
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই যেন খেলার বিশেষজ্ঞ। যে কোনো খেলার বিষয়ে নিয়মিতই অনেক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা দেখা যায় ফেইসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে।
সেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই এখন পেশাদার ফুটবলের জগতে নাম লিখিয়েছেন ২০ বছর বয়সী ফেলিক্স জনস্টন। ইতালির সেরি আ ক্লাব কোমো ১৯০৭ সম্প্রতি এই তরুণকে নিয়েছে তাদের মূল দলের স্কাউট হিসেবে। অর্থাৎ এখন থেকে কোমোর জন্য খেলোয়াড় খোঁজার কাজ করবেন এই তরুণ।
কিছুদিন আগেও জনস্টন ছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসির একনিষ্ঠ সমর্থক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর। এক্সে নিয়মিত ক্লাবের একাডেমির ফুটবলারদের নিয়ে বিশ্লেষণ পোস্ট করতেন তিনি।
আরও পড়ুন
| ভ্যাকসিন না নেওয়ায় আর্জেন্টিনা দল থেকে বাদ ৩ জন |
|
সেই অধ্যায় পেরিয়ে এখন তিনি নতুন দায়িত্বে কাজ করছেন সাবেক আর্সেনাল ও স্পেন তারকা সেস্ক ফাব্রেগাসের কোচিং স্টাফে। যেখানে দলের শক্তি বাড়ানোর জন্য নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে বড় ভূমিকা রাখছেন জন্সটন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি রেডিও ৫ এর লাইভ অনুষ্ঠানে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নিজের যাত্রা শুরু সম্পর্কে জনস্টন বলেন, “লকডাউনের সময় এক বন্ধু আমাকে বলেছিল, ‘টুইটারে যাও, ফুটবল নিয়ে সবাই ওখানেই কথা বলে।’ তারপর থেকেই শুরু।”
চেলসি একাডেমির খেলা দেখতে দেখতে তিনি মুগ্ধ হয়ে যান। সেটিই হয় তার টুইটারে পরিচয়ের মূল বিষয়- একাডেমির প্রতিভা বিশ্লেষণ। ধীরে ধীরে নিজেই শুরু করেন স্কাউটিং। চেলসির তরুণ-কেন্দ্রিক ট্রান্সফার নীতি তাকে দেয় কাজের খোরাক।
“রাত দুইটা পর্যন্ত খেলা দেখতাম। কেন্দ্রি পায়েজ, এস্তেভাও... তারপর নিজেই নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম। ধীরে ধীরে কিছু মানুষ, এমনকি পেশাদাররাও, আমার কাজকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। তখনই বুঝি, এটা শুধুই শখ নয়, সত্যিকারের সুযোগ।”
চলতি বছরের এপ্রিলে ডেনমার্কের ক্লাব ভাইলে তাকে স্কাউটিং কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়েছিল। জুলাইয়ে কোমোর রিক্রুটমেন্ট ডিরেক্টর টুইটারে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
“ওই কর্মকর্তা বললেন, আমার কাজ ভালো লেগেছে, ইন্টার্নশিপ করতে চাই কি না। নয় সপ্তাহ পর তিনি জানালেন, আমি চাকরি পাচ্ছি।”
জুলাইয়ের শেষ দিকে কোমোর সঙ্গে যোগাযোগ হয় জন্সটনের। মিলানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি এখন কোমোর স্কাউট হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তাকে কোমোতে নেন মূলত ক্লাবটির ডাটা প্রধান এজেড আলকামার।
আরও পড়ুন
| ‘ফুটবল নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য শুনলে ব্যথিত হই’ |
|
এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জন্সটন বলেন, “তারা আমাকে ডেটাভিত্তিক কিছু নাম দেন, আমি খেলা দেখি, রিপোর্ট তৈরি করি। নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল বা পজিশনে সীমাবদ্ধ নই, সবই দেখি।”
সাধারণত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ দেখে প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি করেন জন্সটন। তবে প্রেক্ষাপটভেদে সেটি বাড়তেও পারে। জনস্টনের এই পথচলা এখন অনেক তরুণ ফুটবলভক্তের অনুপ্রেরণা।
কোমোও দেখাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা গ্রহণ করেও সফল হওয়া যায়। দলটি বর্তমানে সেরি’আ টেবিলের সপ্তম স্থানে।
No posts available.
২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪২ পিএম

ফুটবলের উত্তাপের মাঝেও কখনও কখনও মানবিক গল্প জায়গা করে নেয় শিরোনামে। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মার্ক কক্সের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ঠিক তেমনই—মাঠের লাল কার্ডের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মায়ের স্নেহভরা বারণ।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উত্তেজনার এক মুহূর্তে লাল কার্ড দেখেছিলেন কক্স। মাঠের সেই দৃশ্য চোখ এড়ায়নি তার ৮৬ বছর বয়সী মায়েরও। দূর দেশ থেকে ছেলেকে ফোন করে সোজাসাপ্টা বার্তা—‘বাবা, লাল কার্ড হজমের মতো দুষ্টুমি করো না।’
একটু হাসি, একটু ভালোবাসা—কিন্তু বার্তাটা ছিল গভীর, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতোই। ফুটবলের রণক্ষেত্রেও মা যেন মনে করিয়ে দিলেন, যাই হোক না কেন শৃঙ্খলাই আসল শক্তি।
কক্সের দল এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। কাল মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় প্রতিবেশি ভারতের মুখোমুখি হবে তারা। লাল-সবুজ দল নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। আর ভুটানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত।
২৮ মার্চ গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারত। ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। এই ম্যাচের প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে চতুর্থ রেফারির সঙ্গে তর্ক করে হলুদ কার্ড দেখেন ভারতীয় হেড কোচ মহেশ গাউলি। এসময় প্রতিবেশী দেশের গোলকিপিং কোচ সন্দীপ নন্দীর সঙ্গে তর্কে জড়ান কক্স। রেফারি দুজনকে লাল কার্ড দেখান।
লাল কার্ড হজমের পর নেপালের বিপক্ষে ডাগ আউটে দাঁড়াতে পারেননি বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ। টুর্নামেন্টে আরেকবার ভারতের মুখোমুখির আগে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে উঠে এলো সে প্রসঙ্গ। এসময় মজা করে কক্স জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তার মা তাকে ফোন করেন।
কক্স বলেন,
‘আমার ৮৬ বছর বয়সী মা ফোন করে আমাকে বলেছেন, এই বয়সে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার মতো দুষ্টুমি করো না। জীবন মানেই তো ফুরফুরে থাকা।’
দ্বিতীয় শিরোপ জয়ের মিশনে ডাগআউটে শান্ত মেজাজে থাকবেন বলে জানিয়েছেন কক্স। নিজেই যেন নিজের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করলেন, যতটা সম্ভব চুপিসারে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন তিনি।
তিনি বলেন,
‘আমার মাথায় একটি মূল কৌশল রয়েছে যা আমার দলকে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি এবং এটি দলের জন্য ভালো হবে। কৌশলটি আমি এখনই আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। আমি ডাগআউটেই (বেঞ্চে) থাকব, মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হবো না। আপাতত এটাই আমার মূল কৌশল যে শান্ত থাকা, ভালো আচরণ করা এবং খেলোয়াড়দেরই তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে কথা বলতে দেওয়া।’

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে যেতে ব্যর্থ হওয়ার পর পতদ্যাগ করেছেন ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রধান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। বিশ্বকাপের প্লে অফের ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে হারের দুই দিন পর সরে দাড়ালেন তিনি।
এফআইজিসি সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর আজ পদত্যাগের ঘোষণা দেন গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। ২০১৮ বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর কার্লো তেভেচ্চিও পদত্যাগ করলে ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। আর গ্যাব্রিয়েল দায়িত্ব নেওয়ার পরন ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপেই জায়গা করতে পারেনি ইতালি।
গ্রাভিনার সময়ে ইতালি ২০২০ ইউরো জিতেছিল। তবে ‘আজ্জুরিরা’ আরও একবার বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফুটবল ফেডারেশন। গ্রাভিনা ইতালির সাবেক কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তি এবং বর্তমান কোচ জেনেরো গাত্তুসোর নিয়োগ তদারকি করেছেন। পদত্যাগের আগে তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও তিনি গাত্তুসোকে দলের সঙ্গে থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন।
এফআইজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন সভাপতি নির্বাচনের জন্য আগামী ২২ জুন ভোট হবে। প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইতালিয়ান অলিম্পিক কমিটির সাবেক প্রধান এবং মিলান-কোর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিক কমিটির সাবেক সভাপতি জিওভান্নি মালাগা।
ইতালির ফুটবলে এমন টালমাটাল সময়ের মধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন আজ ইতালিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি ইতালি তাদের ফুটবল অবকাঠামো আধুনিকায়ন না করে, তবে দেশটি ২০৩২ সালের ইউরোর সহ-আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে।
ইতালি ও তুরস্কের যৌথ আয়োজনে ২০৩২ ইউরো হওয়ার কথা। তবে আধুনিক স্টেডিয়ামের অভাবের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে ইতালি। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে অক্টোবরের মধ্যেই ইউয়েফাকে ইউরো আয়োজনের জন্য পাঁচটি স্টেডিয়ামের নাম জমা দিতে হবে।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আগামীকাল বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে ভারত। মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় গড়াবে ফাইনাল। তার আগে আজ বাংলাদেশ দলের হেড কোচ মার্ক কক্স বলেছেন যে ভারত বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।
প্রতিযোগিতায় কোনো ম্যাচ না হেরে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। ভারতও তাই। গ্রুপ পর্বে দুই দলের সাক্ষাতের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। এরপর সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ১-০ গোলে হারায় নেপালকে। আর ভারত ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় ভুটানকে।
ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে আজ মার্ক কক্স বলেছেন,
‘আমরা ভারতের মতো একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি, যারা খুব ভালো খেলছে। তাদের চমৎকার কোচ এবং কোচিং স্টাফ রয়েছে। তবে আমাদেরও কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা দারুণ। ভারত একটি বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।’
খেলাধুলায় বাংলাদেশ-ভারত লড়াই মানেই বাড়তি উন্মাদনা। প্রতিবেশী দেশটিকে পেলে জ্বলে উঠে বাংলাদেশ। এই দুই দলের লড়াইয়ে চাপ থাকে দুই দলের ওপরই। হারতে চায় না কোনো দল। বাংলাদেশ-ভারত আরেকটি দ্বৈরথ এখন মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায়।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচকে অনেকেই বলেই দক্ষিণ এশিয়ার ডার্বি। মার্ক কক্স বাংলাদেশে এসেছেন খুব বেশি দিন হয়নি। তবে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ সম্পর্কে জানেন ভালোই,
‘আমার মনে হয় সবাই ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন। শুধু ১৯৪৭-৪৮ পরবর্তী ইতিহাসই নয়, বরং ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ সব ধরনের খেলার ইতিহাস সম্পর্কেও। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে সবসময়ই একটা দ্বৈরথ থাকবে। ঠিক যেমন ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। মানুষ সবসময় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারাতে চায়।’
বয়সভিত্তিক সাফের অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ফাইনালে নেপালকে ৪-১ ব্যবধানে হারায় লাল সবুজের দল। তবে ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ফাইনালে ভারতের সঙ্গে হারে ৫-২ ব্যবধানে। সেবার নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দল ২-২ব্যবধানে ছিল। এরপর অতিরিক্ত সময়ের খেলায় বাংলাদেশ অবিশ্বাস্যভাবে আরও তিন গোল হজম করে। তবে আগামীকালকের ফাইনাল হবে ৯০ মিনিটের। এরপর ফাইনাল নিস্পত্তি হবে পেনাল্টি শ্যুটআউটে।

ইতালিতে এখন কেবল শোক চলছে। টানা তিন বিশ্বকাপ ‘ট্রেজেডি’র জন্ম দেওয়া ‘আজ্জুরিদের’ শোকে পাথরই হয়ে যাওয়ার কথা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন পরিণতি ফুটবলেরই কালো ইতিহাস হয়ে থাকবে। পুরো জাতি যখন শোকে মূহ্যমান, তখন আলৌকিক কিছুর আশাও হয়তো দেখতে পারে বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দলটি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে খেলার ক্ষীণ একটা আশা এখনও টিকে আছে তাদের।
বিশ্বকাপের প্লে অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হারের পর ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’ দরজা বন্ধ হয়ে যায় ইতালির। তবে অনেক যদি-কিন্তুর সমীকরণ মিলে গেলে বিশ্বকাপে যেতেও পারে ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধই গড়ে দিতে পারে জেনেরো গাত্তুসোদের বিশ্বকাপ ভাগ্য।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। গত মাসে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী দাবি করেছিলেন, কোনো অবস্থাতেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বকাপ খেলবে ইরান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকলেও ইরান ও ইরাক—দুই দলই বিশ্বকাপে খেলার কথা রয়েছে। ফিফা সভাপতিও নিশ্চিত করেছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও ইরান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে।
দু’পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে ফিফার নিয়মের ৬.২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের জায়গা পূরণ করা হবে ‘মনোনীত বিকল্প দল দিয়ে’। যা সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্লে-অফের রানারআপ বা ওই কনফেডারেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কিন্তু কোয়ালিফাই করতে না পারা দল হয়ে থাকে।
এই হিসেবে ইরানের বিশ্বকাপ খেলতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কারণ তারা এশিয়ান প্লে-অফ পর্যন্ত উঠেছিল, যদিও পরে ইরাকের কাছে হেরে যায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি ফিফার হাতে—তারা নিজেদের ‘স্বাধীন বিবেচনা’ অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারণ করতে পারে।
সেখান থেকেই একটি খুবই ক্ষীণ, এখনো পুরোপুরি কাল্পনিক সম্ভাবনাও তৈরি হয়—যদি ফিফা ভিন্ন পথে হাঁটে, তাহলে তারা বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে না পারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা দলকে ডাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সামনে আসতে পারে ইতালির বিষয়টি।
অবশ্য ইতালিকে সুযোগ দেওয়া এতটাও সহজ হবে না ফিফার জন্য। এতে অন্যান্য মহাদেশের ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—কারণ এর ফলে অতিরিক্ত একটি ইউরোপীয় দল সুযোগ পাবে।
এই জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক রিজার্ভ দলের কোচ রেনে মিউলেনস্টিনের মন্তব্য থেকে, যিনি বর্তমানে ইরাক দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন।
গত মাসে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের আগে টকস্পোর্টকে মিউলেনস্টিন বলেছিলেন,
‘এএফসির হিসাবে আমরাই সবচেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে উপরের দল। তাই ইরানের জায়গায় আমাদেরই যাওয়ার কথা। আর আমাদের জায়গা পূরণ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত খেলবে সুরিনাম ও বলিভিয়ার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে।’
মিউলেনস্টিন আরও যোগ করেন,
“তবে এমন গুঞ্জনও আছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যদি ফিফা নেয়, তাহলে তারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দলকে ডাকতে পারে, আর সেটা হতে পারে ইতালি।’

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গাব্রিয়েল গ্রাভিনা জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। বিশ্বকাপের মূল পর্বে ইতালি জায়গা করতে না পারায় তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরে যায় ইতালি। চারবারের বিশ্বকাপ জয়ী ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো মূল পর্ব থেকে বাদ পড়ে। ফলে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন গ্রাভিনা।
আজ্জুরিদের ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে ফুটবল ফেডারেশন এবং ইতালি দল বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে ফুটবল ইতালিয়া।
ফুটবল সংবাদ পরিবেশক ওয়েবসাইট থেকে জানানো হয়েছে, ইতালির হেড কোচ জেনেরো গাত্তুসো ও ম্যানেজার জিয়ানলুইজি বুফন পদত্যাগ করতে পারেন।
জরুরি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সিরি আ প্রেসিডেন্ট ইজিও সিমোনেল্লি, সিরি বি প্রেসিডেন্ট পাওলো বেডেন, সিরি সি প্রেসিডেন্ট মাতেও মারানি, অ্যামেচার লিগ প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো আবিতি, খেলোয়াড় ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট উমবার্তো ক্যালকানো, অ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট রেনজো অলিভিয়েরি।