
বছরের শুরুতে কোর্টে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন বিশ্ব টেনিসের শীর্ষ বাছাই কার্লোস আলকারাজ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন গ্রান্ড স্ল্যাম শিরোপা দিয়ে বছর শুরু করার পর শনিবার রাতে জিতেছেন কাতার ওপেনের শিরোপা।
খলিফা আন্তর্জাতিক টেনিস কমপ্লেক্সে ফ্রান্সের আর্থার ফিলসকে সরাসরি ৬-২, ৬-১ সেটে হারান আলকারাজ। এই স্প্যানিশ তারকার চলতি মৌসুমে টানা ১২তম জয় ও ক্যারিয়ারের ২৬তম শিরোপা।
২১ দিন আগে মেলবোর্নে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম সম্পূর্ণ করা ইতিহাসের কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হন আলকারাজ। দোহায় ফাইনালেও শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন। প্রথম গেমেই ফিলসের সার্ভ ভেঙে দেন এবং ২৮ মিনিটে প্রথম সেট শেষ করেন।
দ্বিতীয় সেটেও আধিপত্য বজায় রাখেন স্প্যানিশ টেনিস তারকা। টানা ডাবল ব্রেকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলে হতাশায় র্যাকেট ভেঙে ফেলেন ফিলস। যদিও পরের সার্ভিস গেমে পয়েন্ট তুলতে সক্ষম হন। শেষ পর্যন্ত ২৪ মিনিটেই দ্বিতীয় সেট জিতে ম্যাচ শেষ করেন আলকারাজ। ম্যাচটি আলকারাজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে সমাপ্ত ফাইনাল।
ম্যাচ শেষে ২২ বছর বয়সি আলকারাজ বলেন, ‘এ বছর আরও ক্ষুধার্ত হয়ে শুরু করেছি। মৌসুমের শুরুটা দারুণ হয়েছে। মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হয়েছে। এই ট্রফিটা আমার জন্য অনেক অর্থবহ।’
No posts available.

টেবিল টেনিসের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে জাপানের অভিজ্ঞ কোচ ইউতাকা নাকানোকে দুই বছরের জন্য প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন (বিটিটিএফ)।
বুধবার দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নাকানোকে স্বাগত জানান ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার ওয়াসিফ ফারহান শায়ের।
আসন্ন কমনওয়েলথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান গেমস, এশিয়ান যুব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ, সাউথ এশিয়ান জুনিয়র টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ এবং সাউথ এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিটিটিএফ। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে জাতীয় র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৬ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী খেলোয়াড়কে এশিয়ান গেমসের সিলেকশন ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে।
ইউতাকা নাকানো সাবেক জাপানি টেবিল টেনিস খেলোয়াড়, যিনি পরবর্তীতে কোচিং পেশায় যুক্ত হন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার অভিজ্ঞতা বিস্তর। কোচ হিসেবে এটি তাঁর দ্বিতীয়বার বাংলাদেশে আগমন। এর আগে ২০২২ সালে তিনি ল্যাবএইডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফিউচার স্পোর্টিং ক্লাবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্যামসন দুবিনা টেবিল টেনিস অ্যাকাডেমিতে কোচ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিটিটিএফের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ. এম. মাকসুদ আহমেদ সনেট বলেন,
“আমরা বিশ্বাস করি, ইউতাকা নাকানোর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশের টেবিল টেনিস নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সাফল্য আরও বাড়বে।”
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে আলাদাভাবে দল নির্বাচন করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলা দলের কোচ হিসেবে প্রাক্তন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সালেহা সেতু-কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে দেশীয় কোচদের দক্ষতা উন্নয়নসহ পুরুষ, মহিলা, বালক ও বালিকা—প্রতিটি বিভাগে বিশেষায়িত কোচ নিয়োগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন অনেকাংশেই সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল।

ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছুঁলেন কার্লোস আলকারাজ। সাম্প্রতিক মন্টে কার্লো মাস্টার্সে শিরোপা জিততে না পারলেও একাধিক সাফল্য নিয়ে ফিরেছেন তিনি।
২২ বছর বয়সেই আলকারাজ নিজের ক্যারিয়ারের দশম মাস্টার্স এক হাজার ফাইনালে পৌঁছান। একই সঙ্গে এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ২০তম বড় ফাইনাল। অল্প বয়সে এমন ধারাবাহিকতা টেনিস অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্টে কার্লোর রানারআপ হওয়ায় প্রাপ্ত অর্থ আলকারাজের ক্যারিয়ারের মোট পুরস্কার অর্থকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বর্তমানে তাঁর মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি, যা তাঁকে সর্বকালের তালিকায় পঞ্চম স্থানে তুলে এনেছে। তালিকায় তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রিটিশ তারকা অ্যান্ডি মারেকে।
এই তালিকায় আলকারাজের সামনে এখন কেবল টেনিসের চার কিংবদন্তি—নোভাক জোকোভিচ, রাফায়েল নাদাল, রজার ফেদেরার এবং নারী টেনিসের মহাতারকা সেরেনা উইলিয়ামস।
মন্টে কার্লোর ফাইনালে আলকারাজকে পরাজিত করা ইতালিয়ান তারকা ইয়ানিক সিনারও এই তালিকায় উন্নতি করেছেন। তিনি এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠেছেন। সেমিফাইনালে যাঁকে হারিয়েছিলেন, সেই জার্মান খেলোয়াড় আলেকজান্ডার জভেরেভকে পেছনে ফেলেই এই অগ্রগতি।
সব মিলিয়ে, অল্প বয়সেই আলকারাজ যে গতিতে এগিয়ে চলেছেন, তাতে ভবিষ্যতে টেনিসের সর্বকালের সেরা আয়কারী খেলোয়াড়দের শীর্ষে ওঠার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন ইয়ানিক সিনার। কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে মন্টে কার্লো মাস্টার্স জিতে এক নম্বর র্যাঙ্কিংও পুনরুদ্ধার করেছেন ইতালিয়ান এই তারকা।
ফাইনালে ৭-৬ (৭-৫), ৬-৩ সেটে জয় তুলে নেন সিনার। ম্যাচটি ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, যেখানে শুরু থেকেই দু’জনই একে অপরকে চাপে রাখেন।
তবে টাই-ব্রেকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রথম সার্ভ ঠিকঠাক কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যান সিনার। আলকারাজের একটি ডাবল ফল্টও সেই সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন
| সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টিটিতে স্বর্ণ জয় বাংলাদেশের |
|
পুরো ম্যাচে দুই খেলোয়াড়ই বাতাসের প্রভাবে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন। যে কারণে দেখা যায় ৮৩টি আনফোর্সড এরর- যা ম্যাচের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তোলে।
দ্বিতীয় সেটে শুরুটা ভালো হয়নি সিনারের। শুরুতেই ব্রেক খেয়ে ৩-১ পিছিয়ে পড়েন। তবে সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করেন আলকারাজের ওপর।
৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর স্প্যানিশ তারকার দুর্বল সার্ভিস গেম কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক আদায় করেন তিনি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
এই জয়ের মাধ্যমে ২৪ বছর বয়সী সিনার চলতি বছরে তৃতীয় এটিপি মাস্টার্স ১০০০ শিরোপা জিতলেন। এর আগে ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও মায়ামি ওপেন জিতেছিলেন তিনি। পাশাপাশি মাস্টার্স সিরিজে তার টানা জয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ ম্যাচে।
ম্যাচ শেষে সিন্নার বলেন, ক্লে কোর্টে খেলার সঙ্গে আবার মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ছিল এই টুর্নামেন্টে তার মূল লক্ষ্য। তবে শিরোপা জয়ের সঙ্গে এক নম্বরে ফেরাটা তার জন্য বিশেষ অর্জন।

সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণ পদক জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দল। ফলে আগামী ২১-২৭ জুন ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিতব্য আইটিটিএফ-এটিটিইউ এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে লাল-সবুজ দল।
বাংলাদেশ ২০২২ সালে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত প্রথম সাউথ এশিয়ান জুনিয়রে স্বর্ণপদক জিতেছিল। ২০২৩ ভারতের অরুনাচল এবং ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে রৌপ্যপদক জিতেছিল লাল সবুজ দল। আর গতবছর নেপালের কাঠমান্ডুতে ব্রোঞ্চ পদক পেয়েছিল তারা।
ভারতের হিমাচল প্রদেশের শিমলায় ৮-১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনে শক্তিশালী শ্রীলঙ্কাকে ৩-১ সেটে পরাজিত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং নিশ্চিত করে স্বর্ণপদক। গ্রুপে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল তিনটি দলই সমান ৫ পয়েন্ট অর্জন করলেও সেট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থান দখল করে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরুতে শ্রীলঙ্কার ভিয়ানদুয়া আকাইনের কাছে ২-৩ গেমে হেরে যান বিকেএসপির আবুল হাসেম হাসিব। তবে পরবর্তীতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। নাফিজ ইকবাল ৩-০ গেমে দানুক লামাসুরিয়াকে পরাজিত করেন। এরপর জয় ইসলাম ৩-০ ব্যবধানে মুনাসিংহা হারিনকে হারিয়ে দলকে এগিয়ে নেন। শেষ ম্যাচে দলের অধিনায়ক নাসিফ ইকবাল ৩-১ গেমে ভিয়ানদুয়া আকাইনকে হারিয়ে নিশ্চিত করেন স্বর্ণজয়।
আরও পড়ুন
| ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে নতুন সিদ্ধান্ত রশিদ খানের |
|
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ এম মাকসুদ আহমেদ সনেট এই সাফল্যে উছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এ অর্জনের কৃতিত্ব খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা, স্পন্সর এবং ক্রীড়াবান্ধব সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ফুট উচ্চতায় এবং প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খেলতে গিয়ে শুরুতে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও খেলোয়াড়রা। তবুও তারা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালক দল নেপালকে ৩-১ এবং মালদ্বীপকে ৩-০ সেটে হারালেও শ্রীলঙ্কার কাছে ০-৩ সেটে পরাজিত হয়েছে। তাদের সামনে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ বাকি রয়েছে।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দল মালদ্বীপ (১-৩), নেপাল (০-৩) ও শ্রীলঙ্কার (১-৩) বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছে। তাদের শেষ ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা দল শ্রীলঙ্কার কাছে ০-৩ এবং নেপালের কাছে ২-৩ সেটে হেরে গেছে। তাদের সামনে মালদ্বীপ ও ভারতের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ বাকি।
উল্লেখ্য, গত বছর এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ৭টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছিল। আগামী শুক্র ও শনিবার প্রতিযোগিতার একক, দ্বৈত ও মিশ্র দ্বৈত ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম সেটে পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। দ্বিতীয় সেটেও জাত চেনাতে পারলেন না দানিল মেদভেদেভ। তাতেই মেজাজ হারানোর উপক্রম। টেনিসের ৯০ নম্বর বাছাই মাত্তেও বেরেত্তিনির কাছে হারের পর রাগ উগড়ে দিলেন দানিল মেদভেদেভ। ম্যাচের মাঝপথেই ভাঙলেন নিজের র্যাকেট।
বুধবার মন্টে কার্লোতে রাশিয়ান ১০ নম্বর বাছাই মেদভেদেভের হার ৬-০ ও ৬-০ ব্যবধানে। আর ক্যারিয়ারে প্রথমবার বেরেত্তিনির কাছে ডাবল ব্যাগেলে হারলেন তিনি।
ম্যাচে বেরেত্তিনির বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডে মাত্র ৪৯ মিনিটের ম্যাচে পুরোপুরি নিষ্প্রভ ছিলেন মেদভেদেভ। প্রথম সেট হারার পর দ্বিতীয় সেটের শুরুতেই ক্ষোভে র্যাকেট ছুড়ে মারেন কোর্টের পেছনের বোর্ডে। এরপর দর্শকদের হাসির মাঝেই সেটি তুলে নিয়ে মাটিতে ছয়বার আঘাত করেন। শেষ পর্যন্ত র্যাকেটটি ভেঙে যায়।
জযের পর ২৯ বছর বয়সী বেরেত্তিনি বলেন, ‘ম্যাচে হয়তো আমি মাত্র তিনটি শট মিস করেছি। আমার পরিকল্পনা ছিল একেবারে নিখুঁত, আর আমার শক্তিগুলো ঠিকভাবে কাজ করেছে।’