
২৫তম শীতকালীন অলিম্পিকের পর্দা উঠছে কাল। ইতালির মিলান ও কোর্তিনা দ’আম্পেজো—এই দুই শহরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হবে এবারের আসর।
দুটি শহরে একযোগে মশাল প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে অলিম্পিকের আনুষ্ঠানিকতা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান ভেন্যু মিলানের ঐতিহাসিক সান সিরো স্টেডিয়াম। একই সময়ে কোর্তিনা দ’আম্পেজোর অলিম্পিক আইস স্টেডিয়ামেও চলবে উদযাপন। বড় পর্দায় দুই শহরের অনুষ্ঠান একে অপরের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত শিল্পী মারাইয়া কেরি, আন্দ্রেয়া বোচেল্লি ও লরা পাউসিনি। উপস্থিত থাকবেন অভিনেতা পিয়েরফ্রানচেস্কো ফাভিনো, সাব্রিনা ইমপাচিয়াতোরে এবং ইতালিয়ান র্যাপার ঘালি। অনুষ্ঠান শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
এবারের শীতকালীন অলিম্পিকে ৯০টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৯শ অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে নারী অ্যাথলেটের অংশগ্রহণ ৪৭ শতাংশ। ৮টি খেলায় ১৬টি ডিসিপ্লিনে মোট ১১৬টি মেডেল ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাঁরা।
মিলানে অনুষ্ঠিত হবে আইস হকি, ফিগার স্কেটিং, স্পিড স্কেটিং ও শর্ট ট্র্যাক। কোর্তিনা দ’আম্পেজোতে হবে নারী আলপাইন স্কিইং, লুজ, ববস্লে, স্কেলেটন ও কার্লিং। লিভিনিওতে ফ্রিস্টাইল স্কিইং ও স্নোবোর্ডিং, অ্যানথলৎসে বায়াথলন, বোরমিও ও ভ্যাল দি ফিয়েমেতে পুরুষ আলপাইন স্কিইং এবং স্কি মাউন্টেনিয়ারিংয়ের আসর বসবে।
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট নিয়ে মুখ খুললেন সূর্যকুমার |
|
এবারই প্রথম অলিম্পিকের সূচিতে যুক্ত হয়েছে স্কি মাউন্টেনিয়ারিং। এই ইভেন্টে অ্যাথলেটদের পাহাড় বেয়ে ওপরে ওঠার পর স্কি করে নিচে নামতে হবে।
২৫তম শীতকালীন অলিম্পিকে রাশিয়া ও বেলারুশের কিছু অ্যাথলেট নিরপেক্ষ পরিচয়ে অংশগ্রহণের অনুমতি পেয়েছেন। তাঁরা কোনো দলীয় ইভেন্টে খেলতে পারবেন না এবং নিজ দেশের পতাকা বা জাতীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ৬ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী। ডোপিং পরীক্ষা পরিচালনা করবে আন্তর্জাতিক টেস্টিং অথরিটি। দর্শকদের জন্য টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ৩০ ইউরো।
আইস হকি, ফিগার স্কেটিং, স্পিড স্কেটিং, ডাউনহিল স্কিইং ও স্নোবোর্ড হাফপাইপ—এই ইভেন্টগুলোই এবারের শীতকালীন অলিম্পিকের প্রধান আকর্ষণ। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্দা নামবে এই বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের।
No posts available.
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:০৮ পিএম
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৪১ পিএম
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৫৭ পিএম
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার শুরু হয়েছে ২৫তম শীতকালীন অলিম্পিক। বৈশ্বিক এই ইভেন্টের উদ্বোধনের পরদিন পরিবেশগত উদ্বেগ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ইতালির মিলানে অলিম্পিক ভিলেজের কাছে এই বিক্ষোভে অংশ নেন ১০ হাজার বিক্ষোভকারী। শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শুরু হলেও পরে একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে সহিংসতায় জড়ান। এ সময় পুলিশের দিকে পাথর ছোড়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়া। এসময় লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শীতকালীন অলিম্পিক হচ্ছে ইতালির গুরুত্বপূর্ণ দুটি শহর—মিলান ও কোর্তিনায়। কোর্তিনায় ববসলেড ট্র্যাক নির্মাণে গাছ কাটার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিবেশবাদীরা। বড় মিছিলে অনেককে হাতে কাটা গাছের প্রতীক হিসেবে কার্ডবোর্ডের কাটআউট বহন করতে দেখা যায়। ‘শহর ফিরিয়ে নাও, পাহাড় মুক্ত করো’ —এমন লেখা সম্বলিত ব্যানারও দেখা গেছে।
বিক্ষোভটি এমন সময় হচ্ছে যখন মিলানে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে বড় পর্দায় ভ্যান্সের ছবি দেখানো হলে দর্শকদের একাংশের দুয়োধ্বনি শোনা যায়।
বিক্ষোভকারীদের আরেকটি অভিযোগ অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে। ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ বিভিন্ন মার্কিন কর্মকর্তার নিরাপত্তায় আইস কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে অলিম্পিক চলাকালীন বিভিন্ন ভেন্যুতে প্রায় ৬ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কারণে অলিম্পিকের সময়সূচি কিংবা ক্রীড়াবিদদের চলাচলে কোনো প্রভাব পড়েনি।

জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইতালিতে শুরু হয়েছে ২৫তম শীতকালীন অলিম্পিক। বৈশ্বিক এই ক্রীড়া আসরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান একসঙ্গে চারটি স্থানে— মিলান, কোর্তিনা, লিভিনিও এবং প্রেদাজ্জোয় হয়েছে।
মিলান ও কোর্তিনায় অলিম্পিক মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে গেমসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিখ্যাত সংগীতশিল্পী মারাইয়া কেরি, আন্দ্রেয়া বোচেল্লি এবং লরা পাউসিনির মতো তারকারা পারফর্ম করেন।
'আর্মোনিয়া' বা ঐক্যের থিম সামনে রেখে হয়েছে শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অ্যাথলেটদের প্যারেড। যার শেষ ভাগে স্বাগতিক ইতালির দল মাঠে নামলে ৪ ভেন্যুতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে দর্শকরা।
আরও পড়ুন
| ফাইনালের আগেই ছিটকে গেলেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব |
|
ইতালির পর সবচেয়ে বেশি সমর্থন পায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের অ্যাথলেটরা। যুক্তরাষ্ট্রের দলও পায় করতালি। তবে বড় পর্দায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছবি দেখানো হলে দর্শকদের একাংশ থেকে দুয়োধ্বনি শোনা যায়। ইসরায়েল ও জর্জিয়ার দল মাঠে নামার সময়ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
এবারের শীতকালীন অলিম্পিকে ৯০টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৯শ অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে নারী অ্যাথলেটের অংশগ্রহণ ৪৭ শতাংশ। ৮টি খেলায় ১৬টি ডিসিপ্লিনে মোট ১১৬টি মেডেল ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারা।
ইতোমধ্যে কার্লিং, ফিগার স্কেটিং ও আইস হকির মতো কিছু ইভেন্ট শুরু হয়ে গেছে। আজ শনিবার প্রথম পাঁচটি স্বর্ণপদক নির্ধারিত হবে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্দা নামবে এই বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের।

হিটে দ্বিতীয় হয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। সেখানে ৮ জনের মধ্যে তৃতীয় হলেও ফাইনালে যেতে পারেননি বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান।
চীনের তিয়ানজিনে শুরু হওয়া এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকসে শুক্রবার ৬০ মিটার স্প্রিন্ট ইভেন্টে সেমিফাইনালেই বাদ পড়লেন ইমরানুর।
প্রথম সেমিফাইনালে ৬.৭৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেন ইমরানুর। তাঁর আগে ৬.৬৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে উত্তর কোরিয়ার কুম রিয়ং জো প্রথম ও ৬.৭৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে জিনজিয়ান হি হয়েছেন দ্বিতীয়।
এর আগে হিটে আরও কম সময় নেন ইমরানুর। ৬.৭৩ সেকেন্ডে শেষ করেন দৌড়। এই হিটে ৬.৬৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছেন জাপানের কিরিউ ইয়োশিহিদে।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি হিটের শীর্ষ চারজন অ্যাথলেট সরাসরি সেমিফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। ফাইনালে সেরা ৯ অ্যাথলেটের মধ্যে শেষ জনের টাইমিং ছিল ৬.৭৪ সেকেন্ড।
২০২৩ সালে কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত এই এশিয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন ইমরানুর। যা এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাফল্য।
২০২৪ সালে তেহরানে হওয়া আসরে তিনি চতুর্থ হলেও এবার ফাইনালেই উঠতে পারেননি। তাই হতাশ হয়ে এই অ্যাথলেট বলেন,
‘দুঃখজনকভাবে আমি পারিনি (ফাইনালে উঠতে), এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। প্রায় দুই বছর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় না খেলার পরও এই পরিস্থিতি থেকে ইতিবাচক দিকটাই নিতে চাই যে এবার অন্তত কোনো চোট পাইনি। সামনের ইভেন্টগুলোর জন্য নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ আছে। আপনাদের সবার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। খুব শিগগিরই দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ।’

এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে বাংলাদেশের শুটার রবিউল ইসলাম ১৫তম হয়েছেন। দিল্লিতে আজ দুপুরে হয় এই ইভেন্ট। সেখানে রবিউল ৬২২.৪ স্কোর করেন। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ২৬ জন শুটার এন্ট্রি করলেও অংশ নিয়েছেন ২২ জন। শীর্ষ ৮ স্কোরধারী ফাইনালে খেলবেন। বাংলাদেশের শুটার রবিউলের সঙ্গে অষ্টম স্থানের শুটারের পার্থক্য ২.২ পয়েন্ট।
এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল মহিলা বিভাগে ৬২৪ স্কোর করে ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের শুটার কলি ৬২৬ নিয়মিত করলেও তাকে শৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে খেলতে পাঠায়নি ফেডারেশন। কেবল রবিউলকেই পাঠিয়েছে।
টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভারতে নিরাপত্তার কারণে খেলতে যায়নি। সরকার ক্রিকেটারদের অনুমতি না দিলেও শুটার রবিউল ও কোচ শারমিনকে ভারত সফরের সম্মতি প্রদান করেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা উত্তপ্ত। প্রভাব কিছুটা ক্রীড়াঙ্গনে পড়লেও শুটার রবিউল ও কোচ শারমিন এখন পর্যন্ত দিল্লিতে বেশ স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যে রয়েছেন।

লে.ক (অব.) ফারুক খান যখন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি, তখন লে. ক. (অব.) লতিফ খান বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সহ সভাপতি। দু'জনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দারুণ। একসঙ্গে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমী থেকে কমিশন্ড পেয়েছেন। ছিলেন দুজন সেনাবাহিনীতে প্যারাট্রুপার। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দুজনেই ছিলেন পাকিস্তানে আটকা। সেনাবাহিনী থেকে দুজন প্রায় একই সময়ে (১৯৯১ সাল) নিয়েছেন অবসর। দুজনের সঙ্গে আমার পরিচয়ও প্রায় কাছাকাছি সময়ে। সিনিয়র সাংবাদিক আসিফ আহমেদ ভাই লতিফ ভাই-এর সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ক্রীড়া সাংবাদিকতা করছি বলে প্রথম পরিচয়েই খুব আপন করে নিয়েছিলেন লতিফ ভাই। বনানীর এবিসি টাওয়ারের ৮ তলায় ভিজিলেন্স নামের একটি প্রাইভেট সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার লতিফ ভাই-কে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন মনে রাখবে একটি বিশেষ পরিচয়ে। বিকেএসপির প্রথম মহাপরিচালক তিনি। ছিলেন এই দায়িত্বে প্রায় ৫ বছর। বিকেএসপিকে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের নিউক্লিয়াস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রথম কারিগর তিনি। তার আমলেই ট্রেনিজ হোস্টেল, কলেজ, প্রশাসনিক ভবন, সুইমিং পুল, অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক, ইনডোর জিমনেশিয়াম, হকির অ্যাস্ট্রো টার্ফ, ফুটবল-ক্রিকেটের পৃথক মাঠ-পরিকল্পিত স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে ওঠে বিকেএসপি। সে কারণেই দেখা হলে বিকেএসপির স্মৃতিচারণটা করতেন লতিফ ভাই।
নিজে ছিলেন বক্সার। তাই বিকেএসপি ছাড়াও লতিফ ভাই বাংলাদেশের বক্সিং ক্রীড়ার সফল সংগঠক। ২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে বক্সিংয়ে জনি এবং রহিমের হাত ধরে বাংলাদেশের ২টি স্বর্ণপদক জয়েও তার অবদান অসামাণ্য। বক্সিং ফেডারেশনের সে সময়ের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বক্সিংয়ের জন্য একটি ছাদঢাকা মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণেও রেখেছেন ভুমিকা।
স্কোয়াশের জন্য স্বতন্ত্র ভেন্যু স্থাপনে দিয়েছেন দৌঁড় ঝাপ। গুলশান ক্লাবের লম্বা সময়ের সাধারণ সম্পাদক এই ক্লাবটির পরিবেশ এবং ভাবমূর্তি দিয়েছেন বদলে।
এমন এক ক্রীড়া সংগঠক বাংলাদেশের ক্রিকেটেও রেখেছেন অবদান। বাংলাদেশের ক্রিকেটের বাঁক বদলের গল্পে উচ্চারিত হবে তাঁর নাম। ২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শোচনীয় ব্যর্থতা তদন্তে যখন টিম ম্যানেজমেন্ট হয়েছে অভিযুক্ত, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে বেতনভুক্ত একজন ম্যানেজার নিয়োগের দাবিটা উঠেছিল। বিসিবির তৎকালীন উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এবং সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন লে.ক.(অব.) এম এ লতিফ খান-কে। এই একটি নিয়োগে বদলে যায় ক্রিকেট দল। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দল নতুন ইমেজ তৈরি করে। পাকিস্তান সফরে মুলতান টেস্টে অলক কাপালীর ক্যাচ জুচ্চরি করে ধরার অভিযোগ ম্যাচ রেফারির কাছে তুলে পাকিস্তানের তৎকালীন অধিনায়ক রশিদ লতিফকে বহিষ্কারে বাধ্য করেছেন তিনি। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে ইংলিশ অধিনায়ক জিওফ্রে বয়কট বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যাটারদেরকে তাঁর মৃত মায়ের সঙ্গে তুলনায় এনে যখন গণমাধ্যমে অপদস্ত করেছেন, তখন তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন টিম ম্যানেজার লতিফ। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের প্রথম ওডিআই জয়ই বলুন কিংবা সে বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট লুসিয়া টেস্টে গর্বের ড্র, ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট এবং টেস্ট সিরিজ, ওডিআই সিরিজ জয়, যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় জয়, বগুড়ায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়-প্রতিটি সাফল্যের সঙ্গে মিশে আছেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নিস্তার পাননি ওই সময়ে। তার আদর্শ দৃষ্ঠান্ত ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে বাঁ হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিককে সফরের মাঝপথে দেশে ফেরত পাঠানো। দলের তরুণ বাঁ হাতি স্পিনার মানজারুল ইসলামের উপর চড়াও হয়েছিলেন রফিক, তার সাজা হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকায় ফিরে আসতে হয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০০৬, এই তিন বছর বাংলাদেশের ক্রিকেটের বদলে যাওয়ার গল্পে লতিফ ভাই-কে স্মরণ করতে হবে বিশেষভাবে।
২০০৭ সালে তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ১১ সদস্যের অন্তবর্তীকালীন উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে, সেই কমিটিতে ছিলেন লতিফ ভাই। দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিসিবির ডেভেলপম্যান্ট কমিটিতে। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেকে বাংলাদেশ দল দারুণ পারফর্ম করেছে, সেখানেও ছিল তার একটি অদ্ভুত আইডিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি পুরো ক্রিকেট দলকে পাঠিয়েছিলেন সিলেট সেনানিবাসে, কমান্ডো ট্রেনিংয়ে। ক্রিকেটারদের শারীরিকভাবে শক্ত সামর্থ এবং মানসিকভাবে শক্ত করতে তাঁর এই আইডিয়া বাস্তবায়ন করেছে বিসিবি।
বিকেএসপির শুরুর দিকের ক্যাডেট দুর্জয়, মাসুদ রানা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং ফুটবল দলকে লম্বা সময়ে সার্ভিস। দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম দৌড়বিদ বিমল চন্দ্র তরফদার, সাঁতারু কারার মিজানদের আবির্ভাব এবং পরিচর্যার পেছনের গল্পেও থাকবে লে.ক (অব.) এম এ লতিফের নাম। সাকিব, মুশফিকদের হাত ধরে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা প্রজন্মের ক্রিকেটারদের আগমনেও বিকেএসপির অবদানের সঙ্গে যুক্ত থাকবে স্বপ্নচারী এই ক্রীড়া সংগঠকের নাম। ঢাকা স্টেডিয়াম এবং গুলশানের নাভানা টাওয়ার থেকে বিসিবি অফিস মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে স্থানান্তর, একাডেমী ভবন নির্মাণেও রেখেছেণ অবদান এই নিভৃতচারী। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম বিকেএসপির কোচ পদে চাকরির নিয়োগদাতার নামও লে. ক. (অব.) এম এ লতিফ। তার আমলের দুই ক্যাডেট রাবিদ ইমাম দীর্ঘদিন ধরে বিসিবির মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের প্রধান। আর এক ক্যাডেট সালাউদ্দিন এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচ। নিজের পিএসএল-এ চাকরি করতে করতে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠায় সৈয়দ আবদুল বাতেনের নিয়োগটাও তিনি দিয়েছিলেন বিসিবিতে। শুরু থেকে বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা গ্র্যাউন্ডস কমিটির ন্যাশনাল ম্যানেজারের পদটা নির্দিষ্ট হয়ে আছে তাঁর জন্য।
বাংলাদেশের ক্রিকেটকে শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনার কারিগর লে. ক. (অব.) এম এ লতিফ ৮৮ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বুধবার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজেউন)। তবে রেখে গেছেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক স্মরণীয় স্মৃতি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে বাঁক বদলের গল্পে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি বছরের পর বছর।