
এএফসি কাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেসে ফিরে এসেছে বসুন্ধরা কিংস। মঙ্গলবার মোহন বাগানের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে ড্র করে পয়েন্ট টেবিলের ২ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা। ৩ ম্যাচ শেষে বর্তমান টেবিল টপার মোহন বাগানের সাথে পয়েন্টের ব্যবধান ৩। তবে, পরের ম্যাচতো ঘরের মাঠে এই মোহন বাগানের সাথে। তাইতো সেই ম্যাচকেই ফাইনাল হিসেবে বলছেন বসুন্ধরা কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজন।

বসুন্ধরা কিংস এবারের এএফসি কাপে খেলেছে ৩ ম্যাচ। যার ২টি অ্যাওয়ে আর একটা হোম ম্যাচ।
ভেন্যু ফল
ন্যাশনাল ফুটবল স্টেডিয়াম, মালদ্বীপ মাজিয়া ৩-১ বসুন্ধরা কিংস
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা, বাংলাদেশ বসুন্ধরা কিংস ৩-২ ওড়িশা
কালিঙ্গা স্টেডিয়াম, ভারত মোহন বাগান ২-২ বসুন্ধরা কিংস
হাতে আছে এখনো ৩ ম্যাচ। যার মধ্যে ২টি বসুন্ধরা কিংস খেলবে নিজেদের দুর্গে।
তারিখ ভেন্যু দল
৭ নভেম্বর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা, বাংলাদেশ বসুন্ধরা কিংস-মোহন বাগান
২৭ নভেম্বর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা, বাংলাদেশ বসুন্ধরা কিংস-মাজিয়া
১১ ডিসেম্বর কালিঙ্গা স্টেডিয়াম, ভারত ওড়িশা-বসুন্ধরা কিংস
এই বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় এখনো ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপরাজিত স্বাগতিকরা। গেল ২ আসর সেন্ট্রালাইজড ভেন্যুতে হওয়ায়, হোম অ্যাডভান্টেজটা কাজে লাগাতে পারেনি বসুন্ধরা কিংস। তবে, এবার নিজেদের প্রথম হোম ম্যাচে ওড়িশার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জয় পায় রবসন-ডরিয়েলনটনরা।
এই বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাতেই ৭ নভেম্বর গ্রুপ স্টেজের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে মোহন বাগানের সাথে। বসুন্ধরা কিংস কোচ অস্কার ব্রুজন বলছেন, ‘নিজেদের মাঠে জয় নিয়ে টেবিলের শীর্ষে যেতে চাই। পরের ম্যাচ আমাদের জন্য ফাইনাল।‘

মাজিয়ার বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হার দিয়ে এবারের আসর শুরু করেছিলো বাংলাদেশ থেকে টানা ৪র্থবার এএফসি কাপে অংশ নেয়া বসুন্ধরা কিংস। ওড়িশাকে হারানোর পর শক্তিশালী মোহন বাগানের সাথে ড্র। প্রথম ম্যাচের ধাক্কার পর বাকি ২ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট আত্মবিশ্বাসটা ফিরিয়ে এনেছে কিংসের। কোচ অস্কার ব্রুজন বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী আগাব আমরা। যেই ভুলগুলো হয়েছে তা কমিয়ে আনতে হবে। উন্নতিরও জায়গা আছে। আমরা সুযোগ তৈরি করছি, কিন্তু গোল কম হচ্ছে, গোলের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।’

এএফসি কাপের পরবর্তী ম্যাচের আগে অবশ্য শুরু হয়ে যাচ্ছে ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম। ২৮ অক্টোবর স্বাধীনতা কাপের ম্যাচে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মুখোমুখি হবে স্বাধীনতা কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
No posts available.

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের সঙ্গে শিরোপা দৌড়ে ভালোভাবে টিকে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। মৌসুমের ফাইনাল থার্ডে অনেকটা পেছন থেকে উঠে এসে গানারদের ঘাড়ে এখন নিশ্বাস ফেলছে পেপ গার্দিওলার দল। দুই দলের মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান স্রেফ ২। অথচ গত ৭ ফেব্রুয়ারিতে সান্ডারল্যান্ডকে হারিয়ে সিটিজেনদের চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে গিয়েছিল মিকেল আর্তেতার দল। লিগে দুই দলের হাতেই ম্যাচ আছে এখন দুটি করে। যে কোনো এক ম্যাচে আর্সেনাল হোঁচট খেলে এবং সিটি পরের দুই ম্যাচ জিতলে শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে পারে ইতিহাদের ক্লাবটি।
ফেব্রুয়ারির পর থেকেই সিটি-আর্সেনালের মধ্যে জমে উঠে শিরোপা রেস। ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের মধ্যে বার্সেলোনার মুকুট পরা কেবল সময়ের অপেক্ষা। বুন্দেসলিগায় তো বায়ার্ন মিউনিখ এরই মধ্যে ট্রফি জিতে গেছে। ইতালিয়ান সিরি’আ-তে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে ইন্তার মিলান। আর ফরাসি লিগ ওয়ানে পিএসজির সঙ্গে রেসে টিকে আছে লঁস।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে অংশ নিতে ফিফার কাছে ১০ শর্ত ইরানের |
|
বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষের দিকে। দুই রাউন্ড বাকি আছে খেলা। দুই ম্যাচ হাতে থাকতেও কোনো দল পারেনি শিরোপা নিশ্চিত করতে। সিটির মতো অনেকটা দূর থেকে উঠে এসে আকাশি-নীল সমর্থকদের আশা দেখাচ্ছে শেখ মোরছালিন, সুলেমান দিয়াবাতেরা। ১৬ ম্যাচ খেলে ১০ জয়, ৫ ড্র এবং এক হারে বসুন্ধরা কিংসের পয়েন্ট ৩৫। আর সমান ম্যাচে ১০ জয়, ৫ ড্র এবং ২ ম্যাচ হেরে এক পয়েন্ট কম পেয়ে দুইয়ে আবাহনী।
শিরোপা রেসে কার্যত আবাহনী-কিংসের সঙ্গে টিকে আছে ফর্টিস এফসিও। সমান ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩১। অনেক যদি-কিন্তুর সমীকরণ মিললে তারাও প্রথমবারের মতো পেরে পারে শিরোপার স্বাদ। যদিও একটা সময় পর্যন্ত দলটি ভালোভাবে টিকে ছিল এই লড়াইয়ে। লিগের দশ রাউন্ড শেষেও কিংসের সমান পয়েন্ট ছিল তাদের। এরপর কিংসের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে হেরে পিছিয়ে পড়ে তারা।
লিগের এই সময়ে আবাহনীর উঠে আসা ছিল অবিশ্বাস্য। লিগ চ্যাম্পিয়ন কে হবে, এ নিয়ে যখন একটা সময় আলোচনা ছিল কেবল ফর্টিস আর কিংসকে নিয়ে। সেই সময়ে নীরব ঘাতকের মতো একের পর এক ম্যাচ জিতে দৃশ্যপটে উঠে আসে ধানমন্ডিপাড়ার ক্লাবটি।
মৌসুমের প্রথম ম্যাচে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটির কাছে গোলশূন্য ড্রয়ে পয়েন্ট খুইয়ে শুরু হয় আবাহনীর লিগ যাত্রা। পরের ম্যাচে ব্রাদার্সের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বসে মারুফুল হকের দলটি। তৃতীয় রাউন্ডে আরও বড় ধাক্কা খায় আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। কুমিল্লায় ২-৩ গোলে পরাজয় মানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে। পরের ম্যাচে পুলিশ এফসির বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতে ঘুরে দাঁড়ায় পেশাদার যুগে প্রবেশের পর সবচেয়ে বেশি (৬ বার) শিরোপা জেতা দলটি।
মূলত মোহামেডানের বিপক্ষে কুমিল্লায় ওই হারের পর আর কোনো ম্যাচেই পরাজয়ের তেতো স্বাদ পায়নি আবাহনী। ১০ এপ্রিল দ্বিতীয় লেগে সেই কুমিল্লাতেই সাদা-কালোদের ২-১ ব্যবধানে হারায় তারা। আর অষ্টম রাউন্ডে কিংসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করার পর পরের আটটি ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মারুফুল হকের শিষ্যরা। একই সঙ্গে অষ্টম রাউন্ড শেষে পরের আট ম্যাচের তিনটিতে ড্র করে পয়েণ্ট হারিয়েছে লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস।
আরও পড়ুন
| দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড মেসির |
|
আগামী সপ্তাহে ১৭তম রাউন্ডেই হয়ে যেতে পারে লিগের মীমাংসা। ১৫ মে আবাহনীর হোম ভেন্যু কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে শিরোপাপ্রত্যাশী এই দুই দল। সেদিন যে দল জিতবে তারাই এগিয়ে যাবে।
লিগের একদম শেষ ম্যাচে আবাহনী খেলবে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিপক্ষে। আর কিংসের ম্যাচ ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্সের সঙ্গে। মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ-তপন স্টেডিয়ামে প্রথম লেগে যে ইয়াংমেন্সের সঙ্গে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও ম্যাচটি অবিশ্বাস্যভাবে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল কিংস। একই দিনে আরামবাগের বিপক্ষে প্রথম লেগের ম্যাচে ৩-০ গোলে জেতে আবাহনী। এবার অবশ্য ফকিরেরপুলকে কিংস আতিথেয়তা দেবে নিজেদের হোম ভেন্যু বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। যেখানে শক্তিমত্তায় কিংবা অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকবে লাল-সাদারা।
প্রতিপক্ষ বিবেচনায় নিলে কিংস-আবাহনী নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় কোনো পরীক্ষার মুখে পড়বে না বলেই মনে করেন অনেকে। তবে তার আগে কুমিল্লায় হতে যাওয়া মহারণেই নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে লিগের ফয়সালা।

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে বাকি আর মাত্র এক মাস। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন কেবল দল বা ভেন্যুর দিকে নয়, বরং সবার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে উত্তর আমেরিকার বিরূপ আবহাওয়া।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিশ্বকাপে ফুটবলারদের বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াতে পারে তীব্র দাবদাহ, বজ্রবৃষ্টি—এমনকি দাবানল থেকে সৃষ্ট বাতাসের নিম্নমান। বিশেষ করে অত্যধিক আর্দ্রতা এই টুর্নামেন্টের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফিফা ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছে, প্রচণ্ড গরম একটি বড় সমস্যা হতে পারে। খেলোয়াড়দের কথা মাথায় রেখে প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের ‘কুলিং ব্রেক’ বা শরীর শীতল করার বিরতি রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে প্রচণ্ড গরম ও বজ্রপাতের কারণে ছয়টি ম্যাচ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। চেলসি ও বেনফিকার মধ্যকার একটি ম্যাচ প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে অংশ নিতে ফিফার কাছে ১০ শর্ত ইরানের |
|
আয়োজক শহরগুলোর অনেকগুলোই গ্রীষ্মকালীন উচ্চ তাপমাত্রায় অভ্যস্ত। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর মেক্সিকোতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। তবে তাপপ্রবাহ চললে তা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।
তবে বিপত্তি বাড়ে যখন এই তাপমাত্রার সঙ্গে আর্দ্রতা যোগ হয়। আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীর সহজে ঘাম ঝরিয়ে নিজেকে শীতল করতে পারে না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৬টি আয়োজক শহরের মধ্যে ১৪টিতেই গ্রীষ্মের বিকেলে খেলোয়াড়দের শারীরিক ধকল সহ্য করার ক্ষমতা সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। মায়ামি, হিউস্টন, ডালাস, মন্টেরি, কানসাস সিটি এবং আটলান্টার মতো শহরগুলোতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সংমিশ্রণে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করতে পারে।
গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে চেলসির সাবেক কোচ এনজো মারেসকা বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত এই ধরনের প্রতিযোগিতার জন্য সঠিক জায়গা নয়।’
মাঠে খেলা চলাকালীন সবচেয়ে দৃশ্যমান বাধা হয়ে আসতে পারে বজ্রবৃষ্টি। মায়ামি, হিউস্টন ও আটলান্টার মতো শহরগুলোতে বিকেলে বা সন্ধ্যায় প্রায়ই বজ্রবৃষ্টি হয়। নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ১০ মাইলের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলে খেলা অন্তত ৩০ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখা হয়। সম্প্রতি মায়ামিতে একটি বড় রেসিং প্রতিযোগিতা বজ্রপাতের আশঙ্কায় তিন ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছিল। ফুটবলের ক্ষেত্রেও এমন আকস্মিক সূচি পরিবর্তন আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
২০২৬ সালের দাবানল মৌসুম যুক্তরাষ্ট্রে বেশ আগেভাগেই শুরু হয়ে গেছে। গত বছর কানাডার দাবানলের ধোঁয়া হাজার মাইল দূরে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, যার ফলে বাতাসের মান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং অনেক খেলা বাতিল করতে হয়। ফিফার নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকলেও, স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ম্যাচ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন
| ব্রেন্টফোর্ডকে উড়িয়ে আর্সেনালের ওপর চাপ বাড়াল ম্যানচেস্টার সিটি |
|
চরম আবহাওয়ার প্রভাব কেবল খেলোয়াড়দের ওপরই নয়, সমর্থকদের ওপরও পড়বে। স্টেডিয়াম বা ফ্যান জোনে থাকা দর্শকরা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। বজ্রপাতের কারণে ম্যাচ দেরি হলে পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ম্যাচ শেষ হতে গভীর রাত হয়ে যেতে পারে, যা হোটেল বুকিং এবং সমর্থকদের যাতায়াতে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি করবে।
সব মিলিয়ে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গেও এক কঠিন যুদ্ধ লড়তে হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে।

একেই বলে টেস্ট। একটা ভাল সেশন কিংবা ঘন্টা বদলে দিতে পারে ম্যাচের চেহারা। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ ২১০ মিনিট নির্বিঘ্নে ব্যাট করে ১৭৯/১ স্কোরে লিডের স্বপ্ন দেখেছে পাকিস্তান। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে উইকেট থেকে অ্যাডভান্টেজ না পেয়েও হেসেছে বাংলাদেশ। এই সেশনে ৭২ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান ৪ উইকেট। প্রথম সেশনে তাসকিন (৭-১-২১-২)-মিরাজের (১১-২-২৪-২) একটি স্পেলে তারাই নেমেছে ব্যাকফুটে। মাত্র ২০ রানের মধ্যে সফরকারী দলের ৪ উইকেট ফেলে দিয়ে প্রথম ইনিংসে লিডের পথটা প্রশস্ত করেছে বাংলাদেশ। লাঞ্চ ব্রেকের সময়ে পাকিস্তানের স্কোর ২৫১/৩। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে আছে তাঁরা ১৬২ রানে।
দিনের প্রথম ঘন্টায় ৪৭ রান যোগ করে হারিয়েছে ২ উইকেট। পেস বোলার তাসকিনের ৪ ওভারের স্পেলে (৪-১-১২-২) আজান (১০৩), শান মাসুদ (৯)ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। দিনের প্রথম ড্রিংকসের পরের ঘন্টাটি ছিল অফ স্পিনার মিরাজের। মিডল অর্ডার সউদ শাকিল (০) এবং অভিষিক্ত ওপেনার আবদুল্লাহ ফজলকে (৬০) ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। উইকেট পড়তে পারতো আরও একটি। তাসকিনের বলে সালমান আগা উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন। তবে ওভার স্টেপিংয়ে 'নো' ডেলিভারিতে গণ্য হওয়ায় 'ডাক' এর অপবাদ থেকে বেঁচে গেছেন তিনি।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৫ রানে ব্যাটিংয়ে থেকে অভিষেকে সেঞ্চুরির আভাস দিয়েছিলেন। তৃতীয় দিনের ৫ম ওভারে নাহিদ রানার শর্ট বলে গালি অঞ্চল দিয়ে বাউন্ডারিতে পৌছে গেছেন তিন অঙ্কে। ১৯৬৪ সালে করাচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুুরির রেকর্ড করেছিলেন খালিদ ইবাদুল্লাহ। অভিষেকে ত্রয়োদশতম পাকিস্তানি সেঞ্চুরিয়ান আজান আইওয়াস।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে অংশ নিতে ফিফার কাছে ১০ শর্ত ইরানের |
|
বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে সেঞ্চুরির রেকর্ডে তৃতীয় পাকিস্তানি তিনি। ২০০১ সালে মুলতানে তৌফিক ওমর, ২০০৩ সালে করাচিতে ইয়াসির হামিদের পর চলমান টেস্টে আজান আইওয়াস (১০৩)।
প্রথম উইকেট জুটিতে ইমাম উল হক-এর সঙ্গে ১০৬ এবং দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আবদুল্লাহ ফজলকে নিয়ে ১০৪ রানের পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। উইকেটে পাহাড় হয়ে দাঁড়ানো আজানের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ছিল ১৭১ মিনিট। ১৬৫ বল মোকাবেলায় মেরেছেন ১৪টি চার। সেঞ্চুরির পর ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে তার। তাসকিনের চতুর্থ এবং তৃতীয় দিনের প্রথম স্পেলের তৃতীয় ওভারে শর্ট অব লেন্থ বলে ফার্স্ট স্লিপে শান্ত'র হাতে দিয়েছেন ক্যাচ এই অভিষেক সেঞ্চুরিয়ান। কাঁধ সমান উঁচু থেকে ভালো ক্যাচ নিয়েছেন শান্ত।
দ্বিতীয় দিনে ২টি ক্যাচ ড্রপে আফসোস করেছে বাংলাদেশ দল। তবে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে দুটি দর্শনীয় ক্যাচে কুড়িয়েছে প্রশংসা। তাসকিনের বলে শান মাসুদকে পয়েন্টে লো ক্যাচটি দূর্দান্ত ডাইভে নিয়েছেন ক্যাচ সাদমান। দ্বিতীয় দিন থেকে এক এন্ডে টানা বল করে যাওয়া অফ স্পিনার মিরাজ প্রথম উইকেটের মুখ দেখেছেন ২৩ তম ওভারে। সুইপ করতে যেয়ে সউদ শাকিল হয়েছেন এলবিডাব্লুউ (৪ বলে ০)। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে মিডল এন্ড অফ স্ট্যাম্পের উপরে সম্ভাব্য আঘাতের দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন টিভি আম্পায়ার। ২ ওভার পর মিরাজের পরবর্তী শিকার আবদুল্লাহ ফজল। অভিষেকে হাফ সেঞ্চুরিয়ান আবদুল্লাহ ফজল ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে মিড অনে তাইজুলের হাতে দিয়েছেন ক্যাচ (১২০ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৬০)।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর একমাস বাকি। বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এখনো। বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝে ফিফা এবং আয়োজক দেশগুলোর কাছে একগুচ্ছ নিশ্চয়তা দাবি করেছে তারা। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, নিজেদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতিতে অটল থেকেই তারা বিশ্বমঞ্চে লড়তে চায়।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) প্রধান মেহেদি তাজ ফিফাকে ১০টি শর্ত সংবলিত একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। গত মাসে ফিফা কংগ্রেসে তাজকে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার পর এই দাবিগুলো সামনে এলো।
শনিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে বলা হয়েছে—দলের সঙ্গে ভ্রমণকারী সকল খেলোয়াড়, কোচ এবং কর্মকর্তাদের ভিসার গ্যারান্টি দিতে হবে। বিশেষ করে যারা ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এ সামরিক সেবা দিয়েছেন, তাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে কোনো বাধা থাকা চলবে না।
আরও পড়ুন
| দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড মেসির |
|
এছাড়া ইরান তাদের জাতীয় দলের প্রতি সম্মানজনক আচরণ, ইরানি পতাকা ও জাতীয় সংগীতের মর্যাদা রক্ষা এবং বিমানবন্দর, হোটেল ও স্টেডিয়ামে বাড়তি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন খেলোয়াড়দের কেবল ফুটবল সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়, রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়।
ইরানের এই দাবিগুলোর সবকটি পূরণ করা ফিফার জন্য সহজ হবে না। ফিফা টুর্নামেন্টের লজিস্টিকস, প্রটোকল এবং দলগুলোর দেখভালের তদারকি করতে পারলেও ভিসা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের মতো বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারে থাকে, ফিফার নীতিমালায় নয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, ইরানি ফুটবলারদের বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হবে। তবে আইআরজিসির সাথে কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা থাকা কাউকে তাদের মাটিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন
| গৃহযুদ্ধে কোণঠাসা মাদ্রিদ, ক্লাসিকোতে ইতিহাস ছোঁয়ার অপেক্ষায় বার্সেলোনা |
|
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে হামলা করে। বর্তমানে একটি চুক্তির অধীনে যুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ 'জি'-তে রয়েছে ইরান। নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী তাদের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা রয়েছে।
১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

লিওনেল মেসি যেখানে যান, রেকর্ড যেন সেখানে তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকে। শনিবার রাতে কানাডার টরন্টোতে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
টরন্টো এফসির বিপক্ষে মায়ামির ৪-২ ব্যবধানে জয়ের রাতে লিগের দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ গোল কন্ট্রিবিউশনের (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) রেকর্ড গড়েন মেসি।
এমএলএস-এর নিয়মিত মৌসুমে মাত্র ৬৪ ম্যাচে ১০০ গোল কন্ট্রিবিউশন পূর্ণ করেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি সেবাস্তিয়ান জিওভিনকোর করা রেকর্ডটি ভেঙে দিলেন।
টরন্টোর বিপক্ষে ম্যাচে একটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে এই রেকর্ড গড়েছেন মেসি। জিওভিনকোর যেখানে ১০০ গোল কন্ট্রিবিউশনে লেগেছিল ৯৫ ম্যাচ, মেসি সেখানে ৩১ ম্যাচ আগেই সেই শিখরে পৌঁছালেন।
ম্যাচের ৪৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো ভলিতে ইন্টার মায়ামিকে লিড এনে দেন রদ্রিগো ডি পল। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর তৃতীয় গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৬ মিনিটে মেসির নিখুঁত পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লুইস সুয়ারেজ। এরপর ৭৩ মিনিটে মেসির দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে মায়ামির হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন সার্জিও রেগিলন।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে ডি পলের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান খেলে দলের চতুর্থ গোল করেন অধিনায়ক মেসি নিজে। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর নবম গোল। শেষ দিকে টরন্টো দুই গোল শোধ করে ব্যবধান কমালেও মায়ামির জয় নিশ্চিত ছিল।
এই জয়ের ফলে অ্যাওয়ে ম্যাচে চলতি মৌসুমে নিজেদের সেরা ফর্ম ধরে রাখল ইন্টার মায়ামি। এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের মাঠে ১৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে তারা। ১২ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে লিগে তিন নম্বরে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
আগামী বুধবার এফসি সিনসিনাটির বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে ইন্টার মায়ামি।