
প্রতিবার আইপিএলে বাঙালি ক্রিকেট ভক্তরা চাতক পাখির মত চেয়ে থাকে কোন টাইগার ক্রিকেটারকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলতে দেখতে। ২০২৫ এর আসরে টাইগার ভক্তদের সেই আশা পূরণ হয়নি। নিলামে নাম থাকলেও কোন ফ্র্যঞ্চাইজি আগ্রহ দেখায়নি মু্স্তাফিজ, রিশাদদের নিয়ে। তবে সেই আক্ষেপ ঘুচল এবার আইপিএলের পরের অংশে এসে।
টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দেখা যাবে আইপিএলে। তার পুরোনো দল দিল্লী ক্যাপিটালসের হয়ে খেলবেন ফিজ। দলটির সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নিশ্চিত করা হয় খবরটি। অস্ট্রেলিয়ার জ্যাক ফ্রেজার ম্যাগার্কের বদলি হিসেবে ডাক পেয়েছেন মুস্তাফিজ।
আরও পড়ুন
| সকালে গেছেন কোচ, সন্ধ্যায় যাবেন অধিনায়ক |
|
এবারের মেগা অকশনে ২ কোটি ভিত্তিমূল্যে থাকা ফিজকে দিল্লী চুক্তি করেছে ৬ কোটি রুপিতে। আর তাতে মোস্তাফিজই বনে গেছেন বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকায় আইপিএলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটার। এর আগে ২০০৯ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ৬ লাখ ডলারে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। সে সময়ের বাজারদরে তা চার কোটি টাকার কাছাকাছি ছিল।
৮ মে দিল্লী ও পাঞ্জাবের ম্যাচ অমিমাংসীত অবস্থায় থমকে যায় আইপিএল। কারণ ছিল ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের অস্থিরতা। যার কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে আসা অনেক বিদেশীরাই ফিরে গেছেন দেশে। তেমনি ফ্রেজার ম্যাগার্কও আর ফিরছেন না। অস্ট্রেলিয়ার সামনেই রয়েছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল। আর সেই সুবাদেই জায়গা মিলছে মুস্তাফিজের। দিল্লীর হয়ে ৬ ম্যাচ খেলা জ্যাক ফ্রেজার ম্যাগার্ক না ফেরায় ফিজকে দলে নিয়েছে দিল্লী।
আসরের লিগ পর্বে এখনো তিন ম্যাচ বাকি রয়েছে দিল্লীর। ১৮ তারিখ গুজরাটের বিপক্ষে, ২১ মে মুম্বাই ও ২৪ মে পাঞ্জাবের সঙ্গে হবে আধুরা থেকে যাওয়া সেই ম্যাচ, যেই ম্যাচ চলাকালীনই থমকে যায় আইপিএল।
২০১৬ সালে হায়দ্রাবাদের হয়ে আইপিএল অভিষেক হয় মুস্তাফিজের। ১ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে সেবার তাকে দলে নিয়েছিল হায়দরাবাদ। সে বছরই ১৭ উইকেট নিয়ে হায়্রদ্রাবাদের শিরোপা জেতায় রেখেছিলেন ভূমিকা। হয়েছিলেন প্রথম ও একমাত্র বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে ইমার্জিং প্লেয়ার অফ দ্য সিজন। পরের বছরও খেলেছিলেন একই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে।
২০১৮তে ২ কোটি ২০ লাখ রুপিতে জার্সি গায়ে ওঠে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। এরপর ২০২১ সালে ফিজ ছিলেন রাজস্থানের ডেরায় ১ কোটি রুপিতে। আর ২০২২ এ ভিত্তিমূল্য ২ কোটিতে দলে নেয়ার পর পরের বছরও তাঁকে রেখে দেয় দিল্লী। শেষবার ২০২৪ এও ২ কোটি ভিত্তিমূল্যে মুস্তাফিজ ছিলেন ধোনির চেন্নাইয়ে।
আরও পড়ুন
| টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আগে আইপিএল ‘খেলবেন’ কামিন্স-হেড |
|
আইপিএলে প্রথম বছরই ১৬ ম্যাচ খেলে নিয়েছিলেন ১৭ টি উইকেট। পরের বছর হায়দ্রাবাদের হয়েই ১ ম্যাচে সুযোগ হয়েছিল, কিন্তু কোন উইকেট পাননি। এরপর মুম্বাই, রাজস্থান, দিল্লীর হয়েও ছড়িয়েছিলেন আলো। আর শেষ বার ২০২৪এ চেন্নাইয়ে মাত্র পুরো সিজন না খেলেও মাত্র ৯ ম্যাচেই ছিলেন দুর্দান্ত। নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট।
১৩ পয়েন্টে এই মুহুর্তে আইপিএল ২০২৫ এর টেবিলের পাঁচে রয়েছে দিল্লী ক্যাপিটালস। বিদেশী পেসারদের মাঝে দিল্লীতে খেলেছেন মিচেল স্টার্কদের মত প্লেয়াররা। তবে যুদ্ধের রেশের পর পরিবর্তিত সূচিতে অনেক নামেই যখন পরিবর্তন আসছে আমরা মুস্তাফিজকে দেখতেই পারি আরো একবার দিল্লীর জার্সিতে। তবে এখানেও বড় প্রশ্ন থাকছে, পাকিস্তান ও আরব আমিরাত সিরিজ খেলতে জাতীয় দলের সঙ্গে দেশ ছেড়েছেন মুস্তাফিজ। তাই মুস্তাফিজের দিল্লীতে হোম কামিং মুহুর্ত দেখতে, চেয়ে থাকতে হবে সেই বিসিবির এনওসির দিকে।
No posts available.
৩ মার্চ ২০২৬, ১০:২১ পিএম
৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ পিএম
৩ মার্চ ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম

ফেবারিট হয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করে ভারত। নিজেদের ডেরায় আরও একবার এই ট্রফি জেতার দারুণ সুযোগও আছে স্বাগতিকদের। ফাইনালের টিকিট কাটতে হলে সূর্যকুমার যাদবদের প্রথম ঠেকাতে হবে ইংল্যান্ডকে। যে ইংল্যান্ড সুপার এইটের সবক’টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে আগামীকাল দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড। পরদিনই ওয়াংখেড়ে ইংলিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। এই ম্যাচে ভারতকে সবচেয়ে বেশি বিপদে ফেলতে পারেন উইল জ্যাকস, এমনটাই মনে করছেন সুনীল গাভাস্কার। ভারতের সাবেক কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের মতে ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চারবার ম্যাচসেরার পুরষ্কার জিতেছেন জ্যাকস। সাত ম্যাচে একটি হাফ-সেঞ্চুরিতে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৯১ রান। বল হাতে সাতটি উইকেটও নিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী অফস্পিনার। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসের সঙ্গে নিয়েছেন দুটি উইকেটও।
দুর্দান্ত ছন্দে ইংলিশ অলরাউন্ডারকে নিয়ে ভারতকে সতর্কই করলেন গাভাস্কার। তাঁর মতে জ্যাকসকে সামলাতে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে সঞ্জু স্যামসন, সূর্যকুমার যাদব এবং হার্দিক পান্ডিয়া-এর পারফরম্যান্সই মূল চাবিকাঠি হবে।
আগামী ৬ মার্চ মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ডিপি ওর্য়াল্ড সেলিব্রেটি গলফ ইভেন্ট-এর আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সুনীল গাভাস্কার। চ্যাম্পস ফাউন্ডেশনের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি সেমি ফাইনালে উইল জ্যাকস-কে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। গাভাস্কার বলেন,
‘যদি পিচে একটু টার্ন থাকে, তাহলে জ্যাকস সত্যিই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন। (সানজু) স্যামসন, সূর্যকুমার বা হার্দিক পান্ডিয়া তাঁকে কিভাবে সামলাবেন, সেটিই মূল বিষয়। সে দুর্দান্ত ছন্দে আছে। সাত নম্বরে তাঁর মতো একজন থাকা বড় সুবিধা—যেমন শিভাম দুবে ভারতের জন্য।’
গাভাস্কার আরও বলেন,
‘হয়তো তিনি দলের বাঁ-হাতের ব্যাটারদের (অভিষেক, তিলক, ডুভে বা অন্য কেউ) বিপক্ষে বেশি বল করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে ডানহাতি ব্যাটারদের ওপরই বাড়তি চাপ থাকবে তাঁর বিরুদ্ধে রান তোলার।’
জ্যাকসকে ভারতীয় অলরাউন্ডার শিভাম দুবের সঙ্গে তুলনা করে গাভাস্কার বলেন,
‘সে ঠিক শিবম ডুভের মতো। ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে আমরা যা দেখেছি, ডুভে এসে এক ওভারে দুইটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের ওপর চাপ কমিয়েছিলেন।’
গাভাস্কার আশা করছেন ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচটি বেশ রোমাঞ্চকর হবে,
‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালের মতোই এটি হবে একটি ‘ক্র্যাকার’ ম্যাচ। দুই দলই সমান শক্তিশালী—ব্যাটিং, বোলিং, মিডল অর্ডার, ফিনিশাররা সব আছে। বৈচিত্র্যও আছে, এবং প্রচুর টি-টোয়েন্টি অভিজ্ঞতা আছে।’

পরপর দুই ম্যাচে নর্থ জোনকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ওয়ানডে সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল সেন্ট্রাল জোন। মিরপুরে মঙ্গলবারের ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর নর্থ জোনকে ৫ উইকেটে হারায় সাইফ হাসান, নাঈম শেখদের সেন্ট্রাল জোন।
অথচ টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে রীতিমতো উড়ছিল শান্তর নর্থ জোন। প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের হারিয়ে ফাইনালের টিকেট পায় সেন্ট্রাল জোন। এবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও লড়াই করতে পারল না নর্থ জোন।
তাওহিদ হৃদয়ের লড়াকু ৯৬ রানের সৌজন্যে ২৩৮ রানের পুঁজি পায় নর্থ জোন। জবাবে সাইফ, নাঈমের ঝড়ো জুটিতে অনায়াসে ম্যাচ জিতে নেয় সেন্ট্রাল।
বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণে আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন হয় নর্থ জোন। এবার তাদের হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল সেন্ট্রাল জোন।
রান তাড়ায় এদিন আর ঝড় তুলতে পারেননি জিসান আলম। ষষ্ঠ ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন ১৭ বলে ১৪ রান করা তরুণ ওপেনার। তবে দলের ওপর আর চাপ আসতে দেননি মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও সাইফ হাসান।
দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মিলে ১৪১ বলে গড়ে তোলেন ১৬৪ রানের জুটি। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, দুজনের জুটিতেই জিতে যাবে সেন্ট্রাল জোন। কিন্তু আশা জাগিয়েও সেঞ্চুরি করতে পারেননি দুজনের কেউই।
রিশাদ হোসেনের লেগ স্পিনে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৭ বলে ৭৮ রান করা নাঈম। পরে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৮ বলে ৮৭ রান করা সাইফকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। সেঞ্চুরি না পেলেও দুজনই মূলত জয়ের ভিত গড়ে দেন।
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৮ বলে ৬) ও ইরফান শুক্কুরও পরে (১৩ বলে ১৪) আউট হয়ে যান৷ তবে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে মাহফিজুল ইসলাম রবিন (২৪ বলে ১৮) দলের শিরোপা নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন।
২টি করে উইকেট নেন রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে তেমন সুবিধা করতে পারেনি নর্থ জোন। জ্বরের কারণে খেলতে পারেননি লিটন কুমার দাস। তার জায়গায় একাদশে ফেরার সুযোগ পেয়ে আবার হতাশ করেন হাবিবুর রহমান সোহান (১৭ বলে ৫)।
আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ভালো শুরু করলেও ইনিংস টানতে পারেননি। ৪ চারে ২২ বলে ২৩ রান করে আউট হন তিনি। শুরুর ধাক্কা সামলে ৫২ রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়।
সাইফ হাসানের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন ৫১ বলে ৩৫ রান করা শান্ত। পাঁচ নম্বরে নেমে এসএম মেহেরব হাসানও (৩৮ বলে ২৮) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একই ওভারে আকবর আলিকে (৩ বলে ০) ফেরান রকিবুল হাসান।
পরে একাই দলকে টেনে নেন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমানের সঙ্গে তিনি যোগ করেন ৬৩ রান। আগের ম্যাচে ঝড় তোলা সাব্বির এদিন ৪৩ বলে করেন ২৪ রান। রয়েসয়ে শুরু করা হৃদয় ফিফটি করেন ৬৯ বলে।
সাব্বিরের বিদায়ের পর রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন হৃদয়। একইসঙ্গে জাগে তার সেঞ্চুরির আশা। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে একদমই সমর্থন পাননি মিডল-অর্ডার এই ব্যাটার। রিশাদ হোসেন ১৮ বলে ১৬ রান করে আউট হন।
ইনিংসের শেষ ওভারে সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে ছিলেন হৃদয়। উইকেট ছিল একটিই। রিপন মন্ডলের প্রথম দুই বলে রান নিতে পারেননি হৃদয়। তৃতীয় বলে তিনি এলবিডব্লিউ হওয়ায় আর সেঞ্চুরি হয়নি। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৯৮ বলে করেন ৯৬ রান।
৪১ রানে ৪ উইকেট নেন রিপন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও রকিবুল হাসানের শিকার ২টি করে উইকেট।

আরও একটি আইসিসির ইভেন্টে ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা আছেন বেশ চাপে। বাবর আজম-সালমান আলী আগাদের হতাশার পারফরম্যান্সে ক্ষুদ্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড শাস্তির সিদ্ধান্তও নেয়। পাকিস্তানের একাধিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন, প্রত্যেক ক্রিকেটারকে গুনতে হবে ৫০ হাজার পাকিস্তানি রুপি। তবে ক্রিকেটারদের এমন শাস্তিও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন শহিদ আফ্রিদি। বাজে পারফরম্যান্সের জন্য আরও কঠিন শাস্তি চান সাবেক এই ক্রিকেটার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে হারের পরই নাকি পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয় দলটির ক্রিকেট বোর্ড। এরপর সুপার এইট থেকে সেমি ফাইনালের টিকিট কাটতে না পেরে ঘরে ফেরার পর তো আর্থিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় আগাদের। এ নিয়ে টানা চারবার আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান।
পাকিস্তানের পারফরম্যান্সের এমন ভরাডুবির জন্য আফ্রিদির মতে যে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে তা আরও বেশি হওয়া উচিত। এমনকি শুধু জরিমানা নয়, পাশাপাশি আফ্রিদি চান কিছু ক্রিকেটারদের শাস্তিস্বরুপ অন্তত দুই বছর দলের বাইরে রাখা উচিত।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভিকে আফ্রিদি বলেন,
‘এটি সিদ্ধান্ত বোঝা কঠিন। এটি সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা। এটা তো সামান্য অর্থ। ৫০ লাখ দিয়ে তুমি কী করবে? এটা তো শাস্তি বলে মনে হয় না।’
আফ্রিদি আরও যোগ করেন,
‘যারা জাতীয় দলের জন্য বাজে পারফরম্যান্স করেছে তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঠানো উচিত এবং এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যাদের কমপক্ষে ২ বছর দলের জন্য খেলা উচিত নয়। যারা খেলতে ব্যর্থ, তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঠাও। আমার মনে হয় এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যারা অন্তত দুই বছর দলের হয়ে না খেলুক। এটুকুই যথেষ্ট।’
এদিকে, পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদ আমিরও। আগার নেতৃত্বাধীন দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় সাবেক এই পেসার বলেন,
‘আমি আমার খোলাখুলি মত দিচ্ছি। বাকিটা ছেড়ে দাও। আমরা আসলে ট্যালেন্টই নেই। যারা এখন খেলছে, তারা ট্যালেন্ট নয়।’
আমির আরও বলেন,
‘যখন কোনো দল আমাদের দেশে হোম সিরিজ খেলতে আসে, তারা তাদের মূল দল পাঠায় না। এটা দেখলে বোঝা যায় তারা আমাদের কতটা গুরুত্ব দেয়। যদি তারা মনে করে, হ্যাঁ, এটা একটি দল, তবে তারা তাদের এ-টিম পাঠায়। তারা সব নতুনদের নিয়েই তাদের দল পাঠায়। যদি নিউজিল্যান্ড ভারত যায়, পুরো দল নিয়েই যাবে। ইংল্যান্ড যাচ্ছে, পুরো দল যাবে। অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে, পুরো দল যাবে। ঠিক তেমনি, তারা যদি আমাদের দেশে আসে, তারা তাদের এ-টিম পাঠায়। তাই বোঝা যায় তারা আমাদের কতটা গুরুত্ব দেয়।’
জরিমানা নিয়ে এখন পর্যন্ত পিসিবি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। ক্রিকেটার ছাড়াও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও তীব্র সমালোচনার মুখে আছে। দল নির্বাচন, পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে দলটির সাবেক অনেক ক্রিকেটারই ক্ষোভ ঝেড়েছেন।

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ফিরছে মুলতান সুলতান্স। নতুন মৌসুমে অভিষেক হতে যাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি শিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ নিজেদের নাম বদলে নিচ্ছে মুলতানের নামে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার পিএসএলের প্রধান নির্বাহী সালমান নাসির এই ঘোষণা দেন। এসময় তার পাশে ছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নতুন সিইও ও সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার গোহার শাহ।
এই বিষয়ে গত সপ্তাহেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নাসির। মুলতান সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, সুখবর আসছে।’ অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
নাসির জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি) নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন গোহর শাহ। এককালীন ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দিতে সম্মত হওয়ায় আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। ফলে দলটির নতুন নাম হচ্ছে মুলতান সুলতান্স।
নাম বদলের ফির বাইরেও নতুন মালিক সিডি ভেঞ্চারস বার্ষিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে উন্নীত করতে রাজি হয়েছে। নাসিরের ভাষ্য, পিএসএলের পরিসরে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে মুলতান সুলতান্স নামটির আলাদা মূল্য রয়েছে।
গত মাসে আগের মালিক আলি তারিন লিজ নবায়ন না করায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিলামে ওঠে। সর্বোচ্চ ২৪৫ কোটি রুপি বার্ষিক ফিতে সেটি কিনে নেয় ওয়ালি টেকনোলজিস। পরে তারা দলটিকে রাওয়ালপিন্ডিতে সরিয়ে নিয়ে ‘পিন্ডিজ’ নাম দেয়।
এতে আট মৌসুমের পথচলার পর কার্যত পিএসএল থেকে মুলতান সুলতান্সের বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল। তবে মালিকানা নিয়ে জটিলতা এবং নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের পর স্ট্যালিয়নজ ফ্র্যাঞ্চাইজির ৯৮ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় সিডি ভেঞ্চারস।
নতুন মালিকানার প্রতিনিধি হিসেবে গোহর শাহ সিইওর দায়িত্ব নেন। পিএসএলের নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স ও নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হায়দ্রাবাদ কিংসমেন।

মুম্বাইয়ের গর্জন থামাতে চান স্যাম কারান। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এমন প্রত্যয়ই ব্যক্ত করেছেন ইংল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার।
আজ মুম্বাইয়ে অনুশীলনের আগে কারান বলেন, ছোটবেলায় যে স্বপ্ন দেখতেন, তার একটি ছিল ভারতে ভারতের বিপক্ষে খেলা,
‘শ্রীলঙ্কা থেকে মুম্বাইয়ে উড়ে আসার সময় ভাবছিলাম, ছোটবেলায় কী স্বপ্ন দেখতাম। ভারতের বিপক্ষে ভারতে খেলাটা নিশ্চয়ই তার একটি। এটা দারুণ অভিজ্ঞতা।’
সেমিফাইনালটি হবে ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক সমর্থকদের উপস্থিতিতে গ্যালারি থাকবে সরব—এমনটাই প্রত্যাশা ইংল্যান্ড শিবিরের। তবে সেটিকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন কারান। বললেন,
‘স্টেডিয়াম খুব জোরে গর্জে উঠবে। এটাকে রোমাঞ্চকর সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। যদি গ্যালারি নীরব হয়ে যায়, বুঝতে হবে ইংল্যান্ড ভালো করছে—আমরা সেটাই ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছি।’
চলমান আসরে ইংল্যান্ড দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই নিয়মিত খেলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে। ফলে ভারতীয় দর্শকদের আবেগঘন সমর্থনের সঙ্গে তারা পরিচিত। কারানের মতে, সেই অভিজ্ঞতাই কাজে দেবে। কারন বলেন,
‘আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, আমরা ভারতে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। এখানে খেলতে খেলতে আপনি শব্দকে উপেক্ষা করতে শিখে যান। অবশ্যই পরিবেশটা উপভোগ্য। অনেক তরুণ ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলার।’
কারান আশা করছেন, ম্যাচের পরিস্থিতি এমন হবে যাতে গ্যালারি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যায়,
‘আশা করি স্টেডিয়ামটা নীরব হবে। তবে নিশ্চিতভাবেই খুব জোরে সমর্থন থাকবে। দুইটি দুর্দান্ত দল মুখোমুখি হচ্ছে। গত চার–পাঁচ সপ্তাহের পরিশ্রম আমাদের এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। আশা করি, আমরা আরেক ধাপ এগিয়ে ফাইনালের পথে যেতে পারব।’
সব মিলিয়ে মুম্বাইয়ের উত্তপ্ত পরিবেশেই বড় চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। তবে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে স্বাগতিকদের গ্যালারি স্তব্ধ করেই ফাইনালে উঠতে চায় তারা।