
ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করেছিল বাংলাদেশ এইচপি দল। তাতে বড় অবদান ছিল ব্যাটারদের । তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই দেখতে হলো মুদ্রার উল্টো পিঠ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় পাকিস্তান শাহিন্সের সামনে দাঁড়াতেই পারল না সফরকারী দলটি। একশ’র কমে অলআউট হয়ে হারতে হল বিশাল ব্যবধানে।
ডারউইনে শাহিন্সের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করে ২৪.৩ ওভারে মাত্র ৭৮ রানেই গুটিয়ে যায় এইচপি। ২ উইকেট হারিয়েই সেই রান তাড়া করে ফেলে শাহিন্স।
আরও পড়ুন: দাঙ্গাকে কেন্দ্র করে ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শ্রীলঙ্কার উদ্বেগ
এনটি স্ট্রাইকের বিপক্ষে আগের ম্যাচে তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন ওপেন করলেও এদিন তাতে আসে পরিবর্তন। তানজিদের সাথে ইনিংস শুরু করেন জিশান আলম। তবে জুটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রথম ওভারেই একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বিদায় নেন আগের ম্যাচে ফিফটি করা তানজিদ। পরের ওভারে বিদায় নেন জিশানও।
তিনে নামা ইমনের ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর ইনিংসের হাল ধরতে ব্যর্থ হয় মিডল অর্ডারও। এইচপির সব মিলিয়ে মাত্র চারজন ব্যাটার যেতে পারেন দুই ডিজিটে। দলীয় সর্বোচ্চ রান ইমনেরই। ৮ ওভারে ২২ রানে তিন উইকেট নিয়ে শাহিন্সের সেরা বোলার মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র।

রান তাড়ায় শাহিন্সের শুরুটাও ভালো ছিল না। দ্বিতীয় ওভারে সাহিবজাদা ফারহানকে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরান রিপন মন্ডল। এরপর আরেক ওপেনার আব্দুল ফাসিহকেও শিকার বানান তিনি। তবে ম্যাচের ফলাফলে এর প্রভাব পড়েনি আর। ১৭ ওভারেই ম্যাচ শেষ করে ফেলে শাহিন্স।
No posts available.
১৫ মার্চ ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
১৫ মার্চ ২০২৬, ৫:০৮ পিএম

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ম্যাচে দুবার ৩০০’ প্লাস স্কোরের রেকর্ড আছে বাংলাদেশ দলের। দুবারই শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৪ সালে ৩২৬/৩ এবং ২০১৫ সালে ৩২৯/৬ স্কোর থেকে টনিক নিয়ে সাকিব-তামিমের অনুজদের ব্যাটিংয়ে ৩০০ স্কোরের সম্ভাবনা ছিল রোববার। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রত্যাশিত স্কোর করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১০ রানের জন্য পূর্ণ হয়নি ৩০০।
কেনো স্কোর হয়নি ৩০০ ? এই প্রশ্নের উত্তর ইনিংসের ৪৭, ৪৯ এবং ৫০ম শেষ ওভারে ধীরগতির ব্যাটিং। ৪৭ এবং ৪৯তম ওভারে হারিস রউফের বল খেলতে ধুঁকেছে বাংলাদেশ মিডল অর্ডাররা। যে দুই ওভারে হারিস রউফের খরচা ৪ এবং ৫। ৫০তম ওভারে ফাহিম আশরাফ ৮ রানের বেশি খরচ করেননি।
প্রথম ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’ র ১০ ওভারে উইকেটহীন ৫৪-নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতেও রানের জন্য ধুঁকতে হয়নি বাংলাদেশ দলকে। সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম (১০৭ বলে ১০৭) এই পর্বে শাসন করেছেন পাকিস্তান বোলারদের। সে কারণেই দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে’ র ৩০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রানও প্রশংসার দাবি রাখে। হাতভর্তি উইকেট রেখে শেষ পাওয়ার প্লে-তে যেখানে টি-২০ মেজাজে ব্যাটিং করা দরকার, সেখানে এই পর্বে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দল যোগ করতে পেরেছে ৭৭ রান। শেষ ৫ ওভারে ২ ব্যাটার হারিয়ে ৩৯ রান তাই পাচ্ছে না হাততালি। এই ৩৯ রানের মধ্যে আবার মিস্ট্রার এক্সট্রা থেকে এসেছে ৭ রান, ৫টি লেগ বাই এবং ২টি ওয়াইড। শেষ ৫ ওভারে বাউন্ডারি মারতে পেরেছে বাংলাদেশ ব্যাটাররা মাত্র ২টি। ৪৮ তম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে যে দুটি বাউন্ডারি মেরেছেন হৃদয়।
বেশি বিরক্তিকর লেগেছে আফিফের ব্যাটিং (৮ বলে ৫*)। শেষ ওভারে ফাহিম আশরাফের বিশাল ওয়াইড ডেলিভারি দেখেও সেই বল ছেড়ে না দিয়ে সিঙ্গল নিয়েছেন আফিফ! সেট হয়েও তাওহিদ হৃদয় টি-২০ মেজাজে ব্যাট করতে পারেননি ( ৪৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৪৮*)। শেষ পাওয়ার প্লে’তে অবশ্য হারিস রউফের স্পেল (৩-০-১৫-২) হৃদয়-আফিফের বিগ হিটে তৈরি করেছে প্রতিবন্ধকতা।

২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ী দলের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে জাতীয় দলে ঢুকতে একটার পর একটা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটিং স্টাইলটা ঠিক তামিম ইকবালের মতো, দুজনেই বাঁ হাতি। শর্ট পিচ ডেলিভারি খেলতে স্বাচ্ছন্দ পান দুজনই। সিনিয়র তামিমের ( তামিম ইকবাল) সঙ্গে ওপেন করার স্বপ্ন ছিল তানজিদ হাসান তামিমের। ২০২৩ সালের আগষ্টে এশিয়া কাপের দলে তামিম ইকবালের জায়গায় যখন নেয়া হয়েছে তানজিদ হাসান তামিমকে, তখন তামিম ভক্তদের তিরে বিদ্ধ হতে হয়েছে নির্বাচকদের। পাল্লেকেলেতে অভিষেক ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পেলেন ডাক (২বলে ০), থিকসানার বলে এলবিডাব্লুউতে ফিরেছেন যখন তখন তো অনেকেই এই তরুণের শেষ দেখে ফেলেছেন। ২০২৩ বিশ্বকাপের ঠিক প্রাক্কালে ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়ে তামিম ইকবাল দিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা। তামিম ইকবালের ওই ঘোষণায় দলে জায়গাটা পাকা করার সুযোগ পেলেন তানজিদ হাসান তামিম। আশ্চর্য হলেও সত্য, দুই প্রজন্মের দুই তামিমের প্রথম ফিফটি ভারতের বিপক্ষে এবং দুটিই বিশ্বকাপে। এবং ইনিংস দুটিতে অন্তমিল, ৫১ রান।
ক্যারিয়ারের প্রথম ৪টি ইনিংসে ফিফটিহীন ইকবালের প্রথম ফিফটি ২০০৭ বিশ্বকাপে, ত্রিনিদাদে। সেখানে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যারিয়ারের প্রথম ৭টি ইনিংস কেটেছে ফিফটিহীন, ২০২৩ বিশ্বকাপে পুনেতে ভারতের বিপক্ষে ফিফটিতে কেটেছে সেই অতৃপ্তি। ওডিআই ক্রিকেটে ২৭তম ইনিংসে তামিম ইকবাল দেখেছেন প্রথম সেঞ্চুরির মুখ। সেখানে তানজিদ হাসান তামিমমে প্রথম সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩১তম ইনিংস পর্যন্ত। দুজনের অভিষেক সেঞ্চুরির ভেন্যু এক, শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। ২০০৮ সালের ২২ মার্চ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে (১২৯) তামিম ইকবালের অভিষেক সেঞ্চুরির ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার ৭দিন আগে তানজিদ হাসান তামিম দেখলেন সেঞ্চুরির (১০৭) মুখ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১১৫ রান তাড়া করতে যেয়েও টি-২০ মেজাজে ব্যাটিং করেছেন তানজিদ হাান তামিম। ১৫৯.৫২ স্ট্রাইক রেটে ৪২ বলে করেছেন ৬৭ রান। ৭টি ছক্কার পাশে ছিল ৫টি ছক্কা। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সালমান আগাকে স্ট্রেইট ছক্কায় সেঞ্চুরি উদযাপনের ইনিংসে চারের চেয়ে ছিল ছক্কার আধিক্য। ৬টি চার-এর পাশে মেরেছেন তানজিদ ৭টি ছক্কা।
ছন্দময় ব্যাটিংয়ে শুরু থেকে স্ট্রাইক রেটে ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম মনযোগী। ৫৪ বলে ফিফটি, ১০৬ বলে সেঞ্চুরি। শুরুটা করেছেন তানজিদ পাকিস্তান পেসার হারিস রউফকে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ২টি ফ্লিক শটে চার এবং ছক্কা মেরে। ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে হারিস রউফের শর্ট বলে তার প্যারালাল ছক্কাটি ছিল চেয়ে দেখার মতো। ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করার কষ্টটা বয়ে বেড়িয়েছেন ২ বছর। চান্সলেস ইনিংসটি থেমেছে তার ভুল শট সিলেকশনে।
লেগ স্পিনার আবরারকে কাট করতে যেয়ে কভারে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন তানজিদ হাসান তামিম ( ১০৭ বলে ৬ চার,৭ ছক্কায় ১০৭)। প্রথম উইকেট জুটির ১০৮ বলে ১০৫, দ্বিতীয় উইকেট জুটির ৬৭ বলে ৫৩, তৃতীয় উইকেট জুটির ৬৭ বলে ৮৮ রানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গাটা ইতোমধ্যে করেছেন পাকা। গত বছর টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৭ ম্যাচে ৮ ফিফটিতে ৭৭৫ রানে নিজেকে চিনিয়েছেন। এখন ওডিআই ক্রিকেটে শুরু হয়েছে তাঁর নিজেকে চেনানোর পালা।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নতুন এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন নিউ জিল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক আমেলিয়া কের। অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম পাঁচ ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আজ করেছেন ফিফটি। সব মিলিয়ে টানা তৃতীয় ফিফটি তুলে নিয়ে এই রেকর্ড নিজের করে নেন কের।
নিউ জিল্যান্ডের মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ের বে ওভাল মাঠে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪৪ বলে ৭৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন কের। ইনিংসটির সৌজন্যে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম পাঁচ ইনিংসে তাঁর মোট রান দাঁড়ায় ৩০১, যা নারী টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন বিশ্বরেকর্ড।
এর আগে এই রেকর্ড ছিল রোমানিয়ার রেবেকা ব্লেকের দখলে। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম পাঁচ ইনিংসে তিনি করেছিলেন ২৫০ রান। এই তালিকায় নিউ জিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক সোফি ডিভাইনও আছেন, তাঁর সংগ্রহ ছিল ২১৭ রান।
ম্যাচে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউ জিল্যান্ড। প্রথম বলেই রান আউট হয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন ইজি গেজ। তারপর ব্যাটিংয়ে নামেন কের, শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে খেলতে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে দ্রুত রান তোলেন তিনি।
কেরের ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটে ১৯০ রান তোলে নিউ জিল্যান্ড। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে ৭ উইকেটে করতে পারে ১১০ রান। ফলে ৮০ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় নিউ জিল্যান্ড। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন কের।
নিউ জিল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন কের। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজে করেছিলেন অপরাজিত ১০১ ও ৮২ রান।

সালমান আলি আগার হালকা ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারি ক্রিজ ছেড়ে উড়িয়ে মারলেন তানজিদ হাসান তামিম। লং অফের ফিল্ডার শুধু দাঁড়িয়ে দেখলেন। বল চলে গেল সীমানার ওপারে আর তামিম পৌঁছে গেলেন জাদুকরী তিন অঙ্কে। দুই হাত ছড়িয়ে আকাশপানে তাকিয়ে সারলেন উদযাপন।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে চমৎকার সেঞ্চুরি করেছেন তামিম। রোববারের ম্যাচে ৭টি ছক্কা মেরে ৯৮ বলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পূর্ণ করেছেন বাঁহাতি ওপেনার।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৪৫ টি-টোয়েন্টি ও ৩০টি ওয়ানডে খেলার পর অবশেষে সেঞ্চুরির উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন তামিম। এর আগে ওয়ানডেতে তার সর্বোচ্চ ছিল ৮৪ রান, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০২৪ সালে। এর আগে চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও মাত্র ৪২ বলে করেছিলেন অপরাজিত ৬৭ রান।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করেন তামিম। পাওয়ার প্লের মধ্যেই তার ব্যাট থেকে আসে ৪টি ছক্কা। এর সঙ্গে ৩টি চার মেরে ৪৭ বলে তিনি পূর্ণ করেন পঞ্চাশ রান। সেখান থেকে পরের পঞ্চাশ রান করতে খেলেন ৫১ বল।
ব্যক্তিগত ৭০ রানে পৌঁছানোর পর কিছুটা মন্থর ব্যাটিং শুরু করেন তামিম। একপর্যায়ে পায়ের পেশিতে টান অনুভব করা শুশ্রূষাও নিতে হয় ২৫ বছর বয়সী ওপেনারকে। তবে লড়াইয়ে ক্ষান্ত দেননি ছন্দে থাকা ব্যাটার।
একই ছন্দে এগিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটিকে প্রথম সেঞ্চুরিতে রুপ দিয়েছেন তামিম। এরই মধ্যে তিনি মেরেছেন ৭টি ছক্কা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের এক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড এটি।
২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেটে ১৭৬ রানের ইনিংস খেলার পথে ৮টি ছক্কা মেরেছিলেন লিটন কুমার দাস। এছাড়া ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই চট্টগ্রামে ৯৫ রানের ইনিংসে ৭টি ছক্কা মেরেছিলেন তামিম ইকবাল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
২০০৭ সালে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় করাচিতে জন্ম নেওয়া সরফরাজের। ২০১০ সালে টেস্ট ও টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার মাঠে নামেন। পাকিস্তানের হয়ে তিনি ৫৪ টেস্ট, ১১৭ ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ও ৬১ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন সরফরাজ।
তিন সংস্করণ মিলিয়ে সরফরাজ করেছেন ৬ হাজার ১৬৪। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি সেঞ্চুরি ও ৩৫টি হাফসেঞ্চুরি। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে নিয়েছেন ৩১৫টি ক্যাচ এবং ৫৬টি স্টাম্পিং করেছেন।
নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করেছেন সরফরাজ। তিন সংস্করণ মিলিয়ে তিনি ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৫০টি ওয়ানডে, ৩৭টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক এবং ১৩টি টেস্ট। তাঁর নেতৃত্বেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একসময় বিশ্বের এক নম্বর দল হয়েছিল পাকিস্তান।
সরফরাজের অধিনায়কত্বে পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজে টানা ১১টি জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল। এ সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একাধিক সিরিজে প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করে পাকিস্তান।
সরফরাজের বড় অর্জন— তাঁর নেতৃত্বে ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জেতে পাকিস্তান। লন্ডনের ওভালে ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানে হারায় তাঁর দল। সেই জয়ে পাকিস্তানের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন সরফরাজ।
এর আগে ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপেও পাকিস্তান দলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন সরফরাজ। ফলে বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র—দুই পর্যায়ের বিশ্ব প্রতিযোগিতায় শিরোপা জেতা অধিনায়ক হিসেবে অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি।
পাকিস্তান ক্রিকেটে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে তাঁকে ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিক থেকেও সরফরাজের ঝুলিতে রয়েছে দারুণ অর্জন। ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে তিনি এক ম্যাচে ১০টি ক্যাচ নিয়ে পাকিস্তানের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ড গড়েন। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে ওয়ানডে সংস্করণেসেঞ্চুরি করা পাকিস্তানের একমাত্র উইকেটরক্ষক–ব্যাটারও তিনি।
২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু করা সরফরাজ শেষবার পাকিস্তানের হয়ে খেলেন ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে—পার্থ টেস্টে। অবসরের ঘোষণায় সরফরাজ বলেন, পাকিস্তানের হয়ে খেলা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়। সতীর্থ, কোচ, পরিবার ও সমর্থকদের অবিচল সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও পাকিস্তান ক্রিকেটের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক।