৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১০ এম

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিকল্প ভেন্যুর প্রয়োজনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজে হাত দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে পর্যটন কর্পোরেশনের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৯.২৫ একর খাস জমি দখলে নিয়ে নেয় নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বিসিবি। নিজস্ব তহবিল থেকে ২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা উত্তোলন করে বিশাল এই জায়গাটি বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে ঘিরে, মাঠোন্নায়ন করে একটি অস্থায়ী ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশাপাশি ১টি আউটার ক্রিকেট মাঠ এবং ১টি অনুশীলন মাঠ তৈরির পাশাপাশি স্টিল স্ট্রাকচারের প্লেয়ার্স ড্রেসিংরুম, প্যাভিলিয়ন নির্মাণসহ আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত করেছে বিসিবি।
তবে যে উদ্দেশ্য নিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এতো বড় ক্রিকেট স্থাপনার দখল নিয়েছিল বিসিবি, সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমপ্লেক্সকে বিবেচনা করেনি আইসিসি। এমনকি এই জায়গাটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দও নিতে পারেনি বিসিবি। তবে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের ৮টি ওডিআই, ৮টি টি-টোয়েন্টি, ১৪টি ইয়ুথ ওডিআই এবং ১টি ইয়ুথ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অন্যতম প্রধান ভেন্যু হিসেবে কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়ামে হয়েছে ৯টি ম্যাচ। এই স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে ২টি মাঠ থাকায় প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট জাতীয় লিগের নিয়মিত ভেন্যু এখন এটি।
২০১৭ সালের মার্চে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনি পয়েন্টে ৭৬৮ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৪৯.২৫ একর জায়গামাত্র ১ লাখ ১ হাজার টাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) স্থানীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা দলিল করে হস্তান্তর করে। এতো বড় জায়গা নামমাত্র মূল্যে পেয়ে এখানে পরিকল্পিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এনএসসি। দক্ষিণ দিকে সমুদ্র সৈকত এবং ঝাউ বনের অবস্থান আছে বলেই প্রস্তাবিত ফুটবল এবং ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নকশায় দক্ষিণ পাশটি গ্যালারিহীন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সে কারণেই স্টেডিয়াম দুটির ধারণক্ষমতা মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম এবং ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের চেয়ে কম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফ্লাড লাইট, জায়ান্ট স্ত্রিন, চেয়ারসহ আধুনিক সব সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন ২২ হাজার আসনবিশিষ্ট একটি সুদৃশ্য ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ২১ হাজার আসনবিশিষ্ট ১টি ফুটবল স্টেডিয়াম, একটি অনুশীলন মাঠ, ১টি ইনডোর স্টেডিয়াম, ১৪তলা ৫তারা হোটেল, একটি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনে ১ হাজার ৯শত ২১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্প তৈরি করে এনএসসি। ২০২১ সালে এই প্রকল্পের উপযোগিতা যাচাই করে ইতিবাচক রিপোর্ট দিয়েছে ন্যাশনাল একাডেমি ফর প্ল্যানিং এবং প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড নামের ২টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। পরামর্শক এই দুটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে এনএসসি খরচ করেছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
পরবর্তীতে সিভিল এভিয়েশন, বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের অনাপত্তি পেয়ে কক্সবাজারের ট্যুরিজমকে আকর্ষণীয় করতে ২০২৩ সালে সাম্পানের আদলে স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের নকশা অনুমোদন করে প্রাক্কলিত ব্যয়ও নির্ধারণ করেছে এনএসসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ। যুবও ক্রীড়া মন্ত্রানালয়কে ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান (ডিপিপি) দিয়েছে তারা। তবে পরবর্তীতে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজে অগ্রগতি হয়নি। নকশায় পরিবর্তন এনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন এনএসসির বিশ্বস্ত একটি সূত্র।
কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ক্রিকেট প্যাভিলিয়ন এবং ড্রেসিংরুমের অবস্থা এখন করুণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে নতুন করে অস্থায়ী প্যাভিলিয় নির্মাণের পক্ষে নয় এনএসসি কিংবা বিসিবি। এই অস্থায়ী গ্যালারি উপড়ে ফেলে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণকাজে হাত দিতে চায় এনএসসি।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনি পয়েন্টে এতো বড় জায়গাটির মালিকানা যখন এনএসসি'র, তখন এই জায়গায় দেশের একমাত্র পরিকল্পিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গত ৩ এপ্রিল কক্সবাজার পরিদর্শণকালে প্রস্তাবিত ক্রীড়া কমপ্লক্সের যাবতীয় তুলে ধরেছে এনএসসির পরিকল্পনাও উন্নয়ন বিভাগ।
কক্সবাজার ক্রিকেট ভেন্যু পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন-
‘কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের পর্যটকদের কাছে সুপরিচিত। আমরা ভাবছি কীভাবে স্পোর্টস ট্যুরিজমের মাধ্যমে এই খ্যাতিকে কাজে লাগানো যায়। পৃথিবীর অনেক দেশে দর্শক গ্যালারি ছাড়াও মাঠে বা গ্লাসের ভেতরে বসে খেলা উপভোগ করে। কক্সবাজারের এমন সুন্দর পরিবেশে উন্নত স্টেডিয়ামের আদলে কিছু পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম নিয়ে বিগত সময়ে বিসিবি ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যে যে রশি টানাটানি ছিল, তা আর হবে না। বর্তমানে কক্সবাজারের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ ফেরানো কঠিন। তবে আমরা এই কঠিন কাজকে সহজ করার জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’
আগের পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনতে হলে প্রকল্প ব্যয় সংশোধন করতে হবে। তারপর ক্রীড়া মন্ত্রানালয়ের অনুমোদন নিয়ে একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠাবে এনএসসি। বর্তমান সরকারের আমলেই দেশের একমাত্র ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছে এনএসসি। ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের যৌথ স্বাগতিক বাংলাদেশ, তা মাথায় রেখেই কক্সবাজারের লাবনি পয়েন্টে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
No posts available.
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৪০ পিএম
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

ষষ্ঠ এশিয়ান বিচ গেমসে দারুণ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশের নারী কাবাডি দল। প্রায় ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের গৌরব অর্জন করেছে তারা।
সোমবার বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ব্রোঞ্জ জয়ী দলটি আগামীকাল রাতে দেশে ফিরবে। চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নং সিজেড ৩৯১ যোগে রাত ১০টায় তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
সাফল্যমণ্ডিত এই নারী কাবাডি দলকে বিমানবন্দরে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হবে। বিওএ-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবেন।
ষষ্ঠ আসরে কাবাডিতে স্বর্ণ জিতেছে ভারত এবং রৌপ্য পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতের কাছে হারলেও তাদের সুশৃঙ্খল ও আক্রমণাত্মক খেলা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

লন্ডন ম্যারাথনে নতুন ইতিহাস লিখলেন সেবাস্তিয়ান সাওয়ে। ইতিহাসের প্রথম মানুষ হিসেবে দুই ঘণ্টার কম সময়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যারাথনের দৌড় শেষ করেন কেনিয়ার এই ক্রীড়াবিদ।
লন্ডনে রোববার হওয়া এই পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথনে ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে ইতিহাস গড়েছেন সাওয়ে।
ম্যারাথনে এতদিন আগের রেকর্ডটি ছিল সাওয়ের স্বদেশি কেলভিন কিপটামের। ২০২৩ সালে ২ ঘণ্টা ৩৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ম্যারাথন শেষ করেছিলেন প্রয়াত এই দৌড়বিদ।
২০১৯ সালে কিংবদন্তি দৌড়বিদ এলুইড কিপচোগে ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে ম্যারাথন শেষ করেছিলেন। তবে নিয়ন্ত্রিত কন্ডিশনের মধ্যে ম্যারাথন হওয়ায়, সেটি রেকর্ড হিসেবে ধরা হয়নি।
ম্যারাথনে অভিষিক্ত ইয়োমিফ কেজেলচার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শেষের ১০ কিলোমিটারে গিয়ে মূলত লিডটা নেন সাওয়ে।
এই দৌড়ে দ্বিতীয় হওয়া কেজেলচাও দুই ঘণ্টার কমে দৌড় শেষ করেন, ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪১ সেকেন্ড। এছাড়া ২ ঘণ্টা ২৮ সেকেন্ডে ম্যারাথন শেষ করে তৃতীয় হন হাফ ম্যারাথনের রেকর্ডধারী জ্যাকব কিপলিমো।

শুক্রের ছুটির সকাল। স্বাভাবিকতই স্কুল-কলেজ যাওয়ার তাড়া নেই এসময়টায়। আলস্যের সকালে তাই একটু ঝিমিয়ে নেওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে প্রকৃতি দেখতে বেরিয়ে পড়া। অথচ আরামের এমন মুহূর্ত একপাশে রেখে সাজসকালে কিছু ক্ষুদে প্রাণের আনাগোনায় মুখর হয়ে পড়ে রাজধানীর ধানমন্ডির রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। উদ্যেশ্য, অনূর্ধ্ব ১৬ বালিকা র্যাপিড দাবায় অংশগ্রহণ। যার তত্ত্বাবধানে ছিল বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা।
দেশের ২৫ টি জেলার ৮০ জন ক্ষুদে দাবাড়ু অংশ নিয়েছিল এই প্রতিযোগিতায়। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার প্রাঙ্গনে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক মো আমিনুল এহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক লোকমান হোসেন ও হ্যাট্রিক মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়ন নওশিন আনজুম। আর গোটা আসর মুখরিত ছিল চাল-পাল্টা চালে ব্যস্তরত এই ছোট্ট মুখগুলোতে।
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা প্রায়ই শিশু কিশোরদের নানা খেলায় উদ্বুদ্ধ করতে ব্যবস্থা নিয়ে করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় দাবার আয়োজন।
১০ মিনিট এবং সাথে ৫ সেকেন্ড ইনক্রিমেন্টের এই খেলায় বিজয়ীদের মেইন পুরস্কার ছিল তিনটি। এছাড়াও ১৫ ক্যাটাগরিতে মোট ১৮ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। সব মিলিয়ে দারুণ এক সময় কাটায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এই দাবাড়ুরা।
আয়োজকদের মতে, এমন প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের মধ্যে দাবার প্রতি আগ্রহ ধরে রাখা এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করা। দাবার এই ‘চাল-পাল্টা চালে’র লড়াইয়ের মাধ্যমেই হয়তো একদিন বেরিয়ে আসবে আগামীর কোনো গ্র্যান্ডমাস্টার, যারা বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করবে বাংলাদেশের মুখ।

সেমিফাইনালের লড়াইয়ে বিমান বাহিনীর সামনে দাঁড়াতেই পারল না বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। তিন সেটেই হেরেছে তারা। অপর সেমিফাইনালে সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই জমিয়ে তুলেও শেষ পর্যন্ত আর পেরে উঠেনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ভলিবল দল। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস আয়োজিত ভলিবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে কাল সেনাবাহিনীকে মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
গত মঙ্গলবার থেকে পল্টনের শহীদ নূর হোসেন জাতীয় ভলিবল স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে এই প্রতিযোগিতা। আগামীকাল ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এই টুর্নামেন্টের। তার আগে আজ হয়ে গেল দুটি সেমি-ফাইনালের লড়াই।
প্রথম সেমিফাইনালে বর্ডার গার্ডকে ৩-০ (২৫-১৫, ২৫-১৯ ও ২৫-১৯ পয়েন্ট) সেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ৩-১ সেটের (২৫-১৬, ২১-২৫, ২৫-১৯, ২৫-২৩ পয়েন্ট) ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
আগামীকাল ফাইনাল গড়াবে বেলা ৩টায়। তার আগে তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে বর্ডার গার্ড ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একে অপরকে মোকাবিলা করবে।

দেশের অন্যতম সফল খেলা আর্চারি কদিন ধরেই নেতিবাচক খবরের শিরোনামে। ফেডারেশনটির সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, তাঁর অগোচরে ফেডারেশনের তহবিল থেকে ১৪ লাখ টাকার মতো উত্তোলন করা হয়েছে। তাঁকে না জানিয়েই পরিবর্তন করা হয়েছে কোষাধ্যক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে আর্চারি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি জরুরি বৈঠকে বসে।সভায় কমিটির ১৪ জনের ১০ জন সদস্যই সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদের ওপর অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন। তারা কাজ করতে চান না তানভীরের সঙ্গে।
তানভীর আহমেদ যদিও ফেডারেশনে আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে বলে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরেছেন, তবে সাম্প্রতিক ট্র্যাক রেকর্ড বলছে ভিন্ন কথা। তানভীর আহমেদই সম্প্রতি একাধিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন কাউকে না জানিয়ে। পরে জানা যায়, সফরে যাওয়ার আগে নিয়ম অনুযায়ী যুগ্ম সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব না দিয়ে একজন সদস্যকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। যা কমিটির অন্যরা পরে জানতে পারেন। গত ৫ এপ্রিল হওয়া আর্চারির নির্বাহী কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এ সময় তানভীর আহমেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ৭ এপ্রিল ফেডারেশন সভাপতি স্বাক্ষরিত চিঠিতে তানভীরকে এক মাসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।
৫ এপ্রিলের মিটিংয়েই কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে শহিদুজ্জামান সেচ্ছায় সরে যেতে সম্মতি জানান। জানা যায়, ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন না করায় সেদিন সভাপতির তোপের মুখে পড়েন তিনি। এরপরই শহিদুজ্জামানের জায়গায় দায়িত্বে আসেন সাইদুজ্জামান তুহিন।
সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে নতুন কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষরে আর্চারি ফেডারেশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ড থেকে মোট ২১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। যার একটি বড় অংশ খরচ হয়েছে জাতীয় দলের বিদেশি কোচের বেতন, আবাসন বাবদ। কোন খাতে কি খরচ হয়েছে তা নোটশিট আকারে ফেডারেশনে লিপিবদ্ধ আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় উপস্থিত একজন সদস্য বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক পুরো বোর্ডের সম্মানহানি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। অথচ কোথায় কী হয়েছে, সবই লিপিবদ্ধ আছে। উনি (সাধারণ সম্পাদক) তার আপত্তির কথা সভাপতি বরাবর বা বোর্ডে তুলতেই পারতেন। কিন্তু সেটা না করে সংবাদমাধ্যমে নানা অভিযোগ এনেছেন। এটা উনি কি জন্য করেছেন সেটা জানি না। তবে তার ওপর বোর্ডের বেশির ভাগ সদস্যই নাখোশ। হতে পারে নিজের স্বেচ্ছাচারিতা আড়াল করতে তিনি এমন করছেন।’
আর্চারি ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল। দুই যুগের বেশি সময় তিনি এই খেলাটি দেশে বিকশিত করেছেন। পাশাপাশি সরাসরি অলিম্পিকে খেলার অবস্থানে পৌঁছেছেন টানা দুই বার। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে সকল ফেডারেশনে রদবদল হয়েছে। সেখানে চপলকে আর্চারির সাধারণ সম্পাদক করে একটি প্রজ্ঞাপন হয়। এতে সার্চ কমিটির আহ্বায়ক ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চপলকে তখন সদস্য করে তানভীর আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করেন। তানভীর আহমেদ আর্চারির আম্পায়ার/জাজ হিসেবে কাজ করেছেন। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তেমন না থাকলেও সাধারণ সম্পাদক হয়ে ইতিমধ্যে এক বছর পার করেছেন। নানা সময় কমিটির কর্মকর্তাদের মধ্যে খানিকটা দূরত্ব ও সমন্বয়হীনতা গোপনীয় পর্যায়ে থাকলেও কোষাধ্যক্ষ পরিবর্তন কেন্দ্র করে সেটা প্রকাশ্যে এসে অনাস্থা ও মন্ত্রী তলব পর্যন্ত গড়িয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কিভাবে আর্চারির এই অশান্ত পরিবেশ শান্ত করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।