
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথমবারের মত নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পেয়েছিলেন সৌম্য সরকার। সেই বিশ্বকাপে এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রথম অর্ধশতকের দেখা পেয়েছিলেন তিনি। বড় মঞ্চে সেই প্রথমবার নিজেকে চিনিয়েছিলেন সৌম্য।
এরপর দেশে ফিরেও সেই ফর্ম ধরে রেখেছিলেন এই ব্যাটার। তামিম ইকবালের যোগ্য সঙ্গী পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। এমন একটা বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে। তবে সেই সুর পালটে যেতেও সময় লাগেনি। যে আলো ২০১৫ সালে সৌম্য ছড়িয়েছিলেন তাঁর ছিটেফোঁটাও আর কখনো দেখা যায়নি তাঁর ব্যাটে।
তবুও বাংলাদেশ দল, টিম ম্যানেজম্যান্ট বারবার ভরসা রাখতে চেয়েছে এই ব্যাটের ওপর। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে তাঁর মত ব্যাটারের কাছ থেকে প্রত্যাশাটা ছিল অনেক। তবে সৌম্য সরকার বিনিময়ে হতাশাই দিয়েছেন বেশি।
ওয়ানডে ফরম্যাটে সৌম্য নিজের শেষ অর্ধশতকের দেখা পেয়েছিলেন ২০১৯ সালে। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে। তবুও সময়ে-অসময়ে এই ব্যাটারের ওপর ভরসা রাখতে চেয়েছে বাংলাদেশ দল। এর মাঝেও নয়টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি কখনোই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেও ফিরেছিলেন শূন্য করেই। এরপর তাঁর একাদশে থাকা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে হেড কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহেকেও।
বাংলাদেশ দল আরো একবার সৌম্যের ওপর বিশ্বাস রাখলো। দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশেও জায়গা করে নিলেন তিনি। ওপেন করতে নেমে এই ম্যাচে শুরু থেকেই বেশ আগ্রাসী সৌম্য। অন্যপ্রান্তে বাকিরা নিজেদের উইকেটের মূল্য দিতে পারেননি। আরেকপ্রান্তে সৌম্য ছিলেন অবিচল।
নিজেকে ফিরে পাবার যে মঞ্চটা তৈরি হয়েছে সেটার পুরো মূল্যই তিনি দিতে চাইলেন। সেই নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই আরেকবার নতুন করে চেনালেন নিজেকে। যে ক্যারিয়ারটা প্রায় হারিয়েই ফেলেছিলেন, সেই ক্যারিয়ারের যেন পুনর্জন্ম হলো সেই নিউজিল্যান্ডেই।
সৌম্য আরেকবার নিজেকে ফিরে পেলেন সেই ২০১৫ সালের মত করে। প্রত্যাবর্তনের এমন দিনটা রাঙিয়ে রাখতে তাঁকে ছুঁতে হতো তিন অংকের ম্যাজিক্যাল ফিগারটা। যেটা তিনি শেষবার করতে পেরেছিলেন ২০১৮ সালে। পাঁচ বছর আগে।
নিজের অস্তিত্ব নতুন করে জানান দেয়ার জন্য সৌম্য আরেকবার ঠিক সেটাই করলেন। সেঞ্চুরি করলেন, বাতাসে একটা উড়ন্ত ঘুষি মারলেন, এরপর হেলমেটটা খুলে একটা স্মিত হাসি। এই দিনটার অপেক্ষাতেই তো সৌম্য ছিলেন। এই সৌম্যের অপেক্ষাতেই তো বাংলাদেশ ছিল।
No posts available.

লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে ‘আইকন’ খেলোয়াড়দের জন্য অন্যরকম এক শর্ত চালু করার ঘোষণা দিয়েছিল লঙ্কান ক্রিকেট (এসএলসি)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী টপ টায়ার আইকন ক্যাটাগরির জন্য আবেদন করতে খেলোয়াড়দের অন্তত ৭৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে হবে ১০০টির বেশি। শেষ ১৮ মাসে ন্যূনতম ৩০ ম্যাচ খেলতে হবে। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে থাকতে হবে আড়াই লাখের বেশি ফলোয়ার। শেষের এই নিয়ম নিয়েই যত আলোচনা।
তুমুল বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত ‘অদ্ভুত’ এই নিয়ম তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। নিউজওয়্যার-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ মে প্রকাশিত এলপিএলের ষষ্ঠ আসরের খেলোয়াড় নিবন্ধন ও ড্রাফট গাইডের সংশোধিত সংস্করণে এই শর্তটি আর রাখা হয়নি। এর আগে নিয়ম করা হয়েছিল যে, আইকন ও স্টার ক্যাটাগরিতে নাম লেখাতে হলে খেলোয়াড়দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্যই আড়াই লক্ষাধিক ফলোয়ার থাকতে হবে।
আগামী ১০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে শীর্ষস্তরের ‘আইকন’ ক্যাটাগরিতে জায়গা পেতে বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই যথেষ্ট ছিল না। আগের নিয়ম অনুযায়ী, তাদের অন্তত ৭৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বা ১০০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা থাকার পাশাপাশি গত ১৮ মাসে অন্তত ৩০টি ম্যাচে মাঠে নামার বাধ্যবাধকতা ছিল। এর সঙ্গে বাড়তি যোগ করা হয়েছিল আড়াই লক্ষ ফলোয়ার থাকার সেই বিতর্কিত শর্তটি।
সংশোধিত নীতিমালায় সামাজিক মাধ্যমে ফলোয়ারের বিষয়টি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে; যদিও আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক ম্যাচ খেলার মতো ক্রিকেটীয় যোগ্যতার শর্তগুলো আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এই বিতর্কিত পদক্ষেপটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচকরা বলছেন, একদিকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার কমিয়ে খেলায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেয়, অন্যদিকে এলপিএল-এর নিয়মাবলীতে অনলাইন জনপ্রিয়তা বা ফলোয়ার সংখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—যা চরম দ্বিচারিতা।
সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের দাবি ছিল, শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা উচিত তাদের ক্রিকেটীয় মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে, ডিজিটাল জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে নয়।
ফলোয়ারের সংখ্যার শর্তটি শেষ পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়া হলেও, সংশোধিত নীতিমালায় প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের ওপর বেশ জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকা, ফ্যান এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম এবং টুর্নামেন্টের বিভিন্ন প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা।

আধুনিক ক্রিকেটে যখন গতির ঝড় তোলা পেসারদের জয়জয়কার, তখন মিরপুরের উইকেটে একদম ভিন্ন এক চিত্রনাট্য লিখেছেন মোহাম্মদ আব্বাস। এই ম্যাচে খেলা সব পেসারের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে ধীরগতির বোলার হয়েও আব্বাস প্রমাণ করলেন, লাইন আর লেন্থের নিখুঁত মিশ্রণ থাকলে গতির অভাব কোনো বাধা নয়। যেখানে বাংলাদেশের বোলাররা গতির চক্করে পড়ে লাইন-লেন্থ হারিয়েছেন, সেখানে আব্বাস দেখালেন চমক।
মিরপুরে প্রথম ইনিংসে আব্বাসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪১৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। পাঁচ উইকেট নেন ডানহাতি পেসার। বাংলাদেশের পেসাররা তেমন সুবিধা করতে না পারলেও, অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই নাকি সফল আব্বাস।
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইমাম-উল-হক আব্বাসের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন,
‘সবাই জানে সে কতটা দক্ষ এবং আপনি যখন প্রচুর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন, তখন সেটি সত্যিই সাহায্য করে।’
মিরপুরের ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে গতির ঝড়ের চেয়েও নিখুঁত লাইন-লেন্থের কার্যকারিতা যে বেশি হবে, তা পাকিস্তানের গেমপ্ল্যানে আগে থেকেই ঠিক করা ছিল বলছেন ইমাম,
‘সে প্রচুর কাউন্টি ক্রিকেট এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা জানতাম যে উইকেট এমন (সহায়ক) হবে। আর সেই কারণেই আব্বাস খেলতে আসে এবং দলের জন্য তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার খুব বেশি গতি না থাকলেও কিছু যায় আসে না; যখন কন্ডিশন অনুকূলে থাকে এবং আপনি জানেন যে সেখানে ল্যাটেরাল মুভমেন্ট পাওয়া যাবে, তখন আব্বাস খুব ভালো বোলিং করে।’
পিচে প্রচুর ঘাস আছে তবে পিচের ভেতরটা আসলে বেশ শুষ্ক, প্রথমদিন এমনটাই বলেছিলেন আব্বাস। পিচের এই শুষ্কতা কি বাংলাদেশের পেসারদের ‘এক্সপ্রেস পেস’ মোকাবিলা করে শট খেলা সহজ করে দিয়েছে? এমন প্রশ্নে ইমাম বলেন,
‘আপনি তা বলতে পারেন, কারণ স্কোরবোর্ডই তা বলছে। পিচে প্রচুর ঘাস থাকলেও এটি ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। শুরুতে ব্যাটিং করা কঠিন, তবে আপনি যখন ২০ থেকে ৩০ রান করে ফেলবেন, তখন এটি সহজ হয়ে যায়। আব্বাস ঠিকই বলেছিলেন, তবে তারা (বাংলাদেশ) ভালো বোলিং করেছে এবং আমার মনে হয় আমরা যথেষ্ট ভাগ্যবান ছিলাম যে প্রতি এক বা দুই ওভার পরপর আমরা বাউন্ডারি পাচ্ছিলাম। এটি নবাগত ব্যাটসম্যানের জন্যও ভালো ছিল যে রানখরা নিয়ে তাকে খুব বেশি চাপে থাকতে হয়নি। আমাদের ব্যাটিং দেখলে বুঝবেন যে বাউন্ডারি বল আসছিল এবং আমার মনে হয় আজ আমরা ভাগ্যবান ছিলাম।’
পাকিস্তানের অভিষিক্ত ব্যাটার আজান আওয়াইসের ভূয়সী প্রশংসা করেন ইমাম। ১২ চারে ১৩৩ বলে ৮৫ রানে অপরাজিত আছেন বাঁহাতি ব্যাটার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিয়মিত রান পাওয়া এই ব্যাটারকে নিয়ে ইমাম বলেন, ‘আপনি যদি লাল বলের ক্রিকেট এবং ঘরোয়া ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেন (যদি আমি ভুল না করি সে ৩৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছে এবং ১০টি সেঞ্চুরি করেছে)—তার রেকর্ডই সব বলে দেয়। ল্যাটেরাল মুভমেন্ট এবং ভালো গতির বিপক্ষে চাপের মুখে সে যেভাবে ব্যাটিং করছে, ছেলেটি সত্যিই তার ধৈর্য ধরে রেখেছে। সে যেভাবে ব্যাটিং করেছে, সব চাপ শুষে নিয়েছে; এটি আসলে তখনই সম্ভব যখন আপনি প্রচুর ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেন। তাদের দুজনকে এত ভালো খেলতে দেখে আমি খুব খুশি।
দ্বিতীয় দিন শেষে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। দিনটা পুরোপুরি নিজেদের হলেও ইমামের মতে তৃতীয় দিনেই এই টেস্টের মোড় ঘুরে যেতে পারে,
‘প্রতিপক্ষকে ১০০ রানের নিচে অলআউট করে দেওয়া এবং আমাদের ১৭০ রানে ১ উইকেট থাকা—বলাই যায় আমরা সবকটি সেশন জিতেছি। তবে অবশ্যই আরও তিন দিন বাকি আছে এবং এটাই টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য; এটি খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়। আপনাকে খুব ধৈর্যশীল হতে হবে এবং আমি আগেও বলেছি, আগামীকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন যা নির্ধারণ করবে টেস্ট ম্যাচটি কোন দিকে যাচ্ছে।’

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানও দারুণ ব্যাটিং করছে। ওপেনার ইমাম উল হক (৪৫) ফিফটির কাছে গিয়ে ফিরলেও অভিষিক্ত আজান আওয়াইজ (৮৫) পৌঁছে গেছেন সেঞ্চুরির কাছে। টেস্টে অভিষেকে আব্দুল্লাহ ফজলও (৩৭) বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৭৯।
বাংলাদেশ এখনো এগিয়ে ২৩৪ রানে। তারপরও সফরকারী ব্যাটারদের দাপট এবং স্বাগতিক বোলারদের ছন্দহীনতা কিছুটা অস্বস্তিতে স্বাগতিকেরা। আগামী তিন দিন ম্যাচের গতিপথ কোন দিকে যাবে?
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন জানালেন, ম্যাচে সুফল পেতে হলে পেসারদের অভিজ্ঞতার ওপরই নির্ভর করতে হবে দলকে। বললেন,
‘এই উইকেটে আমার কাছে মনে হয়, বোলারদের জন্য অনেক কিছু করার আছে, বিশেষ করে ফাস্ট বোলারদের। আজকে আমরা যেহেতু একটা সেশন ভালো বল করিনি, এটা ভিজিবল। সবাই বুঝতে পেরেছে, আমরা ভালো বল করিনি। এটা শুধরানোটা খুব সম্ভব। এটা খুব তাড়াতাড়ি করতে হবে কারণ আমাদের ফাস্ট বোলাররা সবসময় আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে এবং তারা এক্সপেরিয়েন্সড। আমার মনে হয় তারা কালকে ভালো করবে।’
আরও পড়ুন
| দুটি ক্যাচ ড্রপে অতৃপ্তির দিন |
|
পাকিস্তানের একাদশে সাতজনই বাঁহাতি ব্যাটার। এমন পরিস্থিতিতে দুজন অফ স্পিনার খেলানোর প্রয়োজনীয়তা বা টিম মিটিংয়ের আলোচনা হয়েছে কি না। এ প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দীন কিছুটা কৌশলী উত্তর দেন। তিনি জানান, সরাসরি দল নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা না থাকলেও তিনি তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সকে বড় করে দেখছেন।
সালাহ উদ্দিন বলেন,
‘আমি সাধারণত দল নির্বাচনে থাকি না। তারপরও আমার কাছে মনে হয় বিশেষ করে নিচে এই ডানহাতি-বাঁহাতি চিন্তার করার চেয়ে—ওরা তো ওপরের তিনজন বাঁহাতি। খুব বেশি অসুবিধা হয়েছে? যে ভালো সে সব জায়গায়ই ভালো। আমার মনে হয়, আমরা ভালো জায়গায় বল করলেই উইকেট পাব। আমরা যদি আজকে বোলিংটা আরেকটু ভালো জায়গায় করতে পারতাম, তাহলে ভালো হতো।’
দ্বিতীয় দিনে মেহেদী হাসান মিরাজের কিছু বল নিচু হতে দেখা গেলেও সালাহ উদ্দীন মনে করছেন না যে এখনই স্পিনাররা ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বল এখনো সেভাবে ঘুরছে না, বরং সরাসরি ব্যাটে আসছে। মাঝে মাঝে দুই একটি বল নিচু হলেও তা পুরো ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেওয়ার মতো নয়।
আরও পড়ুন
| জন্মদিনে শতকের সামনে মুশফিক, বাধা শুধুই আব্বাস |
|
সালাহ উদ্দীন বললেন,
‘খেলা তো আরও তিন দিন বাকি আছে। আর এখনো তারা মোটামুটি অনেক খানি পিছিয়ে আছে। আমার মনে হয়, এখানে স্পিনারদের খুব বেশি কিছু করার নাই। বল এখনো ঘুরছে না। বল শুধু সোজাসুজি ব্যাটে আসছে। হয়তো মাঝে মাঝে দু-একটা নিচু আসতে পারে, কিন্তু সেটা পুরা ম্যাচের সিনারিও না। সিনারিওটা হচ্ছে আমরা একটু ভালো জায়গায় বল করি ফাস্ট বোলারদের যেন ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো ওভার আমরা ভালো বল করতে পারি তখন হয়তো আমাদের উইকেট পাওয়ার চান্স বেশি থাকবে।’
মিরপুর টেস্টের বাকি তিন দিনে পাকিস্তানকে কতটা চাপে ফেলতে পারে বাংলাদেশ, তা অনেকটাই নির্ভর করছে সালাহ উদ্দীনের শিষ্যদের আগামীকালের লাইন ও লেংথ নিয়ন্ত্রণের ওপর। বিশেষ করে প্রথম সেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে পেসারদের।

টেস্ট সিরিজ পূর্ব সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ইনিংসে ৪শ' টার্গেটের কথা উল্লেখ করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সে লক্ষ্য পূরণের আভাস দিয়েছে শান্ত এন্ড কোম্পানী প্রথম দিনে ৩০১/৪ স্কোর তুলে। অবশিষ্ট দায়িত্বটা পালন করেছে ৫ম এবং ১০ম উইকেট জুটি। তাতেই মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৪১৩/১০ স্কোর করেছে বাংলাদেশ।
ওভারপ্রতি ৩.৫২ হারে রান তোলা বাংলাদেশের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ৫৩৮ মিনিট। দ্বিতীয় দিনে ১৬৮ মিনিট ব্যাটিংয়ে শেষ ৬ জুটি যোগ করেছে ১১২ রান। যার মধ্যে তাসকিন-নাহিদ রানার শেষ পার্টনারশিপের অবদান ৩৪ মিনিটে ৩৯! তবে প্রথম ইনিংসে ৪১৩/১০ স্কোর করেও দ্বিতীয় দিন শেষে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারছে না বাংলাদেশ দল।
মিরপুর টেস্টে প্রথমে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ৪শ প্লাস স্কোরের সংখ্যা বাংলাদেশের খুব বেশি না। চলমান টেস্টের আগে এমন দৃষ্টান্ত ৪বার করতে পেরেছে বাংলাদেশ। সেই চারটি ইনিংসের ম্যাচের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের অতীত আছে বাংলাদেশের। ১৬ বছর আগে এই ভেন্যুতে প্রথমে ব্যাট করে ৪১৯ স্কোর করেও কিন্তু ইংল্যান্ডের কাছে ৯ উইকেটে দুঃসহ স্মৃতি আছে বাংলাদেশ দলের। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ স্কোয়াডের দুই ক্রিকেটারের একজন মুশফিকুর রহিম এই ম্যাচে আছেন মাঠে, অন্যজন তামিম ইকবাল এখন বিসিবি বস। বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দেখছেন প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে। বড় স্কোরের পরও স্লিপে দুটি ক্যাচ ড্রপে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান কীভাবে লড়াইয়ে ফিরছে, তা উপলব্ধি করছেন।
দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের স্কোর ১৭৯/১। পিছিয়ে আছে তারা ২৩৪ রানে। টেস্ট অভিষেক ইনিংসে সেঞ্চুরি থেকে ১৫ রান দূরে এখন বাঁ হাতি ওপেনার আজান ওয়াইজ (১৩৩ বলে ১২ বাউন্ডারিতে ৮৫)। আর এক ডেব্যুটেন্ট আবদুল্লাহ ফজল আছেন ৩৭ রানে ব্যাটিংয়ে।
মিরপুর স্টেডিয়ামের পিচে দ্বিতীয় দিনে ধরেনি ফাটল। বরং কড়া রোদে পিচ শুকিয়ে স্বাভাবিক ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান টপ অর্ডারদের করছে অনুপ্রানিত। নাহিদ রানার মতো একজন গতির বোলার টিমে আছেন, তাতেই উদ্বুদ্ধ পেসার এবাদত ঘন্টায় ১৪৩ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন! নাহিদ রানার প্রথম ডেলিভারিটি ছিল বাউন্সি। সেই বলে পুল করতে যেয়ে হেলমেটের গ্রিলে বলের আঘাত এতোটাই ছিল যে, মাঠের মধ্যে আজান ওয়াইজের প্রাথমিক চিকিৎসায় লেগেছে ৪ মিনিট। নাহিদ রানার দ্বিতীয় ওভারের ৬টি ডেলিভারির গতি ছিল ঘন্টায় ১৪২, ১৪১, ১৪৪, ১৪৭, ১৪৩ এবং ১৪৬ কিলোমিটার!
তবে বাংলাদেশ পেসারদের গতি আতঙ্ক কাটিয়ে পাকিস্তানের প্রথম উইকেট জুটির ১১২ মিনিটে ১০৬ রানই বলুন কিংবা অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটির ৮৯ মিনিটে ৭৩, দুটি পার্টনারশিই লম্বা হয়েছে স্লিপ ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতায়। এবাদতের অফ স্ট্যাম্পের উপর পিচিং ডেলিভারিতে ইমাম উল হক থার্ড স্লিপে দিয়েছিলেন ক্যাচ। ফ্লাইং ক্যাচের সে চেষ্টায় ব্যর্থ মাহামুদুল হাসান জয়। ২৩ রানে জীবন ফিরে পাওয়া ইমাম উল হক ইনিংসটা টেনে নিয়েছেন ৪৫ পর্যন্ত। দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানের একমাত্র এই উইকেটটি নিয়েছেন অফ স্পিনার মিরাজ। ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে যেয়ে ব্যাট বলের স্পর্শ না পেয়ে প্যাডে আঘাত হানায় ফিল্ড আম্পায়ার দিয়েছেন আউটের সিদ্ধান্ত। রিভিউ আপীলেও লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে মিডল এন্ড লেগ স্ট্যাম্পে আঘাতের চিত্র ভেসে ওঠায় ফিরে যেতে হয়েছে ইনাম উল হককে ড্রেসিং রুমে। দ্বিতীয় দিনের পড়ন্ত বেলায় তাসকিনের বলে সেকেন্ড স্লিপে আবদুল্লাহ ফজলকে ২৮ রানে থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ অপচয় করেছেন সাদমান।
এক্সপ্রেস বোলার নেই পাকিস্তান দলে, তাতে কি ? ঘন্টায় গড়ে ১২০ কিলোমিটার গতিতে বল করেও মুভমেন্ট পেলে যে বিপজ্জনক হওয়া যায়, লাঞ্চের আগের স্পেলে (৯-১-২২-৩) মিডিয়াম পেসার মুহাম্মদ আব্বাস তা জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বোলিংয়ে নির্বিঘ্নে প্রথম সেশন পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ঘন্টায় বাংলাদেশ হারিয়েছে ৭৯ রানে ৩ উইকেট।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে টানা তিনটি বাউন্ডারিতে লিটন প্রশংসা পেলেও টেস্ট মেজাজটা হারিয়েছিলেন। ৬ ষ্ঠ স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজান আইওয়াজের হাত থেকে বেঁচে গেছেন। জুম করে ক্যাচ নিশ্চিত হতে যেয়ে মাটি থেকে বল উঠিয়ে আনায় ৩২ রানের মাথায় জীবন পেয়েছেন লিটন। তাঁর পরেও ফিফটি করতে পারেননি লিটন। আব্বাসের পরের ওভারে শর্ট বলে পুল করতে যেয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন দাস (৬৭ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ রান)। ৫ম উইকেট জুটিতে ১১২ মিনিটে মুশফিক-লিটনের ৬২ রানের পার্টনারশিপটি মূলত দিনের প্রথম সেশন পার করতে সহায়ক হয়েছে।
এই আব্বাসের শর্ট বলে পুল শটে মিরাজ ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা মেরেও নিজেকে পরবর্তীতে নিবৃত্ত রাখতে পারেননি। আব্বাসের পরের ডেলিভারিতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দিয়েছেন ক্যাচ (১২ বলে ১০)। হাসান আলীকে পর পর দুটি ডেলিভারিতে বাউন্ডারি মেরে বাহাদুরি দেখানো টেল এন্ডার তাইজুল (২৩ বলে ১৭) আব্বাসের চতুর্থ শিকারে পরিনত। আব্বাসের বাউন্সারে পুল করতে যেয়ে করেছেন ভুল। উইকেট কিপার রিজওয়ান শুণ্যে লাফিয়ে নিয়েছেন ক্যাচ।
৩৯তম জন্মদিন উদযাপনটিও হয়েছে মিশ্র অনুভুতিতে। সেঞ্চুরিতে ৩৯তম জন্মবার্ষিকীটা অনেক বেশি উদযাপনের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন মুশফিকুর রহিম। জন্মদিনে সেঞ্চুরির কক্ষপথে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। খেলেছেন সংযমী ইনিংস। দুটি মাঝামারিমানের পার্টনারশিপে রেখেছেন অবদান।
৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট ব্যাটিংয়ে টেস্ট মেজাজের পরীক্ষা দিতে দিতে দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের পর ভুল করেছেন। শাহিন আফ্রিদিকে ফরোয়ার্ড ড্রাইভ করতে যেয়ে থেমেছেন ৭১ রানে। ৩৯.৬৬ স্ট্রাইক রেটে ১৭৯ বল খেলে ৯টি বাউন্ডারিতে থেমেছে তাঁর প্রথম ইনিংস।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ৬ষ্ঠ বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেতে (৩৪-৮-৯২-৫) মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আব্বাসকে দিয়ে লম্বা স্পেলে বল করিয়েছেন অধিনায়ক শান মাসুদ। লাঞ্চের আগে-পরে মিলিয়ে ১২ ওভারের স্পেলে শিকার করেছেন আব্বাস ৪ উইকেট ( ১২-১-৪১-৪)। আব্বাসের ৫ম উইকেটে শিকার এবাদত। আব্বাস এবাদতকে (১০ বলে ০) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে উদযাপন করেছেন ৫ম উইকেটের আনন্দ।
স্কোরটা ৪শ-তে টেনে নেয়া যখন ভাগ্যের চাকার উপর নির্ভর করছে, তখন আব্বাসকে লং অনের উপর দিয়ে তাসকিনের ছক্কায় শান্ত'র লক্ষ্য পূরন হয়েছে। এই তাসকিনের ১৯ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ২৮ রানের ইনিংস থেমেছে শাহিন আফ্রিদির বলে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে।
পাকিস্তান টপ অর্ডারদের নতুন বলে পর্যুদস্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ বোলাররা। পুরনো বলে কী দায়িত্বটা পালন করতে পারবে বোলাররা ? মিরপুর টেস্টের গতিপথ কোথায় যাচ্ছে,তা নির্ভর করবে বোলারদের ছন্দ ফিরে পাওয়া, না পাওয়ার উপর।

টেস্ট সিরিজ পূর্ব সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ইনিংসে ৪শ' টার্গেটের কথা উল্লেখ করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সে লক্ষ্য পূরণের আভাস দিয়েছে শান্ত এন্ড কোম্পানী প্রথম দিনে ৩০১/৪ স্কোর তুলে। অবশিষ্ট দায়িত্বটা পালন করেছে ৫ম এবং ১০ম উইকেট জুটি। তাতেই মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৪১৩/১০ স্কোর করেছে বাংলাদেশ।
ওভারপ্রতি ৩.৫২ হারে রান তোলা বাংলাদেশের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ৫৩৮ মিনিট। দ্বিতীয় দিনে ১৬৮ মিনিট ব্যাটিংয়ে শেষ ৬ জুটি যোগ করেছে ১১২ রান। যার মধ্যে তাসকিন-নাহিদ রানার শেষ পার্টনারশিপের অবদান ৩৪ মিনিটে ৩৯!
মিরপুরের উইকেট যতোই সবুজ হোক না কেনো, এখানে ফাটল ধরবেই। বল পিচিং করে কখনো লো, কখনো অপ্রত্যাশিত বাউন্স হবে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে সেই বৈশিষ্টে যথারীতি হাজির শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের স্পোর্টিং উইকেট। ঘন্টায় গড়ে ১২০ কিলোমিটার গতিতে বল করেও মুভমেন্ট পেলে যে বিপজ্জনক হওয়া যায়, লাঞ্চের আগের স্পেলে (৯-১-২২-৩) মিডিয়াম পেসার মুহাম্মদ আব্বাস তা জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বোলিংয়ে নির্বিঘ্নে প্রথম সেশন পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ঘন্টায় বাংলাদেশ হারিয়েছে ৭৯ রানে ৩ উইকেট।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে টানা তিনটি বাউন্ডারিতে লিটন প্রশংসা পেলেও টেস্ট মেজাজটা হারিয়েছিলেন। ৬ ষ্ঠ স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজান আইওয়াজের হাত থেকে বেঁচে গেছেন। জুম করে ক্যাচ নিশ্চিত হতে যেয়ে মাটি থেকে বল উঠিয়ে আনায় ৩২ রানের মাথায় জীবন পেয়েছেন লিটন। তাঁর পরেও ফিফটি করতে পারেননি লিটন। আব্বাসের পরের ওভারে শর্ট বলে পুল করতে যেয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন দাস (৬৭ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ রান)। ৫ম উইকেট জুটিতে ১১২ মিনিটে মুশফিক-লিটনের ৬২ রানের পার্টনারশিপটি মূলত দিনের প্রথম সেশন পার করতে সহায়ক হয়েছে।
এই আব্বাসের শর্ট বলে পুল শটে মিরাজ ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা মেরেও নিজেকে পরবর্তীতে নিবৃত্ত রাখতে পারেননি। আব্বাসের পরের ডেলিভারিতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দিয়েছেন ক্যাচ (১২ বলে ১০)। হাসান আলীকে পর পর দুটি ডেলিভারিতে বাউন্ডারি মেরে বাহাদুরি দেখানো টেল এন্ডার তাইজুল (২৩ বলে ১৭) আব্বাসের চতুর্থ শিকারে পরিনত। আব্বাসের বাউন্সারে পুল করতে যেয়ে করেছেন ভুল। উইকেট কিপার রিজওয়ান শুণ্যে লাফিয়ে নিয়েছেন ক্যাচ।
৩৯তম জন্মদিন উদযাপনটিও হয়েছে মিশ্র অনুভুতিতে। সেঞ্চুরিতে ৩৯তম জন্মবার্ষিকীটা অনেক বেশি উদযাপনের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন মুশফিকুর রহিম। জন্মদিনে সেঞ্চুরির কক্ষপথে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। খেলেছেন সংযমী ইনিংস। দুটি মাঝামারিমানের পার্টনারশিপে রেখেছেন অবদান।
৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট ব্যাটিংয়ে টেস্ট মেজাজের পরীক্ষা দিতে দিতে দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের পর ভুল করেছেন। শাহিন আফ্রিদিকে ফরোয়ার্ড ড্রাইভ করতে যেয়ে থেমেছেন ৭১ রানে। ৩৯.৬৬ স্ট্রাইক রেটে ১৭৯ বল খেলে ৯টি বাউন্ডারিতে থেমেছে তাঁর প্রথম ইনিংস।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ৬ষ্ঠ বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেতে (৩৪-৮-৯২-৫) মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আব্বাসকে দিয়ে লম্বা স্পেলে বল করিয়েছেন অধিনায়ক শান মাসুদ। লাঞ্চের আগে-পরে মিলিয়ে ১২ ওভারের স্পেলে শিকার করেছেন আব্বাস ৪ উইকেট ( ১২-১-৪১-৪)। আব্বাসের ৫ম উইকেটে শিকার এবাদত। আব্বাস এবাদতকে (১০ বলে ০) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে উদযাপন করেছেন ৫ম উইকেটের আনন্দ।
স্কোরটা ৪শ-তে টেনে নেয়া যখন ভাগ্যের চাকার উপর নির্ভর করছে, তখন আব্বাসকে লং অনের উপর দিয়ে তাসকিনের ছক্কায় শান্ত'র লক্ষ্য পূরন হয়েছে। এই তাসকিনের ১৯ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ২৮ রানের ইনিংস থেমেছে শাহিন আফ্রিদির বলে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে।