৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:২০ পিএম

পূর্ব পাকিস্তান আমলে আব্দুস সাদেক, বশির আহমেদ, ইব্রাহিম সাবেরদের হকির স্টিক ওয়ার্ক এতোটাই মুগ্ধতা ছড়িয়েছিল যে, পাকিস্তান আমলে এই ত্রয়ীকে ঘিরে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালীরা দেখেছে অনেক বড় স্বপ্ন। তবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে হকি দেখাতে পারেনি বড় কোনো স্বপ্ন। ১৯৭৮ সালে ব্যাংকক এশিয়ান গেমসের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক হকি-তে পথচলা শুরু বাংলাদেশের। এশিয়ান গেমসে কিংবা এশিয়া কাপ হকিতে এক সময়ে সেরা ৬-এ থাকতে পারাটাই ছিল বড় কিছু। এশিয়ার অনগ্রসর হকি দেশগুলোকে নিয়ে এ এইচ এফ কাপে চারবার (২০০৮, ২০১২, ২০১৬, ২০২২) চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা ছিল প্রত্যাশিত। সার্কভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে তিনবার (১৯৯৫, ২০১০, ২০১৬)ব্রোঞ্জ পদক জয়ও ছিল প্রত্যাশিত। অনিয়মিত হকি লিগের বিরূপ প্রভাব পড়তে পড়তে র্যাঙ্কিং নামতে নামতে ২০১১, ২০১২-তে ৪০ এ এসে পর্যন্ত দাঁড়িয়েছিল। সেই তলানী থেকে পর্যায়ক্রমে ২৯ নম্বরে উঠে বাংলাদেশের হকি এখন হকি দেখাচ্ছে অবিশ্বাস্য স্বপ্ন।
বাংলাদেশের হকির আগমনী বার্তা দিচ্ছেন একদল তরুণ তুর্কি। এই প্রথম হকির কোনো বৈশ্বিক আসরে খেলার টিকিট পেয়ে অবিশ্বাস্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দল। আমিরুল ইসলাম নামের এক তরুণ পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্টের কৃতিত্বে তামিলনাড়ুুর মাধুরিতে জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে চ্যালেঞ্জার ট্রফি জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
গল্পটা রূপকথার মতো। হকির সেরাদের সঙ্গে লড়াইটা অসম হবে, তা ধরে নিয়েই তামিলনাড়ুর ফ্লাইটে উঠেছে বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দল। তবে অসাধ্য সাধনের গল্প লিখেছে দলটি।
প্রিলিমিনারী রাউন্ডে পুল 'এফ'-এ হকির তিন পাওয়ার হাউজ অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কী লড়াই-ই না করেছে বাংলাদেশের তরুণ তুর্কিরা। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে ৩ গোল খেয়ে যখন বড় ব্যবধানে হারের অশনি সংকেত দেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট, সেই ম্যাচেই কিনা আমিরুলের হ্যাটট্রিকে ৩-৩ গোলে ড্র-করে দেখিয়েছে বীরত্ব বাংলাদেশ জুনিয়র দল। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-৫ গোলে এবং ফ্রান্সের কাছে ২-৩ গোলে হার-এ ও ছিল লড়াকু খেলার প্রতিফলন। এই তিনটি ম্যাচের মধ্যে একটি জিততে পারলে ৯ থেকে ১৬ নম্বর পজিশনের লড়াইয়ে থাকতে পারতো বাংলাদেশ।
১৭ থেকে ২৪ নম্বর অবস্থানের লড়াইয়ে শুরুতে ওমানকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে (১৩-০) গল্পটা শুরু করে বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে এশিয়ান হকির পাওয়ার হাউজ দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে মাথা উঁচু করা জয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েছে বাড়িয়ে হকি দল। সোমবার সন্ধ্যায় ইউরোপীয় শক্তি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৫-৪ গোলে জয়ে ১৭তম স্থান নিশ্চিত করে চ্যালেঞ্জার ট্রফি জয়ে তামিলনাড়ুু থেকে উড়িয়েছে বাংলাদেশ জুনিয়র হকি আগমনী বার্তা।
যে রূপকথার প্রধান নায়ক আমিরুল। ৬ ম্যাচে ৫ হ্যাটট্রিক, জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৮ গোলে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ঝাকড়া চুলের বাবরি দোলানো এই পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট। শুধুমাত্র হ্যাটট্রিক মিস করেছেন ফ্রান্সের বিপক্ষে।
No posts available.
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৫:৩৪ পিএম
২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:৫১ পিএম

ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি। পল্টনের মওলানা হকি স্টেডিয়ামে আজকের ফাইনালে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ নিয়ে গড়া জোন-২ কে ৮-০ গোলে হারিয়েছে বিকেএসপির মেয়রা।
এই টুর্নামেন্টের বাছাই পর্বের খেলা দেশের চারটি ভেন্যুতে হয়। চার ভেন্যুর চ্যাম্পিয়ন দল ও বিকেএসপিসহ মোট ৫ দল নিয়ে চূড়ান্ত পর্বের খেলা গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ঢাকায়। চূড়ান্ত পর্ব প্রতি জোনের দুইটি বিভাগ নিয়ে গঠিত হয় একটি করে দল।
এদিন ফাইনালে বিকেএসপির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ঢাকা-ময়মনসিংহের মেয়েরা। প্রথম কোয়ার্টারে তিন গোল হজমের পর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আরও দুই গোল এবং শেষ দুই কোয়ার্টারে আরও তিন গোল হজম করে বড় ব্যবধানে বিকেএসপির কাছে হার মানে জোন-২।
প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার জিতেছেন বিকেএসপির অর্পিতা; তিনি মোট ২২টি গোল করেছেন। প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্টও হয়েছেন বিকেএসপির আরেক খেলোয়াড় রিয়া। প্রতিযোগিতার সেরা গোলকিপারের খেতাব জুটেছে রাজশাহীর মোয়া’র ভাগ্যে। এছাড়া রাইজিং স্টারের পুরস্কার পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলার খেলোয়াড় অপূর্ব।

ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি টুর্নামেন্টে আজ মঙ্গলবার দুটি খেলা হয়। প্রথম খেলায় চার নম্বর জোনকে (চট্টগ্রাম ও সিলেট) ১-০ গোলে হারায় রাজশাহী ও রংপুরকে নিয়ে গড়া এক নম্বর জোন। জয়ী দলের হয়ে খেলার ৭ মিনিটে রানী আক্তার রিয়া মনি পিসি গোল করে দলকে এগিয়ে দেয়। জয়সূচক গোলে ম্যাচ সেরাও হয়েছেন তিনি।
পল্টনের মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় খেলায় ঢাকা ও ময়মনসিংহকে নিয়ে গড়া দুই নম্বর জোনকে ১২-০ ব্যবধানে হারায় বিকেএসপি। দলটি খেলছে ৫ নম্বর জোন হিসেবে। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হন বিকেএসপির খেলোয়াড় রিয়াসা আক্তার রিশি।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এদিন খেলায় এক মিনিট করে নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে কোরআন খতমের ব্যবস্থা করা হয়।
সরকার আগামীকাল বুধবার জাতীয় শোক ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় অপরাজেয় আলো নারী হকির ফাইনাল খেলাটি আগামী পহেলা জানুয়ারি টার্ফে গড়াবে।
ফাইনালে অংশগ্রহণ করবে বিকেএসপি বনাম ঢাকা ও ময়মনসিংহকে নিয়ে গড়া জোন দুই।

ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি টুর্নামেন্টের বাছাই পর্বের দেশের চারটি ভেন্যুতে হয়। চার ভেন্যুর চ্যাম্পিয়ন দল ও বিকেএসপিসহ মোট পাঁচটি দল নিয়ে চূড়ান্ত পর্বের খেলা আজ থেকে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুরু হয়। চূড়ান্ত পর্ব প্রতি জোনের দুইটি বিভাগ নিয়ে একটি দল গঠিত হয়।
উদ্বোধনী দিন বৃহস্পতিবার ছিল দুটি ম্যাচ। প্রথম খেলায় জোন-২ (ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ২-১ গোলে জোন-১ (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ) কে পরাজিত করে। জোন-২ এর পক্ষে প্রিতু সেন ও অপূর্ব আক্তার জান্নাতুল দুটি গোল করে। জোন-১ (রাজশাহী ও রংপুর) এর পক্ষে রানী আক্তার রিয়ামনি একটি গোল পরিশোধ করে।
অপর খেলায় জোন-৩ (খুলনা ও বরিশাল) ৭-০ গোলে জোন-৪ (চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) কে পরাজিত করে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম প্রধান অতিথি হয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। এ সময়ে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান, টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক বদরুল ইসলাম দিপু, সদস্য শহিদুল্লাহ দোলন, টুর্নামেন্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর তারিকউজ্জামান নান্নু, ফেডারেশনের সভাপতির প্রতিনিধি উইং কমান্ডার রেফাতুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার এজিএম ইসতিয়াক হাবিব বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জেলা হতে আগত নারী হকি দলের কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের স্বাগত জানান সচিব মাহবুব-উল-আলাম। সেই সঙ্গে নারী হকি উন্নয়নে এই প্রতিযোগিতার স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংককেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি টুর্নামেন্টের কুমিল্লা ভেন্যুর খেলা আজ রোববার শেষ হয়। সেখানে কক্সবাজার জেলাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক কুমিল্লা।
রোববার কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকে। এরপর পেনাল্টি শুট আউটে ১-০ গোলে কক্সবাজার জেলাকে পরাজিত করে কুমিল্লা জেলা। কুমিল্লা জেলার জোনাকি আক্তার সেরা খেলোয়াড়ের পাশাপাশি ৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন।
গত ২ নভেম্বর থেকে ব্র্যাক ব্যাংক ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে) যৌথভাবে এ টুর্নামেন্ট শুরু করে। জেলা পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে দেশের নারী হকিকে আরও উন্নত করতে ব্র্যাক ব্যাংকের সামাজিক দায়িত্বশীলতার (সিএসআর) অংশ হিসেবে এ আয়োজনে অংশ নিয়েছে।
এই অঞ্চলের খেলায় আসে চারটি দল- কুমিল্লা জেলা, কক্সবাজার জেলা, সিলেট জেলা ও চট্টগ্রাম জেলা। লিগ পদ্ধতিতে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে। প্রতিটি দল সে হিসেবে খেলে তিনটি করে ম্যাচ। পয়েন্টের ভিত্তিতে শীর্ষ দুই দল নিয়ে হয় ফাইনাল।
ফাইনাল শেষে রানার্সআপ এবং চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রেজা হাসান। ফাইনালে ব্রাক ব্যাংকের ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড নেটওয়ার্কের রিজিওনাল হেড মো. মাসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য বদরুল ইসলাম দিপু।

২০২৬ সালে ২০তম এশিয়ান গেমসের আসর বসবে জাপানের আইচি ও নাগোয়ায়। সেখানে পুরুষ দলের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নারী দলকেও খেলার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে)। তবে এশিয়ান গেমসে খেলতে হলে টপকাতে হবে কোয়ালিফাইং রাউন্ড। মেয়েদের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে খেলানোর জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ) জানিয়েছেন হকির কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান বলেন, 'বিওএ'র সভায় আমরা এশিয়ান গেমসে ছেলেদের পাশাপাশি নারী দলকে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছি। বিওএ বলেছে চেষ্টা করবে। আমরা আশাবাদী মেয়েদের এশিয়ান গেমসে খেলার ব্যবস্থা হবে। সেভাবেই দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।' মেয়েদের কোয়ালিফাইং রাউন্ড কবে এবং কোথায় হবে তা অবশ্য এখনো নির্ধারণ হয়নি।
এদিকে ব্র্যাংক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকির জোনাল পর্বের খেলা চলছে। চারটি জোন ও বিকেএসপি- এই ৫ দল নিয়ে ২৪ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পল্টনের মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে হবে চূড়ান্ত পর্ব। এই টুর্নামেন্ট থেকেই জাতীয় দল গঠন করবে ফেডারেশন।
এর আগে বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক হকিতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। জাতীয় দল কখনো আন্তর্জাতিক হকি খেলেনি। এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ে খেলা হলে দেশের নারী হকির জন্য সেটা হবে নতুন ইতিহাস।
গত জুলাইয়ে চীনে হয় নারী অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকি। সেখানে প্রথমবার অংশ নিয়েই বাংলাদেশের জিতেছিল ব্রোঞ্জ পদক। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন শারিকা সাফা রিমন। এবার এশিয়ান গেমসে খেলার হাতছানির কথা জেনে রোমাঞ্চিত তিনি, 'আমরা জুনিয়র এশিয়া কাপে খেলে তৃতীয় হয়েছি। এখন সিনিয়র হকিতে খেলতে চাই। যদি এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ে অংশ নিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে পারি সেটা দারুণ হবে আমাদের জন্য।’
গত বছর ডিসেম্বরে ওমানে হওয়া জুনিয়র এশিয়া কাপে (অনূর্ধ্ব-২১) অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। 'এ' গ্রুপে প্রতিপক্ষ ছিল থাইল্যান্ড, ভারত, চীন ও মালয়েশিয়া। অর্পিতা-আইরিনরা চারটি ম্যাচই হেরেছিল। চীনের কাছে ১৯-০, ভারতের কাছে ১৩-১, থাইল্যান্ডের কাছে ২-১ ও মালয়েশিয়ার কাছে ৬-১ গোলে হেরেছিল লাল সবুজের মেয়েরা। বাংলাদেশের মেয়েরা জুনিয়র এশিয়া কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল ওই বছর জুনে। সিঙ্গাপুরে হওয়া প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হয় দল। ওই আসরে বাংলাদেশেরে মেয়েরা ৬ ম্যাচের ৫টি জিতেছিল। একটি ম্যাচ হেরেছিল চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে।
২০১৯ সালে সিঙ্গাপুরে প্রথমবার জুনিয়র নারী এশিয়া কাপে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম আসরেই শ্রীলংকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে একটি জয়ও পেয়েছিল রিতু-তারিনরা। পাঁচ ম্যাচের একটি জিতে চারটি হেরে ৬ দেশের মধ্যে পঞ্চম হয়েছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হকির মেয়েরা এখন পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়ে তিনটি এবং অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ে একটি টুর্নামেন্ট খেলেছে। এবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন অর্পিতা-রিমনরা।