
যে দুজনের ফেরার অপেক্ষা ছিল সবচেয়ে বেশি, ফিরলেন সে দুই। নিউজিল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াডে ফিরলেন তামিম ইকবাল আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম ও দ্বিতীয় ওয়ানডের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। স্কোয়াডে আছেন তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহসহ সৌম্য সরকারও। ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব করবেন লিটন দাস।
বড় নামের অনেকেই বিশ্রামে। সে তালিকায় সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজসহ তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও শরীফুল ইসলামকেও।
নিউজিল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াড নিয়ে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, 'এই স্কোয়াড অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে করা হয়েছে। শুধু জাকির হাসান, খালেদ ও রিশাদ এখনও ওয়ানডে খেলেনি। গেলো মার্চে ওয়ানডে খেলার খুব কাছাকাছি ছিল জাকির। কিন্তু তখন দুর্ভাগ্যবশত ইনজুরড হয়ে যায়। খালেদের লিস্ট এ ক্যারিয়ার ভালো।
বাংলাদেশ স্কোয়াড: লিটন দাস (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল খান. সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয়, তাওহিদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তানজিদ হাসান তামিম, জাকির হাসান, রিশাদ হোসেন, সৈয়দ খালেদ আহমেদ।
No posts available.
১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

সুপার ওভার স্পেশালিষ্টের লেবেলটা লেগে গেছে রিপন মন্ডলের গায়ে। গত নভেম্বরে দোহায় এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্ট থেকে শুরু। ৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ২টি-তে সুপার ওভার হিরো এই ইয়র্কার স্পেশালিস্ট। সেমিফাইনােলে ভারত 'এ' দলের বিপক্ষে সুপার ওভারের প্রথম ২ বলে ভারত 'এ' দলের দুই ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন ইয়র্কার ডেলিভারিতে। ফাইনালে পাকিস্তান 'এ' দলকে ১২৫ রানে অল আউট করতে পেরেছে রিপন মন্ডলের শেষ ওভারে ৩ উইকেটে। আবার সেই ট্রফি নির্ধারনী ম্যাচ সুপার ওভারে বাংলাদেশ 'এ' টেনে নিয়েছে তার ব্যাটিংয়ে (৯বলে ১১)। দোহার সেই রিপন মন্ডলই যেনো বৃহস্পতিবার সিলেটে হাজির। ইনিংসের ওভারে তার অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে রংপুর রাইডার্সের ( রাজশাহী ওরিয়র্স ১৫৯/৮, রংপুর রাইডার্স ১৫৯/৬) সঙ্গে 'টাই' করেছে রাজশাহী ওরিয়র্স। সুপার ওভারে তার ভয়ংকর বোলিংয়ে (২/৬) রংপুর রাইডার্সকে হতভম্ব করে জিতেছে রাজশাহী ওরিয়র্স।
প্রথম তিন ওভারে উইকেটহীন ৩৭ রান খরচ, যার মধ্যে ১৩ তম ওভারে রিপন মন্ডলের খরচা ১৭। অথচ, শেষ ওভারে রংপুর রাইডার্সের দরকার যখন মাত্র ৭ রান, তখন এমন খরুচে বোলারের হাতেই কী না বল তুলে দিলেন রাজশাহী ওরিয়র্স অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপন মন্ডলকে নিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন শান্ত জুয়া। সেই ট্রাম্পকার্ডের বোলিংয়েই ম্যাচ 'টাই'। ওই ওভারের প্রথম বলে পাকিস্তানী খুশদিল শাহ( ৭ বলে ৭) ডিপ থার্ডম্যানে পড়েছেন ধরা। ৫ম বলে নূরুল হাসান সোহান (৪ বলে ৬) দিয়েছেন মিড উইকেটে ক্যাচ। ১ বলে ১ রানের টার্গেটে মাহামুদউল্লাহ মেহরবের কাছে বল ঠেলে সিঙ্গল পূর্ণ করতে পারেননি। রান আউটে কাটা পড়েছেন (১ বলে ০)!
সুপার ওভারে ওয়াইড দিয়ে শুরু রিপন মন্ডলের। পরের তিনটি ডেলিভারির চিত্র ০, ১, ১। পরের ডেলিভারি আবারও ওয়াইড। বোনাস ডেলিভারি ইয়র্কার দিয়েই কাইল মায়ার্সকে করেছেন বোল্ড (৩ বলে ১)। সুপার ওভারের শেষ ডেলিভারিতে হৃদয়-খুশদিল ইয়েস-নো করায় মুশফিকুর রহিমের হাত ঘুরে রিপন মন্ডল রান আউটে ফিরিয়ে দিয়েছেন খুশদিল শাহ-কে।
সুপার ওভারে রংপুরের ৬/২ স্কোরের জবাব দিতে বেগ পেতে হয়নি রাজশাহী ওরিয়র্সকে। মোস্তাফিজের প্রথম তিন ডেলিভারিকে ২টি বাউন্ডারি, ১টি ডাবলে তানজিদ হাসান তামিম রাজশাহী ওরিয়র্সকে দিয়েছেন উৎসবের উপলক্ষ্য।
অথচ, এই ম্যাচে জমে উঠেছিল দুই দলের ২ অফ স্পিনারের লড়াই। রংপুর রাইডার্সের অফ স্পিনার আলিস আল ইসলামের ঘুর্নি বল যেনো সুপার গ্লু'র মতো পিচে আটকে গেছে (৪-০-১৬-২)। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১৫টি দিয়েছেন এই স্পিনার ডট। জবাবে রাজশাহী ওরিয়র্সের অফ স্পিনার এস এম মেহরবের বোলিং ছিল ৪-০-১৭-২।
এমন এক ম্যাচে রাজশাহীর শাহিবজাদা ফারহান (৪৬ বলে ৮ চার, ২ ছক্কায় ৬৫)-নাজমুল হোসেন শান্ত'র (৩০ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ৪১) ব্যাটিং, রংপুর রাইডার্সের ডেভিড মালান (৫০ বলে ৬ চার, ২ ছক্কায় ৬৩*)- তাওহিদ হৃদয়ের ( ৩৯ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৫৩) জোড়া ফিফটি ছিল উল্লেখ করার মতো।
কাকতালীয় হলেও সত্য, দুদলের সেরা পার্টনারশিপই এসেছে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে। রাজশাহী ওরিয়র্স দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৬৩ বলে ৯৩ রান যোগ করেছে শাহিবজাদা ফারহান-শান্ত'র কল্যানে। জবাবে ডেভিড মালান-তাওহিদ হৃদয়ের বোঝাপড়ায় রংপুর রাইডার্স দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেছে ৭২ বলে ১০০ রান। দুদলই আবার শেষ পাওয়ার প্লে-তে হারিয়েছে ৫টি করে উইকেট। যে পর্বে রাজশাহী ৫ উইকেট হারিয়ে যোগ করেছে ৪০ রান, সেখানে রংপুর ৩৭ রানে হারিয়েছে ৫ উইকেট। সিলেটে রাতে ঘন কুয়াশায় ফ্লাড লাইটের আবছা আলোর সবটুকুই যেনো পড়েছে রিপন মন্ডলের উপর।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে প্রথম সুপার ওভারে রাংপুর রাইডার্সের দেওয়া ৬ রানের লক্ষ্য তিন বল হাতে রেখেই পূরণ করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এর আগে ২০ ওভারের খেলায় রাজশাহী ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান করে, ৬ উইকেট হারিয়ে সমান রানে থামে রংপুরের ইনিংস।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শেষ ২ বলে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নদের প্রয়োজন ছিল ১ রান। নুরুল হাসান ক্যাচ তুলে ফিরলে উইকেট আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাতে শেষ বলে দরকার ১ রান। বলটা মাহমুদউল্লাহর ব্যাটেও লেগেছিল, কিন্তু তিনি যতক্ষণে রানের জন্য অপর প্রান্তের ক্রিজের দাগ ছুয়েছেন, ততক্ষণে স্টাম্প ভেঙে দিয়েছেন মেহরব হোসেন। অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটা হয়ে যায় টাই!
বিপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচের চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে বড় জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্ভাগ্য বরণ করতে হয় রংপুরকে। দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বর্ণনা করেন ম্যাচ থেকে তার দলের ছিটকে পড়ার মুর্হূত।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বলেছেন,
‘সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। প্রথম চার ওভার আমরা ভালো বল করেছিলাম। তারপর শান্ত (নাজমুল হোসেন) এবং তাদের পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানটা (সাহিবজাদা ফারহান) খুব চমৎকার ব্যাটিং করেছিল। সেই জায়গা থেকে আমরা চমৎকারভাবে কামব্যাক করেছি।’
‘আমাদের ডেভিড মালান ও তৌহিদ হৃদয় যেভাবে ব্যাটিং করছিল তাতে পুরা ইনিংসটাই কন্ট্রোল মনে হচ্ছিল। তারপরও লাস্ট ওভারের নুরুল হাসান সোহান চমৎকার একটা বাউন্ডারি মারলো নামার পর। অনেকটা ভারতের ওই ম্যাচটার মতন হয়ে গেল আরকি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হেরেছিলাম তিন বলে এক রান নিতে পারিনি। ওই জিনিসটার মত হয়ে গেছে।’-যোগ করেন আশরাফুল।
১২তম আসরে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছে রংপুর রাইডার্স। সামনে লম্বা পথ। আশরাফুল মনে করেন, অবশ্যই সঠিক ট্র্যাকে ফিরবে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ বলেন,
‘টুর্নামেন্ট শুরুর দিকে হওয়ায় আমি মনে করি যে, অবশ্যই খারাপ আমাদের জন্য। তারপর আমি মনে করি, যেহেতু লম্বা টুর্নামেন্ট, আরও আটটা ম্যাচ বাকি আছে। আশা করি কালকে আমরা আবার আমাদের রাইট ট্র্যাকে চলে আসব ইনশাল্লাহ।’

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত নেতৃত্বধানী রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলেছে দলটি। জয় এসেছে তিনটি ম্যাচে। যার দুটিতে সরাসরি ভূমিকা রিপন মণ্ডলের।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ডান হাতি পেসার রিপন রাজশাহীর হয়ে সবশেষ দুটি ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন। দুটিতেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। ২৯ ডিসেম্বর নিজের প্রথম ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে খেলেছেন তিনি। ম্যাচটিতে ৪ ওভারে ১৩ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। ছিল একটি মেডেন।
নিজেরদ দ্বিতীয় ম্যাচে আরও দুর্দান্ত রিপন। জয় বন্দরের কাছে থাকা রংপুর রাইডার্সের ম্যাচ কেড়ে নেন তিনি। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে খুশদিল ফিরে গেলে ম্যাচ জমিয়ে দেন রিপন। তবে ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে দেন রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। এক বল পর তিনি নেন আরও ২ রান।
২ বলে বাকি থাকে ১ রান। কিন্তু পঞ্চম বলে ফ্লিক করে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন রংপুর অধিনায়ক। শেষ বলে ১ রানের জন্য ব্যাট করতে নামেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সেটি নিতে পারেননি। শর্ট মিড অফ ফিল্ডারের হাতে রেখে রান নিতে গিয়ে রান আউট হন অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাতে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। যা ১২তম বিপিএলে প্রথম।
সুপার ওভারে সুপার ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়েছেন ২২ বর্ষী রিপন। কাইল মেয়ার্সকে বোল্ড করেছেন তিনি, পুরো ওভারে তাঁকে কোনো বাউন্ডারিও মারতে পারেননি রংপুরের ব্যাটসম্যানরা। ৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম বলেই চার মারেন তানজিদ হাসান, পরে দুই বলেই নিয়ে নেন জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান।
এদিন খরুচে হলেও ঠিকই দুই উইকেট তুলে নেন রিপন। সে সঙ্গে আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী বনে যান। আসরে দুই ম্যাচে রিপনের উইকেট ৬টি। তার চেয়ে দুটি উইকেট বেশি পাকিস্তানের ফাহিম আশরাফের। তৃতীয় স্থানটি অবশ্য স্বদেশি হাসান মাহমুদের।
ম্যাচ শেষেও প্রশংসিত হয়েছেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এই পেসার। রংপুর রাইডার্সের সহকারী কোচ ও জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেছেন,
‘রাজশাহী টিমটা খুব চমৎকার। বিশেষ করে রিপন মণ্ডলের প্রশংসা করতেই হবে। যেভাবে সে রিসেন্টলি পারফর্ম করছেন, রিসেন্টলি বাংলাদেশ ‘এ’ টিমের হয়েও আমরা দেখেছিলাম যে সুপার ওভারে সে চমৎকার বল করেছিল। ওই রিদমটাই সে ধরে রেখেছেন।’
রিপনের ইনিংসের শেষ ওভার ও সুপার ওভারের প্রশংসা করেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেছেন,
‘আমি বলবো যে ২০ নম্বর ওভার এবং সুপার ওভারে চমৎকার বল করেছেন রিপন। আমাদের যেই ব্যাটিং লাইনআপ, যেই টিম অবশ্যই আমরা এর থেকে বেটার পারফরম্যান্স আশা করি। মাঝখানে আসলে প্রথম ম্যাচ খেলার পরে আবার দুইদিন খেলা হয়নি। আবার আজকে এসেছি। তো আশা করি যে খুব তাড়াতাড়ি রিকভার করে ফেলবে, ইনশাল্লাহ।’
আশরাফুল আরও বলেছেন,
‘রিপনের পারফরম্যান্স অবশ্যই সিলেক্টররা দেখছেন। তার ব্যাপারে সিলেক্টররা ভালো বলতে পারবেন। এমনিতেই আসলে আমাদের পেস ইউনিটটা কিন্তু খুব ভালো। আপনি যদি দেখেন যে লাস্ট পাঁচ ছয় বছর ধরে আমাদের প্রায় আট-দশটা বলার আছে যারা ১৪০ প্লাসে বল করতে পারে।’

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের একটি টুর্নামেন্টে ব্যাটিংয়ের সময় হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা ব্যবহার করায় স্থানীয় ক্রিকেটার ফুরকান ভাটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে পুলিশ।
জে অ্যান্ড কে চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ এই ঘটনা ঘটে। জম্মু ট্রেলব্লেজার্সের বিপক্ষে জেকে ১১ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন ফুরকান। ম্যাচ চলাকালে তাঁর হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা সংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনায় জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জেকেসিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
সংস্থাটি জানায়, জে অ্যান্ড কে চ্যাম্পিয়নস লিগ তাদের স্বীকৃত কোনো টুর্নামেন্ট নয় এবং এতে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়রাও জেকেসিএর নিবন্ধিত নন।
এই ঘটনায় টুর্নামেন্টের আয়োজক জাহিদ ভাটকেও তলব করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জম্মু-কাশ্মীরে আয়োজিত দ্বিতীয় বেসরকারি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এটি।

টানা তিন ম্যাচের ব্যস্ত সূচির দিনের শেষটি গড়ালো মিনিট পাঁচেক পর। খেলা কিছুটা দেরিতে গড়ালেও গোল পেতে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের খুব একটা দেরি হলো না। সপ্তম মিনিটে গোলের খাতা খোলেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। ২৩ মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি তহুরা খাতুনের। এরপর একের পর এক ঢাকা রেঞ্জার্স ফুটবল ক্লাবকে গোলবন্যায় ভাসালেন তাঁরা। দুজনেই করলেন হ্যাটট্রিক; তবে কেউ কাউকে ছাড়িয়ে যেতে পারলেন না।
কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার নারী ফুটবল লিগের পঞ্চম ম্যাচে ফরাশগঞ্জকে মোকাবিলা করে ঢাকা রেঞ্জার্স। খেলায় ১০-০ গোলে জেতে ফরাশগঞ্জ। জোড়া হ্যাটট্রিকের ম্যাচে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪টি করে গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুন। একবার করে জালের দেখা পান মনিকা চাকমা ও মারিয়া মান্দা।
সপ্তম মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গোলে এগিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ। মাঝ মাঠ খেকে উড়ে আসা বল পায়ে নামিয়ে তহুরা খাতুন পাস দেন ছোট শামসুন্নাহারকে। দৌড়ে বক্সে ঢুকে প্লেসিং শটে দলকে এগিয়ে দেন জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড।
২৩ মিনিটে ঢাকার গোলকিপার হোমায়রা আক্তার হিমির দৃঢ়তায় গোলবঞ্চিত হয় ফরাশগঞ্জ। বক্সের সামনে তহুরাকে পাস দেন সিনিয়র শামসুন্নাহার। তবে তহুরার শট ঠেকিয়ে দেন প্রতিপক্ষেল গোলকিপার। ফিরতি বলে শামসুন্নাহারের জোরালো শট ঠেকিয়ে দিলেও বল ছিল গোলকিপারের সামনেই; এবার তহুরার আরেকটি প্রচেষ্টাও আটকে দেন হিমি। এ সময় টানা তিনটি সেভ করেন তিনি।
তিন মিনিট পর পোস্টের সেই উঁচু কর্নার দিয়েই জাল কাঁপান তহুরা। বক্সে মারিয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে উঁচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফরাশগঞ্জের নম্বর টেন। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় তারা। ৩৩ মিনিটে অনামিকা ত্রিপুরার বাড়ানো উঁচু বলে হেডে সরাসরি লক্ষ্যভেদ করে শামসুন্নাহার জুনিয়র।
৩৭ মিনিটে দলের চতুর্থ এবং নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। আক্রমনের শুরু মাঝ মাঠ থেকে। মারিয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে ছোট পাসে মনিকাকে দেন তহুরা। এরপর ফরাশগঞ্জ মিডফিল্ডারের কাছ থেকে বল পান শামসুন্নাহার; প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার কল্পনা আক্তার এবং গোলকিপারকে কাটিয়ে প্লেসিং শটে বল জালে জড়ান ছোট শামসুন্নাহার।
৪০ মিনিটে দলের মারিয়ার আড়াআড়ি নিচু শটে বল বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। কয়েক সেকেন্ড পর বক্সের কয়েক গজ সামনে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করেন মারিয়া।
তিন মিনিট পর মনিকার লং বলে মাথা ছোয়াতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র; তবে পেছনে থাকা তহুরা মিস করেননি। বল এক টার্ফে পড়ে লাফিয়ে উঠলে হেডে ব্যবধান ৬-০ করেন তহুরা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে কর্নারের কাছ থেকে বড় শামসুন্নাহারের লং বলে মাথা ছোয়ালেও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ছোট শামসুন্নাহার। তারপরও ৬-০ গোলের বড় লিড নিয়ে বিরতিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ।
বিরতির পর গোলবন্যা শুরু হলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। বাম প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে বক্সে উড়িয়ে মারেন অনামিকা। বা পায়ে বল নিচে নামিয়ে জোরালো শটে টপ কর্নার দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তহুরা। সেই সঙ্গে ম্যাচে নিজের হ্যাটট্রিকও পুরণ করেন এই ফরোয়ার্ড।
৪৯ মিনিটে দলের স্কোরলাইন ৮-০ করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। আক্রমণের সূর বেধে দেন তহুরা। তার কাছ থেকে বল পান মারিয়া। এরপর তার থ্রু পাস ধরে বা পায়ের প্লেসিং শটে গোল করেন শামসুন্নাহার।
৬১ মিনিটে দলের গোল উদযাপনে যোগ দেন মনিকা চাকমা। প্রতিপক্ষের রক্ষণচিড়ে বল বের করেন শামসুন্নাহার, ডিফেন্ডার মৌসুমী আক্তারের আগে বক্সে ঢুকে বা পায়ের কুনাকুনি শটে উঁচু কর্নার দিয়ে জালে বল জড়ান মনিকা। ৯-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার খানিক পর ম্যাচে চার গোল করা শামসুন্নাহার জুনিয়রকে উঠিয়ে নেন ফরাশগঞ্জের কোচ আবু ফয়সাল।
৭৮ মিনিটে মারিয়ার উড়িয়ে মারা বল ফিস্ট করতে গিয়ে পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি ঢাকার বদলি গোলকিপার শিফা আক্তার আসমা। জটলার মধ্য ফাঁকা গোলে শট নেন অনামিকা,তবে কল্পনা আক্তার গোললাইন ক্লিয়ার করেন।
৮৩ মিনিটে এই ম্যাচে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যায় শামসুন্নাহর জুনিয়রকে ধরে ফেলেন তহুরা। মারিয়ার পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে প্রকিপক্ষের গোলকিপারের পাস দিয়ে নিচু শটে জাল খুঁজে পান তিনি। হতভম্ব গোলকিপার দাঁড়িয়ে থেকেই দেখলেন। তাতে গোলের ডাবল ডিজিটে পৌছে যায় ফরাশগঞ্জ।
এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে আনসার ভিডিপি ফুটবল ক্লাবকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে সদ্যপুস্করিণী যুব স্পোর্টিং ক্লাব। পরের ম্যাচে জামালপুরের কাচারিপাড়া একাদশকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় সিরাজ স্মৃতি সংসদ।