৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৬:৩৯ পিএম

টাচলাইন থেকে দাঁড়িয়ে, ইশারা করে, চিৎকার দিয়ে বা কখনও কানে কানে খেলোয়াড়দের পরামর্শ দিচ্ছেন কোচ - ফুটবল মাঠে দৃশ্যটা বেশ চেনা। বলা যায়, চোখ সওয়া হয়ে গেছে ব্যাপারটা। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে? এখানে প্রধান কোচদের ভূমিকাটাই ভিন্ন থাকে বলে তাদের ম্যাচ চলাকালীন দেখা যায় নীরব দর্শক হিসেবেই। তবে এক দুজন ব্যতিক্রম আছেন, যারা নিজেদের কাজটাকে ভালোবেসে এবং নিবেদনের জায়গা থেকে ছুটে যান বাউন্ডারি লাইনে, হয়ে ওঠেন ফুটবল কোচ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বর্ষীয়ান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে আপনার সেই কাতারেই রাখতে হবে।
চট্রগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ম্যাচের তখন মাত্র প্রথম ওভার চলছে। কুমিল্লার ডাগআউট থেকে বাউন্ডারির পাশ দিয়ে অনেকটা পথ হেঁটে হেঁটে আসছিলেন একজন। শুরুতে খেলোয়াড় ভেবেই ভুলটা হয়েছিল, কারণ কে ভাববে যে কোচই এভাবে ছুটে আসছেন। থার্ড ম্যান অঞ্চলের দিকে পজিশন নিয়ে খেলা দেখা শুরু করলেন সেই ব্যক্তি। দাঁড়ানোর স্টাইল থেকে দ্রুতই বোঝা গেল, এই ব্যক্তিটি আসলে আর কেউ নন, তিনি ‘একজন’ সালাউদ্দিন।
আরও পড়ুন: রিজওয়ানের শিক্ষায় ক্রিকেটারদের উন্নতির আশা সালাউদ্দিনের
সালাউদ্দিনকে এভাবে একজন আলাদা করে বলার কারণ আছে অনেকগুলোই, সেই বিস্তারিত আলোচনা তোলা থাক অন্যদিনের জন্য। ফেরা যাক সীমানার বাইরে তীক্ষ্ণ চোখে ম্যাচ পরিদর্শনে নামা সালাউদ্দিনকে। শুরুতে বেশ কিছুটা সময় শুধু দেখলেন। এরপর বের হয়ে এল তার ভেতর লুকিয়ে থাকা ফুটবল কোচ৷
একবার অধিনায়ক লিটন দাসের সাথে কি যেন চোখের ইশারায় বললেন। এরপর একটা ফিল্ডিং পজিশন পরিবর্তন করা হয়। তবে তানভির ইসলাম আক্রমণে আসতেই আরও ব্যস্ত দেখা যায় সালাউদ্দিনকে। এবার তার যোগাযোগ উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের সাথে। অনেকটা সময় হাত দিয়ে এই পাকিস্তান তারকার দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর হাত দিয়ে দেখিয়ে ফিল্ডিং পজিশন পরিবর্তন করার ইশারা করলেন রিজওয়ানকে।

কয়েকবারই সালাউদ্দিনের ডাগআউট আর বাউন্ডারি সীমানায় এভাবে যাওয়া-আসা চলল। একবার পুরোটা সময় দাঁড়িয়ে শুধু খেলাটাই দেখলেন, কোনো খেলোয়াড়ের সাথে যোগাযোগ করেননি। খেলাটা ক্রিকেট বলেই পুরো সময়ে সালাউদ্দিনের এই কর্মকাণ্ড ছিল চোখে পড়ার মত, কারণ এমন নয় যে তার দল খারাপ অবস্থায় ছিল। তাছাড়া ক্রিকেট কোচদের ম্যাচ চলাকালীন খুব বড় কোনো ট্যাকটিকাল বিষয়ে পরিবর্তন আনাটা বেশ কঠিন কাজই বটে।
তবে সালাউদ্দিন ‘একজন’ ঠিক এখানেই। এতগুলো বছর ধরে কোচিং পেশায় থাকার পরও বিপিএলের লিগ পর্যায়ের একটি ম্যাচেও তিনি যেভাবে নিবেদন দেখান, সেটা বিস্ময়করই বটে। কারণ, অনায়াসেই একজন খেলোয়াড়কে পাঠিয়ে বা স্ট্র্যাটেজিক ব্রেকের সময় এই আলোচনা করতেই পারতেন।
তবে সাকিব আল হাসান সহ আরও অসংখ্য ক্রিকেটারদের ‘গুরু’ এখানেই ব্যতিক্রম। তার কাছে এখনও ডিপিএল আর বিপিএলের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, লিগ ম্যাচ আর ফাইনাল ম্যাচও তাই হয়ে ওঠে সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই তাগিদ থেকেই বারবার ম্যাচের মধ্যে মাঠে ছুটে যান সালাউদ্দিন।
আরও পড়ুন: এমপি সাকিবকে নিয়ে আগ্রহ নেই কোচ সালাউদ্দিনের
এর পেছনের কারণটা কি? এই প্রশ্নের উত্তরে সালাউদ্দিন বলেন, “আগে এটা অনেক করতাম, এখন আমাদের ক্যাপ্টেনরা অনেক পরিণত হয়ে গেছে (হাসি)। মাঝে মাঝে তবুও চলে যাই, এটা আসলে উত্তেজনার বশে হয়ে যায়, আমিও তো মানুষ। আমারও তাই উত্তেজনা চলে আসে। মাঝে মাঝে তো আমাদের দুই-একটা ইনফরমেশন দিতে হবে, নাহলে আমাসের কাজ কি বলেন (আবার হাসি)।”
সালাউদ্দিন যে কোচ হিসেবে শুধু এই এক-দুইটা কাজেই সীমাবদ্ধ নন, সেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাথে জড়িত সবাই কমবেশি জানেন বৈকি। আর সাকিব আল হাসানের মত কারো কারো কাছে সালাউদ্দিন তো কোচ ছাপিয়ে খুব কাছের একজন হয়ে উঠেছেন। ক্রিকেটের প্রতি একনিষ্ঠ নিবেদনই সালাউদ্দিনকে সবার মাঝেও অনন্য করে তুলেছে।
আর সালাউদ্দিন যে কাজটাকে সামান্য কাজ বলে হেসে উড়িয়ে দিতে চান, সেই কাজটিই অনেকে এড়িয়ে যান বা বলা ভালো এড়িতে যেতে চাইবেন। ম্যাচের আগে এত এত সময় ধরে কাজ করার পর কজনই বা আবার তার মত বাড়তি তাগিদ অনুভব করে এভাবে মাঠে নেমে পড়বেন। সালাউদ্দিন তাই শুধু খেলোয়াড় নন, কোচদের জন্যও হতে পারেন অনুপ্রেরণার উৎস।
No posts available.
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৬:০৯ পিএম
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৫:১৬ পিএম

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান নির্বাহী কমিটিকে আগামী রবিবারের মধ্যে পদত্যাগ করে নতুন প্রশাসনের জন্য পথ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোর্ডের একজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগে চরমে। বর্তমানে সংস্থাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন চারবারের নির্বাচিত সভাপতি শাম্মি সিলভা।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এসএলসির ওই কর্মকর্তা বলেন,
‘একজন সাবেক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকারের নেতৃত্বে শিগগিরই একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। জনগণের তীব্র অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করে শ্রীলঙ্কা। ঘরের মাঠে খেলা টুর্নামেন্টটিতে শ্রীলঙ্কা সুপার এইট থেকে বিদায় নিলে সমর্থকদের মধ্যে বোর্ডের আমূল পরিবর্তনের জোরালো দাবি ওঠে।

ওপরের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতা সামলে চমৎকার ব্যাটিং করলেন আকবর আলি ও প্রিতম কুমার। দুই ব্যাটারই পেলেন সেঞ্চুরির স্বাদ। অন্য মাঠে আরেক ম্যাচে একই সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেন মুশফিকুর রহিম ও অমিত হাসান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে দ্বিতীয় দিন দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন আকবর ও প্রিতম। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ১৫১ রানে অপরাজিত প্রিতম। আর ১২১ রানে আউট হয়েছেন আকবর।
দুজনের সেঞ্চুরির সৌজন্যে দ্বিতীয় দিন শেষে দক্ষিণাঞ্চলের চেয়ে ৬৫ রানে এগিয়ে উত্তরাঞ্চল। আগে ব্যাট করে ৩১৪ রানে অলআউট হয় দক্ষিণাঞ্চল। আর এখন পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৭৯ রান করেছে উত্তরাঞ্চল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে বিনা উইকেটে ১৬ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে উত্তরাঞ্চল। দিনের শুরুতে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫), সাব্বির হোসেন (১৮) ও ইকবাল হোসেন (৯)।
মাত্র ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন আকবর ও প্রিতম। ম্যারাথন এই জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ২৩৩ রান। দিনের শেষ সেশনে গিয়ে আকবরের বিদায়ে ভাঙে বিশাল এই জুটি।
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরিতে ১৫ চার ও ২ ছক্কায় ১৫৮ বলে ১২১ রান করেন উত্তরাঞ্চলের অধিনায়ক।
আকবর ফিরলেও অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন প্রিতম। তবে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি এসএম মেহেরব হাসান (২) ও তানবীর হায়দার (১৯)। তবে দিনের শেষ দিকে উইকেট পড়তে দেননি প্রিতম ও সানজামুল ইসলাম। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৪৯ রান যোগ করেন তারা।
দিন শেষে ১৬ চার ও ২ ছকায় ১৮৪ বলে ১৫১ রানে অপরাজিত প্রিতম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার পঞ্চম সেঞ্চুরি। সানজামুলের সংগ্রহ ৩৯ বলে ২২ রান।
অমিত-মুশফিকের ফিফটি
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিন শেষে মধ্যাঞ্চলের চেয়ে ৬৪ রানে পিছিয়ে রয়েছে পূর্বাঞ্চল। তবে অমিত ও মুশফিকের ব্যাটে দারুণ অবস্থায় তারা। দ্বিতীয় দিন শেষে পূর্বাঞ্চলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৪৩ রান। এর আগে ৩০৭ রানে অলআউট হয় মধ্যাঞ্চল।
৬ উইকেটে ২৭২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে মধ্যাঞ্চল। দিনের দ্বিতীয় ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন আবু হায়দার রনি। আগের দিন ৯০ রান করা পেস বোলিং অলরাউন্ডার আর এদিন কোনো রান যোগ করতে পারেননি।
তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটার আশিকুর রহমান শিবলিও সম্ভাবনা জাগিয়ে সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ৯ চার ও ১ ছক্কায় ১৮২ বলে ৮৬ রান করে আউট হন তিনি। সব মিলিয়ে এদিন ৩৫ রানের বেশি করতে পারেনি মধ্যাঞ্চল।
পূর্বাঞ্চলের পক্ষে ৫৪ রানে ৪ উইকেট নেন ইবাদত হোসেন চৌধুরি। এছাড়া ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন তোফায়েল আহমেদ।
এরপর ব্যাট করতে নেমে বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি জাকির হাসান (১৩) ও মুমিনুল হক (১৫)। তৃতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন মাহমুদুল হাসান জয় ও অমিত। ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৪ রান করে আউট হন জয়।
এরপর আর উইকেট পড়তে দেননি অমিত ও মুশফিক। দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে যোগ করেছেন ১১৫ রান। দিন শেষে ১৫৭ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত অমিত। আর ৮৩ বলে ৫৯ রানে নতুন দিন শুরু করবেন মুশফিক।

প্রথম দুই ওয়ানডেতে একটি করে জয় বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের। ১-১ সমতায় থাকায় সিরিজ ছড়াচ্ছে রোমাঞ্চ। চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম কাল অঘোষিত ফাইনালে দেখা হচ্ছে মিরাজ-লাথামদের।
তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়াও দারুণ খেলছে নিউ জিল্যান্ড। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে উইলিয়াম ও’রুরকি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিরিজ জয়ই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আজ এই পেসার কিছুটা হুঙ্কারই ছুঁড়লেন, ‘অবশ্যই, আমরা এখানে এসে সিরিজ জিততে চাই এবং বিষয়টি নিয়ে আমরা সবাই বেশ রোমাঞ্চিত। সবাই খুব ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা কাল মাঠে নিজেদের সেরাটা দেব এবং সিরিজ জেতার লক্ষ্যেই নামব।’
সাগরিকার উইকেট ঐতিহ্যগতভাবেই ব্যাটিং সহায়ক। তবে এবার পিচে কিছুটা ঘাসের ছোঁয়া দেখছেন এই কিউই দীর্ঘদেহী পেসার। উইকেট ও আউটফিল্ড প্রসঙ্গে বলেন, ‘মাঠ বেশ শুকনোই মনে হচ্ছে। তবে উইকেটটি দেখে আমার ভালো লেগেছে, মনে হলো বেশ কিছু ঘাস আছে। আশা করি গতি ও বাউন্স দুটোই পাওয়া যাবে। আসল চিত্র কালকেই বোঝা যাবে।’
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে আসা পরিবর্তনের বিষয়টিও নজর কেড়েছে রুরকির। এক সময় স্পিন-নির্ভর থাকলেও বর্তমানে নাহিদ রানার মতো গতির বোলার ও মোস্তাফিজুর রহমানের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ বাংলাদেশের পেস ইউনিট। রুরকি বললেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তারা ভালো মানের পেস উইকেট বানাবে। তাদের বর্তমানে বেশ ভালো কিছু পেসার আছে। গত ম্যাচে রানা খুব ভালো করেছে, মোস্তাফিজের মতো বিশ্বমানের বোলারও সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তাদের পেস আক্রমণ এখন বেশ শক্তিশালী।’
নিউ জিল্যান্ডের এই বর্তমান দলটি বেশ তরুণ, যাদের অনেকেরই বাংলাদেশে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। তবুও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে জয়ের পথ খুঁজছেন তারা। রুরকি বলেন, ‘আমাদের অনেকেরই আগে বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তাই আমরা জানতাম যে প্রতিটা দিন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হবে। কালও আমরা উইকেটের আচরণ দ্রুত বুঝে নিয়ে সেই অনুযায়ী সেরা পরিকল্পনাটি ঠিক করার চেষ্টা করব।’
কিউইদের হুঙ্কারের বিপরীতে বাংলাদেশ দলও প্রস্তুত। প্রথম ওয়ানডে হারলেও দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। ১১ বছর পর আবারও ব্লাকক্যাপস বধের হাতছানি স্বাগতিকদের সামনে।

মাদক গ্রহণের অভিযোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) তদন্তের মুখে রয়েছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নেওয়াজ। এ ঘটনার জেরে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘ভাইটালিটি ব্লাস্টে’ সারের হয়ে তাঁর চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে।
বুধবার ক্রিকেট–বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিসিবি’র একজন মুখপাত্র ক্রিকইনফোকে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নেওয়াজের বিষয়টি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) অবহিত করেছে এবং পিসিবি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল আজই আইসিসিকে জানানো হবে।
বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় করা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে নেওয়াজের। ৩২ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সাতটি ম্যাচেই খেলেছিলেন, যেখানে পাকিস্তান সুপার এইট পর্ব থেকে বিদায় নেয়। আসরে ১৫ রান করার পাশাপাশি সাতটি উইকেট শিকার করেন তিনি।
নেওয়াজ ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব সারেতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। আগামী ২৬ মে থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট’-এ পুরো সময় খেলার কথা ছিল তার। দুই সপ্তাহ আগেই পিসিবি তাকে অনাপত্তিপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছিল এবং চলতি সপ্তাহেই সারেতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের খবর জানানোর পরিকল্পনা করেছিল। শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি বাতিল হয়ে গেছে।
বর্তমানে পিএসএলে মুলতান সুলতানসের হয়ে খেলছেন নেওয়াজ। মঙ্গলবার করাচিতে রাওয়ালপিন্ডি’র বিপক্ষে ছয় উইকেটের জয়ে তিনি তিন ওভার বোলিং করলেও কোনো উইকেট পাননি।

মিরপুরে প্রথম দুই ওয়ানডেতে দেখা গেছে ভিন্ন দুই আচরণের উইকেট। তাই চট্টগ্রামে তৃতীয় ম্যাচ শুরুর আগেও আলোচনার বড় অংশ জুড়ে পিচ। কেমন হবে সাগরিকার উইকেট, সেটি নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। সে বিষয়ে ধারণা দিয়েছেন শন টেইট ও উইল ও'রোক।
প্রথম দুই ম্যাচে একটি করে জিতে সমতা নিয়ে চট্টগ্রামে গেছে বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ড। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে নামবে দুই দল।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে উইকেট নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে কিছুটা রহস্যই রেখে দেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ টেইট।
“উইকেটটা দেখতে ভালোই লাগছে, তবে আসলে কেমন আচরণ করবে সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। সাধারণত চট্টগ্রামের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ সহায়ক হয়। যদিও মাঝে মাঝে বল নিচু হয়ে আসতে পারে।”
“তবে আমি খুব বেশি আগে থেকে উইকেট নিয়ে বিশ্লেষণ করতে চাই না। আমরা ভালো এক জয়ের পর এখানে এসেছি। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সামনে যা আছে, সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই আসল। আমি উইকেট বিশেষজ্ঞ নই, এটা স্বীকার করতেই হবে।”
এমনিতে চট্টগ্রামে বরাবরই মেলে রানের দেখা। ব্যাটারদের জন্য স্বর্গ হিসেবেই পরিচিত সাগরিকার এই মাঠ। টেইট বললেন, ভালোভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে শেষ ম্যাচের উইকেট।
“এখানে স্কয়ারটা বেশ ভালো দেখাচ্ছে। আজ কিউরেটরের সঙ্গে কথা হচ্ছিল- তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে এখানে খুব বেশি খেলা হয়নি। তাই উইকেট ভালোভাবে প্রস্তুত করার সময় ও সুযোগ পেয়েছেন তারা।”
এসময় বাংলাদেশের মাঠের উইকেটের আচরণ নিয়ে রহস্য থাকার বিষয়টি উপভোগ করার কথাও বলেন টেইট।
“আগেও বলছিলাম, চট্টগ্রামে সাধারণত ভালো ব্যাটিং উইকেটই পাওয়া যায়, যদিও কখনো কখনো বল নিচু হয়। কিন্তু গত এক বছরে এখানে যত উইকেট দেখেছি, তার মধ্যে এটাকে সবচেয়ে ভালো মনে হচ্ছে। কাল ম্যাচে আসল চিত্রটা বোঝা যাবে।”
“বাংলাদেশে একটা জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি, এখানকার উইকেট বোঝা সত্যিই কঠিন, বিশেষ করে মিরপুরে। যেমন প্রথম ম্যাচ আর দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট একেবারেই আলাদা ছিল। হয়তো এটাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সৌন্দর্য।”
টেইটের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন নিউ জিল্যান্ডের পেসার উইল ও'রোক। উইকেট ও আউটফিল্ড দেখে তার ধারণা, ঘাস থাকায় সব মিলিয়ে ভালো হবে উইকেট।
“আউটফিল্ড একটু শুষ্ক মনে হচ্ছে, হয়তো দ্রুতগতির হবে। বল ফিল্ডার পেরিয়ে গেলে দ্রুত বাউন্ডারিতে পৌঁছে যেতে পারে। উইকেট কিছুটা ঘাস দেখা যাচ্ছে, তাই আশা করছি একটু পেস আর বাউন্স থাকবে। কালই আসলে বোঝা যাবে। আমরা আমাদের ফিল্ডিং নিয়ে গর্ব করি। আগামীকাল সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার চেষ্টা করব।”