৬ মার্চ ২০২৬, ৩:০৬ পিএম

বাবর আজম ও পেসার নাসিম শাহকে দলে ভিড়িয়েছে লাহোর হোয়াইটস। কাল থেকে পেশাওয়ারের ইমরান খান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ন্যাশনাল টি–টোয়েন্টি কাপ। জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া এই দুই তারকা ক্রিকেটারকে স্কোয়াডে যুক্ত করেছে দলটি।
টুর্নামেন্টের প্রাথমিক স্কোয়াড ও সূচি ঘোষণার সময় বাবর ও নাসিমের নাম ছিল না। পরে তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টুর্নামেন্টে লাহোর হোয়াইটসের নেতৃত্ব দেবেন অলরাউন্ডার আমির জামাল।
দলকে আরও শক্তিশালী করতে স্কোয়াডে যোগ করা হয়েছে আহমেদ দানিয়াল ও মোহাম্মদ সালমানকেও।
৭ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে ন্যাশনাল টি–টোয়েন্টি কাপ। পেশাওয়ারের ইমরান খান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে সব ম্যাচ। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে এই ভেন্যুতে কায়েদে আজম ট্রফির নয়টি ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল।
টুর্নামেন্টে ১০টি আঞ্চলিক দল অংশ নিচ্ছে। দলগুলো হলো—অ্যাবোটাবাদ, বাহাওয়ালপুর, ফয়সালাবাদ, পেশাওয়ার, করাচি হোয়াইটস, করাচি ব্লুজ, লাহোর ব্লুজ, লাহোর হোয়াইটস, মুলতান ও শিয়ালকোট।
আরও পড়ুন
| হারের দুই কারণ জানালেন হ্যারি ব্রুক |
|
দলগুলোকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে লাহোর হোয়াইটস, পেশাওয়ার, ফয়সালাবাদ, করাচি হোয়াইটস ও বাহাওয়ালপুর। ‘বি’ গ্রুপে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লাহোর ব্লুজ, শিয়ালকোট, মুলতান, অ্যাবোটাবাদ ও করাচি ব্লুজ।
গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। ৭ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে গ্রুপ পর্ব। প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ হবে—প্রথমটি শুরু হবে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে এবং দ্বিতীয় ম্যাচ রাত ৯টা ১৫ মিনিটে। ফাইনাল ম্যাচ শুরু হবে রাত ৮টায়, টস হবে সাড়ে ৭টায়।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামবে আমির জামালের নেতৃত্বাধীন লাহোর হোয়াইটস। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ পেশাওয়ার অঞ্চল। এরপর ৯ মার্চ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ফয়সালাবাদের মুখোমুখি হবে দলটি।
লাহোর হোয়াইটসের হালনাগাদ স্কোয়াড: আমির জামাল (অধিনায়ক), আলী রাজা, আলী শহীদ বাট, ফারহান ইউসুফ (অনূর্ধ্ব–২১), বাবর আজম, ইমরান ডোগার, জুনাইদ আলী (উইকেটকিপার), কামরান আফজাল, মোহাম্মদ ফায়েক, আহমেদ দানিয়াল, মোহাম্মদ সালমান, মোহাম্মদ আখলাক, মোহাম্মদ মোহসিন, মোহাম্মদ রমিজ জুনিয়র, মোহাম্মদ সেলিম, নাসিম শাহ, সামামা রিয়াজ, তাইয়াব তাহির ও উবায়েদ শাহ।
No posts available.
৬ মার্চ ২০২৬, ১০:২২ পিএম
৬ মার্চ ২০২৬, ৭:৪১ পিএম
৬ মার্চ ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
৬ মার্চ ২০২৬, ৩:৫১ পিএম
৬ মার্চ ২০২৬, ৩:১২ পিএম

ক্রিকেটাঙ্গনে প্রকৃত বয়স আড়াল করার মতো ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। ‘বয়স চুরির’ কারণে তো পাকিস্তানে দুই টুর্নামেন্ট বন্ধও করতে হয়েছিল। পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে ঘটে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা। বয়স নিয়ে লুকোচুরি এড়াতে কঠোরও হয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে তাতে সমাধান মিলেছে কি না সেটা নিয়ে আছে প্রশ্ন। এ যেমন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি দলের বর্তমান এক খেলোয়াড়ের বয়স শুনে বেশ চমকে উঠলেন।
বয়স কাণ্ড নিয়ে মজার এই ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের এক লাইভ টিভি শোতে। পাকিস্তানের মোহাম্মদ ইরফান নিয়াজির বয়স শুনে অবাক হন আফ্রিদি। যখন আফ্রিদি এই ব্যাটারের বয়স জানতে পারেন, অবাক হওয়ার সঙ্গে এ নিয়ে ঠাট্টাও করেন।
লাইভ টিভি শো-এর অ্যাঙ্কর আফ্রিদির কাছে ইরফান নিয়াজির বয়স জানতে চেয়ে বলেন, ‘আপনি আগে ইরফান নিয়াজিকে অনেক সুযোগ দিয়েছেন। সে এমন একজন ব্যাটার যিনি চারে বা পাঁচে খেলেন। তার বয়স কত হতে পারে? জবাবে আফ্রিদি বলেন, ‘ও বড্ড ফিট, এবং ভালো হিটিংও করে। তাকে আগে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’ এরপর অ্যাঙ্কর নিয়াজির বয়স জানিয়ে দিলে চমকে ওঠেন আফ্রিদি, ‘কি? সে ২৩?’। অ্যাঙ্কর হেসে উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, অফিসিয়ালি সে ২৩।’
এরপর বেশ রসিকতাই করেন আফ্রিদি। ৪৬ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, ‘ঠিক আছে, তাহলে আমার বয়স তো ৩০ থেকে ৩৫ হবে।’ এরপর দুজনেই হেসে ফেললেন।
🚨 IT TAKES ONE FRAUD TO SPOT ANOTHER
— Brutal Truth (@sarkarstix) March 5, 2026
During a discussion on Pakistan cricket, Shahid Afridi burst into sarcastic disbelief when the anchor mentioned that one of the Pakistani players is just 23 years old.
“If he is 23, then we are fine… we must be around 30–35,” Afridi… pic.twitter.com/iHGL2ZZdZo
আফ্রিদির মতে, ভবিষ্যতে ক্রিকেটে এ ধরনের বিতর্ক এড়াতে ক্রিকেটারদের বয়স যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
অবশ্য মজার বিষয় হলো শাহীদ আফ্রিদি নিজেও ক্রিকেটে বয়স নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। পাকিস্তানের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার তাঁর আত্মজীবনী ‘গেম চেঞ্জার’-এ জানিয়েছিলেন, তিনি যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ১৯ বছর ছিল, ১৬ নয়। আফ্রিদি আরও বলেছেন যে, তিনি ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এই তথ্য আরও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, কারণ যদি সত্যিই তিনি ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন, তাহলে ১৯৯৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে অভিষেকে তার বয়স ২১ বছর হতে হতো।
১৯৯৬ সালে নাইরোবিতে কেনিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক হয় আফ্রিদির। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার আফ্রিদি খেলেছেন ২৭টি টেস্ট, ৩৯৮টি ওয়ানডে ও ৯৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। পাকিস্তানের ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের দলের অংশ ছিলেন তিনি। ফাইনালে পাকিস্তান শ্রীলঙ্কাকে আট উইকেটে হারানো ম্যাচে আফ্রিদি ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। ব্যাট হাতে ৪০ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আবুধাবিতে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্প বাতিল করেছে ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল। এর পরিবর্তে দলটি এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেবে।
৩০ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে এই ক্যাম্প হবে প্রিটোরিয়ায়। আগামী ১০ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত দুই দলে ভাগ হয়ে পাঁচ ম্যাচের একটি অনুশীলন সিরিজ খেলবেন ক্রিকেটাররা। দুই দলের নাম রাখা হয়েছে ইংল্যান্ডের সাবেক দুই বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার জান ব্রিটিন ও র্যাচেল হেওহ-ফ্লিন্টের নামে।
একটি দলের নেতৃত্ব দেবেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট। অন্য দলের নেতৃত্বে থাকবেন সহ-অধিনায়ক চার্লি ডিন। দুই দলের সঙ্গেই কাজ করবেন প্রধান কোচ শার্লট এডওয়ার্ডস।
এই ক্যাম্পে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে আটজন এখনো ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক করেননি। তাদের মধ্যে আছেন ১৯ বছর বয়সী ওপেনার ডাভিনা পেরিন, যিনি গত বছর দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে ৪৩ বলে সেঞ্চুরি করে আলোচনায় আসেন। এ ছাড়া আছেন স্পিনার টিলি কোর্টিন-কলম্যান, সাবেক অনূর্ধ্ব–১৯ অধিনায়ক গ্রেস স্ক্রিভেনস, অ্যালেক্সা স্টোনহাউস, গ্রেস পটস, জোডি গ্রিউকক, উইকেটকিপার এলি থ্রেলকেল্ড ও রিয়ান্না সাউথবি।
তবে আঙুলে চোট পাওয়ায় নিয়মিত লেগ স্পিনার সারাহ গ্লেন এই ক্যাম্পে যেতে পারছেন না।
আগামী জুন–জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই আসরের আগে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড নারী দল। এরপর লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচও খেলবে তারা।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম সংস্করণের দুই ফাইনালিস্ট চূড়ান্ত। টুর্নামেন্টজুড়ে রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তার দারুণ লড়াইয়ের পর এখন বাকি শুধু শেষ অধ্যায়—শিরোপা ওঠবে কার হাতে? বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মঞ্চে ভারত-নিউ জিল্যান্ড মহারণের আগে টুর্নামেন্ট সেরার মননোয়ন দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। তালিকায় থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে থেকেই সার্বিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারকে বেছে নেবেন নির্বাচকেরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্টের প্রাথমিক তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ছ’দেশের আট ক্রিকেটার। টুর্নামেন্টসেরা হওয়ার দৌড়ে আছে ফাইনালে ওঠা নিউ জিল্যান্ডের দুই ক্রিকেটার আর ভারতের একজন। কিউইদের বিপক্ষে হেরে সেমি ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার দুইজন আছেন এই তালিকায়। এছাড়া ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন একজন করে।
সঞ্জু স্যামসন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার হওয়ার দৌড়ে একমাত্র ভারতীয় হিসাবে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। প্রতিযোগিতার শুরুতে দলে জায়গাই না পাওয়া এই উইকেটকিপার ব্যাটার চার ম্যাচে ৭৭.৩৩ গড়ে করেছেন ২৩২ রান। বিধংসী ব্যাটিং করা স্যামসনের স্ট্রাইট রেট ২০১.৭৩।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিপক্ষে অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে করেছেন ৮৯ রান। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্বলে ওঠে পর পর দু’ম্যাচে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন স্যামসন। ঘরের মাঠে এবার ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কার তাঁর হাতেই ওঠার কথা।
উইল জ্যাকস
বিশ্বকাপের এবারের আসরে সেরা ক্রিকেটার হওয়ার দৌড়ে অন্যতম ফেভারিট ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস। ইংলিশ অলরাউন্ডার ৮টি ম্যাচ খেলে ২২৬ রান করেছেন এবং ৯টি উইকেট নিয়েছেন। দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য চার বার ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছেন জ্যাকস। বিশ্বকাপে বল হাতে কার্যকরী জ্যাকস ব্যাট হাতে ফিনিশারের ভূমিকায় ছিলেন অনবদ্য, ব্যাট করেছেন ১৭৬.৫৬ স্ট্রাইক রেটে।
টিম সেইফার্ট
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন নিউ জ়িল্যান্ডের সেইফার্টও। বিশ্বকাপের এবারের সংস্করণে ৮ ম্যাচ খেলে ৪৫.৬৬ গড়ে করেছেন ২৭৪ রান। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৬১.১৭। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে তিনটি ফিফটি। এরমধ্যে রয়েছে সেমি ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩ বলে ৫৮ রানের ইনিংস।
রাচিন রবীন্দ্র
প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটার হওয়ার দৌড়ে আছেন নিউ জ়িল্যান্ডের আরেক ক্রিকেটার রাচিন রবীন্দ্রও। এই কিউই অলরাউন্ডার বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১১টি উইকেট নিয়েছেন। আর ব্যাট হাতে করেছেন ১২৮ রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৭ রানে ৪ উইকেট এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসাবে পরিচিত রাচিন এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সফল স্পিনার।
এইডেন মার্করাম
তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করামের নাম। বিশ্বকাপের ৮টি ম্যাচে প্রোটিয়া ব্যাটার তিন ফিফটিতে করেছেন ২৮৬ রান, নিয়েছেন ১টি উইকেটও। নিউ জ়িল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিপক্ষেও অপরাজিত ৮৬ রান করেছেন তিনি।
লুঙ্গি এনগিডি
প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটার হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এনগিডি। ৭টি ম্যাচ খেলে প্রোটিয়া ফাস্ট বোলার ১২টি উইকেট নিয়েছেন। ওভার প্রতি খরচ করেছেন ৭.১৯ রান। কানাডার বিপক্ষে চার উইকেট এবং আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন উইকেট নেন এনগিডি। ভারতের বিপক্ষে উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ১৫ রান।
সাহিবজ়াদা ফারহান
ওপেনিং ব্যাটার বিশ্বকাপে ৭টি ম্যাচ খেলে ৭৬.৬০ গড়ে ৩৮৩ রান করেছেন সাহিবজ়াদা ফারহান। ১৬০.২৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা ফারহান এক মাত্র ক্রিকেটার হিসাবে এ বারের বিশ্বকাপে একাধিক সেঞ্চুরি করেছেন পাক ব্যাটার। করেছেন দু’টি অর্ধশতরান। এখনও পর্যন্ত তিনিই সবচেয়ে বেশি রান করেছেন এ বারের বিশ্বকাপে।
শ্যাডলে ফান শকউইক
আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ম্যান অব টুর্নামেন্ট হওয়ার দৌড়ে আছেন শ্যাডলে ফান শকউইক। ফাস্ট বোলার শকউইক ৪টি ম্যাচ খেলে ১৩টি উইকেট নিয়েছেন। ওভার প্রতি খরচ করেছেন ৬.৮০ রান। ভারত এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৪টি করে উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় শীর্ষে আছেন শকউইক।

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের মূল্য সব সময়ই বেশি। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই অবদান রাখতে পারা ক্রিকেটাররা ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারেন মুহূর্তেই। আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী এমন অলরাউন্ডারদের নিয়ে প্রতিবেদন করেছে উইজডেন। সেরা তালিকায় জায়গা পেয়েছেন কয়েকজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার।
আইসিসি খেলোয়াড়দের ব্যাটিং ও বোলিং পারফরম্যান্স আলাদা করে ১ থেকে ১০০০ পয়েন্টের স্কেলে মূল্যায়ন করে। অলরাউন্ডারদের রেটিং নির্ধারণ করা হয় ব্যাটিং ও বোলিং রেটিং গুণ করে ১০০০ দিয়ে ভাগ করে। ফলে একজন ক্রিকেটারকে তালিকার শীর্ষে উঠতে হলে একই সময় ব্যাটিং ও বোলিং—দুই ক্ষেত্রেই ভালো করতে হয়।
এই হিসাব অনুযায়ী পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত মাত্র একজন ক্রিকেটার ৫০০-এর বেশি অলরাউন্ডার রেটিং পেয়েছেন।
টি-টোয়েন্টির শীর্ষ ১০ অলরাউন্ডার
১০. সিকান্দার রাজা (জিম্বাবুয়ে)–৩২৮ পয়েন্ট
২০২৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে এই রেটিংয়ে পৌঁছান রাজা। ওই ম্যাচে ৪৩ বলে ৭৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নেন ৩ উইকেট। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারলেও ম্যাচসেরা হন তিনি। টি–টোয়েন্টিতে ৩ হাজার রান ও ১০০ উইকেটের ডাবল করা প্রথম পূর্ণ সদস্য দেশের ক্রিকেটারও রাজা।
৯. ডেভিড হাসি (অস্ট্রেলিয়া)–৩৩৭ পয়েন্ট
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার ২০১২ সালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের সময় এই রেটিংয়ে পৌঁছান। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর অফ স্পিনে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন তিনি।
৮. মোহাম্মদ নবী (আফগানিস্তান)–৩৬১ পয়েন্ট
আফগানিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম পথিকৃৎ নবী ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের পর এই রেটিংয়ে পৌঁছান। ওই ম্যাচে ৫৪ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করেন তিনি।
৭. যুবরাজ সিং (ভারত)–৩৬৩ পয়েন্ট
টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রথম দিকের বড় তারকাদের একজন যুবরাজ। ২০০৭ বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডকে টানা ছয় ছক্কা মারার ঘটনা এখনও স্মরণীয়। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর তার অলরাউন্ডার রেটিং সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়।
৬. সনাৎ জয়সুরিয়া (শ্রীলঙ্কা)–৩৬৬ পয়েন্ট
শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ওপেনার জয়সুরিয়া টি–টোয়েন্টিতেও ছিলেন সমান কার্যকর। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের সময় তার রেটিং সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছায়।
৫. গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (অস্ট্রেলিয়া)–৩৭৫ পয়েন্ট
আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও অফ স্পিন—দুই ক্ষেত্রেই অবদান রাখায় টি–টোয়েন্টির অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত ম্যাক্সওয়েল। ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর তার রেটিং এই উচ্চতায় ওঠে।
৪. সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)–৪২০ পয়েন্ট
বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত সাকিব দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই দলের ভরসা। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ভালো পারফরম্যান্সের পর তার অলরাউন্ডার রেটিং ৪২০–এ পৌঁছায়।
৩. শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)–৪৩৭ পয়েন্ট
বিধ্বংসী ব্যাটিং ও কার্যকর লেগ স্পিনে টি–টোয়েন্টিতে আলাদা পরিচিতি ছিল আফ্রিদির। ২০০৯ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
২. মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান)–৪৫২ পয়েন্ট
অফ স্পিন অলরাউন্ডার হাফিজ ২০১৩ সালে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পর এই রেটিংয়ে পৌঁছান। ওই সময়ে কয়েকটি ম্যাচে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও অবদান রাখেন তিনি।
১. শেন ওয়াটসন (অস্ট্রেলিয়া)–৫৬৬ পয়েন্ট
তালিকার শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে ৫০০–এর বেশি পয়েন্ট পেয়েছেন। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের পর তাঁর রেটিং সর্বোচ্চ ৫৬৬ পয়েন্টে পৌঁছায়।
আইসিসির র্যাঙ্কিং অনুযায়ী এই তালিকায় নেই ভারতের হার্দিক পান্ডিয়া বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়েন ব্রাভোর মতো জনপ্রিয় অলরাউন্ডাররা। তবু পরিসংখ্যানের বিচারে টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে অলরাউন্ডারদের মধ্যে শেন ওয়াটসনের রেকর্ড এখনও সবার ওপরে।

পাকিস্তানের এক ক্রিকেটারকে ঘিরে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এ বিষয়ে একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদনের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে পাকিস্তান দলের শ্রীলঙ্কা সফরের সময় এক পেসারের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, ওই ক্রিকেটার হোটেলে অনুপযুক্ত আচরণ করেছেন এবং এ বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেই ক্রিকেটারের আচরণ নিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দল ব্যবস্থাপনা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
পিসিবি জানিয়েছে, হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দল ব্যবস্থাপনা। তদন্ত শেষে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। এ কারণে তাকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
| বাংলাদেশ সফরে বাদ, বাবর-নাসিম নামছেন ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে |
|
তবে বোর্ডের দাবি, ঘটনার বিষয়ে যাচাই–বাছাই ছাড়াই কিছু সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করেছে। পিসিবি একে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে এমন মিথ্যা সংবাদ প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
এদিকে চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পারফরম্যান্সও হতাশাজনক ছিল। ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন দলটি এবারের ২০ দলের টুর্নামেন্ট থেকে গত সপ্তাহেই বিদায় নিয়েছে। সুপার এইট পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয় পেলেও সেটিই ছিল পূর্ণ সদস্য কোনো দলের বিপক্ষে তাদের একমাত্র জয়।
এর আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল পাকিস্তান। আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি কলম্বোয় টানা বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। সব মিলিয়ে টানা দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলো পাকিস্তান। এর আগে ২০২২ সালের আসরে তারা রানার্সআপ হয়েছিল।