
মনে আছে ২০১৪ সালের মারাকানার কথা? জার্মানির কাছে বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষ মুহুর্তে গোল খেয়ে হৃদয় ভেঙেছিল আর্জন্টিনার। বড়দের মত এবার ছোটদেরও স্বপ্ন ভেঙেছে সেই জার্মানির কাছেই। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ট্রাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে জার্মানি।
দারুণ এই ম্যাচে কি ছিল না? ক্ষণে ক্ষণে বদলেছে ম্যাচের রঙ। একবার আর্জেন্টিনা এগিয়েছে তো আরেকবার জার্মান। তবে শেষ পর্যন্ত টাইবেকারে গিয়ে শেষ হাসিটা জার্মানিরই।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্যারিস ব্রুনারের গোলে খেলার নবম মিনিটে এগিয়ে যায় জার্মানি অনূর্ধ্ব-১৭ দল। অগাস্তিন রুবার্তোর নৈপূণ্যে শুরুর ওই গোল শোধ দিয়ে মাঝবিরতির আগে লিডও নেয় আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ দল। ৩৬ মিনিটে স্কোর ১-১ করার পর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন অগাস্তিন রুবার্তো।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধের দারুণ এক প্রত্যাবর্তন ঘটায় জার্মানি। গোলরক্ষকের ভুলে বল পেয়ে ডিবক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত ফিনিশে জার্মানিকে সমতায় ফেরান ব্রুনার। এরপর আর্জেন্টিনার বিপদ আরও বাড়ে ম্যাক্স মোরেশডাটের গোলে। ডিবক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে হেডে বল জালে জড়ান এই স্ট্রাইকার।
আর্জেন্টিনার হার যখন সময়ের ব্যাপার তখনই আরো একবার দলকে পথ দেখান রুবের্তো। যোগ করা ৮ মিনিটের শেষ সময়ে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এই তরুণ।
যেখানে নায়ক বনে যান জার্মান গোলরক্ষক কনস্ট্যান্টিন হেইডি। আর্জেন্টিনার প্রথম দুই শট ঠেকিয়ে দলকে অনেকটাই এগিয়ে দেন। গোল মিস করেছেন ব্রাজিলের বিপক্ষে হেট্রিকের দেখা পাওয়া আর্জিন্টিনার এচেভেরিও। সেদিনের নায়ক আজ বনে গেছেন ভিলেনই। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের টাইব্রেকারের হারে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হলো আর্জেন্টিনার।

বড়দের বিশ্বকাপে তিনবার শিরোপা জিতলেও ছোটদের আসরে একবারও ট্রফি জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। এর আগে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালেও তো খেলতে পারেনি আর্জেন্টিনার ছোটরা। এবার যেই দারুণ ফর্মেই ছিল তারা, তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে যাওয়া হলো না।
আগামী ২ ডিসেম্বর ইন্দোনিশিয়ায় বসবে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ফাইনাল। যেখানে জার্মানির প্রতিপক্ষ ফ্রান্স এবং মালির ম্যাচে বিজয়ী দল।
No posts available.
৪ মার্চ ২০২৬, ৪:০১ পিএম

মাইকেল ক্যারিক যোগদানের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চেহারা বদলে গেছে। সবশেষ টানা সাত ম্যাচে হার নেই প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ ১৩ বার শিরোপাজয়ীদের। টেবিলের তিনে তাদের অবস্থান। শীর্ষে থাকা আর্সেনাল থেকে ১৩ পয়েন্ট দূরে তারা। আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকা ম্যান ইউনাইটেডের ম্যানেজার বলছেন, টাইটেল জেতা অসম্ভব কিছু নয় তাদের!
২০২৫-২৬ মৌসুমে এখনও ১০ ম্যাচ বাকি ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবের। এখান থেকে মিকেল আরতেতার দলকে ছোঁয়া অসম্ভব বটে! তবে শিষ্যদের প্রতি তুমুল বিশ্বাস ৪৪ বর্ষী ক্যারিকের। শিরোপার লড়াইয়ে ‘রেড ডেভিলস’রা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে পারবে—এই সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি তিনি।
ম্যানেজার হিসেবে (দুই দফা মিলিয়ে) নয়টি লিগ ম্যাচে তিনি পেয়েছেন ২৩ পয়েন্ট—৭ জয় ও ২ ড্র। জানুয়ারিতে রুবেন আমোরিমের জায়গায় দায়িত্ব নেওয়ার পর সাত ম্যাচে ইউনাইটেডের জয় ৬টি, ড্র একটি। লিগ ইতিহাসে প্রথম ৯ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট পাওয়ার নজির এটিই যৌথ সেরা।
বৃহস্পতিবার নিউক্যাসেলের বিপক্ষে ম্যাচ ম্যান ইউনাইটেডের। শীর্ষ দুইয়ে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমানোর ক্ষেত্রে এই ম্যাচ বড় ভূমিকা রাখবে। তার মধ্যে চারে থাকা অ্যাস্টন ভিলা সবশেষ ম্যাচে ওলভসের বিপক্ষে হেরেছে। ওলভস আবার পাঁচে থাকা লিভারপুলকেও হারিয়ে দিয়েছে চমক দিয়েছে।
শীর্ষ দল থেকে ১৩ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকেও আশাবাদী ক্যারিক। তিনি বলেন,
“ফুটবলে কোনো কিছুই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে আমাদের বাস্তবতাও বুঝতে হবে। এখন আমাদের লক্ষ্য একটাই—জিততে থাকা। আমাদের ওপরে দুটি অসাধারণ দল আছে, আশপাশেও অনেক শক্তিশালী দলও রয়েছে।’’
টেবিলে আগে পিছে যেমন দলই থাকুক না কেন, অস্বীকার করার উপায় নেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছে রেড ডেভিলসরা। ক্যারিকের অধীনে একের পর এক জয় তুলে সমর্থকদের আশা দেখাচ্ছে দলটি।
ক্যারিক বলেন,
“আমরা ভালো ছন্দে আছি। কিন্তু বাড়াবাড়ি রকম উচ্ছ্বসিত হচ্ছি না। বাস্তবতা হলো, এটা সম্ভব করতে হলে আরও অনেক ম্যাচ জিততে হবে।”
দলের এই উন্নতির পর আলোচনা চলছে—চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে দিতে পারলেই কেবল স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পেতে পারেন ক্যারিক। তবে গণমাধ্যমে ইউনাইটেডের সম্ভাব্য ম্যানেজার হিসেবে ঘুরে ফিরে যাদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে সেই তালিকায় রয়েছে তার নাম। পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন—ওলিভার গ্লাসনার, গ্যারেথ সাউদগেট ও জুলিয়ান নাগেলসম্যান।
ম্যান ইউনাইটেডে নিজের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্যারিক বলেন,
“সত্যি বলতে এ নিয়ে বলার মতো তেমন কিছু নেই। আমি এখানে থাকতে ভালোবাসি, কাজটা উপভোগ করছি। শুরু থেকেই বলেছি স্বল্পমেয়াদি বা তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। জয় পেলে সবকিছু সহজ হয়, আর ছেলেরা দারুণ করছে। শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই দেখা যাক। এর বেশি এই মুহূর্তে বলার মতো কিছু নেই।”

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মনে করেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে সামনের ওয়ানডে সিরিজে সফল হতে হলে ব্যাটিংয়ে, বিশেষ করে মিডল ওভারে উন্নতি আনতে হবে দলের।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনালের পর তিনি বলেন, গত ১০-১২টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশ পূর্ণ ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারেনি, যা বড় উদ্বেগের বিষয়।
আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে চলতি বছর ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এখন থেকেই নিজেদের ঘাটতি চিহ্নিত করে কাজ শুরু করতে চান শান্ত।
আরও পড়ুন
| গাভাস্কারের চোখে ভারতকে কাঁপিয়ে দিতে পারে যে ইংলিশ ‘অস্ত্র’ |
|
তার মতে, ওয়ানডেতে ভালো করতে হলে টি-টোয়েন্টির অতি আগ্রাসী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অতিরিক্ত স্ট্রাইক রেটের চিন্তা না করে ইনিংস গড়া এবং দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
“ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে শেষ দশ-বারোটি ওয়ানডেতে আমরা ৫০ ওভার ঠিকভাবে ব্যাটিং করতে পারিনি। বিশেষ করে মিডল ওভারে কীভাবে ভালো ব্যাটিং করব এবং ইনিংস শেষ করব- এটা আমাদের জন্য চিন্তার জায়গা।”
বিসিএল নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন শান্ত। তার মতে, চারটি দলেই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ছিলেন, যাদের অনেকেই ৫০-৭০টি ওয়ানডে খেলেছেন। তবুও ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ছিল না, আসেনি প্রত্যাশিত সেঞ্চুরি, ৫০ ওভার আধিপত্যও দেখা যায়নি।
“এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমাদের আরও ধারাবাহিক হওয়া উচিত ছিল। আরও সেঞ্চুরি আসা উচিত ছিল, ৫০ ওভার দাপট দেখানো উচিত ছিল- যা হয়নি।”
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন শান্ত। সামনে পাকিস্তান সিরিজকে সামনে রেখে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাকে গুরুত্বপূর্ণ বলছেন তিনি। যদিও সিরিজের আগে একটি ভালো টুর্নামেন্ট খেলা হয়েছে, যা কিছুটা আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেও আশা তার।
এর আগে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ছিল বাংলাদেশ। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অংশ নেয়নি দল। দীর্ঘ সময় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মনোযোগ দেওয়ার প্রভাব ওয়ানডে ব্যাটিংয়ে পড়েছে বলেই মনে করেন শান্ত।
“গত এক-দেড় বছরে আমরা অনেক টি-টোয়েন্টি খেলেছি। তাই হয়তো ব্যাটসম্যানদের মাথায় সব সময় স্ট্রাইক রেট ও বড় শটের চিন্তা থাকে। কিন্তু বিশেষ করে মিডল ওভারে নতুন বল সামলানো, উইকেট না হারানো এবং স্ট্রাইক রোটেট করে ইনিংস গড়া- এসব জায়গায় আমরা প্রায় ম্যাচেই পিছিয়ে থাকছি।”

গোলপোস্টের নিচে রুপনা চাকমাকেই দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। এশিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ এই গোলকিপারের ওপরেই তো ভরসা রাখার কথা বাংলাদেশ নারী দলের কোচ পিটার বাটলারের। তবে ইংলিশ মাস্টারমাইন্ড যে প্রায়ই ‘আউট অব দ্য বক্স’ চিন্তা করেন, সেটা আরেকবার প্রমান দিলেন মিলি আক্তারে আস্থা রেখে। আর কোচের আস্থার প্রতিদান ময়মনসিংহ এর মেয়ে যেভাবে দিলেন, তাতে কেবল বাংলাদেশ নয়, ভড়কে যায় নারী এশিয়ান কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীনও।
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে রুপনার পারফরম্যান্স মন্দ বলার কোনো সুযোগই নেই। লিগে এক ম্যাচেও তিনি গোল হজম করেননি। সবগুলোতেই রেখেছেন ক্লিন শিট। তবু চীনের বিপক্ষে প্রথম পছন্দের গোলকিপার ছিলেন না তিনি। উল্টো তাঁর পরিবর্তে খেলালেন মিলি আক্তার। যে মিলি এশিয়ান কাপের সবেচেয়ে সফল দল চীনের সামনেই দৃঢ়তা দেখালেন চীনের বিখ্যাত প্রাচীরের মতো।
অবশ্য কোচ পিটার বাটলার হঠাৎ করেই মিলিকে গোলপোস্ট সামলানোর গুরুদায়িত্ব নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেননি। ১৯ বছর বয়সী এই গোলকিপারকে চীনের বিপক্ষে খেলানোর পরিকল্পনা ছিল নাকী দুই মাস আগের। চীনের শক্তিমত্তার আর দূর্বলতার জায়গা বের করে মিলিকে তৈরি করেছেন বাংলাদেশ নারী দলের গোলকিপিং কোচ মাসুদ আহমেদ।
চীনের বিপক্ষে ম্যাচের পর আজ রিকভারি সেশন করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। চীনের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর গ্রুপপর্বে আফঈদা খন্দকারদের সামনে এশিয়ান কাপের আরেক পরাশক্তি উত্তর কোরিয়া। এই ম্যাচের আগে আজ রিকভারি সেশনে সংবামাধ্যমের মুখোমুখি হন বাংলাদেশের গোলকিপিং কোচ। চীনের বিপক্ষে মিলিকে শুরুর একাদশে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
প্রধান কোচ বাটলারের সঙ্গে আলোচনা করেই নাকি মিলিকে খেলোনোর কৌশল সাজান গোলকিপিং কোচ মাসুদ, ‘আসলে মিলিকে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা ছিল আরও দুই মাস আগে থেকেই। চীনের বিপক্ষে তাকে শুরুর একাদশে খেলানোর সিদ্ধান্ত আমরা দুই মাস আগে প্রধান কোচের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত করেছি। নারী লিগ চলাকালীন, আমাদের ঘরোয়া নারী লিগ ও অনুশীলন সেশনগুলোতেও আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি।’
ম্যাচের পর নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলা মিলির কণ্ঠেও ছিল একই সুর, ‘চীনের বিপক্ষে যে খেলবেন তা দেশে থাকতেই জানতেন মিলি, ‘আসলে আমরা এই ম্যাচটার জন্য অনেক পরিশ্রম-কষ্ট করছি। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করছি, সে জন্য আজকে পেরেছি এতগুলো সেভ দিতে। প্রথমে ধন্যবাদ দেব আমার গোলকিপার কোচ উজ্জ্বল স্যারকে। উনিও আমার পেছনে অনেক শ্রম দিয়েছেন।’
বাংলাদেশ ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার ম্যাচে ১১ টি অনটার্গেট শটের মধ্যে ৮ টি শটই ঠেকিয়ে দেন মিলি। র্যাঙ্কিংয়ের ৯৫ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে কখনোই স্নায়ুচাপে ভুগতে দেখা যায়নি। রুপনা থেকে মিলির উচ্চতাও বেশি। বাংলাদেশের মেয়েদের থেকে উচ্চতায় অনেকটাই এগিয়ে থাকা চীনকে রুখতে সেটাই কাজে লাগায় বাংলাদেশ। মাসুদ বলেন, চীনের শক্তির জায়গাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখেছি, কোথায় মিলির উচ্চতাকে কাজে লাগানো যায়। আর মিলি ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে, সে এই পর্যায়ে খেলতে সক্ষম ‘
ময়মনসিংহ থেকে উঠে আসা মিলিকে প্রশংসায় ভাসান কোচ বাটলারও, ‘বাংলাদেশের নারী ফুটবল গোলকিপিংয়ের দিক থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ভুগেছে। আমার মনে হয় মিলি আজ রাতে অসাধারণ খেলেছে। সে কিছু ভুল করেছে এবং সামনেও ভুল করবে, কিন্তু আমার মতে সে অনেক ভালো করেছে। আমার ভাবনার পেছনে কারণ এটাই ছিল যে, আমি দলে একটা নতুনত্ব আনতে চেয়েছিলাম। আর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে আমি মোটেও ভয় পাই না।’

কোপা দেল রে সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। প্রথম লেগে ৪-০ ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় লেগে ৩-০ গোলে জিতলেও সমষ্টিগত ফলে (৪-৩) পিছিয়ে থাকায় শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে যায় কাতালানরা।
তবে হারই শেষ কথা নয়, ম্যাচ শেষে আরও বড় দুশ্চিন্তা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বার্সাকে। গুরুত্বপূর্ণ দুই ডিফেন্ডার জুলেস কুন্দে ও আলেহান্দ্রো বালদে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তর খবর, দুজনই অন্তত পাঁচটি ম্যাচ মিস করতে পারেন।
ফরাসি ডিফেন্ডার কুন্দে ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই ডান পায়ে অস্বস্তি অনুভব করে মাঠে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে বদলি করতে বাধ্য হন কোচ হানসি ফ্লিক। চলতি মৌসুমে এটি কুন্দের প্রথম চোট। লা লিগায় সেলতা ভিগোর বিপক্ষে এক ম্যাচ ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই খেলেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে ৩ হাজার ৮ মিনিট খেলেছেন এই ডিফেন্ডার।
কুন্দের বদলি হিসেবে নেমে ডান প্রান্তে হোয়াও কানসেলোকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ৬৮ মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় বাঁ পায়ে হ্যামস্ট্রিং সমস্যার ইঙ্গিত দেন আলেহান্দ্রো বালদে। পরে তাঁকেও মাঠ ছাড়তে হয়। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর দ্বিতীয় চোট। সেপ্টেম্বরে একই ধরনের সমস্যায় প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন ২২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৪ ম্যাচে ২ হাজার ৪৪৭ মিনিট খেলেছেন বালদে।
বালদের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন রোনাল্ড আরাউহো, যা ছিল ক্লাবের হয়ে তাঁর ২০০তম ম্যাচ। জেরার্দ মার্টিন সেন্টার-ব্যাক থেকে সরে নিজের স্বাভাবিক পজিশন লেফট-ব্যাকে চলে যান।
দুজনই বুধবার মেডিকেল পরীক্ষা করাবেন। তবে প্রাথমিক ধারণা, মাসের শেষে আন্তর্জাতিক বিরতির আগে তাঁদের ফেরার সম্ভাবনা কম। সে ক্ষেত্রে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিস করতে পারেন তাঁরা।
এই তালিকায় রয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে নিউক্যাসল ইউনাইটেডর বিপক্ষে লড়াই এবং লা লিগায় আথলেটিক ক্লাব, সেভিয়া ও রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ম্যাচ।
স্প্যানিশ দৈনিক এএসের সাংবাদিক হাভি মিগেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বালদের চোট কুন্দের তুলনায় গুরুতর হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে তাঁকে। তবে কুন্দে দ্রুত সেরে উঠলে নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা থাকছে।

অস্ট্রেলিয়ায় নারী এশিয়ান কাপে খেলতে এসে মাঠের বাইরে এক ভিন্ন লড়াইয়ের মুখোমুখি ইরান দল। দেশের চলমান সংঘাতের মধ্যে পরিবার-পরিজনের খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ আর অজানা শঙ্কা নিয়েই খেলতে নামছেন তারা।
বৃহস্পতিবার গ্রুপ ‘এ’তে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়বে ইরান। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি দলের ২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড সারা দিদার।
“ইরানে যা ঘটছে, তা নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন ও কষ্টে আছি। আমাদের পরিবারগুলো সেখানে। দেশের জন্য ভালো খবরের অপেক্ষায় আছি। চাই, আমার দেশ শক্তভাবে টিকে থাকুক।”
গত শনিবার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার কারণে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়।
আরও পড়ুন
| 'লড়াই করেছি, দৌড়েছি, সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি' |
|
পরে আরব অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এই পরিস্থিতিতে যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। ইরান দলের প্রধান কোচ মারজিয়া জাফরি জানান, ব্ল্যাকআউটের কারণে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
“আমাদের পরিবার, প্রিয়জন ও দেশের মানুষের স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। তবে আমরা এখানে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে এসেছি। সামনে যে ম্যাচ, তাতে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
ইরান দল এই সংঘাত শুরুর আগেই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল। রোববার টুর্নামেন্টের প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জাফারি ও খেলোয়াড়েরা যুদ্ধ বা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
বুধবার এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) পক্ষ থেকেও সংবাদমাধ্যমকে ম্যাচসংক্রান্ত প্রশ্নেই সীমিত থাকার অনুরোধ করা হয়। তবু এক প্রশ্নে দিদার ও জাফারি দুজনই দেশের মানুষের কথা তুলে ধরেন।
টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে ইরান। গোল্ড কোস্টে ওই ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় নীরব দাঁড়িয়ে ছিল পুরো দল। গ্যালারির একাংশে ইরানি সমর্থকেরা লাল-সবুজ-সাদা পতাকা উড়িয়ে দলকে সমর্থন জানান।
জাফরি বলেন, প্রবাসী ইরানি-অস্ট্রেলীয়দের সমর্থন দলকে শক্তি জুগিয়েছে।