১৬ নভেম্বর ২০২৫, ৩:২০ পিএম

হ্যান্ডবলের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা সখীর মতো বললেও ভুল হবে না। একজন খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি, এজেন্ট, ম্যানেজার এবং শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা- অস্থিমজ্জায় যার হ্যান্ডবল! অনেক কিছুরই স্বাদ পেয়েছেন, ৬৬ ছুঁই ছুঁই গার্ড বুটসেক এবার ইন্টারন্যাশনাল হ্যান্ডবল ফেডারেশনের (আইএইচএফ) দায়িত্ব নিতে চান।
১৯৫৯ সালে জার্মানির সোলিঙ্গেনে জন্ম বুটসেকের। ২৭ বছরে বুন্দেসলিগার সর্বকনিষ্ঠ রেফারির কীর্তি গড়েন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি মিউনিখের টিএসভি মিলবার্টশোফেনে জার্মান হ্যান্ডবলে প্রথম পেশাদার টিম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় রেফারির পদ ছাড়েন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত জাতীয় দলগুলোর ম্যানেজারও ছিলেন। আন্তর্জাতিক বিচ হ্যান্ডবল বিকাশের পথিকৃৎও ছিলেন তিনি।
২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইএইচএফ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ইএইচএফ প্রফেশনাল হ্যান্ডবল বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন বুটসেক। তাঁর ভাষায, 'হ্যান্ডবল আরও বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্য'। নির্বাচিত হলে দক্ষিণ এশিয়া এবং বাংলাদেশের হ্যান্ডবল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চান। টি স্পোর্টসকে বললেন নির্বাচিত হলে প্রধান অগ্রাধিকার অলিম্পিক গেমসের কেন্দ্রে হ্যান্ডবলকে ধরে রাখা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন লাইছ ত্বোহা।
বিচ হ্যান্ডবলে ২০০১ সালের ওয়ার্ল্ড গেমসে জেতার পর
টি-স্পোর্টস: আইএইচএফের নতুন সভাপতির প্রধান অগ্রাধিকারগুলো কী হওয়া উচিত? আপনার কী মনে হয়?
গার্ড বুটসেক: নম্বার ওয়ান অগ্রাধিকার হলো হ্যান্ডবলের অলিম্পিক স্থিতি নিশ্চিত করা। এটি অর্জন করতে হলে আমাদের খেলাকে বিশ্বের বৃহত্তম বাজার—ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রসারণ করতে হবে। আইওসি এমন খেলাকে মূল্য দেয় যার বৈশ্বিক প্রসার শক্তিশালী এবং টিভি রেটিং ভালো। এসব অঞ্চলে দর্শকসংখ্যা বাড়ানো ছোট বাজারের তুলনায় অনেক বেশি প্রভাব ফেলবে। এটি হ্যান্ডবলকে সত্যিকারের বৈশ্বিক খেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপার।
টি-স্পোর্টস: উদীয়মান দেশগুলোতে হ্যান্ডবলের বিকাশ এবং খেলাটিকে আরও বৈশ্বিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে আপনি কী ধরনের উদ্যোগ নিতে চান?
বুটসেক: প্রাপ্যতাই মূল বিষয়। আমি তৃতীয় একটি ডিসিপ্লিন চালু করতে চাই: আরবান হ্যান্ডবল। এটি হ্যান্ডবলের সরলীকৃত রূপ—কম খেলোয়াড়, বাস্কেটবল কোর্ট, স্কুলের মাঠ এবং আউটডোর স্পেসে খেলা যায়। কম বাধা, সহজ নিয়ম এবং আরও মজা। এটি হ্যান্ডবলকে সবার জন্য, সব জায়গায় সহজলভ্য করবে।
টি স্পোর্টস: নির্বাচিত হলে হ্যান্ডবলে প্রথম কোন পরিবর্তন আনবেন?
বুটসেক: আমি ইন্টারন্যাশনাল হ্যান্ডবল ফেডারেশনের বর্তমান 'টাকা বাঁচানো' মানসিকতা পরিবর্তন করে 'উন্নয়নে বিনিয়োগ' করার দিকে নিয়ে যাব। উন্নয়নের জন্য সম্পদের প্রয়োজন এবং আমাদের হ্যান্ডবলের ভবিষ্যতের জন্য সাহসীভাবে বিনিয়োগ করতে হবে।
টি স্পোর্টস: বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
বুটসেক: বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ফুটবলসহ শক্তিশালী ক্রীড়া সংস্কৃতি আছে। আমার পদ্ধতি হলো সহযোগিতা—বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সঙ্গে বসে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা। তারা তাদের দেশ সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানে—আমাদের ভূমিকা হবে সহায়তা ও ক্ষমতায়ন করা, নির্দেশ দেওয়া নয়।
টি স্পোর্টস: দক্ষিণ এশিয়ায় হ্যান্ডবলে মানুষকে আরও যুক্ত করতে কী করা উচিত?
বুটসেক: হ্যান্ডবল শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ হতে হবে। সহজ প্রবেশাধিকার, সহজ নিয়ম। এ ছাড়াও হ্যান্ডবল হলো মূল্যবোধের খেলা: ন্যায়, সম্মান, প্রতিশ্রুতি। এই মূল্যবোধ দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের সাথে গভীরভাবে সংযোগ ঘটাতে পারে। আরবান হ্যান্ডবলের মতো প্রকল্পগুলো—যেগুলোর জন্য বড় অবকাঠামো লাগে না, দক্ষিণ এশিয়ায় হ্যান্ডবলকে সহজলভ্য করতে পারে।
টি স্পোর্টস: এই অঞ্চলের হ্যান্ডবলের ভবিষ্যৎ আপনি কীভাবে দেখছেন?
বুটসেক: এশিয়া বৃহত্তম মহাদেশ এবং আফ্রিকার সঙ্গে মিলিয়ে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বাজার। আইএইচএফের অবশ্যই এই অঞ্চলে ব্যাপক বিনিয়োগ করতে হবে—এটি কোনো বিকল্প নয়, বরং একটি কৌশলগত প্রয়োজন।
টি স্পোর্টস: বর্তমানে বিশ্ব হ্যান্ডবলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
বুটসেক: আমাদের স্বীকার করতে হবে হ্যান্ডবলও একটি ব্যবসা। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে আধুনিক কাঠামো ও পেশাদার পদ্ধতি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে আইএইচএফে ২০ জন কর্মী আছে, যেখানে বাস্কেটবলে আছে ২০০ জন। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় থাকতে হলে এই ব্যবধান কমাতে হবে।
তিনবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আন্দ্রে লাভেরভের সঙ্গে
বিশ্বব্যাপী হ্যান্ডবল প্রচারের অনেক উপায় আছে—বড় টুর্নামেন্টের হাইলাইট ক্লিপ বিনামূল্যে দেওয়ার মিডিয়া কৌশল, আইএইচএফের সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক উন্নতি ইত্যাদি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, এটি তরুণদের অনুপ্রাণিত করা, স্কুলে এবং ক্লাবে হ্যান্ডবল খেলতে উৎসাহিত করা—এসবের উপর নির্ভর করে।
টি স্পোর্টস: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত করবেন?
বুটসেক: নেতৃত্বের আমার ধারণা হলো—বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কাজ করা, যাদের স্পষ্ট দায়িত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আছে। সভাপতি একা সব সিদ্ধান্ত নেবে—এমনটা হওয়া উচিত নয়। কমিশনগুলোকে আবার সক্রিয় করতে হবে, যাতে তারা নেতৃত্ব নেয় এবং অগ্রগতি চালায়। দ অবশ্যই, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকতে হবে, যাতে সব স্টেকহোল্ডার একত্রে হ্যান্ডবলের ভবিষ্যতের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমার দাবি যেমন বলে: হ্যান্ডবল আরও বেশি প্রাপ্য!
টি স্পোর্টস: এই অঞ্চলের অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা উন্নয়নে আইএইচএফ কী ভূমিকা রাখতে পারে?
বুটসেক: এটি মূলত মহাদেশীয় ফেডারেশনের দায়িত্ব। আইএইচএফের ভূমিকা হলো সক্ষম করে তোলা, সহায়তা করা এবং কার্যকর যোগাযোগ রাখা। সবাইকে তাদের অংশটুকু করতে হবে—সহযোগিতা এবং স্পষ্টতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমি আইএইচএফ সভাপতি হলে বিশ্বব্যাপী অনেক বেশি বিনিময় ও অবকাঠামো প্রকল্প দেখা যাবে।
আগামী ১৯ থেকে ২২ ডিসেম্বর মিশরের কায়রোতে হবে আইএইচএফ নির্বাচন কংগ্রেস।
No posts available.
১৭ মার্চ ২০২৬, ৭:৪২ পিএম
১৬ মার্চ ২০২৬, ৭:২৩ পিএম
১৬ মার্চ ২০২৬, ৫:০৭ পিএম
১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৫২ এম

নেপাল ক্রীড়া ফেডারেশনের আওতাধীন জাতীয় জুডো সংঘের উদ্যোগে 'অষ্টম নেকোস (NECOS) আন্তর্জাতিক জুডো চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬' কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় জুডো সংঘ জানিয়েছে যে, আগামী ৫ থেকে ৯ চৈত্র পর্যন্ত কাঠমান্ডুর নয়া বাজারে অবস্থিত বহুমুখী মার্শাল আর্ট কেন্দ্রে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় জুডো সংঘ নেপালের সভাপতি ধর্মকুমার শ্রেষ্ঠ জানান, এই প্রতিযোগিতায় নেপালের বিভিন্ন প্রদেশ, জেলা, ক্লাব, স্কুল ও ডোজোর খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভুটানের খেলোয়াড়সহ মোট ৩০০ জন অংশগ্রহণ করবেন।
পুরুষ ও মহিলা উভয় বিভাগে বিভিন্ন ওজন শ্রেণিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিজয়ীদের স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদকের পাশাপাশি সনদপত্র প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ক্যাডেট ও জুনিয়র উভয় গ্রুপে পুরস্কার হিসেবে:
সেরা ২ জন মহিলা ও ২ জন পুরুষ খেলোয়াড়কে: জনপ্রতি ৫,০০০ রুপি করে প্রদান করা হবে।
সভাপতি শ্রেষ্ঠ আরও জানান যে, অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য ৫ লক্ষ রুপির বীমা করা হয়েছে। তাঁদের থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা আয়োজক কমিটিই করবে। পুরো প্রতিযোগিতাটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৩১ লক্ষ রুপি খরচ হবে বলে জানানো হয়েছে।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের গৌরব মৃতপ্রায়। সেটি আবার ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তুলে আনতে দেশব্যাপী উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এমনটাই আজ জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আশি-নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। এই আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সম্মেলন কক্ষে ক্রীড়া পরিদপ্তরের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে ছিলেন দেশের সকল জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং জেলা ক্রীড়া অফিসাররা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আগামী ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন।
সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল বলেন,
‘১২-১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৭টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা হবে। প্রাথমিকভাবে সিলেট থেকে এই যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাগুলো প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে শুরু হবে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,
‘নতুন কুড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ তৈরী হচ্ছে। বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে সরকারি ক্রীড়া বৃত্তি। এছাড়া ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি মাধ্যমে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ, পড়াশোনা এবং সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করবে সরকার। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ ও কর্মঠ জাতি গঠনে এই উদ্যোগ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’

ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা হকি- প্রায় সব খেলাধুলাতেই রেফারির প্রয়োজন। মাঠের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও বেশিরভাগ সময় তারাই থাকেন অবহেলিত এবং সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত। ফেডারেশন বা সংস্থা থেকে রেফারিদের জন্য সম্মানী থাকলেও অনেক সময় দেখা যায় তা পাওনা খাতাতেই থেকে যায় বছরের পর বছর। রেফারি কিংবা আম্পায়াররা যাতে আরেকটু সুযোগ-সুবিধা পান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানী পান সেজন্য তাদেরকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) আওতায় আনতে পরিকল্পনা করছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আজ সোমবার পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন আমিনুল হক। এরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানেই জানান সরকারের এই পরিকল্পনার কথা,
‘প্রতিটি সেক্টরে, গেমসে কিন্তু রেফারির প্রয়োজন হয়। কিন্তু তারা ক্রীড়া পরিষদের আওতায় নেই। আমাদের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি যে আমরা পরবর্তীতে সকল রেফারিদেরকে ক্রীড়া পরিষদের আওতায় এনে কীভাবে তাদেরকে একটি কমিউনিকেশনের মাধ্যমে তাদের আরও বেশি ইনভলভমেন্ট বাড়াতে পারি, তাদের যে সুযোগ-সুবিধা দরকার সেগুলো আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ দিতে পারি, সে বিষয়গুলো নিয়ে একটি প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এটা এখনো ফাইনাল পর্যায়ের না।’
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক রেফারিদের গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের মূল্যায়ন করে তিনি বলেন,
‘আমরা আলোচনা শুরু করেছি। পরবর্তীতে রেফারিদের সঙ্গে বসতে হবে। আমাদের ক্রীড়া পরিষদের যে নীতিমালা রয়েছে, কিছু জায়গা হয়তোবা পরিবর্তন করতে হবে। সেগুলো পরিবর্তন করে আমরা চাই যেন রেফারিরাও আমাদের একটি অংশ হয়। তাদেরকেও আমাদের ভিতরে নিয়ে আসা হবে।’
এদিকে, আগামী ৩০ এপ্রিল ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যে কারণে এখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ক্রীড়া পরিষদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকর্তারা। সরকারের স্পোর্টসভিত্তিক এই কার্যক্রমের মিটিং শেষে আজ হঠাৎ স্টেডিয়াম এলাকা পরিদর্শন করেন বলে জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় সুইমিংপুলে গ্যাস সমস্যা দীর্ঘদিনের। স্কোরবোর্ড অকেজো ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে। সেদিকে নজর দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
দীর্ঘ ৩২ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' অলিম্পিক গেমস। লস অ্যাঞ্জেলেসে হতে যাওয়া বৈশ্বিক এই ইভেন্টে নিজ দেশেই নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে যাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করায় ট্রাম্পসহ মার্কিন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনের অলিম্পিক ও বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্ট থেকে নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (ওয়াডা)।
২০২৩ ও ২০২৪ সাল মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া পাওনার পরিমাণ ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০ কোটি টাকা)।
মূলত রাশিয়ার ডোপিং কেলেঙ্কারি ও সম্প্রতি চীনের ২৩ জন সাঁতারুর পজিটিভ ডোপ টেস্টের ফলাফল ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ওয়াডার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ওয়াশিংটন। তারই প্রতিবাদে চাঁদা দেওয়া বন্ধ রেখেছে মার্কিন প্রশাসন।
ওয়াডার নিয়ম অনুযায়ী, বকেয়া পরিশোধ না করলে কোনো দেশ কমিটিতে থাকতে পারে না। ফলে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পদটি শূন্য বা স্থগিত অবস্থায় আছে।
এর আগে ২০২৪ সালে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছিল ওয়াডা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়।
বর্তমানে নির্বাহী কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পদ না থাকায় ওয়াডার এই নীতিমালায় পরিবর্তন আনা সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার সংস্থাটির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নিয়মটি পুনরায় পাসের জন্য তোলা হচ্ছে।
এই নিয়ম কার্যকর হলে ২০২৮ সালে নিজেদের মাটিতে অলিম্পিক হলেও ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স সেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে উপস্থিত থাকার অধিকার হারাতে পারেন। এমনকি চলতি বছরের ফুটবল বিশ্বকাপেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়াডা সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছে, এই নিয়মটি অতীতের কোনো ইভেন্টে প্রযোজ্য হবে না। তবে নথিপত্র বলছে, নিয়মটি পাস হলে তা ‘বিলম্ব না করে’ কার্যকর করা হতে পারে। আইওসি বা ফিফা এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
ওয়াডার মুখপাত্র জেমস ফিটজেরাল্ড, এটি কোনো নতুন বিষয় নয় এবং নির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করে এই নীতিমালা করা হচ্ছে না। তবে মার্কিন সরকারের ন্যাশনাল ড্রাগ কন্ট্রোল পলিসির পরিচালক সারা কার্টার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা ওয়াডার হুমকির মুখে নতি স্বীকার করবেন না।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য, বিকেএসপির সাবেক উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক অ্যাথলেট শামিমা সাত্তার মিমু শুক্রবার রাতে ঢাকায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বিষয়টি তাঁর ছেলে শাহরিয়ার শরীফ নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায় দীর্ঘদিন যাবৎ ভাটিকা ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন শামিমা। মরহুমার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে দিনাজপুরে বাবার কবরের পাশে দাফন করার জন্য ঢাকার বাসভবন থেকে দিনাজপুরে নেওয়া হয়েছে।
শামিমা বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি প্রশিক্ষক ও বিচারক হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা ও কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে, বিশেষ করে অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়নে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তা, কোচ, অ্যাথলেট ও সংশ্লিষ্ট সকলেই গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।