
ইতিবাচক ফুটবলের বার্তা ছিল মিকেল আর্তেতার। তার দল শুরুটা করল ঠিক সেভাবেই। ভাগ্য সহায় হলে প্রথম দশ মিনিটেই মিলতে পারত গোল। তবে সেটা আর হয়নি। বরং সময় গরানোর সাথে সাথে ছন্দ ফিরে পাওয়া পিএসজি দেখাল প্রাধান্য। গোলের দেখাও মিলল অনায়াসেই। কোনঠাসা আর্সেনাল একটা গোল করল বটে, তবে তাদের ম্যাচের দ্বিতীয় সেরা দল বানিয়ে পাঁচ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পা রাখল লুইস এনরিকের পিএসজিই।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেছে পিএসজি। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ স্কোরলাইনে জিতে দলটি পা রেখেছে এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় ফাইনালে।
শিরোপার লড়াইয়ে পিএসজির প্রতিপক্ষ ইন্তার মিলান, যারা বার্সেলোনাকে ৭-৬ গোলে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে তিন বছরের মধ্যে নিজেদের দ্বিতীয় ফাইনালে।
প্রথম লেগে ঘরের মাঠে পিএসজিকে দেখা যায়নি সেরা ছন্দে। তাতেও ধরা দিয়েছিল জয়। প্রতিপক্ষের মাঠে তৃতীয় মিনিটেই বিপদে পড়ে যাচ্ছিল দলটি। খিভিচা কোয়ারাতসখেলিয়া পিএসজির বক্সের কাছে জুরিয়েন টিম্বারের কাছে নবল হারান, যেখান থেকে বক্সের ভেতর করা তার ক্রসে হেড নেন ডেকলান রাইস, যা থাকেনি লক্ষ্যে।
প্রথম লেগে পিএসজির জয়ে বড় অবদান ছিল দুর্দান্ত কিছু সেভ করা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মার। এই ম্যাচেও হয়নি তার ব্যতিক্রম। থমাস পার্টির বক্সে ভেতর বাড়ানো লম্বা থ্রো থেকে বল পেয়ে লক্ষ্যে জোরাল শট নেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি। তবে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান পিএসজি গোলরক্ষক, উপহার দেন পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক সেভ।
প্রথম দশ মিনিটে পিএসজিকে ব্যস্ত থাকতে হয় রক্ষণ সামলাতেই বেশি। অষ্টম মিনিটে ফের ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হন দোনারুম্মা। আরও একবার থ্রো-ইন থেকে বক্সের ভেতর বল পায় আর্সেনাল। এবার নিখুঁত শট নেন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। তবে ঝাঁপিয়ে এক হাতে সেটা আটকে দেন ইতালিয়ান এই গোলকিপার।
১৬তম মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল পিএসজি। পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বাঁদিক থেকে কাট করে বক্সে প্রবেশ করে শট নেন জর্জিয়ান। ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করতে পারলেও বল ফিরে আসে পোস্টে লেগে।
ছয় মিনিট বাদে আরেকটি ভালো সুযোগ নষ্ট হয় পিএসজির। বক্সের ভেতর ভালো পজিশনে থাকলেও দুর্বল শট নিতে পারেন ডিসাইর দৌরে। ২৭তম মিনিটে লিড নেয় পিএসজি, আর সেটা ছিল দেখার মত এক গোলই।
আর্সেনাল ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল পেয়ে যান ফাবিয়ান রুইজ। প্রথমে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন, জায়গা তৈরি করেন আর এরপর বাঁ পায়ের বুলেট শটে খুঁজে নেন ঠিকানা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৪৬তম ম্যাচে এটি তার প্রথম গোল।
বিরতির পর গোছানো ফুটবল উপহার দেয় আর্সেনাল। ৬৩তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগও তারই ফলশ্রুতিতে পেয়ে যান বুকায়ো সাকা। বাঁদিক থেকে কাট করে নেন কার্লিং শট, যা ছিল লক্ষ্যেই। তবে পিএসজির যে একজন দোনারুম্মা আছেন! আলতো করে বলটি ক্লিয়ার করেন কর্নারের বিনিময়ে।
এর মিনিট দুয়েক বাদে আশরাফ হাকিমির শট আর্সেনালের বক্সে একজনের হাতে লাগলেও শুরুতে তা পেনাল্টি মনে হচ্ছিল না। তবে ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টি দেন পিএসজিকে।
তবে দলকে হতাশ করেন ভিতিনিয়া। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান তিনি, যা দেখে রায়াও মুভ করেন সেভাবেই। ডান দিকে নেওয়া ভিতিনিয়ার নেওয়া শট শেষ পর্যন্ত রুখে দেন রায়া।
৭২তম মিনিটে ম্যাচ থেকে আর্সেনালকে প্রায় ছিটকেই দেন হাকিমি। বদলি নামা উসমান দেম্বেলে পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়েই জাল খুঁজে নেন মরক্কোর এই ডিফেন্ডার।
দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার আর্সেনাল ৭৫তম মিনিটে পায় একটা লাইফলাইন। একটু আগেই বদলি নামা লিয়ানড্রো ট্রোসার্ড মারকুইনহোসের কাছ থেকে বলের দখল নিয়ে বক্সের ভেতর পাস দেন সাকাকে। ইংলিশ উইঙ্গারের প্রথম শট গোলকিপার আটকে দিলেও ফিরতি শটে গোলের দেখা পান সাকা।
তবে পরের মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ ও সেরা সুযোগটাও নষ্ট করেন তিনি। ছয় গজের ভেতর পরাস্ত হয়ে গিয়েছিলেন দোনারুম্মাও। ফাঁকায় থাকা সাকার কাজ ছিল কেবল বল লক্ষ্যে রাখা, তবে তিনি সেটা উড়িয়ে মারেন পোষ্টের অনেক ওপর দিয়ে।
ওই মিসের পর আর্সেনালের মনোবলও যেন হারিয়ে যায় দ্রুত। বাকি সময়ে পিএসজি রক্ষণ সামাল দেয় দক্ষতার সাথেই। আর সেটাই তাদের ২০১৯-২০ মৌসুমের পর আবার নিয়ে যায় ফাইনালে।
No posts available.
৩ মার্চ ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
৩ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম

চীনের বিপক্ষে এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের উদ্বোধনী ম্যাচে সমর্থকদের আগ্রহ ছিল আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে নিয়েও। কখন সুইডেনপ্রবাসী ফুটবলারের অভিষেক হয় তা নিয়ে ছিল জল্পনা। অপেক্ষার অবসান ঘটে নির্ধারিত সময়ের খেলা ৪ মিনিট বাকি থাকতে। ৮৬ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলে অভিষেক হয় এই উইঙ্গারের।
শামসুন্নাহার জুনিয়রের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আনিকা। ৯ নম্বর জার্সি পড়ে নামবেন এটা জানাই ছিল। শেষ পর্যন্ত তাই হলো বাংলাদেশ দলে ৯ নম্বর জার্সি পেলেন অভিষেকের আগেই জনপ্রিয়তা পাওয়া প্রবাসী এই ফুটবলার।
এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে আনিকা যখন মাঠে নামেন তখন হারের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। ০-২ গোলে পিছিয়ে থাকার পর তাঁকে মাঠে নামান কোচ পিটার বাটলার।
নির্ধারিত সময়ের ৪ মিনিট এবং ইনজুরি টাইমের ৮ মিনিট, সর্বসাকুল্যে ১২ মিনিট মাঠে ছিলেন আনিকা। এইটুকু সময়ে একজন ফুটবলারের পারফরম্যান্স বিবেচনার সুযোগ হয় না।
তবে যতক্ষণ মাঠে ছিলেন নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে খেলা শেষে আনিকা জানান টি-স্পোর্টসকে,
'অনেক ভালো লাগছে। লড়াই করেছি, দৌড়েছি এবং নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।'
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৬ মার্চ, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় ৯ মার্চ উজবেকিস্তানকে মোকাবিলা করবে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়নরা।
পরবর্তী ম্যাচগুলোয় বেশি মিনিট সুযোগ পেলে দলে অবদান রাখতে চান আনিকা। বলেন,
'পরের ম্যাচে যদি বেশি মিনিট খেলার সুযোগ পাই অবশ্যই আমি পারফর্ম করতে চাই এবং দলে অবদান রাখতে চাই।'

বিশ্বকাপ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন বড় এক ধাক্কা খেল ব্রাজিল। সেলেসাওদের তারকা ফুটবলার রদ্রিগো গোস চোটে পড়েছেন। ক্যারিয়ার হুমকি এসিএল (অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) ইনজুরিতে পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, এসিএলের চোটে পুরো মৌসুম থেকেই ছিটকে গেছেন রদ্রিগো। তাতে তিন মাস পর শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপও খেলা হচ্ছে না তাঁর। মেডিক্যাল পরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়েছে, রদ্রিগো-এর ডান হাঁটুর সামনের ক্রুসিয়েট লিগামেন্টে (এসিএল) চোট ধরা পড়েছে।
গতকাল লা লিগায় হেতাফের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে ৫৫ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠে নামেন রদ্রিগো। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল এটি কেবল একটি গুরুতর পা মচকানোর কোনো চোট হতে পারে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মেডিকেল রিপোর্টে ভয়াবহ চোটের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এসিএলের মতো গুরুতর চোট থেকে সেরে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগে। রদ্রিগোর ক্ষেত্রে আনুমানিক সেরে ওঠার সময় সাত থেকে নয় মাস। যদিও কিছু ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট চোট সেরে ওঠাতে এক বছর পর্যন্ত সময় নিতে পারে। সাধারণত এই ধরনের চোট থেকে পুনরুদ্ধারে সাত থেকে নয় মাস লাগে। তাতে রিয়ালে মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বসেরা মঞ্চেও দেখা যাবে না তাকে।
ব্রাজিলের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়ার কপালেও দুশ্চিন্তার ভাঁজ বড় বাড়ল। এরমধ্যে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপেও আছেন চোটে।
এই মৌসুমে খুব একটা মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল রদ্রিগোর। এটি তাঁর টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় অংশগ্রহণ হতে যেত। ২০২২ বিশ্বকাপে ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড পাঁচটি ম্যাচে ১৮০ মিনিট খেলেছিলেন। সম্ভাবনা আছে, তিনি আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে পরবর্তী মৌসুম শুরুর সময় মাঠে ফিরতে পারবেন।

খেলার ১৪ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমাকে গোলবঞ্চিত করেন চীনের গোলকিপার চেন চেন। কর্নার প্রতিহতের পর বাংলাদেশের অর্ধ থেকে ঋতুকে লক্ষ্য করে উড়ন্ত পাস দেন মারিয়া মান্দা। চীনের ডিফেন্ডার উ হাইয়ানকে গতিতে পরাস্ত করে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে সরাসরি গোলে শট নেন তিনি। গোলকিপার লাফিয়ে ফিস্ট করে বল জালের ওপর দিয়ে কর্নার করে দেন।
শট করেই মাটিতে পরে যান ঋতুপর্ণা। এরপর তাকিয়ে দেখছিলেন বল জাল খুঁজে পেল কি না। গোলকিপার ফিরিয়ে দেওয়ার পর মাথা নিচু করে সবুজ ঘাসের ওপর হতাশায় শুয়ে পরলেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের পোস্টারগার্ল। মারিয়া এসে ঋতুকে পিঠ চাপড়ে দিলেন। এরপর তিনি দীর্ঘদিনের সতীর্থকে কি বলেছেন তা জানা যায়নি। তবে দারুণ ওই শটের জন্য যে বাহবা দিয়েছেন তা মারিয়ার শরীরী ভাষাতে আঁচ করা গেছে।
ম্যাচ শেষে আলোচনায় ঋতুপর্ণার সেই শট। চীনা গোলকিপার যদি সে সময় অতিমানবীয় হয়ে না উঠতেন, কিংবা শটটা যদি আরেকটু এদিক ওদিক হতো। এমন ‘যদি-কিন্তু’র আক্ষেপই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
তখনও দুই দল ছিল গোলশূন্য সমতায়। আগে লিড নেওয়া গেলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন কিছু হলেও হতে পারত। তবে এশিয়ান কাপের ৯বারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ০-২ গোলে হারলেও লাল-সবুজের মেয়েরা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। যে কারণে প্রশংসায় ভাসছেন তাঁরা।
খেলা শেষে ব্রডকাস্ট চ্যানেল টি-স্পোর্টসের সঙ্গে সেই মুহূর্তের অনুভূতি ব্যক্ত করেন ঋতুপর্ণা চাকমা,
‘ভেবেছিলাম এটা গোল হবে। যদি গোল হতো এটা আমার জীবনের সেরা গোল হিসেবে মেনে নিতাম।’
সাধারণত গোল করা না করা নিয়ে কখনই আক্ষেপ করেন না বাংলাদেশের এই উইঙ্গার। ম্যাচ শেষে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৭ নম্বরে থাকা দলের বিপক্ষে শেখার কথাই বললেন ঋতুপর্ণা,
‘আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। আমরা ভাগ্যবান চায়নার মতো দলের সঙ্গে খেলতে পেরে। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। আমি আসলে খুব গর্বিত যে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি।’
এএফসি এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আরেক শক্তিধর দেশ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে, ৬ মার্চ।

পা হড়কালেই বিপদ! প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি এখন যে অবস্থানে, নখ টিপে টিপে হাঁটা ছাড়া উপায় নেই তাদের। টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল থেকে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। তবে মিকেল আরতেতার দলের চেয়ে একটি ম্যাচ কম খেলেছে সিটিজেনরা। এমতবস্থায় নটিংহাম ফরেস্ট ম্যাচের আগে বেশ সাবধানী পেপ গার্দিওলা।
বুধবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে নটিংহামকে আতিথ্য দেবে ম্যানসিটি। চিরচেনা মাঠ হলেও সতর্ক গার্দিওলা। সিটিজেন কোচ জানিয়েছেন, শিরোপার লড়াইয়ের রেসে পয়েন্ট হারানো উচিত নয় তাঁর দলের, বিশেষ করে বুধবার নটিংহাম ফরেস্ট ম্যাচে তো নয়-ই।
ভিতর পেরেইরা অধীনে নটিংহাম খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না এই মৌসুমে। তারপরও সাবেক ওলভস কোচের ট্যাকটিস নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তিত গার্দিওলা।
তিনি বলেছেন,
“আমি তাকে (পোরেইরা) পোর্তোর সময় থেকেই চিনি। আমি ঠিকভাবে মনে রেখেছি। আমরা যখন গত বছর উল্ভসের সঙ্গে খেলেছিলাম, প্রথমার্ধে তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম। সে একদম টপ ক্লাস ম্যানেজার।”
লিগে কর্ণার থেকে এখন পর্যন্ত গোলের সংখ্যা (১৩৮টি ২৮১ ম্যাচে) গত মৌসুমের (১৩৫ গোল ৩৮০ ম্যাচে) চেয়ে বেশি। লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট বলেছিলেন, সেট-পিসের গুরুত্ব বাড়ায় প্রিমিয়ার লিগ দেখতে আনন্দ কমেছে। গার্দিওলাও এতে কিছুটা সহমত পোষণ করেছেন।
তিনি বলেছেন,
“সেট-পিস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। আমি যখন ম্যানেজার হয়েছি, তখন ভিন্ন ছিল। ছোটবেলাতেও আমরা দেখতাম ইংল্যান্ডে মানুষ কর্নার এবং ফ্রি-কিককে গোলের মতো উদযাপন করে। এখনও অনেকটাই একই। আর্সেনাল সেট-পিস ঠিকভাবে ব্যবহার করে এবং এটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা খেলার অংশ, মানিয়ে নিতে হবে।”

প্রতিপক্ষ শক্তিশালী, এশিয়ান কাপের সবচেয়ে সফল দল। তাদের বিপক্ষেই কি না বাজি ধরলেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোলকিপার রুপনা চাকমাকে বসিয়ে দিলেন বেঞ্চে। গোলবারের দায়িত্ব তুলে দিলেন মিলি আক্তারের কাঁধে। ১৯ বছর বয়সি এই গোলকিপার দায়িত্ব সামলেছেন, কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন, চীনের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন; আর সবশেষে লড়াকু এক ম্যাচের গল্পে নিজেকে রেখেছেন দারুণভাবে।
ফুটবলে গোলকিপারের বীরত্বগাথা নিয়ে অনেক সময় তুলনা করা হয় চীনের মহাপ্রাচীরের সঙ্গে। সেই চীনা দলের বিপক্ষেই অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে গোলবারের সামনে বাঁধার প্রাচীর গড়লেন বাংলাদেশের মিলি আক্তার। এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে আজ তাদের বিপক্ষে যদিও ০-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।
তবে এমন হারার মাঝেও যে জয় আছে। সেটি অনুধাবন করতে চীন সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য জানলেই তো হয়। এই চীন এশিয়ান কাপের সবচেয়ে সফল দল। তারা ৯বারের চ্যাম্পিয়ন। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা। নিয়মিত খেলে বিশ্বকাপে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে চীনের অবস্থান ১৭। সেখানে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে; ১১২ নম্বরে আছে লাল সবুজের মেয়েরা। এই প্রতিযোগিতায় এবারই প্রথম খেলছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ।
আজ বাংলাদেশ চীনের বিপক্ষে মাঠে নামে ৫-৩-২ ফর্মেশন মেনে। দ্বিতীয়ার্ধে ছক বদলে যায়, একজন ডিফেন্ডারের বদলে মিডফিল্ডে শক্তি বাড়ান বাংলাদেশ কোচ বাটলার। দ্বিতীয়ার্ধে আরও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে বাটলারের শিষ্যরা। এই অর্ধে গোলের সুযোগ যেমন তৈরি করেছে বাংলাদেশ, তেমনি কয়েকটি পরিষ্কার সেভও করেছেন মিলি আক্তার।
ম্যাচ শেষে কোচ বাটলারের প্রশংসা ধরেছে মিলিকে নিয়ে। এদিন প্রথম গোলে মিলির পজিশন ঠিক জায়গায় থাকলে হয়ত সেটি গোল না-ও হতে পারত। তবে এটুকু ভুল হতে পারে বলেও জানান ব্রিটিশ কোচ। বলেন,
‘মিলি আজ অসাধারণ খেলেছে। সে কিছু ভুল করেছে, মানুষ ভুল করবেই। তবে আমি দলে নতুনত্ব আনতে চেয়েছিলাম এবং আমি এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাই না।’
বাংলাদেশের শুরুর একাদশে আজ রুপনা চাকমার জায়গায় মিলিকে দেখে অনেকেই চমকে গেছেন। দেশসেরা গোলকিপার নেই, তাও আবার এমন একটা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। তবে বাটলার বলেছেন দলে কারও জায়গা স্থায়ী নয়, পারফরম্যান্স করেই টিকে থাকতে হবে। রুপনার না থাকার ব্যাখ্যায় কোচ বলেন,
‘রুপনা খুব ভালো খেলে, সে দারুণ একজন চরিত্র। কিন্তু তাঁর উচ্চতা কিছুটা কম। আমি তো আর তাঁকে রাতারাতি ৬ ইঞ্চি লম্বা করে দিতে পারব না। আমি সবসময় দলে স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে চাই। রুপনা বা মিলি— কারোরই দলে জায়গা নিশ্চিত নয়।’
এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৬ মার্চ, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে।