
ফারুক আহমেদের পর হঠাৎ করে বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি পদে আসীন হন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আর সব শেষে দায়িত্ব নিয়েছেন তামিম ইকবাল। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিসিবির কমিটির এমন রদবদল নিয়ে চলছে আলোচনা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটীয় আলোচনা ছাপিয়ে বিসিবির কমিটি নিয়েই যেন সবার আগ্রহ। বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্সকে তাই মুখোমুখি হতে হলো বিসিবি-র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিবর্তন নিয়ে নানান প্রশ্ন।
বিসিবির এমন পরিবর্তন কি সিমন্সকে অবাক করেছে? না, বাংলাদেশের কোচকে নাকি জীবনের এই পর্যায়ে এসে তেমন কিছুই অবাক করে না, ‘জীবনে কোনো কিছুই এখন আর আমাকে অবাক করে না। এটা শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলছি না, জীবনের অভিজ্ঞতাই এমন। আমি যা যা দেখেছি, তাতে জানি যে প্রতিদিন কত কিছু বদলে যেতে পারে। তাই কোনো কিছুতেই আমি অবাক হই না।’
বাংলাদেশের কোচকে হয়তো পরিবর্তনের এসব বিষয় ভাবায় না। তবে খেলোয়াড়দের মধ্যে মানসিক তো প্রভাব পড়তেই পারে। অনুশীলনে সিমন্সের চোখে অবশ্য তেমন কিছুই ধরা পড়েনি, বরং কেউ কেউ নাকি আরও বেশি ঘাম ঝরাচ্ছে, ‘প্রথমত, আমরা যেভাবে কাজ করি বা যেভাবে অনুশীলন করি, তার ওপর এসবের কোনো প্রভাব পড়েনি। আমাদের ক্যাম্প যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেভাবেই শেষ হয়েছে। আর খেলোয়াড়দের ওপর এর কোনো মানসিক প্রভাব পড়েছে কি না—সেটা তাদের জিজ্ঞেস করলেই ভালো জানবেন। আমি তো তেমন কিছু দেখছি না; কারণ তারা অনুশীলনে জানপ্রাণ দিয়ে খেটেছে, কেউ কেউ তো আগের চেয়েও বেশি পরিশ্রম করছে। এই সিরিজের প্রস্তুতির জন্য যা যা দরকার, তারা তার সবটুকুই করছে।’
বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নিয়ে বিসিবির তিনটি কমিটি দেখেছেন সিমন্স। একের পর এক পরিবর্তনে কাজে কোনো ব্যঘাত ঘটে কি না এমন প্রশ্নে সিমন্স বলেন, ‘আপনি ঠিকই বলেছেন, এটি আমার দেখা তৃতীয় প্রেসিডেন্ট। তবে আমরা যেভাবে দল গুছিয়েছি বা একটা সিরিজের জন্য যেভাবে খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করি, সেই কাজের ধরনে কোনো বদল আসেনি। তাই কোচিং প্যানেলের কাজ করার পদ্ধতিতে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।’
বিসিবি-র অধীনে নতুন সভাপতির কারণে একজন পেশাদার কোচ হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য আসতে পারে। সিমন্সের ক্ষেত্রে সেটা আগের মতোই একই ধারায় কাজ চলছে, ‘তারা তো আর হেড কোচ হয়ে আসছেন না। আমি আমার কাজটা করে যাচ্ছি কারণ আমরা বিশেষ কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি এবং একটা ভিত গড়ার চেষ্টা করছি। আমি একটা বিষয় বলতেই পারি যে—বোর্ডে যারাই এসেছেন, আমাদের গড়ার প্রক্রিয়ায় কেউ হস্তক্ষেপ করেননি। আমরা যেভাবে কাজটা শুরু করতে চেয়েছিলাম, সেভাবেই এগোচ্ছি।’
এরমধ্যে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কথা হয়েছে সিমন্সের, ‘গত পরশু যখন খেলা চলছিল, তিনি ড্রেসিংরুমেও এসেছিলেন আমাদের সাথে কথা বলতে। তো হ্যাঁ, কয়েকবার কথা হয়েছে।’
পুরো খেলোয়াড়ি জীবন বা কোচিং ক্যারিয়ারে পৃথিবীর কোথাও কি কাউকে এত দ্রুত ক্রিকেট বোর্ডের একদম শীর্ষ পদে (প্রেসিডেন্ট) বসতে দেখেছেন কি না এমন প্রশ্নের কোনো জবাবই দেননি সিমন্স।
No posts available.
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ৪:২০ পিএম
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:০৩ পিএম

সম্প্রতি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে স্টোকস জানিয়েছেন, সেই বলটি আর কয়েক ইঞ্চি এদিক-সেদিক হলেই তাঁর জীবন চিরতরে বদলে যেতে পারত। এমনকি প্রাণহানির শঙ্কাও ছিল।
সেই ভয়াবহ চোট নিয়ে ৩৪ বছর বয়সী স্টোকস বলেন, ‘খুবই বাজে পরিস্থিতি ছিল। তবে সত্যি বলতে, খারাপের মধ্যে এটাই বোধহয় সেরা ফলাফল। বলটা সরাসরি আমার মুখে এসে লেগেছিল। আঘাতটা যদি মাত্র কয়েক ইঞ্চি এদিক-সেদিক হতো কিংবা আমি যদি মাথাটা না ঘোরাতাম, তবে আজ হয়তো আমি এখানে বসে এই সাক্ষাৎকার দিতে পারতাম না।’
চোটের কারণে স্টোকসের গালের হাড় (চিকবোন) একদম ভেঙে গিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা ঠিক করা হয়েছে। নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বলেন, ‘সব দিক বিবেচনা করলে আমি অনেক ভাগ্যবান। গালের হাড়ের নিচে সব ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। বড় ধরনের ফেসিয়াল সার্জারি করাতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমি যে সুস্থভাবে ফিরে আসতে পেরেছি, তার জন্য কৃতজ্ঞ।’
মাঠে ফিরবেন কবে? এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে স্টোকসের স্বাভাবিক ক্রিকেটে ফেরার সূচি প্রায় এক মাস পিছিয়ে গেছে। তবে আশার কথা হলো, তিনি এখন পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে আছেন। আগামী জুনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। সেই সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে মে মাসে ডারহামের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
স্টোকস বলেন, ‘সিজন শুরুর যে পরিকল্পনা ছিল, এই চোট সব পিছিয়ে দিয়েছে। আমাকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হয়েছে। এখন লক্ষ্য হলো ডারহামের হয়ে অন্তত দুটি ম্যাচ খেলে টেস্ট সামারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। ওটা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। ভাগ্যক্রমে আমি এখনো বেঁচে আছি এবং সবকিছু ঠিকঠাক আছে।’

ক্রিকেট ইতিহাসের এক মহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। দেড়শ বছর আগে যেখানে শুরু হয়েছিল সাদা পোশাকের লড়াই, সেই মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এমসিজি) আবারও সেজেছে নতুন রূপে। ২০২৭ সালের ১১-১৫ মার্চ হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্ট’। মেলবোর্নের ঐতিহাসিক এই মাঠে পাঁচ দিনের এই লড়াই দেখতে এখন থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ক্ষণগণনা।
তবে মেলবোর্ন শুধু ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ নেই। এই উপলক্ষকে ঘিরে পুরো শহর হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও দর্শকদের জন্য থাকছে রোমাঞ্চকর সব আয়োজন। মেলবোর্নের গলি থেকে রাজপথ—সবই এখন প্রস্তুত পর্যটক আর ক্রিকেটপ্রেমীদের বরণ করে নিতে।
মেলবোর্নের সংস্কৃতি ও আভিজাত্য
ক্রিকেট ম্যাচের অবসরে পর্যটকদের জন্য মেলবোর্ন যেন এক স্বর্গরাজ্য। শহরের বিখ্যাত গলিগুলোতে (লেনওয়েজ) ছড়ানো বৈচিত্র্যময় স্ট্রিট আর্ট, সদ্য রোস্ট করা কফির সুগন্ধ আর আধুনিক বুটিক শপগুলো মুহূর্তেই মন জয় করে নেবে। যারা গান ভালোবাসেন, তাদের জন্য রয়েছে চেরি বার, দ্য টোট কিংবা দ্য কর্নারের মতো আইকনিক লাইভ মিউজিক ভেন্যু।
আরও পড়ুন
| বাংলা নববর্ষে ক্রিকেট ভক্তদের সুখবর দিয়েছেন নাহিদ রানা |
|
খাবার বিলাসী দর্শকদের জন্য মেলবোর্ন যেন এক সাজানো থালা। গিমলেটের রাজকীয় পরিবেশ থেকে শুরু করে কোডার আধুনিক আয়োজন—সবই মিলবে এখানে। আর যারা একটু খোলামেলা পরিবেশে বার্গার খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য সেরা গন্তব্য হতে পারে রুফটপ জয়েন্ট ‘ইজিস’।
ভিক্টোরিয়ার পথে পথে রোমাঞ্চ
শহর ছাড়িয়ে ভিক্টোরিয়ার আঞ্চলিক এলাকাগুলোতেও রয়েছে রোমাঞ্চের হাতছানি। মেলবোর্ন থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বেই অপেক্ষা করছে জীবনের সেরা কিছু অভিজ্ঞতা। ইয়াররা ভ্যালির আঙুর বাগান কিংবা ভিক্টোরিয়ার প্রাচীনতম স্টিম রেলওয়ে ‘পাফিং বিলি’তে ভ্রমণ আপনার সফরের আনন্দ বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। প্রকৃতির খুব কাছে যেতে চাইলে হিলসভিল স্যাঙ্কচুয়ারিতে দেখা মিলবে কোয়ালা, ওমব্যাট আর ক্যাঙ্গারুর।
সমুদ্র সৈকত ও প্রকৃতির মেলবন্ধন
দ্বীপপুঞ্জ ও সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য রয়েছে ফিলিপ আইল্যান্ড। মেলবোর্ন থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার এই পথ পাড়ি দিলেই দেখা মিলবে পুঁচকে পেঙ্গুইনদের দলবেঁধে চলাফেরা। এ ছাড়া মার্নিংটন পেনিনসুলার উপকূলীয় সূর্যালোক আর জিওথার্মাল হট স্প্রিংয়ের উষ্ণতা পর্যটকদের দেবে অনাবিল শান্তি।
তবে সবকিছুর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে থাকবে ‘গ্রেট ওশান রোড’। ঘন রেইনফরেস্ট, গর্জনকারী জলপ্রপাত আর চুনাপাথরের বিখ্যাত পাহাড় ‘টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস’ দেখার জন্য পর্যটকদের ভিড় এখন থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ক্রিকেটবোদ্ধারা মনে করছেন, ১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্ট শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং এটি হতে যাচ্ছে ক্রিকেট এবং মেলবোর্নের সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন। এমসিজির গ্যালারি থেকে শুরু করে ভিক্টোরিয়ার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়।
১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্টে খেলবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচটি হবে দিবারাত্রি।

দলের তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ও পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) নিয়ে ব্যস্ত। নতুনদের পরখ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি)। বাংলাদেশ সফরে দলের আশপাশে থাকা ক্রিকেটারদের সংখ্যাই বেশি।
কারো মতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ড ‘দ্বিতীয় সারির’ দল নিয়ে খেলবে, সিরিজটি কিছুটা সহজ হবে। তবে ব্যাপারটির সঙ্গে দ্বিমত মিরাজ-তামিমদের কোচ ফিল সিমন্স, ‘দ্বিতীয় সারির দল বলতে আমি কিছু বুঝি না। যেকোনো দেশের জাতীয় দলই তাদের সেরা দল। বিশেষ করে নিউ জিল্যান্ডের মতো দল, যেখানে নিয়মিত নতুন প্রতিভা উঠে আসে। মনে রাখবেন, এই খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ক্রিকেটে সব ফরম্যাটে প্রচুর ম্যাচ খেলেছে। তারা যথেষ্ট অভিজ্ঞ। হয়তো আন্তর্জাতিক ম্যাচ কম খেলেছে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা তাদের আছে। তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্বিতীয় সারির দল বলে কিছু নেই।’
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বোলিং-ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম-নাহিদ রানারা। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেও স্পোর্টিং উইকেটে প্রত্যাশা সিমন্সের, ‘আমরা তেমনই চাচ্ছি (পাকিস্তান সিরিজের মতোই হবে)। আমি দেখেছি, যখন আমরা ভালো উইকেটে খেলি, তখন দলের উন্নতি দ্রুত হয়। তাই আমি যতটা সম্ভব ভালো উইকেটে খেলার চেষ্টা করছি।’
আরও পড়ুন
| বছর না ঘুরতেই তিন সভাপতি—অবাক হননি সিমন্স |
|
সালমান আলি আগাদের বিপক্ষে দাপটের সঙ্গে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। পেস-স্পিনে টম লাথামরা কতটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে স্বাগতিকদের? সিমন্স অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ হবে বলেই মনে করছেন। বাংলাদেশ কোচ বললেন, ‘পাকিস্তানেরও মানসম্পন্ন পেসার ছিল। দেখুন, প্রতিটি সিরিজই চ্যালেঞ্জিং। নিউ জিল্যান্ড হয়তো ভিন্নভাবে আমাদের চ্যালেঞ্জ জানাবে। আমরা সব ধরণের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি, যেমনটা পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে করেছিলাম। আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ আশা করছি।’
বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ডের সীমিত ওভারে দুটি সিরিজই হবে দিনের আলোয়। কোনো দিবা-রাত্রির ম্যাচ নেই। কন্ডিশন বিবেচনায় প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশও। সিমন্স বললেন, ‘কিছুটা পার্থক্য তো থাকেই। দিনের আলোতে উইকেট কিছুটা মন্থর হতে পারে বা স্পিন ধরতে পারে। আমাদের অনুশীলনের সময়টিও এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে আমরা এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি।’
আগাম পরশু থেকে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। মিরপুরে শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে হবে প্রথম দুই ম্যাচ। শেষ ওয়ানডে হবে চট্টগ্রাম।

১১ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল, এই ৩২ দিন কী দারুণই না কেটেছে নাহিদ রানার। চাঁপাই-নবাবগঞ্জের এই ছেলেটি কচি আমের সুঘ্রানে পেয়েছেন একটু বেশিই রিদম। শুরুটা শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে আতঙ্ক ছড়ানো বোলিংয়ের মধ্য দিয়ে। শাহিবজাদা ফারহান, শামিল হোসেইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আগাকে হতভম্ব করে ফিরিয়ে দেয়া বোলিং (৭-০-২৪-৫) মনে রাখবে সবাই। পেস বোলিং কোচ শন টেইট শিখিয়ে দিয়েছিলেন-'গতিটাই তোমার সম্পদ, ওটা দিয়েই ঘায়েল করো।' কোচের ওই কথাটিই একটু বেশি পুলকিত করেছে ২৩ বছর বয়সী ছেলেটিকে।
সীমিত ওভারের ম্যাচে বোলারদের প্রতি যেখানে নির্দেশনা একটাই, উইকেট টু উইকেট বোলিং, উইকেটের চেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংটা মূখ্য। সেখানে এই দর্শনটা নাহিদ রানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বলে-কয়ে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন, শর্ট বল আর বাউন্সারে বাঘা-বাঘা ব্যাটারদের কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে পারেন, গত এক মাসে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাহিদ রানা অনবরত। মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওডিআই সিরিজে ৮ উইকেটের কৃতিত্বের ২০ দিন আগে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিক্রি হয়েছিলেন বেজ প্রাইস ৬০ লাখ রুপিতে ( বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা)। এতো কম দরে পেশোয়ার জালমিতে বিক্রি হয়ে সেই ফ্রাঞ্চাইজিকে ৬ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট টেবিলে এককভাবে শীর্ষে উঠিয়েছেন নাহিদ রানা।
গত ৮ এপ্রিল করাচিতে প্রথম ম্যাচে নিজেকে সেভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি। উইকেটহীন ৩০ রান খরচায় তাই ছিলেন অতৃপ্ত। ২৪ ঘন্টা পর নিজেকে বিশ্বমানের বোলার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন নাহিদ রানা। দুটি ম্যাজিক্যাল স্পেলে (২-০-৬-১, ২-১-১-২) করাচি কিংসের বিপক্ষে তার বোলিং ৪-১-৭-৩ এখন পর্যন্ত পিএসএলের চলমান আসরে সেরা মিত্যব্যয়ী। ওভারপ্রতি খরচা ১.৭৫, তার চেয়ে বড় কথা ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ২০টি-ই ডট! ৩টি উইকেটের দুটি বাউন্সারে, একটি ইয়র্কারে!
দুদিন পর একই ভেন্যুতে লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষেও ম্যাচ উইনার (৩-০-১৫-২)। ১৮টি ডেলিভারির মধ্যে ১২টি ডট। বিসিবিকে অনুরোধ করে একদিন বেশি নাহিদ রানার সার্ভিস নিতে পেরেছে পেশোয়ার জালমি। দেশে ফেরার লাগেজ গোছগাছ করে করাচি স্টেডিয়ামে এসেও হোম সিকনেসের ছিটেফোটা দেখা যায়নি তার চোখে-মুখের অভিব্যাক্তিতে। বোনাস সুযোগ পাওয়া ১৩ এপ্রিল রাতে মুলতান সুলতানসের বিপক্ষেও যথারীতি একই চেহারায় হাজির (৪-০-২৪-২)। প্রথম স্পেলে (২-০-১৬-০) ছিলেন অসন্তুষ্ট। শেষ ২৪ বলে ৪৬ রানের টার্গেট যখন অসম্ভব মনে করেনি মুলতান সুলতানস, তখন তাদেরকে পিলে চমকে দিয়েছেন নাহিদ রানা। ১৭তম ওভারে বাউন্সারে আরাফাত মিনহাসকে মিড অফে ক্যাচ দিতে বাধ্য করা ওভারে খরচ করেছেন ৬ রান। ১৯তম ওভারে মোহাম্মদ ইয়াসিরকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে প্রলুব্ধ করা ওভারে খরচ মাত্র ২ রান!
পিএসএল মিশনে ৪ ম্যাচে ৭ উইকেট। করাচি কিংসের বিপক্ষে ১৫৯ রানের জয়ই বলুন কিংবা লাহোর কালান্দাসের বিপক্ষে ৭৬ রানের জয়, মুলতান সুলতানসকে পেশোয়ার জালমির ২৪ রানে হারিয়ে দেয়া-তিনটি বড় জয়ের নায়ক নাহিদ রানা। ৪ ম্যাচে উইকেট পিছু খরচা ১০.৮৫। ৮৪ টি ডেলিভারির মধ্যে ৫২টি ডট! ওভারপ্রতি ইকোনমি মাত্র ৫.৪২।
৬ রাউন্ড শেষে পাকিস্তান সুপার লিগে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের সুনাম নিয়েই ফিরেছেন নাহিদ রানা ঢাকায়।
৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে লাহোর কালান্দার্সে বিক্রি হয়ে হৈ চৈ ফেলে দেয়া বাঁ হাতি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের দিকে ছিল সবার চোখ। ওভারপ্রতি ৭.১৭ রান খরচ করে ৫ ম্যাচে ৬ উইকেট পেয়ে কাটার মাস্টার করেছেন প্রত্যাশিত বোলিং। পেসার শরিফুল ( ৫ ম্যাচে ২ উইকেট), লেগ স্পিনার রিশাদ (৪ ম্যাচে ২ উইকেট) করেছেন গড়পড়তা বোলিং। তবে বাংলাদেশের এই তিন বোলারকে ছাড়িয়ে পিএসএলে বাজিমাত করেছেন নাহিদ রানা। করাচিতেই বইয়ে দিয়েছেন তিনি কালবৈশাখী ঝড়। বাংলা নববর্ষে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের দারুন বার্তা দিয়েছেন ছিপছিপে গড়নের দীর্ঘদেহী এই পেসার।

২০২২ সালে থাইল্যান্ডের কোহ সামুইতে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান কিংবদন্তি ক্রিকেটার শেন ওয়ার্ন। তবে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগস্পিনারের মৃত্যুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। ওয়ার্নের ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তার মতে, ওয়ার্নের অকাল মৃত্যুর পেছনে সম্ভবত সেই ‘তিন বা চারটি’ কোভিড ভ্যাকসিনের হাত ছিল, যা তাকে ‘কাজের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে নিতে হয়েছিল।’
শেন ওয়ার্ন যখন মারা যান, তখন কোভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাব কিছুটা হলেও ছিল। কোয়ারেন্টিন অবস্থা থেকে বেরোলেও অনেকেই প্রতিষেধক হিসেবে টিকা নিয়েছিলেন। যেটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে শিশু ও বৃদ্ধদের। ৫২ বছর বয়সী ওয়ার্নও নিয়েছিলেন টিকা। তাঁর ছেলে জ্যাকসনের দাবি জোর করে টিকা দেওয়াতেই মূলত অজি কিংবদন্তির মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছিল।
কদিন আগে ‘টু ওয়ার্ল্ডস কোলাইড’ নামক এক পডকাস্টে এসেছিলেন জ্যাকসন। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে ওয়ার্নের মৃত্যুতে করোনা টিকার কোনো প্রভাব ছিল কি না। উত্তরে জ্যাকসন বলেন,
‘আমি নিশ্চিত এখানে টিকা জড়িত ছিল।বাবার যদি আগে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকেও টিকার কারণে সেটা প্রকট হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। খবরটা পেয়েই আমার মনে হচ্ছিল কোভিডের টিকার কথা।’
জ্যাকসন বলেন, ‘(বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে) ফোনটা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই আমার প্রথম মনে হয়েছিল—এর জন্য সরকার দায়ী। আমি তৎক্ষণাৎ কোভিড এবং ভ্যাকসিনকে দায়ী করেছিলাম।’ জ্যাকসন জানান, সে সময় মেমোরিয়াল সার্ভিসে (স্মরণসভা) নিজের মনের এই কথাগুলো বলে ফেলা থেকে তিনি নিজেকে কোনোমতে আটকে রেখেছিলেন।
জ্যাকসন আরও বলেন,
‘সেদিন চুপ থাকাটাই হয়তো বুদ্ধিমানের কাজ ছিল, কারণ ওগুলো বললে আজ আমি অন্যরকম এক পরিস্থিতিতে থাকতাম। কিন্তু আমি মনে মনে ঠিক এমনটাই অনুভব করছিলাম।’
কিংবদন্তি বাবার জীবনযাত্রার বর্ণনা দিতে গিয়ে জ্যাকসন জানান,
‘শেন ওয়ার্ন ধূমপান বা মদ্যপান করলেও মোটামুটি স্বাস্থ্যকর জীবনই যাপন করতেন। তিনি বলেন, ‘বাবা তখন সুস্থ ছিলেন, হাসিখুশি ছিলেন। অনেক দিন পর তাকে খুব ভালো দেখাচ্ছিল। হ্যাঁ, তিনি ধূমপান ও মদ্যপান করতেন, কিন্তু আশি-নব্বই বছর বয়সী অনেক মানুষ বাবার চেয়েও অনেক বেশি এগুলো করেন (তবুও বেঁচে আছেন)।’
শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর পর থাই পুলিশ তাঁর ঘর থেকে কিছু ওষুধ সরিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগও উঠেছিল। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত কিংবদন্তির শরীরে উত্তেজক ওষুধও পাওয়া গিয়েছিল। তবে তাঁর ছেলে জ্যাকসন তা অস্বীকার করেছেন।
৮০০ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী মুত্তিয়া মুরালিধরন। এই তালিকায় লঙ্কান কিংবদন্তির পরই শেন ওয়ার্ন। ১৪৫ টেস্টে নিয়েছেন ৭০৮ উইকেট। ৩৭ বার নিয়েছেন ইনিংসে পাঁচ উইকেট। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন ১০ বার। ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত কিংবদন্তি লেগস্পিনার পেয়েছেন ২৯৩ উইকেট।