১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৫২ এম
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য, বিকেএসপির সাবেক উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক অ্যাথলেট শামিমা সাত্তার মিমু শুক্রবার রাতে ঢাকায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বিষয়টি তাঁর ছেলে শাহরিয়ার শরীফ নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায় দীর্ঘদিন যাবৎ ভাটিকা ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন শামিমা। মরহুমার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে দিনাজপুরে বাবার কবরের পাশে দাফন করার জন্য ঢাকার বাসভবন থেকে দিনাজপুরে নেওয়া হয়েছে।
শামিমা বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি প্রশিক্ষক ও বিচারক হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা ও কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে, বিশেষ করে অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়নে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তা, কোচ, অ্যাথলেট ও সংশ্লিষ্ট সকলেই গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
No posts available.
১০ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৫ পিএম
৮ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১২ পিএম
৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১০ এম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩২ এম

সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিস (টিটি) চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম তিন দিনে ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য এবং ৬টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৮টি পদক নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতার শেষ দিনে পদকের সংখ্যা ও মান আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার অর্থাৎ প্রতিযোগীতার তৃতীয় দিনে ১টি রৌপ্যসহ ৫টি ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এর আগে বৃহস্পতিবার দলগত ইভেন্টে অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দল স্বর্ণপদক জেতে এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দল গ্রুপ পর্যায়ে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ অর্জন করে।
দলগত ইভেন্টে প্রত্যাশিত ফল না পেলেও একক ইভেন্টে এখনও পদকের লড়াইয়ে টিকে আছেন বাংলাদেশের খই খই মারমা। অনূর্ধ্ব-১৯ বালক বিভাগে নাফিজ ইকবাল, আবুল হাশেম হাসিব এবং অনূর্ধ্ব-১৫ বালক বিভাগে মো. মিদুল রহমান প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন।
একক ইভেন্টের ফলাফল: অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা এককে ভারতের অনন্যা মুরালিধরনের কাছে ৩-০ সেটে হেরে গেলেও মালদ্বীপের মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিশকাতকে ৩-২ সেটে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হন খই খই মারমা। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি শ্রীলঙ্কার শামালশা হালাওয়াথাগের মুখোমুখি হবেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালক এককে নাফিজ ইকবাল টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কধারী প্রিয়ানুজ ভট্টাচার্যের কাছে ০-৩ সেটে পরাজিত হলেও মালদ্বীপের এয়ন ইব্রাহিমকে একই ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হন। কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালের হিমাল বিস্তার মুখোমুখি হবেন তিনি।
আবুল হাশেম হাসিব নেপালের হিমাল বিস্তার কাছে হেরে গেলেও পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার হারিন মুনাসিংহ এবং মালদ্বীপের মোহাম্মদ রাফিউকে ৩-০ সেটে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হন। কোয়ার্টারে তার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার আকাইন রাজাভেলু।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালক এককেমিদুল রহমান ভারতের অক্ষয় কিরিকারারের কাছে ০-৩ সেটে হেরে গেলেও নেপালের বিপক্ষে ৩-২ সেটে জিতে গ্রুপ রানার্সআপ হন। প্রি-কোয়ার্টারে তার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার সানন মেনুয়েলগে।
দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈতের ফলাফল: অনূর্ধ্ব-১৫ বালক দ্বৈতে শাহীন আহমেদ ও মিদুর রহমান মালদ্বীপের মোহাম্মদ রাফিউ ও ফাজ লতিফ জুটিকে ৩-২ সেটে হারান। তবে সেমিফাইনালে তারা ভারতের রিসান চট্টোপাধ্যায় ও আকাশ রাজাভেলু জুটির কাছে ১-৩ সেটে পরাজিত হয়ে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা দ্বৈতে মোসা. রাফিয়া চৌধুরী ও রোজা ইসলাম কোয়ার্টার ফাইনালে বাই পেয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন। সেখানে তারা নেপালের আরসানা মহারাজ ও সুরম্য শাক্য জুটির কাছে ১-৩ সেটে হেরে ব্রোঞ্জ পান।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দ্বৈতে নাফিজ ইকবাল ও আবুল হাশেম হাসিব কোয়ার্টার ফাইনালে মালদ্বীপ জুটিকে ৩-০ সেটে হারান। সেমিফাইনালে তারা নেপালের হিমাল বিস্তা ও এরিশ শাক্য জুটিকে ৩-১ সেটে পরাজিত করে বাংলাদেশের জন্য রৌপ্য নিশ্চিত করেন। ফাইনালে তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দ্বৈতে খই খই সাই মারমা ও রেশমী তৈঞ্চঙ্গা সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ০-৩ সেটে হেরে ব্রোঞ্জ অর্জন করেন।
মিশ্র দ্বৈতে অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে মিদুল রহমান ও রোজা ইসলাম নেপালের রিভান বজ্রাচার্য ও সুরম্য শাক্য জুটিকে ৩-২ সেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে আরও একটি ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন। সেমিফাইনালে তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ মিশ্র দ্বৈতে আবুল হাশেম হাসিব ও খই খই সাই মারমা সেমিফাইনালে পৌঁছে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের জুটি।
অন্যান্য ফলাফল: সিঙ্গেলস ইভেন্টে রেশমী তৈঞ্চঙ্গা (অনূর্ধ্ব-১৯), রাফিয়া চৌধুরী (অনূর্ধ্ব-১৫), রোজা ইসলাম ও শাহীন আহমেদ প্রি-কোয়ার্টার পর্যন্ত পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।

বিশ্ব জিমন্যাস্টিকসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অ্যাথলেট মার্গারিটা মামুন। মাত্র এক বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে প্রথমবার বাংলাদেশে পা রেখেছিলেন তিনি। এরপর বাবা ও স্বামীর সঙ্গে আরও কয়েকবার এ দেশে এলেও, সম্প্রতি লাল-সবুজের এই দেশে তাঁর আগমন ঘটেছে এক বন্ধুর সঙ্গে, একান্তই ব্যক্তিগত সফরে।
মার্গারিটার বাবা আবদুল্লাহ আল মামুনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজশাহীর দুর্গাপুরে। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে নিজভূমের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করুক। আশায় বুক বেঁধে মার্গারিটার দশ বছর বয়সে এসেছিলেন বাংলাদেশে। ছুটে গিয়েছিলেন ফেডারেশনে। তবে ফেডারেশন স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয় নিজেদের সীমাবদ্ধতা। আশার বেলুন চুপসে যাওয়ায় ফিরে যান রাশিয়া। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিও অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতেন মার্গারিটা। সেই কীর্তির ১০ বছর পর আবারও বাংলাদেশে ফিরলেন তিনি।
বর্তমানে ঢাকাতে অবস্থান করছেন মার্গারিটা। তার সাংবাদিক বন্ধু বাংলাদেশ, এদেশের দেশীয় খেলা, মেয়েদের স্পোর্টসে অংশগ্রহণ, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য এসেছেন। তার সঙ্গী হিসেবে এসেছেন মার্গারিটা। রাজধানীতে অবস্থানকালে টি-স্পোর্টসে নিজের জীবনের পাঠ, ঘটনা এবং আসার মূল উদ্দেশ্য জানান।
রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করা মার্গারিটা বলেন,
‘আমি আমার সাংবাদিক বন্ধুর সঙ্গে এখানে এসেছি। সে বাংলাদেশ অর্থাৎ আমার সেকেন্ড হোমল্যান্ড নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, খেলাধুলা, বিশেষ করে মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং সুযোগ-সুবিধা অর্থাৎ যা কিছু আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ—সেগুলো নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি বানাবে।’
২০১৬ সালে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে গোল্ড জেতার ঠিক দুইদিন পরই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন মার্গারিটার বাবা। মৃত্যুর আগে মেয়েকে নিয়ে তিনি যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা দেখে যেতে পেরেছেন আবদুল্লাহ।
মার্গারিটা বলেন,
‘শৈশব এবং কৌশোরে আমি অনেকবার বাংলাদেশি এসেছি। আসার পর এক-দুই মাস করে থেকেছি। বাবা সব সময় বাংলাদেশ নিয়ে গর্ব করতেন। তিনি সবসময় বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বলতেন। আমাকে নিয়েও গর্ব করতেন। বাবা অলিম্পিকে আমার খেলা দেখেছেন এবং স্বর্ণপদক ধরে দেখেছেন। এটা নিয়ে গর্ববোধ করি।’
মার্গারিটার জন্ম রাশিয়াতে হলেও বাংলাদেশ নিয়ে তার কৌতূহল কম নয়। বাবার কাছ থেকে জেনেছেন এ দেশের কালচারাল ফুড সম্পর্কে। তিনি বলেন,
‘বাংলাদেশের প্রায় সকল ধরণের খাবার আমার ভালো লাগে। বিশেষ করে পরোটা। আমি ভাত পছন্দ করি। এক কথায় এদেশের সব ধরনের খাবার পছন্দ আমার। হয়তো নামগুলো ঠিকঠাক জানি না।’
এখন পুরোদস্তুর কোচ বনে গেছেন মার্গারিটা। পাশাপাশি বন্ধুর সঙ্গে কাজ করছেন ডকুমেন্টারিতে। তার লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য কিছু করা। তিনি জানান, অনেক প্রতিষ্ঠান যেভাবে তাকে গ্রহণ করেছে, তাতে মুগ্ধ তিনি। ঢাকায় অবস্থানকালে এনএসসি থেকে মহিলা ক্রীড়া সংস্থা এবং ঢাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজসহ নানা জায়গা ঘুরে দেখছেন মার্গারিটা। চেষ্টা করছেন এদেশের ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে।

সাতক্ষীরায় জাকির স্মৃতি স্কুল কাবাডি টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন পল্লীমঙ্গল প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন বুধহাটা ভূবনমহোন কলেজিয়েট স্কুল।
ট্রফির লড়াইয়ে কাদাকাটি স্কুলকে ৪২-৩৮ পয়েন্টের ব্যবধানে হারায় পল্লীমঙ্গল প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আব্দুল করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ৪১-৩৪ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত করে বুধহাটা ভূবনমহোন কলেজিয়েট স্কুল।
টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে ৮টি এবং বালিকা বিভাগে ৬টি স্কুল অংশ নেয়। মাঠের লড়াইয়ে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ফাইনালে ওঠে চার দল। দুই দিনব্যাপী টুর্নামেন্ট শেষ হয় বুধবার। সমাপনী দিনে বিজয়ীদের ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।
জেলা পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েলের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেন বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিকল্প ভেন্যুর প্রয়োজনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজে হাত দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে পর্যটন কর্পোরেশনের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৯.২৫ একর খাস জমি দখলে নিয়ে নেয় নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বিসিবি। নিজস্ব তহবিল থেকে ২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা উত্তোলন করে বিশাল এই জায়গাটি বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে ঘিরে, মাঠোন্নায়ন করে একটি অস্থায়ী ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশাপাশি ১টি আউটার ক্রিকেট মাঠ এবং ১টি অনুশীলন মাঠ তৈরির পাশাপাশি স্টিল স্ট্রাকচারের প্লেয়ার্স ড্রেসিংরুম, প্যাভিলিয়ন নির্মাণসহ আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত করেছে বিসিবি।
তবে যে উদ্দেশ্য নিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এতো বড় ক্রিকেট স্থাপনার দখল নিয়েছিল বিসিবি, সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমপ্লেক্সকে বিবেচনা করেনি আইসিসি। এমনকি এই জায়গাটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দও নিতে পারেনি বিসিবি। তবে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের ৮টি ওডিআই, ৮টি টি-টোয়েন্টি, ১৪টি ইয়ুথ ওডিআই এবং ১টি ইয়ুথ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অন্যতম প্রধান ভেন্যু হিসেবে কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়ামে হয়েছে ৯টি ম্যাচ। এই স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে ২টি মাঠ থাকায় প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট জাতীয় লিগের নিয়মিত ভেন্যু এখন এটি।
২০১৭ সালের মার্চে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনি পয়েন্টে ৭৬৮ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৪৯.২৫ একর জায়গামাত্র ১ লাখ ১ হাজার টাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) স্থানীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা দলিল করে হস্তান্তর করে। এতো বড় জায়গা নামমাত্র মূল্যে পেয়ে এখানে পরিকল্পিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এনএসসি। দক্ষিণ দিকে সমুদ্র সৈকত এবং ঝাউ বনের অবস্থান আছে বলেই প্রস্তাবিত ফুটবল এবং ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নকশায় দক্ষিণ পাশটি গ্যালারিহীন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সে কারণেই স্টেডিয়াম দুটির ধারণক্ষমতা মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম এবং ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের চেয়ে কম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফ্লাড লাইট, জায়ান্ট স্ত্রিন, চেয়ারসহ আধুনিক সব সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন ২২ হাজার আসনবিশিষ্ট একটি সুদৃশ্য ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ২১ হাজার আসনবিশিষ্ট ১টি ফুটবল স্টেডিয়াম, একটি অনুশীলন মাঠ, ১টি ইনডোর স্টেডিয়াম, ১৪তলা ৫তারা হোটেল, একটি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনে ১ হাজার ৯শত ২১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্প তৈরি করে এনএসসি। ২০২১ সালে এই প্রকল্পের উপযোগিতা যাচাই করে ইতিবাচক রিপোর্ট দিয়েছে ন্যাশনাল একাডেমি ফর প্ল্যানিং এবং প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড নামের ২টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। পরামর্শক এই দুটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে এনএসসি খরচ করেছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
পরবর্তীতে সিভিল এভিয়েশন, বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের অনাপত্তি পেয়ে কক্সবাজারের ট্যুরিজমকে আকর্ষণীয় করতে ২০২৩ সালে সাম্পানের আদলে স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের নকশা অনুমোদন করে প্রাক্কলিত ব্যয়ও নির্ধারণ করেছে এনএসসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ। যুবও ক্রীড়া মন্ত্রানালয়কে ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান (ডিপিপি) দিয়েছে তারা। তবে পরবর্তীতে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজে অগ্রগতি হয়নি। নকশায় পরিবর্তন এনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন এনএসসির বিশ্বস্ত একটি সূত্র।
কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ক্রিকেট প্যাভিলিয়ন এবং ড্রেসিংরুমের অবস্থা এখন করুণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে নতুন করে অস্থায়ী প্যাভিলিয় নির্মাণের পক্ষে নয় এনএসসি কিংবা বিসিবি। এই অস্থায়ী গ্যালারি উপড়ে ফেলে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণকাজে হাত দিতে চায় এনএসসি।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনি পয়েন্টে এতো বড় জায়গাটির মালিকানা যখন এনএসসি'র, তখন এই জায়গায় দেশের একমাত্র পরিকল্পিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গত ৩ এপ্রিল কক্সবাজার পরিদর্শণকালে প্রস্তাবিত ক্রীড়া কমপ্লক্সের যাবতীয় তুলে ধরেছে এনএসসির পরিকল্পনাও উন্নয়ন বিভাগ।
কক্সবাজার ক্রিকেট ভেন্যু পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন-
‘কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের পর্যটকদের কাছে সুপরিচিত। আমরা ভাবছি কীভাবে স্পোর্টস ট্যুরিজমের মাধ্যমে এই খ্যাতিকে কাজে লাগানো যায়। পৃথিবীর অনেক দেশে দর্শক গ্যালারি ছাড়াও মাঠে বা গ্লাসের ভেতরে বসে খেলা উপভোগ করে। কক্সবাজারের এমন সুন্দর পরিবেশে উন্নত স্টেডিয়ামের আদলে কিছু পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম নিয়ে বিগত সময়ে বিসিবি ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যে যে রশি টানাটানি ছিল, তা আর হবে না। বর্তমানে কক্সবাজারের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ ফেরানো কঠিন। তবে আমরা এই কঠিন কাজকে সহজ করার জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’
আগের পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনতে হলে প্রকল্প ব্যয় সংশোধন করতে হবে। তারপর ক্রীড়া মন্ত্রানালয়ের অনুমোদন নিয়ে একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠাবে এনএসসি। বর্তমান সরকারের আমলেই দেশের একমাত্র ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছে এনএসসি। ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের যৌথ স্বাগতিক বাংলাদেশ, তা মাথায় রেখেই কক্সবাজারের লাবনি পয়েন্টে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

সাউথ এশিয়ান জুনিয়রে অংশ নিতে ভারতের হিমাচল প্রদেশের শিমলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ যুব টেবিল টেনিস দল। আজ সোমবার দেশ ছেড়েছে দলটি। নয়াদিল্লী হয়ে শিমলায় পৌঁছাবেন খই খই মারমারা।
৩০তম এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বাছাইপর্ব হিসেবে আগামী ৮ থেকে ১১ এপ্রিল ভারতের শিমলায় হবে এই প্রতিযোগিতা।
বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে স্বাগতিক ভারতসহ সার্কভুক্ত দেশসমূহ। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৯ বালক ও বালিকা বিভাগে সিঙ্গেলস, ডাবলস, মিক্সড ডাবলস এবং টিমস ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবে।
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন (বিটিটিএফ)-এর সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ এম মাকসুদ আহমেদ সনেটের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শিমলায় যাচ্ছে। দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও বিটিটিএফের দ্বিতীয় সহ-সভাপতি তাহমিনা তারমিন বিনু। কোচ হিসেবে থাকছেন বিকেএসপির ধনঞ্জয় শীল তীর্থ এবং আইটিটিএফ লেভেল-২ কোচ রিগ্যান বড়ুয়া।
বাংলাদেশ যুব দলের অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দলের খেলোয়াড়রা হলেন— মো. নাফিজ ইকবাল (অধিনায়ক), আবুল হাসেম হাসিব, মো. তাহমিদুর রহমান সাকিব ও মো. জয় ইসলাম।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দলের খেলোয়াড়রা হলেন— খই খই সাই মারমা (অধিনায়ক), রেশমী তনচংগ্যা, ঐশী রহমান ও নুসরাত জাহান।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালক দলের খেলোয়াড়রা হলেন— মো. শাহীন আহম্মেদ (অধিনায়ক), মো. মিদুল রহমান, তামজিদুুল ইসলাম পরশ ও রাব্বি ইসলাম।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা দলের খেলোয়াড়রা হলেন— মোছাম্মত রাফিয়া চৌধুরী (অধিনায়ক), জান্নাত ইসলাম রোজা, মোসাম্মদ জান্নাতুল রোজা ও সাবিহা আক্তার পাপিয়া।
যুব দলের মোট ১৬ জন টেবিল টেনিস খেলোয়াড়ের মধ্যে ১২ জনই বিকেএসপির বর্তমান এবং ২ জন সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের মধ্যে ১ জন বাংলাদেশ সেনা বাহিনী এবং ১ জন গ্রিন টেবিল টেনিসকে প্রতিনিধিত্ব করছে। বাকি ২ জনের মধ্যে ১ জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ও ১ জন রংপুর টেবিল টেনিস সংস্থার।
দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ এম মাকসুদ আহমেদ সনেট বলেন, 'প্রতিযোগিতার প্রসপেক্টাস হাতে পাওয়ার আগেই আমরা দল নির্বাচন করে বিকেএসপিতে ৩৩ দিনের একটি নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করেছি। গত বছর কাঠমুন্ডুতে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান জুনিয়রে বাংলাদেশ ৭টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করলেও প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ না হওয়ায় এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি। তবে এবার আমরা কোয়ালিফাইং নিয়ে খুবই আশাবাদী।'
তিনি আরও বলেন, 'এবারের সাউথ এশিয়ান জুনিয়র আমাদের কয়েকজন শীর্ষ খেলোয়াড়ের জন্য শেষ টুর্নামেন্ট। আমরা বিশ্বাস করি, তারা তাদের শেষ আসরটিকে স্মরণীয় করে দেশের জন্য সম্মানজনক ফলাফল বয়ে আনবে।'