২৯ আগস্ট ২০২৪, ৭:৪৬ এম

আইসিসি টেস্ট ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে তিনে থেকে নেমেছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে। পাকিস্তানের ভরাডুবির ম্যাচে বাবর আজম দুই ইনিংসেই সুবিধা করতে পারেননি। ফলে এক ধাক্কায় চলে গেছেন নয় নম্বরে। তবে এর মধ্যেও একটা ইতিবাচক দিক দেখছেন সাবেক পাকিস্তান ক্রিকেটার বাসিত আলি। তার দাবি, এতে বরং দ্বিতীয় টেস্টে আরও ভালো করার জন্য বেশি ক্ষুধার্ত থাকবেন বাবর।
প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে পাকিস্তান গড়ে ৬ উইকেটে ৪৪৮ রানের স্কোর। তবে নিদারুন ব্যর্থ হয়ে বাবর আউট হন শূন্য রানে। আবার দ্বিতীয় ইনিংসে পরাজয় বাঁচাতে দল যখন দিকে তাকিয়ে ছল বড় ইনিংসের জন্য, সেই দফায় এই ডানহাতি ব্যাটার করতে পারেন ২২ রানে। তাতে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বড় একটা অবনতি হয়েছে তার। তবে ওয়ানডেতে ধরে রেখেছেন শীর্ষ অবস্থান।
তবে বাসিত আলি তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, কোনো ফরম্যাটেই র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর বা শীর্ষে থাকা বাবরের জন্য ভালো নয়। “আমার কাছে সবচেয়ে বড় খবর হল বাবর আজম (টেস্ট ব্যাটারদের) আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে নেমে গেছেন। এটা বাবর আজমের জন্য খুবই ভালো হয়েছে। ওয়ানডেতেও তার র্যাঙ্কিং নিচে নামা দরকার। ওয়ানডেতে তিনি আদতে এক নম্বর ব্যাটার নন। এখন বাবর ক্ষুধার্ত হবে। সে যদি এখনও পারফর্ম করার জন্য ক্ষুধার্ত না থাকে, তাহলে এটা তার অনেক ক্ষতি করবে। দ্বিতীয় টেস্টের আগে আইসিসি র্যাঙ্কিং ঘোষণা করাটা বাবরের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে।”
আগামী শুক্রবার থেকে রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্ট। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ জেতে ১০ উইকেটে, যা এই ফরম্যাটে প্রতিদেশী দেশটির বিপক্ষে তাদের প্রথম জয়।
বাংলাদেশের এই জয় আর পাকিস্তানের শোচনীয় পরাজয়ে বাবরের র্যাঙ্কিংয়ে পতন হলেও বড় উন্নতি হয়েছে টাইগারদের জয়ের নায়ক মুশফিকুর রহিমের। প্রথম ইনিংসে ১৯১ রান করে অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ক্যারিয়ার সেরা রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এখন উঠে এসেছেন ১৭তম স্থানে।
No posts available.
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। নতুন এই চুক্তিতে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পুরস্কারের পাশাপাশি ব্যর্থতার জন্য বেতন কাটার মতো কঠোর নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে।
এখন থেকে যেকোনো ফরম্যাটে সিরিজ হারলে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ বেতন কেটে নেওয়া হবে। বোর্ড মনে করছে, এই কঠোর সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের মাঠে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে।
এমনকি সিরিজ জয়ের বোনাসকেও কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। আগের নিয়মে র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর দল পর্যন্ত সিরিজ জয়ের বোনাস থাকলেও, এখন তা কমিয়ে শীর্ষ ৪-এ আনা হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে এক নম্বর দলের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে সিরিজ জিতলে পুরো দল পাবে ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। র্যাঙ্কিং অনুযায়ী দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দলের জন্য এই বোনাস যথাক্রমে ১ লাখ ৫ হাজার, ৭৫ হাজার এবং ৬০ হাজার ডলার।
নতুন চুক্তিতে দেশের মাটি এবং বিদেশের মাটিতে জয়ের বোনাসে বড় বৈষম্য রাখা হয়েছে। ওয়ানডে ফরম্যাটে বিদেশের মাটিতে এক নম্বর দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেওয়া হলেও, দেশের মাটিতে একই সাফল্যের জন্য দেওয়া হবে ৭৫ হাজার ডলার। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সব ভেন্যুতে বোনাসের পরিমাণ একই রাখা হয়েছে।
নেতৃত্বের অতিরিক্ত দায়িত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচে অধিনায়ক ১০০০ ডলার এবং টি-টোয়েন্টিতে ৫০০ ডলার বাড়তি সম্মানী পাবেন। এছাড়া আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠতে পারলে দলকে ২৫ হাজার ডলার এবং ২ থেকে ৫ নম্বরে থাকতে পারলে ২০ হাজার ডলার এককালীন বোনাস দেবে বোর্ড।
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্রিকেটারদের হাতে এই নতুন চুক্তিনামা তুলে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড।

ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টিতেও নিউ জিল্যান্ড দলে নেই মূল ক্রিকেটারদের বেশিরভাগ। আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততায় বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দ্বিতীয় সারির দল নিয়েই খেলবে কিউইরা।
তবে এটিকে তেমন সমস্যা মনে করেন না নিউ জিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তার মতে, ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিতে খেলার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে তার দলের ক্রিকেটারদের। সেই অভিজ্ঞতায় ভর করেই টি-টোয়েন্টিতে লড়াই করার আশা ল্যাথামের।
ফেব্রুয়ারি-মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা ইশ সোধি শুধু আছেন বাংলাদেশ সিরিজের দলে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে সোধি ছাড়া আছেন শুধু ল্যাথাম। বাঁহাতি এই ব্যাটারও গত তিন বছরে খেলেছেন শুধু ৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
তবে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেই ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ৭টি ছক্কা মেরে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। এছাড়া নিক কেলি, নাথান স্মিথরাও ওয়ানডে সিরিজে ছিলেন দারুণ ছন্দে। এর বাইরে কাটেন ক্লার্কের মতো রোমাঞ্চকর ব্যাটাররাও আছেন দলে।
আরও পড়ুন
| অধিনায়ক হিসেবে আমি অনেক স্বাধীন: লিটন |
|
তাদের ওপর ভরসা রাখছেন ল্যাথাম। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগের দিন নিজ দলের ক্রিকেটারদের ঘরোয়া অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন কিউই অধিনায়ক।
“আমার মনে হয় (টি-টোয়েন্টি দলটাও) অনেকটা ওয়ানডের মতোই। আমাদের দলের ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা হয়তো কম। তবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের অভিজ্ঞতা অনেক। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিজ্ঞতা কম হলেও, ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে তারা যে অভিজ্ঞতা পেয়েছে, সেটি কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।”
“সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তারা যে সুযোগ পেয়েছে, সেটি টি-টোয়েন্টিতে বয়ে আনতে পারলে দারুণ হবে। আমাদের দলের কয়েকজনের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। যেখানে তারা অনেক ভালো ক্রিকেটারদের মোকাবিলা করেছে, নামি আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে খেলেছে।”
ওয়ানডে সিরিজে প্রথম ম্যাচ জিতেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ হেরে গিয়েছিল নিউ জিল্যান্ড। এবার নতুন আশায় টি-টোয়েন্টির লড়াইয়ের অপেক্ষায় ল্যাথাম।
“আমার মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছেলেদের আছে। সবাই এই ফরম্যাটে খেলতে ভালোবাসে। এটি খুবই গতিময়, বিনোদনে ভরপুর ও আনন্দের ফরম্যাট। তো হ্যাঁ, এই সিরিজটি খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।”
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সন্ধ্যার বদলে দুপুর ২টায় শুরু হবে খেলা।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের ব্যাটিংয়ে বেশ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। গত বছর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে লিটন কুমার দাসের দল। সেই ধারা অব্যাহত রাখতে এবার স্পিনারদের কাছ থেকেও ব্যাটিংয়ে কিছু রানের চাহিদা জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দুপুর ২টায় মাঠে গড়াবে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এর আগে রোববার সকাল থেকে অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজ দলের দুর্বলতা জানাতে গিয়ে স্পিনারদের কাছ থেকে ব্যাটিংয়ের দাবি জানিয়ে রাখেন লিটন।
আরও পড়ুন
| অধিনায়ক হিসেবে আমি অনেক স্বাধীন: লিটন |
|
“দলের দুর্বলতার কথা যদি বলেন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তো আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হয়। তাই ২-১টা উইকেট দ্রুত পড়বেই। তাই আমাদের মূল চিন্তা হলো, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন- মানে যারা স্পিন বোলিং করে, তাদের কাছ থেকে যদি আমরা ব্যাটিংটা পাই... আর অলরাউন্ডাররা যদি ব্যাটিং দিতে পারে, তাহলে একটা ভালো ব্যাটিং অর্ডার তৈরি হবে।”
“বড় দলগুলোতে ৯ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং ডেপথ থাকে। আমরা যদি সেই ডেপথ তৈরি করতে পারি, তবে আমাদের ওপরের ব্যাটসম্যানরা আরও স্বাধীনভাবে নিজেদের খেলা খেলতে পারবে।”
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ বা সাম্প্রতিক সময়ে লেজের সারির ব্যাটারদের কাছ থেকে তেমন রান পায়নি বাংলাদেশ। তাদের কাছ থেকে খুব বেশি চাওয়া নেই অধিনায়ক লিটনেরও। ব্যাটার ও অলরাউন্ডাররা রান করলেই কাজ হয়ে যাবে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
“টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যে ৫ বোলার ধরছি, তাদের মধ্যে শরিফুল (ইসলাম) ও রিপন মন্ডল বাদে বাকিরা মোটামুটি ব্যাটিং পারে। (শরিফুল-রিপন) যদি ৫-৬ রান করে দিতে পারে, তাহলেই হবে। আমরা যে দল তৈরির চেষ্টা করছি, তারা যদি নিজেদের মতো পারফর্ম করতে পারে তবে এই সমস্যা থাকবে না।

লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। তার নেতৃত্বেই ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ। দলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য টিম ম্যানেজমেন্ট ও বিসিবি থেকে পূর্ণ স্বাধীনতাই পাচ্ছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
লিটনের অধিনায়কত্বে এখন পর্যন্ত ২৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে জয় ১৫টি, আর হেরেছেন ১৩ ম্যাচে। জয়-পরাজয়ের হারে তিনিই বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক। তাই ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত লিটনকেই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়, অধিনায়করা নিজেদের মতো করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সাজাতে পারেন না। সেদিক থেকে এখন পর্যন্ত ব্যতিক্রম লিটনের দায়িত্ব। তিনি সরাসরিই বলেছেন, পূর্ণ স্বাধীনতাই পাচ্ছেন তিনি।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের আগে আরেকটি চোট, দুশ্চিন্তায় জার্মানি |
|
চট্টগ্রামে সোমবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কত্ব নিয়ে ইতিবাচক কথাই বলেন লিটন।
“(অধিনায়ক হিসেবে) আমি অনেক স্বাধীন। আমি আমার মতো করেই টিম গোছাচ্ছি। এর সঙ্গে নির্বাচক আছেন, কোচ আছেন। আমাদের সবার পরিকল্পনার মাধ্যমেই আমরা দলটাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিসিবি ভেঙে দেওয়ার পর তামিম ইকবালের অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নিয়েই লিটনকে ২০২৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের আগে লিটনের সঙ্গে তেমন কথা হয়নি বোর্ডের।
নতুন মেয়াদে দায়িত্ব পেয়ে বিশ্বকাপের জন্য ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার আশার কথাই বলেছেন লিটন।
“সত্যি বলতে, খুব একটা কথা হয়নি। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাকে তারা মনে করেছে আমি যোগ্য প্রার্থী এখানের জন্য। আমি আমার কাজ করার চেষ্টা করব। যেভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, যেহেতু এখন যথেষ্ট সময় আছে, প্রস্তুতি সেভাবে থাকবে।”
লিটনের অধিনায়কত্বে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু নিরাপত্তাশঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাঠে গিয়ে খেলার অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার।
তাই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয় ক্রিকেটারদের। লিটন জানালেন, সেই আক্ষেপ ভুলে সামনের জন্য উঠে দাঁড়িয়েছেন দলের ক্রিকেটাররা।
“আমার মনে হয়, অবশ্যই সবাই মুভ অন করেছে। কারণ বিশ্বকাপের সময়ে আমরা একটা টুর্নামেন্টও খেলেছি যেখানে সবাই চেষ্টা করেছে ভালো ক্রিকেট খেলার।”
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের আগে আরেকটি চোট, দুশ্চিন্তায় জার্মানি |
|
“আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটা ম্যাচই প্রত্যেকটা ক্রিকেটারের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবাই ওভাবেই চিন্তা করবে। বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য যা যা করণীয় দরকার, জেতার যে মানসিকতা দরকার, সেটা নিয়ে মাঠে নামবে।”
অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে হবে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেখানকে উইকেট-কন্ডিশন বিবেচনা করে যথাযথ প্রস্তুতি নিতে চান লিটন।
“আমাদের মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপ। সেটা তো আমরা জানি যে এশিয়াতে না। তাই সেভাবে চিন্তাভাবনা করব। আর অবশ্যই যেহেতু আমাদের একটা বন্ডিং হয়েছিল খুবই ভালো, সবশেষ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতিও খুব ভালো ছিল। চেষ্টা করব ওখান থেকেই যেন এই দলটাকে ভালো করে ধরে রাখা হয়।”

ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত প্রস্তুতি নিয়েও সবশেষ বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বাংলাদেশের। তাই প্রায় ৫ মাস ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বাইরে লিটন কুমার দাসের দল। নতুন চেহারার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ১৪৬ দিন পর এই সংস্করণে ফিরবে তারা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সন্ধ্যার বদলে দুপুর ২টায় শুরু হবে খেলা। এই সিরিজ দিয়ে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার পথচলা শুরু হবে বাংলাদেশের।
অথচ ব্যাটে-বলে ও ফিল্ডিংয়ে রেকর্ডময় বছর কাটিয়ে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা দারুণভাবে নিয়েছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হওয়া ওই টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়া হয়নি লিটন, তানজিদ হাসান তামিমদের।
আরও পড়ুন
| বিস্ময় বালক সূর্যবংশীর জন্য ‘লারার পথ’ ধরার পরামর্শ |
|
বিশ্বকাপের আগের বছরটি দুর্দান্ত কেটেছিল বাংলাদেশের। ৩০ ম্যাচের ১৫টি জিতেছিল তারা। সিরিজ হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোকে। সব মিলিয়ে ওই বছরে ২৩টি ফিফটির পাশাপাশি ১টি সেঞ্চুরিও করেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
সবচেয়ে বেশি উন্নতি দেখা যায় ছক্কা মারার সামর্থ্যে। বছরজুড়ে মোট ২০৬টি ছক্কা মারেন ব্যাটাররা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১টি ছক্কা মারেন তামিম। কম যাননি পারভেজ হোসেন ইমন (৩৪), সাইফ হাসান (২৯), লিটনরাও (২৩)।
নির্দিষ্ট বছরে দুইশর বেশি ছক্কা মারা চতুর্থ দেশ হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। তাদের আগে এই কীর্তি ছিল ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের।
২০২৫ সালে বল হাতেও কম যাননি রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমানরা। সর্বোচ্চ ৩৩ উইকেট নেন রিশাদ। এছাড়া অন্তত ২০ উইকেট নেন আরও ৪ বোলার- মোস্তাফিজ (২৬) তাসকিন আহমেদ (২৪), তানজিম হাসান সাকিব (২৩) ও শেখ মেহেদি হাসান (২২)।
সব মিলিয়ে যথাযথ প্রস্তুতিই ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার জন্য। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি দেয়নি তৎকালীন সরকার। আর বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু সরিয়ে নেওয়ার দাবি মেনে নেয়নি আইসিসি। ফলে লিটন-সাইফদের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়।
সেই তিক্ত স্মৃতি ভুলে এবার নতুন পথচলা শুরুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে হবে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যেখানে বেশিরভাগ উইকেটই হবে ব্যাটিংবান্ধব, পেসারদের জন্যও থাকবে সহায়তা।
চট্টগ্রামে প্রথাগতভাবে মোটামুটি তেমন উইকেটেই খেলে থাকে বাংলাদেশ। যেখানে তুলনামূলক ব্যাটিং সহায়ক হয় উইকেট। চট্টগ্রামের মাঠে দিনে হওয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথম ইনিংসের গড় রান ১৬৩। ওয়ানডে সিরিজে ছন্দে থাকা তামিম, লিটনদের জন্য এটি হতে অনুপ্রেরণাদায়ক।
দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা ছাড়াও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে নিউ জিল্যান্ডের অপরিচিত ক্রিকেটাররাও। গত বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা ইশ সোধি শুধু আছেন এই সিরিজের দলে।
টম ল্যাথামের নেতৃত্বে রীতিমতো নতুন চেহারার দল নিয়েই ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজটি খেলতে নামবে কিউইরা। আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততায় নিয়মিত একাদশের প্রায় কাউকেই পাবে না সফরকারীরা।
আরও পড়ুন
| আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড পাঞ্জাবের |
|
দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে সোধি ছাড়া আছেন ল্যাথাম। বাঁহাতি এই ব্যাটারও গত তিন বছরে খেলেছেন শুধু ৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তাই বলে দলের সামর্থ্যবান ক্রিকেটারের কোনো কমতি নেই তাদের।
ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেই ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ৭টি ছক্কা মেরে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। এছাড়া নিক কেলি, নাথান স্মিথরাও ওয়ানডে সিরিজে ছিলেন দারুণ ছন্দে। এর বাইরে কাটেন ক্লার্কের মতো রোমাঞ্চকর ব্যাটাররাও আছেন দলে।
সব মিলিয়ে নতুন চেহারার প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে নেমে সতর্ক থাকা ছাড়া উপায় নেই বাংলাদেশের। এছাড়া স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণেও নেই অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত তারকারা। বিশ্রাম দেওয়ায় টি-টোয়েন্টি সিরিজটিতে নেই তাসকিন, মোস্তাফিজ ও নাহিদ রানা।
প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলার সামনে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও রিপন মন্ডল। এছাড়া পেস বিভাগে আছেন তানজিম হাসান সাকিব ও শরিফুল ইসলাম। মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে দেখা যেতে পারে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে।
বাংলাদেশের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হতে পারে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ দুই সিরিজের ফল। ২০২১ সালে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে কিউইদের ৩-২ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। আর ২০২৩ সালের সফরে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে তিন ম্যাচের সিরিজ।
সব মিলিয়ে অবশ্য বেশ এগিয়ে কিউইরা। দুই দলের প্রথম চার সিরিজের সবকটিই জিতেছিল তারা। তবে সবশেষ দুই সিরিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেই ২০২৮ বিশ্বকাপের পথচলা শুরুর সিরিজটি ইতিবাচকভাবেই করতে পারবে বাংলাদেশ।