২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম

বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা গোলরক্ষকদের মধ্যে অন্যতম আমিনুল হক এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক। ২০১০ সালে দক্ষিণ এশিয় ফুটবলে ট্রফি জয়ী এই অধিনায়ক গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আমূল পরিবর্তনের রোডম্যাপ তৈরি করতে চান। সে কারণেই দায়িত্ব গ্রহনের মাত্র ৬ দিনের মাথায় ক্রীড়া সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে এদেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রকৃত চিত্র জেনে নিয়েছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে রোববার 'ক্রীড়া হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা'- এই শ্লোগানে মেধাবি ক্রীড়াবিদদের পরিচর্যা্ এবং তাদের আর্থিক নিশ্চয়তায় করনীয় প্রস্তাবনাসমূহ ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাছ থেকে জেনেছেন।
তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়াঙ্গনে গতিশীলতা আনতে উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা, বিভাগ হয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রাজণীতিমুক্ত ক্রীড়াঙ্গন পরিচালনার দর্শন তার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলাসমূহে মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে টাকা অপচয়ের পক্ষে নন আমিনুল হক। প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ উন্মুক্ত করতে চান তিনি-
'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়াম নয়, মাঠের দিকে মনযোগ দিতে বলেছেন। জেলা স্টেডিয়ামগুলো এমনিতেই দেখাশুনা করা যায় না। সেখানে উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামগুলো কীভাবে পরিচর্যা করা হবে, তা আমার মাথায় আসছে না। স্টেডিয়াম এবং গ্যালারিকে ফোকাস না করে খেলোয়াড়দের দিকে ফোকাস করতে চাই। প্রতিটি জেলা-উপজেলার খালি মাঠকে খেলার উপযোগী করতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি অনুরোধ করব।'
দেশের যে সব জেলায় ক্রীড়া অফিসার পদ শুণ্য, সে সব জায়গায় ক্রীড়া অফিসার নিযোগ ৪৯৫টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ দিয়ে ক্রীড়াবিদ তৈরির কাজে হাত দেয়ার কথাও ভাবছেন নব নিযুক্ত ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এসব ক্রীড়া আফিসার এবং ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগে শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে বিপিএড সার্টিফিকেটকে একমাত্র মাণদণ্ড হিসেবে বিবেচনা না করে সাবেক ক্রীড়াবিদদের অগ্রাধিকার দিতে চান যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। দেশের যেসব স্কুলে খেলার মাঠ আছে, সেসব স্কুলে পাঠদান শেষে বিকেলে খেলা চর্চার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের মাধ্যমে নোটিশ দেয়ার পক্ষে তিনি।
৪র্থ শ্রেনী থেকে খেলাধুলা চর্চাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার জন্য ৫টি খেলা নির্ধারণ নিয়ে সাংবাদিকদের মতামত চেয়েছেন। দেশের জনপ্রিয় দুটি খেলা ফুটবল্এবং ক্রিকেটকে অপরিহার্য রেখে হকি, অ্যাথলেটিক্স, কাবাডি, আর্চারি, কারাতে, তায়কোয়ানডো, হ্যান্ডবল থেকে অন্য ৩টি খেলাকে বেছে নেয়ার প্রস্তাব এসেছে উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে।
দেশের ৬৪টি জেলায় গ্যালারি বিহীন ইনডোর নির্মাণে ক্রীড়া মন্ত্রানালয়ের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রাজধানীতে খেলার মাঠের সংকট কাটাতে প্রতি ২টি ওয়ার্ডে অন্তত একটি খেলার মাঠ প্রস্তুত করে সেখানে সর্বস্তরের নগরবাসীদের হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে করার পরিকল্পনা হাতে নিতে চান যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ফুটবল-ক্রিকেট-রাজধানী ভিত্তিক ক্রিকেট ছাড়া দেশের অধিকাংশ খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেনি ক্রীড়াবিদরা। তা ভালই জানেন আমিনুল। ক্রীড়াবিদ এবং তাদের পরিবারকে সাবলম্বি করে তুলতে খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান আমিনুল। খেলোয়াড়দের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদেরও পেশার আওতায় আনতে সরকারের ইচ্ছা আছে জানিয়েছেন তিনি। প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশনকেও সাবলম্বী করার পরিকল্পনা আছে বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের। স্পন্সর প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং দেশের শীর্ষ কর্পোরেট হাউজগুলোর সঙ্গে বসতে চান একারনেই।
যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন নিয়ে তুলেছেন প্রশ্ন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পরপর গণমাধ্যমকে বলেছেন-
'ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এখন দায়িত্বশীল জায়গায় আছি, আমি তাদের সাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব, কীভাবে আমরা ভাল একটি পর্যায়ে যেতে পারি।'
রোববার গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিসিবির ভবিষ্যত নিয়ে কিছুই বলেননি যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এমনকি অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে জেলাও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসমূহ এবং ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহের গঠিত এডহক কমিটি ভেঙ্গে নির্বাচনের আশু পরিকল্পনার কথাও সাংবাদিকদের জানাননি আমিনুল হক। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের দিন ধার্য করেছেন নব নিযুক্ত যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। হয়তবা এই সভাতেই একটা নির্দেশনা আসবে তাঁর পক্ষ থেকে।
No posts available.
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪০ এম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২:০৯ পিএম
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩:১৯ পিএম

অটিজমসহ অন্যান্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং ব্যক্তিদের জন্য আবাসনভিত্তিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে খেলাধুলায় উৎসাহী করতে এগিয়ে এসেছে ডিসেবিলিটি অ্যাম্পাওয়ার্মেন্ট ফর সাসটেইনেবল ইমপ্যাক্ট (দেশি) ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্পোর্টস, বিশেষ শিক্ষা ও দৈনন্দিন শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে চলেছে।
দেশি ফাউন্ডেশন ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়। গতকাল শনিবার বর্ষবরণ ও আনন্দ অনুষ্ঠানের মাঝে দেশি স্পোর্টস সেন্টার, দেশি থেরাপি সেন্টার ও দেশি অ্যাকাডেমিক সেন্টার উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে দেশি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর নতুন সংযোজন যুক্ত হল।
গতকালের আনন্দ অনুষ্ঠান ও সেন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ও ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের (এনপিসি) সহ-সভাপতি মো. নাসিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সমাজ সেবা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সাজ্জাদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন সমাজসেবক ও ক্রীড়া সংগঠক মো. সাইফুল কবির, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হাসান এবং এনপিসির কোষাধ্যক্ষ মো. আসিফুল হাসান মাসুদ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনপিসির সাধারণ সম্পাদক এবং দেশি ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশি ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. রাসেল কবির সুমন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দেশি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি মো. সানোয়ার হোসেন এবং এনপিসির যুগ্ম সম্পাদক হেদায়েতুল আজিজসহ আরও অনেকে।

বিশ্ব বাস্কেটবলে যেন এক
যুগের অবসান ঘটল। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ৬৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ
করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি বাস্কেটবল তারকা অস্কার শ্মিট। পরিবার ও ব্রাজিল বাস্কেটবল
ফেডারেশন তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
নাটাল শহরে জন্ম নেওয়া
এই লম্বাকৃতির ফরোয়ার্ডকে ভক্তরা ডাকতেন ‘হলি হ্যান্ড’ (পবিত্র হাত)। ২৫ বছরের দীর্ঘ
ক্যারিয়ারের এমন এক স্কোরিং মেশিন হয়ে উঠেছিলেন, যার নাম বিশ্ববাস্কেটবলের ইতিহাসে
অনন্য উচ্চতায় লেখা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাস্কেটবল সংস্থার প্রতিযোগিতায় তাঁর মোট পয়েন্ট
৪৯ হাজার ৭০৩—যা এখনো সর্বোচ্চ।
অস্কারের অর্জনের তালিকাও
বেশ লম্বা। অলিম্পিক গেমসে করেছেন মোট ১০৯৩ পয়েন্ট, যা এখনো রেকর্ড। টানা পাঁচটি অলিম্পিকে
অংশ নিয়েছেন—মস্কো, লস অ্যাঞ্জেলেস, সিউল, বার্সেলোনা ও আটলান্টা। ১৯৮৮ সালের সিউল
অলিম্পিকে স্পেনের বিপক্ষে এক ম্যাচেই ৫৫ পয়েন্ট করে গড়েছিলেন একক ম্যাচে সর্বোচ্চ
স্কোরের ইতিহাস।
ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে
অস্কার খেলেছেন চারটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে। জাতীয় দলের জার্সিতে ৩২৬ ম্যাচে তাঁর পয়েন্ট
সংখ্যা ৭ হাজার ৬৯৩। ১৯৭৮ সালে ফিলিপাইনে জিতেছিলেন ব্রোঞ্জ। তবে সবচেয়ে স্মরণীয় অর্জন
১৯৮৭ সালের প্যান আমেরিকান গেমসের স্বর্ণপদক, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে ইতিহাস
গড়ে ব্রাজিল।
ক্লাব ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ
সময়ই নিজ দেশে খেললেও ইউরোপেও অস্কারের পদচারণা ছিল। ইতালির জুভেকাসার্তা ও পাভিয়া
এবং স্পেনের ফোরাম দে ভায়াদোলিদ ক্লাবে খেলেছেন তিনি।
অনেকবার ন্যাশনাল বাস্কেটবল
লিগে খেলার সুযোগ পেলেও অস্কার যাননি। কারণ তখন নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় দলের হয়ে খেলার
সুযোগ হারাতে হতো। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই তাঁর কাছে
সবচেয়ে বড় গৌরব।
অস্কারের মৃত্যুতে শোক
জানিয়েছে ব্রাজিলের বিভিন্ন ক্লাব ও ক্রীড়া সংগঠন। ফ্লামেঙ্গো, পালমেইরাস ও ভাস্কো
দা গামা। ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর প্রভাব শুধু ব্রাজিলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বাস্কেটবল কিংবদন্তি
কোবি ব্রায়ান্টসহ অনেকেই তাঁকে আদর্শ মানতেন।
খেলা ছাড়ার পরও অস্কার
থেমে যাননি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন, অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা দিয়েছেন
হাজারেরও বেশি অনুষ্ঠানে। অস্কার শ্মিড্টের বিদায়ে বাস্কেটবল বিশ্ব হারাল এমন এক খেলোয়াড়কে,
যিনি শুধু পয়েন্টের হিসাবেই নয়, নিষ্ঠা আর ভালোবাসার প্রতীক হিসেবেও ইতিহাসে জায়গা
করে নিয়েছেন।

আগামী ২২ এপ্রিল থেকে চীনের হাইনান প্রদেশের সানিয়া শহরে শুরু হতে যাচ্ছে ৬ষ্ঠ এশিয়ান বীচ গেমস। মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে অংশ নিতে দেশ ছাড়ার আগে আজ বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী কাবাডি দলের খেলোয়াড়রা।
সাক্ষাৎকালে আইজিপি খেলোয়াড়দের মনোবল বৃদ্ধিতে উৎসাহ প্রদান করেন এবং বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মান বজায় রেখে সেরাটা খেলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ, যুগ্ম সম্পাদক ও টিম অফিসিয়াল পুলিশের ডিআইজি ইসরাইল হাওলাদার, সদস্য ও পুরুষ দলের কোচ বাদশা মিয়া, নারী দলের কোচ শাহনাজ পারভীন মালেকা এবং ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান চুন্নুরা উপস্থিত ছিলেন।

পান্তা-ইলিশ, ঢাক-ঢোল আর উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নিল ক্রীড়াঙ্গন। রাজধানীর পল্টন ময়দানে আজ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ‘কিউট বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব’। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য ও গ্রামীণ খেলাধুলাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে সরকার বদ্ধপরিকর, ‘মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সহযোগীদের সমন্বয়ে আগামী বৈশাখ থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় এই ধরণের গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের কাছে হাড়িয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে পরিচিত করা।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নারী ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে সমভাবে এগিয়ে নিতে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। নারী ক্রীড়া সংস্থার জন্য খুব শীঘ্রই একটি বড় ধরনের বিশেষ ঘোষণা আসার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘নারী ক্রীড়াবিদদের নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হবে।’
খেলাধুলাকে সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলা ও উৎসবের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। সমাজের সকল বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা মননশীলতা, আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।’
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী প্রচণ্ড দাবদাহ ও গরমের মধ্যেও ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য উপস্থিত দর্শক ও ক্রীড়াবিদদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এরপর তিনি ‘কিউট বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। দিনব্যাপী এই উৎসবে বিভিন্ন গ্রামীণ ও লোকজ খেলাধুলার পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হয়।

রাজধানীর পূর্বাচলে বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে ফর্টিস গ্রুপ গড়ে তুলেছে আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স। যার নাম দিয়েছে ফর্টিস জলসিড়ি গ্রাউন্ড। যেখানে ইতোমধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলাধুলার অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। এবার সেই কমপ্লেক্সে একেবারেই নতুন একটি খেলা যুক্ত করেছে দেশের শীর্ষ এই শিল্পগোষ্ঠী। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তারা প্রতিষ্ঠা করেছে ইকুয়েস্ট্রিয়ান (অশ্বারোহী) ক্লাব।
অলিম্পিক গেমসের অন্তর্ভুক্ত হলেও ইকুয়েস্ট্রিয়ান খেলা বাংলাদেশে এখনও সেভাবে পরিচিত নয়। তবে বিশ্বজুড়ে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সাধারণত অভিজাত শ্রেণির মানুষদের মধ্যেই বেশি প্রচলিত। এই খেলাটিকে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় করে তুলতেই ফর্টিস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন নিয়েছেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
প্রাথমিকভাবে তিনটি ভারতীয় ঘোড়া দিয়ে ফর্টিস ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউরোপ থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হর্স পোলো চালুর ব্যাপারে আশাবাদী ক্রীড়াপ্রেমী উদ্যোক্তা। ফর্টিস গ্রুপের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ইকুয়েস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশনও।
সোমবার ফর্টিস ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাহাদাত হোসেন জানান, ছোটদের মধ্যেই ঘোড়সওয়ারি শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ভবিষ্যতে যেন এই শিশুরাই আন্তর্জাতিক আসরে, বিশেষ করে অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন,
‘বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই এখনও পিছিয়ে। অথচ বিশ্বজুড়ে হর্সরাইডিং ও হর্স পোলো খুবই জনপ্রিয়। আমাদের দেশে এসবের কোনো ক্লাব বা প্রতিযোগিতা নেই। তাই নতুন প্রজন্মকে ভিন্নধর্মী একটি খেলায় যুক্ত করতেই এই ক্লাব শুরু করেছি।’
আপাতত ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঘোড়া পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা যায়। ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে ক্লাবটির, যাতে শিশুদের আগ্রহ জন্মে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ফরিদুল আকবর ২০০৯ সালে ভারতে ইকুয়েস্ট্রিয়ান খেলা দেখে দেশে একটি সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন। তবে নানা সীমাবদ্ধতায় সেটি সক্রিয়ভাবে এগোতে পারেনি। অল্প কিছু রাইডার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিদেশে গিয়ে বা অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই খেলা শিখেছেন। ফর্টিস গ্রুপের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন,
‘একজন মানুষ এই খেলাকে এগিয়ে নিতে এগিয়ে এসেছেন, এটা বড় বিষয়। তার নেতৃত্বে দেশে আরও ক্লাব ও ব্রিডিং ফার্ম গড়ে উঠবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
বাংলাদেশ ইকুয়েস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং পেশাদার হর্স রাইডার তাহিয়া ইসলাম জানান দেশে এই খেলার কোনো শক্ত প্ল্যাটফর্ম না থাকায় অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়,
‘আমরা চাই মানুষ জানুক, এটাও একটি সম্ভাবনাময় খেলা। আমাদের অনেক প্রতিভাবান রাইডার রয়েছে, যারা সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভালো করতে পারবে।’
ফর্টিস ক্লাবকে আন্তর্জাতিক মানের বলে অভিহিত করে তাহিয়া বলেন,
‘আমি বিভিন্ন দেশের রাইডিং ক্লাব দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এখানকার সুবিধা অনেক উন্নত।’
এতদিন ফুটবলের জন্যই বেশি পরিচিত ছিল ফর্টিস। দেশের শীর্ষ লিগে কয়েক বছর ধরে খেলছে দলটি এবং বর্তমান মৌসুমে শিরোপা লড়াইয়েও রয়েছে। পাশাপাশি তাদের যুব একাডেমি থেকে নিয়মিত প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসছে। এবার ঘোড়সওয়ারি খেলাতেও অবকাঠামো গড়ে তুলে এই খেলাকে জনপ্রিয় করতে চায় তারা।