৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৮:৫১ পিএম
ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন, শনিবার হাই কমিশন প্রাঙ্গনে দ্বিতীয় বারের মত মিয়াঁ সুলতান খান দাবা টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন টুর্নামেন্টেটি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে। বার্ষিক এই টুর্নামেন্টটি পাকিস্তানের কিংবদন্তি দাবাড়ু মিয়াঁ সুলতান খানের সাফল্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে আয়োজন করা হয়।
এই টুর্নামেন্টে কূটনৈতিক সম্প্রদায়, পেশাজীবি, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ সহ বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রায় ২০০ জন দাবা খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে করেছে, যা বাংলাদেশে খেলাটিকে ঘিরে তীব্র আকর্ষণের প্রমাণ দেয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ সুজাউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফুদ্দিন আহমেদ উজ্জল, গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মুর্শেদ এবং বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মাস্টার খেলোয়াড় রানী হামিদ।
ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি কাইংলেট, শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল ওয়েরাক্কোদি, ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনার হাজি হারিস বিন উসমানসহ ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
টুর্নামেন্টে সাকলাইন মোস্তফা সাজিদ চ্যাম্পিয়ন এবং মনন রেজা নীড় রানার্সআপ হন। সুব্রত বিশ্বাস এবং নাঈম হক যথাক্রমে তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং পাকিস্তান হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ টুর্নামেন্টের বিজয়ী এবং সেরা পারফর্মারদের ট্রফি এবং নগদ পুরস্কার প্রদান করেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজ বক্তব্য উপদেষ্টা ফারুকী বাংলাদেশের দাবা খেলোয়াড়দের এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়কে একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপনে চমৎকার সুযোগ প্রদানের জন্য পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রশংসা করেন। তিনি পাকিস্তান হাইকমিশনের ভবিষ্যতের যেকোনো উদ্যোগে বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ টুর্নামেন্ট আয়োজনে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং দাবা ফেডারেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ক্রীড়ানুরাগের মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রম করে মানুষে মানুষে সংযোগ জোরদার করার ক্ষেত্রে ক্রীড়া ইভেন্টের গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন “এই ধরণের ইভেন্টের মাধ্যমেই আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে মানুষে মানুষে যোগাযোগ এবং বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার করার চেষ্টা করছি”। তিনি আরও বলেন এই ইভেন্টের লক্ষ্য হল মিয়াঁ সুলতান খানের সমৃদ্ধ ইতিহাস উদযাপন করা এবং বাংলাদেশের দাবা প্রেমীদের এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়কে একটি সুস্থ বিনোদনে একত্রিত করা।
টুর্নামেন্টের শুরুতে, হাইকমিশনার প্রিন্স করিম আগা খান (৪র্থ) এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং তাকে পাকিস্তানের একজন প্রকৃত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন, যিনি তার দূরদর্শী নেতৃত্বে মানব সেবায় অবিস্বরণীয় অবদান রেখেছেন। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা তার স্মরণে এক মিনিট নীরবতাও পালন করেন।
হাইকমিশনার টুর্নামেন্টের বিজয়ী এবং সেরা খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান এবং আগামী বছর তৃতীয় মিয়াঁ সুলতান খান টুর্নামেন্টের জন্য সকল অংশগ্রহণকারীদেরকে অগ্রীম শুভকামনা জানান। তিনি সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, গ্র্যান্ডমাস্টার, আন্তর্জাতিক মাস্টার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান।
No posts available.
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৬ পিএম
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:১৪ পিএম
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:০৮ পিএম

আসন্ন জুনিয়র সাউথ এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন মো. নাফিজ ইকবাল (বালক বিভাগে) এবং বালিকা বিভাগে খই খই সাই মারমা।
অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে সেরা বালক টেবিল টেনিস খেলোয়াড় হয়েছেন মো. মৃদুল রহমান এবং বালিকা জান্নাত ইসলাম রোজা। ৪ জনই বিকেএসপির শিক্ষার্থী।
এছাড়া প্রথম বাছাইয়ে নাফিজ, খই খই এবং রোজা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস (টিটি) ফেডারেশনের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার পল্টনের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির জন্য অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-১৫ এর শীর্ষ ৮ জনের মধ্যে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে প্রথমিক বাছাই সম্পন্ন করেছে।
আগামী ২৬-২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় এবং চূড়ান্ত বাছাইয়ের পর টুর্ণামেন্টের জন্য জাতীয় দল (বয়সভিত্তিক) ঘোষণা করা হবে।
বাছাই প্রতিযোগিতায় ৩২ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে বিকেএসপির ১৭ জন, রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ৩ জন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২ জন, জেল পুলিশের একজন এবং গ্রীন টিটির একজনসহ সর্বমোট ২৪ জন খেলোয়াড় মনোনীত হয়েছে।
অনুর্ধ্ব-১৯ এর বালকের বাকি নির্বাচিত খেলোয়াড় হলেন— আবুল হাসেম হাসিব, তাহমিদুর রহমান সাকিব, মাহতাবুর রহমান মাহি, মো. মনিরুল ইসলাম এবং মো. জয় ইসলাম।
অনুর্ধ্ব-১৯ এর বালিকার বাকি নির্বাচিত খেলোয়াড় হলেন— রেশমী তনচ্যাঙ্গা, নুসরাত জাহান অনন্যা, ঐশী রহমান, মুসরাত জাহান সিগমা, মোসাম্মৎ বুলবুলি।
অনুর্ধ্ব ১৫ এর বালকের বাকি নির্বাচিত খেলোয়াড় হলেন— মো. মৃদুল রহমান, মো. শাহীন আহম্মেদ, মো. রাব্বী ইসলাম, ফাহমিদ ফুয়াদ, তাহমিদুল ইসলাম পরশ এবং রাহাত মাহামুদ নূর।
টিটি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ এম মাকসুদ আহমেদ সনেট বলেন,
'সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের ফিকশ্চার ঘোষণা না হলেও আমরা অগ্রিম টিমের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতেই চাই। আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনেকের জন্য এটা শেষ টুর্ণামেন্ট।আমাদের প্রত্যাশা টুর্ণামেন্টে দেশের জন্য একটি ভালো ফলাফল বয়ে আনা।'

এক দশক পর আবারও রিংয়ে
মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন বক্সিংয়ের দুই কিংবদন্তি ম্যানি প্যাকিয়াও ও ফ্লয়েড মেওয়েদার
জুনিয়র। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর লাস ভেগাসের স্পিয়ারে অনুষ্ঠিত হবে পেশাদার এই ম্যাচ।
যা সরাসরি সম্প্রচার করবে নেটফ্লিক্স।
দুজনের প্রথম দেখা হয়েছিল
২০১৫ সালে। ‘ফাইট অব দ্য সেঞ্চুরি’র আলোচিত
সেই লড়াইয়ে জিতেন মেওয়েদার। ম্যাচটি থেকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায়
৭,০০০ কোটি টাকার বেশি) আয় করেছিলেন তিনি।
মেওয়েদার ও প্যাকিয়াওয়ের
ম্যাচটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছিল সর্বোচ্চ পে-পার-ভিউ বিক্রি হিসেবে।
শুধুমাত্র পিপিভি বিক্রি বাবদ ৪২৫ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল। আর্থিক দিক থেকে এবারের
ম্যাচকেও ইতিহাসের অন্যতম বড় লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত শুক্রবার চতুর্থবারের
মতো অবসর ভেঙে পেশাদার রিংয়ে ফেরার ঘোষণা দেন মেওয়েদার। এরপরই জানা গেল ৪৮ বছর বয়সী
এই মার্কিন বক্সারের প্রতিপক্ষ। রিম্যাচটি কত রাউন্ডে বা কোন ওজন শ্রেণিতে হবে, তা
এখনও নিশ্চিত হয়নি।
৪৭ বছর বয়সী প্যাকিয়াও
২০২১ সালে অবসর নেন। তবে গত জুলাইয়ে ডব্লিউবিসি ওয়েল্টারওয়েট চ্যাম্পিয়ন মারিও বারিওসের
বিপক্ষে লড়াই করে আবারও রিংয়ে ফেরেন; ম্যাচটি ড্র হয় এবং শিরোপা ধরে রাখেন বারিওস।
অন্যদিকে ৪৮ বছর বয়সী মেওয়েদার
২০১৭ সালে কনর ম্যাকগ্রেগরকে হারানোর পর পেশাদার বক্সিং থেকে সরে দাঁড়ান। সেটিই ছিল
তাঁর সর্বশেষ পেশাদার লড়াই।
তিন দশকের ক্যারিয়ারে
৫০-০ রেকর্ড ধরে রেখেছেন মেওয়েদার। আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তনের আগে এপ্রিলে প্রদর্শনী
লড়াইয়ে সাবেক হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন মাইক টাইসনের মুখোমুখি হওয়ার কথা মেওয়েদারের।

বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা গোলরক্ষকদের মধ্যে অন্যতম আমিনুল হক এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক। ২০১০ সালে দক্ষিণ এশিয় ফুটবলে ট্রফি জয়ী এই অধিনায়ক গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আমূল পরিবর্তনের রোডম্যাপ তৈরি করতে চান। সে কারণেই দায়িত্ব গ্রহনের মাত্র ৬ দিনের মাথায় ক্রীড়া সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে এদেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রকৃত চিত্র জেনে নিয়েছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে রোববার 'ক্রীড়া হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা'- এই শ্লোগানে মেধাবি ক্রীড়াবিদদের পরিচর্যা্ এবং তাদের আর্থিক নিশ্চয়তায় করনীয় প্রস্তাবনাসমূহ ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাছ থেকে জেনেছেন।
তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়াঙ্গনে গতিশীলতা আনতে উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা, বিভাগ হয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রাজণীতিমুক্ত ক্রীড়াঙ্গন পরিচালনার দর্শন তার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলাসমূহে মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে টাকা অপচয়ের পক্ষে নন আমিনুল হক। প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ উন্মুক্ত করতে চান তিনি-
'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়াম নয়, মাঠের দিকে মনযোগ দিতে বলেছেন। জেলা স্টেডিয়ামগুলো এমনিতেই দেখাশুনা করা যায় না। সেখানে উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামগুলো কীভাবে পরিচর্যা করা হবে, তা আমার মাথায় আসছে না। স্টেডিয়াম এবং গ্যালারিকে ফোকাস না করে খেলোয়াড়দের দিকে ফোকাস করতে চাই। প্রতিটি জেলা-উপজেলার খালি মাঠকে খেলার উপযোগী করতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি অনুরোধ করব।'
দেশের যে সব জেলায় ক্রীড়া অফিসার পদ শুণ্য, সে সব জায়গায় ক্রীড়া অফিসার নিযোগ ৪৯৫টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ দিয়ে ক্রীড়াবিদ তৈরির কাজে হাত দেয়ার কথাও ভাবছেন নব নিযুক্ত ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এসব ক্রীড়া আফিসার এবং ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগে শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে বিপিএড সার্টিফিকেটকে একমাত্র মাণদণ্ড হিসেবে বিবেচনা না করে সাবেক ক্রীড়াবিদদের অগ্রাধিকার দিতে চান যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। দেশের যেসব স্কুলে খেলার মাঠ আছে, সেসব স্কুলে পাঠদান শেষে বিকেলে খেলা চর্চার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের মাধ্যমে নোটিশ দেয়ার পক্ষে তিনি।
৪র্থ শ্রেনী থেকে খেলাধুলা চর্চাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার জন্য ৫টি খেলা নির্ধারণ নিয়ে সাংবাদিকদের মতামত চেয়েছেন। দেশের জনপ্রিয় দুটি খেলা ফুটবল্এবং ক্রিকেটকে অপরিহার্য রেখে হকি, অ্যাথলেটিক্স, কাবাডি, আর্চারি, কারাতে, তায়কোয়ানডো, হ্যান্ডবল থেকে অন্য ৩টি খেলাকে বেছে নেয়ার প্রস্তাব এসেছে উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে।
দেশের ৬৪টি জেলায় গ্যালারি বিহীন ইনডোর নির্মাণে ক্রীড়া মন্ত্রানালয়ের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রাজধানীতে খেলার মাঠের সংকট কাটাতে প্রতি ২টি ওয়ার্ডে অন্তত একটি খেলার মাঠ প্রস্তুত করে সেখানে সর্বস্তরের নগরবাসীদের হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে করার পরিকল্পনা হাতে নিতে চান যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ফুটবল-ক্রিকেট-রাজধানী ভিত্তিক ক্রিকেট ছাড়া দেশের অধিকাংশ খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেনি ক্রীড়াবিদরা। তা ভালই জানেন আমিনুল। ক্রীড়াবিদ এবং তাদের পরিবারকে সাবলম্বি করে তুলতে খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান আমিনুল। খেলোয়াড়দের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদেরও পেশার আওতায় আনতে সরকারের ইচ্ছা আছে জানিয়েছেন তিনি। প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশনকেও সাবলম্বী করার পরিকল্পনা আছে বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের। স্পন্সর প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং দেশের শীর্ষ কর্পোরেট হাউজগুলোর সঙ্গে বসতে চান একারনেই।
যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন নিয়ে তুলেছেন প্রশ্ন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পরপর গণমাধ্যমকে বলেছেন-
'ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এখন দায়িত্বশীল জায়গায় আছি, আমি তাদের সাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব, কীভাবে আমরা ভাল একটি পর্যায়ে যেতে পারি।'
রোববার গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিসিবির ভবিষ্যত নিয়ে কিছুই বলেননি যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এমনকি অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে জেলাও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসমূহ এবং ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহের গঠিত এডহক কমিটি ভেঙ্গে নির্বাচনের আশু পরিকল্পনার কথাও সাংবাদিকদের জানাননি আমিনুল হক। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের দিন ধার্য করেছেন নব নিযুক্ত যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। হয়তবা এই সভাতেই একটা নির্দেশনা আসবে তাঁর পক্ষ থেকে।

নতুন সরকারের
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক
আমিনুল হক। নিজের তৃতীয় কর্মদিবসে
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) আজ ক্রীড়া সাংবাদিকদের
সঙ্গে বসেন আমিনুল। সেখান সবার কাছ
থেকে ক্রীড়াঙ্গনের সংকটের বিষয়গুলো শুনেছেন; সেই সঙ্গে সমাধানের
পরামর্শও নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানের
শুরুতে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বিএনপির লক্ষ্য ও পরিকল্পনার বিষয়টি
সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন আমিনুল। এরপর
জেলা ক্রীড়া সংস্থা নিয়ে সাংবাদিকের মতামত
শুনতে চান। জেলা পর্যায়
থেকে খেলোয়াড়রা উঠে এসে জাতীয়
দলে খেলে তেমনি সংগঠকেরা
জেলা-বিভাগ থেকে মনোনীত হয়ে
ফেডারেশনে পদে বসে। তাই
জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অত্যন্ত গুরুত্ব
দিয়ে দেখছেন।
যুব ও ক্রীড়া
মন্ত্রণালয়ের বাজেট অত্যন্ত সীমিত। এনএসসি জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে
খুবই স্বল্প অনুদান দেয়। যা দিয়ে
জেলায় সকল খেলা পরিচালনা
করা সম্ভবও হয় না। তাই সাংবাদিকরা জেলা
পর্যায়ে বাজেট বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জেলা-বিভাগে স্টেডিয়াম থাকলেও সেটা ব্যবহার অনুপযোগী।
অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বারোপ করেন অনেকে। জেলা
ক্রীড়া সংস্থার পাশাপাশি মহিলা জেলা ক্রীড়া সংস্থাও
রয়েছে প্রতি জেলায়।
মহিলা ক্রীড়া সংস্থা জন্ম থেকেই অ্যাডহক কমিটি দ্বারা পরিচালিত। মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, বাজেট সব কিছুতেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থায় গঠনতন্ত্র সংস্কার করেও নির্বাচনের প্রস্তাব দেন সাংবাদিকরা। তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের মতামত ও বক্তব্য শুনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন,
‘আমরা খেলাধুলাকে তৃণমূল থেকে জনপ্রিয় করে তুলতে চাই। অবকাঠামো নয়, আমরা খেলার মাঠকে গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে জেলা পর্যায়ে শিশু-কিশোররা খেলার পরিবেশ পায়।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত থাকা জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার এবার থেকে নিয়মিত দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,
‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার নিয়মিত করতে আমরা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পুরস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সঙ্গে আলোচনা করব। এরপর থেকে প্রতিবছর যেন নিয়মিতভাবে এই পুরস্কার দেওয়া যায়, সে চেষ্টা থাকবে।’
অলিম্পিকে
পদক এখনো স্বপ্ন বাংলাদেশের কাছে। তাই
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাফ, এশিয়ান ধাপে
ধাপে এগোতে চান। কোন খেলাগুলোকে
আন্তর্জাতিক বিবেচনায় গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন সাংবাদিকদের
কাছে জানতে চান। অনেক সাংবাদিক
দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে শুটিং, আর্চারির নাম উচ্চারণ করেছেন।
এরপর তৃতীয় নামটি এসেছে হকির। অনেক দিন থেকেই
ক্রীড়াঙ্গনের সবাই শুনে আসছে
হকির অনেক সম্ভাবনা কিন্তু
হকির সংগঠকদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলও সমস্যা। এটাও সাংবাদিকরা তুলে
ধরেছেন ক্রীড়া মন্ত্রীর কাছে।
বাংলাদেশের
ক্রীড়াঙ্গনের তীর্থস্থান পল্টন-গুলিস্থান। সেই এলাকা সন্ধ্যার
পর থেকে মাদকের অভয়ারণ্য।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল, গতকাল
সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট কমিউনিটিতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্টেডিয়ামের
নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে
সামগ্রিকভাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি অত্যন্ত
গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’
আমিনুল
হক সাবেক জাতীয় অধিনায়ক। তৃণমূলের ফুটবলার থেকে এখন ক্রীড়াঙ্গনের
সর্বোচ্চ ব্যক্তি। তিনি সাংবাদিকদের ক্রীড়াঙ্গনের
স্বার্থে সত্য ও বাস্তব
জিনিস তুলে ধরার আহ্বান
জানান এবং তার সময়ে
ক্রীড়াঙ্গনে মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেন।
আমিনুল হক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
হওয়ার পর আজই জাতীয়
ক্রীড়া পরিষদে প্রথম এসেছেন। সাবেক তারকা ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক কামরুন
নাহার ডানা, এশিয়ান আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজিব উদ্দিন
আহমেদ চপলসহ অনেকেই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আবারও পেশাদার বক্সিং রিংয়ে ফিরছেন
সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্লয়েড মেওয়েদার। ৪৮ বছর বয়সী মার্কিন বক্সার
চতুর্থবারের মতো অবসর ভেঙে চলতি বছরই লড়াইয়ে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত না হলেও এটি
হবে প্রায় নয় বছরের মধ্যে মেওয়েদারের প্রথম আনুষ্ঠানিক পেশাদার লড়াই।
২০১৭ সালে মিশ্র মার্শাল আর্টস তারকা
কনর ম্যাকগ্রেগরকে দশম রাউন্ডে টেকনিক্যাল নকআউটে হারিয়ে নিজের পেশাদার রেকর্ড
৫০-০তে নিয়ে যান মেওয়েদার। সেই জয়ের পরই তিনি সবশেষ অবসরে যান।
তবে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তনের আগে
প্রদর্শনী লড়াইয়ে সাবেক হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন মাইক টাইসনের মুখোমুখি হওয়ার কথা
রয়েছে মেওয়েদারের। সেই লড়াইয়ের তারিখ ও ভেন্যু এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
এক বিবৃতিতে মেওয়েদার বলেন,
‘বক্সিংয়ে আরও রেকর্ড গড়ার সামর্থ্য এখনও আমার আছে। মাইক টাইসনের বিপক্ষে
প্রদর্শনী হোক বা তার পরের পেশাদার লড়াই- দর্শকসংখ্যা, বৈশ্বিক সম্প্রচার ও আয়ের
দিক থেকে আমার ইভেন্টের চেয়ে বড় কিছু হবে না।’
এর আগে ২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৭ সালে অবসর
নিয়েছিলেন মেওয়েদার। তবে পেশাদার ক্যারিয়ার শেষ করলেও বিভিন্ন সময় প্রদর্শনী
লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের আগস্টে জন গট্টি থার্ডের বিপক্ষে
রিংয়ে দেখা গেছে তাকে।
তিন দশকের ক্যারিয়ারে পাঁচটি ভিন্ন
ওজন শ্রেণিতে ১৫টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতেছেন মেওয়েদার। বক্সিং এবং
স্পোর্টস ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আয় করা (পে-পার-ভিউ) শীর্ষ তিনটি ইভেন্টেই মূল
আকর্ষণ ছিলেন এই কিংবদন্তি। এই আর্থিক সাফল্যের কারণেই তাকে ক্রীড়াজগতে মানি
মেওয়েদার নামেও ডাকা হয়।