৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৫:৩৮ পিএম

হকির যে কোনো পর্যায়েই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে বাংলাদেশ। ভারতে চলমান জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে (অনূর্ধ্ব-২১) উজ্জ্বল বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। গ্রুপ পর্বের পর স্থান নির্ধারণী খেলায় ওমানের বিপক্ষে ১৩-০ গোলে জেতার পর শুক্রবার লাল সবুজের প্রতিনিধিরা ঐতিহাসিক এক জয় পেয়েছে হকি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। এবার আরও বড় কিছু অর্জনের সামনে মেহরাব হাসান সামিন- আমিরুল ইসলামরা।
সোমবার ১৭তম স্থান নির্ধারণী খেলায় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে টার্ফে নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটি জিতলে বাংলাদেশ স্থান পাবে ১৭-তে। পাশাপাশি ‘চ্যালেঞ্জার্স কাপ’ নামে একটি ট্রফিও পাবে কোচ আইকম্যানের দল, শেষ ৮ দলের মধ্যে সেরা হওয়ায়। দারুণ খেলে এরই মধ্যে প্রশংসা পাচ্ছেন বাংলাদেশ যুব হকি দলের খেলোয়াড়েরা। এবার ট্রফি পেলে সেটি হবে তাঁদের জন্য বাড়তি পাওয়া।
বাংলাদেশ দল এখন অবস্থান করছে ভারতের মাদুরাই। সেখানেই সোমবার বিকেল ৫টায় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে দল। সেখান থেকে মুঠোফোনে দলের অধিনায়ক মেহরাব হাসান বলেন, ‘আমরা এতদূর এসেছি, আর সামনে একটি মাত্র ম্যাচ আছে, সেখানে জয় নিয়ে ফিরতে চাই।’ জিতলে মিলবে ট্রফি। অনুভূতি কাজ করছে বাংলাদেশ অধিনায়কেরও, ‘আমরা যে এ পর্যন্ত আসব সেটি হয়ত আগে ভাবিনি। কেবল ম্যাচ বাই ম্যাচ এবং নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি, এবং দলের সবার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল পেয়েছি। এখন কালকের ম্যাচ জিতলে শুনেছি ট্রফি পাবো। সেটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে দারুণ হবে।’
বিশ্বকাপে ব্যক্তিগতভাবে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে চলেছেন হকির হামজা খ্যাত আমিরুল ইসলাম। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি করেছেন মোট ১৫ গোল। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ খুশি হকির এই উঠতি তারকা, ‘নিজের পারফরম্যান্সে সত্যি অনেক খুশি। ভাবিনি এতগুলো গোল হবে, কালকে আমাদের শেষ ম্যাচ, সবার কাছে দোয়াপ্রার্থী।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। হকিতে শক্তিশালী এই দলটির বিপক্ষে লড়াই করে বাংলাদেশ হার মানে ৫-৩ ব্যবধানে। ওই ম্যাচে তিনটি গোলই ছিল আমিরুলের। পরের ম্যাচেও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন ফরিদপুর থেকে উঠে আসা এই হকি খেলোয়াড়। ম্যাচটি বাংলাদেশ ড্র করে ৩-৩ ব্যবধানে। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে আরও একবার বুক চিতিয়ে লড়াই করে বাংলাদেশ। তবে সেদিন হারতে হয় ৩-২ গোলে। এবার শেষ ম্যাচটি জিতে দেশে ফিরতে চান আমিরুল। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও মেলে ধরতে চান নিজেকে, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল অন্তত সেরা ১৬ এর মধ্যে থাকা। সেটি হয়নি। এখন আমরা ১৭তম হতে চাই। কালকের দেশের মানুষকে আরেকটি জয় উপহার দিতে চাই।’
বিশ্বকাপে কাল জিতলে সেটি হবে আরেকটি নতুন ইতিহাস। সেই সম্ভাবনাও আছে বেশ। একদিন আগে কোরিয়াকে হারানো বাংলাদেশ এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। তা ছাড়া এফআইএস র্যাঙ্কিংয়ে কোরিয়ার (১৬) চেয়ে পাঁচ ধাপ পেছনে অস্ট্রিয়া (২১)। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ২৯-এ।
অথচ এই বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে সেভাবে সাহস করে আশা দেখাতে পারেনি কেউ। একে তো কঠিন গ্রুপে পড়া, তার সঙ্গে আছে অপ্রতুল সীমাবদ্ধতা। সেসব ছাপিয়ে বিশ্বকাপে আলো কাড়লেন মুন্না, হোজাইফা, আমান, সিয়াম, দ্বীন ইসলাম, আশরাফুল আমিরুল, সামিনরা।
বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সে বেশ খুশি কিংবদন্তি সাবেক হকি খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল, ‘বাংলাদেশ যখন বিশ্বকাপে যাচ্ছে তখন কিন্তু সেভাবে হাইপ ছিল না। গ্রুপে কঠিন প্রতিপক্ষ থাকায় অনেকে বলেছেন হালি-হালি গোল খাবে। কিন্তু কি হলো? তাঁরা অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং যেভাবে খেলছে সেটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশের হকি কোন লেভেলে আছে। তাঁদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। হকি খেলে তাঁরা তো কিছু পায় না, তাঁদের যেন প্রাপ্য সম্মানটা দেওয়া হয়।’
বাংলাদেশে লিগ হয় না দুই বছর হয়ে গেলো। ডাচ কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যানের সঙ্গেও প্রাকটিসের সুযোগটা হয়েছে মাত্র ৩-৪ মাসের। তারপরও ভারতে নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যুবারা। এবার তাঁদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা উচিত মনে করেন কামাল, ‘প্রথম থেকে ওরা ধারবাাহিক খেলে গেছে। কোনো ম্যাচেই আমাদেরকে হতাশ করেনি। এমন সাফল্যের পর তাঁদের পুরস্কৃত করা উচিত। আশা করি সরকার এবং ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পুরস্কারের ঘোষণা আসবে এবং সেই সঙ্গে দেশে এই খেলোয়াড়দের সংবর্ধনাও দেওয়া উচিত হবে।’
হকির জনপ্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন মামুনুর রহমান চয়ন। যাকে পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট বলা হতো। তিনিও বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দলকে পুরস্কৃত করার পক্ষে, ‘আমি ইতোমধ্যে আশা করছি দেশে আসলে ওদেরকে বড় রকমের একটা পুরস্কার দেওয়া হবে। এবং সেটা দেয়া উচিত।’ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে কেমন দেখলেন জানতে চাইলে তিনি বেশ কয়েকবারই উচ্চারণ করেন- ‘এক্সেপশনাল।’ পরে অবশ্য বিস্তারিত করে বলেন, ‘ওরা ভারতে যা করছে সেটি এক কথায় অসাধারণ। এমনটা কেউ-ই হয়ত আমরা আশা করিনি, কিন্তু ওরা করে দেখিয়েছে। আমার ওদেরকে নিয়ে গর্ব অনুভব হচ্ছে।’
বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক ছিলেন চয়ন। তিনি মোহামেডান, আবাহনী, উষা ক্রীড়া চক্রের মতো ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা অনেক। যে কারণে এই তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে বেশ সতর্ক হতে বললেন তিনি, ‘দেখেন আমাদের সময় দেখেছি বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অনেকে ভালো করছে, কিন্তু তাদেরকে সেভাবে আর নার্সিং করা হয়নি। আমি চাইব এই দলটাকে যেন ধরে রাখে, ওদের যেন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে হবে কি, আমি আশা করছি এই দলটা সিনিয়র বিশ্বকাপেও আমাদের নিয়ে যাবে। তার জন্য ওদের যত্ন নিতে হবে।’ বিশেষভাবে তিনি নজর দিতে বলেছেন এবং আলাদা পুরস্কৃত করতে বলেছেন আমিরুল ইসলামকে। যাকে রত্ন হিসেবে আখ্যায়িত করেন চয়ন।

হকি জগতে পরিচিত নাম পুস্কর খিসা মিমো। বয়সের কারণে দেখিয়ে তাঁকে সর্বশেষ এশিয়া কাপ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচ সিরিজে রাখেনি ফেডারেশন। তবে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও এই ফরোয়ার্ড সব সময়ই খোঁজ রাখেন দেশের হকি। এমনকি জুনিয়র হকি দল দেশ ছাড়ার আগে সবার সঙ্গে দেখা করেছেন, তাদেরকে উৎসাহ দিয়েছেন। আজ জুনিয়র দল নিয়ে বলেন, ‘ওরা যে টিম হয়ে খেলতেছে এটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। ওদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস দেখেছি। ওরা ভালো করার জন্য মরিয়া ছিল এবং সেটি করে দেখিয়েছে। আশা করি কালকের ম্যাচও জিতবে এবং আরও একবার দেশকে গর্বিত করবে।’ দেশে ফিরলে পুরো দলকে যেন প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হয় সেটির দাবিও মিমো রেখেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে, বাংলাদেশ সরকার ও হকি ফেডারেশনের কাছে।
ভারতের দলের সঙ্গেই আছেন হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান। সেখান থেকে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা দারুণ করেছে। ওদের জন্য দোয়া করবেন, আগামীকাল আমাদের শেষ ম্যাচ যেন জিততে পারি। জেনেছি কালকের ম্যাচ জিতলে চ্যালেঞ্জার্স কাপের একটি ট্রফি দেওয়া হবে। এত পরিশ্রমের পর ছেলেদের এটি উৎসাহ দেবে।’
সেই উৎসাহ আরও কয়েকগুন বেড়ে যেতে পারে খেলোয়াড়দের প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা আর অর্থ পুরস্কারে; সেটি নিশ্চয়ই জানা ফেডারেশনের।
No posts available.
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৫:৩৪ পিএম
২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:৫১ পিএম

ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি। পল্টনের মওলানা হকি স্টেডিয়ামে আজকের ফাইনালে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ নিয়ে গড়া জোন-২ কে ৮-০ গোলে হারিয়েছে বিকেএসপির মেয়রা।
এই টুর্নামেন্টের বাছাই পর্বের খেলা দেশের চারটি ভেন্যুতে হয়। চার ভেন্যুর চ্যাম্পিয়ন দল ও বিকেএসপিসহ মোট ৫ দল নিয়ে চূড়ান্ত পর্বের খেলা গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ঢাকায়। চূড়ান্ত পর্ব প্রতি জোনের দুইটি বিভাগ নিয়ে গঠিত হয় একটি করে দল।
এদিন ফাইনালে বিকেএসপির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ঢাকা-ময়মনসিংহের মেয়েরা। প্রথম কোয়ার্টারে তিন গোল হজমের পর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আরও দুই গোল এবং শেষ দুই কোয়ার্টারে আরও তিন গোল হজম করে বড় ব্যবধানে বিকেএসপির কাছে হার মানে জোন-২।
প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার জিতেছেন বিকেএসপির অর্পিতা; তিনি মোট ২২টি গোল করেছেন। প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্টও হয়েছেন বিকেএসপির আরেক খেলোয়াড় রিয়া। প্রতিযোগিতার সেরা গোলকিপারের খেতাব জুটেছে রাজশাহীর মোয়া’র ভাগ্যে। এছাড়া রাইজিং স্টারের পুরস্কার পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলার খেলোয়াড় অপূর্ব।

ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি টুর্নামেন্টে আজ মঙ্গলবার দুটি খেলা হয়। প্রথম খেলায় চার নম্বর জোনকে (চট্টগ্রাম ও সিলেট) ১-০ গোলে হারায় রাজশাহী ও রংপুরকে নিয়ে গড়া এক নম্বর জোন। জয়ী দলের হয়ে খেলার ৭ মিনিটে রানী আক্তার রিয়া মনি পিসি গোল করে দলকে এগিয়ে দেয়। জয়সূচক গোলে ম্যাচ সেরাও হয়েছেন তিনি।
পল্টনের মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় খেলায় ঢাকা ও ময়মনসিংহকে নিয়ে গড়া দুই নম্বর জোনকে ১২-০ ব্যবধানে হারায় বিকেএসপি। দলটি খেলছে ৫ নম্বর জোন হিসেবে। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হন বিকেএসপির খেলোয়াড় রিয়াসা আক্তার রিশি।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এদিন খেলায় এক মিনিট করে নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে কোরআন খতমের ব্যবস্থা করা হয়।
সরকার আগামীকাল বুধবার জাতীয় শোক ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় অপরাজেয় আলো নারী হকির ফাইনাল খেলাটি আগামী পহেলা জানুয়ারি টার্ফে গড়াবে।
ফাইনালে অংশগ্রহণ করবে বিকেএসপি বনাম ঢাকা ও ময়মনসিংহকে নিয়ে গড়া জোন দুই।

ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি টুর্নামেন্টের বাছাই পর্বের দেশের চারটি ভেন্যুতে হয়। চার ভেন্যুর চ্যাম্পিয়ন দল ও বিকেএসপিসহ মোট পাঁচটি দল নিয়ে চূড়ান্ত পর্বের খেলা আজ থেকে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুরু হয়। চূড়ান্ত পর্ব প্রতি জোনের দুইটি বিভাগ নিয়ে একটি দল গঠিত হয়।
উদ্বোধনী দিন বৃহস্পতিবার ছিল দুটি ম্যাচ। প্রথম খেলায় জোন-২ (ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ২-১ গোলে জোন-১ (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ) কে পরাজিত করে। জোন-২ এর পক্ষে প্রিতু সেন ও অপূর্ব আক্তার জান্নাতুল দুটি গোল করে। জোন-১ (রাজশাহী ও রংপুর) এর পক্ষে রানী আক্তার রিয়ামনি একটি গোল পরিশোধ করে।
অপর খেলায় জোন-৩ (খুলনা ও বরিশাল) ৭-০ গোলে জোন-৪ (চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) কে পরাজিত করে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম প্রধান অতিথি হয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। এ সময়ে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান, টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক বদরুল ইসলাম দিপু, সদস্য শহিদুল্লাহ দোলন, টুর্নামেন্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর তারিকউজ্জামান নান্নু, ফেডারেশনের সভাপতির প্রতিনিধি উইং কমান্ডার রেফাতুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার এজিএম ইসতিয়াক হাবিব বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জেলা হতে আগত নারী হকি দলের কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের স্বাগত জানান সচিব মাহবুব-উল-আলাম। সেই সঙ্গে নারী হকি উন্নয়নে এই প্রতিযোগিতার স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংককেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি টুর্নামেন্টের কুমিল্লা ভেন্যুর খেলা আজ রোববার শেষ হয়। সেখানে কক্সবাজার জেলাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক কুমিল্লা।
রোববার কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকে। এরপর পেনাল্টি শুট আউটে ১-০ গোলে কক্সবাজার জেলাকে পরাজিত করে কুমিল্লা জেলা। কুমিল্লা জেলার জোনাকি আক্তার সেরা খেলোয়াড়ের পাশাপাশি ৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন।
গত ২ নভেম্বর থেকে ব্র্যাক ব্যাংক ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে) যৌথভাবে এ টুর্নামেন্ট শুরু করে। জেলা পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে দেশের নারী হকিকে আরও উন্নত করতে ব্র্যাক ব্যাংকের সামাজিক দায়িত্বশীলতার (সিএসআর) অংশ হিসেবে এ আয়োজনে অংশ নিয়েছে।
এই অঞ্চলের খেলায় আসে চারটি দল- কুমিল্লা জেলা, কক্সবাজার জেলা, সিলেট জেলা ও চট্টগ্রাম জেলা। লিগ পদ্ধতিতে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে। প্রতিটি দল সে হিসেবে খেলে তিনটি করে ম্যাচ। পয়েন্টের ভিত্তিতে শীর্ষ দুই দল নিয়ে হয় ফাইনাল।
ফাইনাল শেষে রানার্সআপ এবং চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রেজা হাসান। ফাইনালে ব্রাক ব্যাংকের ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড নেটওয়ার্কের রিজিওনাল হেড মো. মাসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য বদরুল ইসলাম দিপু।

২০২৬ সালে ২০তম এশিয়ান গেমসের আসর বসবে জাপানের আইচি ও নাগোয়ায়। সেখানে পুরুষ দলের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নারী দলকেও খেলার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে)। তবে এশিয়ান গেমসে খেলতে হলে টপকাতে হবে কোয়ালিফাইং রাউন্ড। মেয়েদের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে খেলানোর জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ) জানিয়েছেন হকির কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান বলেন, 'বিওএ'র সভায় আমরা এশিয়ান গেমসে ছেলেদের পাশাপাশি নারী দলকে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছি। বিওএ বলেছে চেষ্টা করবে। আমরা আশাবাদী মেয়েদের এশিয়ান গেমসে খেলার ব্যবস্থা হবে। সেভাবেই দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।' মেয়েদের কোয়ালিফাইং রাউন্ড কবে এবং কোথায় হবে তা অবশ্য এখনো নির্ধারণ হয়নি।
এদিকে ব্র্যাংক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকির জোনাল পর্বের খেলা চলছে। চারটি জোন ও বিকেএসপি- এই ৫ দল নিয়ে ২৪ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পল্টনের মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে হবে চূড়ান্ত পর্ব। এই টুর্নামেন্ট থেকেই জাতীয় দল গঠন করবে ফেডারেশন।
এর আগে বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক হকিতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। জাতীয় দল কখনো আন্তর্জাতিক হকি খেলেনি। এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ে খেলা হলে দেশের নারী হকির জন্য সেটা হবে নতুন ইতিহাস।
গত জুলাইয়ে চীনে হয় নারী অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকি। সেখানে প্রথমবার অংশ নিয়েই বাংলাদেশের জিতেছিল ব্রোঞ্জ পদক। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন শারিকা সাফা রিমন। এবার এশিয়ান গেমসে খেলার হাতছানির কথা জেনে রোমাঞ্চিত তিনি, 'আমরা জুনিয়র এশিয়া কাপে খেলে তৃতীয় হয়েছি। এখন সিনিয়র হকিতে খেলতে চাই। যদি এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ে অংশ নিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে পারি সেটা দারুণ হবে আমাদের জন্য।’
গত বছর ডিসেম্বরে ওমানে হওয়া জুনিয়র এশিয়া কাপে (অনূর্ধ্ব-২১) অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। 'এ' গ্রুপে প্রতিপক্ষ ছিল থাইল্যান্ড, ভারত, চীন ও মালয়েশিয়া। অর্পিতা-আইরিনরা চারটি ম্যাচই হেরেছিল। চীনের কাছে ১৯-০, ভারতের কাছে ১৩-১, থাইল্যান্ডের কাছে ২-১ ও মালয়েশিয়ার কাছে ৬-১ গোলে হেরেছিল লাল সবুজের মেয়েরা। বাংলাদেশের মেয়েরা জুনিয়র এশিয়া কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল ওই বছর জুনে। সিঙ্গাপুরে হওয়া প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হয় দল। ওই আসরে বাংলাদেশেরে মেয়েরা ৬ ম্যাচের ৫টি জিতেছিল। একটি ম্যাচ হেরেছিল চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে।
২০১৯ সালে সিঙ্গাপুরে প্রথমবার জুনিয়র নারী এশিয়া কাপে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম আসরেই শ্রীলংকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে একটি জয়ও পেয়েছিল রিতু-তারিনরা। পাঁচ ম্যাচের একটি জিতে চারটি হেরে ৬ দেশের মধ্যে পঞ্চম হয়েছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হকির মেয়েরা এখন পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়ে তিনটি এবং অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ে একটি টুর্নামেন্ট খেলেছে। এবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন অর্পিতা-রিমনরা।