২৪ নভেম্বর ২০২৫, ৫:০৬ পিএম

নির্বাচনী প্রচারণায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। আজ এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তারা।
এনএসসির চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা দেশের সম্পদ এবং নাগরিকদের একাত্মতার প্রতীক। তাঁদের ভাবমূর্তি কোনো রাজনৈতিক বা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ক্রীড়াঙ্গনের নিরপেক্ষতা ও পবিত্রতার জন্য ক্ষতিকর।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু মহল বা ব্যক্তি খেলোয়াড়দের নির্বাচনী প্রচারণায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। এটি ক্রীড়ানীতি বিরোধী এবং ক্রীড়াঙ্গনের পরিবেশ কলুষিত করতে পারে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্দেশনা, জাতীয় দলের কোনো খেলোয়াড়কে সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারণায় বা কোনো প্রার্থীর পক্ষে ব্যবহার করা যাবে না।
খেলোয়াড়দের কোনো নির্বাচনী সভার মঞ্চে এবং প্রচারণামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সব খেলোয়াড়কে তাঁদের ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে দেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
এনএসসি সতর্ক করেছে, এই নির্দেশনার ব্যত্যয় দেশের সুস্থ ক্রীড়া পরিবেশকে মারাত্মকভাবে কলুষিত করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করাতে বলা হয়েছে।
No posts available.
১ মার্চ ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম
১ মার্চ ২০২৬, ৫:১৬ পিএম
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

দক্ষিণ ইরানের ফার্স প্রদেশের লামার্দ শহরে একটি জিমনেশিয়ামে ইসরায়েলের মিসাইল হামলায় অন্তত ২০ জন নারী ভলিবল খেলোয়াড় ও একজন কোচ নিহত হয়েছেন। ইরানের টেলিভিশন চ্যানেল আল মায়েদান ও এসএনএন নিউজ জানিয়েছে এই খবর।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে তারা জানায়, জিমে ক্লোজ ডোর অনুশীলনের সময়ই হামলাটি চালানো হয়। এসএননের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ওই এলাকায় আঘাত করেছে। হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার সকালে লামার্দ শহরের একটি জিমে হামলা চালায় ইসরায়েল। যেখানে প্রাথমিকভাবে ১৫ জনের বেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি জানায়, হামলার সময় ভবনের ভেতরে শিশুদের উপস্থিতিও ছিল।
তাশিম সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে, শহরের আরও চারটি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় দেশজুড়ে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৭৪৭ জন।
আরও পড়ুন
| মেসি ম্যাজিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে মায়ামির জয় |
|
ভলিবল খেলোয়াড়দের মৃত্যুতে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ভলিবল ফেডারেশন (এফআইভিবি)। তাদের আশঙ্কা, এই ঘটনার ফলে ভলিবল সংশ্লিষ্ট হাজারও মানুষ ‘চরম অনিশ্চিত ভবিষ্যতের’ সামনে পড়ে গেছে।
আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ দল গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে এফআইভিবি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এফআইভিবি সহযোগিতা, সংলাপ, শান্তি ও সংহতিতে বিশ্বাস করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি উত্তেজনা প্রশমিত করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানাই আমরা।’
কর্মকর্তারা জানান, এ হামলার পর অঞ্চলটিতে ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কাজ করা বা ভ্রমণকারী ক্রীড়াবিদ ও স্বেচ্ছাসেবকদের ঝুঁকির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

আধুনিক অলিম্পিকের প্রথম আসরের একটি রৌপ্য পদক ডেনমার্কের এক নিলামে প্রত্যাশার চেয়ে বহু গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। ক্রীড়া ইতিহাসের এই দুর্লভ স্মারকটি রোববার ব্রান রাসমুসেন আর্টস অকশনারের অনলাইন নিলামে হাতবদল হয়।
নিলামে কাড়াকাড়ির পর পদকটি বিক্রি হয় ৯ লাখ ড্যানিশ ক্রোনারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি। আর ক্রেতার প্রিমিয়ামসহ ১৮৯৬ সালের এই পদকটি মোট মূল্য দাঁড়ায় ১১ লাখ ৫২ হাজার ক্রোনার বা ২ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি।
অথচ অকশনারদের পূর্বাভাস ছিল ২ থেকে ৩ লাখ ক্রোনারের মধ্যে। অর্থাৎ সম্ভাব্য সর্বোচ্চ দামের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে ঐতিহাসিক এই পদক।
আরও পড়ুন
| টিটির অনূর্ধ্ব-১৯-এ সেরা নাফিজ-খই খই, অনূর্ধ্ব-১৫-তে মৃদুল-রোজা |
|
এই রৌপ্য পদকটি ১৮৯৬ সালের সামার অলিম্পিকসে প্রদান করা হয়েছিল। আধুনিক অলিম্পিকের প্রথম আয়োজন বসেছিল গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে, যেখানে ১৪টি দেশের ২৪১ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর একটি ছিল ডেনমার্কও।
পদকটির নকশা করেছিলেন ফরাসি শিল্পী জুলস-ক্লেমেন্ত চ্যাপলেইন। পদকের এক পাশে দেখা যায় জিউস একটি গোলক ধরে আছেন, যার ওপর দাঁড়িয়ে আছেন বিজয়ের দেবী নাইকি। তার হাতে অলিভ শাখা। অন্য পাশে খোদাই করা আছে এথেন্সের অ্যাক্রোপলিস ও পার্থেননের চিত্র, সঙ্গে গ্রিক ভাষায় লেখা- “আন্তর্জাতিক অলিম্পিক গেমস, এথেন্স ১৮৯৬।”
নিলাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পদকটি ডেনমার্কের ক্রীড়াবিদ ভিগো জেনসেনের হতে পারে। তিনি ১৮৯৬ আসরে ভারোত্তোলনে ডেনমার্কের প্রথম অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। তবে বিক্রি হওয়া পদকটি নির্দিষ্টভাবে তার সেই সাফল্যের স্মারক কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

বাংলাদেশ টেবিল টেনিসের অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা ও মহিলা বিভাগে ডবল ক্রাউনধারী ১ নম্বর খেলোয়াড় খই খই সাই মারমা। আজ তাঁকে সম্মাননা প্রদান করেছে লন্ডনভিত্তিক সংস্থা আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্ট।
দেশের একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হয়েও বালিকা বয়সে সিনিয়র বিভাগে অংশ নিয়ে গতবছর ইসলামিক সলেডারেটি গেমসে মিশ্র দ্বৈতে রৌপ্যপদক জয় করায় টেবিল টেনিস ডিসিপ্লিনে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
রোববার বিকেলে রাজধানীর লা মেরিডিয়ান ঢাকা হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক খই খই সাই মারমার হাতে “আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬”-এর সম্মাননা স্মারক ও এক লাখ টাকা আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের সভাপতি আবু নাসের শেখ ও সাধারণ সম্পাদক সারফরাজ শাপু উপস্থিত ছিলেন।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সাবেক ও বর্তমান সফল তারকাদের অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে ৭টি ডিসিপ্লিনে মোট নয়জন কৃতী ক্রীড়াবিদকে এ বছর এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আফজাল আহমেদ (ফুটবল), হাবিবুল বাশার সুমন ও মারুফা আক্তার (ক্রিকেট), আমিরুল ইসলাম (হকি), আল আমিন জুমার (ব্যাডমিন্টন) ও সাগর ইসলাম (আর্চারি)। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার চুশাকপাড়া গ্রাামের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উঠে আসা খই খইয়ের টেবিল টেনিসে হাতেখড়ি বান্দরবনের লামায় অবস্থিত কোয়ান্টাম স্কুলে। সেখানকার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন তাঁকে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অন্তর্ভুক্ত করে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চুক্তিভিত্তিক খেলোয়াড় এবং এই বছর বিকেএসপি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
খই খই গত জানুয়ারিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ৮টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে তিনি ৬টি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জপদক জিতে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।
আগামী ৮-১১ এপ্রিল ২০২৬ ভারতে অনুষ্ঠিতব্য সাউথ এশিয়ান জুনিয়র টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ানশিপ-২০২৬ এর প্রাথমিক বাছাইয়ে দুটি সিলেকশনে মোট ১২টি ম্যাচে অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
পুরস্কার গ্রহণের পর খই খই সাই মারমা বর্তমান সরকার ও আয়োজকদেও প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে পদক জয়ের পর তারাই প্রথম তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন,
'যেকোনো সম্মাননা কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি। এটি যেমন আনন্দের, তেমনি দেশের প্রতি দায়িত্ববোধও বাড়িয়ে দেয়। ২০২৩-২৫ সালে সাউথ এশিয়ান জুনিয়রে আমি প্রতিবার ব্রোঞ্জপদক জিতেছি। ২০২৬ আমার শেষ সাউথ এশিয়ান জুনিয়র। সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে দেশ ও ফেডারেশনের সুনাম বাড়াতে চাই।'

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীম নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামিনিসহ রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পাল্টা আক্রমণের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনিদের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। এ ঘটনায় দুবাই বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু।
অল ইংল্যান্ড ওপেন ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাত্রাপথে দুবাই বিমানবন্দরে নেমেছিলেন সিন্ধু। সেখানেই আটকে পড়েন তিনি। সমাজমাধ্যমে ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। কীভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা দেখেছেন, তা-ও লিখেছেন সিন্ধু। তাঁকে এবং তাঁর কোচকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় দূতাবাসকে।
সামাজিকমাধ্যমে সিন্ধু লিখেছেন,
‘‘দুর্ভোগ এখনও কাটেনি এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। কয়েক ঘণ্টা আগে আমরা বিমানবন্দরের যে জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলাম, তার খুব কাছেই একটা বিস্ফোরণ ঘটে। আমার কোচকে দ্রুত সেই এলাকা থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছিল কারণ তিনি ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষের সবচেয়ে কাছে ছিলেন। আমাদের সকলের কাছে এটা অত্যন্ত ভয়ের এবং আতঙ্কের মুহূর্ত।’’
এখন নিরাপদ স্থানে রয়েছেন সিন্ধু,
‘‘দুবাই বিমানবন্দরের কর্মী এবং দুবাই কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আমরা নিরাপদ আছি এবং আমাদের আরও সুরক্ষিত একটা জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের নিরাপদে রাখতে দুবাইয়ের ভারতীয় হাই কমিশন যে নিরন্তর সাহায্য করে গিয়েছে, তার জন্য তাদেরও ধন্যবাদ। আপাতত আমরা কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় রয়েছি।’’

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর 'ক্রীড়া হলে পেশা পরিবার পাবে ভরসা'-এই শ্লোগানে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে উজ্জীবিত করতে চাইছেন আমিনুল হক। সাফ জয়ী ফুটবল দলের অধিনায়ক অমিনুল হক এই শ্লোগানে ক্রীড়াঙ্গনকে আমূল বদলে দিতে একটার পর একটা সভা এবং মত বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চলেছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শুরু ভবিষ্যত কর্মকান্ডের একটা গাইড লাইন পেয়েছেন। পরদিন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) অধিভুক্ত ৫২টি ক্রীড়া ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসে এদেশের ক্রীড়াঙ্গনে উন্নতির অন্তরায়সমূহ জেনে নিয়েছেন। তাঁর পরদিন দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে পুরোপুরি পেশাদারিত্বের উপর দাঁড় করাতে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে বসে তাঁদের সহযোগিতা চেয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদল সেমিনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে।
প্রচলিত সেমিনারের ধরণের চেয়ে ব্যতিক্রম ছিল এই সেমিনারটি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করা হয়নি। সুতরাং মূল নিবন্ধের উপর আলোচনার সুযোগ ছিল না আলোচকদের। বক্তাদের প্রত্যেকের জন্য নির্দ্দিষ্ট ছিল ৩ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে যে যার মতো বক্তব্য দিয়েছেন। যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন, সেই ৯টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচকদের অধিকাংশ ছিলেন ক্রীড়া চিকিৎসক, বিভিন্ন পাবলিক এবং বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। এর বাইরে ৩ জন সাংবাদিক, ৪টি ফেডাশেনের কর্মকর্তা করেছেন আলোচনা। বক্তাদের বক্তব্যে ৪র্থ শ্রেনী থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে শিক্ষাক্রমে খেলা সংযুক্ত করার প্রস্তাব উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে এমওইউ করে সকল খেলায় পেশাদারিত্ব প্রবর্তনের কথা উঠেছে। দেশের সকল ফেডারেশনে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন, খেলোয়াড়দের বীমার আওতায় আনার প্রস্তাবও উঠেছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্পোর্টসের উপর বিষয় উচ্চতর শিক্ষার সুযোগের দাবি উঠেছে। দেশে বিশ্বমানের ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্প গড়ে তুলে দেশের ক্রীড়াবিদদের চাহিদা সংকুলান করে বিদেশে রপ্তানীর আইডিয়াও এসেছে এই সেমিনার থেকে। এক সময়ে দেশের বেশ ক'টি সংস্থা ক্রীড়াবিদদের চাকরির নিশ্চয়তা দেয়ায় ক্রীড়াবিদরা পেয়েছে রুটি রুজির নিশ্চয়তা, বিটিএমসি, বিজেএমসির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর ক্রীড়াবিদদের পরিচর্যা করে না। সত্তর থেকে নব্বই দশকের সেই চেহারা ফিরিয়ে আনতে যুবও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে সংস্থাসমূহকে রাজি করানোর প্রস্তাবও উঠেছে। নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য পৃথক ট্রেনিং সুবিধা নিশ্চিতের দাবিও উঠেছে। জাতীয় খেলা কাবাডির সমৃদ্ধ অতীত ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত: একটি মাঠকে কাবাডির জন্য নিদ্দিষ্ট করা, আন্ত ইউনিয়ন, আন্ত উপজেলা, আন্ত জেলা কাবাডি আয়োজনের প্রস্তাব এসেছে। তিন ঘন্টার এই সেমিনারে দেশের ক্রীড়ার ভৌত অবকাঠামোর রুগ্ন চিত্র তুলে ধরেছেন সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিত এবং উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণে ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া চর্চার সুযোগ তৈরি করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের আহ্ববায়ক উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ এই সেমিনারকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন-
'আজ আলোচকরা যা বলেছেন, এখান থেকে যদি কিছুটা নিতে পারি, তাহলে এদেশের ক্রীড়াঙ্গনে পেশাদারিত্ব আনা সম্ভব।'
সেমিনারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের সদস্য সচিব জাহিদ পারভেজ চৌধুরী, বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ সোহেল, ডা. অনুপম হোসেন, মোহাম্মদ ওসমান, নয়না চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ আর এফ এ জামান, ড. আসাদুর রহমান, হৃদয় নন্দিতা রিনি, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মাহামুদুল আলম সুমন, মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টু, আব্দুল জলিল, সৈয়দ নুরুজ্জামান, কামরুন্নাহার ডানা, নিয়ামুর রশিদ রাহুল এবং ক্রীড়া সাংবাদিক পরাগ আরমান, শামীম চৌধুরী ও রায়হান আল মুঘনি এই সেমিনারে আলোচনা করেছেন।
এই সেমিনার শেষে জাতীয়বাদী ক্রীড়া দলের ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছেন যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।