
নক্ষত্রেরও একদিন পতন হয়—কার্লোস
আলকারাজ-ইয়ানিক সিনারদের কাছে বারবার ধরাশয়ী হওয়ার পর নোভাক জোকোভিচের ব্যাপারে এমন
আলোচনাই হচ্ছিল। তবে ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় এসে মেলবোর্ন পার্কে জোকোভিচ আবারও বুঝিয়ে
দিলেন এত সহজেই দমে যাওয়ার নন।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে
গতকাল শীর্ষ বাছাই সিনারের বিপক্ষে চার ঘণ্টার বেশি সময় লড়াই করে নিশ্চিত করলেন ফাইনাল।
তবে ৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচ জানালেন, তাঁকে নিয়ে যাঁরা সংশয়ে ছিলেন, তাঁরাই শক্তি ও প্রেরণা
জুগিয়েছে!
২৫তম গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের
পথে জোকোভিচের সামনে বাধা আলকারাজ। ফাইনালে
নিশ্চয়ই কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠা সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ
খেলোয়াড় এখন জোকোভিচ। যদি তিনি শিরোপা জেতেন, তাহলে পুরুষ এককে সবচেয়ে বয়স্ক গ্র্যান্ড
স্লাম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কেন রোজওয়ালকে ছাড়িয়ে যাবেন।
টুর্নামেন্টের মাঝপথে এমন
সম্ভাবনা অনেক দূরের মনে হচ্ছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালিয়ান লরেঞ্জো মুসেত্তির বিপক্ষে
দুই সেট পিছিয়ে পড়েছিলেন জোকোভিচ। তবে প্রতিপক্ষ উরুর চোটে ম্যাচ ছেড়ে দিলে ভাগ্য সহায়
হয় সার্বিয়ানের। টুর্নামেন্টে এটি ছিল দ্বিতীয়বার, যখন ওয়াকওভারে ম্যাচ জিতলেন জোকোভিচ।
এতে সেমিফাইনালের আগে তুলনামূলকভাবে সতেজ থাকার সুযোগ পান তিনি।
সেমিফাইনালে আবারও সময়কে
যেন পিছনে ফিরিয়ে আনেন জোকোভিচ। পাঁচ সেটের ক্লাসিক লড়াইয়ে হারান বর্তমান চ্যাম্পিয়ন
ইয়ানিক সিনারকে। দুবারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সিনারের বিপক্ষে জোকোভিচ জেতেন ৩–৬,
৬–৩, ৪–৬, ৬–৪, ৬–৪ ব্যবধানে। অন্যদিকে দিনের শুরুতে আলকারাজ
দীর্ঘতম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন সেমিফাইনালে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার ম্যাচে আলেক্সান্ডার
জভেরেভকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে
তোপ দাগলেন জোকোভিচ, ‘আমি কখনোই নিজের ওপর বিশ্বাস হারাইনি। অনেক মানুষ আমাকে নিয়ে
সন্দেহ করে। হঠাৎ করেই অনেক বিশেষজ্ঞ উঠে এসেছে যারা আমাকে অবসর দিয়ে দিতে চেয়েছে,
বা গত কয়েক বছরে বহুবার অবসর দিয়ে দিয়েছে।’
সমালোচকদের ধন্যবাদ দিয়ে
জোকো বলেন, ‘আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই, কারণ তারাই আমাকে শক্তি দিয়েছে। তারা
আমাকে প্রেরণা দিয়েছে তাদের ভুল প্রমাণ করতে। আমরা যখনই খেলি, ইতিহাস তখনই দুজনের জন্য
সামনে থাকে। গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে অনেক কিছুই ঝুঁকির মধ্যে থাকে, তবে বড় ম্যাচগুলোতে
এটা নতুন কিছু নয়।’
মেলবোর্ন পার্কের রাজা জোকোভিচ। এরই মধ্যে জিতেছেন ১০ ফাইনালে। তবে এবার প্রতিপক্ষ তরুণ আলকারাজ, যিনি বয়সে তাঁর চেয়ে প্রায় ১৫–১৬ বছরের ছোট। শারীরিক পুনরুদ্ধারের দিক থেকে আলকারাজ এগিয়ে থাকবেন বলেও মনে করছেন জোকোভিচ। বললেন,
‘দেখা যাক আমরা দুজন কতটা সতেজ থাকতে পারি। ওর বয়সের কারণে জৈবিকভাবে ওর জন্য রিকভার করা সহজ হবে।’
আলকারাজও ফাইনালে ওঠার পথে কঠিন লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন। সেমিফাইনালে পায়ের ক্র্যাম্প নিয়েও জভেরেভকে হারিয়ে প্রথমবার মেলবোর্নে শিরোপার স্বপ্ন দেখছেন তিনি,
‘আমি সবসময় বলি, যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। তৃতীয় সেটের মাঝামাঝি আমি খুব কষ্টে ছিলাম। শারীরিকভাবে এটা আমার ছোট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচগুলোর একটি।’
ফাইনালকে ঘিরে মেলবোর্নে
উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। একদিকে জোকোভিচের ইতিহাস গড়ার হাতছানি, অন্যদিকে আলকারাজের নতুন
যুগ শুরুর সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মঞ্চ প্রস্তুত আরেকটি স্মরণীয় শিরোপা
লড়াইয়ের জন্য।
No posts available.
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম

গতবার যেখানে ছিল স্বপ্নভঙ্গে আক্ষেপ, এবার সেখানেই ইতিহাস গড়লেন কার্লোস আলকারাজ। গ্র্যান্ড স্লামের তিনটি টুর্নামেন্ট জিতলেও অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা হয়নি টেনিসের নম্বর ওয়ান বাছাইয়ের। মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনাতে আজ সেটাও নিজের করে নিলেন স্পেন তরুণ। তাতেই সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে সাতটি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা হলো আলকারাজের।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার জেতার পর আলকারাজ বলেন,
‘আমি নোভাকের সঙ্গে কথা বলতি চাই। সে সত্যিকার অর্থে সম্মান পাওয়ার যোগ্য। আপনি (নোভাক) বলছেন আমি অসাধারণ কিছু করছি, কিন্তু আসল কথা হলো আপনি যা করছেন তা প্রেরণাদায়ক—শুধু টেনিস খেলোয়াড়দের জন্য নয়, বিশ্বের সব ক্রীড়াবিদদের জন্য এবং আমার জন্যও।’
তিনি যোগ করেন, ‘আপনি প্রতিদিন আপনার টিমের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং আমি আপনার খেলা উপভোগ করি। আপনার সঙ্গে লকার রুম ও কোর্ট শেয়ার করা আমার জন্য সম্মানের । আপনি যা করছেন তার জন্য ধন্যবাদ, কারণ তা সত্যিই আমাকে অনুপ্রাণিত করছে।’
আলকারাজ আরও বলেন,
‘আমার টিম আপনার পাশে আছে। কেউ জানে না আমি এই ট্রফি জেতার জন্য কত কঠোর পরিশ্রম করেছি। প্রি-সিজন একটু আবেগের দিক থেকে রোলারকোস্টারের মতো ছিল।’

‘ঊরুর চোট’ আর ‘ক্র্যাম্প’—দুই কঠিন প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে একজন পা রেখেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে। অন্যজনের ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর থেকেই গ্র্যান্ড স্লাম না জেতার আক্ষেপ।
মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারিনাতে আজ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে অভিন্ন লক্ষ্যে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই প্রজন্মের টেনিস তারকা—নোভাক জোকোভিচ ও কার্লোস আলকারাজ। যেখানে শেষ হাসি হাসলেন নম্বর ওয়ান বাছাই আলকারাজ। ৩ ঘণ্টার মহাকাব্যিক যাত্রা ছিল ২-৬, ৬-২, ৬-৩ ও ৭-৫ সেটের।
এ জয়ের মধ্য দিয়ে ২২ বছর বয়সী আলকারাজ গড়লেন ইতিহাস। ওপেন যুগে সাতটি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা পুরুষ খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনি সবচেয়ে কম বয়সী। এই বয়সে তিনি ফ্রেড পেরি, ডন বাডজ, রয় এমারসন, আন্দ্রে আগাসি এবং এমনকি রজার ফেদেরার, নাদাল ফেদারার ও জোকোভিচ থেকে এগিয়ে গেলেন।
হাইভোল্টেজ ম্যাচের শুরুটা অবশ্য জোকোভিচের দখলেই ছিল। প্রথম সেটে অভিজ্ঞতার ঝলক দেখিয়ে তিনি ৬–২ গেমে সেটটি নিজের করে নেন। তবে দ্বিতীয় সেট থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে শুরু করে। আক্রমণাত্মক রিটার্ন ও দীর্ঘ র্যালিতে আধিপত্য দেখিয়ে আলকারাজ ৬–২ গেমে দ্বিতীয় সেট জিতে সমতায় ফেরেন।
তৃতীয় সেটে আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখান স্প্যানিশ তরুণ। চতুর্থ সেট জমে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত ৭-৫ ব্যবধানে বিজয়ের হাসি আসেন আলকারাজ। এর আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ১০টি ফাইনালেই অপরাজিত ছিলেন জকোভিচ।

২৪টি শিরোপা নিয়ে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লাম জয়ে অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট কোর্টের সঙ্গে রেকর্ড ভাগাভাগি করা নোভাক জোকোভিচ ২৫ নম্বর শিরোপাটা আর কখনো জিততে পারবেন কি না, এটা এখন বড় প্রশ্ন। কারণ, সুযোগ নাগালে পেয়েও হাতছাড়া করলেন টেনিসের চতুর্থ বাছাই।
রবিবার প্রথমবার রড লেভার অ্যারেনায় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়নের ট্রফিটা হাতে নিতে পারলেন না রেকর্ড ১০ বারের চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচ। কেন রোজওয়ালের রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে বেশি বয়সে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ডও আপাতত গড়া হলো না তার।
জোকোকে ২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫ গেমে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে উল্টো ইতিহাস গড়লেন আলকারাজ। সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে চারটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতলেন স্পেন তরুণ। সাতটি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা আরকারাজাকে সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানাতে ভুলেননি ৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচ।
ক্যারিয়ারের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার আলকারাজকে উদ্দেশ্য করে জোকোভিচ বলেন, ‘অভিনন্দন কার্লোস। তুমি যা করেছো, সেটার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ হলো—ঐতিহাসিক। কিংবদন্তিতুল্য।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আশা করি ভালো কিছু নিয়ে তুমি ক্যারিয়ার ইতি টানতে পারবে। তোমার ক্যারিয়ারে এখনও অনেক সময় বাকি।’
দর্শকদের উদ্দেশ্যে জোকোভিচ বলেন, ‘গত দুই ম্যাচে তোমরা আমাকে যে পরিমান সমর্থন জুগিয়েছ এ জন্য তোমাদের ধন্যবাদ। এ বছর ভালো টেনিস উপহার দেওয়ার চেষ্টা করবো। আমার মনে হয় এটি অস্ট্রেলিয়া ওপেনে আমার ২১তম বছর।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারছিনা আমি আবার কোনো গ্র্যান্ড স্লামের সমাপনী অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারব। ভবিষ্যতে কি হবে, একদিন পরে বা ছয় বা বারো মাস পরে, তা কেবল ঈশ্বরই জানেন। এটি সত্যিই একটি দারুণ যাত্রা ছিল। আমি তোমাদেরভালোবাসি।’

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে কোনো সেট না হেরে ফাইনালে উঠেছিলেন আরিনা সাবালেঙ্কা। তবে ফাইনালে এসে আবারও স্বপ্নভঙ্গ হলো বেলারুশ তারকার। গত বছর ম্যাডিসন কিজের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল সাবালেঙ্কার। এবার হারলেন এরেনা রাইবাকিনার কাছে।
মেলবোর্নে আজ নারী এককের ফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর বাছাই সাবালেঙ্কাকে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৪ সেটে হারিয়ে দ্বিতীয় গ্রান্ডস্ল্যাম শিরোপা জিতলেন রাইবাকিনা। এর আগে ২০২২ উইম্বলডনে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয় করেন তিনি।
রড লেভার এরিনায় ফাইনালে রাইবাকিনার জন্য ছিল প্রতিশোধের ম্যাচ। ২০২৩ সালে সাবালেঙ্কার কাছে হেরে সেবার প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জেতার সুযোগ হারান রাইবাকিনা। তবে এবার আর কোন ভুল করেননি ২৬ বছর বয়সী এই তারকা।
ম্যাচের প্রথম সার্ভেই ব্রেক পয়েন্ট আদায় করেন রাইবাকিনা। শেষ পর্যন্ত সাবালেঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সেট ৬-৪ ব্যবধানে জিতে নেনে তিনি। দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ান সাবালেঙ্কা। ব্রেক পয়েন্ট জিতে নিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জেতেন সেট।
তৃতীয় সেটে ব্রেক পয়েন্ট জিতে ৩-০ তে এগিয়ে যান সাবালেঙ্কা। তবে এরপরই ঘুরে দাড়িয়ে ব্যাবধান ৩-৩ করেন রাইবাকিনা। এরপর আরেকটি ব্রেক পয়েন্ট জিতে শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যাবধানে তৃতীয় সেট জিতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা নিজের করেন রাইবাকিনা।

তারুণ্যের কাছে এবার আর হার মানলেন না নোভাক জোকোভিচ। মেলবোর্নে যেন নিজের সোনালি সময়ের রূপালী ছোঁয়া দেখালেন। ২৪ বছর বয়সী ইয়ানিক সিনার বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারলেন না সার্বিয়ান কিংবদন্তির। অস্ট্রেলিয়া ওপেনের মহাকাব্যিক সেমিফাইনালে আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়নকে ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে চলে গেলেন জোকোভিচ।
চার ঘণ্টা ১০ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াই জিতে ইতিহাসেও নাম লেখালেন জোকোভিচ। উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশি বয়সে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে পৌঁছানোর রেকর্ড গড়লেন ৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচ। মেলবোর্নে ১১তম শিরোপা আর রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম থেকে মাত্র এক জয়ের দূরত্বে আছেন তিনি। বর্তমান সময়ের দুই সেরার একজনকে হারানোর পর এবার শিরোপার মঞ্চে জোকোভিচের সামনে কার্লোস আলকারাজ।
প্রথম সেট হারের পর দ্বিতীয় সেটে জয়। তারপর তৃতীয় সেটে আবারও পিছিয়ে যাওয়ার পর, ২০২৫ সালে চারটি মেজরেই সেমিফাইনালে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে ৩৮ বছর বয়সী সার্বিয়ান তারকা যে হাল ছাড়ার পাত্র নন। চার ঘণ্টা নয় মিনিটের চোয়ালবদ্ধ লড়াইয়ে তিনি ১৮টি ব্রেক পয়েন্টের মধ্যে ১৬টি বাঁচালেন। মোট আটটি ব্রেক পয়েন্ট বাঁচালেন, যার মধ্যে ছিল ৪-৩ এ ০/৪০ থেকে তিনটি। সপ্তম গেমে মূল ব্রেকপয়েন্ট বের করে তিনি নিজের জাদু দেখালেন।
প্রথম দুই ম্যাচ পয়েন্টে জকোভিচ জেতেননি, সিনার ব্যাকহ্যান্ডের চেষ্টা ডিউসে নিয়ে এসেছে। তবে তৃতীয়বারেই ৩৮ বছর বয়সী খেলোয়াড় জয় নিশ্চিত করে হাঁটু গেড়ে বসলেন। রড লেভার অ্যারেনার আলোয় বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৪ বছর কম বয়সী সিনারকে থামিয়ে দিলেন।
২০২৪ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনের পর জোকোভিচের প্রথম পাঁচ সেটের ম্যাচ এটি। ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর থেকে জকোভিচ কোনো মেজর ট্রফি জিততে পারেননি। মাঝে শুধু দুই তরুণ সিনার-আলকারাজকে ট্রফি তুলে ধরতে দেখেছেন। এবার সেই ধারায় ছেদ ঘটিয়ে কিংবদন্তি জোকোভিচকে হাতছানি দিচ্ছে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।