২৪ জুলাই ২০২৫, ৬:৪৫ পিএম
বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হ'ল আরএফএল ও এসিআই পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশন আয়োজিত জোড়া আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগীতার "ট্রফি উন্মোচন ও মিট দা প্রেস"। "৬স্ট বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ওপেন ২০২৫" নামের এ আসরে গত পাঁচ বারের মতই এবারও থাকছে এক সাথে দুটি আকর্ষনীয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার যথা ছেলেদের "পি এস এ চ্যালেঞ্জ ট্যুর ২০২৫" এবং মেয়েদের "ডব্লিউ এস এফ এবং পি এস এ স্যাটালাইট টুনামেন্ট ২০২৫" সাহসী আয়োজন।
বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বিশ্ব স্কোয়াশ ফেডারেশন (ডব্লিউ এস এফ) এবং পেশাদার স্কোয়াশ এসোসিয়েশনের (পি এস এ) অনুমোদিত ০৪ দিন ব্যাপি এই প্রতিযোগীতাদ্বয় ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্স, আর্মি অফিসাস্ মেস ও ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোয়াশ কোর্টে ২৬ থেকে ২৯ জুলাই তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর বাংলাদেশের জাতীয় দলের শাহাদাৎ, রনি ও সুমন এবং বয়স ভিত্তিক দলের উদীয়মান স্কোয়াশ খেলোয়াড় বিকেএসপির সাইমুন, আমিনুল, পারভেজ ও সেনাবাহিনীর আপন ও আজিজের সাথে খেলবে ইরান, ভারত, শ্রীলংকা, কুয়েত ও মালয়েশিয়ার আটজন পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড়। পাশাপাশি মেয়েদের স্যাটেলাইট ট্যুরে বাংলাদেশের মারজান, চাঁদনী, নাবিলা, উর্দূ, মেঘনা, জুই, মানিকা ও পূজা রানীসহ প্রথম সারির ১৩ জন নারী খেলোয়াড় খেলবে মালয়েশিয়ার জমজ বোন পেশাদার নারী স্কোয়াশ খেলোয়াড় ভিনিকা ও ভার্টিকা এবং ইরানের রামজানজাদে নামিনি নারগোলের সাথে। উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশন স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মত নারী স্কোয়াশ দল তৈরি করছে। সম্প্রতি তারা নেপালে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতা থেকে রৌপ্য পদক লাভ করেছে।
ঢাকা সেনানিবাসের স্কোয়াশ কমপ্লেক্স ও অফিসাস্ মেস স্কোয়াশ কোর্ট এবং বসুন্ধরায় ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ স্কোয়াশ কোর্ট- এই তিন ভ্যানুতে খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। তবে ঢাকা সেনানিবাসের স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে ২৬ জুলাই দুপুর একটায় প্রতিযোগীতা দ্বয়ের উদ্বোধন এবং ২৯ জুলাই বিকেল চারটার সময় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ স্কোয়াশ র্যাকেটস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রীগ্রেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম, এসপিসি (অবঃ) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত "মিট দ্যা প্রেস ও ট্রফি উন্মোচন" অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জনাব মোঃ মাহবুব-উল-আলম, সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয় এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন আর এফ এল-এর মার্কেটিং হেড শাহীন শফিকসহ উভয় গ্রুপের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্কোয়াশ খেলোয়াড় ও সাংবাদিকবৃন্দ।
নিজস্ব খেলার মাঠ ও সম্পদের সীমাবদ্ধতাসহ পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ থাকার পরেও একই সাথে দু'টো আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগীতার আয়োজন করার জন্যে বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে বাংলাদেশের স্কোয়াশ আরো এগিয়ে যাবে এবং দেশের জন্যে সম্মান নিয়ে আসবে। স্কোয়াশ ফেডারেশনের জন্যে বনানীতে নির্ধারিত স্থান উদ্ধারসহ অন্যান্য বিষয়ে মন্ত্রনালয় সব সময় বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সাথে থাকবে।
আর এফ এল-এর প্রতিনিধী তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে আয়োজিত দু'টি আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ টুর্নামেন্টের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হতে পেরে কোম্পানির পক্ষ থেকে স্কোয়াশ ফেডারেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের সাথে থাকার অভিপ্রায় ব্যাক্ত করেন।
ব্রিগ্রেডিয়ার (অবঃ) জেনারেল কামরুল ইসলাম বাংলাদেশে মৃত্যপ্রায় স্কোয়াশ খেলার দুটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া যঙ্গ স্পন্সর করার জন্যে এফ এল এবং এ এস আই গ্রুপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নিজস্ব কোর্টবিহীন হাজার সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে খুবই সীমিত সম্পদ দ্বারা গত প্রায় পাঁচ বছর নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমরা তিল তিল করে বিলুপ্ত প্রায় খেলাটির পূন:জন্ম ঘটিয়ে সামনের দিকে গৌরব আর সন্মানের যাত্রা শুরু করেছি। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগীতা এবং বনানীর প্রস্তাবিত কমপ্লেক্সটি পেলে স্কোয়াশ খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মেডেল অর্জনসহ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও গৌরব অর্জন করবে ইন-শা-আল্লাহ।
এই প্রতিযোগীতার মাধ্যমে আগামী বছর জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এস এ গেইমসে অংশগ্রহণকারী দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশন এস এ গেইমসে মেডেল পুনরুদ্ধার করতে বদ্ধ পরিকর।
দেশে স্কোয়াশ খেলাকে পূর্নজন্ম দিয়ে প্রচার, প্রসার ও জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য ফেডারেশন সব সময়ই সচেষ্ট। তারা "ক্লাসরুম স্কোয়াশ" নামে অভিনব ধরণা নিযে বিভিন্ন স্কুল কলেজে স্কোয়াশ খেলা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। মিত্যু ও বিলুপ্ত প্রায় স্কোয়াশ খেলার পাশে দাঁড়ানোর জন্যে আর এফ এল এবং এ এস আই গ্রুপ আন্তরিক ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।
উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় আহত-নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও দোয়ায় অংশ নেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই।
২৮ আগস্ট ২০২৫, ৪:৩৫ পিএম
২৫ আগস্ট ২০২৫, ৮:২৬ পিএম
২৪ আগস্ট ২০২৫, ৮:০০ পিএম
ফাতেমা মুজিব- তাকে বলা হয় বাংলাদেশের ফেন্সিংয়ের পোস্টার গার্ল। বাংলাদেশে ফেন্সিং খেলা যার মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছিল, চোটের কারণে সেই ফাতেমা মুজিবকে ছাড়াই এবার শুরু হচ্ছে জুলাই রেভুলেশন ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ।
আগামী শুক্র ও শনিবার রাজধানীর শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে হবে এই প্রতিযোগিতা।
সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে ফেন্সিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জেতা ফাতেমা মুজিব এবার চোটের কারণে খেলতে পারছেন না। হাঁটুর চোটের কারণে অন্তত চার মাস তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
২০১৯ সালে কাঠমান্ডুতে হওয়া এসএ গেমসে প্রথমবার অংশ নিয়েই সোনা জিতে আলোচনায় আসেন ফাতেমা। ২০২৬ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় এসএ গেমস সামনে রেখে জাতীয় ক্যাম্প শুরু হলেও সেখানে নেই এই ফেন্সার।
আরও পড়ুন
শ্রীলঙ্কা দলে নতুন মুখ ভিশেন হালামবাগে |
![]() |
প্রস্তুতি নিতে গিয়েই হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পান তিনি।
জুলাই রেভুলেশন ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাব সমূহ।
প্রতিযোগিতার কোনো দলগত ইভেন্ট থাকছে না। ইপি, সেবার, ফয়েল-এই তিনটি ব্যক্তিগত ইভেন্টে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে অংশ নেবে প্রায় ১৭৫ জন ফেন্সার।
শুরু থেকে আনসারের চোখে চোখ রেখেই খেলছিল পুলিশ হ্যান্ডবল টিম। একটা সময় পর্যন্ত ব্যবধানটা ছিল মাত্র এক গোলের (১০-৯)। প্রথমার্ধ শেষে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৫ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে আর আনসারের সঙ্গে পেরে উঠেনি বাংলাদেশ পুলিশ নারী হ্যান্ডবল দল। আজ জাতীয় নারী হ্যান্ডবলে তাদের হার মানতে হয় ৩৫-২৯ ব্যবধানে।
দল হারলেও প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন পুলিশের রুবিনা ইসলাম। ফাইনালে করেছেন ১৫ গোল। প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোল স্কোরারকে এটা অবশ্য জানার সুযোগ নেই; আয়োজক কমিটিও সেই হিসেব রাখেনি। তবে রুবিনা জানালেন আনুমানিক তাঁর গোল সংখ্যা হতে পারে ৬০ থেকে ৭০টি। সেরা খেলোয়োড়ের পুরস্কার শেষে জানালেন সাফল্যের কথা।
পুরো ম্যাচেই খেলেছেন, গোল পেয়েছেন, রুবিনাকে অনেকেই বলে পেনাল্টি স্পেশালিস্ট। গোল করার পেছনের গল্পে রুবিনা বললেন মাইন্ড গেম খেলেই তিনি সাফল্য পান,
‘অবশ্যই হ্যান্ডবল মাইন্ড গেম, এখানে যে এগিয়ে থাকবে না সে হ্যান্ডবল খেলতে পারবে না।’
দারুণ খেলেও দলকে জেতাতে পারেননি, এ জন্য আফসোস আছে রুবিনার। তবে সেরা খেলোয়াড় হয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানান এভাবে, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তো কেউ ভাবে না সেরা খেলোয়াড় হবে কি না। ভালো খেলার ইচ্ছা ছিল, সেরা খেলোয়াড় হব এটা ভাবিনি। তবে হতে পেরে অনেক খুশি। অবশ্যই আমাদের আক্ষেপ আছে, যখন বিজেএমসির টিম ছিল একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। এবার আশা ছিল আনসারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবো, কিন্তু পারিনি।’
হারের কারণ হিসেবে রুবিনা দায়ী করলেন নিজেদের স্ট্যামিনা হারানোকে, ‘আমরা হেরেছি কারণ আমাদের স্ট্যামিনা ছিল না, প্রথমার্ধের আগেও ডিফেন্সে কিছু ভুল করেছি, আশা করি এসব ভুল শুধরে পরবর্তীবার ফিরে আসব।’
২০০৯ সাল থেকে হ্যান্ডবল খেলেন রুবিনা। ২০১৪ সালে প্রথমবার সুযোগ পান জাতীয় দলে। ওই বছরই পাকিস্তানে হওয়া আইএইচএফ কাপে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ নারী দল। সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন পঞ্চগড় থেকে উঠে আসা রুবিনা। দুই বছর পর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল ভারতে হওয়া এসএ গেমসে জেতে সিলভার মেডেল। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের সেটিই বড় সাফল্য। কিন্ত দীর্ঘ সময় গেলেও এখানে আর সাফল্যের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ।
আরেকটি এসএ গেমসের দুয়ারে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালে পাকিস্তানে হবে আগামী সংস্করণ। সেটি সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে সবার আগে প্রস্তুতি নিচ্ছে হ্যান্ডবল ফেডারেশন। ওই টুর্নামেন্টের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৪ জনের দলও ঘোষণা করা হয় আজ। সেখানে আছে রুবিনার নামও। তিনি মনে করেন ভারত না আসায় এবার তাদের সামনে স্বর্ণ জেতার বড় সুযোগ আছে, ‘ভারত না আশায় বাংলাদেশের জন্য সুযোগ, কারণ ভারত যে লেভেলে গিয়েছে সেখানে আমরা যেতে পারিনি, আশা করি এবার আমরা স্বর্ণপদক নিয়ে আসব।’
এসএ গেমসে ভারত সরে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশর জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। এমনটাই মনে করেন ২৯ বছর বয়সী রুবিনা। তবে কেবল এসএ গেমসেই নয় বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান পুলিশের এই খেলোয়াড়,
‘বাংলাদেশের হ্যান্ডবলকে আমি বিশ্বকাপে দেখতে চাই।’ রুবিনার ছোট বোনও এবারের জাতীয় হ্যান্ডবলে খেলেছেন পুলিশের হয়ে। যদিও আগেরবার জাতীয় হ্যান্ডবলে ও আনসার টিমের হয়ে খেলেছে সে।
রুবিনার মতো এই আসরে আলো কেড়েছেন পুলিশের আরেক খেলোয়াড় সাকিবা জান্নাত সাম্মি। দলকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। কিন্তু ফাইনালে জ্বর নিয়ে খেলতে হয় তাকে। ম্যাচ হেরে বললেন,
‘আসলে আমাদের স্ট্যামিনা ছিল না। ডিফেন্সে আমরা নামতে পারছিলাম না। আমার অনুশীলনেও ঘাটতি ছিল। সবাই ভালো ছিল। জ্বর নিয়ে খেলেছি, আগের ম্যাচেও জ্বর নিযে খেলেছি। কাউকে বুঝতে দেইনি, চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চটা দেওয়ার।
প্রথমার্ধ শেষেও পুলিশ জয়ের আশা ছাড়েনি বলে জানান সাম্মি, ‘আশা ছিল পুলিশের হয়ে এবার কিছু একটা করব, আমরা সেরাটা দিয়েছি, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পারিনি।’ না পারার পেছনে অবশ্য পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে না পারাকেও দায়ী করেছেন তিনি, ‘আসলে অন্যান্য দল যেভাবে প্রাকটিস করে, পুলিশ টিম সেভাবে অনুশীলন করতে পারে না, চাকরিতে ডিউটি থাকে।’
২০১৬ সাল থেকে হ্যান্ডবলে খেলছেন সাম্মি। সিনিয়র ন্যাশনাল টিমে অভিষেক ২০২২ সাল থেকে। পরের দুই টুর্নামেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান। এবার তাঁর লক্ষ্য এসএ গেমসে স্বর্ণ জেতা।
৩৬তম জাতীয় নারী হ্যান্ডবলে আবারও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ আনসার। পল্টনের শহীদ (ক্যাপ্টেন) এম. মনসুর আলী স্টেডিয়ামে আজ ফাইনালে বাংলাদেশ পুলিশকে ৩৫-২৯ গোলে হারিয়েছে আনসার। প্রথমার্ধে আনসার ১৭-১২ গোলে এগিয়ে ছিল।
১৯৮৩ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৬টি সংস্করণের মধ্যে বেশিরভাগ জাতীয় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ আনসার। এবারসহ সব মিলিয়ে ২৪টি শিরোপা ক্যাবিনেটে তুলেছে তারা। টানা ৮ বার চ্যাম্পিয়নের মুকুট পড়ল তারা।
ফাইনালে প্রথমার্ধে কিছুটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। একটা সময় ১০-৯ ব্যবধানও ছিল। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে আনসারের অভিজ্ঞতার কাছে হার মেনেছে পুলিশ। প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের খেলোয়াড় রুবিনা।
এর আগে ঢাকা জেলাকে ৩৪-২২ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতার তৃতীয় হয়েছে পঞ্চগড় জেলা।
জাতীয় নারী হ্যান্ডবলে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হয়েছে ট্রফির পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকা অর্থ পুরস্কার। রানার্সআপ দল পেয়েছে ১৫ হাজার এবং ৩য় স্থান অর্জনকারী দল পেয়েছে ১০ হাজার টাকা।
জাতীয় হ্যান্ডবলে ফাইনাল শেষের পর আনসার ও পুলিশ টিমের মধ্যে কারা আগামী এসএ গেমসের প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন তাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়। গতকাল থেকে অন্যান্য জেলার খেলোয়াড়দের ডাকা হয় ক্যাম্পে। ৩৪ জন নিয়ে কাল থেকে হবে এই ক্যাম্প। এখান থেকে পূর্ণাঙ্গ টিম বাছাই করবে ফেডারেশন। আগামী বছর পাকিস্তানে হবে এসএ গেমস।
জাতীয় নারী হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ আনসার ও বাংলাদেশ পুলিশ। পল্টনের শহীদ এম. মনসুর আলী স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ৪১-১৬ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ আনসার। সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হলেও তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা পারেনি ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা।
একেবারে একপেশে লড়াইয়ে প্রথমার্ধে আনসার ২২-৯ গোলে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আরও ১৮টি গোল হজম করে ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা। বিপরীতে এই অর্ধে তারা দিতে পারে ৭ গোল।
দিনের আরেক সেমিফাইনালে বাংলাদেশ পুলিশ ৪০-২৮ গোলে পঞ্চগড় জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে হারিয়েছে। দিনের প্রথম সেমিফাইনালের তুলনায় এই ম্যাচটি কিছুটা হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছড়ায়। প্রথমার্ধে পুলিশ ১৭-১৩ গোলে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় তারা।
আগামীকাল বিকেল ৩টায় ফাইনালে লড়বে আনসার ও পুলিশ। এর আগে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সকাল সাড়ে ১১টায় হবে ঢাকা ও পঞ্চগড়ের মধ্যে।
১৭তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে শেষ দিনে পুরুষ ও নারীদের ২০০ মিটার দৌড়কে ঘিরেই ছিল সবচেয়ে বেশি আগ্রহ। তবে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি দেশের দুই তারকা স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তারের কাছ থেকে।
১০০ মিটারে শিরোপা পুনরুদ্ধারের পর ২০০ মিটার জিতে ‘ডাবল’ করার লক্ষ্য ছিল ইমরানুরের। কিন্তু দৌড় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মাসল পুল হলে ট্র্যাকে পড়ে যান তিনি। দ্রুত তাঁকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর পাঠানো হয় নৌবাহিনীর হাসপাতালে। এতে স্বপ্ন ভাঙে তাঁর মাঝপথেই।
শেষ পর্যন্ত পুরুষদের ২০০ মিটারে সেনাবাহিনীর তারেক রহমান ২১.৯০ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণ জেতেন। দ্বিতীয় হয়েছেন আবদুল মোতালেব (২২ সেকেন্ড)।
আরও পড়ুন
সিটিতেই ‘যাচ্ছেন’ দোনারুম্মা |
![]() |
নারীদের ২০০ মিটারে শিরিন পুরো দৌড় শেষ করলেও স্বর্ণ জেতা হয়নি তাঁর। সেনাবাহিনীর শারীফা খাতুন ২৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবার আগে ফিনিশ লাইন ছুঁয়ে জিতেছেন স্বর্ণ। শিরিন হয়েছেন দ্বিতীয়, সময় লেগেছে ২৫.১০ সেকেন্ড।
২০১৩ সাল থেকে দেশের স্প্রিন্টে প্রায় অপ্রতিরোধ্য ছিলেন শিরিন। টানা ১২ বছর ১০০ মিটারে জেতার পর ২০২২ সালে প্রথমবার হারেন সুমাইয়া দেওয়ানের কাছে। তিন বছর পর আবারও দ্রুততম মানবীর খেতাব হারালেন তিনি। এবার যোগ হলো ২০০ মিটারেও ব্যর্থতার গল্প। অথচ ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বহুবার তিনি ‘ডাবল’ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। আজকের ২০০ মিটারে সুমাইয়ার নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি দৌড়াননি।