
টানা তিন পরাজয়। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এতোটা খারাপ সময় কবে কাটিয়েছে সেটা খুঁজে পেতে বেগ পাওয়ারই কথা। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় পর ব্রাজিল দলকে পড়তে হয়েছে এমন লজ্জায়। তবে সময়টা খারাপ গেলেও ব্রাজিল বস ফের্নান্দো দিনিজের চোখে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিকট অতীতের সেরা।
বিশ্বকাপের বাছাইয়ে নিজেদের ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো সেলেসাওদের হারের স্বাদ দিয়েছে মেসিরা। সেই সাথে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ তিন ম্যাচে কোন গোল না পাওয়ার যন্ত্রণা তো আছেই। সব পরিসংখ্যান ব্রাজিলের বিপক্ষে গেলেও ব্রাজিল কোচের মতে দল হিসেবে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স খারাপ ছিল না।
“এটা সেরা পারফর্মেন্স কি না, বলা মুশকিল। বলিভিয়ার বিপক্ষে দল খুব ভালো খেলেছিল। কিন্তু আপনি যদি দ্বৈরথের কথা ভাবেন, আর্জেন্টিনা দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে এসেছে। তারা গত বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর এই ম্যাচে যা হয়েছে, সব যদি আপনি বিবেচনায় নেন, তবে এটা আমাদের সেরা পারফরম্যান্স না হলেও সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি।“
তবে দিনিজ ব্রাজিলের পারফরম্যান্সকে সেরা মানলেও সমর্থকরা যে তা মানছেন না ম্যাচ শেষেই তা বুঝা গেছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে হারার পর সমর্থকেরা দুয়ো দিয়েছেন দিনিজকে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ট্রলের শিকার হচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান এই কোচ। যদিও এসবকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন তিনি,
“সমর্থকদের যা খুশি, করার অধিকার আছে। আমাদের কাজ নিজেদের সেরাটা দেওয়া। সমর্থকরা আবেগপ্রবণ এবং তারা জিততে চায়। তাই তাদের দুয়ো দেওয়ার অধিকারও আছে। তারা চায়, আমরা ভালো খেলি এবং জিতে আসি। আমার ধারণা, দল ভালো খেলেছে, কিন্তু জিততে পারিনি। আর দল হারলে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক।“
এখন পর্যন্ত লাতিন আমেরিকান বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্রাজিল ম্যাচ খেলেছে ছয়টা। যার মধ্যে তিনটিতেই দেখেছে হারের মুখ। এমন ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের কারণ হিসেবে দল পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাওয়াটাকেই দায়ী করছেন দিনিজ,
“ দল পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলের বেশির ভাগই তুরুণ প্লেয়ার। তাই এদের ওপর ভরসা রাখতে হবে। এরাইতো আমাদের ভবিষ্যৎ। সময়ের সাথে সাথে তারা নিজেদের খেলায় উন্নতি করবে।“
No posts available.

লা লিগায় ঘরের মাঠে শতভাগ
জয়ের ইতিহাস গড়ার রাতে চোখের জলে স্পোটিফাই ক্যাম্প ন্যু-কে বিদায় জানালেন রবার্ট
লেভানডফস্কি। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে পোলিশ এই মহাতারকাকে
দেওয়া হয় আবেগঘন এক বিদায় সংবর্ধনা। কাতালান ক্লাবটির জার্সিতে ঘরের মাঠে নিজের শেষ
ম্যাচটি খেলে ডাগআউটে ফেরার সময় অশ্রুসজল লেভানডফস্কি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে দেন,
স্টেডিয়ামকে বিদায় জানালেও বার্সেলোনাকে তিনি চিরকাল নিজের হৃদয়ে বহন করবেন।
ঘরের মাঠকে দূর্গ বানিয়ে
এই ম্যাচে লিগার ইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি গড়ল বার্সেলোনা। স্প্যানিশ এই লিগে প্রথম
দল হিসেবে এক মৌসুমে ঘরের মাঠের সবকটি ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়ল কাতালান জায়ান্টরা। এর
আগে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ ৩৪ ম্যাচের লিগে ঘরের মাঠে সব ম্যাচ জিতলেও, ৩৮ ম্যাচের
পুরো মৌসুমে শতভাগ জয়ের রেকর্ড এবারই প্রথম দেখল স্প্যানিশ ফুটবল।
মৌসুমের এই ঐতিহাসিক শেষ
হোম ম্যাচের পুরো আলোটাই কেড়ে নিয়েছিলেন লেভানডফস্কি। ক্যাম্প ন্যু-তে নিজের শেষ ম্যাচ
খেলতে নামা এই পোলিশ ফরোয়ার্ডের হাতে ছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে
যখন তাঁকে তুলে নেওয়া হয়, তখন নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি, চোখ ফেটে জল আসে
এই মহাতারকার। ডাগআউটে যাওয়ার পরও বারবার বাইরে বেরিয়ে এসে সমর্থকদের হাত নেড়ে বিদায়
জানান।
ম্যাচ শেষে বার্সার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে লেভানডফস্কি বলেন,
‘এই ক্লাবের হয়ে খেলতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। গত চার বছরে আমরা দারুণ কিছু মুহূর্ত পার করেছি। আমি এই স্টেডিয়ামকে বিদায় জানাচ্ছি ঠিকই, তবে বার্সেলোনাকে চিরকাল আমার হৃদয়ে বহন করব। একবার যে বার্সা, সে চিরকালের জন্যই বার্সা।’
২০২২ সালে বার্সেলোনা যখন
ইতিহাসের অন্যতম চরম আর্থিক সংকট আর লিওনেল মেসির বিদায়ের ধাক্কায় দিকভ্রান্ত, ঠিক
তখনই বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ক্লাবের হাল ধরেছিলেন লেভানডফস্কি। কাতালানদের সেই কঠিনতম
সময়ে ত্রাতা হয়ে এসে গত চার বছরে দলকে তিনটি লা লিগাসহ মোট সাতটি ট্রফি জিতিয়েই মাঠ
ছাড়ছেন ৩৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
বার্সেলোনার হয়ে ১৯২ ম্যাচে
মাঠে নেমে ১৯৯টি গোল করেছেন 'গোলমেশিন' লেভানডফস্কি। গড়ে প্রতি ১১৮ মিনিটে একটি করে
গোল করার পাশাপাশি তাঁর নেওয়া শটের ২১.২৫ শতাংশই জালে জড়িয়েছে। ক্লাবের হয়ে তাঁর
গোলগুলোর মধ্যে লা লিগায় ১৩৩ ম্যাচে ৮২টি, চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩৮ ম্যাচে ২৩টি, কোপা
দেল রে-তে ১২ ম্যাচে ৭টি, স্প্যানিশ সুপারকোপায় ৭ ম্যাচে ৬টি এবং ইউরোপা লিগে ২ ম্যাচে
১টি গোল রয়েছে।
লেভানডফস্কিকে সম্মান জানাতে
অধিনায়কের আর্মব্যান্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সকালেই নিয়েছিলেন রাফিনিয়া, আরাউহো ও পেদ্রিরা।
রাফিনিয়া জানান, ‘তাঁর ক্যারিয়ারের এমন একটি মুহূর্তের সঙ্গী হতে পারাটা সত্যিই সম্মানের।
আসার পর থেকেই ক্লাবের জন্য তিনি অনেক অবদান রেখেছেন।’
লেভানডফস্কির বিদায় ছুঁয়ে গেছে বার্সা ড্রেসিংরুম থেকে ডাগআউটেও। বায়ার্ন মিউনিখের পর বার্সেলোনা—ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় এই পোলিশ স্ট্রাইকারকে খুব কাছ থেকে দেখা কোচ হান্সি ফ্লিকও ম্যাচ শেষে প্রিয় শিষ্যের বিদায়লগ্নে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি,
‘রবার্টের একটা গোল হলে রাতটা হয়তো পুরোপুরি নিখুঁত হতে পারত, তাই বলা যায় রাতটা ছিল প্রায় নিখুঁত। আমি তাঁর সাথে বহু বছর কাজ করেছি এবং সে আমার একজন ভালো বন্ধু। বার্সেলোনা এবং এই ক্লাবের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন এক মুহূর্ত। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। সে একাধারে একজন অসাধারণ মানুষ এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড়। সে আমাদের দুর্দান্ত সব মুহূর্ত, গোল এবং শিরোপা উপহার দিয়েছে। আমরা তাঁকে খুব মিস করব, তবে এটাই জীবন এবং ফুটবলের নিয়ম। আমরা সবাই তাঁকে মিস করব, সে সত্যিই একজন ভালো মানুষ।’
ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ খেললেও
বার্সেলোনার জার্সিতে লেভানডফস্কির চূড়ান্ত বিদায় এখনই হচ্ছে না। আগামী শনিবার লা লিগার
শেষ ম্যাচে ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে তাদের মাঠে বার্সার হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলতে
নামবেন তিনি।
এর আগে মাঝ সপ্তাহে আলাভেসের
কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচের একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক। জোয়ান
গার্সিয়া, পেদ্রি এবং রাফিনিয়াকে ফিরিয়ে আনা হয় শুরুর একাদশে। লেভানডফস্কির বিদায়ী
ম্যাচে বার্সাকে প্রথমে লিড এনে দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়াই। বেতিস গোলকিপার আলভারো
ভালিসকে পরাস্ত করে দূরপাল্লার শটে বল জালে জড়ান তিনি।
১-০ ব্যবধানে প্রথমার্ধ
শেষ হওয়ার পর ম্যাচের ৬২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া। হেক্টর বেলেরিনের এক
ভুল পাস ধরে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই উইঙ্গার। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই ম্যাচে
ফেরে বেতিস। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা ইসকোকে বার্সার ডি-বক্সের ভেতর গাভি ফাউল
করলে পেনাল্টি পায় বেতিস। সফল স্পট কিকে ব্যবধান ২-১ করেন ইসকো নিজেই।
৭৪ মিনিটে স্বস্তি ফেরান
জোয়াও কানসেলো। তাঁর দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শট বেতিস গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে জালে
জড়ালে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার।

একের পর এক চোট, মাঠের
বাইরের নানা বিতর্ক, আর সবশেষ রেফারির ভুলের শিকার হওয়া—বিশ্বকাপ শুরুর আগে নেইমার
জুনিয়রকে নিয়ে নাটক তো কম হলো না। সান্তোসের ‘রাজপুত্রের’ কোটি ফুটবল ভক্তের বুক দুরুদুরু
করা সেই অন্তহীন অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজই। স্কোয়াড ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে আজ বাংলাদেশ
সময় দুইটায় এই নাটকের যবনিকা টানতে যাচ্ছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি, যেখানে ভাগ্য
নির্ধারণ হবে সেলেসাওদের এই মহাতারকার।
সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে নেইমার
কি পাচ্ছেন তাঁর ‘ওয়ান লাস্ট ড্যান্স’-এর টিকিট, নাকি মাঠের বাইরের সমীকরণেই শেষ হচ্ছে
তাঁর বিশ্বকাপ স্বপ্ন? শেষ পর্যন্ত যদি মহোৎসবের এই বিশ্বমঞ্চে তাঁকে ছাড়াই পা রাখে
ব্রাজিল, তবে কী করবেন নেইমার? গতকাল সান্তোসের ম্যাচ শেষে সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি
মহাতারকা নিজেই দিয়েছেন তার এক সংক্ষিপ্ত ও পরিণত জবাব।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চূড়ান্ত
দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে বেশ বিনয়ী ও পরিণত অবস্থানই নিয়েছেন নেইমার। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড
জানিয়েছেন, দলে বিবেচনার যোগ্য হয়ে উঠতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন; তবে চূড়ান্ত দলে
তিনি জায়গা পাবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপরই নির্ভর
করছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ৩৪ বছর বয়সী সান্তোস তারকা নেইমার বলেন,
‘আমি দলে থাকার যোগ্য কি না, সেই সিদ্ধান্ত আনচেলত্তিই নেবেন। আমি এটার (সুযোগ পাওয়ার) জন্যই কঠোর পরিশ্রম করেছি। তবে যদি আমি নির্বাচিত নাও হই, তাহলেও আমি একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য গলা ফাটাব।’
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো
এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বমঞ্চের জন্য আনচেলত্তি যখন তাঁর
৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল থেকে চূড়ান্ত ২৬ জনের স্কোয়াড বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন,
ঠিক তখনই এমন মন্তব্য নেইমারের। ২০২৩ সালের হাঁটুর গুরুতর চোটের পর থেকে ফিটনেস সমস্যায়
ভুগলেও, সান্তোসে ফেরার পর থেকে সম্প্রতি বেশ দারুণ ছন্দে রয়েছেন নেইমার।
অবশ্য কোচ আনচেলত্তিও বারবার
পরিষ্কার করে বলেছেন যে, ব্রাজিলের এই আইকন নেইমারকে দলে রাখার সিদ্ধান্তটি তাঁর অতীত
রেকর্ড বা আবেগের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে না; বরং এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে তাঁর
বর্তমান পারফরম্যান্স এবং শারীরিক সক্ষমতার ওপর।
গুঞ্জন রয়েছে, নেইমারকে
চূড়ান্ত দলে জায়গা দিতে গিয়ে চেলসির ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোকে বাদ পড়তে হতে পারে। দলে
ফিরলেও অবশ্য একাদশের নিয়মিত মুখ হিসেবে নেইমারকে দেখার নিশ্চয়তা কিন্তু নেই। পাঁচবারের
বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দলে এথন অনেক তরুণ খেলোয়াড় পছন্দের তালিকায় এগিয়ে আছেন। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে
ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো একজন কার্যকরী ‘ইমপ্যাক্ট সাবস্টিটিউট’ হিসেবে দলের
প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠতেই পারেন।
ব্রাজিলের ইতিহাসের এই
সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দলে দেখতে চেয়ে সমর্থক থেকে শুরু করে তাঁর সাবেক সতীর্থরা যখন জোরালো
দাবি তুলছেন, তখন অন্য পক্ষের যুক্তি একেবারেই ভিন্ন। তাদের মতে, সেলেসাওদের আক্রমণভাগকে
নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বটা এখন তরুণ প্রতিভাদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত
দল ঘোষণা এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। আর তাই পুরো ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন একটি প্রশ্নের
দিকেই—ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা কি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে ট্রফি
উঁচিয়ে ধরার আরও একটি সুযোগ পাবেন?

গত মাসে জমকালো আয়োজনের
মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হওয়া
২৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দৃষ্টিনন্দন 'নু স্টেডিয়ামে’ এটি
ছিলে ইন্টার মায়ামির পঞ্চম ম্যাচ। এর আগের চারটি
হোম ম্যাচের তিনটিতে তারা ড্র করেছিল
এবং অন্যটিতে অরল্যান্ডো সিটির কাছে ৩-০
ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ৪-৩ গোলে
হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল।
অবশেষে ‘নতুন ঘরে’ প্রথম জয় পেল লিওনেল মেসির দল।
নু স্টেডিয়ামে মায়ামির
প্রথম জয়ের নায়ক মেসি। আর্জেন্টাইন
মহাতারকার চমৎকার
গোল এবং দৃষ্টিনন্দন এক অ্যাসিস্টে
আজ পোর্টল্যান্ড
টিম্বার্সকে ২-০ ব্যবধানে
হারিয়েছে মায়ামি। বিশ্বকাপের আগে যেন পুরোদমে স্বরুপেই ফিরেছেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সী
এই আর্জেন্টাইন জাদুকর পুরো ম্যাচজুড়েই পোর্টল্যান্ডের
রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন।
ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক এই ব্যর্থতার পরও,
এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের
পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে আছে ইন্টার মায়ামি। এক ম্যাচ কম খেলা ন্যাশভিল এসসি-র চেয়ে ২
পয়েন্টে পিছিয়ে মেসির দল। ১৪ ম্যাচে ৮ জয়ে ২৮
পয়েন্ট মায়ামির।
মেজর লিগ সকারের (এমএলএস)
বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ম্যাচের আধা
ঘণ্টার মাথায় একটি দারুণ আক্রমণ
থেকে প্রথম গোলটি করেন মেসি। মাঝমাঠ
থেকে বল বাড়িয়ে তিনি
পাস দেন ‘বন্ধু’ লুইস সুয়ারেজকে।
সুয়ারেজ থ্রু পাসে খুঁজে
নেন তেলাস্কো সেগোভিয়াকে। সেগোভিয়ার দারুণ এক ব্যাকহিল পাসে
বল আবার চলে আসে
মেসির পায়ে, আর নিখুঁত শটে
বল জালে জড়াতে ভুল
করেননি আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
১০ মিনিট পর, ডান প্রান্ত
দিয়ে দারুণ গতিতে বল নিয়ে ওপরে
ওঠেন আরেক আর্জেন্টাইন রদ্রিগো
ডি পল। খুঁজে নেন
সতীর্থ মেসিকে, এরপর সুয়ারেজের সঙ্গে
ওয়ান-টু খেলে চারজন
ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। বাঁ
পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে চমৎকার
এক পাস বাড়িয়ে দেন
জার্মান বেরতেরামেকে, শেষ পর্যন্ত ব্যবধান হয়ে যায় ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা কমে
আসে। এই অর্ধে মেসি ব্যবধান বাড়ানোর
কিছু সুযোগ মিস করেন; ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর
একটি বাঁ পায়ের বাঁকানো
শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে
তাঁর নেওয়া একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলকিপার জেমস
প্যানতেমিস ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্যভাবে রুখে
না দিলে ব্যবধান আরও
বাড়তে পারত।
এই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্টের
পর চলতি মৌসুমে মেসির
নামের পাশে এখন ১২টি
গোল এবং ৬টি অ্যাসিস্ট,
মোট ১৮টি গোলে সরাসরি
অবদান রেখেছেন। বিশ্বকাপ বিরতির আগে আর মাত্র
একটি ম্যাচ বাকি থাকতে এমএলএস
গোল্ডেন বুট রেসেও ‘এলএমটেন’
এখন দ্বিতীয় স্থানে আছেন।
ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মায়ামির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গুইলার্মো হোয়োস রসিকতা করে বলেন,
‘আপনারা কি খেলাটা দেখেছেন? দারুণ ম্যাচ ছিল, তাই না?’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘খেলোয়াড়রা আজ মাঠে ছবি এঁকেছে, তারা সব করেছে। সত্যি বলতে, এটা ছিল তাদের এক বিশাল ত্যাগের ফসল।’

ব্রাজিলিয়ান সিরি’আতে রেলিগেশন জোনের কিনারায় দাঁড়িয়ে সান্তোস। রোববার কোরিটিবার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হেরে পয়েন্ট টেবিলের ষোড়শ (১৬তম) অবস্থানে নেমে গেছে তারা। দলের এমন বড় হারের দিনে নিও কুইমিকা অ্যারেনায় ঘটে গেছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত ঘটনা।
ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে খেলোয়াড় পরিবর্তনের বিষয়টি ভুল বোঝেন চতুর্থ রেফারি। কোচিং স্টাফের পরিকল্পনার বাইরে ভুলবশত নেইমার জুনিয়রকেই মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়ার সংকেত দেন তিনি। রেফারির এমন সিদ্ধান্তে মাঠেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় ব্রাজিলিয়ান এই তারকাকে।
প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় সরাসরি ক্যামেরার সামনে চলে যান নেইমার। আকার-ইঙ্গিতে বিশ্ববাসীকে দেখানোর চেষ্টা করেন, তাকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ভুল ছিল।
নেইমার মাঠে থাকলে শেষ মুহূর্তে সান্তোসের ভাগ্য বদলাত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কারণ ততক্ষণে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল তাঁর দল। তবে সান্তোসের জার্সিতে নেইমার ছন্দে ছিলেন। এই ম্যাচের আগের তিন ম্যাচেও দুটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট ছিল তাঁর নামের পাশে।
সান্তোসের জন্য এই হার অনেক বড় একটি ধাক্কা। পয়েন্ট টেবিলের ১৭তম স্থানে থাকা গ্রেমিও যদি তাদের পরের ম্যাচে জয় পায়, তবে সান্তোস সরাসরি রেলিগেশন জোনে পড়ে যাবে।
আগামীকাল (সোমবার) ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগ মুহূর্তে নেইমারকে ঘিরে মাঠের এমন নাটকীয় পরিস্থিতি সে দেশের ফুটবল অঙ্গনে বেশ উত্তাপ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, দল ঘোষণার আবহে এই ঘটনার রেশ কতদূর গড়ায়।

ক্রিস কোলম্যান, নাকি বার্নড স্টর্ক? বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পরবর্তী কোচ হিসেবে হাভিয়ের কাবরেরার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ফুটবলপ্রেমী এবং সমর্থকেরা প্রত্যাশায় ওয়েলস জাতীয় দলের সাবেক কোচ কোলম্যান। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কিংবা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়েরও চাওয়া অভিন্ন।
দুইয়ে দুয়ে চার মিললেও জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের নতুন কোচ নিয়োগে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বেশ। অথচ কোচ ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ ছিল ১৫ মে। দুদিন পেরিয়ে গেলেও নিশ্চয়তা নেই, কবে কখন আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও বাফুফের পক্ষ থেকে কোচ নিয়োগের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া মিললেও ঘোষণা না আসার পেছনে ইন্টারন্যাশনাল ফরমালিটিজ এবং কোলম্যানের এজেন্টের সঙ্গে বাফুফের বোঝাপড়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
রবিবার ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আমিনুল জানিয়েছেন, কোলম্যানকে কোচ হিসেবে পেতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তবে কোলম্যানকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যাবে কি না, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে তার এজেন্টের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ওপর।
তিনি বলেন,
‘আমি যতটুকু শুনলাম, আমরা যাকে কোচ হিসেবে নেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, তিনি কোলম্যানই। তার বিষয়ে ফেডারেশন যে সহযোগিতা চেয়েছে, তা করতে আমরা প্রস্তুত।’
বাফুফের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, এজেন্টের সাথে এখনো চূড়ান্ত বোঝাপড়া শেষ হয়নি। তাই কোলম্যানকে বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাবে কি না, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলে শুনলাম তার যে এজেন্ট রয়েছে, তার সঙ্গে বোঝাপড়া এখনও শেষ হয়নি। সেটা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আসলে কোলম্যানকে শেষ পর্যন্ত পাব কি না। তবে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কোলম্যানকেই চায়। যদি কোনো কারণে এজেন্টের সাথে আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে বিকল্প কোচের বিষয়েও ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিকল্প তালিকা নিয়ে আলোচনা চলছে।’
বাংলাদেশের কোচ হতে প্রাথমিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে মোট ২৩০টি আবেদনপত্র জমা পড়ে বাফুফেতে। বাছাই ধাপ পেরিয়ে সেখান থেকে তালিকাটি ১১ জনে নামিয়ে আনা হয়। এখান থেকেই একজনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
জাতীয় দল কমিটির সর্বশেষ (১৩ মে) সভার সূত্রমতে, ওয়েলস জাতীয় দলের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান বর্তমানে কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। গ্যারেথ বেলদের মতো তারকাদের সামলানো কোলম্যানের কোচ হিসেবে রিয়াল সোসিয়েদাদ, সান্ডারল্যান্ড ও ফুলহ্যামের মতো ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
কোলম্যানের পাশাপাশি সমানভাবে আলোচনায় আছেন হাঙ্গেরি জাতীয় দলের সাবেক জার্মান কোচ বার্নড স্টর্ক। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ১৪৬টিসহ বুন্দেসলিগায় ১৭০টি ম্যাচ খেলা সাবেক এই ডিফেন্ডার হাঙ্গেরি ও কাজাখস্তানের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন।