৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৪১ পিএম

হিটে দ্বিতীয় হয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। সেখানে ৮ জনের মধ্যে তৃতীয় হলেও ফাইনালে যেতে পারেননি বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান।
চীনের তিয়ানজিনে শুরু হওয়া এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকসে শুক্রবার ৬০ মিটার স্প্রিন্ট ইভেন্টে সেমিফাইনালেই বাদ পড়লেন ইমরানুর।
প্রথম সেমিফাইনালে ৬.৭৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেন ইমরানুর। তাঁর আগে ৬.৬৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে উত্তর কোরিয়ার কুম রিয়ং জো প্রথম ও ৬.৭৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে জিনজিয়ান হি হয়েছেন দ্বিতীয়।
এর আগে হিটে আরও কম সময় নেন ইমরানুর। ৬.৭৩ সেকেন্ডে শেষ করেন দৌড়। এই হিটে ৬.৬৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছেন জাপানের কিরিউ ইয়োশিহিদে।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি হিটের শীর্ষ চারজন অ্যাথলেট সরাসরি সেমিফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। ফাইনালে সেরা ৯ অ্যাথলেটের মধ্যে শেষ জনের টাইমিং ছিল ৬.৭৪ সেকেন্ড।
২০২৩ সালে কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত এই এশিয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন ইমরানুর। যা এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাফল্য।
২০২৪ সালে তেহরানে হওয়া আসরে তিনি চতুর্থ হলেও এবার ফাইনালেই উঠতে পারেননি। তাই হতাশ হয়ে এই অ্যাথলেট বলেন,
‘দুঃখজনকভাবে আমি পারিনি (ফাইনালে উঠতে), এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। প্রায় দুই বছর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় না খেলার পরও এই পরিস্থিতি থেকে ইতিবাচক দিকটাই নিতে চাই যে এবার অন্তত কোনো চোট পাইনি। সামনের ইভেন্টগুলোর জন্য নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ আছে। আপনাদের সবার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। খুব শিগগিরই দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ।’
No posts available.
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:১৪ পিএম
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৬ পিএম
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১ এম

বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা গোলরক্ষকদের মধ্যে অন্যতম আমিনুল হক এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক। ২০১০ সালে দক্ষিণ এশিয় ফুটবলে ট্রফি জয়ী এই অধিনায়ক গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আমূল পরিবর্তনের রোডম্যাপ তৈরি করতে চান। সে কারণেই দায়িত্ব গ্রহনের মাত্র ৬ দিনের মাথায় ক্রীড়া সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে এদেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রকৃত চিত্র জেনে নিয়েছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে রোববার 'ক্রীড়া হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা'- এই শ্লোগানে মেধাবি ক্রীড়াবিদদের পরিচর্যা্ এবং তাদের আর্থিক নিশ্চয়তায় করনীয় প্রস্তাবনাসমূহ ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাছ থেকে জেনেছেন।
তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়াঙ্গনে গতিশীলতা আনতে উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা, বিভাগ হয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রাজণীতিমুক্ত ক্রীড়াঙ্গন পরিচালনার দর্শন তার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলাসমূহে মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে টাকা অপচয়ের পক্ষে নন আমিনুল হক। প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ উন্মুক্ত করতে চান তিনি-
'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়াম নয়, মাঠের দিকে মনযোগ দিতে বলেছেন। জেলা স্টেডিয়ামগুলো এমনিতেই দেখাশুনা করা যায় না। সেখানে উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামগুলো কীভাবে পরিচর্যা করা হবে, তা আমার মাথায় আসছে না। স্টেডিয়াম এবং গ্যালারিকে ফোকাস না করে খেলোয়াড়দের দিকে ফোকাস করতে চাই। প্রতিটি জেলা-উপজেলার খালি মাঠকে খেলার উপযোগী করতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি অনুরোধ করব।'
দেশের যে সব জেলায় ক্রীড়া অফিসার পদ শুণ্য, সে সব জায়গায় ক্রীড়া অফিসার নিযোগ ৪৯৫টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ দিয়ে ক্রীড়াবিদ তৈরির কাজে হাত দেয়ার কথাও ভাবছেন নব নিযুক্ত ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এসব ক্রীড়া আফিসার এবং ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগে শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে বিপিএড সার্টিফিকেটকে একমাত্র মাণদণ্ড হিসেবে বিবেচনা না করে সাবেক ক্রীড়াবিদদের অগ্রাধিকার দিতে চান যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। দেশের যেসব স্কুলে খেলার মাঠ আছে, সেসব স্কুলে পাঠদান শেষে বিকেলে খেলা চর্চার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের মাধ্যমে নোটিশ দেয়ার পক্ষে তিনি।
৪র্থ শ্রেনী থেকে খেলাধুলা চর্চাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার জন্য ৫টি খেলা নির্ধারণ নিয়ে সাংবাদিকদের মতামত চেয়েছেন। দেশের জনপ্রিয় দুটি খেলা ফুটবল্এবং ক্রিকেটকে অপরিহার্য রেখে হকি, অ্যাথলেটিক্স, কাবাডি, আর্চারি, কারাতে, তায়কোয়ানডো, হ্যান্ডবল থেকে অন্য ৩টি খেলাকে বেছে নেয়ার প্রস্তাব এসেছে উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে।
দেশের ৬৪টি জেলায় গ্যালারি বিহীন ইনডোর নির্মাণে ক্রীড়া মন্ত্রানালয়ের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রাজধানীতে খেলার মাঠের সংকট কাটাতে প্রতি ২টি ওয়ার্ডে অন্তত একটি খেলার মাঠ প্রস্তুত করে সেখানে সর্বস্তরের নগরবাসীদের হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে করার পরিকল্পনা হাতে নিতে চান যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ফুটবল-ক্রিকেট-রাজধানী ভিত্তিক ক্রিকেট ছাড়া দেশের অধিকাংশ খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেনি ক্রীড়াবিদরা। তা ভালই জানেন আমিনুল। ক্রীড়াবিদ এবং তাদের পরিবারকে সাবলম্বি করে তুলতে খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান আমিনুল। খেলোয়াড়দের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদেরও পেশার আওতায় আনতে সরকারের ইচ্ছা আছে জানিয়েছেন তিনি। প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশনকেও সাবলম্বী করার পরিকল্পনা আছে বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের। স্পন্সর প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং দেশের শীর্ষ কর্পোরেট হাউজগুলোর সঙ্গে বসতে চান একারনেই।
যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন নিয়ে তুলেছেন প্রশ্ন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পরপর গণমাধ্যমকে বলেছেন-
'ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এখন দায়িত্বশীল জায়গায় আছি, আমি তাদের সাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব, কীভাবে আমরা ভাল একটি পর্যায়ে যেতে পারি।'
রোববার গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিসিবির ভবিষ্যত নিয়ে কিছুই বলেননি যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এমনকি অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে জেলাও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসমূহ এবং ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহের গঠিত এডহক কমিটি ভেঙ্গে নির্বাচনের আশু পরিকল্পনার কথাও সাংবাদিকদের জানাননি আমিনুল হক। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের দিন ধার্য করেছেন নব নিযুক্ত যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। হয়তবা এই সভাতেই একটা নির্দেশনা আসবে তাঁর পক্ষ থেকে।

নতুন সরকারের
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক
আমিনুল হক। নিজের তৃতীয় কর্মদিবসে
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) আজ ক্রীড়া সাংবাদিকদের
সঙ্গে বসেন আমিনুল। সেখান সবার কাছ
থেকে ক্রীড়াঙ্গনের সংকটের বিষয়গুলো শুনেছেন; সেই সঙ্গে সমাধানের
পরামর্শও নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানের
শুরুতে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বিএনপির লক্ষ্য ও পরিকল্পনার বিষয়টি
সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন আমিনুল। এরপর
জেলা ক্রীড়া সংস্থা নিয়ে সাংবাদিকের মতামত
শুনতে চান। জেলা পর্যায়
থেকে খেলোয়াড়রা উঠে এসে জাতীয়
দলে খেলে তেমনি সংগঠকেরা
জেলা-বিভাগ থেকে মনোনীত হয়ে
ফেডারেশনে পদে বসে। তাই
জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অত্যন্ত গুরুত্ব
দিয়ে দেখছেন।
যুব ও ক্রীড়া
মন্ত্রণালয়ের বাজেট অত্যন্ত সীমিত। এনএসসি জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে
খুবই স্বল্প অনুদান দেয়। যা দিয়ে
জেলায় সকল খেলা পরিচালনা
করা সম্ভবও হয় না। তাই সাংবাদিকরা জেলা
পর্যায়ে বাজেট বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জেলা-বিভাগে স্টেডিয়াম থাকলেও সেটা ব্যবহার অনুপযোগী।
অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বারোপ করেন অনেকে। জেলা
ক্রীড়া সংস্থার পাশাপাশি মহিলা জেলা ক্রীড়া সংস্থাও
রয়েছে প্রতি জেলায়।
মহিলা ক্রীড়া সংস্থা জন্ম থেকেই অ্যাডহক কমিটি দ্বারা পরিচালিত। মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, বাজেট সব কিছুতেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থায় গঠনতন্ত্র সংস্কার করেও নির্বাচনের প্রস্তাব দেন সাংবাদিকরা। তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের মতামত ও বক্তব্য শুনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন,
‘আমরা খেলাধুলাকে তৃণমূল থেকে জনপ্রিয় করে তুলতে চাই। অবকাঠামো নয়, আমরা খেলার মাঠকে গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে জেলা পর্যায়ে শিশু-কিশোররা খেলার পরিবেশ পায়।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত থাকা জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার এবার থেকে নিয়মিত দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,
‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার নিয়মিত করতে আমরা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পুরস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সঙ্গে আলোচনা করব। এরপর থেকে প্রতিবছর যেন নিয়মিতভাবে এই পুরস্কার দেওয়া যায়, সে চেষ্টা থাকবে।’
অলিম্পিকে
পদক এখনো স্বপ্ন বাংলাদেশের কাছে। তাই
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাফ, এশিয়ান ধাপে
ধাপে এগোতে চান। কোন খেলাগুলোকে
আন্তর্জাতিক বিবেচনায় গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন সাংবাদিকদের
কাছে জানতে চান। অনেক সাংবাদিক
দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে শুটিং, আর্চারির নাম উচ্চারণ করেছেন।
এরপর তৃতীয় নামটি এসেছে হকির। অনেক দিন থেকেই
ক্রীড়াঙ্গনের সবাই শুনে আসছে
হকির অনেক সম্ভাবনা কিন্তু
হকির সংগঠকদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলও সমস্যা। এটাও সাংবাদিকরা তুলে
ধরেছেন ক্রীড়া মন্ত্রীর কাছে।
বাংলাদেশের
ক্রীড়াঙ্গনের তীর্থস্থান পল্টন-গুলিস্থান। সেই এলাকা সন্ধ্যার
পর থেকে মাদকের অভয়ারণ্য।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল, গতকাল
সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট কমিউনিটিতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্টেডিয়ামের
নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে
সামগ্রিকভাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি অত্যন্ত
গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’
আমিনুল
হক সাবেক জাতীয় অধিনায়ক। তৃণমূলের ফুটবলার থেকে এখন ক্রীড়াঙ্গনের
সর্বোচ্চ ব্যক্তি। তিনি সাংবাদিকদের ক্রীড়াঙ্গনের
স্বার্থে সত্য ও বাস্তব
জিনিস তুলে ধরার আহ্বান
জানান এবং তার সময়ে
ক্রীড়াঙ্গনে মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেন।
আমিনুল হক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
হওয়ার পর আজই জাতীয়
ক্রীড়া পরিষদে প্রথম এসেছেন। সাবেক তারকা ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক কামরুন
নাহার ডানা, এশিয়ান আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজিব উদ্দিন
আহমেদ চপলসহ অনেকেই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আবারও পেশাদার বক্সিং রিংয়ে ফিরছেন
সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্লয়েড মেওয়েদার। ৪৮ বছর বয়সী মার্কিন বক্সার
চতুর্থবারের মতো অবসর ভেঙে চলতি বছরই লড়াইয়ে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত না হলেও এটি
হবে প্রায় নয় বছরের মধ্যে মেওয়েদারের প্রথম আনুষ্ঠানিক পেশাদার লড়াই।
২০১৭ সালে মিশ্র মার্শাল আর্টস তারকা
কনর ম্যাকগ্রেগরকে দশম রাউন্ডে টেকনিক্যাল নকআউটে হারিয়ে নিজের পেশাদার রেকর্ড
৫০-০তে নিয়ে যান মেওয়েদার। সেই জয়ের পরই তিনি সবশেষ অবসরে যান।
তবে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তনের আগে
প্রদর্শনী লড়াইয়ে সাবেক হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন মাইক টাইসনের মুখোমুখি হওয়ার কথা
রয়েছে মেওয়েদারের। সেই লড়াইয়ের তারিখ ও ভেন্যু এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
এক বিবৃতিতে মেওয়েদার বলেন,
‘বক্সিংয়ে আরও রেকর্ড গড়ার সামর্থ্য এখনও আমার আছে। মাইক টাইসনের বিপক্ষে
প্রদর্শনী হোক বা তার পরের পেশাদার লড়াই- দর্শকসংখ্যা, বৈশ্বিক সম্প্রচার ও আয়ের
দিক থেকে আমার ইভেন্টের চেয়ে বড় কিছু হবে না।’
এর আগে ২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৭ সালে অবসর
নিয়েছিলেন মেওয়েদার। তবে পেশাদার ক্যারিয়ার শেষ করলেও বিভিন্ন সময় প্রদর্শনী
লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের আগস্টে জন গট্টি থার্ডের বিপক্ষে
রিংয়ে দেখা গেছে তাকে।
তিন দশকের ক্যারিয়ারে পাঁচটি ভিন্ন
ওজন শ্রেণিতে ১৫টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতেছেন মেওয়েদার। বক্সিং এবং
স্পোর্টস ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আয় করা (পে-পার-ভিউ) শীর্ষ তিনটি ইভেন্টেই মূল
আকর্ষণ ছিলেন এই কিংবদন্তি। এই আর্থিক সাফল্যের কারণেই তাকে ক্রীড়াজগতে মানি
মেওয়েদার নামেও ডাকা হয়।

৬ মার্চ থেকে শুরু শীতকালীন প্যারালিম্পিক। বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় রাশিয়া ও বেলারুশের ক্রীড়াবিদদের নিজ দেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে অংশ গ্রহণের অনুমতিতে আপত্তি জানিয়েছে আয়োজক ইতালি।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর প্যারালিম্পিক থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিল রাশিয়া ও বেলারুশ। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সদস্য সংস্থাগুলোর ভোটে আংশিক স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, ফলে পূর্ণ সদস্যপদ ফিরে পায় দেশ দুটি।
প্যারালিম্পিকের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফেডারেশন শুরুতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথা বললেও, আন্তর্জাতিক স্কি ও স্নোবোর্ড ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ক্রীড়া সালিশি আদালতে আপিলে জয় পায় রাশিয়া ও বেলারুশ।
প্যারালিম্পিকে রাশিয়া ও বেলারুশের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ও ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি। বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনে যুদ্ধ চলাকালীন এমন সিদ্ধান্ত গেমসের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁরা জানান, সেপ্টেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটির সাধারণ পরিষদে গৃহীত এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইতালি স্পষ্টতই অসম্মত।
ইতালি আরও জানিয়েছে, ইউরোপীয় কমিশনসহ ৩৩টি দেশের উদ্বেগের সঙ্গে একমত তারা। রাশিয়ার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও বেলারুশের সমর্থনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় পরিচয়ে অংশগ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়। নিরপেক্ষ ব্যক্তিগত ক্রীড়াবিদ হিসেবে অংশ নেওয়াই একমাত্র বিকল্প হতে পারে বলে মত তাদের।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমনের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিষেধাজ্ঞায় ছিল রাশিয়া। দেশটিকে সরাসরি সহায়তার কারণে বেলারুশের ওপরও প্রায় সমান নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসে। যদিও প্যারালিম্পিকে নিজস্ব পতাকায় অংশ নেওয়ার অনুমতি মিলেছে, তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় চলমান শীতকালীন অলিম্পিকে রুশ ও বেলারুশীয় ক্রীড়াবিদরা নিরপেক্ষ পতাকায় অংশ নিচ্ছেন।

লেখাঃ অদিতি করিম, লেখক ও নাট্যকার
অবশেষে শেষ হলো ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের পরপরই ইউনূসের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। একটি গণ অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদের অভিপ্রায় অনুযায়ী শান্তিতে নোবেলজয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতি বরণ করে নেয়।
ডঃ ইউনূস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। সারাবিশ্বে তার পরিচিতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি যান, বক্তৃতা করেন। তাই তার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগে জাতি উল্লসিত হয়। বাংলাদেশ এরকম একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সরকার প্রধান হিসেবে পেয়ে আশায় বুক বাঁধে। আমরা আশা করেছিলাম, ডঃ ইউনূসের ছোয়ায় বাংলাদেশ বদলে যাবে। নতুন বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ তরতর করে এগিয়ে যাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে। বৈষম্য মুক্ত দেশ হবে, দুর্নীতি বন্ধ হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে না, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। নারীরা মর্যাদা পাবে। শিক্ষাঙ্গনে মেধার প্রতিযোগিতা হবে। নতুন বাংলাদেশে সবাই মন খুলে কথা বলবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। সবাই মিলে আমরা এক মানবিক দেশ গড়ে তুলব। এই স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম ডঃ ইউনূসকে দেখে।
শুধু আমরা স্বপ্ন দেখিনি, ডঃ ইউনূস এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ডঃ ইউনূস নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ বক্তা। কথার মায়াজালে তিনি এদেশের মানুষকে সম্মোহিত করেছিলেন। কিন্তু ১৮ মাস পর, যদি আমরা হিসেবের খাতা খুলে দেখি, তাহলে দেখব জমার খাতা শূন্য। ডঃ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকাল হতাশার বেদনার, দুঃস্বপ্নের কালো অধ্যায়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথগ্রহণের সাথে সাথে বাংলাদেশের জনগণ যেন কারাগার থেকে মুক্তি পেল। ডঃ ইউনূসের ১৮ মাস এদেশের মানুষ মনে রাখবে উৎকন্ঠা আর আতঙ্কের সময় হিসেবে। এক অবর্ণনীয় কষ্ট আর দুঃখের স্মৃতি হিসেবে।
১৮ মাসে ডঃ ইউনূস বাংলাদেশকে কী দিলেন?
ডঃ ইউনূস বাংলাদেশে মব সন্ত্রাস কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। গত দেড় বছরে এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে যে, ক্ষমতার জোরে অন্যের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করা যায়। ডঃ ইউনূস বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী মব বাহিনী উপহার দিয়েছেন। যারা আইনের ঊর্ধ্বে. বিচারের বাইরে তারা যা বলবে সবাই তা মানতে বাধ্য। এরা যদি বলে পরীক্ষা হবে না, তাহলে পরীক্ষা বন্ধ করতেই হবে। এরা যদি বলে কাউকে গ্রেপ্তার করতে হবে, তাকে গ্রেপ্তার না করলে পুলিশের চাকরি যাবে। এরা যদি বলে কাউকে জেল থেকে মুক্তি দিতে হবে, তাহলে আইন কানুন যাই থাকুক, তাদের ছেড়ে দিতেই হবে, নইলে দেশে তুলকালাম হবে।এদের কথাই আইন। এরাই দেশের মালিক। জনগণ ক্রীতদাস।
ডঃ ইউনূস বলেছিলেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করবেন। বিদেশ থেকে নিজের লোকদের উড়িয়ে এনে বসিয়েছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে। স্যুটটাই পড়া এসব প্রবাসীরা বিদেশী পাসপোর্ট নিয়ে দেশে এসে হৈচৈ করলেন। বাংলাদেশ নাকি সিংগাপুর হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। আমরা সাধারণ মানুষরা তো আনন্দে আত্মহারা। কিন্তু ওমা, একি, কদিন পর আমরা দেখলাম বাংলাদেশ এখন উত্তর কোরিয়ারও নিচে। পরে জানা গেল, এরা সবাই বিদেশি দালাল, বিদেশি নানা কোম্পানির এজেন্ট। এরা এসে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু বিক্রি করার তোড়জোড় শুরু করল। ডঃ ইউনূস বললেন, এভাবেই তো দেশ এগুবে। নানা কেনাকাটার ধুম পড়ল। কিন্তু কোনটাই দেশের মানুষের স্বার্থে নয়।
ডঃ ইউনূস দেখলেন, বেসরকারি খাত কে যদি ধ্বংস না করা যায় তাহলে বিদেশি কোম্পানির কাছে গ্যাস, সমুদ্র বন্দর, বিমানবন্দর ইত্যাদি বিক্রি হবে কীভাবে। এজন্য তিনি বেসরকারি খাতের কোমড় ভাঙার কাজ শুরু করলেন। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক হত্যা মামলা দায়ের করা শুরু হলো। মব বাহিনী শিল্পকারখানায় নির্বিচারে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করতে লাগল। সরকার দূর থেকে তামাশা দেখতে থাকল। ব্যবসায়ীদের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করে হয়রানি করা হলো। শিল্প কারখানায় গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। বেসরকারি উদ্যোক্তারা হতাশায় হাতপা গুটিয়ে বসে থাকাই নিরাপদ মনে করল। বন্ধ হলো বহু কারখানা, নতুন করে বেকার হলো দেড় কোটি মানুষ। দারিদ্র্য সীমার নীচে চলে গেল আরও দুই কোটি মানুষ।
গত ১৮ মাসে ডঃ ইউনূস দেশের অর্থনীতি ফোকলা করে ফেলেছেন। দেড় কোটি বেকার আর দুই কোটি চরম দরিদ্র মানুষ সৃষ্টি করেছেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এটাই তার জাতিকে উপহার।
ডঃ ইউনূস ১৮ মাসে দেশের শিক্ষার পরিবেশ কে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছেন দেশের শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। কথায় কথায় মারামারি, ক্লাস বন্ধ, অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করছে। এসব নিয়ে ডঃ ইউনূসের না ছিল উদ্বেগ, না ছিল শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান। প্রতিটি ভাষণে শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বরং তিনি এসব প্রশ্রয় দিয়েছেন।
গত ১৮ মাসে গণমাধ্যমে এক আতংকের পরিবেশ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মবের শিকার হয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে বহু সাংবাদিককে। শুধু মাত্র সরকারের সমালোচনা করার কারণে আনিস আলমগীর সহ অনেকেই কারাগারে।ভিন্নমতের উপর প্রকাশ্যে আক্রমণের ঘটনায় সরকার ছিল নীরব।
গত ১৮ মাসে ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ছিল হতাশার চিত্র। রাজনীতির বিষবাষ্প থেকে খেলাধুলা মুক্ত রাখতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশের ক্রিকেটে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
১৮ মাসে বিশ্বের দরজা বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের জন্য বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। এসব ঘটনায় কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো তিনি দেশের মানুষকে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিদেশীদের সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী প্রকাশ্য-গোপন চুক্তি করেছেন। এই ফিরিস্তি অনেক লম্বা। এক কথায় ডঃ ইউনূস তার শাসনামলে বাংলাদেশকে একটি আমানবিক ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন।
এতো গেল ১৮ মাসে বাংলাদেশ ডঃ ইউনূসের কাছ থেকে কী পেল তার হিসাব। এবার দেখা যাক, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে তিনি কী নিলেন?
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন স্বল্পতম সময়ে এক ডজন দেশ সফরের অনন্য রেকর্ড করেছেন ডঃ ইউনূস। কিন্তু এসব বিদেশ সফর যতটা না ছিল দেশের জন্য তার চেয়ে বেশি নিজের জন্য। এসব সফরের একটিও কোন দেশের আমন্ত্রণে সফর করেননি ইউনূস। সবগুলো সফরই মূলত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সম্মেলনে যোগদানের জন্য হয়েছে। সুযোগ মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট, চীনের প্রেসিডেন্ট ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছবি তুলেছেন। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই এইসব সফরে গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট কিছুই অর্জনের সুযোগ থাকে না। প্রকৃতপক্ষে এইসব সফরে স্বল্পমেয়াদি প্রচারণা ও ব্যক্তিগত ইমেজ নির্মাণ ছাড়া দেশের জন্য বাস্তবিক অর্জন প্রায় শূন্য। ইউনূসের এইসব সফর অধিকাংশ ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বকে খুশি করা, তাদের স্বার্থ রক্ষা করা, এবং নিজের ব্যক্তিগত প্রচারণা ও ব্র্যান্ডকে বৈশ্বিকভাবে আরও শক্তিশালী করার জন্য হয়েছে বলেই দৃশ্যমান হয়। ড. ইউনূসের প্রায় সব বিদেশ সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে তার “থ্রি জিরো” (Three Zeroes) তত্ত্ব নিয়ে বক্তৃতা- যা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। এসব সফরে “দর্শনীয়” হিসেবে যুক্ত হয় নানা দপ্তরের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ, যার কোনো বাস্তব ফলাফল দৃশ্যমান হয়নি কখনোই।
ডঃ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিবন্ধন, অনুমোদন, করছাড়সহ বেশকিছু সুবিধা পেয়েছে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ঢাকায় ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে।
সেই সঙ্গে রয়েছে গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে চলবে। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (জিইএসএল) বিএমইটি থেকে একটি লাভজনক জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স (RL No. 2806) পায় এবং এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যপদ লাভ করে। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই গ্রামীণ টেলিকমের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পেমেন্ট সার্ভিস প্রভাইডার (পিএসপি) হিসেবে কাজ করার জন্য অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘অনাপত্তি সনদ’ (এনওসি) পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি পিএসপি লাইসেন্স পায়। ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অধ্যাদেশে শেয়ার হোল্ডারদের মালিকানা ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয় এবং বোর্ডে নির্বাচিত ৯ জন সদস্যের মধ্য থেকে ৩ জন পরিচালক মনোনীত হবেন, যাদের মধ্য থেকে একজনকে বোর্ড চেয়ার হিসেবে নির্বাচন করা হবে। এতে সরকারের চেয়ার নিয়োগের ভূমিকা বাতিল হয়। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার দুইমাস পর ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেয়।
অন্যদিকে, ড. ইউনূস গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই অর্থপাচার মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাকে খালাস দেয়। এ ছাড়া, শপথ নেওয়ার আগের দিনই শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের যে ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল, সেই মামলাতেও আদালত তাদের খালাস দেয়।
হিসাবের খাতা মেলাতে গিয়ে যে কেউ বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। ডঃ ইউনূস ১৮ মাসে যা নিয়েছেন তার বিনিময়ে তিনি কী এদেশের মানুষকে একটি জিনিস দিতে পেরেছেন? যার নাম- ‘শান্তি’। যার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন!