
বিশ্বকাপের পর আর বোলিং করতে দেখা যায়নি পেসার তাসকিন আহমেদকে। ইনজুরির কারণে প্রায় চার সপ্তাহের বিশ্রামে ছিলেন এই পেসার। তবে ইনজুরি কাটিয়ে আবারো বোলিং করতে শুরু করেছেন তাসকিন। আজ মিরপুরের অ্যাকাডেমি মাঠে ছোট রান আপে বোলিং করতে দেখা যায় এই পেসারকে।
দুরন্ত ফর্ম নিয়েই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলেন তাসকিন। তবে বিশ্বকাপটা ভালো কাটেনি এই পেসারের। সাত ম্যাচ খেলে উইকেট পেয়েছেন মোটে ৫ টা। ওভারপ্রতি রান খরচ করেছেন পাঁচেরও বেশি।
আরও পড়ুনঃ আবারও কেকেআরের ক্যাপ্টেন হিসেবে ফিরলেন শ্রেয়াস
কাঁধের ইনজুরি নিয়েই খেলে যাচ্ছিলেন বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো। বিশ্বকাপ শেষে প্রায় এক মাস কেটে গেলেও বোলিং করতে দেখা যায়নি এই পেসারকে। তবে এবার হোম অব ক্রিকেটে আবারো ছোট রান আপে বোলিং শুরু করেছেন তাসকিন আহমেদ।
অ্যাকাডেমি মাঠে ঢুকে গা গরম করে নেন এই পেসার। এরপর সেন্ট্রাল উইকেটে বোলিং করতে দেখা যায় তাসকিনকে। সেই সময় তাঁর সাথে খালেদ মাহমুদ সুজনকেও দেখা যায়।
No posts available.

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের টিকিটের দাম কমাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা হলেও, সামনের দুই টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ টাকায় দেখা যাবে খেলা।
এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামে হতে যাওয়া দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টিকিটের মূল্য প্রকাশ করেছে বিসিবি।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ২৭ ও ২৯ এপ্রিল হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ। দুপুর ২টায় শুরু হবে খেলা।
ম্যাচ দুইটি মাঠে বসে দেখার জন্য সর্বনিম্ন দিতে হবে ১৫০ টাকা। পূর্ব গ্যালারির টিকিটের মূল্য এটি। এছাড়া পশ্চিম গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার জন্য গুনতে হবে ২৫০ টাকা।
ছাউনিসহ শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড ও শহীদ শ্রাবণ স্ট্যান্ডের টিকেটের মূল্য ৫০০ টাকা। এছাড়া গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড এবং প্যাভিলিয়নের ওপরে ছাদে বসে খেলা দেখার টিকিটের মূল্য ১ হাজার ৫০০ টাকা।
বিসিবির টিকিটিং ওয়েবসাইট (www.gobcbticket.com.bd) থেকে কেনা যাবে টিকিট।
মিরপুরে আগামী ২ মে হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ। ওই ম্যাচের টিকিটের ব্যাপারে তথ্য পরে জানাবে বিসিবি।

আইপিএলের সাবেক প্রধান ললিত মোদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) ‘হৃদয়হীন’ আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। মোদি অভিযোগ, বিসিসিআই ক্রিকেটারদের সঙ্গে ‘খচ্চরের’ মতো আচরণ করছে এবং ঠাসা সূচির চাপে তাদের রীতিমতো মেরেই ফেলছে।
বিসিসিআই এখন খেলোয়াড়দের কল্যাণের চেয়ে টাকার পাহাড় গড়া আর বাণিজ্যিক স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে বলে দাবি করেন ললিত মোদি। মূলত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় মোদি এই মন্তব্য করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন একমাত্র টেস্টের আগে দলের ব্যস্ত সূচি নিয়ে বর্তমান প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ভীষণ অসন্তুষ্ট।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গম্ভীরের দুশ্চিন্তার কারণ—আগামী ৩১ মে আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনাল। অনেক ভারতীয় ক্রিকেটার সেই ফাইনালে খেলবেন, যাদের আইপিএল শেষ হওয়ার পরপরই জাতীয় দলে যোগ দিতে হবে।
আরও পড়ুন
| ১৯ ইনিংস ও ৯১৭ দিন পর লিটনের ফিফটি |
|
আগামী ৬ জুন থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেট খেলবে ভারত। ঘরোয়া কন্ডিশনে তাদের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স খুব একটা সুবিধাজনক না হওয়া সত্ত্বেও, মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রামের অভাবে নির্বাচক কমিটিকে হয়তো বিকল্প বা রিজার্ভ খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজাতে হতে পারে।
প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় মোদি বলেন, লাগামহীন সূচি দিয়ে বিসিসিআই ভারতীয় ক্রিকেটারদের ‘মেরে ফেলছে’ এবং তাদের সঙ্গে ‘খচ্চরের’ মতো আচরণ করছে, ‘ঠাসা সূচির চাপে বিসিসিআই তার খেলোয়াড়দের শেষ করে দিচ্ছে। বিসিসিআই কর্তারা, দয়া করে ছেলেদের ওপর এই অমানবিক সূচি চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ করুন। তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। আপনাদের আর বাড়তি টাকার কোনো দরকার নেই।’
মোদি আরও যোগ করেন, বোর্ডের উচিত আর্থিক চিন্তার চেয়ে খেলোয়াড়দের কল্যাণে বেশি নজর দেওয়া। তাঁর দাবি, আইপিএল ইতিমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রেখেছে।
বোর্ড কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে আইপিএলের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি এমন এক আয়ের উৎস তৈরি করে দিয়েছি যা সারা বিশ্ব হিংসে করে। ওই চেয়ারগুলোতে বসে আপনাদের টাকা নিয়ে কোনোদিন চিন্তাই করতে হবে না। দোহাই আপনাদের, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অন্তত গঠনমূলক বা ভালো কিছুর কথা ভাবুন। খেলোয়াড়দের কল্যাণই সবার আগে হওয়া উচিত। তাদের ওভারওয়ার্ক বা অতিরিক্ত খাটিয়ে মারবেন না।’
এর আগে ভারত টেস্ট দলের অধিনায়ক শুভমান গিলও ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে মাঠে নামার আগে প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে কথা বলেছিলেন। তাঁর মতে, যেকোনো টেস্ট সিরিজ শুরু করার আগে অন্তত দুই সপ্তাহের একটি কন্ডিশনিং ক্যাম্প করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
| আবার চট্টগ্রাম, আবার শান্তর সেঞ্চুরি |
|
আধুনিক ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ওপর কাজের চাপ বা 'ওয়ার্কলোড' এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আইপিএলের মতো ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের পরিধি ক্রমেই বড় হওয়া এবং জাতীয় দলের ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচি দম ফেলার সময় দিচ্ছে না ক্রিকেটারদের। ক্রিকেটাররা যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের তীব্র উত্তেজনা আর ধকল কাটিয়ে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিতে যান, তখন ক্লান্তি, চোট এবং লাল বলের প্রস্তুতির অভাব—এসব সমস্যা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারত প্রায়ই বিদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে, বিশেষ করে সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে দ্বিতীয় বা এমনকি তৃতীয় সারির দল পাঠিয়েছে। কিন্তু ঘরের মাঠে টেস্ট ম্যাচে ভারত এমন ঝুঁকি নেওয়ার বিলাসিতা দেখাতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

চট্টগ্রামে ফেরার অপেক্ষাই যেন করছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রায় ২৩ মাস পর সাগরিকার এই মাঠে ওয়ানডে খেলতে নেমে আবারও সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে গেলেন বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক। তার ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথে ছুটছে বাংলাদেশ।
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১১৪ বলে সেঞ্চুরি করেছেন শান্ত। ওয়ানডেতে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি।
এই সংস্করণে এর আগে সবশেষ সেঞ্চুরিটিও চট্টগ্রামের মাঠেই করেছিলেন শান্ত। ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ১৩ চার ও ২ ছক্কায় সেদিন ১২৯ বলে করেছিলেন ১২২ রান।
ওই সিরিজের পর আর চট্টগ্রামে ওয়ানডে খেলেনি বাংলাদেশ। মাঝের এই ২৩ মাসে আর সেঞ্চুরিও করা হয়নি শান্তর। অবশেষে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটিতেই সেই ২০ ইনিংস পর সেই অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটালেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটার।
আরও পড়ুন
| এবার টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, ফিরলেন মোস্তাফিজ |
|
চট্টগ্রামের তপ্ত রোদে দুই ওপেনারের ব্যর্থতায় তৃতীয় ওভারে ক্রিজে যেতে হয় শান্তর। এরপর থেকে এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। লিটন কুমার দাসের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে গড়েন ১৬০ রানের জুটি।
লিটন ৭৬ রান করে ফিরলেও কোনো ভুল করেননি শান্ত। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক।
শুরু থেকে রয়েসয়ে ব্যাটিং করা শান্ত ফিফটি করেন ৭০ বলে। এরপর রানের গতি বাড়িয়ে পরের পঞ্চাশ রান করতে তিনি খেলেন ৪৪ বল। সব মিলিয়ে চতুর্থ সেঞ্চুরি করে অবশ্য আর টিকতে পারেননি।
জেডেন লেনক্সের করা ৪৩তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অন সীমানায় ধরা পড়েন শান্ত। ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১১৯ বলে খেলেন ১০৫ রানের ইনিংস।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২২১ রান। তাওহিদ হৃদয় ১৫ রানে অপরাজিত। নতুন ব্যাটার মেহেদী হাসান মিরাজ।

রানের দেখা পেয়েছিলেন প্রথম ম্যাচেও। এমনকি পাকিস্তান সিরিজেও পরপর দুই ম্যাচে খেলেছিলেন চল্লিশ ছাড়ানো ইনিংস। কিন্তু কোনোভাবেই ফিফটি করতে পারছিলেন না লিটন কুমার দাস। অবশেষে সেই অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটালেন অভিজ্ঞ ব্যাটার।
চট্টগ্রামে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন লিটন। ৭১ বলে ২ চারে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে পৌঁছান ৩১ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ১৯ ইনিংস ও ৯১৭ দিনের অপেক্ষার পর আবার ফিফটির দেখা পেলেন লিটন। এর আগে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৮২ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন
| ৩ বলে ৪ উইকেট: ১৪৯ কিমি গতিতে বিরল হ্যাটট্রিক পিএসএলে |
|
সেই ম্যাচের পর রীতিমতো অফফর্মে ঢুকে যান লিটন। মাঝে টানা ৯ ইনিংসে দুই অঙ্কও ছুঁতে পারেননি তিনি। যে কারণে একাধিকবার ওয়ানডে দল থেকেও বাদ পড়েন স্টাইলিশ এই ব্যাটার। অবশেষে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ নম্বরে নেমে পঞ্চাশে পৌঁছালেন তিনি।
১০১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে লিটনের এটি ১৩তম ফিফটি। এর সঙ্গে ৫টি সেঞ্চুরিও করেছেন তিনি।
লিটনের আগে টানা দ্বিতীয় ফিফটি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ পাঁচ ম্যাচে শান্তর এটি চতুর্থ ফিফটি। সব মিলিয়ে ১২তম ফিফটি করলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬৬ রান। শান্ত ৮৮ ও লিটন ৫৪ রানে অপরাজিত। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির সংগ্রহ ১৫৩ বলে ১৩৪ রান।

বৈভব সূর্যবংশীকে দেখলে মনে হবে বেশ শক্তিশালী এবং বিশালদেহী এক ক্রিকেটার, যাঁর কব্জিতে এখনই এলিট লেভেলের পাওয়ার আর ছক্কা মারার সহজাত ক্ষমতা আছে। বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের তুলোধুনো করতে সিদ্ধহস্ত এই ব্যাটারের পরিণত ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ব্যাট হাতে এমন পরিণত সূর্যবংশীর বয়সটা যে মাত্র ১৫ সেটাই ভুলে বসতে হয় মাঝেমধ্যে। তবে এই বিস্ময়বালকের আচরণ আর কথা শুনলে ঠিকই বোঝা যায়, দিনশেষে একজন কিশোরই রয়ে গেছেন মারকুটে এই ব্যাটার।
এবারের আইপিএলের নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা এবং কার্যকরী ব্যাটার হলেন বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিং অর্ডারের একদম শুরুতে নেমে তিনি যা করছেন, তার সবটাই কিন্তু ১৫ বছর বয়সে পা দেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে!
সবশেষ গতকাল অবশ্য লাক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ৮ রানে শেষ হয়ে যায় বৈভাব সূর্যবংশীর ইনিংস। তাতেই আইপিএলের একটি রেকর্ডের মালিক বনে গেলেন। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বলে পাঁচশ রান করার কীর্তি গড়লেন তিনি।
ছোট্ট এই ইনিংসটির পথে আইপিএলে পাঁচশ রান পূর্ণ করেন সুরিয়াভানশি। পাঁচশর ঠিকানায় পা দিতে তার লাগল ২২৭ বল। অস্ট্রেলিয়ান বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের লেগেছিল ২৬০ বল। আর ভারতীয় ব্যাটসম্যান প্রিয়ানশ আরিয়া ২৭৮ বলে করেন পাঁচশ রান।
আইপিএল অভিযানের প্রথমার্ধে রাজস্থান রয়্যালসের ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পাওয়ার পেছনে সূর্যবংশীর রানের বড় অবদান রয়েছে। প্লে-অফের দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে তাঁর দল।
লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে লো-স্কোরিং ম্যাচে সূর্যবংশীর ব্যাট কথা বললেও ঠিকই জয় পেয়েছে তাঁর দল। ম্যাচের পর এমন সূর্যবংশীকে দেখা গেল, যেমনটা দেখে অভ্যস্ত নয় কেউই। ভারতের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ ক্রিকেটার হওয়ার লক্ষ্য থাকলেও, তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভেতরের শিশুসুলভ স্বভাবটা এখনও একদম আগের মতোই আছে। এই বয়সের অন্য দশটা কিশোর যা করে আনন্দ পায়, তিনিও সেগুলো করতে এখনও একইভাবে ভালোবাসেন।
মাঠের সেই সাক্ষাৎকারে সূর্যবংশী হাসিমুখে বলেন, ‘মাথায় আসলে বিশেষ কিছু ঘোরে না স্যার। আজও আমি ম্যাচের আগে কার্টুন দেখেছি, ওটাই আমার পুরনো অভ্যাস। তবে কার্টুন দেখলেও ফোকাসটা কিন্তু ঠিকই খেলার মধ্যে থাকে।’
বৈভব সূর্যবংশীকে অনেক সময় কোনো শিশুতোষ কার্টুনের নায়কের মতোই মনে হয়। যাঁর আছে অবিশ্বাস্য শক্তি আর কেবল মজার ছলেই যে একের পর এক ছক্কা হাঁকাতে পারেন—অন্তত তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুটা সেকথাই বলছে। আইপিএল ২০২৬-এ এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২৫৪ রান। যদিও সাম্প্রতিক কয়েকটা ম্যাচে রান কিছুটা কম এসেছে, তবুও রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি এখনও ওপরের দিকেই আছেন।
মাঠে নামলেই রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দেওয়া সূর্যবংশী ও তাঁর সতীর্থদের মূল লক্ষ্য এখন বর্তমানে। একমাত্র উদ্দেশ্য ২০০৮ সালের পর রাজস্থান রয়্যালকে তাদের প্রথম আইপিএল শিরোপা এনে দেওয়া। নিজের চেয়ে অনেক বেশি বয়সী সতীর্থদের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়ে সূর্যবংশী বলেন, ‘সবার পরিকল্পনা একটাই—পরের ম্যাচে আরও ভালো করা। আজ আমরা মাঠে নেমেছি এবং ২ পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছি। আমাদের লক্ষ্য এখন প্লে-অফের দিকে এগিয়ে যাওয়া।’