
বয়স মোটে ১৭, এই সময়ে শীর্ষ পর্যায়ে ফুটবল খেলতে পারাটাই বিশেষ কিছু। তবে ভিন্ন ধাতুতে গড়া এন্দ্রিক এই বয়সেই ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন এবং ম্যাচও জিতিয়ে ফেলেছেন। প্রতিভাবান এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল কোচ দরিভাল জুনিয়র৷ তার বিশ্বাস, একদিন সেরাদের কাতারে চলে যাবেন এই তরুণ।
সেই ২০২২ সালে বয়স যখন মাত্র ১৬, তখনই এন্দ্রিককে দলে টানার জন্য চুক্তিবদ্ধ করে ফেলে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ৷ এর আগে থেকেই তাকে বলা হচ্ছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ভবিষ্যৎ বড় তারকা৷ এখন পর্যন্ত যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাতে এন্দ্রিক প্রতিভার জোর সাক্ষরই রাখছেন।
আরও পড়ুন: এন্দ্রিকের অভিষেক গোলে ইংল্যান্ডকে হারালো ব্রাজিল
ওয়েম্বলিতে গত শনিবার রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বদলি হিসেবে এন্দ্রিক যা করেছেন, তা কেউই আগে করতে পারেনি। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী একমাত্র গোলটি করে ১৭ বছর বয়সে বিখ্যাত এই স্টেডিয়ামের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা এখন তিনিই।

ম্যাচের পর এন্দ্রিককে নিয়ে আশার বাণীই শুনিয়েছেন দরিভাল। “সে এখন পর্যন্ত যে মনোভাব দেখাচ্ছে, সেটা ধরে রাখতে পারলে একদিন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলেরও খুব বড় নাম হয়ে উঠবে।”
আগামী জুলাইয়ে ১৮-তে পা দিয়ে রিয়ালে পাকাপাকিভাবে যোগ দেবেন এন্দ্রিক। তার আগে জাতীয় দলের হয়ে এই অর্জনে আনন্দের সীমা নেই তার। “আমি শুধু এটা নিয়েই ভাবছি! এটা আমার জন্য একটা অসাধারণ এক স্মৃতি। এখানে আমার পরিবার আছে, আমার বান্ধবী, আমার এজেন্টও আছে। আমি খুব বেশি কান্নাকাটি করার মানুষ নই, আমি নিজেকে সামলে রাখছি, তবে এটি বিশেষ কিছু এবং আমি খুব খুশি।”
এই ম্যাচ হারের মধ্য দিয়ে ২১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেয়েছে ইংল্যান্ড। এন্দ্রিক প্রশংসা পেয়েছেন দলটির কোচ গ্যারেথ সাউথগেটেরও। “আমরা জানি যে সে একজন বিপজ্জনক খেলোয়াড়। আমাদের ডিফেন্স আরও ভালোভাবে সামলানো উচিত ছিল। তবে এটা তার জন্য একটি দুর্দান্ত মুহূর্ত।”
No posts available.
৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৪ এম
২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪২ পিএম
শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই মিশন। গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে লাল সবুজের দল। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে খেলোয়াড়েরা ফিরেছেন নিজ নিজ ক্লাবে। বাংলাদেশ দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় যখন ঢাকায়, তখন সিঙ্গাপুর থেকে ইংল্যান্ডে ফিরে গেছেন হামজা চৌধুরী।
হামজার ক্লাব লেস্টার সিটি আজ চ্যাম্পিয়নশিপের খেলায় মোকাবিলা করবে প্রিস্টন নর্থ এন্ডকে। ঘরের মাঠ কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে নামার আগে বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের নিয়ে বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের ‘নম্বর এইট’। ইন্সটাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন গত এক বছরে বাংলাদেশের ফুটবল যেভাবে এগিয়েছে সেটিকে। একই সঙ্গে ধন্যবাদ দিয়েছেন দেশের ফুটবল সমর্থকদেরও।
বৃহস্পতিবার রাতে ওই পোস্টে হামজা লিখেছেন,
‘‘গ্রুপ পর্বটা আমরা যেভাবে শেষ করতে চেয়েছিলাম, ঠিক সেভাবে হয়নি। তবে এক বছরে আমরা যতটুকু এগিয়েছি, সেজন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে আমাদের সামনে দারুণ সব অর্জনের সুযোগ রয়েছে।’
এশিয়ান কাপ বাছাই বাংলাদেশ শেষ করেছে পয়েন্ট টেবিলের তিনে থেকে। ৬ খেলায় একটিতে জয়, দুটিতে ড্র এবং তিনটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে জয়-পরাজয় দূরে রাখলে, বাংলাদেশ বাছাই পর্বে প্রায় প্রতিটি ম্যাচে লড়াই করেছে। ভাগ্য সহায় হলে হয়ত ভিন্ন কিছু হতে পারত। এই সময়ে বাংলাদেশের ফুটবলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে আবার। সমর্থকেরা মাঠে ফিরেছেন। হামজা-জামালদের সাপোর্ট দিতে দেশে এবং দেশের বাইরে স্টেডিয়াম মাতিয়ে রেখেছেন তারা। লাল সবুজের সমর্থকদের নিয়েও লিখেছেন লেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার,
‘আর আপনাদের সমর্থন বরাবরের মতোই অবিশ্বাস্য ছিল।’
আপাতত ক্লাবেই মনোযোগ দেবেন হামজা। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে দলের অবনমন ঠেকাতে কঠিন সময় পার করতে হবে তাদের। মৌসুমে ক্লাবগুলোর হাতে আছে আর মাত্র ৭টি করে ম্যাচ। অবনমন অঞ্চলের একদম উপরের স্পটে থাকা হামজাদের পয়েন্ট ৩৯ খেলায় ৩৯। ২৪ দলের লিগে লেস্টার সিটি ২২-এ।

রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে যেন পাইকারি দরে গোল পেয়েছে বার্সেলোনা। ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ লড়াইয়ে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের জালে দুই লেগেই ৬টি করে গোল দিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। সব মিলিয়ে এক ডজন গোল হজম করে বিদায় নিলো রিয়াল।
নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার-ফাইনালে ফিরতি লেগে রিয়ালকে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। নিজেদের ঘরের মাঠে বৃহস্পতিবার রাতে রিয়ালকে পাত্তাই দেয়নি ক্লাবটি। এর আগে প্রথম লেগে রিয়ালের মাঠে ৬-২ গোলে জিতেছিল তারা।
দুই লেগ মিলিয়ে ১২-২ গোলে এগিয়ে থেকে সেমি-ফাইনালের টিকেট পেয়েছে বার্সেলোনা। আগামী ২৫ এপ্রিল ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে নারী ক্লাব ফুটবলের প্রবল শক্তিধর দলটি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দুই লেগের মাঝে স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে গিয়ে ওই ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছিলেন অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস, ক্লাউদিও পেনারা।
এবার ফিরতি লেগের লড়াইয়ে অষ্টম মিনিটে আলতো ছোঁয়ায় জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন বার্সেলোনার হয়ে ৫০০তম ম্যাচ খেলতে নামা পুতেয়াস। সেটি যেন করে তালা ভাঙার কাজ। এরপর শুরু হয় একের পর এক গোল।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন ক্যারোলিন গ্রাহাম হানসেন। ম্যাচের বয়স আধঘণ্টা হওয়ার আগে স্কোরলাইন ৩-০ করে দেন আইরিন পারেদেস। আর ৩৪ মিনিটে ইউয়া পাজোর গোল করলে রিয়ালের জালে পূরণ হয় এক হালি।
বিরতির পর আর দুই গোলের বেশি করতে পারেনি বার্সেলোনা। ৫৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোল করেন হানসেন। আর ৭৪ মিনিটে রিয়ালের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার ইসমি ব্রুগটস।

শেষ পর্যন্ত তাহলে নেইমারকে ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে যাচ্ছে ব্রাজিল? বিশ্বকাপে সান্তোসের তারকা ফুটবলারের সেলেসাও দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই এমনটাই জানালো ইএসপিএন ব্রাজিল। কার্লো আনচেলোত্তির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হচ্ছে না নেইমারের।
ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নেইমারকে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েই বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন আনচেলোত্তি। তখন জানানো হয়েছিল, চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে।
কোচ আনচেলত্তি এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন শুরু থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে আসেছে—দলে ফিরতে হলে নেইমারকে শতভাগ ফিট থাকতে হবে। সবশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতেও নেইমারকে দলে ডাকা হয়নি।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের মধ্যে ২৪ জনের জায়গা প্রায় নিশ্চিত বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা। মার্কা তাদের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সেই তালিকায় নেই ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের নাম। বরং সাম্প্রতিক স্কোয়াডের মূল কাঠামো ধরে রাখতেই আগ্রহী আনচেলত্তি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী বাকি দুই জায়গার জন্য লড়াই করছেন লুকাস পাকেতা, এন্দ্রিক এবং ইগর থিয়াগো।
আনচেলত্তি তরুণদের ওপর ভরসা রেখে নতুনভাবে ব্রাজিল দল গড়তে চান। একক কোনো তারকার ওপর নির্ভর না করে দলীয় খেলায় জোর দিচ্ছেন তিনি—লক্ষ্য এমন একটি নমনীয় দল তৈরি করা, যা প্রতিপক্ষ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে।
চোটের পাশাপাশি ধারাবাহিকতা আর ফিটনেসের অভাবও আনচেলোত্তির সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নেইমার শেষবার ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর, উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে—সেখানেই হাঁটুর চোটে পড়েন তিনি।
এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সান্তোসে ফিরে এলেও, একাধিক ইনজুরি কাটিয়ে চলতি বছরে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন নেইমার।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের সবচেয়ে পরিচিত মুখদের একজন নেইমার। ফলে তাঁর সম্ভাব্য অনুপস্থিতি মেনে নিতে পারছেন না হাজারো ভক্ত, বিশ্লেষক এমনকি ফুটবল দুনিয়ার কিংবদন্তিরাও। এরমধ্যে আছেন জোসে মরিনিও, রোমারিও, রোনালদো নাজারিও এবং কাফু। এমনকি সতীর্থ রদ্রিগো ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেইমারকে দলে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত যদি আনচেলোত্তি যদি নেইমারকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা ব্রাজিলের ইতিহাসে এক যুগের অবসান হিসেবেই ধরা হবে। আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করার কথা রয়েছে আনচেলত্তির—সেই তালিকাতেই মিলবে সব প্রশ্নের উত্তর।

বর্তমানে ইউরোপ তথা ফুটবলবিশ্বের অন্যতম সেরা দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের এই দুই মধ্যমণির পাশপাশি বার্সেলোনার তারকা উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালও এই সময়ের ফুটবলের ‘পোস্টার বয়’। তবে বার্সার স্প্যানিশ এই তারকার চেয়ে পুরো দ্বিগুন বেশি বেতন পান রিয়ালের দুই তারকা। ইউরোপে সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া ফুটবলার এখন এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস।
প্রতি বছরের মতোই ফরাসি সংবামাধ্যম লে’কিপ লিগ আঁ-এর পাশাপাশি ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলারদেরও তুলে ধরেছে। ফুটবলারদের পাশপাশি কোচদের বেতনও প্রকাশ করেছে তারা। দেখে নেওয়া যাক ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনটাতে কে সবচেয়ে বেশি বেতনের খেলোয়াড়।
লা লিগায়
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে বেতনের দিক থেকে সবার ওপরে আছেন এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস। ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের মাসিক আয় প্রায় ২৬ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। গত বছর ভিনির মাসে বেতন ছিল ২৫ লাখ ইউরো, এ বছরে এমবাপের সমান বেতন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের। স্পেনে তাদের ঠিক পেছনেই আছেন ডেভিড আলাবা (১৮ লাখ ইউরো), রবার্ট লেভানডফস্কি (১৭ লাখ ৩০ হাজার ইউরো), জুড বেলিংহাম ও জন ওবলাক (১৬ লাখ ৭০ হাজার ইউরো)।
বর্তমানে ট্রান্সফার মার্কেটে সবচেয়ে বেশি দাম যার, সেই লামিনে ইয়ামালের বেতন এমবাপে ও ভিনি থেকে অর্ধেক কম বেতন পান। ১৮ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকার বেতন ১৩ লাখ ৩০ হাজার ইউরো।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ফুটবল লিগ হিসেবে পরিচিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া আর্লিং হলান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড গত বছরে প্রতি মাসে পেতেন ২৫ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। এখন মাসে তাঁর বেতন ২৬ লাখ ৩০ হাজার ইউরো। এরপরই আছেন মোহাম্মদ সালাহ। চলতি মৌসুম শেষেই লিভারপুল ছাড়তে যাওয়া মিশরীয় ফরোয়ার্ডের বেতন ২০ লাখ ইউরো। এছাড়া ক্যাসেমিরো ও ভার্জিল ফন ডাইক ১৭ লাখ ৫০ হাজার করে মাসে বেতন পান।
বুন্দেসলিগা
বেতন দেওয়ায় জার্মানিতে বায়ার্ন মিউনিখের আধিপত্য চোখে পড়ার মতোই। শীর্ষ পাঁচ বেতন পাওয়া ফুটবলারই ক্লাবটির। বুন্দেসলিগায় শীর্ষে আছেন বাভারিয়ানদের দুই তারকা হ্যারি কেইন ও জামাল মুসিয়ালা। দু’জনের বেতনই ২১ লাখ ইউরো। এরপর আছেন ম্যানুয়েল নয়্যার—১৭.৫ লাখ ইউরো এবং জশুয়া কিমিচ ও দায়োত উপোমেকানো (১৬.৬ লাখ ইউরো)।
সিরি‘আ’
ইতালিতে শীর্ষে আছেন দুসান ভ্লাহোভিচ। জুভেন্টাসের সার্বিয়ান ফরোয়ার্ডের মাসিক বেতন প্রায় ১৮.৫ লাখ ইউরো। তার পরেই আছেন দুই আর্জেন্টাইন লাউতারো মার্তিনেজ (১৩ লাখ ৯০ হাজার ইউরো), পাউলো দিবালা (১০ লাখ ৮০ হাজার ইউরো)।
লিগ ‘আঁ’
ফ্রান্সে বরাবরের মতোই আলোচনার কেন্দ্রে পিএসজি। লিগ আঁ’র সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড় হিসেবে তালিকার শীর্ষে আছেন ওসমান দেম্বেলে। ব্যালন ডি’অরজয়ী ফরাসি তারকার আয় প্রায় ১৫ লাখ ইউরো। তার পরেই আছেন পিএসজির ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্কিনিওস (১১ লাখ ২০ হাজার ইউরো) এবং মরক্কোর আশরাফ হাকিমি (১১ লাখ ইউরো)। গত মৌসুমের তুলনায় পিএসজির মোট বেতন খরচ সামান্য বেড়েছে।

ফুটবলের উত্তাপের মাঝেও কখনও কখনও মানবিক গল্প জায়গা করে নেয় শিরোনামে। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মার্ক কক্সের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ঠিক তেমনই—মাঠের লাল কার্ডের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মায়ের স্নেহভরা বারণ।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উত্তেজনার এক মুহূর্তে লাল কার্ড দেখেছিলেন কক্স। মাঠের সেই দৃশ্য চোখ এড়ায়নি তার ৮৬ বছর বয়সী মায়েরও। দূর দেশ থেকে ছেলেকে ফোন করে সোজাসাপ্টা বার্তা—‘বাবা, লাল কার্ড হজমের মতো দুষ্টুমি করো না।’
একটু হাসি, একটু ভালোবাসা—কিন্তু বার্তাটা ছিল গভীর, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতোই। ফুটবলের রণক্ষেত্রেও মা যেন মনে করিয়ে দিলেন, যাই হোক না কেন শৃঙ্খলাই আসল শক্তি।
কক্সের দল এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। কাল মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় প্রতিবেশি ভারতের মুখোমুখি হবে তারা। লাল-সবুজ দল নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। আর ভুটানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত।
২৮ মার্চ গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারত। ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। এই ম্যাচের প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে চতুর্থ রেফারির সঙ্গে তর্ক করে হলুদ কার্ড দেখেন ভারতীয় হেড কোচ মহেশ গাউলি। এসময় প্রতিবেশী দেশের গোলকিপিং কোচ সন্দীপ নন্দীর সঙ্গে তর্কে জড়ান কক্স। রেফারি দুজনকে লাল কার্ড দেখান।
লাল কার্ড হজমের পর নেপালের বিপক্ষে ডাগ আউটে দাঁড়াতে পারেননি বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ। টুর্নামেন্টে আরেকবার ভারতের মুখোমুখির আগে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে উঠে এলো সে প্রসঙ্গ। এসময় মজা করে কক্স জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তার মা তাকে ফোন করেন।
কক্স বলেন,
‘আমার ৮৬ বছর বয়সী মা ফোন করে আমাকে বলেছেন, এই বয়সে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার মতো দুষ্টুমি করো না। জীবন মানেই তো ফুরফুরে থাকা।’
দ্বিতীয় শিরোপ জয়ের মিশনে ডাগআউটে শান্ত মেজাজে থাকবেন বলে জানিয়েছেন কক্স। নিজেই যেন নিজের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করলেন, যতটা সম্ভব চুপিসারে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন তিনি।
তিনি বলেন,
‘আমার মাথায় একটি মূল কৌশল রয়েছে যা আমার দলকে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি এবং এটি দলের জন্য ভালো হবে। কৌশলটি আমি এখনই আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। আমি ডাগআউটেই (বেঞ্চে) থাকব, মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হবো না। আপাতত এটাই আমার মূল কৌশল যে শান্ত থাকা, ভালো আচরণ করা এবং খেলোয়াড়দেরই তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে কথা বলতে দেওয়া।’