দাবি মেনে নিয়ে তাদের মাঠে খেলতে রাজি হওয়া আর্জেন্টিনার।
নাহলে নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজন করা। আর সবশেষ দুই লেগের ম্যাচ হওয়া। আর
সবশেষ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে দুঃসংবাদ হতে পারে—লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের
সম্ভাব্য দ্বৈরথের সাক্ষী হতে না পারা, অর্থাৎ ম্যাচটিই শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যাওয়া।

প্রিমিয়ার লিগে কাল অ্যানফিল্ডে
দেখা হবে লিভারপুল ও টটেনহাম হটস্পারের। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বড় দুশ্চিন্তায়
পড়েছে দুই দলই। চোট, অসুস্থতা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দলের মিলিয়ে প্রায় ১৯ খেলোয়াড়ের
মাঠে নামা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস
লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ৫–২ গোলে হারের পর কঠিন সময় পার করছে টটেনহাম।
লিগের পয়েন্ট তালিকায় দলটি এখন ষোড়শ স্থানে। অবনমন অঞ্চলের ঠিক ওপরে থাকা টটেনহামের
হাতে বাকি আছে আর নয়টি ম্যাচ। ফলে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য
বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টটেনহামের দায়িত্বপ্রাপ্ত
কোচ ইগর টিউডর জানিয়েছেন, দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এই ম্যাচে থাকছেন না। মাঝ
সপ্তাহের ম্যাচে সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পাওয়ায় ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও জোয়াও পালিনিয়ার খেলতে
না পারা প্রায় নিশ্চিত। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এখন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে
ডিফেন্ডার মিকি ফন দে ফেন খেলতে পারবেন না। মাঝমাঠের খেলোয়াড় ইভ বিসুমারও চোট রয়েছে
বলে জানিয়েছেন টিউডর। নতুন যোগ দেওয়া কনর গ্যালাঘার জ্বরে ভুগছেন। তবে ম্যাচের আগে
তার সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করছে দলটি।
টিউডর বলেন, ফান ডে ফেন
খেলতে পারবে না। বিসুমার সমস্যা আছে এবং গ্যালাঘারের জ্বর হয়েছে। আমরা আশা করছি সে
ঠিক হয়ে যাবে। প্রায়ই কোনো না কোনো সমস্যা হচ্ছে। আমার কোচিং জীবনে এমন পরিস্থিতি খুব
কমই দেখেছি।
টটেনহামের আরও বেশ কয়েকজন
খেলোয়াড় বিভিন্ন চোটের কারণে দলে নেই। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেমস ম্যাডিসন, দেজান কুলুসেভস্কি,
রদ্রিগো বেনতানকুর, মোহাম্মদ কুদুস, উইলসন ওদোবার, ডেসটিনি উদোগি, বেন ডেভিস ও লুকাস
বের্গভাল।
অন্যদিকে মৌসুমজুড়েই চোট
সমস্যায় ভুগছে লিভারপুলও। গোলরক্ষক আলিসন বেকারের খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। পেশির চোটের
কারণে গত সপ্তাহে তুরস্কে গালাতাসারায়ের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি।
লিভারপুলের কোচ আর্নে স্লট
জানিয়েছেন, আলিসন এখন পর্যন্ত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন।
তবে ম্যাচের আগে তিনি অনুশীলনে ফিরতে পারেন বলে আশা করছেন।
স্লট বলেন, আলিসন এখন পর্যন্ত
পুনর্বাসন কার্যক্রমে ছিলেন। আজ অনুশীলন আছে। দেখা যাক সে দলে যোগ দিতে পারে কি না।
আমি আশা করছি সে ফিরবে, তবে এখনো শতভাগ নিশ্চিত নই।
লিভারপুল শিবিরেও আরও কয়েকজন
খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকতে পারেন। কনর ব্র্যাডলি, ওয়াতারু এন্দো ও জিওভান্নি লেওনি পুরো
মৌসুমেই আর খেলতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর ডিসেম্বরে পায়ের হাড় ভাঙা ও গোঁড়ালির
চোটে পড়া আলেক্সান্ডার ইসাক এখনো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
এদিকে অসুস্থতার কারণে
মাঝ সপ্তাহে খেলতে না পারা ইতালির ফরোয়ার্ড ফেদেরিকো কিয়েসা আবার অনুশীলনে ফিরতে পারেন
বলে আশা করা হচ্ছে। কোচ স্লট জানিয়েছেন, ম্যাচের আগের দিন অসুস্থ থাকলেও কয়েক দিন পেরিয়ে
যাওয়ায় এখন তার অবস্থা ভালো হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ
এই ম্যাচের আগে দুই দলেই অনিশ্চয়তা রয়েছে। চোট ও অনুপস্থিতির কারণে দুই দলের সম্ভাব্য
একাদশেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফিনালিসিমা
শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে কি না, সে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না
হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচটি আদৌ হবে কি না,
তা নিশ্চিত না হয়েই তাঁকে দল প্রস্তুত করা ও খেলোয়াড় বাছাইয়ের কাজ এগিয়ে নিতে হচ্ছে।
আগামী বিশ্বকাপের আগে শক্তিশালী
প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবেই এই ম্যাচটিকে গুরুত্বপূর্ণ
মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় এখন সেটি অনিশ্চিত
হয়ে পড়েছে।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে
ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবু সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের একটি প্রাথমিক তালিকা ইতিমধ্যে প্রস্তুত
করেছেন স্কালোনি। সেই তালিকার খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে ম্যাচটি
শেষ পর্যন্ত না হলে বিকল্প হিসেবে দ্রুত প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা
করছেন তিনি।
এই ম্যাচটি শুধু শিরোপা
জয়ের সুযোগই নয়, বিশ্বকাপের আগে শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের
সুযোগও এনে দিত আর্জেন্টিনাকে। ফলে ম্যাচটি বাতিল হলে সেটি দলের প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব
ফেলতে পারে।
এর আগে ফিফা নির্ধারিত
সময়সূচিতে আর্জেন্টিনার কাতারের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচও থাকার কথা ছিল। কিন্তু
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সেই ম্যাচটি আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফিনালিসিমা আয়োজনের বিষয়ে
এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইউরোপীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষ স্পেনে ম্যাচ আয়োজন করতে চাইলেও
আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা এবং দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা সেই প্রস্তাব মানতে রাজি
নয়।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার
রাতে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থার
সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিঙ্গেস বৈঠক করেন। পরে শুক্রবার ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে
ভিডিও বৈঠকেও তারা স্পষ্ট করে জানান, স্পেনের মাটিতে ম্যাচ আয়োজন তারা মেনে নেবেন না।
এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
শনিবার দুপুর পর্যন্ত গড়িয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপীয় পক্ষ
যদি নিরপেক্ষ ভেন্যুর প্রস্তাব দেয়, তবে ম্যাচটি আয়োজন করা সম্ভব হতে পারে। আর তারা
যদি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে ম্যাচটি স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এ অবস্থায় অপেক্ষায় রয়েছেন
স্কালোনি। খুব বেশি উদ্বিগ্ন না হলেও বিশ্বকাপ সামনে রেখে শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে
খেলার সুযোগ হারানোর আশঙ্কা তাঁকে ভাবাচ্ছে। কারণ শিরোপা রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপে
নামার আগে ভালো প্রস্তুতির বিকল্প নেই।
এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। গতকাল তারা হারায় উত্তর কোরিয়াকে। আজ শেষ আটের আরেক ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ২-০ গোলে হারিয়েছে চীন। শেষ চারে উঠে চীন পেয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে।
পার্থের রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে আজ চীনকে মোকাবিলা করে চাইনিজ তাইপে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৩ ধাপ এগিয়ে থাকা চীনের বিপক্ষে শুরু থেকেই ভালোই জবাব দেয় চাইনিজ তাইপের মেয়েরা। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আটকে রাখে তাদের।
নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৫ মিনিটে শাও জিকিনের গোলে এগিয়ে যায় চীন। বাকি সময়ে চেষ্টা করেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি চাইনিজ তাইপে। উল্টো ১১৮ মিনিটের মাথায় চেন ইংহুইয়ের আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে পুরোপুরি ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় চাইনিজ তাইপে।
প্রতিযোগিতায় ‘বি’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানকে হারিয়ে শেষ আটে নাম লেখায় চীন। আর ‘সি’ গ্রুপ থেকে জাপানের কাছে হারলেও ভারত ও ভিয়েতনামকে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে চাইনিজ তাইপে। যদিও আজ চীনের কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হলো তাদের।