১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২:০১ এম
.jpeg)
চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে দুই লেগ মিলিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদকে কখনোই হারাতে পারেনি বার্সেলোনা। কিন্তু মাদ্রিদের মেত্রোপলিটানোতে লামিন ইয়ামালরা যেন পণ করেই নেমেছেন। ইতিহাস নতুন করে লেখবার তাড়নায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পিছিয়ে থাকা বার্সেলোনা ফিরতি লেগের প্রথমার্ধ শেষে ২-১ গোলে (অ্যাগ্রিগেটে ৩-২) এগিয়ে।
মাদ্রিদের মেত্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ফিরতি লেগের কিক অফের ৩০ সেকেন্ডে জাত চেনান লামিন ইয়ামাল। আতলেতিকোর ডি-বক্সের দিকে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে যান স্পেন ফরোয়ার্ড। এরপর বুলেট গতির শট নেন এবং বলটি পোস্টের একদম কোণা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছিল। কিন্তু গোলকিপার হুয়ান মুসো হাত বাড়িয়ে কোনোমতে তা রুখে দেন।
ভক্তদের অবশ্য বেশিক্ষণ আফসোস করতে দেননি ইয়ামাল। চতুর্থ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ফেরান তোরেসের ক্রসের সূত্র ধরে আবারও আক্রমণে ওঠেন তিনি। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে মুসোকে বোকা বানিয়ে জালে বল পাঠান। লিগে এটি ইয়ামালের ষষ্ঠ গোল।
অষ্টম মিনিট শোধের উপলক্ষ্য পায় আতলেতিকো। তবে আদেমোলা লুকমানের বাঁ-পায়ের শটে ছিল না গতি। তার চেয়েও বড় হুলিয়ান আলভারেজের পাস পড়তে পারেননি নাইজেরিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
নবম মিনিটের আগে বার্সা আবারও আতলেতিকোর রক্ষণভাগ চিরে ভেতরে ঢুকে পড়ে। রক্ষণভাগের পেছন দিয়ে আসা বলটি তাড়া করছিলেন দানি ওলমো। গোলরক্ষক মুসো শুরুতে কিছুটা পিছলে গেলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে (ইন দ্য নিক অফ টাইম) নিজেকে সামলে নেন এবং ওলমোর চিপ করা শটটি (ডিনকড অ্যাটেম্পট) রুখে দেন দারুণ দক্ষতায়।
২৩তম মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। এবারের নায়ক ফেরান তোরেস। ওলমোর ক্রস থেকে বা পায়ের ঝলক দেখান স্পেন ফরোয়ার্ড। রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের মাঝে সামান্য ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ওলমো। এরপর দুর্দান্ত এক পাসে বল বাড়িয়ে দেন তোরেসের দিকে। যিনি তরতরিয়ে চলে যান পোস্টের কাছে। গোলপোস্ট থেকে কিছুটা কোণাকুণি অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও তোরেস নিখুঁতভাবে পায়ের জাদুতে বলটি বাঁক খেয়ে গোলরক্ষক মুসোকে পরাস্ত করে। মুহূর্তেই টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়ায় বল। তাতেই মেত্রোপলিটানো স্টেডিয়াম যেন নিস্তব্ধতায় জমে যায়।
আগের ম্যাচে লা লিগায় জোড়া গোল আদায় করা এই ফরোর্য়াড এবার সাফল্য পান চ্যাম্পিয়নস লিগে। লিগে এটি তার তৃতীয় গোল।
২৪তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বার্সেলোনার। লামিন ইয়ামালের ট্রাভেলা শট থেকে গোল পেয়েই যাচ্ছিলেন ফেরমিন লোপেজ। উল্টো বিপত্তি বাঁধে মুসোর পা সারাসরি তার মুখে আঘাত করলে। তখন ফেরমিনের নাক দিয়ে ঝরঝরিয়ে রক্ত পড়তে থাকে।
৩০তম মিনিটে এগিয়ে যায় আতলেতিকো। ডান প্রান্ত দিয়ে একাই বল দিয়ে আক্রমনে ওঠেন ইয়োরেন্তে। ডি-বক্সের ভেতর দারুণ বুদ্ধিমত্তার সাথে তিনি বল বাড়িয়ে দেন দ্রুত গতিতে ছুটে আসা লুকমানের দিকে। লুকমান অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষক গার্সিয়াকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় আতলেতিকো। শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইনে শেষ হয় প্রথামার্ধ।
No posts available.
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২১ পিএম

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে হেরে রিয়াল মাদ্রিদের সকল মনোযোগ এখন ফিরতি লেগে। মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় সেই মহারণের আগে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে তরুণ ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিওর অনুপস্থিতি।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফিরতি লেগের জন্য দলের সঙ্গে জার্মানিতে যেতে পারেননি আসেনসিও। পেটের সমস্যায় ভুগছেন তিনি। ফিরতি লেগে পাওয়া যাবে না স্প্যানিশ সেন্টারব্যাককে।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ম্যাচে স্কোয়াডে ছিলেন আসেনসিও। তবে ২৩ বছর বয়সী স্প্যানিশ সেন্টার-ব্যাককে মাঠে নামনি কোচ আলভারো আরবেলোয়া। ফিরতি লেগে একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়ে হয়েছিল। সেটাও গেল ভেস্তে।
গত শুক্রবার জিরোনার বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচটিতে পুরো সময় খেলেন আসেনসিও। ১-১ সমতায় শেষ হয়ে দুই দলের সেই লড়াই।
স্কোয়াডে না থাকলেও দলের সঙ্গে সফর করছেন অহেলিয়া চুয়ামেনি। প্রথম লেগে হলুদ কার্ড দেখা ফরাসি মিডফিল্ডার এই ম্যাচ খেলতে পারবেন না।
ইউরোপ সেরার মঞ্চে কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে বুধবার বায়ার্নের মাঠে খেলবে রিয়াল। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হেরে পিছিয়ে আছে প্রতিযোগিতাটির রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
ব্যবধানটা বড় নয়। ঘুরে দাঁড়িয়ে রিয়ালের পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে তাই প্রবলভাবেই। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্প্যানিশ জায়ান্টদের প্রত্যাবর্তনের নজির তো কম নেই।

চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল। তবে আর্নে স্লটের দল এবার কিছুটা কঠিন সমীকরণের সামনে। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজির কাছে ফার্স্ট লেগ ২-০ গোলে পিছিয়ে অলরেডরা।
প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) বিপক্ষে অবশ্য ফিরতি লেগে অ্যানফিল্ডে। তাতে স্বপ্ন বুনছেন অলরেড ভক্তরা। কারণ, অ্যানফিল্ডে যে কখন কখনও রূপকথার গল্প লেখা হয়, তা সবার জানা। পিএসজির বিপক্ষে পিছিয়ে থাকার পরও স্বপ্ন দেখতে ভুলছেন না ডমিনিক সোবোসলাই।
সেমিফাইনালের টিকিট কাটা—কাজটা পাহাড় ডিঙানোর মতো কঠিন হলেও আজ বাংলাদেশ সময় রাত একটার ম্যাচের আগে হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, দলের জন্য প্রয়োজনে মরে যেতেও প্রস্তুত তিনি।
সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে ঘরের মাঠে লিভারপুলকে পাড়ি দিতে হবে এক বিশাল পর্বত, জিততে হবে অন্তত ৩ গোলের ব্যবধানে। অন্যদিকে, প্রথম লেগের ২-০ ব্যবধানের জয় পিএসজিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। আজ তারা জিতলে বা ড্র করলে তো বটেই, এমনকি ১ গোলের ব্যবধানে হারলেও শেষ চারে জায়গা করে নেবে।
গত মৌসুমেও শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল, যেখানে স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকারে জিতে লিভারপুলকে বিদায় করে পরের রাউন্ডে উঠেছিল ফরাসি জায়ান্টরা।
লিভারপুলের সুখ স্মৃতি যে নেই সেটা কিন্তু নয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমেও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল লিভারপুল। পরের অ্যানফিল্ডে রূপকথার গল্প লিখে ৪-০ ব্যবধানে দ্বিতীয় লেগ জিতে নিশ্চিত করে ফাইনাল। সেই আসরে চ্যাম্পিয়নের মুকুটও পরেছিল লিভারপুল।
পিএসজির বিপক্ষে তেমনই একটা কামব্যাক চান সোবোসলাই। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন,
‘আমি মাঠে মরতে প্রস্তুত। আমি জানি, আমাদের সব খেলোয়াড়ই এমনটা ভাবছে। আমরা এটা ভীষণভাবে চাই। প্রথম মিনিট থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের সবটুকু নিংড়ে দেব। লড়াই যদি ৯০ মিনিটের বদলে ১২০ বা ১২৫ মিনিটেও গড়ায়, আমরা হাল ছেড়ে দেব না।’
মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করা সোবোসলাই প্রতিপক্ষের শক্তিটাও জানেন। আবার এটাও বলেছেন,
‘ওদের দলে সুপারস্টার আছে। তবে মেসি, এমবাপ্পে বা নেইমারের সময়ের মতো নয়। এখন ওদের খেলার ধরন আলাদা। সিস্টেম আলাদা। আত্মবিশ্বাসও অনেক বেশি। ২-০ লিড নিয়ে অ্যানফিল্ডে আসছে। তাই ম্যাচটা কঠিন হবেই। তবে আমরা প্রস্তুত।’

তরুণ প্রজন্মের কাছে ফুটবলকে আরও
আকর্ষণীয় করে তুলতে একগুচ্ছ
বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন সিরি’আর ক্লাব নাপোলির প্রেসিডেন্ট আউরেলিও দে লরেন্তিস। ভিডিও
গেম দেখে বড় হওয়া
বর্তমান প্রজন্মের কাছে ৯০ মিনিটের
বর্তমান ফুটবল ফরম্যাটটি ‘বড্ড ধীরগতির’। তাই
ম্যাচের সময় কমিয়ে আনা
এবং ফুটবল থেকে হলুদ ও
লাল কার্ড পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পক্ষে মত
দিয়েছেন ৭৬ বছর বয়সী এই
ফুটবল কুশলী।
নিজের বাসভবন থেকে ‘দ্য
অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দে লরেন্তিস সতর্ক করে বলেন, ফুটবল যদি আধুনিক সময়ের
মানুষের মনোযোগের পরিধির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারে, তবে এটি ভবিষ্যতে সমর্থক হারানোর
ঝুঁকিতে পড়বে। নাপোলি মালিকের বিশ্বাস, প্লে-স্টেশনের মতো ডিজিটাল বিনোদনের সঙ্গে পাল্লা
দিতে হলে ফুটবলকে আরও দর্শনীয় এবং দ্রুতগতির হতে হবে। তাঁর ভাবনার মধ্যে রয়েছে ম্যাচের
সময় কমিয়ে ৫০ মিনিটের ‘ইফেক্টিভ প্লেয়িং টাইম’ করা এবং গোল করার সুযোগ বাড়াতে অফসাইড
নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা।
সময়ের পরিবর্তনের পাশাপাশি দে লরেন্তিস প্রথাগত
হলুদ ও লাল কার্ড
তুলে দিয়ে ‘সিন-বিন’ (সাময়িকভাবে
মাঠের বাইরে রাখা) পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করেছেন। তাঁর মতে, এর
ফলে ফাউল করার তাৎক্ষণিক
শাস্তি আরও কার্যকর হবে।
তিনি বিশ্বাস করেন, এই নিয়ম চালু
হলে খেলোয়াড়রা ইচ্ছাকৃতভাবে 'ট্যাকটিক্যাল ফাউল' করে খেলার গতি
নষ্ট করতে পারবে না,
কারণ তখন মাঠেই তাদের
বড় শাস্তি ভোগ করতে হবে।
লরেন্তিস আরও যোগ করেন,
‘প্রথমত, আমি প্রতি অর্ধে
৪৫ মিনিটের পরিবর্তে ২৫ মিনিট খেলা
রাখব। তবে আপনি মাঠে
শুয়ে পড়ে অভিনেতাদের মতো
অভিনয় করতে পারবেন না! 'আহ্!'—এমনভাবে
চিৎকার করা যাবে না
যেন কতই না ব্যথা
পেয়েছেন। না—আপনাকে সঙ্গে
সঙ্গে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে! আমি আরও
যা করব—কখনও লাল
বা হলুদ কার্ড ব্যবহার
করব না। আমি বলব,
“তুমি (হলুদ কার্ডের অপরাধে)
পাঁচ মিনিটের জন্য বাইরে যাও!’
এবং ‘তুমি (লাল কার্ডের অপরাধে)
২০ মিনিটের জন্য বাইরে চলে
যাও!’
আউরেলিও দে লরেন্তিসের ক্লাব সিরি’ আতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে
রাখার চূড়ান্ত লড়াই করছে এখন। ৩২ ম্যাচে ৬৬
পয়েন্ট নিয়ে নাপোলি বর্তমানে
পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, শীর্ষে থাকা ইন্টার মিলানের চেয়ে
তারা ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে।
পয়েন্টন টেবিলে
ব্যবধান কমিয়ে আনার দিকে নজর
থাকলেও অস্থির এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে
নাপোলি। ইতালিয়ান
জাতীয় দলের সঙ্গে কোচ
আন্তোনিও কন্তের নাম জড়িয়ে ক্রমাগত
গুঞ্জন ওঠায় এবং তাঁর
চুক্তির শেষ বছরে পদার্পণ
করায় ক্লাবে এক ধরনের অনিশ্চয়তা
তৈরি হয়েছে।

মাঠের লড়াইয়ের আগে শুরু হলো ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’। আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠ মেট্রোপলিটানোতে হবে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের মহারণ। চ্যাম্পিয়নস লিগের মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বার্সেলোনার অনুশীলন সেশনে এক কৌতূহল উদ্দীপক দৃশ্য দেখা গেছে।
মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামের ঘাসের উচ্চতা নিয়ে ইউয়েফার ম্যাচ ডেলিগেটের কাছে অভিযোগ করেছেন বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক। বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-কে নিশ্চিত করেছে , তারা আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে কোচ তাঁর পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন এবং উয়েফা তাদের নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী সেটা শুনেছে। যদিও আতলেতিকো মাদ্রিদ মাঠের খারাপ অবস্থার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন
| অ্যানফিল্ডে প্যারিস-বিপ্লব নাকি প্রতিশোধ অলরেডদের |
|
আতলেতিকোর দাবি, মেট্রোপলিটানোর পিচ এখন আগের চেয়েও ভালো অবস্থায় আছে। এমনকি এক মাস আগে যখন কোপা দেল রে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বার্সা এখানে এসেছিল, তার চেয়েও এখন ঘাস অনেক উন্নত বলছে ক্লাবটির কর্তৃপক্ষ। সেই ম্যাচে প্রথম গোলের সময় বার্সা গোলকিপার জোয়ান গার্সিয়ার সামনে অদ্ভুতভাবে বল লাফিয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত ওই ম্যাচে বার্সাকে বিধ্বস্ত করে ৪-০ গোলের বড় জয় পায় দিয়েগো সিমিওনের ক্লাব।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মেট্রোপলিটানোতে স্টেডিয়ামের ঘাস কতটা লম্বা তা আঙুল দিয়ে নির্দেশ করে উয়েফা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলছেন ফ্লিক। এই দৃশ্যটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জল্পনা শুরু হয় যে, ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের আগে মাঠের অবস্থা নিয়ে বার্সেলোনা মোটেও সন্তুষ্ট নয়।
চলতি মৌসুমে এ নিয়ে মেট্রোপলিটানোতে তৃতীয়বারের মতো সফরে বার্সা। প্রথমবার তারা কোপা ডেল রে-তে ৪-০ গোলে হেরেছিল, আর দ্বিতীয়বার লেভানডফস্কির শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায়। গত মৌসুমেও কাতালান এখানে দুটি ম্যাচই জিতেছিল (লা লিগায় ৪-২ এবং কাপে ১-০)। কোচ ফ্লিক ভালো করেই জানেন, প্রথম লেগের মতো এই ফিরতি লেগের ভাগ্যও নির্ধারিত হবে সূক্ষ্ম সব খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর। প্রথম লেগে পাউ কুবার্সির লাল কার্ড এবং পুবিলের সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের পেনাল্টি না পাওয়া—সবই আতলেতিকোর পক্ষে গিয়েছিল।
সব মিলিয়ে এবার আতলেতিকো সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় এবং সাফল্যের জন্য সবরকম কৌশল কাজে লাগাতে মরিয়া। আর এই ‘পিচ বিতর্ক’ নিশ্চিতভাবেই সেই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়েরই অংশ।

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ২-০ ব্যবধানে জিতে সুবিধাজনক অবস্থানে পিএসজি। স্কোরলাইন যতটা দেখাচ্ছে, লিভারপুলের অবস্থা তার চেয়েও শোচনীয় ছিল। পার্ক দেস প্রিন্সেসে পিএসজির দখলে বল ছিল ৭০ শতাংশের বেশি। রেডদের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি শট নিয়েছিলেন উসমান দেম্বেলেরা।
সুবিধাজন অবস্থানে থাকলেও প্যারিস সেন্ট জার্মেইন কোচ লুইস এনরিকে মঙ্গলবার অ্যানফিল্ডে ফিরতি লেগের আগে বেশ সতর্ক। এই ম্যাচটিকে একটি ‘ফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। গত বছরও চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে এই দুই দলের লড়াই অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জিতে পরের রাউন্ডে পৌঁছে পিএসজি।
সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী এই কোচ বলেন, ‘এটি ছিল মাত্র প্রথম ম্যাচ। আমাদের দ্বিতীয় ম্যাচটি এখনও খেলতে হবে।
এনরিকে বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষের মাঠে খেলা সব সময়ই কঠিন। লিভারপুলের মতো দলের বিপক্ষে খেলাটা সহজ নয়। ঠিক আছে তারা পিছিয়ে, কিন্তু ম্যাচটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। আমরা জানি লিভারপুলের বিপক্ষে এমন কিছু মুহূর্ত আসবে যখন আমরা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হব।’
দুই লেগের মাঝখানের সময়ে প্রিমিয়ার লিগে ফুলহামের বিপক্ষে ২-০ গোলের একটি স্বস্তির জয় পেয়েছে অলরেডরা। ম্যাচে রিও এনগুমোহা এবং মোহাম্মদ সালাহ দুজনেই দুর্দান্ত দুটি গোল করেন। তবে এই ম্যাচেও খুব একটা আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। নিজেদের মাঠে খেলেও তাদের বল দখল ছিল মাত্র ৫৩ শতাংশ। এমনকি রক্ষণভাগে রবার্টসন, ফন ডাইক, কোনাতে এবং ফ্রিম্পংদের মতো তারকা থাকা সত্ত্বেও তারা শট নেওয়ার দিক থেকে ১৮-১৯ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল।
দ্বিতীয় লেগ নিয়ে এনরিকে বলেন, ‘ম্যাচটি কঠিন হতে যাচ্ছে। আপনি যদি গত বছরের ম্যাচগুলো বিশ্লেষণ করেন, তবে দেখবেন ফলাফল এক না হলেও প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির বিচারে প্রথম ম্যাচটি ছিল অনেকটা একই রকম।’
গত বছর অ্যানফিল্ডে হওয়া সেই রুদ্ধশ্বাস দ্বিতীয় লেগের স্মৃতিচারণ করেন। উসমানে দেম্বেলের শুরুর দিকের গোলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফিরেছিল এবং এরপর ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়ালে দুই দলই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল।
এনরিকে আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় লেগটা একদম আলাদা ছিল। যখন তারা সারাক্ষণ চাপের (প্রেসিং) মধ্যে রাখে, তখন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের গোল করা প্রয়োজন, যার মানে তাদের ঝুঁকি নিতে হবে। এর ফলে মাঠে অনেক ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে। আমরা বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দ করি ঠিকই, তবে আমরা ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণেও (কাউন্টার-অ্যাটাক) বেশ দক্ষ। এটি আমাদের অন্যতম সেরা শক্তি।’