
ইতিবাচক ফুটবলের বার্তা ছিল মিকেল আর্তেতার। তার দল শুরুটা করল ঠিক সেভাবেই। ভাগ্য সহায় হলে প্রথম দশ মিনিটেই মিলতে পারত গোল। তবে সেটা আর হয়নি। বরং সময় গরানোর সাথে সাথে ছন্দ ফিরে পাওয়া পিএসজি দেখাল প্রাধান্য। গোলের দেখাও মিলল অনায়াসেই। কোনঠাসা আর্সেনাল একটা গোল করল বটে, তবে তাদের ম্যাচের দ্বিতীয় সেরা দল বানিয়ে পাঁচ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পা রাখল লুইস এনরিকের পিএসজিই।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেছে পিএসজি। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ স্কোরলাইনে জিতে দলটি পা রেখেছে এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় ফাইনালে।
শিরোপার লড়াইয়ে পিএসজির প্রতিপক্ষ ইন্তার মিলান, যারা বার্সেলোনাকে ৭-৬ গোলে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে তিন বছরের মধ্যে নিজেদের দ্বিতীয় ফাইনালে।
প্রথম লেগে ঘরের মাঠে পিএসজিকে দেখা যায়নি সেরা ছন্দে। তাতেও ধরা দিয়েছিল জয়। প্রতিপক্ষের মাঠে তৃতীয় মিনিটেই বিপদে পড়ে যাচ্ছিল দলটি। খিভিচা কোয়ারাতসখেলিয়া পিএসজির বক্সের কাছে জুরিয়েন টিম্বারের কাছে নবল হারান, যেখান থেকে বক্সের ভেতর করা তার ক্রসে হেড নেন ডেকলান রাইস, যা থাকেনি লক্ষ্যে।
প্রথম লেগে পিএসজির জয়ে বড় অবদান ছিল দুর্দান্ত কিছু সেভ করা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মার। এই ম্যাচেও হয়নি তার ব্যতিক্রম। থমাস পার্টির বক্সে ভেতর বাড়ানো লম্বা থ্রো থেকে বল পেয়ে লক্ষ্যে জোরাল শট নেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি। তবে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান পিএসজি গোলরক্ষক, উপহার দেন পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক সেভ।
প্রথম দশ মিনিটে পিএসজিকে ব্যস্ত থাকতে হয় রক্ষণ সামলাতেই বেশি। অষ্টম মিনিটে ফের ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হন দোনারুম্মা। আরও একবার থ্রো-ইন থেকে বক্সের ভেতর বল পায় আর্সেনাল। এবার নিখুঁত শট নেন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। তবে ঝাঁপিয়ে এক হাতে সেটা আটকে দেন ইতালিয়ান এই গোলকিপার।
১৬তম মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল পিএসজি। পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বাঁদিক থেকে কাট করে বক্সে প্রবেশ করে শট নেন জর্জিয়ান। ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করতে পারলেও বল ফিরে আসে পোস্টে লেগে।
ছয় মিনিট বাদে আরেকটি ভালো সুযোগ নষ্ট হয় পিএসজির। বক্সের ভেতর ভালো পজিশনে থাকলেও দুর্বল শট নিতে পারেন ডিসাইর দৌরে। ২৭তম মিনিটে লিড নেয় পিএসজি, আর সেটা ছিল দেখার মত এক গোলই।
আর্সেনাল ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল পেয়ে যান ফাবিয়ান রুইজ। প্রথমে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন, জায়গা তৈরি করেন আর এরপর বাঁ পায়ের বুলেট শটে খুঁজে নেন ঠিকানা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৪৬তম ম্যাচে এটি তার প্রথম গোল।
বিরতির পর গোছানো ফুটবল উপহার দেয় আর্সেনাল। ৬৩তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগও তারই ফলশ্রুতিতে পেয়ে যান বুকায়ো সাকা। বাঁদিক থেকে কাট করে নেন কার্লিং শট, যা ছিল লক্ষ্যেই। তবে পিএসজির যে একজন দোনারুম্মা আছেন! আলতো করে বলটি ক্লিয়ার করেন কর্নারের বিনিময়ে।
এর মিনিট দুয়েক বাদে আশরাফ হাকিমির শট আর্সেনালের বক্সে একজনের হাতে লাগলেও শুরুতে তা পেনাল্টি মনে হচ্ছিল না। তবে ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টি দেন পিএসজিকে।
তবে দলকে হতাশ করেন ভিতিনিয়া। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান তিনি, যা দেখে রায়াও মুভ করেন সেভাবেই। ডান দিকে নেওয়া ভিতিনিয়ার নেওয়া শট শেষ পর্যন্ত রুখে দেন রায়া।
৭২তম মিনিটে ম্যাচ থেকে আর্সেনালকে প্রায় ছিটকেই দেন হাকিমি। বদলি নামা উসমান দেম্বেলে পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়েই জাল খুঁজে নেন মরক্কোর এই ডিফেন্ডার।
দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার আর্সেনাল ৭৫তম মিনিটে পায় একটা লাইফলাইন। একটু আগেই বদলি নামা লিয়ানড্রো ট্রোসার্ড মারকুইনহোসের কাছ থেকে বলের দখল নিয়ে বক্সের ভেতর পাস দেন সাকাকে। ইংলিশ উইঙ্গারের প্রথম শট গোলকিপার আটকে দিলেও ফিরতি শটে গোলের দেখা পান সাকা।
তবে পরের মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ ও সেরা সুযোগটাও নষ্ট করেন তিনি। ছয় গজের ভেতর পরাস্ত হয়ে গিয়েছিলেন দোনারুম্মাও। ফাঁকায় থাকা সাকার কাজ ছিল কেবল বল লক্ষ্যে রাখা, তবে তিনি সেটা উড়িয়ে মারেন পোষ্টের অনেক ওপর দিয়ে।
ওই মিসের পর আর্সেনালের মনোবলও যেন হারিয়ে যায় দ্রুত। বাকি সময়ে পিএসজি রক্ষণ সামাল দেয় দক্ষতার সাথেই। আর সেটাই তাদের ২০১৯-২০ মৌসুমের পর আবার নিয়ে যায় ফাইনালে।
No posts available.
১৪ মার্চ ২০২৬, ২:৩৪ পিএম
১৪ মার্চ ২০২৬, ১:৪৯ পিএম

প্রিমিয়ার লিগে কাল অ্যানফিল্ডে
দেখা হবে লিভারপুল ও টটেনহাম হটস্পারের। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বড় দুশ্চিন্তায়
পড়েছে দুই দলই। চোট, অসুস্থতা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দলের মিলিয়ে প্রায় ১৯ খেলোয়াড়ের
মাঠে নামা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস
লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ৫–২ গোলে হারের পর কঠিন সময় পার করছে টটেনহাম।
লিগের পয়েন্ট তালিকায় দলটি এখন ষোড়শ স্থানে। অবনমন অঞ্চলের ঠিক ওপরে থাকা টটেনহামের
হাতে বাকি আছে আর নয়টি ম্যাচ। ফলে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য
বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টটেনহামের দায়িত্বপ্রাপ্ত
কোচ ইগর টিউডর জানিয়েছেন, দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এই ম্যাচে থাকছেন না। মাঝ
সপ্তাহের ম্যাচে সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পাওয়ায় ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও জোয়াও পালিনিয়ার খেলতে
না পারা প্রায় নিশ্চিত। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এখন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে
ডিফেন্ডার মিকি ফন দে ফেন খেলতে পারবেন না। মাঝমাঠের খেলোয়াড় ইভ বিসুমারও চোট রয়েছে
বলে জানিয়েছেন টিউডর। নতুন যোগ দেওয়া কনর গ্যালাঘার জ্বরে ভুগছেন। তবে ম্যাচের আগে
তার সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করছে দলটি।
টিউডর বলেন, ফান ডে ফেন
খেলতে পারবে না। বিসুমার সমস্যা আছে এবং গ্যালাঘারের জ্বর হয়েছে। আমরা আশা করছি সে
ঠিক হয়ে যাবে। প্রায়ই কোনো না কোনো সমস্যা হচ্ছে। আমার কোচিং জীবনে এমন পরিস্থিতি খুব
কমই দেখেছি।
টটেনহামের আরও বেশ কয়েকজন
খেলোয়াড় বিভিন্ন চোটের কারণে দলে নেই। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেমস ম্যাডিসন, দেজান কুলুসেভস্কি,
রদ্রিগো বেনতানকুর, মোহাম্মদ কুদুস, উইলসন ওদোবার, ডেসটিনি উদোগি, বেন ডেভিস ও লুকাস
বের্গভাল।
অন্যদিকে মৌসুমজুড়েই চোট
সমস্যায় ভুগছে লিভারপুলও। গোলরক্ষক আলিসন বেকারের খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। পেশির চোটের
কারণে গত সপ্তাহে তুরস্কে গালাতাসারায়ের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি।
লিভারপুলের কোচ আর্নে স্লট
জানিয়েছেন, আলিসন এখন পর্যন্ত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন।
তবে ম্যাচের আগে তিনি অনুশীলনে ফিরতে পারেন বলে আশা করছেন।
স্লট বলেন, আলিসন এখন পর্যন্ত
পুনর্বাসন কার্যক্রমে ছিলেন। আজ অনুশীলন আছে। দেখা যাক সে দলে যোগ দিতে পারে কি না।
আমি আশা করছি সে ফিরবে, তবে এখনো শতভাগ নিশ্চিত নই।
লিভারপুল শিবিরেও আরও কয়েকজন
খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকতে পারেন। কনর ব্র্যাডলি, ওয়াতারু এন্দো ও জিওভান্নি লেওনি পুরো
মৌসুমেই আর খেলতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর ডিসেম্বরে পায়ের হাড় ভাঙা ও গোঁড়ালির
চোটে পড়া আলেক্সান্ডার ইসাক এখনো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
এদিকে অসুস্থতার কারণে
মাঝ সপ্তাহে খেলতে না পারা ইতালির ফরোয়ার্ড ফেদেরিকো কিয়েসা আবার অনুশীলনে ফিরতে পারেন
বলে আশা করা হচ্ছে। কোচ স্লট জানিয়েছেন, ম্যাচের আগের দিন অসুস্থ থাকলেও কয়েক দিন পেরিয়ে
যাওয়ায় এখন তার অবস্থা ভালো হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ
এই ম্যাচের আগে দুই দলেই অনিশ্চয়তা রয়েছে। চোট ও অনুপস্থিতির কারণে দুই দলের সম্ভাব্য
একাদশেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফিনালিসিমা
শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে কি না, সে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না
হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচটি আদৌ হবে কি না,
তা নিশ্চিত না হয়েই তাঁকে দল প্রস্তুত করা ও খেলোয়াড় বাছাইয়ের কাজ এগিয়ে নিতে হচ্ছে।
আগামী বিশ্বকাপের আগে শক্তিশালী
প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবেই এই ম্যাচটিকে গুরুত্বপূর্ণ
মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় এখন সেটি অনিশ্চিত
হয়ে পড়েছে।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে
ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবু সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের একটি প্রাথমিক তালিকা ইতিমধ্যে প্রস্তুত
করেছেন স্কালোনি। সেই তালিকার খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে ম্যাচটি
শেষ পর্যন্ত না হলে বিকল্প হিসেবে দ্রুত প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা
করছেন তিনি।
এই ম্যাচটি শুধু শিরোপা
জয়ের সুযোগই নয়, বিশ্বকাপের আগে শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের
সুযোগও এনে দিত আর্জেন্টিনাকে। ফলে ম্যাচটি বাতিল হলে সেটি দলের প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব
ফেলতে পারে।
এর আগে ফিফা নির্ধারিত
সময়সূচিতে আর্জেন্টিনার কাতারের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচও থাকার কথা ছিল। কিন্তু
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সেই ম্যাচটি আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফিনালিসিমা আয়োজনের বিষয়ে
এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইউরোপীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষ স্পেনে ম্যাচ আয়োজন করতে চাইলেও
আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা এবং দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা সেই প্রস্তাব মানতে রাজি
নয়।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার
রাতে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থার
সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিঙ্গেস বৈঠক করেন। পরে শুক্রবার ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে
ভিডিও বৈঠকেও তারা স্পষ্ট করে জানান, স্পেনের মাটিতে ম্যাচ আয়োজন তারা মেনে নেবেন না।
এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
শনিবার দুপুর পর্যন্ত গড়িয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপীয় পক্ষ
যদি নিরপেক্ষ ভেন্যুর প্রস্তাব দেয়, তবে ম্যাচটি আয়োজন করা সম্ভব হতে পারে। আর তারা
যদি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে ম্যাচটি স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এ অবস্থায় অপেক্ষায় রয়েছেন
স্কালোনি। খুব বেশি উদ্বিগ্ন না হলেও বিশ্বকাপ সামনে রেখে শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে
খেলার সুযোগ হারানোর আশঙ্কা তাঁকে ভাবাচ্ছে। কারণ শিরোপা রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপে
নামার আগে ভালো প্রস্তুতির বিকল্প নেই।
এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। গতকাল তারা হারায় উত্তর কোরিয়াকে। আজ শেষ আটের আরেক ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ২-০ গোলে হারিয়েছে চীন। শেষ চারে উঠে চীন পেয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে।
পার্থের রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে আজ চীনকে মোকাবিলা করে চাইনিজ তাইপে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৩ ধাপ এগিয়ে থাকা চীনের বিপক্ষে শুরু থেকেই ভালোই জবাব দেয় চাইনিজ তাইপের মেয়েরা। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আটকে রাখে তাদের।
নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৫ মিনিটে শাও জিকিনের গোলে এগিয়ে যায় চীন। বাকি সময়ে চেষ্টা করেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি চাইনিজ তাইপে। উল্টো ১১৮ মিনিটের মাথায় চেন ইংহুইয়ের আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে পুরোপুরি ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় চাইনিজ তাইপে।
প্রতিযোগিতায় ‘বি’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানকে হারিয়ে শেষ আটে নাম লেখায় চীন। আর ‘সি’ গ্রুপ থেকে জাপানের কাছে হারলেও ভারত ও ভিয়েতনামকে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে চাইনিজ তাইপে। যদিও আজ চীনের কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হলো তাদের।
সাফল্যমন্ডিত ক্যারিয়ারে আরেকটি বড় অর্জনের হাতছানি লিওনেল মেসির সামনে। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে ৯০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার খুব কাছে আর্জেন্টাইন মহাতারকা। আর মাত্র একটি গোল করতে পারলেই স্পর্শ করবেন দারুণ এই কীর্তি।
সেই সুযোগটা রোববার ভোরেই পেয়ে যাচ্ছেন মেসি। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে শার্লটের মুখোমুখি হবে মেসির ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচে এক গোল করতে পারলেই ৯০০ গোল পূর্ণ হবে মেসির।
এখন পর্যন্ত ক্লাব-আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে ১ হাজার ১৪১ ম্যাচ খেলে ৮৯৯টি গোল করেছেন মেসি। এর মধ্যে জাতীয় দলের হয়ে তার গোল ১৯৬ ম্যাচে ১১৫টি। আর প্রায় ২০ বছরের ক্যারিয়ারে তিন ক্লাবের হয়ে ৯৪৫ ম্যাচে করেছেন ৭৮৪ গোল।
স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার জার্সিতে কেটেছে মেসির ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময়। কাতালান ক্লাবটির হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৭৮ ম্যাচে করেছেন ৬৭২ ম্যাচ। এছাড়া পিএসজির হয়ে ৭৫ ম্যাচে ৩২ ও ইন্টার মায়ামির হয়ে এখন পর্যন্ত ৯২ ম্যাচে তার গোল ৮০টি।
এই ৮৯৯ গোল করার পথে ৬০টি হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। ফ্রি কিক থেকে করেছেন ৭০ গোল। আর পেনাল্টি থেকে পেয়েছেন ১১২টি গোল। ডান পায়ে তার ১১০টি, বাম পায়ে করেছেন ৭৫৫ গোল, হেড থেকে ৩০টি আর শরীরের অন্যান্য অংশ দিয়ে করেছেন ৪টি গোল।
দীর্ঘ এই যাত্রায় নতুন পাতা যুক্ত হবে শার্লটের বিপক্ষে একটি গোল করতে পারলেই। আর তা হলে বিশ্ব ফুটবলে ৯০০ গোল করা মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হয়ে যাবেন মেসি। এখন পর্যন্ত ৯৬৫ গোল করে সবার ওপরে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) এখন পর্যন্ত শীর্ষস্থানে যৌথভাবে বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসি। প্রথম পর্ব শেষেও ছিল একই চিত্র। দ্বিতীয় পর্বে এসে নিজেদের প্রথম খেলায় পূর্ণ তিন পয়েন্ট করে নিয়েছে দুই দল। ১০ খেলায় সমান জয়, পরাজয় এবং ড্র নিয়ে ২১ পয়েন্ট শিরোপা রেসে থাকা দুই দলের। আজ ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ একে অপরের। ১১তম রাউন্ডে বেলা পৌনে ৩ টায় লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হচ্ছে ফর্টিস। ম্যাচটি গড়াবে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়।
চলতি মৌসুমের লিগের প্রথম দেখায় ফর্টিসকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। তবে ফেডারেশন কাপের খেলায় গত সেপ্টেম্বরে ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে দুই দল। কিংসের সঙ্গে পাওয়া এক পয়েন্টের সুবাদে প্রতিযোগিতার ‘বি’ গ্রুপ থেকে ভালো অবস্থানে ফর্টিস। আছে তালিকার শীর্ষে। ফেডারেশন কাপের দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বুসন্ধরা কিংস টেবিলের চারে।
ফুটবল লিগ কয়েক বছর ধরে আধিপত্য বসুন্ধরা কিংসের। গত মৌসুমে কেবল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব শিরোপা জিতেছে। আগের পাঁচবারই টানা এই ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। এবার ট্রফি পুনরুদ্ধারে তাদের সামনে বাধা ফর্টিস। ঘরের মাঠে সেই বাধা টপকে কিংস এগিয়ে যাবে কি না সেটি দেখার অপেক্ষায় সমর্থকেরা।
এদিকে বাংলাদেশের ফুটবলে যাত্রা শুরুর পর এত ভালো অবস্থানে আগে কখনও ছিল না ফর্টিস। প্রথমবারের মতো তারা শিরোপা জেতার স্বপ্ন দেখছে। সেজন্য বেশ উঠেপড়ে লেগেছে দলটি। মধ্যবর্তী দলবদলে তারা এনেছে বিদেশি খেলোয়াড়। শেষ পর্যন্ত সাবেক চ্যাম্পিয়নদের টপকে ফর্টিস এগিয়ে যেতে পারবে কি না সেটি সময়ই বলে দেবে।
আন্তর্জাতিক বিরতির আগে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে আজ আছে আরও দুটি ম্যাচ। মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে মোকাবিলা করবে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে পিডব্লিউডি স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে মাঠে নামবে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। সবগুলো ম্যাচ দেখা যাবে বাফুফের ইউটিউব লাইভে।