২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম

ইংল্যান্ডের
বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এফএ কাপের সেমি-ফাইনালে কাল মুখোমুখি হচ্ছে ম্যানচেস্টার
সিটি ও সাউদাম্পটন। পরের সপ্তাহে একই মাঠে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে লিডস ও চেলসি।
ওয়েম্বলিতে দুটি সেমি-ফাইনাল ম্যাচের আগে বিবিসিতে কলাম লিখেছেন ওয়েলসের সাবেক ফুটবলার
ও সর্বশেষ ২০২০ সালে শেফিল্ড ওয়েডনেসডের কোচ হিসেবে কাজ করা অ্যান্থনি রিচার্ড পুলিস।
কোচিং ক্যারিয়ার সেখানেই ইতি টানেন তিনি। সিনিয়র ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন ৩২৬
ম্যাচ। কোচ হিসেবে ৮৬ বছর বয়সি পুলিস দাঁড়িয়েছেন এএফসি বোর্নমাউথ, ক্রিস্টাল প্যালেস,
স্টোক সিটি, সাউদাম্পটন, গিলিংহাম, ব্রিস্টল সিটির মতো ক্লাবের ডাগ-আউটে।
শুধুমাত্র
কোচদের জন্যই ওয়েম্বলিতে যাওয়া বিশেষ কিছু নয়; খেলোয়াড়, সমর্থক এবং ক্লাবের প্রতিটি
কর্মীর কাছেও এটি এখনো সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সেমি-ফাইনাল
ম্যাচগুলো কোথায় হওয়া উচিত তা নিয়ে সবসময়ই বিতর্ক থাকে। তবে আমি জানি এবার সেখানে থাকাটা
সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের জন্য কতটা অর্থবহ হবে। সেটি আইকনিক ‘টুইন টাওয়ার’
হোক বা বর্তমানের বিখ্যাত ‘আর্চ’ —খেলোয়াড় হিসেবে এবং পরে ম্যানেজার হিসেবেও
ওয়েম্বলি ছিল আমার স্বপ্নের গন্তব্য। সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই এটি একটি জাদুকরী জায়গা।
১৯৯৯
সালে যখন আমি গিলিংহামকে নিয়ে ডিভিশন টু'র প্লে-অফ ফাইনালে উঠি, তখন যেন পুরো শহরটাই
সেখানে হাজির হয়েছিল। তবে সেটি ছিল পুরনো ওয়েম্বলি, যা তখন প্রায় জরাজীর্ণ। মনে আছে,
টাচলাইনের পাশে আমি এবং আমার স্টাফরা স্রেফ দুটো পুরনো কাঠের বেঞ্চে বসে ছিলাম।
পরবর্তীতে
২০১১ সালে যখন স্টোক সিটির কোচ হয়ে এফএ কাপের সেমি-ফাইনালে ফিরে আসি, তখন এটি সম্পূর্ণ
বদলে গিয়ে এক আধুনিক অ্যারেনায় পরিণত হয়েছে। তবে সেখানে পৌঁছানোর আনন্দ আমাদের ভক্তদের
ওপর এবং আমার ওপর আগের মতোই প্রভাব ফেলেছিল।
আমি
বরাবরই একটু ঐতিহ্যবাদী। ভিলা পার্ক, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ, হাইবারি বা ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের
মতো মাঠগুলোতে এফএ কাপের সেমি-ফাইনাল দেখতে আমার দারুণ লাগত। প্রতিটি ক্লাবের সমর্থকদের
জন্য যখন আলাদা সেকশন করে দেওয়া হতো, তখন ওই মাঠগুলোতে এক অভাবনীয় পরিবেশ তৈরি হতো।
ওয়েলসে
বেড়ে উঠা হিসেবে আমি আরও যোগ করব, ওয়েম্বলি পুনর্নির্মাণের সময় মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামে
যখন সেমি-ফাইনাল বা ফাইনাল হতো, সেখানেও একই আমেজ পাওয়া যেত। তবে খেলোয়াড় বা কোচ হিসেবে
আমার ৩৪তম প্রচেষ্টায় যখন অবশেষে সেমি-ফাইনালে পৌঁছলাম, তখন ওয়েম্বলিকে দেখে কোনো অভিযোগ
করার সুযোগ ছিল না। আমাদের ভক্তদের অনুভূতিও ছিল একই। সেমি-ফাইনাল সপ্তাহ যত এগিয়ে
আসছিল, এফএ কাপের সেই মোহময় জাদু আমি পরতে পরতে অনুভব করছিলাম।
গর্ডন
ব্যাঙ্কসের এক উদ্দীপনাময় ভাষণ
ক্লাবে
কাটানো বছরগুলোতে আমি সবসময়ই স্টোকের পুরনো তারকাদের বৃহস্পতিবারের ট্রেনিং দেখার জন্য
এবং পরে খেলোয়াড়দের সাথে দুপুরের খাবারে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানাতাম। কোয়ার্টার ফাইনালে
ওয়েস্ট হ্যামকে হারিয়ে ওয়েম্বলি নিশ্চিত করার আগের সপ্তাহে আমি স্টোক কিংবদন্তি এবং
বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার গর্ডন ব্যাঙ্কসকে একটি ভাষণ দিতে অনুরোধ করেছিলাম।
তিনি
সানন্দে রাজি হন এবং একটি উদ্দীপনাময় বক্তৃতা দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘খেলোয়াড়রা যদি
ওয়েম্বলিতে যেতে পারে তবে তা তাদের জন্য অসাধারণ হবে।’
কারণ তিনি জানতেন আমাদের অনেক খেলোয়াড়ই আগে কখনো সেখানে খেলেনি। ১৯৭২ সালের পর স্টোক
সিটি মাত্র তিনবার ওয়েম্বলিতে গিয়েছিল (১৯৯২, ২০০০ এবং ২০১১)। গর্ডন আরও বলেছিলেন,
তরুণ-বৃদ্ধ সব সমর্থকের জন্য ‘হোম অফ ফুটবল’-এ যাওয়াটা কতটা গর্বের হবে।
তাঁর
কথাই ঠিক ছিল। আমাদের জন্য বরাদ্দ করা সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল, মাইলের পর মাইল
লাইন পড়েছিল। পুরো শহর জুড়ে সবার হাসিমুখ দেখাটা ছিল এক অসাধারণ অনুভূতি। ম্যাচের দিনও
দৃশ্যটা ছিল একই রকম। যারা বোল্টনের বিপক্ষে আমাদের সেই সেমি-ফাইনাল জয়ে ওয়েম্বলিতে
উপস্থিত ছিলেন, তারা আমাদের সমর্থকদের সেই গগনবিদারী চিৎকার কোনোদিন ভুলবেন না। আমাদের
সেই জয়ে তাদের বড় ভূমিকা ছিল।
ম্যাচের
আগের পুরো সপ্তাহটি আমি সাধারণ সপ্তাহের মতোই রেখেছিলাম, শুধু বুধবার বাদে। ওইদিন সকালে
ছেলেরা স্টেশনে জড়ো হয় এবং আমরা ট্রেনে করে ইউস্টনে যাই। সেখান থেকে বাসে করে সোজা
ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম। আমরা কেবল বাস নিয়ে ভেতরেই যাইনি, বরং পিচে একটু হেঁটেও দেখেছিলাম।
আমি চেয়েছিলাম তারা (খেলোয়াড়) মাঠটা অনুভব করুক, কারণ আমাদের অধিকাংশ খেলোয়াড় আগে কখনো
এই স্টেডিয়ামে পা রাখেনি। মনে হয়েছিল এটি জরুরি ছিল এবং খেলোয়াড়রা এর সুফল পেয়েছিল।
দিন শেষে আমরা একটি স্থানীয় ইতালিয়ান রেস্তোরাঁয় ডিনার করে বাড়ি ফিরি। আমার মনে হয়েছিল
আমরা সেমি-ফাইনালের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত, আর বড় দিনে ভাগ্যও আমাদের সহায় ছিল।
‘টিম-টকের কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল’
আমি
আগেও বলেছি, কাপের লড়াইয়ে টিকে থাকতে কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়াও লাগে। আমরা সেটা পেয়েছিলাম,
কারণ প্রথম চার রাউন্ডের মধ্যে কেবল উলভসের বিপক্ষে আমাদের অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে হয়েছিল।
সেমি-ফাইনালের ড্রতেও সেই ভাগ্য সঙ্গে ছিল। ড্রয়ের তালিকায় অন্য তিন দল ছিল ম্যানচেস্টারের
দুই জায়ান্ট (ইউনাইটেড ও সিটি) এবং বোল্টন। আমি নিশ্চিত ছিলাম আমাদের বা বোল্টনকে ম্যানচেস্টারের
কোনো এক দলের মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল, স্টোকের সবাই বোল্টনকে
পেয়ে খুশি ছিল। আমি নিশ্চিত বোল্টনও আমাদের পেয়ে একইভাবে খুশি হয়েছিল!
একটি
গল্প আমি আগে অনেকবার বলেছি, আবারও বলছি- আমার অধিনায়ক রায়ান শক্রস জিজ্ঞেস করেছিল
সেমি-ফাইনালের জন্য ছেলেদের নতুন স্যুট দেওয়া হবে কি না। আমি তাঁকে পরিষ্কার করে বলে
দিই যে এটি সেমি-ফাইনাল, ফাইনাল নয়। ফাইনালে উঠলে তবেই স্যুটের কথা ভাবা যাবে।
ম্যাচের
দিন আমরা স্রেফ ট্র্যাকসুট পরে হাজির হই। যখন দেখলাম বোল্টন স্কোয়াড স্যুট পরে এবং
পকেটে ফুল লাগিয়ে মাঠে নামছে, আমি আমার সহকারী ডেভ কেম্পের দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘আমার
টিম-টক (খেলোয়াড়দের উদ্দীপ্ত করার ভাষণ) হয়ে গেছে!’ ওই দৃশ্যটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট
ছিল। আমরা ম্যাচটি ৫-০ গোলে জিতি এবং সেদিন যারা খেলেছিল তারা সবাই কৃতিত্বের দাবিদার।
ওটা ছিল এক অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স।
সেটি
আমাদের জন্য, আমাদের পরিবার এবং সমর্থকদের জন্য এক দারুণ দিন ছিল। আজও ৫০,০০০ স্টোক
সমর্থকের কণ্ঠে গাওয়া ‘Delilah’ গানটির কথা সবার মনে আছে। তবে দিনটির কথা ভাবলে সবার
আগে কোটস পরিবারের কথা মনে পড়ে। ক্লাবের প্রতি তাদের ভালোবাসা অগাধ এবং তারা ক্লাব
ও স্থানীয় কমিউনিটির পেছনে প্রচুর বিনিয়োগ করেছেন।
‘ফাইনালে ওঠা এক গর্বের মুহূর্ত’
সপ্তাহান্তের
বিজয়ীদের পুরস্কার হলো আগামী মাসে আবারও এই মাঠে ফেরার সুযোগ। বোল্টনকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের
প্রথম এফএ কাপ ফাইনালে ওঠা আমার ব্যক্তিগত জীবনের এক বিশাল প্রাপ্তি ছিল।
১৯৬০-এর
দশকের শুরুতে দক্ষিণ ওয়েলসে বেড়ে ওঠার সময় কেবল এফএ কাপ ফাইনাল, ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনাল
আর বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোই আমরা টিভিতে সরাসরি দেখতে পেতাম। ১৯৬৬ সালে পশ্চিম জার্মানির
বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয়ের কথা আমার মনে আছে, যদিও তখন আমার বয়স মাত্র আট। পরের বছর
টটেনহ্যাম ও চেলসির মধ্যকার ফাইনালটি আমার বিশেষভাবে মনে আছে। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের
সাদা-কালো টিভিতে চেলসির নীল আর স্পার্সের সাদা রঙের মধ্যে আমি কোনো পার্থক্যই করতে
পারছিলাম না!
সেই
দিনগুলোতে এফএ কাপের মর্যাদা এতটাই ছিল যে, সেসব স্মৃতি আজও আমাকে আপ্লুত করে। নিউপোর্টে
ছোটবেলায় ফাইনালের দিন সকালে আমরা ২০-২৫ জন বন্ধু মিলে ডক ফিল্ডে খেলতে যেতাম। কোনো
জার্সি ছিল না, গোলপোস্ট ছিল না, এমনকি রেফারিও ছিল না। ক্রিকেট মৌসুম হওয়ায় আমরা কোট
খুলে গোলপোস্ট বানিয়ে নিতাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দৌড়াতাম, অথচ কেউ জানতাম না কে কোন দলে
খেলছি বা ফাউল হলো কি না!
আমাদের
কাছে কোনো ঘড়ি ছিল না, তবুও এফএ কাপ ফাইনালের আগে ঠিক সময়মতো আমরা খেলা থামিয়ে টিভির
সামনে বসে পড়তাম। ম্যাচ শেষে চ্যাম্পিয়নরা ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর আমরা আবার মাঠে ছুটতাম,
সবেমাত্র দেখা গোলগুলো হুবহু নকল করার চেষ্টা করতাম। আমি নিশ্চিত, সেই সময় পুরো দেশজুড়ে
হাজার হাজার শিশু ঠিক এই কাজটাই করত। আলো কমে না আসা পর্যন্ত আমাদের খেলা চলত।
বছরের
পর বছর এই ধারা চলেছে। এমনকি যখন টিভি চ্যানেলগুলো সকাল থেকে খেলোয়াড়দের হোটেল বা তাদের
স্ত্রীদের পোশাক নিয়ে লাইভ কভারেজ শুরু করল, তখনও আমাদের মাঠের সেই ‘কাপ ফাইনাল’
থামেনি। তাই যখন বাস্তবে সত্যি সত্যিই একটি ফাইনালের অংশ হলাম, তখন মনে হচ্ছিল যেন
শৈশবের স্বপ্ন পূরণ হলো।
২০১১
সালের ফাইনালে যখন ওয়েম্বলিতে পা রাখলাম, তখন আমার আজীবনের স্বপ্ন সত্যি হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত
আমরা শক্তিশালী ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ১-০ গোলে হেরে যাই। কিন্তু সেই হার এফএ কাপের
জাদুকে বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারেনি।
আবার এই মাঠে দুটি সেমি-ফাইনাল ম্যাচ দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
No posts available.
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৬:১৭ পিএম
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪২ পিএম

চাকরির চার মাসের মাথায় চেলসি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন লিয়াম রসেনিয়র। ছয় বছরের চুক্তি থাকলেও ইংলিশ কোচের সঙ্গে পথচলা অল্পতেই থেমেছে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবের। রসেনিয়রের বিদায়ের পর সমর্থকদের প্রত্যাশা হোসে মরিনহোকে পুনরায় ফেরানো হোক চেলসিতে।
ভক্তদের দাবি তীব্র হলেও চেলসি কর্তৃপক্ষ তাতে সায় দিচ্ছে না। পর্তুগিজ এই কিংবদন্তি বর্তমানে বেনফিকাতে দারুণ সময় পার করলেও তার তৃতীয় দফায় ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ক্লাব সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বোর্ড বর্তমানে অন্য প্রার্থীদের বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
চেলসি এই মুহূর্তে নজর দিয়েছে বোর্নমাউথের আন্দোনি ইরাওলা কিংবা ফুলহামের মার্কো সিলভার মতো তরুণ এবং ট্যাকটিক্যাল প্রোফাইলের কোচের দিকে। ক্লাবের সাথে মরিনিয়োর সম্পর্ক ভালো থাকলেও বর্তমান মালিকপক্ষ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভিন্ন ধাঁচের কোচ খুঁজছে।
চেলসির বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্রিটিশ ক্রীড়া সাংবাদিক বেন জ্যাকবস ‘গিভ মি স্পোর্টস’-কে বলেন,
‘চেলসি সবসময়ই মরিনিয়োর ফেরার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছে। তাকে ফেরাতে হলে বোর্ডের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে হবে। গুঞ্জন রয়েছে, বিশ্বকাপের পর তিনি পর্তুগাল জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে পারেন।’
২০০৪ থেকে ২০০৭— এই সময়ে প্রথমবার চেলসির দায়িত্ব নেন মরিনিয়ো। তখন ১৮৫ ম্যাচে ১২৪টি জয় এবং দুটি লিগ শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। এরপর ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বার ফিরে এসে তৃতীয় প্রিমিয়ার লিগ ও লিগ কাপ জেতেন মরিনিয়ো। সম্প্রতি বেনফিকার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফিরলেও, ক্লাব সূত্র জানাচ্ছে তারা বর্তমানে ব্লু-কো-এর নিয়োগ কৌশলের সাথে মানানসই আধুনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোচ খুঁজছে।
মৌসুমের বাকি সময়টুকুতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে চেলসিতে দায়িত্ব পালন করবেন ক্যালাম ম্যাকফারলেন। এই সময়ে বেহদাদ ইঘবালি এবং স্পোর্টিং ডিরেক্টররা পরবর্তী স্থায়ী কোচ চূড়ান্ত করবেন।

বিশ্বকাপের বাঁশি বাজতে বাকি আর মাত্র ৪৮ দিন। মেক্সিকো, কানাডা আর যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ-বাতাসে যখন ফুটবলের উন্মাদনা বাজার কথা, তখন বড় দলগুলোর ড্রেসিংরুমে ভর করেছে এক অজানা আতঙ্ক। যার নাম ‘ইনজুরি’। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই যেন এক অঘোষিত লড়াই শুরু হয়ে গেছে ডাক্তার আর ফিজিওথেরাপিস্টদের রুমে। কারো স্বপ্ন ছিঁড়ে গেছে এক মুহূর্তের চোটে, আবার কেউবা মাঠের লড়াইয়ে ফিরতে লড়ছেন সময়ের সঙ্গে।
আর্জেন্টিনায় দুশ্চিন্তার মেঘ
আর্জেন্টিনার ডেরায় এখন সবথেকে বড় দুশ্চিন্তার নাম ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। টটেনহামের হয়ে খেলার সময় লিগামেন্টের চোটে পড়া এই রক্ষণপ্রহরীকে নিয়ে ঘুমই হয়তোবা হারাম লিওনেল স্কালোনির! সুস্থ হতে সময় লাগবে পাঁচ থেকে সাত সপ্তাহ। অর্থাৎ বিশ্বকাপে তিনি যদি চলেও যান, তবে মাঠে নামবেন কোনো প্রকার ম্যাচ অনুশীলন ছাড়াই। স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজের অবস্থাও খুব একটা সুবিধার নয়। রোমার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফেরার আভাস দিলেও পুরনো চোট আবারও মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে ইন্টার মিলান তারকাকে।
বড় ধাক্কাটা এসেছে হুয়ান ফয়েথ ও তরুণ হোয়াকিন পানিচেল্লির ক্ষেত্রে। একজনের ছিঁড়েছে অ্যাকিলিস টেন্ডন, অন্যজনের হাঁটুর লিগামেন্ট। তাঁদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন এবারের মতো শেষ, তা নিশ্চিত হয়ে গেছে অনেক আগেই।
নেইমারদের দেশে হায়-হুতাশের রোল
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য খবরটা মোটেও সুখকর নয়। চেলসির হয়ে খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়ে অনিশ্চয়তার মুখে তরুণ তুর্কি এস্তেভাও। ওদিকে রদ্রিগোর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় কার্লো আনচেলত্তির কৌশলই যেন বড় ধাক্কা খেল। দলের রক্ষণভাগের বড় ভরসা এদের মিলিতাও পেশির চোটে ধুঁকছেন, যা সেলেসাওদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে।
ইউরোপীয় জায়ান্টদের হাহাকার
চোটের এই মহামারি থেকে রক্ষা পায়নি ইউরোপের দলগুলোও। জার্মানির সার্জ গ্যানাব্রির বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে অ্যাডাক্টর পেশি ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে। ফ্রান্সের তরুণ তুর্কি হুগো একিতিকের অ্যাকিলিস টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়া মানে এমবাপেদের আক্রমণভাগের এক শক্তির বিদায়।
স্পেনের বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালও ভুগছেন হ্যামস্ট্রিং সমস্যায়। তিনি বিশ্বকাপে ফিরলেও সেই চিরচেনা ক্ষিপ্রতা দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে স্প্যানিশ হচ্ছে আলোচনা। তুরস্কের আশা-ভরসার প্রতীক আর্দা গুলারের পেশির চোটও তাঁকে ঠেলে দিয়েছে খাদের কিনারায়।

বায়ার্ন মিউনিখ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে বাজারে প্রচলিত গুঞ্জন ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর ক্রিস্টোফ ফ্রয়েন্ড।
শুক্রবার সকালে জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘ম্যুনখেনার আবন্দৎসাইতুং’ এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত বায়ার্নের সাথে নতুন চুক্তি সম্পন্ন করেছেন নয়্যার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী মৌসুমে ৪০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি গোলরক্ষক তরুণ ইয়োনাস উরবিগের সাথে পর্যায়ক্রমে গোলপোস্ট সামলাবেন।
এমন সংবাদের পর ফ্রয়েন্ড বলেন, ‘এই প্রথম এমন কথা শুনলাম আমি। অনেক সময় দেখা যায় আমাদের চেয়ে সংবাদমাধ্যমই বেশি জানে। এ ধরনের কোনো আলোচনা এখনও হয়নি, তাই খবরটি কোথা থেকে এলো তা নিয়ে আমি বিস্মিত।’ তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, নয়্যারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাবের সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
পেশির চোট কাটিয়ে ফেরার পর নয়্যার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন। ডিএফবি-পোকালের সেমিফাইনালেও তার গোলপোস্ট সামলানোর দক্ষতা ছিল দেখার মতো। নিজের অবসর বা ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়্যার বলেন, ‘আমি এখনই কোনো ঘোষণা দিচ্ছি না, তবে বর্তমানে সবকিছু ইতিবাচক মনে হচ্ছে।’
‘স্পোর্ট বিল্ড’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, নয়্যার যদি অবসরের সিদ্ধান্ত নেন, তবে বায়ার্ন বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অভিজ্ঞ কাউকে দলে নিতে চায়। সেক্ষেত্রে হামবুর্গ এসভি-র ড্যানিয়েল হয়ার ফার্নান্দেসের নাম শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ধারে খেলা আলেকজান্ডার নুবেল এবং ড্যানিয়েল পেরেটজকে ক্লাবটি বিক্রি করে দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

গ্যালারিতে তখনও আড়মোড়া ভেঙে বসে উঠতে পারেননি দর্শকেরা। এদিকে কিক অফের পর আচমকাই কাঁপলো ফর্টিস এফসির জাল। এগিয়ে গেল আবাহনী। দাঁতে দাঁত কামড়ে সেই গোলের লিড ধরে মাঠ ছাড়লো মারুফুল হকের দল। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) শিরোপা রেসে ফর্টিসকে টপকে এগিয়ে গেল ধানমন্ডিপাড়ার ক্লাবটি।
শুক্রবার কুমিল্লার ভাষা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফর্টিসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আবাহনী। লিগের অনেকটা সময় পর্যন্ত শিরোপা রেসে বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে রাখা হয়েছিল ফর্টিসকে। কিন্তু ১৪তম রাউন্ডে এসে পিছিয়ে গেল তারা। আর ১৪ খেলায় ৮ জয়, চার ড্র এবং দুই হারে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের ছুঁয়ে ফেললো আবাহনী। কিংস অবশ্য এক ম্যাচ কম খেলেছে। ঘরের মাঠে কাল ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারাতে পারলে এককভাবে শীর্ষস্থান দখলে নেবে ফেডারেশন কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ২৫ পয়েন্ট নিয়ে এই তালিকার তিনে ফর্টিস।
এদিন ম্যাচের সময় তখন ৩৩ সেকেন্ড। কিক অফের পর প্রথম আক্রমণেই গোল পেয়ে যায় আবাহনী। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা মিরাজুল ইসলাম বক্সে ক্রস বাড়িয়েছিলেন। শটে খুব একটা গতিও ছিল না। তা রুখে দিতে গোলকিপার সুজন পেরেইরাও ছিলেন বলের লাইনে, কিন্তু হঠাৎই তালগোল পাকিয়ে বসেন মিঠু চৌধুরী। সুজনের সামনে দিয়ে ছুটে গিয়ে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বল তার পায়ে লেগে গড়িয়ে গড়িয়ে জালে জড়ায়।
পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে নিতে আবাহনী রক্ষণে চাপ দিতে থাকে ফর্টিস এফসি। সেরা সুযোগটি তারা তৈরি করে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৪২ মিনিটে বাইলাইনের একটু উপর থেকে দাওয়া টিশেরিংয়ের আড়াআড়ি ক্রস আটকাতে পারেননি মিতুল মারমা; বল চলে যায় গোলমুখে ফাঁকা থাকা ইসা জালোর কাছে, কিন্তু অভাবনীয়ভাবে হেডে ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন গাম্বিয়ান এই মিডফিল্ডার।
পরের মিনিটেই আবারও সমতায় ফেরার সুযোগ হারায় ফর্টিস। এবার বক্সের ভেতর থেকে নিজে শট না নিয়ে ইসা জালে বাড়ান বাঁ-দিকে ফাঁকায় থাকা ওনিয়েকাচি ওকাফোরককে, কিন্তু নাইজেরিয়ার এই ফরোয়ার্ডের শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লিগে অল্পের জন্য পোস্টে বাইরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি ফর্টিস। মিতুল মারমাও দারুণ ছিলেন পোস্টের নিচে। তাতে শুরুতে পাওয়া গোলের লিড ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে আকাশি-নীলরা।
দিনের অপর ম্যাচে মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ তপন স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটিকে ১-০ গোলে হারাল আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। এই জয়ে রেলিগেশন জোন থেকে বেরিয়ে গেলো আরামবাগের ক্লাবটি। ১৪ খেলায় তিন জয় চার ড্র এবং এবং ৭ হারে ১৩ পয়েন্ট শেখ জাহিদুর রহমানের দলের। তারা অবস্থান করছে তালিকার আটে। এক ম্যাচ কম খেলা এবং অবনমন অঞ্চলে থাকা পিডব্লিউডির পয়েণ্টও সমান ১৩। তবে গোলগড়ে এগিয়ে গেছে আরামবাগ। ১৯ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের চারে পুরান ঢাকার ক্লাব রহমতগঞ্জ।

দলবদল শুরু হওয়ার আগেই ঘরে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, তবে এবার সেই পালে হাওয়া দিলেন আর্জেন্টাইন এই রক্ষণপ্রহরী। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে প্রথমবার নিজ দেশের ক্লাব ফুটবলে ফিরতে পারেন তিনি। ক্লাব রিভার প্লেটের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন ওতামেন্দি।
টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাইয়েই দেখা যেতে পারে এই বড় চমক। রিভার প্লেট কেবল ওতামেন্দিতেই থমকে নেই, তার প্রমাণ মিলেছে আনহেল কোরেয়া আর মাউরো আরামবারির সঙ্গে তাদের আলোচনার খবরে। তবে ওতামেন্দির মতো একজন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারকে ঘরে ফেরানো হবে রিভারের জন্য বড় সাফল্যও।
৩৮ ছুঁইছুঁই ওতামেন্দি ভালো করেই জানেন, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। বিশ্বমঞ্চের লড়াই শেষে যখন বুট তুলে রাখার সময় ঘনিয়ে আসবে, তখনই তিনি ক্যারিয়ারের পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর দেবেন। রিভারের কোচ এদুয়ার্দো কুদেত অনেক আগে থেকেই এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে নিজের ডেরায় ভেড়াতে মুখিয়ে আছেন।
তবে রিভার প্লেটের পথে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া। ওতামেন্দির পুরনো ঠিকানা হওয়ায় তাদের প্রতিও একটা আলাদা টান থাকতে পারে এই ফুটবলারের। বিশাল অর্থের হাতছানি নিয়ে প্রস্তুত সৌদি আরবের ক্লাবগুলোও।
বেনফিকার হয়ে গত মৌসুমটা দারুণ কেটেছে ওতামেন্দির। হোসে মরিনিয়োর কোচিংয়ে ৪৬ ম্যাচে মাঠে নেমে সরাসরি ৭টি গোলে অবদান রেখেছেন, ঝুলিতে পুরেছেন পর্তুগিজ সুপার কাপ। বেনফিকার সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই জুনেই। রিভার প্লেট তাঁকে ফ্রি-ট্রান্সফারে বা বিনা মূল্যে দলে পাওয়ার সুযোগ পেলেও, তার আকাশচুম্বী বেতনের চাহিদা মেটানোই হবে ক্লাব কর্তৃপক্ষের আসল পরীক্ষা।
এখন প্রশ্ন একটাই—টাকার মোহ আর ইউরোপের আভিজাত্য ছেড়ে ওতামেন্দি কি তবে শৈশবের সেই চেনা আঙ্গিনাতেই ফিরছেন? উত্তরটা পেতে বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে ভক্তদের।