
এক টুর্নামেন্ট ঘিরে কত কি যে হলো। এবারের এশিয়া কাপ সমর্থকরা যতটা না নিজ দলের পারফরম্যান্সের জন্য মনে রাখবে, তার চেয়ে বিতর্কিত সব ঘটনাই স্বরণীয় হয়ে থাকবে তাদের কাছে। ভারত-পাকিস্তানের সব নাটীকয়তা ছাড়িয়ে যায় ফাইনালে।
আলোচিত-সমালোচিত টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর এবার শুরু হয়েছে দুই দেশের রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের কথার লড়াই। গতকাল পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের এশিয়া কাপ জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সূর্যকুমার যাদবদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেন, ‘খেলার মাঠেও অপরাশেন সিঁদুর। ফলাফল একই—ভারতের জয়! অভিনন্দন আমাদের ক্রিকেটারদের।’
মোদির সেই পোস্ট লিখে ভারতের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডাভিয়া পাকিস্তানকে খোঁচা দিয়ে আরেকটি মন্তব্য করেন। এক্স একাউন্টে তিনি লেখেন, ‘সীমান্তে হেরেছে, এবার মাঠেও হেরেছে।’
এর আগে মোদির এই পোস্টের জবাব দেন পিসিবি (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি। রিটুইট করে তিনি লিখেন, ‘যদি যুদ্ধই তোমার গর্বের মাপকাঠি হয়, তবে ইতিহাস এরই মধ্যে পাকিস্তানের হাতে তোমার লজ্জাজনক পরাজয়ের কথা লিখে রেখেছে। কোনো ক্রিকেট ম্যাচ সেই সত্যকে বদলাতে পারবে না। খেলায় যুদ্ধ টেনে আনা শুধু হতাশাকে প্রকাশ করে আর খেলার মূল চেতনাকেই কলঙ্কিত করে।’
নাকভির হাত থেকে সূর্যকুমার যাদবরা ট্রফি নিতে অস্বীকার করে। আর এই আচারণকে আচরণকে ক্রিকেটীয় চেতনার পরিপন্থী বলছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আগা , ‘ভারত যে আচরণ করেছে, তা ক্রিকেটের মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং হতাশাজনক। তারা শুধু আমাদের অসম্মান করেনি, ক্রিকেটকেই অসম্মান করেছে। ভালো দল কখনো এমন করে না। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করার জন্য ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য নিজে এগিয়েছিলাম এবং পদক নিয়েছি।’
No posts available.
২৯ মার্চ ২০২৬, ৪:১৩ পিএম
২৯ মার্চ ২০২৬, ১:৫৭ পিএম

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বিরাট কোহলিকে ঘিরে আলোচনা থামেনি। বরং প্রশ্নটা আরও বড় হয়েছে। ওয়ানডেতে মাঠে নামলেই আলোচনা শুরু হয়, এটাই কি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়?
এই প্রশ্নের মাঝেই নতুন পরামর্শ দিলেন আম্বাতি রাইডু। তার মতে, কোহলির শুধু ওয়ানডে খেলা নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও ফেরা উচিত এবং সেটি অধিনায়ক হিসেবেই।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের নতুন আসরের প্রথম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে কোহলির ৩৮ বলে ৬৯ রানের ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ইনিংস যেন সেই দাবির পক্ষে জোরাল যুক্তি হয়ে উঠেছে।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইনিংস নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন তিনি। ইনিংসজুড়ে খেলেছেন সেরা সময় মনে করিয়ে দেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি শট।
ম্যাচ শেষে তাকে প্রশংসায় ভাসান ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রাইডু।
“আমি মনে করি না, কোহলি ক্যারিয়ারের শেষের কাছাকাছি কোথাও আছে। তার সামনে এখনও পাঁচ-ছয়টা ভালো বছর আছে। আমরা আলোচনা করছিলাম, তার টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা উচিত, আর সেটা অধিনায়ক হিসেবেই হলে ভালো হয়।”
রাইডুর মূল্যায়নে, কোহলি এখনও ভারতের সেরা টেস্ট অধিনায়কদের একজন নন, বরং সেরা।
“আমরা সিরিয়াস- ভারতীয় ক্রিকেটে আমি যত লাল বলের অধিনায়ক দেখেছি, তাদের মধ্যে কোহলিই সেরা। এখনও সে যেভাবে ব্যাটিং করছে, তাতে তার না থাকা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ক্ষতি।”
কোহলির অপরাজিত ইনিংসটি ছিল সেই পুরোনো ধারার প্রতিচ্ছবি- কভার ড্রাইভে নান্দনিকতা, স্ট্রেইট ড্রাইভে আত্মবিশ্বাস আর কবজির জোরে ফ্লিক শটে ছক্কা। বয়স বা ফরম্যাট- কোনোটিই যেন তার ব্যাটিংয়ের ধার কমাতে পারেনি।
কোহলিকে দলের ‘চেজমাস্টার’ হিসেবেই দেখছেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাতিদার।
“সে আমাদের এক নম্বর চেজমাস্টার। যেভাবে সে পরিস্থিতি বোঝে এবং ইনিংস গড়ে, সেটা ডাগআউট থেকে দেখাও দারুণ অভিজ্ঞতা।”

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৪ জন। একটি ছক্কা মারলেও প্রথম পাঁচ বলে ৮ রানের বেশি নিতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ বলে বাকি থাকল ৬ রান। দুর্দান্ত শটে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দিলেন কায়লা রেইনেক।
দলকে জেতানোর পাশাপাশি রেকর্ডও গড়লেন অভিষিক্ত অলরাউন্ডার। পুরুষ ও নারী মিলিয়ে বিশ্বের মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে একাধিক ফরম্যাটে নিজের অভিষেক ম্যাচেই প্লেয়ার অব দা ম্যাচ হলেন রেইনেক।
এতদিন এই রেকর্ডটি ছিল শুধু চার জনের, যেখানের বাংলাদেশের দুজন- ইলিয়াস সানি ও মোস্তাফিজুর রহমান। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন সানি। আর ২০১৫ সালে ওয়ানডের পর টেস্ট অভিষেকে সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন মোস্তাফিজ।
এছাড়া ইংল্যান্ডের বেন ফোকস ওয়ানডে ও টেস্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লুঙ্গি এনগিডি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের অভিষেকেই ম্যাচ সেরা নির্বাচিত।
ক্রাইস্টচার্চে রোববার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মোস্তাফিজদের এই রেকর্ডে ভাগ বসান প্রোটিয়া অলরাউন্ডার। তার নৈপুণ্যে ম্যাচের শেষ বলে গিয়ে ২ উইকেটের জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দল।
দলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে ৩২ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন রেইনেক। এর আগে গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ১৩ রানে ২ উইকেটের পাশাপাশি ১৬ বলে ২৯ রান করে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ২০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। সেদিনও শেষ বলে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এবার রেইনেকের ওয়ানডে অভিষেকের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ম্যাডি গ্রিনের ৮৫ রানে ভর করে ২৬৮ রানে অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ডের মেয়েরা। জবাবে অ্যানারি ডেরেকসেন ৭২ ও সুন লুস ৫৩ রান করলেও শেষ দিকে গিয়ে চাপে পড়ে যায় প্রোটিয়ারা।
তবে একপ্রান্ত ধরে রেখে দলকে জয়ের পথে রাখেন অভিষিক্ত রেইনেক। পরে সুজি বেটসের করা শেষ ওভারে ১৪ রান প্রয়োজন পড়লে তৃতীয় বলে প্রথম ছক্কা মারেন তিনি। কিন্তু পরের দুই বল ডট খেলায় চাপ পড়ে শেষ বলে গিয়ে।
রাউন্ড দা উইকেট থেকে ফুল লেংথে করেন অভিজ্ঞ বেটস। সামনের পা সরিয়ে সজোরে লং অন দিয়ে উড়িয়ে মারেন রেইনেক। সীমানার ওপারে যেতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন রেইনেক ও তার সতীর্থ টুমি সেখুখুনে।
নারী ও পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বের আর কোনো ক্রিকেটার একাধিক ফরম্যাটে অভিষেক ম্যাচেই শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতাতে পারেননি।
এর আগে ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়েছিলেন পাকিস্তানের জুলফিকার বাবর। তবে সেদিন জয়ের জন্য বাকি ছিল শুধু ১ রান।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এখন পর্যন্ত যৌথ সর্বোচ্চ পাঁচবার আইপিএলের ট্রফি জিতেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দলটি। তবে একটি জায়গায় এক যুগের বেশি সময় ধরে পিছিয়ে রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদবরা।
গত ১৩ বছর ধরে আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিততে পারে না মুম্বাই। ১৪তম বছরে তাদের এবার প্রতিপক্ষ কলকাতা নাইট রাইডার্স। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রোববার রাতে কলকাতার মুখোমুখি হবে মুম্বাই। এই ম্যাচে ১৩ বছরের অপেক্ষা ফুরোবে কিনা সেটিই বড় প্রশ্ন।
সবশেষ ২০১২ সালের আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেছিল মুম্বাই। এরপর ১৩ বছরে আর প্রথম ম্যাচ জেতা হয়নি তাদের।
২০১৩, ২০২১ ও ২০২৩ সালের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু; ২০১৪ ও ২০১৫ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স; ২০১৬-১৭ সালে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস; ২০১৯ ও ২০২২ সালে দিল্লি ক্যাপিটালস; ২০১৮, ২০২০ ও ২০২৫ সালে চেন্নাই সুপার কিংস এবং ২০২৪ সালে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ হেরেছে মুম্বাই।
অথচ এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা চার আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যথাক্রমে চেন্নাই, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ও চেন্নাইকে হারিয়েছিল মুম্বাই। কিন্তু ২০১৩ সালে বেঙ্গালুরুর কাছে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর পরই যেন মোড়ক লেগেছে তাদের প্রথম ম্যাচে।
এবার ২০২৬ সালে কলকাতার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে মুম্বাই। তাদের বিপক্ষে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে প্রথম ম্যাচ হেরেছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
তবে অন্য এক পরিসংখ্যান থেকে সাহস পেতে পারে মুম্বাই। এখন পর্যন্ত মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ১২ ম্যাচ খেলে মোটে ২টি (২০১২ ও ২০২৪) ম্যাচ জিততে পেরেছে কলকাতা। হেরেছে বাকি ১০ ম্যাচে। তাই দুই দলের জন্যই এটি নিজেদের অতীত রেকর্ড বদলানোর ম্যাচ।
কলকাতার সম্ভাব্য একাদশ (ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারসহ ১২ জন)
ফিন অ্যালেন, অজিঙ্কা রাহানে, আংকৃশ রঘুবংশী, ক্যামেরন গ্রিন, রিঙ্কু সিং, অনুকুল রায়, রমনদ্বীপ সিং, সুনিল নারিন, বৈভব অরোরা, বরুণ চক্রবর্তী, ব্লেসিং মুজারাবানি, উমরান মালিক/কার্তিক ত্যাগী
মুম্বাইয়ের সম্ভাব্য একাদশ (ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারসহ ১২ জন)
রোহিত শর্মা, কুইন্টন ডি কক/রায়ান রিকেল্টন, তিলক বর্মা, সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, নমন ধীর, শেরফান রাদারফোর্ড, দীপক চাহার, এএম গজনফর, জাসপ্রিত বুমরাহ, আশওয়ানি কুমার, ট্রেন্ট বোল্ট

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরুর আগে বিদেশি খেলোয়াড়দের নাম প্রত্যাহারের প্রবণতা বেড়েছে। তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুনীল গাভাস্কার। এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেটি যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ভারতের কিংবদন্তি এ ক্রিকেটার।
আইপিএলের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নিলামে দল পাওয়ার পর কোনো খেলোয়াড় চোট বা জরুরি মেডিকেল কারণ ছাড়া নাম প্রত্যাহার করলে তাকে পরবর্তী দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তবে হ্যারি ব্রুক ও বেন ডাকেটের মতো খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এই নিয়মের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাভাস্কার।
ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার বলেন, ‘দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই কাজ করছে না। এমন কিছু করতে হবে যা খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ক্যারিয়ার বা আইপিএলে ফেরার সুযোগে বড় কোনো ধাক্কা না লাগছে, ততক্ষণ এই প্রবণতা থামবে না।’
এবারের মৌসুমে ডাকেটকে ২ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। মৌসুম শুরুর ঠিক আগে ব্যক্তিগত কারণ ও টেস্ট ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলে সরে দাঁড়ান। এই ইংলিশ ব্যাটারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গাভাস্কার বলেন, ‘ডাকেট হয়ত দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে ভালো দাম পাওয়ায় আইপিএলে নাম প্রত্যাহার করতে দ্বিধা করেননি। তিনি হয়ত এখন টেস্ট ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেওয়ার অজুহাত দিচ্ছেন, কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কী হবে?’
এর আগে গত মৌসুমে হ্যারি ব্রুক ৬.২৫ কোটি রুপিতে দল পাওয়ার পর নাম প্রত্যাহার করে বর্তমানে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন। ডাকেটের ক্ষেত্রেও এই দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
গতকাল থেকে শুরু হয়েছে আইপিএলের ১৯ তম সংস্করণের। একের পর এক বিদেশি খেলোয়াড় নাম সরিয়ে নেওয়ায় বিপাকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বর্তমানে ২৪ জনের স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দিল্লি ক্যাপিটালসকে।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আইপিএলের নতুন আসরের প্রথম ম্যাচ রাঙিয়েছেন বিরাট কোহলি। চমৎকার ইনিংসে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে এনে দিয়েছেন দারুণ জয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে খেলেছেন ৩৮ বলে ৬৯ রানের ইনিংস।
অথচ এই ম্যাচের আগে গত ৯ মাস কোনো টি-টোয়েন্টি খেলেননি কোহলি। গত আইপিএল ফাইনালের পর এবারই প্রথম কোনো ২০ ওভারের ম্যাচ খেললেন তিনি। আর সেখানেই করলেন বাজিমাত। এর রহস্য হিসেবে কোহলি বললেন, মাঠে নামলে ১২০ শতাংশ প্রস্তুত হয়েই মাঠে নামেন তিনি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন শুধু আইপিএলেই কুড়ি ওভারের ক্রিকেট খেলেন কোহলি। গত বছরের জুনে বেঙ্গালুরুর প্রথম আইপিএল শিরোপা জয়ের ম্যাচ দিয়েই এই সংস্করণে সবশেষ ম্যাচ খেলেন তিনি।
এরপর মাঝের ৯ মাসে খুব বেশি ক্রিকেট খেলেননি কোহলি। গত জানুয়ারিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে আলো ছড়ান তিনি। পরে আবার দুই মাসের বিরতি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এরকম বিরতিগুলো দারুণ কাজে দিচ্ছে মনে করেন তিনি।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ২০২ রান তাড়া করে বেঙ্গালুরুকে জেতানোর পর বিরতি ও বিশ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরেন কোহলি।
“গত ১৫ বছর যে ধরনের ব্যস্ত সূচি ও যে পরিমাণে ক্রিকেট আমি খেলেছি, বিষয়টা অপ্রস্তুত থাকার চেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকিটা বেশি। তাই এসব বিরতি অনেক কাজে দেয়। আমি সতেজ থাকি, (খেলার জন্য) রোমাঞ্চিত থাকি। যখনই মাঠে ফিরি, ১২০ শতাংশ প্রস্তুত থাকি। আর যদি না ফিরি, তাহলে বুঝে নেবেন আমি অপ্রস্তুত।”
“অতিরিক্ত বিশ্রাম আমাকে মানসিকভাবে সতেজ হতে সাহায্য করে। আপনি যখন শারীরিকভাবে ফিট থাকেন ও মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত থাকেন, তখন এই দুটি একসঙ্গে খুব সুন্দরভাবে কাজ করে। আপনি দলের জন্য অবদান রাখতে পারেন, যেটা খেলোয়াড় হিসেবে মূল লক্ষ্য। কখনও শুধু দলে জায়গা ধরে রাখতে চাইবেন না। আপনি পারফর্ম করতে চান, দলের জন্য নিয়মিত পরিশ্রম করে যেতে চান।”
দুইশ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়ায় রয়েসয়ে শুরুর পর ৩৩ বলে ফিফটি করেন কোহলি। পরে ১৬তম ওভারে টানা চার বলে ৬, ৪, ৪ ও ৪ মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি। সব মিলিয়ে ৫টি করে চার-ছক্কা মেরে ৩৮ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন কোহলি।
৩৭ বছর বয়স পেরিয়েও ম্যাচ জেতানো এই ইনিংসে নিজের সেরা সময়ের মতোই ফ্লিক, কাভার ড্রাইভ বা অন ড্রাইভ খেলেন কোহলি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, এসব নিয়ে ফাঁকা সময়ে অনেক ঘাম ঝরিয়েছেন তিনি।
“আমি এমন কোনো শট খেলিনি, যেগুলো আমি সাধারণত খেলি না। আমি জানতাম, যতক্ষণ রিদম ঠিক আছে ও ফিটনেসের দিক থেকে আমি পর্দার আড়ালে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি, সবকিছু ঠিকভাবে মিলেই যাবে। আজকের রাতটা ছিল আরেকটা সুযোগ- ভালোভাবে শুরু করার ও এগিয়ে যাওয়ার।”