
জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে বরাবরের মতো সোমবারও ছিল উৎসবমুখর। পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি করতালিতে মুখর; চারদিকে অদ্ভুত রোমাঞ্চ। এরই মধ্যে লং জাম্পের ট্র্যাকে নিজের দৌড় শুরু করলেন ২২ বছর বয়সী এক তরুণী। অদম্য গতিতে বাতাসে ভেসে গিয়ে যখন বালুর ওপর পড়লেন, ততক্ষণে দেশের অ্যাথলেটিকসের ২২ বছরের পুরোনো ইতিহাস স্রেফ অতীত হয়ে গেছে। ৬.২৫ মিটার দূরত্ব পেরিয়ে লং জাম্পে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্বপ্না খাতুন।
২০০৪ সালে ইসলামাবাদের এসএ গেমসে ৬.০৭ মিটার লাফিয়ে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ফৌজিয়া হুদা জুঁই। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের কোনো নারী অ্যাথলেট যে দূরত্বের ধারেকাছেও যেতে পারেননি, তা অনায়াসে আহ পেরিয়ে গেলেন স্বপ্না ৬.১০ মিটার লাফিয়ে।
তবে এই রেকর্ডের মাহাত্ম্য কেবল সংখ্যার হিসেবে নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক অনন্য আবেগঘন গল্প। স্বপ্না যাঁর রেকর্ডটি ভাঙলেন, সেই জুঁই ছিলেন বিকেএসপিতে স্বপ্নার প্রথম কোচ।কোচের রেকর্ড ভেঙে নতুন রানি হওয়ার পর উচ্ছ্বসিত স্বপ্না বলেন, ‘ম্যাডামের (ফৌজিয়া হুদা জুঁই) হাত ধরেই বিকেএসপিতে আমার গড়ে ওঠা। ওনার নিজেরও ইচ্ছা ছিল যেন আমি ওনার এই রেকর্ডটি ভেঙে দিই। আজ ওনার রেকর্ড ভাঙতে পেরে আমার স্বপ্ন সত্যি হলো।’
কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা স্বপ্না ২০১৯ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পর শুরু হয় আসল লড়াই। ২০২৪ সালের শেষের দিকে যোগ দেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে। প্র্যাকটিসে সর্বোচ্চ ৫.৯৯ মিটার পর্যন্ত লাফানো স্বপ্না মূল মঞ্চে এসে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন।
জাতীয় পর্যায়ে অভাবনীয় কীর্তির পর স্বপ্নার চোখ এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। সামনে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এসএ গেমসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চান তিনি। সুযোগ-সুবিধা পেলে আন্তর্জাতিক ট্র্যাকেও ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণী। নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য জানিয়ে স্বপ্না আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, ‘পাকিস্তানে এসএ গেমসে আমার লক্ষ্য ৬.৬০ মিটার লাফানো। কর্তৃপক্ষ যদি আমাকে সুযোগ দেয় এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত প্রশিক্ষণ পাই, তবে ইনশাল্লাহ সামনে আরও ভালো করব এবং দেশের জন্য পদক আনব।’ অ্যাথলেটিকসে যেখানে এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা, সেখানে ভালো লাগা আর একাগ্রতা দিয়েই বাজিমাত করলেন স্বপ্না।
জাতীয় অ্যাথলেটিকসের দ্বিতীয় দিনে সোমবার স্বপ্না ছাড়াও আরও তিন অ্যাথলেট গড়েছেন নতুন রেকর্ড। ছেলেদের ডিসকাস থ্রোয়ে নৌবাহিনীর ফারুক আহমেদ ৪৭.৫৯ মিটার ছুঁড়ে ২০২৫ সালে সেনাবাহিনীর আব্দুল আলিমের ৪৬.৯৪ মিটারের রেকর্ড ভেঙেছেন।
মেয়েদের ডিসকাস থ্রোতে নৌবাহিনীর জাফরিন আক্তার ৪৬.০৬ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নিজেরই গড়া তিন বছর পুরোনো ৪৩.৪৯ মিটারের রেকর্ডটি ভাঙেন। মেয়েদের ৪০০ মিটার হার্ডলসে সেনাবাহিনীর বর্ষা খাতুন ১ মিনিট ০৩.১৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে ভেঙেছেন গত বছর নিজেরই গড়া রেকর্ড।
No posts available.
১৮ মে ২০২৬, ১০:২১ পিএম
১৭ মে ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম
১৬ মে ২০২৬, ৪:৫২ পিএম

জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন শহিদ ফারহান ফাইয়াজ খেলার মাঠে দিনব্যাপী হয়ে গেলো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। অংশ নিয়েছে দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিযোগিরা। সকাল থেকেই দৌড়, সফটবল, ফুটবলসহ নানা ডিসিপ্লিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা।
জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পাড়ি দিয়ে আসা প্রতিভাবানদের নিয়ে সোমবার ঢাকায় হয় জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা। এই একটা দিনের জন্য অপেক্ষায় থাকেন শিশুরা। এখানে এসে নতুন নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচিত হয় তারা। পুরোটা দিন উদযাপন করেন নিজেদের মতো করে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের আয়োজনে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। কমলমতি এই শিশুদের উৎসাহ প্রদান, সমাজের আর আট দশটা স্বাভাবিক শিশুদের মতো প্রতিদ্বন্দিতার করার ক্ষমতা তৈরি করা, প্রতিভার বিকাশ ঘটানোই এই আয়োজনের লক্ষ্য।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া পরিদপ্তরের পরিচালক মাহবুবুর রহমান। এ সময় আগামি বছর থেকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে আবারও দ্রুততম মানব হলেন ইংল্যান্ড প্রবাসী ইমরানুর রহমান। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বাড়তি নজর ছিল শিরিন আক্তারের দিকেও। নৌবাহিনীর এই অ্যাথলেট ফিরে পেলেন শ্রেষ্ঠত্ব। গত সামার অ্যাথলেটিক্সে সুমাইয়া দেওয়ানের কাছে দ্রুততম মানবীর মুকুট হারিয়েছিলেন তিনি।
পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে চলছে ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্স। রোববার ১০ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন ইমরানুর। জাতীয় ও সামার অ্যাথলেটিক্স মিলিয়ে এ নিয়ে ছয়বার সেরা হলেন তিনি। এবার ইমরানুরের টাইমিংয়েও হয়েছে উন্নতি। গত আগস্টের সামার অ্যাথলেটিক্সে তাঁর টাইমিং ছিল ১০ দশমিক ৬৪ সেকেন্ড।
ইমরানুর অবশ্য ব্যক্তিগত সেরা টাইমিংকে ছাপিয়ে যেতে পারেননি। ২০২২ সালে তিনি দ্রুততম হয়েছিলেন ১০ দশমিক ২৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে।
এ বিভাগে ১০ দশমিক ৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে নৌবাহিনীর মোহাম্মদ ইসমাইল দ্বিতীয় ও বিমানবাহিনীর নাঈম ইসলাম ১০ দশমিক ৯১ সেকেন্ড টাইমিং করে হয়েছেন তৃতীয়।
মেয়েদের বিভাগে সেরা হওয়া শিরিন দৌড় শেষ করেছেন ১২ দশমিক ১০ সেকেন্ডে। সবশেষ সামার অ্যাথলেটিক্সে তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন ১২ দশমিক ২১ সেকেন্ড টাইমিং করে।
এ নিয়ে জাতীয় ও সামার অ্যাথলেটিক্স মিলিয়ে ১৭বার দ্রুততম মানবী হলেন শিরিন। সেরা মুকুট ফিরে ফিরে পেলেও তিনি পারেননি ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং পেছনে ফেলতে; ২০২২ সালে ১১ দশমিক ৯৫ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেছিলেন নৌবাহিনীর এই দৌড়বিদ। দৌড় শেষে সাংবাদিকদের শিরিন বলেন, 'আসলে আমি ১৭ বার ১০০ মিটারে প্রথম হয়েছি। এটাই আমার কাছে ভালো লাগার বিষয়।'
সুমাইয়া এবার ছিলেন বড্ড বিবর্ণ। ১২ দশমিক ৪১ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি হয়েছে চতুর্থ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শরিফা খাতুন (১২ দশমিক ২৫) ও রেখা আক্তার (১২ দশমিক ৩৪) যথাক্রমে হয়েছেন দ্বিতীয় ও তৃতীয়।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) স্পোর্টস কমপ্লেক্সে জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো বিইউবিটি ফুটসাল চ্যাম্পিয়নস লিগ। গত ১০ এপ্রিল শুরু হয়ে গতকাল শেষ হলো টুর্নামেন্ট। ফাইনালে তুরাগ রেঞ্জার্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিইউবিটি কর্ণফুলী স্টারস।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তিনটি পৃথক বিভাগে মোট ১৮টি দল এই প্রতিযোগিতায় লড়েছে।
এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও নতুন সংযোজন ছিল ‘প্লেয়ার অকশন’ বা খেলোয়াড় নিলাম, যা বিইউবিটির ইতিহাসে এবারই প্রথম। গত ৭ এপ্রিল লটারির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে আটজনকে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের মালিক হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
নিলামে অংশ নেওয়া আটটি দল হলো—বিইউবিটি পদ্মা ব্লেজ, বিইউবিটি মেঘনা ওয়ারিয়র্স, বিইউবিটি তুরাগ রেঞ্জার্স, বিইউবিটি তিস্তা থন্ডার্স, বিইউবিটি যমুনা জায়ান্টস, বিইউবিটি সুরমা টাইটানস, বিইউবিটি কর্ণফুলী স্টারস, বিইউবিটি রূপসা রাইডার্স। পরবর্তীতে ১৬ এপ্রিল একটি জমকালো নিলাম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ দলে দলভুক্ত হন।
নিলামের মাধ্যমে গঠিত আটটি দল নিয়ে হয় ছেলেদের বিভাগের মূল লড়াই। মাঠের লড়াই শেষে টুর্নামেন্টের প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় বিইউবিটি তুরাগ রেঞ্জার্স ও বিইউবিটি কর্ণফুলী স্টারস । গ্যালারিভর্তি দর্শকের মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটিতে তুরাগ রেঞ্জার্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিইউবিটি কর্ণফুলী স্টারস।
টুর্নামেন্টে যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা আলিফ আল মুরসালিন (বিইউবিটি পদ্মা ব্লেজ) এবং আল-ইমরান (বিইউবিটি মেঘনা ওয়ারিয়র্স)। সেরা গোলরক্ষক সাজিদ, সিএসই বিভাগ (কর্ণফুলী স্টারস) ও সেরা খেলোয়াড়: বিপ্লব, আইন বিভাগ (কর্ণফুলী স্টারস)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি অনুষদের (ফ্যাকাল্টি) নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এই বিভাগের ফাইনাল ম্যাচটি ছিল বেশ উপভোগ্য। ট্রফির লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল আইন অনুষদ (ফ্যাকাল্টি অব ল) এবং কলা ও মানবিক অনুষদ (ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ)। শেষ পর্যন্ত কলা অনুষদকে স্তব্ধ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাসে মাতে আইন অনুষদের মেয়েরা।
যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা মোসাম্মৎ ইমু খাতুন (কলা ও মানবিক অনুষদ) এবং তানজিলা দিশা (আইন অনুষদ)। সেরা গোলরক্ষক লামিয়া (আইন অনুষদ) এবং সেরা খেলোয়াড় সুমাইয়া (আইন অনুষদ)।
ক্যাম্পাসের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যকার মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে গঠিত হয়েছিল ছয়টি বিশেষ দল। এই বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামে স্টাফ টিম এবং প্রকৌশল অনুষদ (ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং)। মাঠের দারুণ দক্ষতায় স্টাফ টিমকে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয় প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষকেরা।
সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষক মৌন। সেরা গোলরক্ষক অফিস সহকারী আলতাব। সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষক শিহাব।
গতকাল ফাইনাল খেলা শেষে এক বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিজয়ী ও রানার্স-আপ দলের হাতে ট্রফি এবং চ্যাম্পিয়ন মেডেল তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে সেরা পারফর্মারদের ক্রেস্ট দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

দেশের সবচেয়ে বড় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের আসর ‘৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা মাঠে গড়াচ্ছে কাল থেকে। পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে ৪৫ সংস্থার ৪১০ অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছে।
প্রতিযোগিতা শুরুর আগে আজ শনিবার জাতীয় স্টেডিয়ামে হয় সংবাদ সম্মেলন। স্পনসর না থাকায় নিজস্ব তহবিল ও আন্তর্জাতিক অনুদান দিয়ে ফেডারেশন টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। স্পনসরহীনতায় টুর্নামেন্ট আয়োজন করাকে নিজেদের সাফল্য হিসেবে দাবি করেন অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম,
‘বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স থেকে আমরা ৯৬ লাখ টাকা পেয়েছি এ পর্যন্ত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকেও তো পেয়েছি এরকম। আগের কিছু ফান্ড ছিল... আমাদের একটু কৃতিত্ব দেবেন যে আমরা স্পনসর ছাড়াও ফান্ড ধরে রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
বিভিন্ন গুঞ্জন ও সাবেক কমিটির তহবিল ভাঙার রটনা প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন,
‘আগের ফান্ড ছিল ২ কোটি টাকা। তো আমরা দেড় কোটি টাকা তো ফিক্সড ডিপোজিট করলাম, বাকি এতগুলি খেলা আমরা কীভাবে চালালাম? প্রতিটা টুর্নামেন্টের পেছনে ২০ থেকে ২৪ লাখ টাকার মতো লাগে।’
জাতীয় অ্যাথলেটিকসে এবার খেলবেন লন্ডন প্রবাসী অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান। গতবার খেলতে পারেননি তিনি। প্রতিটি ইভেন্টে রেকর্ডধারী অ্যাথলেটকে ২০,০০০ টাকা করা দেবে ফেডারেশন। এছাড়া প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের যথাক্রমে ৫ হাজার, ৩ হাজার ও ২ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে দেওয়া ২০ কোটি টাকার অনুদান বাতিল করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সংস্থার বর্তমান সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
ধানমন্ডির রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজ সারওয়াত সিরাজ শুক্লা তীব্র ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। কোনো নোটিশ ছাড়াই এবং মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে না জানিয়ে নারীদের ক্রীড়া উন্নয়নের এ অর্থ ফেরত নেওয়ায় দেশের গোটা নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা ফিরোজা করিম নেলী, কোষাধ্যক্ষ রওশন আখতার ছবিসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিষয়টি আসার পর একটি সংবাদ সম্মেলন ডাকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। সেখানে তারা স্পষ্ট করে যে, ২০২২ সালের এপ্রিলে এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় ১০ কোটি করে মোট ২০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল তারা। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে পাওয়া এই অর্থটি সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করপোরেট শাখায় এফডিআর (স্থায়ী আমানত) হিসেবে জমা রাখা হয়েছিল।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে তারা আর এফডিআরের কোনো লভ্যাংশ পায়নি। লভ্যাংশ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, গত ডিসেম্বরে সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট করপোরেট শাখায় লিখিত চিঠি পাঠান মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষ। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো লিখিত জবাব কিংবা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ নীরবতার পর, অবশেষে গত ৬ মে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সংস্থাকে মৌখিকভাবে অবহিত করে যে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এই ২০ কোটি টাকার অনুদানটি বাতিল করেছে এবং অর্থটি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত নেওয়া হয়েছে।
অনুদান বাতিলের এ ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রফেসর ইউনূস নিজে দুই কন্যার পিতা। নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও ক্ষমতায়নের জন্য সারা জীবন কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর নোবেল পুরস্কারের অংশীদারও একজন নারী। অথচ তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশের মহিলাদের খেলাধুলার জন্য দেওয়া অনুদান কেড়ে নেওয়া হলো। এই ঘটনা আমাদের বিস্মিত, ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে।’
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, অনুদানের শর্তে এমন কোনো ধারা ছিল না, যার মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত নেওয়া যায়। এই সিদ্ধান্তকে নারী সমাজের ওপর একটি কঠিন আঘাত হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।