
ইতিবাচক ফুটবলের বার্তা ছিল মিকেল আর্তেতার। তার দল শুরুটা করল ঠিক সেভাবেই। ভাগ্য সহায় হলে প্রথম দশ মিনিটেই মিলতে পারত গোল। তবে সেটা আর হয়নি। বরং সময় গরানোর সাথে সাথে ছন্দ ফিরে পাওয়া পিএসজি দেখাল প্রাধান্য। গোলের দেখাও মিলল অনায়াসেই। কোনঠাসা আর্সেনাল একটা গোল করল বটে, তবে তাদের ম্যাচের দ্বিতীয় সেরা দল বানিয়ে পাঁচ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পা রাখল লুইস এনরিকের পিএসজিই।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেছে পিএসজি। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ স্কোরলাইনে জিতে দলটি পা রেখেছে এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় ফাইনালে।
শিরোপার লড়াইয়ে পিএসজির প্রতিপক্ষ ইন্তার মিলান, যারা বার্সেলোনাকে ৭-৬ গোলে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে তিন বছরের মধ্যে নিজেদের দ্বিতীয় ফাইনালে।
প্রথম লেগে ঘরের মাঠে পিএসজিকে দেখা যায়নি সেরা ছন্দে। তাতেও ধরা দিয়েছিল জয়। প্রতিপক্ষের মাঠে তৃতীয় মিনিটেই বিপদে পড়ে যাচ্ছিল দলটি। খিভিচা কোয়ারাতসখেলিয়া পিএসজির বক্সের কাছে জুরিয়েন টিম্বারের কাছে নবল হারান, যেখান থেকে বক্সের ভেতর করা তার ক্রসে হেড নেন ডেকলান রাইস, যা থাকেনি লক্ষ্যে।
প্রথম লেগে পিএসজির জয়ে বড় অবদান ছিল দুর্দান্ত কিছু সেভ করা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মার। এই ম্যাচেও হয়নি তার ব্যতিক্রম। থমাস পার্টির বক্সে ভেতর বাড়ানো লম্বা থ্রো থেকে বল পেয়ে লক্ষ্যে জোরাল শট নেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি। তবে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান পিএসজি গোলরক্ষক, উপহার দেন পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক সেভ।
প্রথম দশ মিনিটে পিএসজিকে ব্যস্ত থাকতে হয় রক্ষণ সামলাতেই বেশি। অষ্টম মিনিটে ফের ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হন দোনারুম্মা। আরও একবার থ্রো-ইন থেকে বক্সের ভেতর বল পায় আর্সেনাল। এবার নিখুঁত শট নেন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। তবে ঝাঁপিয়ে এক হাতে সেটা আটকে দেন ইতালিয়ান এই গোলকিপার।
১৬তম মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল পিএসজি। পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বাঁদিক থেকে কাট করে বক্সে প্রবেশ করে শট নেন জর্জিয়ান। ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করতে পারলেও বল ফিরে আসে পোস্টে লেগে।
ছয় মিনিট বাদে আরেকটি ভালো সুযোগ নষ্ট হয় পিএসজির। বক্সের ভেতর ভালো পজিশনে থাকলেও দুর্বল শট নিতে পারেন ডিসাইর দৌরে। ২৭তম মিনিটে লিড নেয় পিএসজি, আর সেটা ছিল দেখার মত এক গোলই।
আর্সেনাল ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল পেয়ে যান ফাবিয়ান রুইজ। প্রথমে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন, জায়গা তৈরি করেন আর এরপর বাঁ পায়ের বুলেট শটে খুঁজে নেন ঠিকানা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৪৬তম ম্যাচে এটি তার প্রথম গোল।
বিরতির পর গোছানো ফুটবল উপহার দেয় আর্সেনাল। ৬৩তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগও তারই ফলশ্রুতিতে পেয়ে যান বুকায়ো সাকা। বাঁদিক থেকে কাট করে নেন কার্লিং শট, যা ছিল লক্ষ্যেই। তবে পিএসজির যে একজন দোনারুম্মা আছেন! আলতো করে বলটি ক্লিয়ার করেন কর্নারের বিনিময়ে।
এর মিনিট দুয়েক বাদে আশরাফ হাকিমির শট আর্সেনালের বক্সে একজনের হাতে লাগলেও শুরুতে তা পেনাল্টি মনে হচ্ছিল না। তবে ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টি দেন পিএসজিকে।
তবে দলকে হতাশ করেন ভিতিনিয়া। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান তিনি, যা দেখে রায়াও মুভ করেন সেভাবেই। ডান দিকে নেওয়া ভিতিনিয়ার নেওয়া শট শেষ পর্যন্ত রুখে দেন রায়া।
৭২তম মিনিটে ম্যাচ থেকে আর্সেনালকে প্রায় ছিটকেই দেন হাকিমি। বদলি নামা উসমান দেম্বেলে পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়েই জাল খুঁজে নেন মরক্কোর এই ডিফেন্ডার।
দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার আর্সেনাল ৭৫তম মিনিটে পায় একটা লাইফলাইন। একটু আগেই বদলি নামা লিয়ানড্রো ট্রোসার্ড মারকুইনহোসের কাছ থেকে বলের দখল নিয়ে বক্সের ভেতর পাস দেন সাকাকে। ইংলিশ উইঙ্গারের প্রথম শট গোলকিপার আটকে দিলেও ফিরতি শটে গোলের দেখা পান সাকা।
তবে পরের মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ ও সেরা সুযোগটাও নষ্ট করেন তিনি। ছয় গজের ভেতর পরাস্ত হয়ে গিয়েছিলেন দোনারুম্মাও। ফাঁকায় থাকা সাকার কাজ ছিল কেবল বল লক্ষ্যে রাখা, তবে তিনি সেটা উড়িয়ে মারেন পোষ্টের অনেক ওপর দিয়ে।
ওই মিসের পর আর্সেনালের মনোবলও যেন হারিয়ে যায় দ্রুত। বাকি সময়ে পিএসজি রক্ষণ সামাল দেয় দক্ষতার সাথেই। আর সেটাই তাদের ২০১৯-২০ মৌসুমের পর আবার নিয়ে যায় ফাইনালে।
No posts available.
৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৫ এম
৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৭ পিএম

টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে লাল সবুজের তরুণরা।
ম্যাচ শেষে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী দলের লড়াকু মানসিকতার কথাই তুলে ধরেন,
'আমি চার বছর ধরে এটা চাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের দিয়েছে। আমি একজনকে মিস করছি, আমার বন্ধু আশিক। ও থাকলে ভালো হতো। আমি এই ট্রফি তাঁকে উৎসর্গ করতে চাই।'
দেশের বাইরে খেলেছে বাংলাদেশ। তবে গ্যালারিতে বাংলাদেশী সমর্থকদের ৯০ মিনিটের উল্লাসে খেলোয়াড়দের কাছে মনে হয়নি তারা দেশ থেকে অনেক দূরে আছেন। তাই সমর্থকদের প্রশংসা করে মিঠু বলেন,
'ফ্যানরা আমাদের অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। তাদের সাপোর্টের কারণে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। নেক্সট টাইম আমরা আরও ফ্যান চাইবো এবং আরও চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।'
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর ফাইনাল গড়ায় পেনাল্টি শু্যটে। যেখানে ভারতের প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার মাহিন। খেলা শেষের প্রতিক্রিয়ায় মোহামেডান গোলকিপার বলেন,
'অসাধারণ। আমার কাছে মনে হয়েছে ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন রক্ষা করতে পেরেছি।'
অনূর্ধ্ব-২০ এর সদস্য মোর্শেদ বলেন,
'এক্সাইটেড ছিলাম, খুবই এক্সাইটেড। কি বলব! কিছু বলার ভাষা নেই। দেশবাসীর সঙ্গে দেখা হচ্ছে।'
আবদুল রিয়াদ ফাহিম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
'স্বপ্নের ফাইনাল, আলহামদুলিল্লাহ। সবার আগে আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া যে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। আজকের জয় আমরা দেশবাসীকে উৎসর্গ করলাম।'

মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেই সঙ্গে তাদেরকে আর্থিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। কক্সবাজারে বসে প্রতিমন্ত্রী ফাইনাল খেলা দেখেছেন বলে জানা যায়।
শুক্রবার ফাইনালে আজ ভারতকে (৪)০-০(৩) ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে গতবছর ভারতের কাছে পেনাল্টিতে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। সেই ফাইনালের শোধও আজ নেওয়া হলো বাংলাদেশের।
পুরুষদের বয়সভিত্তিক সাফে বাংলাদেশের জেতা দুটি শিরোপাই এসেছে অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতে। অনূর্ধ্ব-১৮-তে দুইবার এবং অনূর্ধ্ব-১৯-এ একবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সেই হতাশা এবার মালদ্বীপে কিছুটা হলেও কাটল মোর্শেদ, সুলিভান ব্রাদার্স ও নাজমুল ফয়সালদের হাত ধরে।

দুই দলের আক্রমণাত্মক শুরুর পরও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। এরপর নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। টাইব্রেকারে ভারতের একটি শট ঠেকিয়ে নায়ক বনে যান গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন।
শুক্রবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ ভারতকে (৪)০-০(৩) ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালেও শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।
তবে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে গতবছর ভারতের কাছে পেনাল্টিতে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। সেই ফাইনালের শোধও আজ নেওয়া হলো বাংলাদেশের।
চতুর্থ মিনিটে ডান দিকের কর্নারের কাছ থেকে রোহেন সিংয়ের ক্রসে বক্সে মাথা ছোঁয়ান আরবাশ। তবে বল বেরিয়ে যায় পোস্টের অনেকটা বাইরে দিয়ে। তিন মিনিট পর রোনানের শট সহজেই তালুবন্দি করেন ভারতীয় গোলকিপার সুরাজ সিং। প্রতি আক্রমণে বাংলাদেশ গোলকিপার মাহিনের পরীক্ষা নেয় ভারত।
১৩ মিনিটে রোনারের দারুণ ফ্রি কিক থেকে বক্সে হেড নেন মিঠু। তবে অল্পের জন্য বল খুঁজে পায়নি জালের দেখা। অল্পের জন্য গোল না পেয়ে হতাশায় মুখ ঢাকেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
১৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মানিকের পাসে গোলমুখের সামনে রোনানের দারুণ প্রচেষ্টা আটকে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার।
৩২ মিনিটে বিপদ থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। গোলকিপার মাহিন পোস্ট ছেড়ে কিছুটা উপরে উঠে আসেন, তবে বলের নাগাল পাননি। এ সময় বক্সের আশেপাশেই বল নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় ভারত, তখনও ফাঁকা পোস্ট; ডিফেন্ডারদের কল্যাণে এ যাত্রায় অরক্ষিত থাকে বাংলাদেশের পোস্ট। দুই মিনিট পর সেই একইভাবে উপরে উঠে এসে বাংলাদেশকে বিপদে প্রায় ফেলছিলেন মাহিন। এবারও রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা ছিলেন সজাগ।
৩৬ মিনিটে আবারও গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে ভারত। কর্নার কিকের পর গোলমুখের সামনে জটলা তৈরি হয়। একাধিক প্রচেষ্টার পর গোলে হেড নেন ভারতের জর্ডিক আবরানচেস। তবে অনায়াসেই বল গ্লাভসবন্দি করেন মাহিন।
যোগ করা সময়ে মোর্শেদের ফ্রি কিক ভারতীয় রক্ষণের দৃঢ়তায় ফিরে আসে। বক্সের একদম সামনে থেকে ফিরতি বলে অনেকটা ওভারহেড কিকের মতো শট নেন রোনান। তবে বল চলে যায় পোস্টের উপরে দিয়ে। এ সময় টানা আক্রমণে ভারতীয় রক্ষণকে নাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। যদিও গোল আদায় করতে পারেননি রোনান, মোর্শেদরা। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুই দল।
৪৮ মিনিট থেকে ভারত আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল অটুট। ৫১ মিনিটে ভারত টানা আক্রমণ চালিয়ে বলের পজিশন নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করে। তবে ৫৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে ভারতকে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ।
ম্যাচের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ৬২ মিনিটে গোলের ভালো সুযোগ আসে রোনানের সামনে। বক্সের সামনে থেকে মানিকের উড়িয়ে মারা বল বুক দিয়ে মাটিতে নামাতে চাইলে নিয়ন্ত্রণ হারান এই ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পর থ্রো থেকে বাংলাদেশের রক্ষণের পরীক্ষা নেয় ভারত।
৬৬ মিনিটে নাজমুল ফয়সালকে তুলে ডেকলান সুলিভানকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। ৮২ মিনিটে আরবাশের দূরপাল্লার শট বাংলাদেশের উপরের জাল কাঁপায়। পরের মিনিটে ৮ এর নিচু ক্রসে গোলমুখের সামনে বলে টোকা দেন রিসি যাদব। তবে বল চলে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে।
৯০ মিনিটে প্রতি আক্রমণে উঠে বাংলাদেশ। তবে বক্সে ঢুকলে ডেকলানকে কর্নার করে দেন ভারতের ডিফেন্ডার বুনসং সিং। এরপর সেট পিসে অসফল হয় বাংলাদেশ।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সুলিভান ব্রাদার্সের জোড়া ক্যামিওতে গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ডেকলান ডানপ্রান্ত দিয়ে গতিময় দৌড়ে বক্সের দারুণ এক পাস দেন রোনানকে। তবে এই ফরোয়ার্ড শট নেওয়ার আগে ভারতের গোলকিপার সুরাজ সিং আটকে দেন।
একটু পরই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। নিয়ম অনুযায়ী ৯০ মিনিট শেষে ফাইনাল নিস্পত্তি হওয়ার কথা ছিল পেনাল্টি শ্যুটআউটে। যেখানে আগে শট পায় ভারত।
প্রথম পেনাল্টি কিক ঠেকিয়ে দেন মাহিন। ভারতের রিষি সিংয়ের নেওয়া নিচু শট ডান দিকে ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলকিপার। এরপর বা-পায়ের নিচু শটে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন মোর্শেদ।
নিজেদের দ্বিতীয় শটে মোহাম্মদ আরবাশ গতিময় শটে পরাস্ত করেন মাহিনকে। ঠান্ডা মাথায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় শটে জাল কাঁপান চন্দন রায়।
তৃতীয় শটে স্যামসন সমতায় ফেরান ভারতকে। তবে বাংলাদেশের হাতে তখনও এক বাকি ছিল। আবদুল রিয়াদ ফাহিমের সফল স্পটকিকে আবার লিড নেয় বাংলাদেশ।
ভিশাল যাদব চতুর্থ শটে আবার সমতায় ফেরান ভারতকে। তবে বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাাকশাম টপ কর্নার দিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে চাইলে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দুই দলের চার শট নেওয়ার পর ৩-৩ সমতা বিরাজ করে। এরপর শেষ শট নিতে এসে একইভাবে মিস করেন ভারতের ওমাং দোদুম। ফাইনাল কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি রোনান। চাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক বিরতির পর ফিরল ক্লাব ফুটবলের রমরমা উৎসব। লা লিগায় শুরু হচ্ছে আজ। স্প্যানিশ লিগটিতে রিয়াল মাদ্রিদ মাঠে নামবে আগামীকাল। মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচটিকে লিগের নয়টি ‘ফাইনালের’ একটি বলছেন লস ব্লাঙ্কোসদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
লিগ জেতার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে মৌসুমের শেষ অংশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক একটি ম্যাচেই বদলে যেতে পারে সমীকরণ। লা লিগায় পয়েন্ট টেবিলে দুই নম্বরে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২৯ ম্যাচে ২২ জয়, ৩ ড্র ও ৪ হারে ক্লাবটির সংগ্রহ ৬৯। সমান ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে চার পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা।
লিগে বাকি আছে আর নয়টি ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচকেই ফাইনাল ধরে এগোতে চান রিয়াল কোচ আরবলোয়া,
‘আমরা যারা এখানে থেকে কাজ করেছি, আমরা কঠোর এবং কার্যকরভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামীকালের ম্যাচ এবং ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণভাবে সচেতন। প্রতিপক্ষও যেমন পয়েন্টের জন্য লড়ছে, আমরাও তেমনি। বিরতির পর মাঠে খেলতে সহজ হবে না। লা লিগায় আমাদের সামনে নয়টি ফাইনাল বাকি, এবং আগামীকাল প্রথম ফাইনাল।’
কোনো খেলোয়াড়ের চোট ছাড়া আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন আরবেলোয়া,
‘খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে ভালোভাবে ফিরেছে। সৌভাগ্যক্রমে, সবাই নিরাপদ এবং সুস্থ রয়েছে, যা জাতীয় দলের সঙ্গে যাত্রার প্রথম উদ্দেশ্য। অধিকাংশ খেলোয়াড়ের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে—মিনিট পেয়েছে এবং উচ্চ মানের ফুটবল খেলেছে।’
চলতি মৌসুমে সম্ভাব্য দুটি শিরোপা জিততে পারে রিয়াল মাদ্রিদ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচ ধরে ধরে সতর্কতার সঙ্গে শেষ করতে চান আরবেলোয়া। ঘরের মাঠে কাল অবনমন অঞ্চলে থাকা মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না বলছেন তিনি,
‘আমরা সেখানে পৌঁছেছি যেখানে আমরা চেয়েছিলাম—লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ উভয়ের জন্য লড়াই করতে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য আগামীকালের ম্যাচ জেতা, আর মায়োর্কা ম্যাচ শেষ হলে আমরা পরবর্তী ম্যাচের দিকে নজর দেব। প্রতিটি ম্যাচেই আমরা লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য খেলছি। কোনো ভুল করার সুযোগ নেই, এবং তাই আগামীকাল মাঠে নামার সময় আমাদের পূর্ণ সচেতন থাকতে হবে—কারণ এটি একটি কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক বিরতির পর প্রায়ই বড় দলগুলোকে হোঁচট খেতে দেখা যায়। দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খানিকটা বেগ পেতে হয় খেলোয়াড়দের। তবে শিষ্যরা প্রস্তুত বলেই মনে করছেন রিয়ালের কোচ,
‘বিরতির পর আবার ম্যাচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয় না, তবে আমি খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, তাদের ইচ্ছা, মনোভাব, মানসিক দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাসে ভরসা করি। আমি তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণা দেখছি। তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য লড়াই করতে, জানি যে এটি সহজ হবে না।’

মিশরের বিপক্ষে স্পেনের প্রীতি ম্যাচে দর্শকদের ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান তোলপাড় সৃষ্টি করেছে স্পেনের ফুটবলে। বর্ণবাদী এই ঘটনায় দেশটির ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি ছাড়াও রাষ্ট্রীয়ভাবে কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল। এবার এ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকও।
লা লিগায় আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইয়ামালের সাহসিকতার প্রশংসা করেন ফ্লিক। আর যারা এই ধরনের স্লোগান দিয়েছে তাদের কঠোর সমালোচনাও করেছেন কাতলান ক্লাবটির কোচ,
‘আমি মনে করি লামিনে একটি অসাধারণ বিবৃতি দিয়েছে। ফুটবল মানেই সহবস্থান। কিছু মানুষ এটা বুঝতে পারছে না, এটা হতাশাজনক।’
ফ্লিক আরও বলেন,
‘এখন সময় এসেছে ভেবে দেখা এবং আমাদের জীবন ও ফুটবল থেকে আমরা কী চাই তা নির্ধারণ করার। আমরা বর্ণবাদ চাই না। আমরা সবাই চাই যে আমাদের সম্মান জানানো হোক—জাতি বা ধর্ম নির্বিশেষে। পরিবর্তনের সময় এসেছে।’
বার্সেলোনায় আরসিডিই স্টেডিয়ামে মুসলিমপ্রধান দেশ মিসর ও স্পেনের মধ্যকার ম্যাচের প্রথমার্ধে গ্যালারি থেকে মুসলিমবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। স্লোগানগুলো সরাসরি ইয়ামালকে লক্ষ্য করে না হলেও তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবেই নেন।
ইয়ামাল তাঁর পোস্টে লেখেন,
‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে “তুমি যদি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম”—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। আমি জানি, এগুলো প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নয়। তবু একজন মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানান। তিনি লেখেন,
‘মুষ্টিমেয় অসভ্য লোকের আচরণে স্পেনকে আমরা কলঙ্কিত হতে দিতে পারি না। স্পেন একটি বহুত্ববাদী ও সহনশীল দেশ।’
ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের স্পেনের তদন্তের পাশপাশি ফিফাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি ম্যাচের বিভিন্ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করবে। ফলে স্পেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।