
প্রিমিয়ার লিগে টানা চার ম্যাচে হারের পরও মালিকপক্ষের শত ভাগ সমর্থন পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চেলসি কোচ লিয়াম রসেনিয়র। শনিবার ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে হারের ফলে পঞ্চম স্থান থাকা লিভারপুলের চেয়ে ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে চেলসি। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন নিয়ে বড় ধরনের সংশয়ের মুখে দ্য ব্লুজরা।
চেলসির পতনের মুহূর্তে ঘুরে ফিরে প্রশ্ন, আদৌ ক্লাবের সমর্থন পাচ্ছেন রসেনিয়র। সোমবার সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘শত ভাগ। আমাদের প্রতিদিনের কথোপকথনে তারা আমার প্রতি খুবই ইতিবাচক। স্পোর্টিং ডিরেক্টররাও আমার এবং দলের প্রতি দারুণ সমর্থন দেখাচ্ছেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা তাদের ওপর ভরসা করছি। আমরা জানি যে এই মুহূর্তে আমাদের ম্যাচ জেতা খুব জরুরি।’
গত সপ্তাহে ক্লাবের কো-ওনার বেহদাদ ইগবালি জানিয়েছিলেন, কর্তৃপক্ষ রসেনিয়রের সাথেই আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি দীর্ঘমেয়াদে সে সফল হতে পারবে।’
ইগবালি ইঙ্গিত দেন, প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ স্কোয়াড গড়ে তোলার পরও যদি পরিকল্পনা ঠিকমতো কাজ না করে, তবে তারা গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আরও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দলে ভেড়াবেন এবং বর্তমান পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনবেন।
মালিকপক্ষের মন্তব্যের বিষয়ে রসেনিয়র বলেন, ‘তিনি (ইগবালি) এই ক্লাবের জন্য নিয়মিত ট্রফি এবং সাফল্য প্রত্যাশা করেন। বর্তমান পরিস্থিতি এবং গ্রীষ্মে আমরা কীভাবে দল পুনর্গঠন করব, তা নিয়ে পরিষ্কার কথা হয়েছে। এই ক্লাবকে তার প্রাপ্য জায়গায় ফিরিয়ে নিতে আমাদের কী করতে হবে, সে বিষয়ে আমরা সবাই একমত।’
No posts available.
২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১২ এম
২০ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২৭ পিএম
২০ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২২ পিএম

চ্যাম্পিয়নস লিগের সবচেয়ে সফল দল রিয়াল মাদ্রিদ। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্যের প্রতিযোগিতায় মাঠে নামলেই যেন অসুর ভর করে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির খেলোয়াড়দের ওপর। চ্যাম্পিয়নস লিগের ১৫বারের শিরোপা জয়ী রিয়ালের ধারে-কাছেও নেই কোনো ক্লাব। শুধু এই শতকেই সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাঁরা।
ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় নিয়মিত সাফল্য পেলেও লা লিগায় তেমন একটা দাপট দেখাতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। এই শতকে ২৫ মৌসুমে ‘লস ব্লাঙ্কোসরা’ মোট নয়বার লিগ শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছে, যেখানে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা জিতেছে ১২বার। চ্যাম্পিয়নস লিগে রাজত্ব করা রিয়াল মাদ্রিদ লিগে কেন ধারাবাহিক নয়?
সান্তিয়াগো বার্নাব্যর ক্লাবটির কোচ আলভারো আরবেলোয়া এর নেপথ্যে দায় দিলেন রেফারিকে। স্প্যানিশ রেফারিং নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ এবং অফিশিয়ালদের মধ্যকার পুরনো বিতর্ককে আবারও উসকে দিলেন তিনি। আরবেলোয়ার মতে রিয়ালের জন্য লা লিগা জেতার চেয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা ‘সহজ’। তাঁর দাবি, লা লিগায় রেফারিদের ভুল সিদ্ধান্তগুলো প্রায়ই ক্লাবের শিরোপা জেতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন
| ৮ বছর পর প্রিমিয়ার থেকে অবনমন উলভারহ্যাম্পটনের |
|
লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক হতাশাজনক পারফরম্যান্সকেই এর প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন আরবেলোয়া। তাঁর মতে, রেফারিদের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণেই শিরোপার লড়াইয়ে বার্সেলোনার চেয়ে ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েছে 'লস ব্লাঙ্কোসরা’। এই ক্ষোভ চূড়ান্ত রূপ নেয় জিরোনার সাথে সাম্প্রতিক ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে, যেখানে কিলিয়ান এমবাপ্পের বিরুদ্ধে হওয়া একটি ফাউলকে রিয়াল মাদ্রিদ নিশ্চিত পেনাল্টি মনে করলেও তা নাকচ করে দেওয়া হয়।
বিগত ২০ বছরে রিয়াল মাদ্রিদ যেখানে ৬টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে, সেখানে একই সময়ে লিগ শিরোপা জিতেছে মাত্র ৭টি। লা লিগায় আজ দেপোর্তিভো আলাভেসের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই পার্থক্যের কারণ জানতে চাওয়া হলে আরবেলোয়া বলেন, ‘এর পেছনে একটি কারণ আছে, যা অনেকের কাছেই পরিষ্কার। গত কয়েক বছরে লা লিগায় আমাদের উন্নতির জায়গা অবশ্যই আছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমার মনে হয়, আমরা ছোট দলগুলোর চেয়ে বড় এবং কঠিন ম্যাচগুলোতে অনেক বেশি ভালো খেলেছি।’
স্প্যানিশ রেফারিং বডির সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘদিনের যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, কোচের এই সমালোচনা সেই আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে—বিশেষ করে 'নেগ্রেইরা মামলা' তদন্তের পর থেকে। আরবেলোয়া এই ইস্যুতে আগেও সোচ্চার ছিলেন এবং বিষয়টিকে ‘স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। সবশেষ জিরোনার বিপক্ষে ম্যাচে পেনাল্টি না পাওয়ার বিষয় টেনে এনে তিনি বলেন, ’জিরোনার ম্যাচে পেনাল্টি না পাওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন আমাদের হতে হয়। আর এই কারণেই রিয়াল মাদ্রিদের জন্য লা লিগার চেয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা সহজ হয়ে যায়।’
অভিযোগের পাহাড় থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদের সামনে এখন এক কঠোর বাস্তবতা—টানা দ্বিতীয় মৌসুমে শিরোপাহীন থাকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তারা। গত সপ্তাহে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। আরবেলোয়া এই চাপের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘টানা দুই মৌসুম আমরা কিছুই জিততে পারছি না, এর আগে এমনটা ঘটেছিল ২০ বছরেরও বেশি সময় আগে।’
আরবেলোয়া আরও যোগ করেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ এমন এক ক্লাব যেখানে সাধারণত সবকিছু ঠিকঠাকই চলে। এই ক্লাবের মানসিকতা হলো সবসময় ভবিষ্যতের দিকে তাকানো। রিয়াল মাদ্রিদে হার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়... আমাদের হাতে থাকা বাকি সাতটি ম্যাচেই জিততে হবে।’
দলে রিয়াল কোচের সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের নিয়ে গুঞ্জন জোরালো হলেও, নিজের চাকরির নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো জল্পনা-কল্পনায় জড়াতে রাজি হননি আরবেলোয়া। গত জানুয়ারিতে জাবি আলোন্সোর স্থলাভিষিক্ত হওয়া এই কোচ ভালো করেই জানেন যে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর প্রত্যাশার মানদণ্ড কতটা আপসহীন।
আগামী মৌসুমে নিজের দায়িত্ব থাকা প্রসঙ্গে আরবেলোয়া বলেন, ‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা আমার হাতে নেই। আমি আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই। আমি শুধু এই সাতটি ম্যাচ, বিশেষ করে আগামীকালের (আজ) ম্যাচটি নিয়ে ভাবছি।’

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রথম দল হিসেবে অবনমন হয়ে গেল উলভারহ্যাম্পটনের। এখন পর্যন্ত ২২ ম্যাচে হার দেখে চরম বিপর্যস্ত এক মৌসুম কাটানো ক্লাবটি আট বছর পর চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে গেল।
গতকাল ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ওয়েস্ট হামের গোলশূন্য ড্র করলে নিশ্চিত হয় উলভারহ্যাম্পটনের রেলিগেশন। প্রিমিয়ার লিগে ৩৩ ম্যাচ শেষে রব এডওয়ার্ডসের দলের সংগ্রহ মাত্র ১৭ পয়েন্ট। লিগে চলতি মৌসুমে মাত্র তিনবার জয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা। বিপরীতে ২২ হার ও আটটি ড্র করে পাঁচ ম্যাচ বাকি থাকতেই প্রিমিয়ার লিগ থেকে ছিটকে গেল উলভস।
আরও পড়ুন
| চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতবে পিএসজি, ভবিষ্যদ্বাণী আনচেলত্তির |
|
উলভস এই মৌসুম শুরু করেছিল পর্তুগিজ কোচ ভিতোর পেরেরার অধীনে। তবে গত বছরের নভেম্বরে তাঁকে বরখাস্ত করে লুটন টাউন ও মিডলসবরোর সাবেক কোচ রব এডওয়ার্ডসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, পেরেরা বর্তমানে নটিংহ্যাম ফরেস্টের কোচের দায়িত্বে আছেন। রেলিগেশন থেকে বাঁচার লড়াই করছে ফরেস্টও।
প্রিমিয়ার লিগে এই মৌসুমটি উলভসের জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। জানুয়ারির আগে তারা জয়ের মুখই দেখেনি। একের পর এক হারে বিধ্বস্ত দলটি টানা আট মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ যাত্রার সমাপ্তি ঘটল। ২০১৭-১৮ মৌসুমের পর ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের এই ক্লাবটিকে আবারও চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে দেখা যাবে।
উলভসের অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী নাথান শি ম্যাচের পর বলেন, সমর্থকরা ‘আরও ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য’ এবং তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ক্লাব কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত ‘স্পষ্টতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে এর জবাব দেবে।
অবনমন নিশ্চিত হওয়ার পর এক বিবৃতিতে শি বলেন, ‘আমাদের অবনমন নিশ্চিত হওয়া উলভসের সাথে যুক্ত প্রত্যেকের জন্যই একটি অত্যন্ত কঠিন মুহূর্ত। যদিও এটি একটি গভীর হতাশাজনক ফলাফল, তবুও গত ডিসেম্বরে আমার যোগদানের পর থেকেই কাজ চলছে যাতে আমরা একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারি।
শি আরও যোগ করেন, ‘কোথায় উন্নতি প্রয়োজন সে ব্যাপারে আমাদের ধারণা পরিষ্কার। এখন আমাদের মনোযোগ হলো ক্লাবকে শক্তিশালী করা, নতুন উদ্যম তৈরি করা এবং এমন একটি দল গড়া যাকে আমাদের সমর্থকরা পুনরায় বিশ্বাস করতে পারে। সামনের দিনগুলোতে কী করা প্রয়োজন আমরা জানি এবং সেই উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা এগোব।’
প্রিমিয়ার লিগ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে যাওয়ার পথে আছে বানর্লিও। লিগে উলভারহ্যাম্পটন থেকে মাত্র একটি জয় বেশি পাওয়া ক্লাবটি ২০ পয়েন্ট নিয়ে আছে ১৯ নম্বরে। ৩১ পয়েন্ট নিয়ে একধাপ ওপরে টটেনহ্যাম। আর ৩৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করা ওয়েস্ট হ্যাম আছে ১৭ নম্বরে।

লামিনে ইয়ামালের পেশাদার ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো আরও একটি সাফল্যের পলক। মাঠে নিয়মিত জাদুকরী পারফরম্যান্সে ফুটবলপ্রেমীদের বুঁধ করে রাখা স্প্যানিশ তারকা উইঙ্গার এখন ‘খেলাধুলার অস্কার’ খ্যাত দুটি লরিয়াস পুরস্কারের মালিক। বর্ষসেরা তরুণ ক্রীড়াবিদের পুরস্কার উঠেছে বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী স্প্যানিশ উইঙ্গারের হাতে। পুরস্কার জেতার পর তিনি লিওনেল মেসিকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অ্যাথলেটের আসনে বসালেন।
এবারের লরিয়াস বর্ষসেরা পুরস্কার অনুষ্ঠানে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল টেনিস। শীর্ষ দুই পুরস্কারের দুটিই নিজেদের করে নিয়েছেন দুই টেনিস তারকা। বর্ষসেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন স্প্যানিশ টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ এবং বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জিতেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা।
আরও পড়ুন
| চাকরি হারানোর ভয় নেই রসেনিয়রের |
|
বিভিন্ন খেলার সেরাদের সম্মানিত করতে লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডসের ২০২৬ আসর বসেছিল। যেখানে আবারও আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন ইয়ামাল। লরিয়াস একাডেমি তাকে এবার 'লরিয়াস ওয়ার্ল্ড ইয়াং স্পোর্টসপারসন অফ দ্য ইয়ার' সম্মানে ভূষিত করে।
পুরস্কার হাতে নিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে সেরা তরুণ ক্রীড়াবিদের এই পুরস্কার পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এটি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের।’ লরিয়াস একাডেমি, তাকে ভোট দেওয়া কিংবদন্তি খেলোয়াড় এবং তার পরিবার ও কাছের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এরপর ইয়ামাল কথা বলেন ফুটবলের সেই একমাত্র জাদুকরকে নিয়ে, যিনি লরিয়াসের বর্ষসেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি মেসিকে নিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘আপনি যখন বুঝতে পারবেন একজন খেলোয়াড় কেবল নিজের খেলার নয়, বরং গোটা ক্রীড়া জগতের কিংবদন্তি—তখন মেসির নামই আসে। আমার চোখে তিনি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। আর যদি তিনি সর্বকালের সেরা অ্যাথলেট নাও হন, তবুও সেরাদের যে সংক্ষিপ্ত তালিকা, সেখানে তিনি অবশ্যই থাকবেন।’
২০২০ সালে লুই হ্যামিল্টনের সঙ্গে যৌথভাবে প্রথমবার লরিয়াস বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হয়েছিলেন মেসি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পর তিনি আবারও এই সম্মাননা জেতেন।
মেসিকে নিজের আদর্শের চেয়েও বেশি কিছু মনে করা ইয়ামাল আরও যোগ করেন, ‘তিনি (মেসি) কেবল একজন আদর্শ নন, তার চেয়েও বড় কিছু। আমার মনে হয়, ক্যারিয়ারে তিনি যা কিছু অর্জন করেছেন তার জন্য সবাই তাঁকে সম্মান করে। আমরা যখন ছোটবেলায় পার্কে বা স্কুলে ফুটবল খেলতাম, তখন আমাদের প্রত্যেকের শৈশবের অংশ হয়ে ছিলেন তিনি। আমি শুধু আশা করি, তাঁর দেখানো পথেই যেন এগিয়ে যেতে পারি।’
২০২৫ সালে বার্সেলোনাকে লা লিগা, স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং কোপা দেল রে জেতাতে অনবদ্য ভূমিকা রাখার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ক্লাবের সাফল্যে মূল কারিগর ছিলেন লামিন ইয়ামাল। এই অসামান্য পারফরম্যান্স লরিয়াস একাডেমির পক্ষ থেকে তাঁকে আবারও এক বিশেষ স্বীকৃতি এনে দেয়। লরিয়াসের এই মঞ্চ তাঁর জন্য নতুন কিছু ছিল না, মাত্র এক বছর আগেই এই আসরে ইতিহাস গড়েছিলেন এই স্প্যানিশ তরুণ।
ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখায় গতবার ইয়ামালকে 'লরিয়াস ওয়ার্ল্ড ব্রেকথ্রু অফ দ্য ইয়ার' হিসেবে মনোনীত করা হয়। ফুটবল এবং ক্রীড়াবিশ্বে ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গারের সুদূরপ্রসারী প্রভাবেরই যেন প্রতিফলন ছিল এই পুরস্কারটি। ২০০০ সালে এই পুরস্কার চালুর পর ফুটবলার হিসেবে কেবল জুড বেলিংহাম (২০২৪ সালে) এটি জিতেছিলেন; ঠিক তার পরের বছরই ইয়ামাল সেই ধারা বজায় রাখেন।

বাংলাদেশ ফেডারেশন কাপের মৌসুম শেষের দিকে। ‘বি’ গ্রুপে আগামীকাল রয়েছে দুটি ম্যাচ। ভিন্ন ম্যাচে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। দুই সাবেক চ্যাম্পিয়নসহ চার দলের ভাগ্য নির্ধরাণ হবে কাল।
মঙ্গলবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ পুলিশ এফসি মাঠে নামবে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে। কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মোহামেডানকে মোকাবিলা করবে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। দুটি ম্যাচই মাঠে গড়াবে বেলা পৌনে তিনটায়। সরাসরি দেখাবে চ্যানেল টি-স্পোর্টস।
প্রতিযোগিতা থেকে এরই মধ্যে আরামবাগের বিদায় হয়েছে। ৫ দলের গ্রুপে কাগজে-কলমে চার দলেরই প্লে-অফে ওঠার সুযোগ আছে। তবে কিছুটা এগিয়ে আছে পুলিশ।
তিন ম্যাচ শেষে পুলিশের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কাল পরাজয় এড়ালেই তাদের জন্য প্লে-অফ নিশ্চিত। তবে পয়েন্ট ভাগাভাগি করলে বিপাকে পড়তে পারে বসুন্ধরা কিংস। কেননা দিনের অপর ম্যাচে যদি মোহামেডান জিতে যায় তখন সাদা-কালোদের পয়েণ্ট হবে ৮। পুলিশের সঙ্গে বসুন্ধরা কিংস ড্র করলে তাদের পয়েন্ট হবে ৬, পুলিশের ৭। সেক্ষেত্রে মোহামেডানের সঙ্গে পরের রাউন্ডে উঠবে পুলিশ।
তিন ম্যাচের তিনটিতে হারা আরামবাগ কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে না মোহামেডানের জন্য। যদিও বাংলাদেশ ফুটবল লিগের প্রথম লেগে মোহামেডানকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছিল এই আরামবাগই। তবে লিগের সবশেষ ম্যাচে ফকিরেরপুলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে জয়ে ফিরেছে মতিঝিলপাড়ার ক্লাবটি।
কাল মোহামেডান জিতলে কিংসের জয় ছাড়া বিকল্প নেই। কিন্তু দুই জায়ান্ট টিম হারলে কপাল খুলে যেতে পারে ফর্টিসের। তাদের সম্ভাবনাটা একদমই ক্ষীণ। কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ৪ ম্যাচ খেলে ৫ পয়েণ্ট পাওয়া ফর্টিসও পরের রাউন্ডে যেতে পারে। কিভাবে?
কাল মোহামেডান এবং কিংস হারলে তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান ৫ করে। ৯ পয়েণ্ট পেয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে পুলিশ। হারলেও পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ আছে আবার কিংসের। সেক্ষেত্রে ৩ গোলের বেশি ব্যবধানে হারা যাবে না। কেবল তিন গোল বা তার বেশি ব্যবধানে হারলেই গোল গড়ে এগিয়ে থেকে নকআউট নিশ্চিত হবে ফর্টিসের। এখন পর্যন্ত কিংসের চেয়ে ২ গোলে পিছিয়ে ফর্টিস। যদিও এমনটা ভাবার সুযোগ কমই। কেননা বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলায় প্রথম লেগে পুলিশকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
সব সমীকরণ উড়ে যাবে যদি সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন কাল পূর্ণ তিন পয়েণ্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তখন সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন দলই দলই উঠবে প্লে-অফে।

নানা বাঁক পেরিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ এখন অন্তিম মুহূর্তে। কোয়ার্টার ফাইনালের কঠিন পরীক্ষা উৎরে চার দল— পিএসজি, আর্সেনাল, বায়ার্ন মিউনিখ ও আতলেতিকো মাদ্রিদ টিকে আছে শিরোপার দৌড়ে। মাসের শেষ দিকে শুরু হতে যাওয়া শেষ চারের লড়াইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ বায়ার্ন। গানাারদের লড়াই দিয়েগো সিমিওনের দলের বিপক্ষে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের এখনও অনেক হিসেব নিকেশ বাকি। তবে ব্রাজিল দলের হেড কোচ শিরোপার লড়াইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইনকেই (পিএসজি) এগিয়ে রাখছেন। ইতালীয় কোচ মনে করেন, অন্যদের চেয়ে ফরাসি ক্লাবটির পাল্লা ভারী।
পিএসজি এবং বায়ার্ন—উভয় ক্লাবেরই কোচ ছিলেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলিয়ান মাধ্যম 'ও গ্লোবো'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন কে হতে পারে জানতে চাইলে তিনি দ্বিধাহীনভাবে বলেন, “প্যারিস সেন্ট জার্মেইন আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতবে। বায়ার্নের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আমি প্যারিসের জয়ই আশা করছি।” এসি মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে একাধিক চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা এই কোচ অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই কথাটি বলেছেন।
অভিজ্ঞতা বনাম উচ্চাকাঙ্ক্ষা পিএসজি এবং বায়ার্ন মিউনিখের ডাগআউটে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা থাকায় দুটি ক্লাবের চাপ ও সামর্থ্য সম্পর্কে আনচেলত্তি খুব ভালোভাবেই জানেন। বায়ার্নের অনেক বড় ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা থাকলেও, আনচেলত্তি মনে করছেন পিএসজি যে ছন্দে আছে, তাতে তারাই ফাইনালে উঠবে এবং ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।
তবে সেমিফাইনালের ডামাডোলের মাঝেই অপটার সুপারকম্পিউটার চালিয়েছে বিশেষ এক গাণিতিক বিশ্লেষণ। যেখানে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট এবং শিরোপাজয়ীর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সুপারকম্পিউটারের এই ‘প্রিডিকশন’ অনুযায়ী, এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার দৌড়ে এগিয়ে আর্সেনাল। গানারদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৬.৭৫ শতাংশ।
আর্সেনালকে এক চুলও ছাড় দিচ্ছে না জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। ভিনসেন্ট কোম্পানিদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৩৪.৬১ শতাংশ। যা আর্সেনালের একদম কাছাকাছি।
পিএসজি তালিকার তৃতীয় স্থানে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা ১৯.৩৫ শতাংশ। আর সিমিওনের শিষ্যরা এবারও ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই লড়াই শুরু করবে। শিরোপা জয়ের দৌড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। মাত্র ৯.২৯ শতাংশ।