
১২১ রানের টার্গেটটাকেও তখন পাহাড়সম মনে হচ্ছিল। দাসুন হেমান্থার এক ওভারেই তিন উইকেট হারিয়ে রংপুরের ডাগ আউটে তখন ম্যাচ হারের শঙ্কা। ৩৯ রানে ৬ উইকেট হারানো দলটার হাল ধরলেন বাবর আজম।
গতকাল রাতেই ঢাকায় এসে পৌছেছেন। ভ্রমণ ক্লান্তি ছাপিয়েই দলের প্রয়োজনে আজ মাঠে নেমেছেন। মাঠে নেমেই নিজের ক্লাস দেখালেন পাকিস্তানের এই ব্যাটার। মিরপুরের উইকেটে দুই দলের ব্যাটাররাই ভুগেছে। এরইমাঝে কাজেরকাজটা করে দিয়েছেন বাবর।
আরও পড়ুন: সিলেটকে ১২০ রানেই থামিয়েছে রংপুর
আগে ব্যাট করতে নামা সিলেটেরও হয়েছিল একই হাল। মাত্র ৩৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটা। সেখান থেকে সিলেটের হাল ধরেন বেনি হাওয়েল ও বেন কাটিং। দুজনের ৬৮ রানের জুটিতেই ১২০ রান করতে পেরেছিল সিলেট।
রংপুরের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন শেখ মেহেদী। এই স্পিনার মাত্র ১৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। রিপন মন্ডলও ২ উইকেট নিয়েছেন ১৯ রান খরচ করে। তানজিম সাকিব, নাজমুল অপুরাও নিয়েছেন ১ টি করে উইকেট। 
তবে ব্যাট করতে নেমে আবার ধুকতে হয়েছে রংপুরকে। একপ্রান্ত থেকে বাবর ছাড়া আর কেউই টিকে থাকতে পারেননি। প্রথম সাত ব্যাটারের আর কেউই করতে পারেননি দুই অংকের স্কোরও। বাবরকে শেষ পর্যন্ত সঙ্গ দেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
এই দুজনে মিলেই দলকে নিয়ে গেছেন জয়ের বন্দরে। ৩৯ রানে ৬ উইকেট হারানো দলটা আর কোনো উইকেট না হারিয়েই ম্যাচ জিতেছে। দলকে জেতানোর পাশাপাশি নিজের অর্ধশতকও পূরণ করেন বাবর। এই ব্যাটার ৪৯ বল থেকে করেছেন ৫৬ রান।
আরও পড়ুন: জাকির ঝড়ে সিলেটের ১৭৭
বাবরকে যথাযথ সঙ্গ দেয়া ওমরজাই ৩৫ বল থেকে করেছেন ৪৭ রান। দারুণ এক ছয় মেরে দলকে জেতান আফগানিস্তানের এই ক্রিকেটার। ফলে বাবর ও ওমরজাইয়ের ব্যাটে চড়েই ১০ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয় পায় রংপুর রাইডার্স। প্রথম ম্যাচ হারের পর তাই দারুণ ভাবেই ঘুরে দাঁড়ালো দলটা।
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সর্বশেষ খেলার আপডেট জানতে চোখ রাখুন টি স্পোর্টসে এছাড়া ফেসবুকে আমাদের ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন ও ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।
No posts available.
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৬:০৯ পিএম
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৫:১৬ পিএম
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম

ওপরের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতা সামলে চমৎকার ব্যাটিং করলেন আকবর আলি ও প্রিতম কুমার। দুই ব্যাটারই পেলেন সেঞ্চুরির স্বাদ। অন্য মাঠে আরেক ম্যাচে একই সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেন মুশফিকুর রহিম ও অমিত হাসান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে দ্বিতীয় দিন দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন আকবর ও প্রিতম। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ১৫১ রানে অপরাজিত প্রিতম। আর ১২১ রানে আউট হয়েছেন আকবর।
দুজনের সেঞ্চুরির সৌজন্যে দ্বিতীয় দিন শেষে দক্ষিণাঞ্চলের চেয়ে ৬৫ রানে এগিয়ে উত্তরাঞ্চল। আগে ব্যাট করে ৩১৪ রানে অলআউট হয় দক্ষিণাঞ্চল। আর এখন পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৭৯ রান করেছে উত্তরাঞ্চল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে বিনা উইকেটে ১৬ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে উত্তরাঞ্চল। দিনের শুরুতে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫), সাব্বির হোসেন (১৮) ও ইকবাল হোসেন (৯)।
মাত্র ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন আকবর ও প্রিতম। ম্যারাথন এই জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ২৩৩ রান। দিনের শেষ সেশনে গিয়ে আকবরের বিদায়ে ভাঙে বিশাল এই জুটি।
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরিতে ১৫ চার ও ২ ছক্কায় ১৫৮ বলে ১২১ রান করেন উত্তরাঞ্চলের অধিনায়ক।
আকবর ফিরলেও অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন প্রিতম। তবে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি এসএম মেহেরব হাসান (২) ও তানবীর হায়দার (১৯)। তবে দিনের শেষ দিকে উইকেট পড়তে দেননি প্রিতম ও সানজামুল ইসলাম। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৪৯ রান যোগ করেন তারা।
দিন শেষে ১৬ চার ও ২ ছকায় ১৮৪ বলে ১৫১ রানে অপরাজিত প্রিতম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার পঞ্চম সেঞ্চুরি। সানজামুলের সংগ্রহ ৩৯ বলে ২২ রান।
অমিত-মুশফিকের ফিফটি
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিন শেষে মধ্যাঞ্চলের চেয়ে ৬৪ রানে পিছিয়ে রয়েছে পূর্বাঞ্চল। তবে অমিত ও মুশফিকের ব্যাটে দারুণ অবস্থায় তারা। দ্বিতীয় দিন শেষে পূর্বাঞ্চলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৪৩ রান। এর আগে ৩০৭ রানে অলআউট হয় মধ্যাঞ্চল।
৬ উইকেটে ২৭২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে মধ্যাঞ্চল। দিনের দ্বিতীয় ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন আবু হায়দার রনি। আগের দিন ৯০ রান করা পেস বোলিং অলরাউন্ডার আর এদিন কোনো রান যোগ করতে পারেননি।
তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটার আশিকুর রহমান শিবলিও সম্ভাবনা জাগিয়ে সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ৯ চার ও ১ ছক্কায় ১৮২ বলে ৮৬ রান করে আউট হন তিনি। সব মিলিয়ে এদিন ৩৫ রানের বেশি করতে পারেনি মধ্যাঞ্চল।
পূর্বাঞ্চলের পক্ষে ৫৪ রানে ৪ উইকেট নেন ইবাদত হোসেন চৌধুরি। এছাড়া ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন তোফায়েল আহমেদ।
এরপর ব্যাট করতে নেমে বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি জাকির হাসান (১৩) ও মুমিনুল হক (১৫)। তৃতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন মাহমুদুল হাসান জয় ও অমিত। ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৪ রান করে আউট হন জয়।
এরপর আর উইকেট পড়তে দেননি অমিত ও মুশফিক। দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে যোগ করেছেন ১১৫ রান। দিন শেষে ১৫৭ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত অমিত। আর ৮৩ বলে ৫৯ রানে নতুন দিন শুরু করবেন মুশফিক।

প্রথম দুই ওয়ানডেতে একটি করে জয় বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের। ১-১ সমতায় থাকায় সিরিজ ছড়াচ্ছে রোমাঞ্চ। চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম কাল অঘোষিত ফাইনালে দেখা হচ্ছে মিরাজ-লাথামদের।
তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়াও দারুণ খেলছে নিউ জিল্যান্ড। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে উইলিয়াম ও’রুরকি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিরিজ জয়ই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আজ এই পেসার কিছুটা হুঙ্কারই ছুঁড়লেন, ‘অবশ্যই, আমরা এখানে এসে সিরিজ জিততে চাই এবং বিষয়টি নিয়ে আমরা সবাই বেশ রোমাঞ্চিত। সবাই খুব ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা কাল মাঠে নিজেদের সেরাটা দেব এবং সিরিজ জেতার লক্ষ্যেই নামব।’
সাগরিকার উইকেট ঐতিহ্যগতভাবেই ব্যাটিং সহায়ক। তবে এবার পিচে কিছুটা ঘাসের ছোঁয়া দেখছেন এই কিউই দীর্ঘদেহী পেসার। উইকেট ও আউটফিল্ড প্রসঙ্গে বলেন, ‘মাঠ বেশ শুকনোই মনে হচ্ছে। তবে উইকেটটি দেখে আমার ভালো লেগেছে, মনে হলো বেশ কিছু ঘাস আছে। আশা করি গতি ও বাউন্স দুটোই পাওয়া যাবে। আসল চিত্র কালকেই বোঝা যাবে।’
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে আসা পরিবর্তনের বিষয়টিও নজর কেড়েছে রুরকির। এক সময় স্পিন-নির্ভর থাকলেও বর্তমানে নাহিদ রানার মতো গতির বোলার ও মোস্তাফিজুর রহমানের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ বাংলাদেশের পেস ইউনিট। রুরকি বললেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তারা ভালো মানের পেস উইকেট বানাবে। তাদের বর্তমানে বেশ ভালো কিছু পেসার আছে। গত ম্যাচে রানা খুব ভালো করেছে, মোস্তাফিজের মতো বিশ্বমানের বোলারও সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তাদের পেস আক্রমণ এখন বেশ শক্তিশালী।’
নিউ জিল্যান্ডের এই বর্তমান দলটি বেশ তরুণ, যাদের অনেকেরই বাংলাদেশে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। তবুও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে জয়ের পথ খুঁজছেন তারা। রুরকি বলেন, ‘আমাদের অনেকেরই আগে বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তাই আমরা জানতাম যে প্রতিটা দিন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হবে। কালও আমরা উইকেটের আচরণ দ্রুত বুঝে নিয়ে সেই অনুযায়ী সেরা পরিকল্পনাটি ঠিক করার চেষ্টা করব।’
কিউইদের হুঙ্কারের বিপরীতে বাংলাদেশ দলও প্রস্তুত। প্রথম ওয়ানডে হারলেও দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। ১১ বছর পর আবারও ব্লাকক্যাপস বধের হাতছানি স্বাগতিকদের সামনে।

মাদক গ্রহণের অভিযোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) তদন্তের মুখে রয়েছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নেওয়াজ। এ ঘটনার জেরে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘ভাইটালিটি ব্লাস্টে’ সারের হয়ে তাঁর চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে।
বুধবার ক্রিকেট–বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিসিবি’র একজন মুখপাত্র ক্রিকইনফোকে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নেওয়াজের বিষয়টি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) অবহিত করেছে এবং পিসিবি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল আজই আইসিসিকে জানানো হবে।
বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় করা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে নেওয়াজের। ৩২ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সাতটি ম্যাচেই খেলেছিলেন, যেখানে পাকিস্তান সুপার এইট পর্ব থেকে বিদায় নেয়। আসরে ১৫ রান করার পাশাপাশি সাতটি উইকেট শিকার করেন তিনি।
নেওয়াজ ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব সারেতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। আগামী ২৬ মে থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট’-এ পুরো সময় খেলার কথা ছিল তার। দুই সপ্তাহ আগেই পিসিবি তাকে অনাপত্তিপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছিল এবং চলতি সপ্তাহেই সারেতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের খবর জানানোর পরিকল্পনা করেছিল। শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি বাতিল হয়ে গেছে।
বর্তমানে পিএসএলে মুলতান সুলতানসের হয়ে খেলছেন নেওয়াজ। মঙ্গলবার করাচিতে রাওয়ালপিন্ডি’র বিপক্ষে ছয় উইকেটের জয়ে তিনি তিন ওভার বোলিং করলেও কোনো উইকেট পাননি।

মিরপুরে প্রথম দুই ওয়ানডেতে দেখা গেছে ভিন্ন দুই আচরণের উইকেট। তাই চট্টগ্রামে তৃতীয় ম্যাচ শুরুর আগেও আলোচনার বড় অংশ জুড়ে পিচ। কেমন হবে সাগরিকার উইকেট, সেটি নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। সে বিষয়ে ধারণা দিয়েছেন শন টেইট ও উইল ও'রোক।
প্রথম দুই ম্যাচে একটি করে জিতে সমতা নিয়ে চট্টগ্রামে গেছে বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ড। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে নামবে দুই দল।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে উইকেট নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে কিছুটা রহস্যই রেখে দেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ টেইট।
“উইকেটটা দেখতে ভালোই লাগছে, তবে আসলে কেমন আচরণ করবে সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। সাধারণত চট্টগ্রামের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ সহায়ক হয়। যদিও মাঝে মাঝে বল নিচু হয়ে আসতে পারে।”
“তবে আমি খুব বেশি আগে থেকে উইকেট নিয়ে বিশ্লেষণ করতে চাই না। আমরা ভালো এক জয়ের পর এখানে এসেছি। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সামনে যা আছে, সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই আসল। আমি উইকেট বিশেষজ্ঞ নই, এটা স্বীকার করতেই হবে।”
এমনিতে চট্টগ্রামে বরাবরই মেলে রানের দেখা। ব্যাটারদের জন্য স্বর্গ হিসেবেই পরিচিত সাগরিকার এই মাঠ। টেইট বললেন, ভালোভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে শেষ ম্যাচের উইকেট।
“এখানে স্কয়ারটা বেশ ভালো দেখাচ্ছে। আজ কিউরেটরের সঙ্গে কথা হচ্ছিল- তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে এখানে খুব বেশি খেলা হয়নি। তাই উইকেট ভালোভাবে প্রস্তুত করার সময় ও সুযোগ পেয়েছেন তারা।”
এসময় বাংলাদেশের মাঠের উইকেটের আচরণ নিয়ে রহস্য থাকার বিষয়টি উপভোগ করার কথাও বলেন টেইট।
“আগেও বলছিলাম, চট্টগ্রামে সাধারণত ভালো ব্যাটিং উইকেটই পাওয়া যায়, যদিও কখনো কখনো বল নিচু হয়। কিন্তু গত এক বছরে এখানে যত উইকেট দেখেছি, তার মধ্যে এটাকে সবচেয়ে ভালো মনে হচ্ছে। কাল ম্যাচে আসল চিত্রটা বোঝা যাবে।”
“বাংলাদেশে একটা জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি, এখানকার উইকেট বোঝা সত্যিই কঠিন, বিশেষ করে মিরপুরে। যেমন প্রথম ম্যাচ আর দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট একেবারেই আলাদা ছিল। হয়তো এটাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সৌন্দর্য।”
টেইটের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন নিউ জিল্যান্ডের পেসার উইল ও'রোক। উইকেট ও আউটফিল্ড দেখে তার ধারণা, ঘাস থাকায় সব মিলিয়ে ভালো হবে উইকেট।
“আউটফিল্ড একটু শুষ্ক মনে হচ্ছে, হয়তো দ্রুতগতির হবে। বল ফিল্ডার পেরিয়ে গেলে দ্রুত বাউন্ডারিতে পৌঁছে যেতে পারে। উইকেট কিছুটা ঘাস দেখা যাচ্ছে, তাই আশা করছি একটু পেস আর বাউন্স থাকবে। কালই আসলে বোঝা যাবে। আমরা আমাদের ফিল্ডিং নিয়ে গর্ব করি। আগামীকাল সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার চেষ্টা করব।”

ব্যাট হাতে লড়াই করলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। তবু বাকিদের ব্যর্থতায় মিলল না বড় পুঁজি। অল্প রান নিয়েও বল হাতে চেষ্টা করলেন নাহিদা আক্তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পক্ষে এলো না ফল। অনায়াস জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল শ্রীলঙ্কা।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল। আগে ব্যাট করে ১৬৫ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। জবাবে ৭০ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জেতে লঙ্কানরা।
এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে শ্রীলঙ্কা। একই মাঠে আগামী শনিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে লড়বে দুই দল।
ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল বেশ বাজে। মাত্র ৪ রানের মধ্যে ফিরে যান জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা (২) ও আগের ম্যাচের নায়ক শারমিন আক্তার সুপ্তা (২)।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন শারমিন সুলতানা ও জ্যোতি। আশা জাগিয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি শারমিন (২৬)। আগের ম্যাচে ভালো ব্যাটিং করা সোবহানা মোস্তারিও (৫) এদিন টিকতে পারেননি।
পরে আর কাউকে সঙ্গী হিসেবে পাননি জ্যোতি। একপ্রান্ত আগলে রেখে রয়েসয়ে ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ৪ চারে ১০১ বলে ৫৮ রান করে আউট হন অভিজ্ঞ এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
এছাড়া নাহিদা (২০), স্বর্ণা আক্তার (১৭) ও রাবেয়া খানরা (১৫) ছোট ছোট অবদান রাখেন।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৩৬ রানে ৩ উইকেট নেন অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন মালকি মাদারা, ইনোকি রানাভিরা ও নিমাশা মিপাগে।
রান তাড়ায় পঞ্চাশের আগে দুই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের পথে রাখেন আতাপাত্তু। ৮ চারে ৩৯ বলে ৪০ রানের ইনিংস আসে তার ব্যাট থেকে। ৭৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় লঙ্কানরা।
এরপর চতুর্থ উইকেটে ৭৭ রানের জুটিতে সফরকারীদের এগিয়ে দেন হার্শিতা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারত্নে। তারা জয় থেকে মাত্র ১০ রান দূরে থাকতে নাটকীয়তার জন্ম দেন নাহিদা। দুই ওভারে তিনি নিয়ে নেন ৩ উইকেট।
তবে জয় পেতে সমস্যা হয়নি শ্রীলঙ্কার। হার্শিতা ৫০ ও হানসিমা করেন ৪০ রান।
বাংলাদেশের পক্ষে ২১ রানে ৪ উইকেট নেন নাহিদা।