
মনে আছে ২০১৪ সালের মারাকানার কথা? জার্মানির কাছে বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষ মুহুর্তে গোল খেয়ে হৃদয় ভেঙেছিল আর্জন্টিনার। বড়দের মত এবার ছোটদেরও স্বপ্ন ভেঙেছে সেই জার্মানির কাছেই। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ট্রাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে জার্মানি।
দারুণ এই ম্যাচে কি ছিল না? ক্ষণে ক্ষণে বদলেছে ম্যাচের রঙ। একবার আর্জেন্টিনা এগিয়েছে তো আরেকবার জার্মান। তবে শেষ পর্যন্ত টাইবেকারে গিয়ে শেষ হাসিটা জার্মানিরই।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্যারিস ব্রুনারের গোলে খেলার নবম মিনিটে এগিয়ে যায় জার্মানি অনূর্ধ্ব-১৭ দল। অগাস্তিন রুবার্তোর নৈপূণ্যে শুরুর ওই গোল শোধ দিয়ে মাঝবিরতির আগে লিডও নেয় আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ দল। ৩৬ মিনিটে স্কোর ১-১ করার পর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন অগাস্তিন রুবার্তো।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধের দারুণ এক প্রত্যাবর্তন ঘটায় জার্মানি। গোলরক্ষকের ভুলে বল পেয়ে ডিবক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত ফিনিশে জার্মানিকে সমতায় ফেরান ব্রুনার। এরপর আর্জেন্টিনার বিপদ আরও বাড়ে ম্যাক্স মোরেশডাটের গোলে। ডিবক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে হেডে বল জালে জড়ান এই স্ট্রাইকার।
আর্জেন্টিনার হার যখন সময়ের ব্যাপার তখনই আরো একবার দলকে পথ দেখান রুবের্তো। যোগ করা ৮ মিনিটের শেষ সময়ে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এই তরুণ।
যেখানে নায়ক বনে যান জার্মান গোলরক্ষক কনস্ট্যান্টিন হেইডি। আর্জেন্টিনার প্রথম দুই শট ঠেকিয়ে দলকে অনেকটাই এগিয়ে দেন। গোল মিস করেছেন ব্রাজিলের বিপক্ষে হেট্রিকের দেখা পাওয়া আর্জিন্টিনার এচেভেরিও। সেদিনের নায়ক আজ বনে গেছেন ভিলেনই। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের টাইব্রেকারের হারে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হলো আর্জেন্টিনার।

বড়দের বিশ্বকাপে তিনবার শিরোপা জিতলেও ছোটদের আসরে একবারও ট্রফি জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। এর আগে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালেও তো খেলতে পারেনি আর্জেন্টিনার ছোটরা। এবার যেই দারুণ ফর্মেই ছিল তারা, তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে যাওয়া হলো না।
আগামী ২ ডিসেম্বর ইন্দোনিশিয়ায় বসবে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ফাইনাল। যেখানে জার্মানির প্রতিপক্ষ ফ্রান্স এবং মালির ম্যাচে বিজয়ী দল।
No posts available.

পার্ক দে প্রাঁসে গোল উৎসব হবে সেটা সহজ অনুমেয় ছিল। পরিসংখ্যান বলছিল, চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগের আগে মৌসুমে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ ৩৮টি করে গোল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছে। এবার তারা একে অন্যের বিপক্ষে গোল করেছে ৯টি। যার পাঁচটি পিএসজির, চারটি বায়ার্নের।
প্যারিসে গোল উৎসবের রাতে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্নের বিপক্ষে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে ফিরতি লেগের জন্য প্রস্তুতিটা ভালোভাবেই সারল লুইস এনরিকের দল। তাছাড়া টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর বাভারিয়ানদের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল ফরাসি ক্লাবটি।
মঙ্গলবারের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বিরতির আগেই ৫টা গোল হয়। যার দুটি গেল পিএসজির জালে, তিনটা হজম করল বাভারিয়ানরা। বিরতির পর তাই দুই পাশের জালে ঢুকল আরও দুটি করে গোল। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে গোলপ্রসবা সেমিফাইনালের রেকর্ড গড়া ম্যাচে পিএসজি জিতল ৫-৪ গোলে।
কিক অফ থেকে ম্যাচের দশম মিনিট পর্যন্ত অনেকটা নিষ্প্রভ ছিল ম্যাচ। এরপর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৬তম মিনিটে ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে বায়ার্ন মিউনিখ দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে। ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঠিক তখনই পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে যান এবং রেফারির বাঁশি সঙ্গে সঙ্গে।
সেখান থেকে পেনাল্টি আদায় করেন হ্যারি কেইন। প্রথমে দৌড়ে এসে কিছু থামেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট কাঁপান জাল। কিছু করার উপায়ও ছিল না সাফনভের।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন তার ৫৪ নম্বর গোলটি পূর্ণ করেন দলকে লিড এনে দেওয়ার সময়। লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন তিনি রবার্ট লেভানডভস্কির কাতারে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন। আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন কেইন।
ঠিক এক মিনিট পরই বড় ঝুঁকি এড়ান সাফনভ। কেইনের ক্রস কাজে লাগিয়ে বক্সে থাকা মাইকেল ওলিসে গোলবারে শট নেন। কিন্তু রাশিয়ান গোলকিপার তার সেই শট রুখে দেন।
২২তম মিনেট উসমান দেম্বেলে যে সহজ সুযোগ মিস করলেন, এর জন্য বহুদিন তাকে হতাশায় পুড়তেও হতে পারে। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে কেবল তিনি পান বায়ার্ন গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারকে। অথচ বারের বাইর দিয়ে শট নিয়ে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
সমতায় ফিরতি বেশি সময় নেননি খিচা কাভারাস্কাইয়া। বাঁ-পাশ থেকে একাই আক্রমণে ওঠেন জর্জিয়ান উইঙ্গার। ড্রিবলিং করে ডুকে পড়েন ডি বক্সে। এরপর স্তানিসিচকে বডি ডসে ঘায়েল করে বাঁকানো শটে কাঁপান জাল।
নিজেদের মাঠে ৩২তম মিনিটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসি জায়ান্টরা। বাঁ-পাশের কর্নার থেকে দেম্বেলের হাওয়ায় ভাসানো শট দারুণ টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে বলের দিশা বদলে দেন জোয়াও নেভেস। যা সরাসরি জালে আশ্রয় নেয়। লিগে এটি তাঁর দ্বিতীয় গোল।
পিএসজিকে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে দিল না বাভারিয়ানরা। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে স্কোরলাইন ২-২ করে ম্যাচে ফিরে অতিথিরা। আলেকজান্ডার পাভলোভিচের ছোট পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের প্রান্ত পর্যন্ত এগিয়ে যান মাইকেল ওলিসে। এরপর চমৎকার এক বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে সাফোনভকে হতাশ করেন তিনি। বায়ার্নের দারুণ এক আক্রমণে ম্যাচে ফিরে সমতা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সময়ের দেম্বেলের কর্নার থেকে নেওয়া লো-ক্রস ব্লক করতে যান আলফোনসো ডেভিস। কিন্তু বলটি তার হাতে লাগে। এরপর পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে পিএসজি। মুহূর্তে ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের পক্ষে যায় সিদ্ধান্ত। সেখান থেকে গোল আদায় করেন দেম্বেলে। সবমিলিয়ে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় পিএসজি। মাঝমাঠ থেকে ভিতিনিয়ার বাড়ানো লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন আশরাফ হাকিমি। বক্সে তার পাঠানো বিপজ্জনক নিচু ক্রসটি উসমান দেম্বেলে বুদ্ধিদীপ্তভাবে ছেড়ে দিলে বল পান খিচা কাভারাস্কাইয়া। কোনো ভুল না করে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন এই জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড।
পরের মিনিটে ব্যবধান ৫-২ করে ফেলে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। বাঁ প্রান্ত থেকে দুয়ের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন উসমান ডেম্বেলে। উপামেকানোর পায়ের ফাঁক দিয়ে নেওয়া তার নিখুঁত নিচু শটটি বাম দিকের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। বায়ার্নের কিংবদন্তি গোলরক্ষক নয়্যার কেবল চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। পিএসজির গোল উৎসব এখন পূর্ণতা পেল।
৬৪তম মিনিটে সেটপিস থেকে ব্যবধান কমাতে সাহায্যে করেন উপকোমানো। জশুয়া কিমিখের বুলেট গতির শট কেবল মাথা ছুঁইয়ে লক্ষ্যবেদ করেন ফরাসি সেন্টারব্যাক। পরের মিনিটে আরও একটি গোল করেন লুইস দিয়াজ। নিজেদের অর্ধ থেকে কেইনের লং রেঞ্জের শট নিয়ন্ত্রনে নিয়ে বক্সে ডুকে পড়েন কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। পরবর্তীতে ডান পায়ের কৌশলী শটে আদায় করেন গোল। সে সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের টানা চার ম্যাচে জালের দেখা পেয়ে পেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫-৪ শেষ হয় ম্যাচ।
ফার্স্ট রেগে পিএসজি এগিয়ে থাকলেও অতিথি বায়ার্ন মাঠের দখলে এগিয়ে ছিঝল। প্রায় ৫৭ শতাংশ বল তাদের দখলে ছিল। ১২টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখে স্বাগতিকরা। ১০টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখে বায়ার্ন।

পার্ক দে প্রাঁসে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের প্রথম গোলটি আসে হ্যারি কেইনের পা থেকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ৫১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে উসমান দেম্বেলের গোলে লিড নেয় পিএসজি।
এদিন ম্যাচের ১৬তম মিনিটে আলফোনসো ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে বায়ার্ন মিউনিখ। মাইকেল ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই উইলিয়ান পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে বাভারিয়ানদের লিড এনে দেন কেইন।
পেনাল্টি নেওয়ার সময় দৌড়ে এসে সামান্য থেমে গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট জাল কাঁপায়। গোলরক্ষক সাফোনভের কিছু করার ছিল না।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন আজ ৫৪ নম্বর গোলটি করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন রবার্ট লেভানডভস্কির সমান্তরালে তিনি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন, আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন হ্যারি কেইন।

জমেও যেন জমছিল না। গুমোট এক আবহাওয়া আর একরাশ বিরক্তি ভর করেছিল পার্ক দে প্রাঁসে। প্রায় ৪৮ হাজার দর্শকের কম্পন তোলা মুহূর্তেও কাঙ্ক্ষিত গোল ছিল যেন হাওয়াই মিঠাই। প্রথম ১০ মিনিট আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ ছাড়া কেটে যাওয়া পিএসজি-বায়ার্ন ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল হয়েছে মোট পাঁচটি। যার তিনটি পিএসজির আর দুটি বায়ার্নের।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগের প্রথমার্ধে যেন আগুন নিয়ে খেলেছে বায়ার্ন-পিএসজি। ম্যাচে ৪৯ শতাংশ বল দখলে ছিল পিএসজির, ৫১ শতাংশ বায়ার্নের। ৯টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখে ফরাসি জায়ান্টরা। সমান সংখ্যক বল লক্ষ্যে রাখে অতিথিরাও। দুটি করে বড় সুযোগ তৈরি করে দুদল। ক্লিয়ারেন্সে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন দু’দলের গোলকিপার। ১১টি ক্লিয়ারেন্স ছিল সাফনভের, ছয়টি নয়্যারের।
কিক অফ থেকে ম্যাচের দশম মিনিট পর্যন্ত অনেকটা নিষ্প্রভ ছিল ম্যাচ। এরপর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৬তম মিনিটে ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে বায়ার্ন মিউনিখ দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে। ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঠিক তখনই পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে যান এবং রেফারির বাঁশি সঙ্গে সঙ্গে।
সেখান থেকে পেনাল্টি আদায় করেন হ্যারি কেইন। প্রথমে দৌড়ে এসে কিছু থামেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট কাপান জাল। কিছু করার উপায়ও ছিল না সাফনভের।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন তার ৫৪ নম্বর গোলটি পূর্ণ করেন দলকে লিড এনে দেওয়ার সময়। লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন তিনি রবার্ট লেভানডভস্কির কাতারে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন। আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন কেইন।
ঠিক এক মিনিট পরই বড় ঝুঁকি এড়ান সাফনভ। কেইনের ক্রস কাজে লাগিয়ে বক্সে থাকা মাইকেল ওলিসে গোলবারে শট নেন। কিন্তু রাশিয়ান গোলকিপার তার সেই শট রুখে দেন।
২২তম মিনেট উসমান দেম্বেলে যে সহজ সুযোগ মিস করলেন, এর জন্য বহুদিন তাকে হতাশায় পুড়তেও হতে পারে। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে কেবল তিনি পান বায়ার্ন গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারকে। অথচ বারের বাইর দিয়ে শট নিয়ে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
সমতায় ফিরতি বেশি সময় নেননি খিচা কাভারাস্কাইয়া। বাঁ-পাশ থেকে একাই আক্রমণে ওঠেন জর্জিয়ান উইঙ্গার। ড্রিবলিং করে ডুকে পড়েন ডি বক্সে। এরপর স্তানিসিচকে বডি ডসে ঘায়েল করে বাঁকানো শটে কাঁপান জাল।
নিজেদের মাঠে ৩২তম মিনিটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসি জায়ান্টরা। বাঁ-পাশের কর্নার থেকে দেম্বেলের হাওয়ায় ভাসানো শট দারুণ টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে বলের দিশা বদলে দেন জোয়াও নেভেস। যা সরাসরি জালে আশ্রয় নেয়। লিগে এটি তাঁর দ্বিতীয় গোল।
পিএসজিকে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে দিল না বাভারিয়ানরা। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে স্কোরলাইন ২-২ করে ম্যাচে ফিরে অতিথিরা। আলেকজান্ডার পাভলোভিচের ছোট পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের প্রান্ত পর্যন্ত এগিয়ে যান মাইকেল ওলিসে। এরপর চমৎকার এক বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে সাফোনভকে হতাশ করেন তিনি। বায়ার্নের দারুণ এক আক্রমণে ম্যাচে ফিরে সমতা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সময়ের দেম্বেলের কর্নার থেকে নেওয়া লো-ক্রস ব্লক করতে যান আলফোনসো ডেভিস। কিন্তু বলটি তার হাতে লাগে। এরপর পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে পিএসজি। মুহূর্তে ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের পক্ষে যায় সিদ্ধান্ত। সেখান থেকে গোল আদায় করেন দেম্বেলে। সবমিলিয়ে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের (ফার্স্ট লেগ) মহারণে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও বায়ার্ন মিউনিখের শুরুর একাদশে বড় পরিবর্তন লক্ষণীয়। দুই দল ৮টি করে পরির্তন এনেছে।
মঙ্গলবার প্যারিসের পার্ক দে প্রাঁসে বাংলাদেশ সময় রাত একটা শুরু হবে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই। তার আগে ভিনসেন্ট কোম্পনি তার শুরুর একাদশে কোয়ার্টার ফাইনালের থ্রিলারে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে আসা সেই একাদশ থেকে দুটি পরিবর্তন এনেছেন। তবে গত শনিবার বুন্দেসলিগায় মাইনজের বিপক্ষে খেলা একাদশের তুলনায় আজ পরিবর্তন এসেছে আটটি।
ইনজুরিতে পড়া সার্জ গ্র্যানব্রির পরিবর্তে আজ শুরুর একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ তুর্কি জামাল মুসিয়ালা। অন্যদিকে কোনরাড লাইমারের জায়গায় রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন আলফোনসো ডেভিস।
গত ম্যাচে বুন্দেসলিগায় শুরুর একাদশে না থাকা হ্যারি কেইন, মাইকেল ওলিসে এবং স্তানিসিচ আজ আবারও মূল একাদশে ফিরেছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বায়ার্নের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেবেন কেইন-মুসিয়ালা জুটি।
আর লিভারপুলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ী একাদশটিই অপরিবর্তিত রেখেছেন লুইস এনরিকের পিএসজি। তবে গত উইকএন্ডে লিগ ওয়ানে অঁজের বিপক্ষে জয় পাওয়া দলটির তুলনায় আজ আটটি পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আজ পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামছে পিএসজি। যেখানে ফুল-ব্যাক পজিশনে ফিরেছেন নুনো মেন্দেস ও আশরাফ হাকিমি। অন্যদিকে দেজিরে দুয়ে, খিচা এবং উসমান দেম্বেলেকে নিয়ে গড়া হয়েছে এক ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগ।
বায়ার্ন মিউনিখের শুরুর একাদশ: ম্যানুয়েল নয়্যার, আলফোনসো ডেভিস, জোনাথন তাহ, দায়ো উপামেকানো, ইয়োসিপ স্তানিসিচ, আলেকজান্ডার পাভলোভিচ, জশুয়া কিমিচ, লুইস দিয়াজ, জামাল মুসিয়ালা, মাইকেল ওলিসে ও হ্যারি কেন।
পিএসজির শুরুর একাদশ: সাফনভ, নুনো মেন্দেস, উইলিয়াম পাচো, মার্কিনিয়োস, আশরাফ হাকিমি, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, এমরি, খিচা কাভারাস্কাইয়া, উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে।

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ২০১৪ ও ২০১৬ সালে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেও শিরোপায় চুমু আঁকার সুযোগ মেলেনি আতলেতিকো মাদ্রিদের। তবে কী অধরা সেই সাফল্য এবার ধরা দেবে লস রোজিবাঙ্কোসদের? বাতাসে বুঁধ হয়ে থাকা এমন প্রশ্নে বেশ আত্মবিশ্বাসী আতলেতিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে।
আতলেতিকোকে সেমিফাইনাল বাধা টপকেই তবে পৌঁছাতে হবে শিরোপার মঞ্চে। আর আর্সেনালে বিপক্ষে সেই সেমিফাইনাল দেয়াল যেন একটু বিশেষই আতলেতিকোর হয়ে সর্বোচ্চ ১১৬ ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারী কোকের কাছে। তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপ সেরা লিগের সেমিফাইনাল যেন প্রথম ডেটের মতোই রোমাঞ্চকর।
বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় মেট্রোপলিটানোতে শ্বাসরুদ্ধকর সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোকে বলেন, ‘ম্যাচের দিন যত ঘনিয়ে আসে, আমি ততই স্নায়ুচাপে ভুগি এবং পেটের ভেতর কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে। অনেকটা নতুন কোনো মেয়ের সাথে প্রথম ডেটে যাওয়ার অনুভূতির মতো।’
আতলেতিকোর হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে কোকে দুটি লা লিগা ও দুটি ইউরোপা লিগসহ মোট ৯টি বড় শিরোপা জিতেছেন। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগটা এখনও তার কাছে অধরা। ২০১৪ ও ২০১৬ সালের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তার। এটিই শিরোপা জেতার শেষ সুযোগ কি না—এমন প্রশ্নে কোকে আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, ‘আমি তেমনটা মনে করি না। তবে প্রতি বছর সেমিফাইনাল খেলা যায় না, তাই আমি এই মুহূর্তটা প্রাণভরে উপভোগ করতে চাই।’
চলতি মৌসুম শেষে আতলেতিকো ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব অরল্যান্ডো সিটিতে যোগ দেবেন ফরাসি তারকা আন্তোয়ান গ্রিজম্যান। ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গ্রিজম্যানের অবদান অসামান্য। পরিসংখ্যান বলছে, এই প্রতিযোগিতায় আতলেতিকোর হয়ে করা গোলগুলোর ২৪.২ শতাংশেই সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি (৪০ গোল, ১৬ অ্যাসিস্ট), যা এমনকি বার্সেলোনার হয়ে মেসির অবদানের (২৪.১ শতাংশ) চেয়েও বেশি।
অধিনায়ক কোকে মনে করেন, গ্রিজম্যানের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় হবে এক রাজকীয় বিদায়। তিনি বলেন, ‘সে যদি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে বিদায় নিতে পারে, তবে সেটি সবার জন্যই অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার হবে।’