১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১০ পিএম

আহমেদাবাদে নরেন্দ্রো মোদি স্টেডিয়ামে আজ দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর রীতিমতো টনের্ডো বইয়ে দিলেন এইডেন মার্করাম। নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের তুলোধুনো করে দলকে এনে দিলেন সহজ এক জয়। তাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০ম সংস্করণে সুপার এইটে এক পা দিয়ে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপপর্বের প্রথম তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় পেল তারা প্রোটিয়ারা।
লক্ষ্যটা আহামরি বড় ছিল না। তবে বড় ব্যবধানে জয়ের হিসেব কষে রেখেছিলেন কি না মার্করাম কে জানে! প্রথম ওভার থেকেই তাণ্ডব শুরু হয় এই ওপেনারের। শেষ পর্যন্ত এই ব্যাটারকে আউটই করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ডের বোলাররা। ৪৪ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত ছিলেন ডানহাতি ব্যাটার। আর দক্ষিণ আফ্রিকা পেল সাত উইকেটের জয়।
শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান করে নিউ জিল্যান্ড। জবাবে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
গ্রুপ ‘ডি’ তে তিন ম্যাচ জিতে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর সমান ম্যাচে দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে নিউ জিল্যান্ড। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে জয় পেলেই সুপার এইট নিশ্চিত হবে কিউদেরও। আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচে হারলেও পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে তাদের। ১.৪৭৭ নেট রান রেট নিয়ে বাকিদের চেয়ে বেশ এগিয়ে আছে তারা।
রান তাড়ায় মাত্র তিন ওভারেই পঞ্চাশ স্পর্শ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরমধ্যে ৪১ রানই আসে মার্করামের ব্যাট থেকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো দলের দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি এটি। প্রথম পঞ্চাশ রান তুলতে এর চেয়ে কম বলের রেকর্ডটি ইংল্যান্ডের। ২০১৬ বিশ্বকাপে এই প্রোটিয়াদের বিপক্ষে রেকর্ডটি করে ইংলিশরা।
৪.৪ ওভারে দলীয় ৬২ রানে প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৪ বলে ২০ করা কুইন্টন ডি কককে বোল্ড করেন লকি ফার্গুসন। তবে ঝড় থামেনি মার্করামের। ১৯ বলে সমান ৬ চার ও চার ছয়ে করেন ফিফটি। টি-টোয়েন্টিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় দ্রুততম ফিফটি এটি। দ্রুততম রেকর্ডের মালিক অভিষেক শর্মা এ বছরই কিউইদের বিপক্ষে ১৪ বলে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন।
৭.২ ওভারেই ১০০ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১১ বলে ২১ করা রিকেলটন জেমস নিশামের শিকার হলে শেষ হয় দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ১৮ বলে ৪০ রানের জুটি। দক্ষিণ আফ্রিকার রান যখন ১৩১, সমান ২১ রান করে আউট হন ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও। তারপর ডেভিড মিলারকে নিয়ে জয়ের জন্য হেসেখেলেই বাকি কাজটুকু সারেন মার্করাম। মিলার করেন ১৭ বলে ২৪ রান। শেষ বলে ফার্গুসনকে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও দ্রুত গতিতে রান তোলে নিউ জিল্যান্ড। টপ অর্ডারের প্রথম তিন ব্যাটারকেই ফেরান মার্কো ইয়ানসেন। দারুণ শুরু পেয়েও উইকেটে থিতু হতে না পারা টিম সাইফোর্ট ৯ বলে ১৩, ফিন অ্যালেন ১৭ বলে ৩১ ও রাচিন রবিন্দ্রো ৮ বলে ১৩ করে আউট হন। পাওয়ার প্লে শেষে কিউইদের স্কোর দাঁড়ায় ৫৮/৩।
সপ্তম ওভারে গ্লে ফিলিপসের উইকেটও হারায় নিউ জিল্যান্ড। এরপরই মার্ক চ্যাপম্যান ও ডেরি মিচেলের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। এই জুটির আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে দুইশো রানের দিকে ছুটছিল নিউ জিল্যান্ড। পঞ্চম উইকেটে ৪৪ বলে ৭৪ রান যোগ করেন মিচেল-চ্যাপম্যান।
তবে আরেকবার প্রোটিয়াদের ম্যাচে ফেরান ইয়ানসেন। চ্যাপম্যানকে রায়ান রিকেলটনের ক্যাচ বানিয়ে বিপদজনক জুটি ভাঙেন এই পেসার। ৬ চার ও দুই ছক্কায় ২৬ বলে ৪৮ করে করেন চ্যাপম্যান। এই জুটি ভাঙার পর রানের গতিও থমকে যায় নিউ জিল্যান্ডের। শেষ ৬ ওভারে মাত্র ৩৮ রান করে তারা। ২৪ বলে ৩২ করেন মিচেল। আটে নামা জেমস নিশামের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৩।
৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার ইয়ানসেন। এছাড়া একটি করে শিকার করেছেন লুঙ্গি এনগিডি, কেশব মহারাজ ও করবিন বচ।
No posts available.
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:০১ পিএম
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:০৮ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে মঙ্গলবার নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে নিউ জিল্যান্ড। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে লকি ফার্গুসনকে পাচ্ছে না কিউইরা। সন্তান জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে দেশে ফিরে গেছেন এই তারকা পেসার।
ফলে মঙ্গলবার কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে ফার্গুসনকে ছাড়াই খেলতে হবে কিউইদের। তবে সুপার এইট পর্বের আগে দলে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।
নিউ জিল্যান্ডের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার বলেছেন, ফার্গুসন ও তাঁর স্ত্রী এমার জন্য দারুণ এক সময়। এমন বিশেষ মুহূর্তে সে পরিবারের পাশে থাকতে পারছেন, এতে দলও খুশি। আপাতত তাঁর বদলে কাউকে স্কোয়াডে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান কোচ।
প্রয়োজনে ভ্রমণকারী রিজার্ভ হিসেবে থাকা বেন সিয়ার্স ও কোল ম্যাককনচিকে দলে ডাকা হতে পারে।
বিশ্বকাপে ছন্দে আছেন ফার্গুসন, তিন ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এই পেসার। কানাডার বিপক্ষে তাঁর জায়গায় একাদশে সুযোগ পেতে পারেন কাইল জেমিসন, যদিও এবারের বিশ্বকাপে এখনো কোনো ম্যাচ খেলেননি এই পেসার।
প্রথম দুই ম্যাচ জিতলেও গতকাল শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে নিউ জিল্যান্ড। কানাডাকে হারাতে পারলে নিশ্চিত হবে সুপার এইট। হারলে তাকিয়ে থাকতে হবে আফগানিস্তানের ম্যাচের রেজাল্টের ওপর।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের মধ্যকার মহাকাব্যিক ম্যাচ দেখে কি তবে ২০১৯ বিশ্বকাপের কথাই মনে পড়ে গেল নিউ জিল্যান্ডের জিমি নিশামের? গত বুধবার টাই হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে আরও একবার টাই হলে ম্যাচের মীমাংসা টানা হয় আরেকটি সুপার ওভারে। এরপর দ্বিতীয় সুপার ওভার জেতে প্রোটিয়ারা। যে ম্যাচটি হোটেলে বসে দেখেছে নিউ জিল্যান্ড। আর সেই ম্যাচ নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন কিউই অলরাউন্ডার জিমি নিশাম।
টুর্নামেন্টে নিউ জিল্যান্ডের তখন পরের ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। যে ম্যাচটি গড়িয়েছে আহমেদাবাদে। মঙ্গলবার আরব আমিরাতকে হারিয়ে পরের দিন চেন্নাই থেকে আহমেদাবাদের ফ্লাইট ছিল নিউ জিল্যান্ড দলের। কিন্তু হোটেল থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার ঠিক ওই সময়টাতেই হয় দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের মধ্যকার থ্রিলার ম্যাচটি।
‘(আহমেদাবাদের উদ্দেশ্যে) আমাদের বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছিল। হোটেলের সামনে বাসও অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু আমরা সবাই তখনও টিভির সামনে। আসলে দুর্দান্ত একটি ম্যাচ ছিল এটি। টুর্নামেন্টে এমন ম্যাচ আরও হোক।’ বলেন জিমি নিশাম।
কিউই অলরাউন্ডার এরপর যা বলেছেন তাতে অনেকেই ধরে নিয়েছেন ৭ বছর আগের ফাইনাল হারটা এখনো হয়ত মেনে নিতে পারেননি তিনি, ‘এটা ভালো, এখন একটা সুপার ওভার টাই হওয়ার পর আরেকটি সুপার ওভার খেলার সুযোগ হয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে ভালো।’ নিশামের এই কথায় ফুটে উঠে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের স্মৃতি।
আরও পড়ুন
| মার্করামের 'সুপার সাইক্লোনে' সুপার এইটে এক পা প্রোটিয়াদের |
|
বিশ্বকাপে সেবার ফাইনালে ওঠে নিউ জিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। প্রথম শিরোপার সামনে ছিল দুই দলই। কিন্তু অদ্ভুতুড়ে এক নিয়মের বেড়াজালে আটকে শিরোপার মঞ্চে হারতে হয় নিউ জিল্যান্ডকে। ম্যাচ টাই হওয়ার পর খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেও হয় টাই। এরপর বাউন্ডারি নিয়মে ম্যাচের নিষ্পত্তি টানা হয়। আর শিরোপা যায় ইংলিশদের ঘরে।
ওই ফাইনালে ছিলেন নিশাম। পরে এ নিয়ে তিনি টুইটারে ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন। এখন ভারত বিশ্বকাপে এসে দুটি সুপার হতে দেখে হয়ত মনের অগোচরে সেই দুঃসহ স্মৃতিই হাতড়ে বেরিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সি এই অলরাউন্ডার। হয়ত আক্ষেপটা এভাবেই করেছেন, ‘আহ, তখনও যদি একটি সুপার ওভার টাই হলে আরেকটি হতো…।’
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলেছে নিউ জিল্যান্ড। দুটিতে জেতার (সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আফগানিস্তান) পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরেছে। তা সত্ত্বেও সুপার এইটে ওঠার জন্য ভালো অবস্থানে আছে মিচেল স্যান্টনারের দল। পরের ম্যাচে কানাডাকে হারালেই শেষ আটে উঠবে নিউ জিল্যান্ড।

মুহূর্তেই ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। প্রতিপক্ষের বোলারদের যেন পাড়ার বোলার বানিয়ে বল আছড়ে ফেলেন গ্যালারিতে। অনেকের মতেই টি-টোয়েন্টিতে বর্তমানে সেরা ব্যাটার অভিষেক শর্মা। এমন মারকুটে ব্যাটার যেকোনো দলের জন্যই তো আশীর্বাদ।
প্রতিপক্ষের বোলাদের তো এখন ‘ভয়ংকর’ এই ব্যাটারের মুখোমুখি হতেই ভয় পাওয়ার কথা। তবে কাল ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আগার মুখে শোনা গেল ভিন্ন সুর। আগার মন্তব্যের পাল্টা জবাবও দিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে মাঠে নামবে ভারত-পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বহুল আলোচিত এই ম্যাচটি মিস করার খানিকটা শঙ্কা আছে ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মার। পেটের পীড়ায় নামিবিয়ার ম্যাচটি মাঠে বাইরে থাকার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ফিরতেও পারেন তিনি। এর আগে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জ্বর নিয়ে খেলেছিলেন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটার।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন অভিষেক। আর ভারতের এই ব্যাটারের মুখোমুখি হতেই নাকি মুখিয়ে আছে পাকিস্তান। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের অধিনায়ক আগা বলেন,
‘সে একজন দারুণ খেলোয়াড়—আমরা সবাই জানি। আমি আশা করি সে আগামীকাল খেলবে, কারণ আমরা তাদের সেরা দলের বিপক্ষেই খেলতে চাই।’
আগার এই মন্তব্যের কথা সাংবাদিকরা জানান ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমারকে। এরপর মজার ছলে তিনি বলেন,
‘পাকিস্তান যদি চায় অভিষেক শর্মা খেলুক, তাহলে সে খেলবে।’
২০২৪ বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ের পর টি–টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় অভিষেক শর্মার। এই সংক্ষিপ্ত সময়েই তাঁর ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে তাঁর পরিসংখ্যান দেখলে রীতিমতো চোখ কপালে উঠবে। ৩৮ ম্যাচে (৩৭ ইনিংস) ৩৭.০৫ গড়ে ২৫ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটার করেছেন ১,২৯৭ রান, বিস্ময়কর ১৯৪.৭৪ স্ট্রাইক রেটে। রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি ও আটটি ফিফটি, সর্বোচ্চ ১৩৫। বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার হিসেবে এবারের বিশ্বকাপ খেলছেন অভিষেক।
পাকিস্তানের বিপক্ষেও অভিষেকের পারফরম্যান্স দুর্দান্ত। তিন ম্যাচে করেছেন ১১০ রান, গড় ৩৬.৬৬ ও স্ট্রাইক রেট ১৮৯.৬৫, সর্বোচ্চ ৭৪।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের দিনই অভিষেক শর্মাকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় দল। একাদশে সুযোগ পেলে ব্যাটিং লাইনআপে সঞ্জু স্যামসনের জায়গায় দেখা যেতে পারে তাকে।

২০২৫ এশিয়া কাপ থেকে ভারত-পাকিস্তানের খেলোয়াড় ও অধিনায়কেরা নিজেদের মধ্যে হাত মেলান না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও কি এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে? কাল কলম্বোয় হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে এই প্রশ্নের জবাব দেননি সালমান আলী আগা ও সূর্যকুমার যাদব।
ম্যাচপূর্ব সংবাবদ সম্মেলনে ‘হ্যান্ডশেক’ নিয়ে অস্পষ্টতা রেখেছেন দুই দলের অধিনায়ক। সাংবাদিকদের প্রশ্নে ভারতের অধিনায়ক সূযকুমার বলেন,
তার আগে করমর্দন নিয়ে পাকিস্তানের অধিনায়কের মন্তব্য ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। ভারত যদি প্রস্তুত থাকে,
তবে পাকিস্তান কি হাত মেলাতে রাজি হবে? আগার জবাব ছিল, ‘কালই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’ তবে দুই দলেরই খেলায় মনোযোগ। সূর্য বললেন, ‘আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভালো ম্যাচের প্রত্যাশা করছি। খেলোয়াড়দের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একজন বা দুজন ব্যাটারও ম্যাচের ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।’
সবকিছু একাপাশে রেখে খেলাতে প্রথমে মনোযোগ দেওয়ার কথা বললেন আগাও,
‘খেলাটা ভালো মনোভাবের মধ্যেই হওয়া উচিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে কী বিশ্বাস করি, সেটা আসলে গুরুত্বপূর্ণ নয়। খেলা যেমন শুরু থেকে খেলা হয়ে আসছে, তেমনভাবেই খেলা উচিত।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারের পর আবার জয়ে ফিরল ইংল্যান্ড। হারলেই গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল হবে, এমন সমীকরণ নিয়ে হঠাৎ পা হড়কানোর শঙ্কাও জাগে। তবে শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সহজ এক জয়ই পেল ইংলিশরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে আজ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এত উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯.৫ ওভারে ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রান করে স্কটল্যান্ড। জবাবে ১০ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে হ্যারি ব্রুকের দল। ৪১ বলে ৬৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন টম ব্যান্টন।
এই জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে যাওয়ার পথ কিছুটা মসৃণ হলো ইংল্যান্ডের। নেপালের বিপক্ষে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ম্যাচে হারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আজ স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে উঠে এসেছে তারা। গ্রুপ ‘সি’ তে এক ম্যাচ কম খেলে সমান পয়েন্ট নিয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে থাকা ক্যারিবিয়রা আছে শীর্ষে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে হারলে অবশ্য গ্রুপপর্ব থেকেই ঘরে ফিরতে হতে পারে তাদের।
রান তাড়ায় শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। দলীয় ১৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় তারা। ফিল সল্ট ২ আর জস বাটলার ৩ রান করে আউট হন। তবে বিপদ আর বাড়তে দেননি জ্যাকব বেথেল ও টম ব্যান্টন জুটি। তৃতীয় উইকেটে তাদের জুটি থেকে আসে ৬৬ রান।
৭৯ ও ৮৬ রানে আবার দুই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ২৮ বলে ৩২ করা বেথেলকে ফেরান ডেভিডসন। পাঁচে নামা ব্রুক করেন ৪ রান। তারপর কারানকে নিয়ে আরেকটি জুটি গড়ে দলকে জয়ের আরও কাছে নিয়ে যান ব্যান্টন। ২০ বলে ২৮ করা কারান ফিরলেও দলের জয় নিশ্চিত করেন ২৭ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার।
এর আগে রান সহায়ক পিচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা স্কটল্যান্ড পাওয়ার প্লে’তেই তিন উইকেট হারায়। তবে এরপরই চতুর্থ উইকেটে দুর্দান্ত এক জুটিতে বড় রানের ভিত পায় স্কটিশরা। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক রিচি ব্যারিংটন ও টম ব্রুস মিলে যোগ করেন ৭১ রান। তবে এই জুটি ভাঙার পরই আবার পথ হারায় স্কটল্যান্ড। শেষ ৩৯ রান তুলতে সাত উইকেট হারিয়ে অল আউট হয় তারা।
৩২ বলে ৪৯ রান করা বেরিংটন স্কটল্যান্ডের সফলতম ব্যাটার। দারুণ একটি রেকর্ডেও নাম লেখান তিনি। স্কটল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন বেরিংটন। এক সেঞ্চুরি ও ১০ ফিফটিতে ২৪৪১ রান করা ডানহাতি ব্যাটার টপকে গেলেন জর্জ মুন্সিকে। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানো ব্যাটারও এখন বেরিংটন।
বেরিংটনের ৪৯ রানের সঙ্গে মিচেল জোন্সের ৩৩, টম ব্রুসের ২৪ ও শেষ দিকে ওলিভার ডেভিডসনের ২০ রানে দেড়শো পার করে স্কটল্যান্ড।
বল হাতে ইংল্যান্ডের সেরা বোলার আদিল রাশিদ। ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার। দুটি শিকার করেছেন লিয়াম ডওসন ও জোফরা আর্চার। জেমি ওভার্টন ও স্যাম কারান নিয়েছেন একটি উইকেট।