২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৪:৫৮ এম

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের যাত্রাটা খুব একটা সুখকর ছিল না। সুপার ফোরে ভারতের বিপক্ষে একটা ম্যাচ জিতে মান বাঁচিয়েছে দল। এর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজও হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ফলে চারিদিকেন গুঞ্জন বিশ্বকাপে সত্যিই ভালো করতে পারবে তো এই দলটা?
এমনকি বাংলাদেশের দলের হেড কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহেও খুব একটা আশা না রাখার পক্ষেই। এসবকিছুই বাইরে থেকে দেখেছেন তামিম ইকবাল। যদিও তামিম ইকবাল অধিনায়ক থাকা অবস্থায় বারবারই বলেছেন তাঁর দল ভালো করতে চায় বিশ্বকাপে।
আরও পড়ুন: ব্যাট করতে নেমে নার্ভাস ছিলেন তামিম!
তবে এখন পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় খানিকটা অবাক হয়েছেন তামিম ইকবাল। আশেপাশের এই কথাগুলোয় অবাক হয়েছেন তামিম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,’ কিছু কিছু কমেন্ট শুনে অবাক হয়েছি আমি। তবে আমি অবশ্যই মনে করি আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে। যদি স্বপ্ন না দেখতো তাহলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিততো না বাংলাদেশ। আপনার যদি স্বপ্নই না থাকে তাহলে আমি সেটা অর্জন করবেন কীভাবে?’

তামিম আরো যোগ করেন,’এটা আমাদের সপ্তম বিশ্বকাপ। এখনো যদি স্বপ্ন না দেখি তাহলে আর কবে দেখব? স্বপ্ন দেখা মানে তো আর সেটার নিশ্চয়তা নেই। তবে আপনার মধ্যে সেই স্বপ্নটা থাকা দরকার। আমরা হয়তো এই বিশ্বকাপে দুইটা ম্যাচও জিততে পারি বা সেমিফাইনালও খেলতে পারি, সেটা যাই হোক না কেন। স্বপ্ন নেই এটা মনে হয় না ঠিক কিছু।‘
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সর্বশেষ খেলার আপডেট জানতে চোখ রাখুন টি স্পোর্টসে এছাড়া ফেসবুকে আমাদের ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন ও ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।
No posts available.
১৫ মার্চ ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
১৫ মার্চ ২০২৬, ৫:০৮ পিএম

ওডিআই ক্রিকেটের প্রকৃত উত্তাপেই নিষ্পত্তি হয়েছে শেষ ম্যাচ এবং সিরিজ। সালমান আগা যতোক্ষণ পর্যন্ত ছিলেন উইকেটে, ততোক্ষণ শেষ ১০ ওভারে ৮০, শেষ ৫ ওভারে ৪৫ রানের টার্গেট কঠিন মনে করেনি পাকিস্তান। তবে এমন একটা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলকে ভরসা দিয়েছেন তাসকিন শেষ স্পেলে (১-০-৫-১)। সালমান আগাকে শিকারে পরিণত করে ম্যাচটি বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছেন তাসকিন। বাকি কাজটা করেছেন মোস্তাফিজ (১-০-১৪-১) এবং রিশাদ (১-০-২-১) শেষ স্পেলে। তাতেই ১১ রানে জিতে ২-১এ সিরিজ জয়ের হাসি বাংলাদেশের।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে রান আউট বিতর্ক যাকে ঘিরে, সেই সালমান আগা সিরিজের শেষ ম্যাচেও আলোচিত চরিত্র। তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরির (১০৭ বলে ১০৭) জবাব দিয়েছেন এই পাকিস্তানী সেঞ্চুরিতে (৯৮ বলে ১০৬)। টেল এন্ডার শাহিন আফ্রিদিকে নিয়ে ৮ম উইকেট জুটিতে ৪৯ বলে ৫২ রানে নেতৃত্ব দিয়ে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার চারেক দর্শকের উচ্ছ্বাস থামিয়ে দিয়েছিলেন সালমান আগা। ৪৮তম ওভারের চতুর্থ বলে তাসকিনের বলে মিড উইকেটে সালমান আগা শান্ত'র ক্যাচে পরিণত হলে পুরো স্টেডিয়াম ফেটে পড়ে উচ্ছ্বাসে।
১১ বছর পর ৮ দলের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সুযোগ পেতে কঠিন চ্যালেঞ্জ পাড়ি দেয়ার অতীত আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। আইসিসির কাট অফ টাইমের মধ্যে ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে ৯ থেকে ৭-এ উঠে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কোয়ালিফাই করার অতীত আছে বাংলাদেশের। সেই কঠিন হার্ডল পাড়ি দেয়ার শুরুটা করেছিল বাংলাদেশ দল, ২০১৫ সালে পাকিস্তানকে দ্বিপাক্ষিক ওডিআই সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ করার মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে ২-১ এ ওয়ানডে সিরিজ জয়ে মাশরাফির হাসিটা চওড়া হয়েছে। আইসিসির চোখ রাঙানির জবাব দিতে পেরেছে এফটিপির সেই চক্রে। সেই পর পর তিনটি সিরিজের সাফল্যে ভেন্যু শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। হোম অব ক্রিকেটে ওডিআই প্রত্যাবর্তনেও টনিক পেয়েছে বাংলাদেশ।
২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে সেরা ৮-এ (দক্ষিণ আফ্রিকা বাদে) না থাকতে পারলে আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে পারবে না বাংলাদেশ। এই সমীকরণটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল আইসিসি এফটিপির চলমান চক্রের প্রথম৫টি ওডিআই সিরিজের ফল। ৫টি সিরিজের ৪টিতে হেরে, ১৫ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৪টি জয়ে বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করার পথটা কঠিন করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিং নামতে নামতে ১০-এ এসে ঠেকেছিল। র্যাঙ্কিংয়ে ৪ নম্বরে থাকা পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ জিততে পারলে অবস্থানের উন্নতি, হেরে গেলে অবস্থান অপরিবর্তিত। এমন একটা চ্যালেঞ্জে জিতেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। পাকিস্তানকে ২-১ এ হারিয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করার কক্ষপথে এখন বাংলাদেশ।
২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে ৫টি ওডিআই সিরিজ। হোমে নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, অ্যওয়ে সফরে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকা। এ বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর, এই ৮ মাসে ১৫টি ওয়ানডে ম্যাচ শেষে ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ের উপর নির্ভর করছে ১৪ দলের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরাসরি কোয়ালিফাই। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ এ সিরিজ জিতে কাজটা এগিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ দল।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে পেসার নাহিদ রানার তোপে (৫/২৪) পাকিস্তানকে ১১৪ রানে অল আউট করে ৮ উইকেটে জয়ে শুরু সিরিজ। বৃষ্টি বিঘ্নিত দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের মধুর প্রতিশোধ, ১১৪ রানে বাংলাদেশকে অল আউট করে ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে ১২৮ রানে পাকিস্তানের জয়ে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটা অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। প্রথম ম্যাচের উইকেট উপহার পেয়ে ব্যাটারদের ছন্দময় ব্যাটিং, তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে (১০৭ বলে ৬ চার, ৭ ছক্কায় ১০৭) ২৯০/৫ স্কোর করেই পাকিস্তানকে বড় চ্যালেঞ্জে ফেলতে পেরেছে বাংলাদেশ দল।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে তাসকিনের ৪ ওভারের স্পেলে (৪-০-১৫-২) ব্যাকফুটে নেমেছে পাকিস্তান। স্কোরশিটে ৪৩ উঠতে ৪ উইকেট হারিয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১১ রানের জয়ের বড় কৃতিত্ব দিতে হবে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে। ওডিআই ক্রিকেটে তার অভিষেক সেঞ্চুরিটি ছিল এক কথায় উপভোগ্য। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১১৫ রান তাড়া করতে যেয়েও টি-২০ মেজাজে ব্যাটিং করেছেন তানজিদ হাান তামিম। ১৫৯.৫২ স্ট্রাইক রেটে ৪২ বলে করেছেন ৬৭ রান। ৭টি ছক্কার পাশে ছিল ৫টি ছক্কা। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সালমান আগাকে স্ট্রেইট ছক্কায় সেঞ্চুরি উদযাপনের ইনিংসে চারের চেয়ে ছিল ছক্কার আধিক্য। ৬টি চার-এর পাশে মেরেছেন তানজিদ ৭টি ছক্কা।
ছন্দময় ব্যাটিংয়ে শুরু থেকে স্ট্রাইক রেটে ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম মনযোগী। ৫৪ বলে ফিফটি, ১০৬ বলে সেঞ্চুরি। শুরুটা করেছেন তানজিদ পাকিস্তান পেসার হারিস রউফকে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ২টি ফ্লিক শটে চার এবং ছক্কা মেরে। ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে হারিস রউফের শর্ট বলে তার প্যারালাল ছক্কাটি ছিল চেয়ে দেখার মতো। ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করার কষ্টটা বয়ে বেড়িয়েছেন ২ বছর। চান্সলেস ইনিংসটি থেমেছে তার ভুল শট সিলেকশনে।
লেগ স্পিনার আবরারকে কাট করতে যেয়ে কভারে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন তানজিদ হাসান তামিম ( ১০৭ বলে ৬ চার,৭ ছক্কায় ১০৭)। প্রথম উইকেট জুটির ১০৮ বলে ১০৫, দ্বিতীয় উইকেট জুটির ৬৭ বলে ৫৩, তৃতীয় উইকেট জুটির ৬৭ বলে ৮৮ রানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম।
তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে বড় জয়েও আছে আক্ষেপ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতোপূর্বে ৫০ ওভারের ৪১টি ম্যাচে দুবার ৩০০’ প্লাস স্কোরের রেকর্ড আছে বাংলাদেশ দলের। দুবারই শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৪ সালে ৩২৬/৩ এবং ২০১৫ সালে ৩২৯/৬ স্কোর থেকে টনিক নিয়ে সাকিব-তামিমের অনুজদের ব্যাটিংয়ে ৩০০ স্কোরের সম্ভাবনা ছিল রোববার। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রত্যাশিত স্কোর করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১০ রানের জন্য পূর্ণ হয়নি ৩০০।
কেনো স্কোর হয়নি ৩০০ ? এই প্রশ্নের উত্তর ইনিংসের ৪৭, ৪৯ এবং ৫০ম শেষ ওভারে ধীরগতির ব্যাটিং। ৪৭ এবং ৪৯তম ওভারে হারিস রউফের বল খেলতে ধুঁকেছে বাংলাদেশ মিডল অর্ডাররা। যে দুই ওভারে হারিস রউফের খরচা ৪ এবং ৫। ৫০তম ওভারে ফাহিম আশরাফ ৮ রানের বেশি খরচ করেননি।
প্রথম ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’ র ১০ ওভারে উইকেটহীন ৫৪-নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতেও রানের জন্য ধুঁকতে হয়নি বাংলাদেশ দলকে। সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম (১০৭ বলে ১০৭) এই পর্বে শাসন করেছেন পাকিস্তান বোলারদের। সে কারণেই দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে’ র ৩০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রানও প্রশংসার দাবি রাখে। হাতভর্তি উইকেট রেখে শেষ পাওয়ার প্লে-তে যেখানে টি-২০ মেজাজে ব্যাটিং করা দরকার, সেখানে এই পর্বে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দল যোগ করতে পেরেছে ৭৭ রান। শেষ ৫ ওভারে ২ ব্যাটার হারিয়ে ৩৯ রান তাই পাচ্ছে না হাততালি। এই ৩৯ রানের মধ্যে আবার মিস্ট্রার এক্সট্রা থেকে এসেছে ৭ রান, ৫টি লেগ বাই এবং ২টি ওয়াইড। শেষ ৫ ওভারে বাউন্ডারি মারতে পেরেছে বাংলাদেশ ব্যাটাররা মাত্র ২টি। ৪৮ তম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে যে দুটি বাউন্ডারি মেরেছেন হৃদয়।
বেশি বিরক্তিকর লেগেছে আফিফের ব্যাটিং (৮ বলে ৫*)। শেষ ওভারে ফাহিম আশরাফের বিশাল ওয়াইড ডেলিভারি দেখেও সেই বল ছেড়ে না দিয়ে সিঙ্গল নিয়েছেন আফিফ! সেট হয়েও তাওহিদ হৃদয় টি-২০ মেজাজে ব্যাট করতে পারেননি ( ৪৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৪৮*)। শেষ পাওয়ার প্লে’তে অবশ্য হারিস রউফের স্পেল (৩-০-১৫-২) হৃদয়-আফিফের বিগ হিটে তৈরি করেছে প্রতিবন্ধকতা।
এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বাংলাদেশের তিন পেসার তাসকিন (১০-১-৪৯-৪), মোস্তাফিজ (১০-০-৫৪-৩) এবং নাহিদ রানা (১০-০-৬২-২) আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ১৪ রান। বাংলাদেশের লাগবে ১টিই উইকেট। রিশাদ হোসেনের দ্বিতীয় বলে ক্যাচ তুলে দিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তবে নিতে পারলেন না রিশাদ। সেই ক্যাচ নিতে না পারলেও, কোনো বাউন্ডারি হজম না করে বাংলাদেশের জয় ঠিকই নিশ্চিত করেন তরুণ লেগ স্পিনার।
জমে ওঠা সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানকে শেষ পর্যন্ত ১১ রানে হারায় বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববারের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২৯০ রানের পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। জবাবে ২৭৯ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিলো বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে এ নিয়ে টানা দুইটি সিরিজ জিতল তারা। এই সিরিজের আগে সবশেষ ২০১৫ সালে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল।
এছাড়া হতাশাময় সময় ভুলে ওয়ানডেতে এ নিয়ে টানা দুই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
সিরিজটি জেতায় আইসিসি র্যাঙ্কিংয়েও সুখবর পাবে বাংলাদেশ। নতুন হালনাগাদে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে উঠে যাবে তারা।
শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সিরিজ জেতানোর মূল কারিগর তানজিদ হাসান তামিম ও তাসকিন আহমেদ। দারুণ ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ১০৭ রান করেন তামিম। আর দলের প্রয়োজনের সময় অসাধারণ বোলিংয়ে ৪ উইকেট নেন তাসকিন।
ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। শুরু থেকে ইতিবাচক ব্যাটিং করেন তামিম। অন্য প্রান্তে সাইফ হাসান কিছুটা আঁটসাঁট ছিলেন। তবে উইকেট আগলে রেখে জুটি গড়তে দারুণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
দুই ওপেনার মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১০৯ বলে ১০৫ রান। ৩ চারের সঙ্গে ৪ ছক্কায় মাত্র ৪৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তামিম। তবে সে অর্থে ছন্দ পাননি সাইফ। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ৩ চারে ৫৫ বলে ৩৬ রান করা ওপেনার।
চমৎকার ওপেনিং জুটির পর একই ছন্দে এগোতে থাকেন তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের এই জুটিতে আসে ৬৭ বলে ৫৩ রান। ৩ চারে ৩৪ বলে ২৭ রান করে হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান শান্ত।
ব্যক্তিগত ৭০ রানে পৌঁছানোর পর কিছুটা খোলসবন্দী হয়ে যান তামিম। তবে খুব বেশি বল তিনি নেননি। পরের পঞ্চাশ রান করতে তিনি খেলেন ৫১ বল। সালমান আলি আগার বলে লং অফ দিয়ে ছক্কা মেরে তিনি স্পর্শ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।
তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তামিম। ৬ চারের ৭টি ছক্কা মেরে ১০৭ বলে ১০৭ রান করে ক্যাচ আউট হন ২৫ বছর বয়সী ওপেনার। মিরপুরের মাঠে বাংলাদেশি কোনো ব্যাটারের এটিই এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।
তামিমের বিদায়ের পর কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি বাংলাদেশের ইনিংস। শেষের ৮২ বল থেকে আসে মাত্র ৯৬ রান। লম্বা সময় ক্রিজে থেকেও ১টি করে চার-ছক্কায় ৫১ বলে ৪১ রানের বেশি করতে পারেননি লিটন। তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ বলে অপরাজিত ৪৮ রান।
পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন হারিস রউফ।
পরে রান তাড়ায় শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান। প্রথম দুই ওভারে সাহিবজাদা ফারহান ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। মাঝে দ্বিতীয় ওভারে নাহিদ রানার বলে মাজ সাদাকাত আউট হলে মাত্র ১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা।
শুরুর ধাক্কা সামলে চতুর্থ উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়েন মোহাম্মদ গাজী ঘড়ি ও আব্দুল সামাদ। পরে ১৪তম ওভারে চমৎকার ডেলিভারিতে ঘড়িকে (২৯) বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে সামাদও (৩৪) ফিরলে ৮২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আবার চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান।
সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণে প্রতিরোধ গড়েন সালমান আলি আগা ও সাদ মাসুদ। দুজন মিলে ৮২ বলে ৭৯ রানের জুটি। মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠার আগেই জুটি থামিয়ে দেন মোস্তাফিজ। তার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৩৮ রান করা সাদ।
এরপর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন সালমান। সপ্তম উইকেটে ফাহিম আশরাফের সঙ্গে তিনি গড়েন ৪৯ বলে ৪৮ রানের জুটি। যেখানে ফাহিমের অবদান ১৯ বলে মাত্র ৯ রান। নতুন স্পেলে ফিরে ফাহিমকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন তাসকিন।
তখনও ৬৩ বল বাকি থাকতে জয় থেকে ৮২ রান দূরে পাকিস্তান। বাকি ছিল ৩ উইকেট। বাংলাদেশের মনে কাঁপন ধরিয়ে দেন সালমান ও আফ্রিদি। দুজন মিলে অষ্টম উইকেটে ৪৯ বলে গড়ে তোলেন ৫২ রানের জুটি।
শেষ ৩ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। নিজের শেষ ওভার করতে এসে সালমানকে ক্যাচ আউট করেন তাসকিন। চমৎকার সেঞ্চুরি করা অভিজ্ঞ ব্যাটার ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৮ বলে খেলেন ১০৬ রানের ইনিংস।
পরে পাকিস্তানের আশা বাঁচিয়ে রাখেন অধিনায়ক আফ্রিদি। ২ ওভারে ৩০ রানের সমীকরণে মোস্তাফিজের বলে ২টি ছক্কা মেরে দেন বাঁহাতি পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ওভারের পঞ্চম বলে সোজা আসা শট গিয়ে লাগে মোস্তাফিজের হাঁটুতে।
মনে হচ্ছিল, শেষ বলটি করতে পারবেন না বাংলাদেশের কাটার মাস্টার। তবে প্রাথমিক শুশ্রূষা নিয়ে উঠে দাঁড়ান মোস্তাফিজ। তার শেষ বলে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন হারিস রউফ। শেষ ওভারে বাকি থাকে ১৪ রান।
শেষ ওভারের দায়িত্ব দেওয়া হয় নিজের আগের ৬ ওভারে ৫ রান দেওয়া রিশাদ হোসেনকে। প্রথম বল ডট দেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে ক্যাচ তুলে দেন আফ্রিদি। তবে পেছনে দৌড়ে সেটি তালুবন্দী করতে পারেননি রিশাদ।
ক্যাচ ছাড়লেও ওভারের বাকি ৪ বলে কোনো বাউন্ডারিও হজম করেননি তরুণ লেগ স্পিনার। উল্টো শেষ বলে আফ্রিদিকে স্টাম্পড করে পাকিস্তানকে অলআউট করে দেন তিনি।
বাংলাদেশের পক্ষে ৪৯ রানে ৪ উইকেট নেন তাসকিন। এছাড়া মোস্তাফিজ ৩ ও নাহিদ নেন ২ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (সাইফ ৩৬, তামিম ১০৭, শান্ত ২৭, লিটন ৪১, হৃদয় ৪৮*, রিশাদ ০, আফিফ ৫*; আফ্রিদি ১০-০-৫৫-১, রউফ ১০-০-৫২-৩, আবরার ১০-০-৪৯-১, ফাহিম ৪-০-২৪-০, সাদ ৮-০-৫৫-০, সাদাকাত ১-০-৯-০-, সালমান ৭-০-৩৫-০)
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৭৯ (সাহিবজাদা ৬, সাদাকাত ৬, ঘড়ি ২৯, রিজওয়ান ৪, সামাদ ৩৪, সালমান ১০৬, সাদ ৩৮, ফাহিম ৯, আফ্রিদি ৩৭, রউফ ১, আবরার ০*; তাসকিন ১০-১-৪৯-৪, নাহিদ ১০-০-৬২-২, মোস্তাফিজ ১০-০-৫৪-৩, মিরাজ ১০-০-৩৭-০, রিশাদ ৭-০-৫৬-১, সাইফ ৩-০-১৮-০)
ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ম্যাচে দুবার ৩০০’ প্লাস স্কোরের রেকর্ড আছে বাংলাদেশ দলের। দুবারই শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৪ সালে ৩২৬/৩ এবং ২০১৫ সালে ৩২৯/৬ স্কোর থেকে টনিক নিয়ে সাকিব-তামিমের অনুজদের ব্যাটিংয়ে ৩০০ স্কোরের সম্ভাবনা ছিল রোববার। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রত্যাশিত স্কোর করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১০ রানের জন্য পূর্ণ হয়নি ৩০০।
কেনো স্কোর হয়নি ৩০০ ? এই প্রশ্নের উত্তর ইনিংসের ৪৭, ৪৯ এবং ৫০ম শেষ ওভারে ধীরগতির ব্যাটিং। ৪৭ এবং ৪৯তম ওভারে হারিস রউফের বল খেলতে ধুঁকেছে বাংলাদেশ মিডল অর্ডাররা। যে দুই ওভারে হারিস রউফের খরচা ৪ এবং ৫। ৫০তম ওভারে ফাহিম আশরাফ ৮ রানের বেশি খরচ করেননি।
প্রথম ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’ র ১০ ওভারে উইকেটহীন ৫৪-নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতেও রানের জন্য ধুঁকতে হয়নি বাংলাদেশ দলকে। সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম (১০৭ বলে ১০৭) এই পর্বে শাসন করেছেন পাকিস্তান বোলারদের। সে কারণেই দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে’ র ৩০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রানও প্রশংসার দাবি রাখে। হাতভর্তি উইকেট রেখে শেষ পাওয়ার প্লে-তে যেখানে টি-২০ মেজাজে ব্যাটিং করা দরকার, সেখানে এই পর্বে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দল যোগ করতে পেরেছে ৭৭ রান। শেষ ৫ ওভারে ২ ব্যাটার হারিয়ে ৩৯ রান তাই পাচ্ছে না হাততালি। এই ৩৯ রানের মধ্যে আবার মিস্ট্রার এক্সট্রা থেকে এসেছে ৭ রান, ৫টি লেগ বাই এবং ২টি ওয়াইড। শেষ ৫ ওভারে বাউন্ডারি মারতে পেরেছে বাংলাদেশ ব্যাটাররা মাত্র ২টি। ৪৮ তম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে যে দুটি বাউন্ডারি মেরেছেন হৃদয়।
বেশি বিরক্তিকর লেগেছে আফিফের ব্যাটিং (৮ বলে ৫*)। শেষ ওভারে ফাহিম আশরাফের বিশাল ওয়াইড ডেলিভারি দেখেও সেই বল ছেড়ে না দিয়ে সিঙ্গল নিয়েছেন আফিফ! সেট হয়েও তাওহিদ হৃদয় টি-২০ মেজাজে ব্যাট করতে পারেননি ( ৪৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৪৮*)। শেষ পাওয়ার প্লে’তে অবশ্য হারিস রউফের স্পেল (৩-০-১৫-২) হৃদয়-আফিফের বিগ হিটে তৈরি করেছে প্রতিবন্ধকতা।

২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ী দলের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে জাতীয় দলে ঢুকতে একটার পর একটা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটিং স্টাইলটা ঠিক তামিম ইকবালের মতো, দুজনেই বাঁ হাতি। শর্ট পিচ ডেলিভারি খেলতে স্বাচ্ছন্দ পান দুজনই। সিনিয়র তামিমের ( তামিম ইকবাল) সঙ্গে ওপেন করার স্বপ্ন ছিল তানজিদ হাসান তামিমের। ২০২৩ সালের আগষ্টে এশিয়া কাপের দলে তামিম ইকবালের জায়গায় যখন নেয়া হয়েছে তানজিদ হাসান তামিমকে, তখন তামিম ভক্তদের তিরে বিদ্ধ হতে হয়েছে নির্বাচকদের। পাল্লেকেলেতে অভিষেক ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পেলেন ডাক (২বলে ০), থিকসানার বলে এলবিডাব্লুউতে ফিরেছেন যখন তখন তো অনেকেই এই তরুণের শেষ দেখে ফেলেছেন। ২০২৩ বিশ্বকাপের ঠিক প্রাক্কালে ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়ে তামিম ইকবাল দিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা। তামিম ইকবালের ওই ঘোষণায় দলে জায়গাটা পাকা করার সুযোগ পেলেন তানজিদ হাসান তামিম। আশ্চর্য হলেও সত্য, দুই প্রজন্মের দুই তামিমের প্রথম ফিফটি ভারতের বিপক্ষে এবং দুটিই বিশ্বকাপে। এবং ইনিংস দুটিতে অন্তমিল, ৫১ রান।
ক্যারিয়ারের প্রথম ৪টি ইনিংসে ফিফটিহীন ইকবালের প্রথম ফিফটি ২০০৭ বিশ্বকাপে, ত্রিনিদাদে। সেখানে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যারিয়ারের প্রথম ৭টি ইনিংস কেটেছে ফিফটিহীন, ২০২৩ বিশ্বকাপে পুনেতে ভারতের বিপক্ষে ফিফটিতে কেটেছে সেই অতৃপ্তি। ওডিআই ক্রিকেটে ২৭তম ইনিংসে তামিম ইকবাল দেখেছেন প্রথম সেঞ্চুরির মুখ। সেখানে তানজিদ হাসান তামিমমে প্রথম সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩১তম ইনিংস পর্যন্ত। দুজনের অভিষেক সেঞ্চুরির ভেন্যু এক, শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। ২০০৮ সালের ২২ মার্চ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে (১২৯) তামিম ইকবালের অভিষেক সেঞ্চুরির ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার ৭দিন আগে তানজিদ হাসান তামিম দেখলেন সেঞ্চুরির (১০৭) মুখ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১১৫ রান তাড়া করতে যেয়েও টি-২০ মেজাজে ব্যাটিং করেছেন তানজিদ হাান তামিম। ১৫৯.৫২ স্ট্রাইক রেটে ৪২ বলে করেছেন ৬৭ রান। ৭টি ছক্কার পাশে ছিল ৫টি ছক্কা। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সালমান আগাকে স্ট্রেইট ছক্কায় সেঞ্চুরি উদযাপনের ইনিংসে চারের চেয়ে ছিল ছক্কার আধিক্য। ৬টি চার-এর পাশে মেরেছেন তানজিদ ৭টি ছক্কা।
ছন্দময় ব্যাটিংয়ে শুরু থেকে স্ট্রাইক রেটে ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম মনযোগী। ৫৪ বলে ফিফটি, ১০৬ বলে সেঞ্চুরি। শুরুটা করেছেন তানজিদ পাকিস্তান পেসার হারিস রউফকে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ২টি ফ্লিক শটে চার এবং ছক্কা মেরে। ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে হারিস রউফের শর্ট বলে তার প্যারালাল ছক্কাটি ছিল চেয়ে দেখার মতো। ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করার কষ্টটা বয়ে বেড়িয়েছেন ২ বছর। চান্সলেস ইনিংসটি থেমেছে তার ভুল শট সিলেকশনে।
লেগ স্পিনার আবরারকে কাট করতে যেয়ে কভারে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন তানজিদ হাসান তামিম ( ১০৭ বলে ৬ চার,৭ ছক্কায় ১০৭)। প্রথম উইকেট জুটির ১০৮ বলে ১০৫, দ্বিতীয় উইকেট জুটির ৬৭ বলে ৫৩, তৃতীয় উইকেট জুটির ৬৭ বলে ৮৮ রানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গাটা ইতোমধ্যে করেছেন পাকা। গত বছর টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৭ ম্যাচে ৮ ফিফটিতে ৭৭৫ রানে নিজেকে চিনিয়েছেন। এখন ওডিআই ক্রিকেটে শুরু হয়েছে তাঁর নিজেকে চেনানোর পালা।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নতুন এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন নিউ জিল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক আমেলিয়া কের। অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম পাঁচ ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আজ করেছেন ফিফটি। সব মিলিয়ে টানা তৃতীয় ফিফটি তুলে নিয়ে এই রেকর্ড নিজের করে নেন কের।
নিউ জিল্যান্ডের মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ের বে ওভাল মাঠে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪৪ বলে ৭৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন কের। ইনিংসটির সৌজন্যে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম পাঁচ ইনিংসে তাঁর মোট রান দাঁড়ায় ৩০১, যা নারী টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন বিশ্বরেকর্ড।
এর আগে এই রেকর্ড ছিল রোমানিয়ার রেবেকা ব্লেকের দখলে। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম পাঁচ ইনিংসে তিনি করেছিলেন ২৫০ রান। এই তালিকায় নিউ জিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক সোফি ডিভাইনও আছেন, তাঁর সংগ্রহ ছিল ২১৭ রান।
ম্যাচে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউ জিল্যান্ড। প্রথম বলেই রান আউট হয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন ইজি গেজ। তারপর ব্যাটিংয়ে নামেন কের, শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে খেলতে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে দ্রুত রান তোলেন তিনি।
কেরের ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটে ১৯০ রান তোলে নিউ জিল্যান্ড। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে ৭ উইকেটে করতে পারে ১১০ রান। ফলে ৮০ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় নিউ জিল্যান্ড। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন কের।
নিউ জিল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন কের। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজে করেছিলেন অপরাজিত ১০১ ও ৮২ রান।