
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বসেরাদের মঞ্চে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে বিষয়টি নিয়ে কোনো পরোয়া করেন না বলে জানিয়েছেন সহ-আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত শনিবার থেকে ইরানে যৌথ সামরিক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরবর্তীতে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের মার্কিন ঘাটিতে ইরানের পাল্টা হামলার জেরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এমন অবস্থায় ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। এরপরই ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষায় মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন
| লজ্জার রেকর্ড গড়ে লিভারপুলের হার |
|
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) খেলল কি খেলল না, তাতে আমার সত্যিই কিছু যায় আসে না। আমার মনে হয় ইরান এখন একটি অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত দেশ। তারা এখন টিকে থাকার শেষ চেষ্টাটুকু করছে।’
গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে প্রথম শান্তি পুরস্কার প্রদান করেছিল ফিফা। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থাটি অবশ্য ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে শনিবার ফিফার সাধারণ সম্পাদক ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম এক বিবৃতিতে জানান, তাদের মূল লক্ষ্য সব দেশের অংশগ্রহণে একটি নিরাপদ বিশ্বকাপ আয়োজন করা।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে টানা চতুর্থবারের মতো খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরান। সূচি অনুযায়ী লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ মিশর।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩:২২ এম

চ্যাম্পিয়নস লিগ ১৫ বার এবং লা লিগা ৩৬ বার জয়ের রেকর্ড রিয়াল মাদ্রিদের। এই শতাব্দীতে মাত্র চারটি মৌসুমে (২০০৪-০৫, ২০০৫-০৬, ২০০৯-১০ এবং ২০২০-২১) তারা কোনো বড় ট্রফি জিততে পারেনি। এমনকি ২০২৪-২৫ মৌসুমে ক্লাবটি যখন লিগ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেনি, তখনও অন্তত উয়েফা সুপার কাপ বা ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের মতো ট্রফিগুলো তাদের ঘরে উঠেছে।
তবে এই মৌসুম ছিল রিয়াল মাদ্রিদের জন্য চরম ধারাবাহিকতাহীন। ক্লাবটি মৌসুম শুরু করেছিল কোচ জাবি আলোনসোর হাত ধরে। প্রথম ১০ ম্যাচের পর বার্সেলোনাকে হারিয়ে ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে লিগ টেবিলের শীর্ষে ছিল তারা। কিন্তু এরপরই টানা চার ম্যাচে জয়হীন থাকতে হয় তাদের। জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কাপে বার্সার কাছে হারলে আলোনসো পদত্যাগ করেন। এরপর দায়িত্ব নেন তারই সাবেক সতীর্থ আরবেলোয়া। তাঁর রিয়ালে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয় দ্বিতীয় বিভাগের দল আলবাসেতের কাছে কোপা দেল রে-তে হেরে।
সবকিছু মিলিয়ে জুড বেলিংহাম ভালো করেই জানতেন মিউনিখে কী ঘটতে যাচ্ছে। ম্যাচের আগে বেলিংহাম বলেছিলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগে যে কোনো হারই বিপর্যয়ের মতো। লিগের যে অবস্থা, তাতে আমাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচই ফাইনাল। আমরা স্রেফ ম্যাচ খেলে যেতে চাই না, বরং শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে চাই। মনে হচ্ছে যেন এই খেলার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে। আমাদের বিষয়টাকে সেভাবেই দেখতে হবে। এটা হয় সব পাবে, নয়তো কিছুই পাবে না— এমন একটা খেলা।’
বুধবার রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় এগিয়ে গিয়েও ৪-৩ ব্যবধানে ম্যাচ হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ৮৬ মিনিটে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। তখনও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে ম্যাচ তখন সমতায়। খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে, এমনই আভাস ছিল। কিন্তু ১০ জনের রিয়ালকে কোনঠাসা করে ফেলে বায়ার্ন। শেষ মুহূর্তে দুই গোল দিয়ে ম্যাচও জিতে নেয় তারা। দুই লেগে মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জেতে বাভারিয়ানরা।

বুধবার রাতে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-২ ব্যবধানে হেরেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এই পরাজয় তাদের রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি দ্বার করাচ্ছে। মৌসুমে কোনো ট্রফি জেতা এখন দূরের স্বপ্ন রিয়াল মাদ্রিদের জন্য।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার অসংযমী আচরণের পর রিয়াল মাদ্রিদকে দুঃস্বপ্নে ঠেলে দেয়। এগিয়ে থাকার পরও ফ্রান্স মিডফিল্ডারের রেড কার্ডের মাশুল দিতে হয় রিয়ালকে। ৮৬ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার দুই মিনিটের মাথায় বায়ার্নকে সমতায় ফেরান লুইস দিয়াস। যোগ করা সময়ে অতিথিদের আরও এক গোল দেয় তারা। দ্বিতীয় লেগ শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে হারে আলভারো আরবেলোয়ার দল।
ইউরোপে ট্রফি জেতার স্বপ্ন যখন শেষ রিয়ালের; লা লিগায় সেই ট্রফি জিততে আরও কঠিন এবং অবিশ্বাস্য কিছু ঘটতে হবে। লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা রিয়াল যদি বাকি ৭ ম্যাচে অবিশ্বাস্য কিছু করতে না পারে, তবে এই শতাব্দীতে পঞ্চমবারের মতো ট্রফিশূন্য মৌসুম পার করতে হবে তাদের।

একটা সময় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ মানেই ছিল অপ্রতিরোধ্য কিছু। জিনেদিন জিদান বা কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটির খেলোয়াড়রা অনেক কঠিন পরিস্থিতি জয় করেছে। জাবি আলোনসোকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল রিয়ালকে একটি নির্দিষ্ট কৌশলী ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য। কিন্তু তাঁর সেই অধ্যায় টিকে ছিল মাত্র ৭ মাস।
আলভারো আরবেলোয়া প্রথমে অন্তর্বর্তীকালীন এবং পরে স্থায়ী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন। কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে দল বিদায় নেওয়ায় এখন তাঁর ভবিষ্যৎ সুতোয় ঝুলছে। টিএনটি স্পোর্টসে সাবেক রিয়াল উইঙ্গার স্টিভ ম্যাকম্যানামান বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ আবারও শিরোপাহীন থাকতে যাচ্ছে। আরবেলোয়ার জন্য খারাপ লাগছে, তাঁর পরিকল্পনা দারুণ ছিল কিন্তু দু-একটি ভুল সব শেষ করে দিল।’
বুধবার রাতে ম্যাচ শেষে আরবেলোয়া কামাভিঙ্গার লাল কার্ডকে অন্যায্য দাবি করলেও হারের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হারের জন্য আমিই দায়ী এবং এর পরিণামও আমি ভোগ করব। আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। লিগে লড়াই এখনো কঠিন, আমাদের শেষ দিন পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে। আমরা খুবই হতাশ ও ক্ষুব্ধ।’
আরবেলোয়া নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট করেই বলেন যে, ট্রফিশূন্য মৌসুমের কারণে এর আগে মানুয়েল পেলেগ্রিনি বা জিদানের মতো কোচদের বিদায় নিতে হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ক্লাব যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, আমি তা মেনে নেব। আমি মনে-প্রাণে রিয়ালের মানুষ। নিজের চেয়ে এই ক্লাব আর সমর্থকদের আমি বেশি ভালোবাসি। কোচ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা আমার লক্ষ্য ছিল না, আমার লক্ষ্য ছিল ক্লাবকে সাহায্য করা। ক্লাব যা সিদ্ধান্ত নেবে আমি তাকে সম্মান জানাই।’
.jpeg)
চ্যাম্পিয়নস লিগে এক রোমাঞ্চকর রাত শেষ হলো। যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ-বায়ার্ন মিউনিখ এবং আর্সেনাল-স্পোর্টিং। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় প্রথম লেগের মতো ফিরতি লেগেও বাভারিয়ানদের কাছে পাত্তাই পায়নি ইউরোপের সফলতম দল রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের। অন্যদিকে, ভিন্ন মাঠে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের লড়াইয়ে নেমেছিল আর্সেনাল ও স্পোর্টিং।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে ফিরতি লেগে সুবিধা করতে পারেনি আর্সেনাল। প্রথম লেগে ১-০ গোলে জেতায় পরের ধাপে পৌঁছে গেছে মিকেল আরতেতার দল। তাতেই ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের চূড়ান্ত সূচি জানা গেছে।
প্রথম সেমিফাইনালে দিয়েগো সিমিওনের রক্ষণাত্মক কৌশলের আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে দারুণ ছন্দে থাকা আর্সেনাল। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দেখা যাবে এক ব্লকবাস্টার লড়াই; যেখানে ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজি লড়বে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনালের প্রথম লেগ। এরপর ৫ ও ৬ মে ফিরতি লেগের লড়াই শেষে নির্ধারণ হবে কারা খেলবে এবারের স্বপ্নের ফাইনালে।

১৯৭০-৭১ মৌসুমের পর কখনোই নিজেদের মাঠে নকআউট পর্বের প্রথম লেগ হেরে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জিততে হলে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের ফেরাতে হতো প্রায় ৫৬ বছর আগের স্মৃতি। তবে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার রাতটি ছিল কেবলই বাভারিয়ানদের। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ গোলে এগিয়ে আরও একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউসিএলের ফিরতি লেগে গোল বন্যা হয়েছে। ৫ গোলের পাগলাটে প্রথামার্ধে এগিয়ে ছিল রিয়াল। আর দ্বিতীয়ার্ধ ছিল বাভারিয়ানদের। এই অর্ধে মোট তিনটি গোল করেন কেইনরা।
ম্যাচ ঘড়ির মাত্র ৪৬ সেকেন্ডে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যানুয়েল নয়্যার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো বিড়ম্বনা বাড়ান। ফার্স্ট লেগের ম্যাচসেরা এই জার্মানি গোলকিপারের দূর্বল শট ২৫ গজ দূর থেকে জালে লক্ষ্যবেদ করেন আর্দা গুলের। তাতে মাদ্রিদ ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। আর দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ সমতায় ফেরে আলভারো আরবেলোয়ার দল!
বায়ার্ন শোধ নিতে বেশি সময় নেয়নি। প্রথম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর চতুর্থ মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন করে বাভারিয়ানরা। বাঁ পাশের কর্নার থেকে জশুয়া কিমিখের নেওয়া ডেলিভারিটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। পেনাল্টি বক্স তখন খেলোয়াড়দের ভিড়ে ঠাসা, আর বলের গতি এতই বেশি ছিল যে আন্দ্রি লুনিন কেবল ঠায় দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি। আলেকজান্ডার পাভলোভিচ গোললাইনের একদম কাছ থেকে আলতো হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন।
১৯তম মিনেটর ঘটনা চাইলেও ভুলতে পারবেন না কিলিয়ান এমবাপে। মিডফিল্ড থেকে ধেয়ে আসা একটি ক্রসের সূত্র ধরে বায়ার্নের হাই লাইন ডিফেন্স বেধ করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে ফিনিশিং শটের আগে গড়বড় করে ফেলেন। তার ডান পায়ের শট এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। লিগের সর্বোচ্চ গোলধারীর (১৪টি) সুযোগ ছিল দ্বিতীয় স্থানে থাকা হ্যারি কেইন থেকে দুরত্ব আরও বাড়াতে।
২৪তম মিনিটে জশুয়া কিমিখ আরও একটি দৃষ্টিনন্দন শট নেন। ডি বক্সের বাইর থেকে নেওয়া তার বুলেট গতির শট অবশ্য বিপদ বাড়াতে দেননি আন্দ্রে লুনিন। ফাঞ্চ করে বল বাইরে পাঠিয়ে দেন এই ইউক্রেন গোলকিপার।
২৮তম মিনিটে সেটপিস থেকে ফ্রি কিকে নয়্যারকে বোকা বানান গুলের। গুলের যেন একাই বায়ার্নকে স্তব্ধ করে দেওয়ার পণ করেছেন আজ। ম্যাচের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ডি-বক্সের বেশ বাইরে গুলেরকে ফাউল করে বসেন লাইমার। সেই সুযোগটিই কাজে লাগালেন এই তরুণ তুর্কি। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া তার ট্রেডমার্ক বাঁকানো ফ্রি-কিকটি বায়ার্নের রক্ষণ দেয়াল টপকে টপ-রাইট কর্নার দিয়ে জালে আছড়ে পড়ে। নয়্যারের তাকিয়ে দেখা ছাড়া ছিল না কোনো উপায়। এই চোখধাঁধানো গোলের সুবাদে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। আর দুই লেগ মিলিয়ে ফিরল ৩-৩ সমতায়।
আর্দা গুলেরের দ্বিতীয় গোলের পর যখন রিয়াল মাদ্রিদ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হ্যারি কেইন। দায়ো উপামেকানোর বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লুনেনকে পরাস্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরলেও, এগ্রিগেটে বায়ার্ন এখন ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
গোল কনসিভের পরের মিনিটে মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি এদার মিলিতাও। ব্রাজিল সেন্টারব্যাক টেনে ফেলে দেন কেইনকে। রেফারিও হলুদ কার্ড দেখাতে ভুল করেননি।
৪০তম মিনেট ভুলের প্রায়ঃশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপে। প্রথমবার ভুল করলেও এবার আর ভুল করেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড। বা প্রান্ত থেকে আক্রমণে ওঠে সতীর্থ ভিনিকে ক্রস দেন ভিনি। সে শট থেকে গোল আদায় করেন এমবাপে। লিগে এটি তার ১৫তম গোল। লা লিগায় জিরোনার বিপক্ষে মাথায় আঘাত পাওয়া ফরাসি ডিফেন্ডার মোটেও বুঝতে দিচ্ছেন না দূর্বলতা। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই শোধের নেশায় মরিয়া হয়ে ওয়ে বায়ার্ন। তবে রিয়ালের ইস্পাত-লৌহ ডিফেন্স ফাটল ধরাতে ব্যর্থ হচ্ছিল তারা। উল্টো ৫৪ মিনিটে সহজ গোল মিস করে বসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের ক্রস খুঁজে নেয় ফাঁকায় থাকা ব্রাজিল লেফটব্যাক। ভিনির নেওয়া বুলেট গতির ভলিটি জালে জড়ানোর ঠিক আগমুহূর্তে অতিমানবীয় ক্ষিপ্রতায় এক হাত দিয়ে তা রুখে দেন বায়ার্ন প্রাচীর ম্যানুয়েল ন্যয়ার। নিশ্চিত গোল হজম থেকে বায়ার্নকে রক্ষা করে ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
এ ঘটনার ঠিক ৮মিনিট পর ভিনি আরও একটি সহজ সুযোগ মিস করেন। ড্রিবলিং করে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড। তার সামনে ছিলেন কেমন নয়্যার। তবে ভিনির শট বারের বেশ বাইর দিয়ে চলে যায়।
৬৭ মিনিটে ওলিসের র্কাল শট রিয়ালের বারের কয়েক ইঞ্চি উপর দিয়ে চলে গেলে বেচে যায় রিয়াল। গুলেরের সঙ্গে ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে ছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে সেটপিস থেকে তার বাঁকানো শট শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
৮৫তম মিনিটে জটলা থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুর্বণ সুযোগ পায় বায়ার্ন। প্রথমে লুইস দিয়াস আক্রমণ শানান রিয়াল গোলবারে। সুবিধা করতে না পেরে তিনি বল পাঠান কেইনকে। কিন্তু ডিফেন্স বাঁধায় সুবিধা করতে পারেননি তিনি।
পরের মিনিটে দুঃস্বপ্ন নেমে আসে রিয়াল শিবিরে। কেইনকে ফাউল করে দ্বিতীয় কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। বদলি হিসেবে নামার পর ৭৬তম মিনিটে জামাল মুসিয়ালাকে ফাউল করে প্রথম কার্ড দেখেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। এরপর ৮৬তম মিনিটে কেইনকে।
৮৮তম মিনিটে সুযোগ বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগান দিয়াস। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বায়ার্ন ওয়ান টু ওয়ানে ব্যস্ত ছিল। দিয়াস ও মুসিয়ালার দুর্দান্ত রসায়নের পর ২০ গজ দূর থেকে এক চোখধাঁধানো শট নেন দিয়াস। মিলিতাওয়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করায় বলটি লুনিনের নাগালের বাইরে চলে যায় এবং টপ-রাইট কর্নার দিয়ে জালে জড়ায়। তাতে এগ্রিগেটে এখন ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে বায়ার্ন!”
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন ওলিসে। রিয়ালের সব প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দিলেন ফরাসি রাইট উইঙ্গার। ম্যাচের শেষ দিকে রিয়াল যখন মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে, ঠিক তখনই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মাদ্রিদের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন তিনি।
ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে অলিসের নেওয়া বাঁকানো শটটি গোলপোস্টের কোণা দিয়ে যখন জালে জড়ায়, তখন বার্নাব্যু জুড়ে শুধুই বায়ার্নের জয়গান। এই গোলের সুবাদে ৪-৩ ব্যবধানে জয় এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ এগ্রিগেটে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করল বায়ার্ন।
লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের আরেক ম্যাচে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনাল ও স্পোর্টিংয়ের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছে। প্রথম লেগে ১-০ গোলে জেতায় পরের ধাপে পৌঁছে গেছে আর্সেনাল।