
গুঞ্জনটা শুরু হয়েছিল এই মৌসুম থেকেই। লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহ নাকি ছাড়তে পারেন ক্লাব, গন্তব্য হিসেবে বলা হচ্ছিল সৌদি আরব। তবে গত গ্রীষ্মে তা আলোর মুখ দেখেনি। এই মৌসুমেও সেই গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে তা উড়িয়েই দিলেন মিশরীয় তারকা। ইঙ্গিত দিয়েছেন বরং লিভারপুলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার।
মূলত ইয়ুর্গেন ক্লপ চলে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সালাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার শুরু। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডকে লিভারপুলের আনার কারিগর তো ক্লপই। জার্মান কোচের বিদায়ে আর সালাহর বয়স ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় চারদিকে গুঞ্জন উঠে সালাহ ছাড়বেন লিভারপুল। সেই সাথে সৌদির বড় অর্থের অফার তো আছেই।
আরও পড়ুন: বিদায় বেলায় ক্লপকে নিয়ে যা বললেন সালাহ
তবে সব গুঞ্জন উড়ে গেছে ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে সালাহর করা এক পোস্টে। “আমরা জানি দিন শেষে শিরোপাটাই গুরুত্বপূর্ণ, পরবর্তী মৌসুমে শিরোপার জন্য আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করবো। আমাদের সমর্থকরা এটার প্রাপ্য, নিজেদের সেরাটা দিয়ে আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো।”
লিভারপুলের সাথে ৩১ বছর বয়সী সালাহর চুক্তির মেয়াদ আছে ২০২৫ পর্যন্ত। পোস্ট দিয়ে সালাহ ইঙ্গিত দিয়েছেন চুক্তি শেষ না করে যাচ্ছেন না কোথাও।

সালাহ লিভারপুলে যোগ দেন ২০১৬-১৭ মৌসুমে। রোমা থেকে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুলে যোগ দেন সালাহ। এরপর থেকে অল-রেডদের হয়ে খেলেছেন ৩৪৯ ম্যাচ, করেছেন ২১১ গোল, নামের পাশে আছে ৮৯ অ্যাসিস্ট। জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সহ আরও শিরোপা।
চলতি মৌসুমেও ছিলেন লিভারপুলের অন্যতম সেরা ফুটবলার তিনি। চোটে পড়ে বেশ কিছু দিন মাঠের বাইরে থাকলেও অল রেডদের সর্বোচ্চ গোলদাতা সালাহই। সব মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচে ২৫ গোলের পাশাপাশি করেছেন ১০টি গোলে সহায়তাও।
No posts available.
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

বৃহস্পতিবার রাতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে আর্সেনাল ও লিভারপুল। এই ম্যাচে তখন ইনজুরি সময়ের খেলা চলছিল। লিভারপুল ডিফেন্ডার কনর ব্র্যাডলি আহত হয়ে মাঠের এক পাশে হাঁটু ধরে ব্যথায় গড়াগড়ি করছিলেন। সেই সময়ে প্রথমে তাঁর শরীরে বল ফেলে এবং পরে ধাক্কা দিয়ে মাঠের বাইরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি।
পরবর্তীতে এই ঘটনায় মাঠে শুরু হয় হাতাহাতি। তাতে হলুদ কার্ড দেখেন লিভারপুলের ইব্রাহিম কোনাতে এবং আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মার্টিনেলি। প্রাথমিক শুশ্রূষার পর ব্র্যাডলিকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে ক্র্যাচে ভর দিয়ে এমিরেটস স্টেডিয়াম থেকে বের হতে দেখা যায়। এক প্রতিবেদনে এমনটাই লিখেছে ইংলিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ঘটনার পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক খেলোয়াড় গ্যারি নেভিল এবং রয় কিন উভয়ই মার্টিনেলির তীব্র সমালোচনা করেন। মার্টিনেলির এই কাণ্ডকে ‘লজ্জাজনক’বলেন। মার্টিনেলিও পরে সামাজিক মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেন, ‘আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি সে (ব্র্যাডলি) তখন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমি অমন প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য গভীরভাবে দুঃখিত। কনরের দ্রুত আরোগ্যের জন্য শুভকামনা করছি।’
লিভারপুলের প্রধান কোচ আর্নে স্লট ম্যাচের পর অবশ্য মার্টিনেলির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন ফুটবলে শেষ দিকে সময় নষ্ট করার মতো অনেক ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে তাঁর (মার্টিনেলি) হয়ত এমন কিছু মনে হতে পারে। যে কারণে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি।
স্লট বলেন, ‘আমি গ্যাব্রিয়েলকে অতটা ভালোভাবে জানি না। তবে তাঁকে একজন ভালো মানুষ হিসেবেই দেখেছি। এটা তাঁর সমস্যা না। ফুটবলে এই সমস্যা নিয়মিত দিনের। অনেক সময় আপনি গোল করতে চাইবেন, কিন্তু প্রতিপক্ষের কেউ হয়ত শেষ দিকের ওই সময়টুকু আহত হওয়ার ভণিতা করে নষ্ট করবে। তখন আপনি বিরক্ত হবেন এটাই স্বাভাবিক। আর ৯৪ মিনিটের সময় এত গভীর চিন্তার সুযোগ হয়ত মার্টিনেলির ছিল না।’
‘অত দ্রুত মার্টিনেলির পক্ষে জানার সুযোগ ছিল না কনর গুরুতর আহত কি না। জানলে হয়ত ভিন্ন আচরণ করতেন। আমি শতভাগ নিশ্চিত সে যদি কনরের আহতের মাত্রা জানতো, তবে তিনি যা করেছেন সেটি কখনোই করতেন না। আবারও বলছি এটা আমার কাছে মনে হয়েছে যে মার্টিনেলি ভেবেছে কনর সময় নষ্ট করছে। সে ভাবতেও পারেনি এটা লিভারপুল, তারা এমনটা কখনোই করতে পারে না।’যোগ করেন স্লট।
বৃহস্পতিবার রাতের ড্রয়ের পরও শীর্ষে আর্সেনাল। সমান ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই ও তিনে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি এবং অ্যাস্টন ভিলার চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে। টেবিলের চারে থাকা লিভারপুলের পয়েন্ট ৩৫।
ম্যাচ শেষে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতাও স্লটের কথার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন। তিনি মার্টিনেলিকে ‘অবিশ্বাস্য ধরনের সুন্দর মানুষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, ‘আমি জানি না কনরের কী হয়েছে, তবে আশা করি এটা খারাপ কিছু নয়। কিন্তু স্পষ্টতই তাঁর সঙ্গে খারাপ কিছু করার কোনও ইচ্ছা ছিল না গ্যাবির।’
ম্যাচ শেষে লিভারপুলে ব্র্যাডলির সতীর্থ ডোমিনিক সবোজলাই বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি আপনি জিততে চান। কিন্তু আমরাও জিততে চাই। কিন্তু আপনাকে এটা মনে রাখতে হবে- যে কোনো কিছুর চেয়ে একজন খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্য সবার আগে।’

২০১৩ সালের পর থেকে ফরাসি সুপার কাপ যেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) একচ্ছত্র রাজত্বের মঞ্চ। মাঝে ২০২১ সালে লিল সেই আধিপত্যে সাময়িক চিড় ধরালেও, বাকি সময়ে এই প্রতিযোগিতার শিরোপা উঠেছে প্যারিসিয়ানদের হাতেই। ২০২৬ ফরাসি সুপার কাপের ফাইনালেও সেই ধারাবাহিকতা। অলিম্পিক মার্শেইয়ের বিপক্ষে খাদের কিনারা থেকে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে শেষ হাসি হেসেছে লুইস এনরিকের দল।
বৃহস্পতিবার রাতে কুয়েতে হওয়া ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে মার্শেইকে হারায় পিএসজি।
জাবের আল-আহমাদ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা ভালো ছিল পিএসজির। ১৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুল কাজে লাগিয়ে গোল করেন উসমান ডেম্বেলে।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় মার্শেই। ৭৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান মেসন গ্রিনউড। এরপর ৮৭ মিনিটে উইলিয়ান পাচোর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় মার্শেই। তখন শিরোপার খুব কাছেই ছিল তারা।
কিন্তু যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নামা গনসালো রামোস গোল করে ম্যাচে ফেরান পিএসজিকে। যোগ করা সময়ের ৫ মিনিটের মাথায় সেই গোলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
আরও পড়ুন
| এবার আর্সেনালের বিপক্ষে লিভারপুলের ড্র |
|
সেখানে জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন পিএসজি গোলকিপার লুকাস শেভালিয়ের। ম্যাথু ও’রাইলি এবং হামেদ ত্রাওরের পেনাল্টি ঠেকান ফরাসি গোলকিপার। অন্যদিকে রামোস, ভিতিনিয়া, নুনো মেন্ডেস ও দুয়ে গোল করলে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় প্যারিসিয়ানদের।
ম্যাচ শেষে শেভালিয়ের বলেন, ‘সর্বশেষ ৬ মাস আমার জন্য সহজ ছিল না। এই ম্যাচটাও সহজ ছিল না। কিন্তু দল হাল ছাড়েনি। আমি জানতাম, ম্যাচ যদি টাইব্রেকারে যায়, আমি পেনাল্টি বাঁচাব।’
এই জয়ে ফরাসি সুপার কাপে ১৪ বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো পিএসজি। গত ১৩ আসরের মধ্যে ১২টিতেই শিরোপা জিতল প্যারিসের ক্লাবটি। মার্সেইয়ের ঝুলিতে আছে তিন শিরোপা, সর্বশেষটি ২০১১ সালের।

আগের রাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার জয়ে ফাইনালে এল ক্লাসিকোর মঞ্চ প্রস্তুতই ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল রিয়াল মাদ্রিদও।
সৌদি আরবের জেদ্দায় স্প্যানিশ সুপার কাপের সেমিফাইনালে মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়ালের জয় ২-১ গোলের। রিয়ালের হয়ে গোল করেন ফেদেরিকো ভালভের্দে ও রদ্রিগো। এক গোল শোধ দেন আতলেতিকোর আলেকজান্ডার সরলথ।
কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে শুরুতেই এগিয়ে যায় রিয়াল। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৭৭ সেকেন্ডেই ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া ফ্রি-কিকে গোল করেন ভালভের্দে।
দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রদ্রিগো। ভালভের্দের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কয়েক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিখুঁত ফিনিশিং টানেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গারের মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তৃতীয় গোল এটি।
তিন মিনিট পর আলেকজান্ডার সরলথের হেডে ব্যবধান কমায় আতলেতিকো। আতলেতিকোর ২২টি শটের মধ্যে এটিই ছিল একমাত্র গোল। বাকি সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় দিয়েগো সিমিওনের দল।
আরও পড়ুন
| এবার আর্সেনালের বিপক্ষে লিভারপুলের ড্র |
|
প্রথমার্ধের শেষ দিকে কনর গ্যালাহারের ক্রসে সরলথের হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে হুলিয়ান আলভারেজও একটি সুযোগ নষ্ট করেন।
চোটের কারণে কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়াই খেলতে নামা রিয়াল শেষ দিকে কিছুটা চাপে থাকলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।
এই জয়ের ফলে রিয়াল মাদ্রিদ ফাইনালে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সঙ্গে। বুধবার রাতে প্রথম সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিক ক্লাবকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বার্সা।
সোমবার স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে আরও একবার মাঠে নামবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল। গত বছর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হওয়া ফাইনালে রিয়ালকে ৫-২ গোলে হারিয়েছিল কাতালানরা।
এবারও সৌদি আরবে হবে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল। ২০২৯ সাল পর্যন্ত দেশটিতে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের চুক্তি করেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

গত নভেম্বরে অ্যানফিল্ডে পিএসভি আইন্দহোভেনের কাছে অপ্রত্যাশিত ৪-১ গোলে ম্যাচ হারে লিভারপুর। চ্যাম্পিয়নস লিগের ওই ম্যাচে পর অ্যানফিল্ডের সাবেক কোচ স্টিভেন জেরার্ড বলেছিলেন- এটি আরেকটি রক্তক্ষরণ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সে সময় সর্বশেষ ১২ ম্যাচে লিভারপুলের নবম হার ছিল সেটি। এর আগে অল রেডদের এমন বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল সাত দশক আগে, ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে।
লিভারপুল সেই যন্ত্রণাদায়ক সময়ের ধারা রোধ করেছে পরে। ডাচ চ্যাম্পিয়নদের কাছে লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হওয়ার পর থেকে এখন টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত তারা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্নে স্লটের দল গোলশূন্য ড্র করেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের বিপক্ষে।
টানা পাঁচ ম্যাচ জেতার পর গতরাতে প্রথম পয়েন্ট হারাল আর্সেনাল। মৌসুমে দ্বিতীয়বার লিভারপুলের বিপক্ষে পয়েন্ট হারাল গানাররা। লিগে দুই দলের প্রথম দেখায় অ্যানফিল্ডে ১-০ হেরেছিল মিকেল আর্তেতার দল। অন্যদিকে প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন ম্যাচে ড্র করল লিভারপুল।
ম্যাড়মেড়ে ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্সেনাল প্রায় ৬০ শতাংশ বল দখলে রাখে। তবে ৬টি শটের কেবল দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। বিপরীতে ৩ শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না অতিথিদের। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে যায় লিভারপুল। প্রায় ৬৫ শতাংশ বল দখলে নিয়ে ৫টি শট নেয় তারা, একটিও ছিল না অন টার্গেটে।
২১ ম্যাচে ১৫ জয় ও চার ড্রয়ে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে পরের দুটি স্থানে ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলা। ১০ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে লিভারপুল।

শেষ হয়েছে নারী ফুটবল লিগের তৃতীয় রাউন্ডের খেলা। দুই ম্যাচ খেলে শতভাগ জয় ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের। তবে দুশ্চিন্তাও আছে পুরান ঢাকার ক্লাবটির। ৪ জানুয়ারি কাচারিপাড়া একাদশের বিপক্ষে ২৩-০ গোলে জেতা ম্যাচে হাতাহাতিকান্ডে লাল কার্ড দেখে দুই ম্যাচের জন্য ছিটকে গেছেন দলটির তারকা দুই ফুটবলার তহুরা খাতুন ও মনিকা চাকমা। লিগে ক্লাবের হয়ে প্রত্যাশা, নতুন ক্লাবে অভিজ্ঞতা এবং সেই ম্যাচের কী হয়েছিল সেসব নিয়ে টি-স্পোর্টসের সঙ্গে কথা বলেছেন ফরাশগঞ্জের জাতীয় দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মনিকা।
টি-স্পোর্টস : এক সপ্তাহের বেশি হয়ে গেছে ফরাশগঞ্জে আছেন। এখন কি মনে হয় সিদ্ধান্তটা ঠিক ছিল নাকি...
মনিকা : অবশ্যই ঠিক ছিল। এখানে আমরা আছি। ওনারা দল নিয়ে, খেলোয়াড় নিয়ে অনেক প্রফেশনাল। এখন পর্যন্ত আমাদের অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। আমাদের যা যা দরকার বা যা চাই সেটা স্যারেরা (ক্লাব কর্মকর্তা) ফুলফিল করছেন। তো কোন কিছুতেই কমতি রাখছেন না।
টি-স্পোর্টস : ফরাশগঞ্জের হয়ে খেলার সিদ্ধান্তটা নিলেন কেন, অন্য কোন ক্লাবে না কেন?
মনিকা : অন্য কোন ক্লাবে বলতে... শুরু থেকে একটা ক্লাবের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছিল। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে আমাদের আর কথাবার্তা এগোয়নি। পরবর্তীতে ফরাশগঞ্জ ক্লাবে থেকে আমাদেরকে বলছিল খেলার জন্য। আমরাও সিদ্ধান্ত নিলাম বসে থাকার চেয়ে খেলাটাই ভালো হবে। আর জানি যে ফরাশগঞ্জ হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এবং অনেক পুরনো ক্লাব। ওরা আগে প্রিমিয়ার লিগে অনেক ভালো করছে। ফয়সাল স্যারও বলছিলেন যে উনি এক সময় ফরাশগঞ্জের হয়ে খেলছেন। তো এখান থেকেও আগ্রহ হলাম আর কি।
টি-স্পোর্টস : কাচারিপাড়ার বিপক্ষে ২৩-০ গোলে জয়টি বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের ইতিহাসে রেকর্ড ব্যবধানের জয়। এর আগে নাসরিন স্পোর্টস একাডেমির হয়ে ১৯-০ গোলের জয়ের রেকর্ড গড়া ম্যাচেও ছিলেন আপনি। কেমন লাগছে?
মনিকা : যত গোল দিতে পারবো ততই ভালো লাগবে, এটা আমাদের এক সময় এগিয়ে দিতে পারে লিগে। অন্য দলগুলোও শক্তিশালী। তবে এটা (গোল) তো আসলে বলে হয় না। আমরা তো এটা নিয়ে কোন দিন চিন্তাও করি নাই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়ে জিতবো। এটা আমাদের মাথায় আছে যে গোল নিয়ে ভাবলেই হবে না। আসল লক্ষ্য ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলা।
টি-স্পোর্টস : একটু ৪ জানুয়ারির ম্যাচে আসি। মাঠে আসলে সেদিন কী ঘটেছিল?
মনিকা : আমরা শুরু থেকে দেখছিলাম ওরা (কাচারিপাড়া একাদশ) উইদাউট বলে মারতেছে। ওদের কোচিং স্টাফরা বাইরে থেকে মারতে উৎসাহিত করছিল। তখন আমি সবাইকে বলি তোমরা একটু সাবধানে খেলো। একটা সময় ওরা আমাদের পূজা রানাকে (নেপালি ফুটবলার) মারল, ওকে ইনজুরড করল। আমাকে পেছন থেকে এসে মারা হলো। আমি তখন বসেছিলাম কিন্তু রেফারি বাঁশি বাজায়নি। আমি উঠে জাস্ট একটা একটা ধাক্কা দিয়েছি। এমন নয় যে আমি ওকে অ্যাটাক করেছি। কিন্তু ও (সাবিত্রী) এসে আমাকে মারল। ওখান থেকে মারামারি শুরু হয়ে গেল। এরপর আমাকে লাল কার্ড আর মারিয়াকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়। আমি ভেবেছিলাম অধিনায়ক হিসেবে মারিয়াকেও কার্ড দেওয়া হয়েছে। তখন রেফারিকে জিজ্ঞাসা করলাম ওকে কেন হলুদ কার্ড দেওয়া হয়েছে। রেফারি বললেন ভিডিও ফুটেজ দেখে ওকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মারিয়া তো ওখানে ছিলই না। তবুও বারবার রেফারি বলছিলেন ভিডিও ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমাদের (তহুরা খাতুন ও মনিকা) দুই ম্যাচ ড্রপ করা হয়েছে। এটা যদি করারই হতো মাঠেই ভিডিও ফুটেজ দেখে রেফারি, ম্যাচ কমিশনার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। ওনারা তা না করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিলেন। আমরা তখনই বারবার বলছিলাম যে ভিডিও ফুটেজ দেখুন। তখন যদি তহুরাকে ড্রপ দেওয়া হতো তবে আমরা মেনে নিতাম। আর মারিয়াকে হলুদ কার্ড দেওয়ার কোনো কারণই সেখানে ছিল না। রেফারিরা ভিডিও ফুটেজ দেখে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা ওনারাই ভালো বলতে পারবেন।
টি-স্পোর্টস: মাঠে আবারও যদি এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, কী করবেন?
মনিকা : দেখুন আমরা যখন জাতীয় দলে খেলি তখন আমাদের সব সময় বলা হয় তোমরা মারামারিতে জড়াবে না। আমাদের কোচেরা নির্দেশ দেন রেফারির সঙ্গে কোনো কথা বলা যাবে না এবং ওনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা এখনো রেফারিদের সম্মান করি। তবে আমাদের সঙ্গে যা হলো তা… আসলে হয়ে গেছে। সামনে আমাদের জাতীয় দলের খেলা আছে। অনেকে বলছে যে জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা এমন মারামারি করেছে, এমন অনেক কিছু… এটা আমরা মানি, মারামারিতে জড়ানো ঠিক হয়নি। আমাদেরও একটা দায়িত্ববোধের জায়গা আছে।
টি-স্পোর্টস: নিজেদের সঙ্গে অন্যায় হলেও আপনারা ধৈর্য ধরবেন,কিংবা আপনাদের কাছ থেকে আরও নমনীয়তা আশা করে সবাই।
মনিকা : অবশ্যই। আমরা যেহেতু জাতীয় দলে খেলি তাই তরুণদের শেখানো আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু বাইরে থেকে যখন কাউকে উৎসাহ দেওয়া হয় মারার জন্য তখন জুনিয়র খেলোয়াড়েরাও সিনিয়রদের মারতে দ্বিধাবোধ করে না। বাইরে থেকে যদি শেখানো হতো যে ওরা সিনিয়র ওদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে, তবে হয়ত এমনটা হতো না।
টি-স্পোর্টস: আপনি এখন দুই ম্যাচ খেলতে পারবেন না, নিশ্চয়ই এ নিয়ে মন খারাপ…
মনিকা : হ্যাঁ, দুই ম্যাচ ড্রপ যাওয়ার কারণে একটু তো মন খারাপই। তবে মাঠে যখন ফিরব তখন আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব ইনশাআল্লাহ।
টি-স্পোর্টস: আপনাদের দলের মধ্যে বোঝাপড়া কেমন?
মনিকা : আমাদের প্লেয়াররা যারা আছে বেশিরভাগেই জুনিয়র। তবে ওদের সঙ্গে কমিউনিকেশন খুব ভালো। নতুন হিসেবে ওরা খুব ভালো খেলছে। আমরা যা বলছি ওরা তা শুনছে এবং মাঠে সেই অনুযায়ী খেলছে।
টি-স্পোর্টস: কি মনে হয় এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির জন্য আপনারা যে লিগটা খেলছেন এটা কি ঠিক আছে বা প্রস্তুতির জন্য আদর্শ হচ্ছে?
মনিকা : এইটা নিয়ে আসলে কিছু বলতে চাই না।
টি-স্পোর্টস : সব মিলিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লিগটা আপনার কেমন লাগছে?
মনিকা: অনেক দিন পর লিগ হচ্ছে, তো এই দিক থেকে আমাদের সবারই ভালো লাগছে। অনেক মাস পরে আমরা আবার মাঠে ফিরছি লিগ দিয়ে, তো ভালোই।
টি-স্পোর্টস : মাঠে আলো স্বল্পতা আছে, ম্যাচ ঘড়ি নেই। এটা খেলায় কোনো প্রভাব ফেলে কিনা?
মনিকা: আমরা পেশাদার খেলোয়াড়। যখন যে পরিস্থিতি আসে সেখানেই মানিয়ে নিতে হয়। এসব ভাবলে খেলায় ফোকাস থাকে না। যে কোনো পরিস্থিতিতে সামনে তাকাতে চাই। যখন যে দায়িত্ব থাকে সেটা পালন করার ব্যাপারে মনোযোগী থাকি।
টি-স্পোর্টস : প্রথমবার এমন একটা ক্লাবে আছেন যার সামনে ঐতিহ্যবাহী লালকুঠি দালান, সামনে বুড়িগঙ্গা, লঞ্চ, সবকিছু মিলে অন্যরকম পরিবেশ। কেমন উপভোগ করছেন?
মনিকা : যেদিন প্রথম গাড়িতে আসছিলাম তখনই বলছিলাম- স্যার এটা কি? পরে স্যার বলছিলেন এটা লালকুঠি। এখানের পরিবেশ অনেক ভালো। সন্ধ্যার সময় একটু রুমে যদি বোরিং হই বা শুয়ে থাকতে ভালো লাগে না, তখন নিচে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করি। এমন পরিবেশ আসলেই অন্য জায়গায় নেই। সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে লালকুঠি দেখি, হাঁটাহাঁটি করি। ভালো লাগে, লঞ্চ দেখতে পাই।
টি-স্পোর্টস : লঞ্চে ঘুরা হয়েছে এখন পর্যন্ত?
মনিকা: না আসলে ঘুরা হয়নি। তবে ইচ্ছে আছে।
টি-স্পোর্টস : চ্যাম্পিয়ন হয়েই কি তবে লঞ্চ ট্যুরটা দেওয়া জমিয়ে রেখেছেন?
মনিকা : আসলে এখনই এটা বলবো না যে আমরাই চ্যাম্পিয়ন হবো বা অন্য কিছু। যদি হই তাহলে পরে দেখা যাবে।
টি-স্পোর্টস : আপনার একটি গোল ছিল মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে। যে গোলটা পরে জায়গা করে নেয় ফিফার ‘ফ্যানস ফেভারিট’ তালিকার সেরা পাঁচে। এরপর আপনার উপাধি হয়ে যায় ‘ম্যাজিক্যাল চাকমা’ নামে। সেটা কি এখনো শোনেন বা উপভোগ করেন?
মনিকা : হ্যাঁ, উপভোগ করি, মানুষ যখন বলে বা লেখে। যেখানেই যাই, বিশেষ করে আমার খাগড়াছড়িতে বেশিরভাগই বলে ‘ম্যাজিকাল মনিকা’। তো এগুলো শুনতে আসলে ভালো লাগে। অবশ্যই এগুলো ভালো খেলতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
টি-স্পোর্টস : কিভাবে ফুটবলার হলেন বা এই পথটা কেমন ছিল?
মনিকা: আসলে বলতে গেলে অনেক লম্বা স্টোরি, আমি একটু ছোট করে বলি। ২০১১-১২ সালে বঙ্গমাতা (প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ) খেলা হয়েছিল। সেবার উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমরা জেলা পর্যায়ে যাই। ওখানে আবার হেরে আসছিলাম। পরের বছর উপজেলা, জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে আসি। এবং সেখানে ভালো খেলি। ওখানেই রাঙামাটির বীরসেন স্যার ছিলেন। উনি আমার খেলা পছন্দ করেন। খেলা শেষে আমাকে ডেকে নাম জিজ্ঞেস করলেন, আমি বললাম মনিকা চাকমা। পরে বাবাকে উনি বলেন যে সব জায়গা থেকে ভালো ভালো খেলোয়াড়দের নিয়ে এক জায়গায় প্র্যাকটিস করান। আমাকে একাডেমিতে দেওয়ার জন্য বাবাকে উনি অনুরোধ করেন। তখন প্রথমে আমি না করছিলাম। তখন অনেক ছোট ছিলাম তো। আমি মা’কে ছেড়ে যেতে চাইছিলাম না। বাবা আমাকে বলে যে তোমাকে এখনই ভর্তি হতে হবে না, ওই জায়গাটা দেখে আসো। ভালো লাগলে ভর্তি হবা, না লাগলে নাই। এরপর একদিন ঘুরতে যাই, স্যার ঘুরিয়ে দেখান, আমারও ভালো লেগে যায়। পরবর্তীতে ২০১৩ সাল থেকে বীরসেন স্যারের অধীনে থেকে উঠে আসা।
সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তর:
টি-স্পোর্টস : আপনার পছন্দের ফুটবলার কে?
মনিকা : লিওনেল মেসি। মেসি ভক্ত আমি।
টি-স্পোর্টস: বাংলাদেশে কোন নারী ফুটবলার আপনার পছন্দের?
মনিকা : সাবিনা খাতুন। বাংলাদেশে সাবিনা আপু আমার প্রিয় ফুটবলার।
টি-স্পোর্টস : ফুটবলের বাইরে আর কোন খেলা দেখেন?
মনিকা : খুব একটা দেখা হয় না। তবে ফুটবলের পাশাপাশি এক সময় আমি ভলিবল খেলতাম। তাই ভলিবলটা একটু ভালো লাগে।
টি-স্পোর্টস : ফুটবলার না হলে কি হতেন?
মনিকা : ওটা তো বলতে পারি না (হাসি)।
টি-স্পোর্টস : মনিকা কি টিকটকে নিয়মিত?
মনিকা : একচুয়ালি আমি তো টিকটকই করি না।
টি-স্পোর্টস : মোবাইল ছাড়া থাকতে পারবেন একদিন?
মনিকা : মনে হয় না।
টি-স্পোর্টস : সকালে উঠে কাকে প্রথম কল দেন বা কার ফোন প্রথমে আসে?
মনিকা: কাউকে না। বাসা থেকে আমাকে ফোন দেয়। সারা দিনের মধ্যে যে কোনো একটা সময়ে বাবা ফোন দেয় আমাকে।
টি-স্পোর্টস : মনিকা বাবার প্রিয় না মায়ের প্রিয়?
মনিকা: দুজনেরই প্রিয়।