
আগের ৭ দেখায় পুলিশ এফসির বিপক্ষে কোন জয় ছিল না রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির। স্বাধীনতা কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এসে সেই রেকর্ডটাই বদলালো রহমতগঞ্জের প্লেয়াররা। স্যামুয়েলস জোড়া গোলে পুলিশ এফসিকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে রহমতগঞ্জ।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় পিছিয়ে পড়েও জয় পেয়েছে রহমতগঞ্জ। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠেছিল। ২৪ মিনিটের মাথায়ই পেনাল্টি পায় পুলিশ। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড ইবারগেন গার্সিয়া।
তবে পিছিয়ে পড়ে আক্রমণের ধার বাড়ে রহমতগঞ্জের। ফলাফল পেতে দেরিও হয়নি তাদের । পিছিয়ে পড়ার পাঁচ মিনিটের ব্যবধানেই তাদের সমতায় ফেরান স্যামুয়েলস। যেই গোলের উৎস ফ্রি কিক থেকে। সুশান্ত ত্রিপুরার নেওয়া লং ফ্রি কিক ডি বক্সের ডানপ্রান্তে থাকা ইস্কান্দারকে খুজে নেয়। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত হেডে ফাঁকায় দাঁড়ানো সেমুয়েলস পেয়ে যান বল। এমন জায়গায় বল পেয়ে সেটিকে গোলে রূপান্তর করতে ভুল করেননি ঘানার এই ফুটবলার।
মিনিট দুয়েক না যেতে রহমতগঞ্জ পায় আবারো গোলের দেখা। আগের গোলের রিপ্লেটাই যেন এই গোলে দেখা গেল। শুধু বদল হয়েছে প্রান্ত। সুশান্ত ত্রিপুরার ফ্রি কিক থেকে আবারো হেড ইস্কান্দারের। সেখান থেকে বল পেয়ে যান স্যামুয়েলস। আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে রহমতগঞ্জকে এগিয়ে দেন স্যামুয়েলস। এরপর প্রথমার্ধে আর গোলের দেখা পায়নি কোন দলই।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ডিফেন্সিভ খেলা শুরু করে রহমতগঞ্জ। পুলিশ এফসির বেশিরভাগ আক্রমণই থেমে যায় রহমতগঞ্জের বক্সে এসে। অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে বেশ কয়েকবার দলকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন রহমতগঞ্জের ফরোয়ার্ডরা। তবে শেষ পর্যন্ত কোন দলই পায়নি গোলের দেখা। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রহমতগঞ্জ।
সেই সাথে প্রথম দল হিসেবে স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে পৌছালো রহমতগঞ্জ। সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে শেখ জামালের মুখোমুখি হবে আবাহনী।
No posts available.
১০ মার্চ ২০২৬, ৯:২৫ পিএম
১০ মার্চ ২০২৬, ৯:১২ পিএম
১০ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম

বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ১৫ মার্চ। তার আগেই প্রার্থীরা একে অন্যের দিকে আঙুল তুলছেন। নির্বাচনের অন্যতম প্রার্থী ভিক্টর ফন্ট দাবি করেছেন, ২০২৩ সালে লিওনেল মেসির বার্সায় ফেরার ব্যর্থ প্রচেষ্টাকে ঘিরে আগের প্রশাসন ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে।
ফন্টের মতে, হান্সি ফ্লিকের অধীনে দলের বর্তমান সাফল্য এবং লা মাসিয়ার তরুণদের উত্থান ভোটারদের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, মেসির ক্লাব ছাড়ার প্রকৃত কারণ এবং ২০২৩ সালে ফেরার চেষ্টা কেন সফল হয়নি—সেটা স্পষ্ট হওয়া দরকার, যাতে ক্লাবের সদস্যরা বিভ্রান্ত না হয়ে পড়ে এবং সত্য জেনেই ভোট দিতে পারেন।
মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফন্ট বলেন,
“আমি মনে করি এখন থেকে রবিবারের মধ্যে মেসি হয়তো কিছু বলবেন না। আশা করি তিনি সত্যটা ব্যাখ্যা করবেন—ক্লাব ছাড়ার বিষয়টি এবং ২০২৩ সালে ফেরার চেষ্টা নিয়ে—যাতে সদস্যরা বিভ্রান্ত হয়ে ভোট না দেন।”
সম্প্রতি বার্সেলোনার সাবেক কোচ জাভি হার্নান্দেজ দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট হোয়ান লাপোর্তা নিজেই মেসির ফেরার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে লাপোর্তা সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন,
“২০২৩ সালে আমি মেসির কাছে চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। মে মাসে তিনি জানান, এখানে খুব বেশি চাপ থাকবে বলে মেসি মায়ামিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছি।”
মেসি ইস্যুর বাইরে ফন্ট আরও সতর্ক করে বলেন,
‘‘ক্লাবের প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ এবং বর্তমান প্রশাসনের একক সিদ্ধান্তের ধারা বার্সেলোনার সদস্যভিত্তিক মালিকানা কাঠামোর জন্য হুমকি হতে পারে। তার মতে, দ্রুত পেশাদার সংস্কার না হলে ক্লাবের স্বতন্ত্রতা ঝুঁকিতে পড়বে।’’

নারী এশিয়ান কাপে উজবেকিস্তানকে হারালে কোয়ার্টার ফাইনালের আশা টিকে থাকত বাংলাদেশের। তবে আফঈদা খন্দকারদের সব স্বপ্ন গুড়ে দিয়ে বড় ব্যবধানে জিতে উল্টো শেষ আটের পথ সহজ করে উজবেকিস্তান। আজ প্রতিযোগিতার জাপানের কাছে ভিয়েতনাম ৪-০ ব্যবধানে হারায় ভাগ্য খুলে গেল তাদের। এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল উজবেকিস্তান।
আশা আর নিরাশার দোলাচলে থেকে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সিডনিতে বাঁচামরার এই ম্যাচে ৪-০ গোলে হেরে এশিয়ান কাপ থেকে বিদায় নেয় লাল-সবুজরা।
অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’তে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিন গ্রুপে ‘তৃতীয়’ হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুই হওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখে উজবেকিস্তান। বাংলাদেশের জালে বল পাঠিয়ে তারা গোল ব্যবধান নামিয়ে আনে-২। গ্রুপ ‘সি’ তে জাপানের কাছে ৪-০ গোলের হারে ভিয়েতনামের গোল ব্যবধান দাঁড়ায় -৪। তাতে নিশ্চিত হয় উজবেকিস্তানের কোয়ার্টার ফাইনাল। শেষ আটে তাঁরা মুখোমুখি হবে গ্রুপ ‘এ’ এর চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার।
তিন গ্রুপ থেকে তৃতীয় সেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা অন্য দল ফিলিপিনস। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ গ্রুপ ‘সি’ এর পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থেকে শেষ করা জাপান। কোয়ার্টার ফাইনালের অন্য দুই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া আর চাইনিজ তাইপে লড়বে চীনের বিপক্ষে।

বার্সেলোনার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক দাবি করেছেন, তাঁর দলে আরও একজন তরুণ খেলোয়াড় রয়েছেন যিনি লামিন ইয়ামালের সমতুল্য। অবকাশ না দিয়েই স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে বার্সার প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কুবার্সি। যদিও ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে এবং বড় ম্যাচে কুর্বাসির সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের রাউন্ড অব সিক্সটিনে নিউক্যাসেলের বিপক্ষে প্রথম লেগের আগে ফ্লিক বলেছেন,
‘আমার মতে, পাউ কুবার্সি লামিন ইয়ামালের সমতুল্য, তবে সেটা ডিফেন্সে। সে ডিফেন্সে এতই ভালো করছে যে, তার থ্রো-ইনও যেন কর্ণারের মতো। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সে এমন উচ্চমানের ফুটবল খেলতে পারে যা কল্পনাতীত।’
এসয় প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও কথা বলেন ফ্লিক। তিনি বলেছেন,
‘প্রিমিয়ার লিগ বিশ্বের সেরা লিগ। এখানে অনেক শক্তিশালী দল আছে। তাদের অনেক দল চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয়।’
পাশাপশি ফ্লিক ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার বিশেষত্বও তুলে ধরেন,
‘চ্যাম্পিয়নস লিগ আলাদা। সবাই দেখাতে চায় তারা কী করতে পারে। তারা আমাদের ওপর চাপে রাখবে, তাই আমাদের সাহসী হতে হবে এবং আত্মবিশ্বাস দেখাতে হবে। তাদের কনট্রা অ্যাটাকে দুর্দান্ত ।’

রিয়াল মাদ্রিদ আগামী মৌসুমের আগে কোচ বদলের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করছে। সেই তালিকায় আছেন মরিসিও পচেত্তিনো। বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়ার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আর্জেন্টাইন কোচকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে— ইএসপিএনের প্রতিবেদন সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে।
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি জাবি আলোনসোর জায়গায় আরবেলোয়াকে দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেয় মাদ্রিদ। তবে তার চুক্তির মেয়াদ কতদিন—সেটি কখনো স্পষ্ট করা হয়নি। রিয়াল ও লিভারপুলের সাবেক এই ডিফেন্ডার যুবদলের কোচ হিসেবে কাজ করার সময় ভালো সুনাম অর্জন করেছিলেন। তবুও ইএসপিএন জানিয়েছে, তাকে কখনোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হয়নি।
কোচ হিসেবে আরবেলোয়ার প্রথম কয়েক মাসেও স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আনতে পারেননি। আগামী মৌসুমেও ডাগআউটে থাকতে হলে নাকি তাঁর ‘অলৌকিক কিছু’ করতে হবে—অথবা জিততে হবে চ্যাম্পিয়নস লিগ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মাদ্রিদ চাইলে আরবেলোয়াকে ক্লাবেই অন্য কোনো দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও দিতে পারে। এমনকি তাকে আবারও রিয়াল মাদ্রিদ কাস্তিয়া–এর কোচের দায়িত্ব দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
পিএসজিতে থাকাকালীন পচেত্তিনো কিলিয়ান এমবাপে-কে সঙ্গে নিয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছিলেন। তবে তারকাখচিত দল নিয়েও ইউরোপের সবচেয়ে বড় ট্রফি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হয়নি পিএসজির। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্যের প্রতিযোগিতায় ২০২১ সালে সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হেরে বিদায় নেয় ফরাসি ক্লাবটি। আর ২০২২ সালে শেষ ষোলোতেই ছিটকে যায় রিয়াল মাদ্রিদ–এর বিপক্ষে হেরে।
বেশ কিছুদিনই স্প্যানিশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবরে কোচ হিসেবে রিয়ালের সঙ্গে ইর্য়ুগেন ক্লপ, উনাই এমেরি এবং ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির নামও জড়িয়েছে। অন্যদিকে কিছু সূত্র বলছে, জিনেদিন জিদানের প্রত্যাবর্তনই এখনো ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সবচেয়ে বড় ইচ্ছা। যদিও জোর গুঞ্জন আছে, ফরাসি এই কোচ ইতিমধ্যে ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন এবং বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই সেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এদিকে আগামী গ্রীষ্মে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু–এ বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। সেই প্রেক্ষাপটে শুধু কোচ আরবেলোয়া–র ভবিষ্যৎই নয়, ক্লাবের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদও অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।
গত মৌসুমে কোনো শিরোপা জিততে না পারার পর গত গ্রীষ্মের ট্রান্সফার উইন্ডোতে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সেই ব্যয়ে দলে আনা কয়েকজন ফুটবলার এখনো প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। এই প্রসঙ্গে ইএসপিএনকে জানিয়েছে, ক্লাবের প্রধান স্কাউট জুনি ক্যালাফাত–এর অবস্থানও এখন প্রশ্নের মুখে।
অতীতে তরুণ প্রতিভা দলে ভেড়ানোর জন্য জুনি ক্যালাফাত ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিলেন। তার হাত ধরেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, এদের মিলিতাও এবং জুড বেলিংহাম–এর মতো খেলোয়াড়দের দলে আনে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে গত গ্রীষ্মে ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটিতে যোগ দেওয়া ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, ডিন হুইসেন এবং ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা সন্দিহান রিয়াল।

এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপ অধ্যায় শেষ হয়েছে ইরান নারী ফুটবল দলের। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরেছে তারা। ফলে বাড়ি ফেরার অপক্ষোয় জাহরা গনবারিরা। তবে দেশটিতে চলমান যুদ্ধ ইরানের ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। এমতাবস্থায় বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পাঁচ ইরানি নারী ফুটবলারকে মানবিক ভিসা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আপাতত নিরাপদেই থাকছেন তারা।
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আন্থনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মানুষ এই সাহসী নারীদের পরিস্থিতিতে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন এবং তারা এখানে নিরাপদে আছেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক সামাজিক মাধ্যমে পাঁচ খেলোয়াড়ের সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরেই গোপনে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। তবে পুরো দলের সবাই একই সিদ্ধান্ত নেবেন, এমনটি নিশ্চিত নয় বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন
| অস্ট্রেলিয়ার আশ্রয়ে ইরানের ৫ নারী ফুটবলার |
|
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইরানের মেয়েদের জাতীয় সংগীত না গাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা উদ্বেগ দ্বিগুণ হয়েছে। এই ঘটনায় সমালোচনা শুরু হয় এবং এক সমালোচক এটিকে ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দেন, কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন তারা।
এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের বিপক্ষে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গেয়ে সালাম দেন। সমালোচকেরা মনে করছেন, দেশের কর্তৃপক্ষের চাপের কারণে তারা জাতীয় সংগীত গাইতে বাধ্য হয়েছেন।
ম্যাচটির প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে অনেক সমর্থক ‘লায়ন্স এন্ড সান’ পতাকা উড়িয়ে দেন—যেটি ইসলামী বিপ্লবের আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় পতাকা ছিল। স্টেডিয়ামের বাইরে কেবল বর্তমান সরকারি পতাকা প্রদর্শনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তারা গোপনে পতাকাগুলো ভেতরে নিয়ে আসে।
রবিবার রাতে স্টেডিয়াম থেকে দলটির বাস বের হওয়ার সময় সমর্থকদের হাতে ব্যানার দেখা যায়—যেখানে লেখা ছিল, ‘অস্ট্রেলিয়াতে নিরাপদে থাকো, পুলিশের সঙ্গে কথা বলো’। বাসের ভেতরে বসে খেলোয়াড়রা বৃষ্টির মধ্যে বাইরে ঘটে যাওয়া দৃশ্য দেখেন।
সোমবার পাঁচতারকা রিসোর্টে কড়া নিরাপত্তা দেখা গেছে। হোটেলের সামনে ফেডারেল পুলিশ মোতায়েন ছিল। দলের কোনো খেলোয়াড়কে দেখা না গেলেও প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্য হোটেলের সাধারণ জায়গায় বসেছিলেন। তারা কখন হোটেল ছাড়বে—ইরানে ফিরবে নাকি অন্য কোনো দেশে যাবে—এখনো স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন
| কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ম্যানসিটি-লিভারপুল |
|
সিডনিতে সোমবার ইরানি দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিফা, এএফসি ও অস্ট্রেলিয়ান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিশ্বব্যাপী খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রোর এশিয়া/ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি বিউ বুশ। তিনি বলেন,
‘আমরা (অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে) বলছি, যেন খেলোয়াড়দের (নিরাপত্তা) নিয়ে কাজ করা হয়। এটা সত্যিই কঠিন পরিস্থিতি। এমন খেলোয়াড় থাকতে পারে, যারা ফিরে যেতে চায়। দলের মধ্যে এমন কিছু খেলোয়াড় থাকতে পারে, যারা আশ্রয় পেতে চায়, অথবা অস্ট্রেলিয়ায় আরও বেশি সময় থাকতে চায়। এমন কিছু খেলোয়াড় থাকতে পারে যারা সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘‘ইরান দলকে দেশে ফিরতে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’ করছে।’’ দলটির সদস্যদের আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরানের জাতীয় নারী ফুটবল দলকে জোরপূর্বক ইরানে ফেরত নেওয়ার অনুমতি দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ভয়াবহ মানবিক ভুল করছে, সেখানে (ইরান) হয়তো তাদের হত্যা করা হবে। আপনি যদি তা না করেন (আশ্রয় না দেন), তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিয়ে যাবে।’